Tag: ইত্যাদি

  • এশিয়ার বৃহত্তম কৃষি খামারে ‘ইত্যাদি’

    নব্বই দশক থেকেই জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রত্ননিদর্শন, আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ তুলে ধরা হয়েছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত সমৃদ্ধ জেলা ঝিনাইদহে। মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল এশিয়ার বৃহত্তম কৃষি খামার মহেশপুরের দত্তনগরের দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠের মাঝখানে বটবৃক্ষ চত্বরে।

    এবারের অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহের কিংবদন্তি লোককবি পাগলা কানাইয়ের কথা ও সুরে একটি লোক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরী ও তসিবা। গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন মেহেদী। খ্যাতিমান গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের কথায় কিশোর দাসের সুর ও সংগীত পরিচালনায় আর একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ঝিনাইদহের সন্তান জনপ্রিয় শিল্পী মনির খান।

    এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরুতেই রয়েছে ঝিনাইদহকে নিয়ে ঝিনাইদহেরই শৈলকুপার সন্তান মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় একটি পরিচিতিমূলক গানের সঙ্গে নৃত্য। পরিবেশন করেছেন স্থানীয় শতাধিক নৃত্যশিল্পী। নাচটির কোরিওগ্রাফি করেছে মোহাম্মদ শাহিন ইসলাম, কণ্ঠ দিয়েছেন রাজিব ও তানজিনা রুমা। গানটির সুর করেছেন হানিফ সংকেত এবং সংগীত আয়োজন করেছেন মেহেদী।

    দর্শকপর্বের নিয়ম অনুযায়ী ধারণস্থান ঝিনাইদহকে ঘিরে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মাঝখান থেকে ৪ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে নির্বাচিত দর্শকরা ঝিনাইদহের ব্র্যান্ডিং পণ্য কলা ও পান নিয়ে রচিত একটি নাট্যাংশে স্থানীয় ভাষায় অভিনয় করেন। যা ছিল বেশ উপভোগ্য। শেকড়ের সন্ধানে ইত্যাদি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রচার বিমুখ, জনকল্যাণে নিয়োজিত মানুষদের তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও শিক্ষামূলক প্রতিবেদন প্রচার করে আসছে। আর সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ইত্যাদিতেও ঝিনাইদহের উপর তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনসহ এখানকার বিভিন্ন আকর্ষণীয়, জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান, জ্ঞানী-বিজ্ঞানী-কীর্তিমান ব্যক্তিত্বসহ আরও কিছু মানবিক, সচেতনতা, তথ্যভিত্তিক ও শিক্ষামূলক প্রতিবেদন রয়েছে।

    এছাড়াও ইত্যাদির নিয়মিত আয়োজন চিঠিপত্র বিভাগ, বিদেশি প্রতিবেদন পর্বসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় ও প্রসঙ্গ নিয়ে সামাজিক অসঙ্গতি ও সমাজ সংস্কারের উপর রয়েছে বেশ কিছু তীক্ষ্ণ ও তীর্যক নাট্যাংশ। গণমানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির এই পর্বটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে আগামী ৩০ মে রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • এবার এশিয়ার বৃহত্তম কৃষি খামারে ইত্যাদির শুটিং

    জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির এবারের পর্বের শুটিং হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত সমৃদ্ধ জেলা ঝিনাইদহে। মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল এশিয়ার বৃহত্তম কৃষি খামার মহেশপুরের দত্তনগরের দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠের মাঝখানে বটবৃক্ষ চত্বরে। 

    নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন জানিয়েছে, শুটিং উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বসেছিল জমজমাট মেলা। আমন্ত্রিত দর্শক ছাড়াও অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ছিল অসংখ্য মানুষ। কিন্তু হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে নির্দিষ্ট সময় শুটিং শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইত্যাদির সেট, লাইট, ক্যামেরা ও অন্যান্য শুটিং সরঞ্জাম। ঝড় থামার পর সীমিত সুবিধা নিয়েই মধ্যরাত থেকে শুরু হয় ইত্যাদির ধারণ, চলে একটানা ভোররাত পর্যন্ত। 

    জানা গেছে, এবারের অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহের কিংবদন্তি লোককবি পাগলা কানাইয়ের কথা ও সুরে একটি লোকগানে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরী ও তসিবা। গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন মেহেদী। খ্যাতিমান গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের কথায় কিশোরের সুর ও সংগীত পরিচালনায় আরেকটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ঝিনাইদহের সন্তান জনপ্রিয় শিল্পী মনির খান। 

    এ ছাড়াও অনুষ্ঠানের শুরুতেই রয়েছে ঝিনাইদহকে নিয়ে শৈলকুপার সন্তান মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় একটি পরিচিতিমূলক গানের সঙ্গে নৃত্য। পরিবেশন করেছেন স্থানীয় শতাধিক নৃত্যশিল্পী। গানটির সুর করেছেন হানিফ সংকেত এবং সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী।

    দর্শকপর্বে নির্বাচিত দর্শকরা ঝিনাইদহের ব্র্যান্ডিং পণ্য কলা ও পান নিয়ে রচিত একটি নাট্যাংশে স্থানীয় ভাষায় অভিনয় করেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে আরও রয়েছে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বীজ উৎপাদন খামার হিসাবে পরিচিত দত্তনগর কৃষি ফার্ম এবং ঝিনাইদহের ক’জন স্মরণীয়-বরণীয় কীর্তিমান ব্যক্তিত্বের উপর প্রতিবেদন, সমাজকর্মী পাখি দরদি মানবিক মানুষ রং মিস্ত্রি জহির রায়হানের ওপর প্রতিবেদন, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার একটি পাড়ায় পানির কষ্টে থাকা তেমনি কিছু মানুষের উপর রয়েছে একটি মানবিক প্রতিবেদন। 

    এছাড়া চিঠিপত্র পর্বে ঝিনাইদহের মহেশপুরে বন্য প্রাণীর বন্ধু হয়ে উঠা প্রাণিপ্রেমী নাজমুল হোসেনের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন দেখানো হবে। এবারের বিদেশি প্রতিবেদনে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্যান ডিয়েগো শহরের প্রশান্ত মহাসাগরের সৈকত লা-হোয়-আ কোভে বিশ্রাম নিতে আসা সমুদ্র সিংহ বা সী লায়নের উপর একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন।

    এ ছাড়াও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় ও প্রসঙ্গ নিয়ে সামাজিক অসংগতি ও সমাজ সংস্কারের ওপর রয়েছে একাধিক নাট্যাংশ। বরাবরের মতো এবারও ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। অনুষ্ঠানের এ পর্বটি ৩০ মে বিটিভিতে রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচার হবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • এআইয়ের কবলে ইত্যাদির নির্মাতা, যা বললেন হানিফ সংকেত

    বিনোদন জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। আশির দশক থেকে ‘ইত্যাদি’র পথচলা। জনপ্রিয় এই ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শককে আনন্দ দিয়ে যাচ্ছেন নির্মাতা-উপস্থাপক হানিফ সংকেত। 

    তিনি একাধারে একজন উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক ও নির্মাতা। দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও বরাবরই ন্যয়নিষ্ঠ ও নির্লোভ অবস্থানে থেকেছেন তিনি। কখনো কোনো বিজ্ঞাপনেও দেখা যায়নি এ নির্মাতাকে। এমনকি কোনো পণ্যের সঙ্গে নিজের নাম কিংবা কণ্ঠও মেলাননি হানিফ সংকেত। 

    কিন্তু দুঃখের বিষয়— জনপ্রিয় এ উপস্থাপকের সেই কণ্ঠই ব্যবহার হলো একটি ভুয়া বিজ্ঞাপনচিত্রে। সেটিও আবার আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন হানিফ সংকেত।

    সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে গত ২০ মে একটি স্ট্যাটাসে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বরেণ্য উপস্থাপক হানিফ সংকেত। 

    পোস্টে তিনি লিখেছেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ যুগে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি এর অপব্যবহারের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, প্রযুক্তিগত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। বর্তমান সময়ের সেরা আবিষ্কার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), যা মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রদর্শন করতে পারে। তবে এর অপব্যবহারের ফলে ঘটছে অনেক অঘটনও। যার কারণে অনেকেই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন, বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

    হানিফ সংকেত আরও বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছি— একটি প্রতারক চক্র ফেসবুক-ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ইত্যাদিতে আমার উপস্থাপনার অংশ ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডায়াবেটিস সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। তবে এআই কৃত্রিমভাবে যত সূক্ষ্মতার পরিচয়ই দিক না কেন— একটুখানি লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে এটা আসল নয়, নকল। আমার কণ্ঠ অনুকরণ করলেও উপস্থাপনায় বাংলা উচ্চারণ ভিনদেশের।

    এ উপস্থাপক বলেন, অনেক প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও আমি কখনই কোনো বিজ্ঞাপনচিত্রে অংশগ্রহণ করিনি। সুতরাং আমাকে ব্যবহার করে এ ধরনের এআই কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর কোনো বিজ্ঞাপন দেখে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ এর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যারা এ ধরনের প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।

    হানিফ সংকেত আরও বলেন, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হুমকি থেকে নিজেদের সৃষ্টিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ তারকারা কপিরাইট আইন হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে সংগীতশিল্পী ডুয়া লিপা, এলটন জন, নাট্যকার ডেভিড হেয়ার, নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরোর মতো ব্যক্তিত্বরাও রয়েছেন। 

    তিনি বলেন, আমার মনে হয় এআই সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের উচিত কিছু নীতিমালা তৈরি করা, যাতে কেউ এর অপব্যবহার করতে না পারে।

    উল্লেখ্য, হানিফ সংকেতের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে ঝিনাইদহে। তবে ইত্যাদির শুটিংয়ে পড়েছিল কালবৈশাখীর বাধা। ১৭ মে সন্ধ্যা ৬টায় ‘ইত্যাদি’র শুটিং শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কালবৈশাখীর কারণে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে শুটিং করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ‘ইত্যাদি’র শুটিং শুরু হয় রাত ১২টায়। শেষ হয় রাত সাড়ে ৩টায়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • নিজের কণ্ঠস্বর নকল করায় ক্ষুব্ধ হানিফ সংকেত, নিচ্ছেন আইনি ব্যবস্থা

    জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক হানিফ সংকেত এবার সরব হয়েছেন নিজের কণ্ঠস্বর নকল করে প্রচার চালানোর বিরুদ্ধে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ভুয়া বিজ্ঞাপনে তার কণ্ঠ নকল করায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    ২০ মে (মঙ্গলবার) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘প্রযুক্তির এই যুগে সুবিধার পাশাপাশি অপব্যবহারও বেড়েছে। এখন এমন এক সময়, যেখানে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতারণাও সম্ভব। আমি লক্ষ্য করেছি, একটি প্রতারক চক্র ইত্যাদি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার ভঙ্গি ও আমার কণ্ঠ অনুকরণ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ডায়াবেটিসবিষয়ক ভুয়া বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে। কণ্ঠ শুনলেই বোঝা যায়, এটা আসল নয়, বিদেশি উচ্চারণে নকল কণ্ঠ।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘আমি কখনোই কোনো বিজ্ঞাপনে অংশ নেইনি। অনেকবার প্রস্তাব পেয়েছি, তবুও রাজি হইনি। তাই কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। এই প্রতারণার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এই প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

    ফেসবুক পোস্টে হানিফ সংকেত আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার থেকে শিল্প-সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে এখনই নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। তিনি লেখেন, ‘ব্রিটেনের অনেক শিল্পী, সাহিত্যিক এআই-এর অপব্যবহার ঠেকাতে কপিরাইট আইন হালনাগাদ করার দাবি তুলেছেন। ডুয়া লিপা, এলটন জন, ডেভিড হেয়ার, কাজুও ইশিগুরোর মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আমিও একমত।’

    সবশেষে হানিফ সংকেত মন্তব্য করেন, ‘এআই প্রযুক্তি যেন মানুষের অধিকার হরণ না করে, সেটা নিশ্চিত করতে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর এখনই নীতিমালা করা উচিত।’

    বিনোদন প্রতিবেদন

  • কালবৈশাখীর কবলে ‘ইত্যাদি’, শুটিং শেষ হয় রাত সাড়ে ৩টায়

    বিনোদন জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। বরেণ্য উপস্থাপক হানিফ সংকেতের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় এ জনপ্রিয়তা দেশব্যাপী। শিক্ষা ও তথ্যমূলক ইত্যাদির এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে ঝিনাইদহে। তবে ইত্যাদির শুটিংয়ে পড়েছে কালবৈশাখী। 

    গতকাল শনিবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬টায় ‘ইত্যাদি’র শুটিং শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কালবৈশাখীর কারণে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে শুটিং করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ‘ইত্যাদি’র শুটিং শুরু হয় রাত ১২টায়। শেষ হয় রাত সাড়ে ৩টায়। 

    জেলার মহেশপুর উপজেলায় অবস্থিত এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম কৃষি খামার দত্তনগর বীজ উৎপাদন খামারে ‘ইত্যাদি’ ধারণ করা হয়। এরই মধ্যে রং-বেরঙে সাজানো হয় দত্তনগর কৃষি ফার্মের ঐতিহাসিক কুশাডাঙ্গা বটতলা প্রাঙ্গণ।

    এবারের ইত্যাদির আয়োজন ঘিরে ঝিনাইদহ জেলাসহ আশপাশের জেলা-উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। স্বচক্ষে ইত্যাদি দেখতে অধীর অপেক্ষায় থাকেন স্থানীয়রা। এর মধ্যেই ঝড়ের কবলে পড়ে ‘ইত্যাদি’। তাতেও লোকসমাগমে এতটুকু ভাটা পড়েনি।

    এদিকে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ইত্যাদি’ আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি আগে থেকে সম্পন্ন হলেও বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাত ১২টা থেকে শুরু করে ৩টার পর শেষ হয়। অনুষ্ঠানে দর্শক সমাগম ভালোই ছিল।

    জানা যায়, গ্রামীণ সৌন্দর্য, ইতিহাস আর সংস্কৃতির ছোঁয়া নিয়ে এবারের ইত্যাদি সাজানো হয়েছে। সীমান্তবাসীদের জীবনগাঁথা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পৈতৃক ভিটা, এশিয়ার সর্ববৃহৎ বটবৃক্ষ বেথুলি বটগাছ ও জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাঁওড়ের গল্প জায়গা পাচ্ছে ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্বে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • তিন বছর আগের ত্রিশাল পর্ব নিয়ে ‘ইত্যাদি’ ফিরছে নজরুলের ছায়ায়

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছাত্রজীবনের স্মৃতিধন্য স্থান ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুরে ধারণ করা ‘ইত্যাদির’ একটি বিশেষ সংকলিত পর্ব প্রচারিত হবে আগামী শুক্রবার রাতে।

    তিন বছর আগে ধারণ করা এই পর্বের মঞ্চ সাজানো হয়েছিল কবির অমর কবিতা ও প্রতিকৃতি দিয়ে। বরাবরের মতো এই পর্বটিও রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন এবং স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

    ফাগুন অডিও ভিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত হবে এই বিশেষ পর্বটি। ত্রিশালে ধারণ করা এই পর্ব ছাড়াও এতে সংকলিত রয়েছে ইত্যাদির অন্যান্য পর্বের নির্বাচিত অংশ।

    এই পর্বে একটি জনপ্রিয় নজরুলসংগীত পরিবেশন করেছেন বাপ্পা মজুমদার ও প্রিয়াংকা গোপ। এছাড়া নজরুলের তিনটি গান ও দুটি কবিতা নিয়ে তৈরি একটি সংগীত পরিবেশনায় অংশ নিয়েছেন শতাধিক স্থানীয় নৃত্যশিল্পী। এই গানের সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী এবং নৃত্য পরিচালনা করেছেন মনিরুল ইসলাম।

    এছাড়াও সংকলিত অংশে রয়েছে ইত্যাদির সাভার ইপিজেড পর্ব থেকে সৈয়দ আব্দুল হাদী ও সুবীর নন্দীর গাওয়া একটি জনপ্রিয় গান। গানটির কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এবং সুর করেছেন আলী আকবর রুপু।

    বরাবরের মতো এবারও রয়েছে হৃদয় ছোঁয়া প্রতিবেদন, যার মধ্যে রয়েছে নজরুলের ত্রিশাল অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, অসাধু ব্যবসায়ীদের চাল বাজারে কারসাজি, কৃষিবিদ অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিকের কৃষিকাজ, ময়মনসিংহের ফুলপুরের মানবিক গল্প এবং গ্রিসের অ্যাক্রোপোলিস সম্পর্কে তথ্যবহুল প্রতিবেদন।

    দর্শক পর্বে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ত্রিশাল ও নজরুলকে ঘিরে চারজন দর্শককে নির্বাচিত করা হয়। দ্বিতীয় অংশে থাকছে নজরুলসংগীত ও লোকসংগীতের পরিবেশনা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন বিরল বাদ্যযন্ত্র সংগ্রাহক রেজাউল করিম।

    পর্বে আরও থাকছে সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিদ্রূপাত্মক নাট্যাংশ এবং নিয়মিত বিভাগগুলো — মামা-ভাগনে, নানি-নাতি ও চিঠিপত্র।

    এই পর্বটি শুধুমাত্র বিনোদনের নয়, একই সঙ্গে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিকতার সংমিশ্রণে একটি মূল্যবান উপস্থাপন হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

    বিনোদন প্রতিবেদন

  • ‘ইত্যাদি করতে গিয়ে অনেক চাপের মুখে পড়েছি, নতি স্বীকার করিনি’

    দেশের স্বনামধন্য মিডিয়াব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত। তার এক অনন্য সৃষ্টি ‘ইত্যাদি’। গত তিন যুগ ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে এ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটি। প্রতি ঈদেই বর্ণাঢ্য আয়োজন নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয় ইত্যাদি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এদিকে নাট্যকার হিসাবেও তিনি বেশ দর্শকপ্রিয়। শুধু বিশেষ দিন উপলক্ষ্যে নির্মিত হয় তার নাটক। ইত্যাদি ও নাটক নির্মাণ নিয়ে সম্প্রতি যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছেন এ বরেণ্য নির্মাতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এফ আই দীপু

    ৩৬ বছর ধরে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ ধারাবাহিকভাবে প্রচার হচ্ছে ও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এর গোপন রহস্য কী?

    গোপন রহস্য কিছুই না। অনুষ্ঠান নির্মাণে আমাদের আন্তরিকতা, পরিশ্রম, মেধা ও সততা। আসলে আমরা সময়কে ধরে দর্শকদের কথা চিন্তা করে বিষয়-বৈচিত্র্যে অনুষ্ঠান সাজাই। সেরা জিনিসটি দিতে না পারলে অনুষ্ঠান সেরা হবে কেন? সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করি। আমরা বাগাড়ম্বরে বিশ্বাসী নই। প্রচারেই প্রসার নয়, আমাদের লক্ষ্য-দর্শকের মন জয়। আমি মনে করি ইত্যাদি প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্য।

    দীর্ঘ এ পথচলায় ইত্যাদি করতে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন, যা আপনার জীবনে সবচেয়ে মর্মস্পর্শী স্মৃতি হয়ে রয়েছে?

    অনেক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছি। চাপের মুখে পড়েছি কিন্তু নতি স্বীকার করিনি। বিভিন্ন আমলে বিভিন্ন কমিটির চক্করে পড়েছি। একমাত্র বিটিভি ছাড়া অন্য কোনো চ্যানেলে বাইরের কোনো প্রিভিউ কমিটি থাকে না। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই তাদের অনুষ্ঠান প্রিভিউ করেন। কিন্তু বিটিভিতে এত দক্ষ-অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে এসে কারও বিটিভিতে প্রচারিতব্য অনুষ্ঠান কেন প্রিভিউ করতে হবে সেটা আমার বোধগম্য নয়। বিগত ১৬ বছর এ প্রথা ছিল কিন্তু নতুন সরকারের আমলেও এ প্রথা থাকাটা কতটা যৌক্তিক সেটা ভেবে দেখা দরকার। প্রয়োজন নতুন বন্দোবস্ত। তবে এসব কারণে মর্মস্পর্শী স্মৃতি হয়ে থাকার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অবহেলিত ও লুকায়িত প্রতিভাবান মানুষ উঠে এসেছে ইত্যাদির প্রতিবেদনে। সমাজে আজ যারা জননন্দিত ও প্রশংসিত। এসব মানুষ সবার চোখের সামনেই ছিল, কিন্তু তাদের নিয়ে কেউ আগে প্রতিবেদন করেনি। এর কারণ কী বলে মনে করেন আপনি?

    এসব মানুষের চেনার, জানার, বোঝার ও খোঁজার মন থাকতে হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক মানুষ আছেন যারা প্রতিনিয়ত মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এদের ক’জনকে আমরা চিনি, জানি? তারা প্রচারে বিশ্বাসী নয়, নীরব কর্মী। তারা কাজ করেন তাদের দায়বোধ থেকে। নিবেদিত প্রাণ এসব মানুষের অনুসন্ধানে আমরা ছুটে বেড়াই সারা দেশে। তুলে ধরি ইত্যাদিতে। তাদের দেখে যাতে অন্যেরাও উদ্বুদ্ধ হয়, অনুপ্রাণিত হয়।

    বর্তমান সময় টিভি নাটক, ওয়েব সিরিজ এবং সিনেমায় ভাষার বিকৃতি হচ্ছে। অশ্রাব্য ভাষার পাশাপাশি অশ্লীল দৃশ্যও দেখা যাছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসব নাটক সিরিজ বা সিনেমা দেখা খুবই বিব্রতকর। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

    সৃজনশীলতার চেয়ে শিল্প-সংস্কৃতি এখন অনেকের কাছেই ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে বেশিরভাগ শিল্পী, নির্মাতার মধ্যেই ‘কি দিলামের চেয়ে কি পেলাম’ এর হিসাবটা বেশি। ফলে সংস্কৃতি তার আসল উপাদান হারিয়ে ফেলছে। এসব থেকে পরিত্রাণ তো দূরের কথা, যেভাবে একের পর এক সিরিয়ালে, ওয়েব সিরিজে, ওয়েব ফিল্মে গালির উত্তরণ ঘটছে, তাতে ভবিষ্যতে গালিমুক্ত সংলাপ থাকবে কিনা সেটাই সন্দেহ। আজকাল বিদগ্ধ বলে কথিত ব্যক্তিরাও একে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। এরাও এখন গালিকে শিল্পের অলংকার ভাবা শুরু করেছেন। যে কারণে সুস্থ দর্শকদের অসুস্থ করার সময় এসেছে।

    সর্বশেষ প্রচারিত ইত্যাদিতে একটি নাটিকা ছিল, যেটার মধ্যে দেশপ্রেম বেশ লক্ষণীয় ছিল। নাটিকাটি বিটিভিতে দেখা যায়নি। কিন্তু ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে। টিভিতে সেই নাটিকা প্রচার না করার কারণ কী?

    অন্তর্নিহিত রহস্যটি আমারও জানা নেই। বিটিভি তথা সরকারি এ প্রচারমাধ্যমটিতে এখনো কারা কী মনোভাব নিয়ে কাজ করছেন সেটাই দেখার বিষয়। কারণ, নাট্যাংশটি ছিল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চরম কটাক্ষপূর্ণ প্রতিবাদ। ওই লোকটি আমাদের দেশের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে, গুজব ছড়াচ্ছে। দেশকে ও দেশের সরকারকে বিশ্বের কাছে ছোট করেছেন, ইত্যাদি তাকে কটাক্ষ করে পালটা জবাব দিয়েছে। ইউটিউবে যাওয়ার পর যা প্রশংসিত হয়েছে। অথচ সেই নাট্যাংশটিই না দেখিয়ে কাটছাঁট করা হলো, যা দুঃখজনক।

    ইত্যাদি মানেই হানিফ সংকেত। আর কতদিন অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত থাকার ইচ্ছে আছে?

    যতদিন দর্শক চাইবে, আমার সাধ্যে কুলাবে ততদিন। দর্শকদের ভালোবাসায় ধন্য হয়ে ইত্যাদি পাড়ি দিতে পেরেছে ৩৬টি বছর। আর এই ভালোবাসা যতদিন থাকবে আমি সুস্থ থাকলে ততদিন এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

    প্রতি বছর দুই ঈদেই শুধু আপনার নির্মিত নাটক দেখা যায়। দর্শক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আপনাকে নাটক নির্মাণে দেখা যায় না কেন?

    আমার অনুষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে অনেক অনুষ্ঠানই করতাম। প্রতি মাসেই ২-১টি নাটক করা সম্ভব। কিন্তু একটি ইত্যাদি নির্মাণ করতে ২-৩ মাস সময় লেগে যায়। কারণ এর নির্মাণ অত্যন্ত জটিল। আমি নাটকের চেয়ে ইত্যাদিকেই বেশি গুরুত্ব দেই। কারণ ইত্যাদিতে নাটক, গান, নৃত্য, সামাজিক প্রতিবেদন, কুইজ, প্রামাণ্য চিত্র সবকিছুই থাকে। আমার চেষ্টা থাকে দর্শকরা যাতে সব সময় সপরিবারে আমার অনুষ্ঠান দেখতে পারেন।

    পরিচালনায় বড় ক্যানভাসে নিজেকে দেখা, অর্থাৎ কখনো কী সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছা বা পরিকল্পনা আছে?

    মিডিয়ায় যারা সত্যিকারের উপস্থাপক তাদের সিনেমা নির্মাণ করতে খুব একটা দেখা যায় না। যেমন ল্যারি কিং, অপরাহ উইনফ্রে, ডেভিড লেটারম্যান, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশের রজত শর্মাসহ আরও অনেকে আছেন, যারা ছবি নির্মাণ করেননি। এগুলো সবই বিশেষায়িত পেশা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান এসব ক্ষেত্রে তাদের অদ্বিতীয় করে তুলেছে। আমার উদ্দেশ্য পরিবেশ উন্নয়ন ও সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রাখা, গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা ভালো মনের মানুষের তুলে ধরা। আপাতত সিনেমা নির্মাণের কোনো ভাবনা নেই। সময়ই বলে দেবে আমি কখন কি করব।

    তরুণ প্রজন্মের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ?

    আমরা দেশ বা সমাজের ভবিষ্যৎ দেখতে চাই তারুণ্যের আয়নায়। তরুণদের নিয়ে সব সময়ই আশার আলো দেখি। বিভিন্ন সময় তরুণদের অনেক সফলতার চিত্রও তুলে ধরেছি ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে। ওদের হাতেই শক্তিশালী হবে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ। সৎ ও নির্মোহ তরুণেরা তুলে নেবে ভার-সকল অসংগতি দূর করে বিশ্বের শীর্ষে পৌঁছাবার।

    এফ আই দীপু

  • এবার ঈদের ‘ইত্যাদি’তে যা থাকছে

    প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে দর্শকদের জন্য বিশেষ ‘ইত্যাদি’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত। দর্শকদের বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও শিক্ষামূলক তথ্য জানানোর জন্য ঈত্যাদিতে বরাবরই থাকে বিশেষ কিছু আয়োজন। এরইমধ্যে এবারের ঈদের ‘ইত্যাদি’র কিছু কিছু আয়োজন সম্পর্কে গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-

     অন্যান্যবারের মতো এবারও ‘ইত্যাদি’ শুরু হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ঈদের গান ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ দিয়ে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিভিন্ন আঙ্গিকে এবং বর্ণিল আয়োজনে এই গানটি পরিবেশিত হয়ে আসছে। এবারে এই গানটিতে অংশ নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী।

    বিশেষ গান ও সংগীত আয়োজন

    এবারের ‘ইত্যাদি’র অন্যতম আকর্ষণ দেশাত্মবোধক গান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী ও সাবিনা ইয়াসমিন। তাঁদের সঙ্গে আরও আছেন নতুন প্রজন্মের দশজন শিল্পী—ইমরান মাহমুদুল, রাজীব, অয়ন চাকলাদার, রাশেদ, সাব্বির জামান, সিঁথি সাহা, অবন্তী সিঁথি, আতিয়া আনিসা, মালিহা তাবাসসুম খেয়া ও সানিয়া সুলতানা লিজা।

    প্রথমবারের মতো ‘ইত্যাদি’র কোনো গানে একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন হাবিব ওয়াহিদ ও প্রীতম হাসান। গানটির কথা লিখেছেন ইনামুল তাহসিন, সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রীতম হাসান।

    আরেকটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ও অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল, সুর ও সংগীত করেছেন ইমরান মাহমুদুল।

    নৃত্য ও পরিবেশনা

    ‘ইত্যাদি’র নৃত্য মানেই চমকপ্রদ আয়োজন। এবারও সেই ধারায় ব্যতিক্রমী এক নৃত্যানুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন সাফা কবির, সাদিয়া আয়মান, সামিরা খান মাহি ও পারসা ইভানা। তাদের সঙ্গে ছিলেন আরও একদল প্রশিক্ষিত নৃত্যশিল্পী। নৃত্য পরিচালনা করেছেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন আকাশ মাহমুদ।

    সামাজিক বার্তা ও নাট্যাংশ

    ‘ইত্যাদি’র প্রতিটি পর্বেই সমাজ সচেতনতামূলক কিছু বার্তা তুলে ধরা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অনলাইনভিত্তিক তিনটি আলাদা ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত বিশেষ পর্বে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় তিন দম্পতি—শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকী, এফ এস নাঈম ও নাদিয়া আহমেদ, ইন্তেখাব দিনার ও বিজরী বরকতউল্লাহ।

    মধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে একটি মিউজিক্যাল ড্রামায় অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, মোমেনা চৌধুরী, আনোয়ার শাহী ও র‍্যাপ শিল্পী মাহমুদুল হাসান।

    এছাড়াও, ‘দেখার চোখ ও বিবেকের চোখ’ শীর্ষক সমসাময়িক বার্তা বহনকারী একটি দলীয় সংগীতে অংশ নিয়েছেন তৌসিফ মাহবুব ও শবনম বুবলী। গানটির কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী এবং কণ্ঠ দিয়েছেন তানজিনা রুমা, রাজিব ও খেয়া। নৃত্য পরিচালনা করেছেন ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত নৃত্য পরিচালক মামুন।

    বিদেশিদের অংশগ্রহণ ও অভিনয়

    দুই দশকের বেশি সময় ধরে ‘ইত্যাদি’তে বিদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ খেলাধুলা তুলে ধরা হচ্ছে। এবারের বিষয় ‘গুজব’। এতে বিদেশিদের অসাধারণ অভিনয়ে ফুটে উঠবে গ্রামীণ জীবনের নানা সমস্যা ও বাস্তবতা।

    দর্শক নির্বাচন ও অন্যান্য পর্ব

    প্রতিবারের মতো এবারও ব্যতিক্রমী উপায়ে নির্বাচিত তিনজন দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে অংশ নিয়েছেন অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান। সেইসঙ্গে রয়েছে ‘ইত্যাদি’র জনপ্রিয় চরিত্র নাতি এবং কাশেম টিভির রিপোর্টারকে ঘিরে কিছু চমৎকার মুহূর্ত।

    এছাড়াও ঈদকে ঘিরে সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে রয়েছে ডজনখানেক নাট্যাংশ, যেখানে অভিনয় করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পীরা।

    ‘ইত্যাদি’র শিল্প নির্দেশনায় রয়েছেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় আছেন হানিফ সংকেত। প্রযোজনা করেছে ফাগুন অডিও ভিশন, আর স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

    উল্লেখ্য, ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’ প্রচারিত হবে ঈদের পরদিন, রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ইত্যাদিতে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আবির্ভাব সিয়াম-হিমির

    প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে ঈদের পর দিন রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর। ‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের সৌজন্যে ‘ইত্যাদি’ নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। আর এবারের ইত্যাদির নতুন চমক হচ্ছে— নায়ক-নায়িকার আত্মপ্রকাশ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে।

    এটা যে একেবারেই নতুন চমক তা কিন্তু নয়। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। গত বছরই প্রথমবার গান গেয়ে সুপারহিট হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ছোটপর্দার নায়িকা তাসনিয়া ফারিণ। তার সঙ্গে গান গেয়েছিলেন আরেক নায়ক তাহসান।

    এবারও সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চলেছে দেশের অন্যতম সফল টিভি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। এই ঈদে হানিফ সংকেত সংগীতে অভিষেক করাতে চলেছেন একসঙ্গে একজোড়া নায়ক-নায়িকা। একজন বড়পর্দার নায়ক সিয়াম আহমেদ। অন্যজন ছোটপর্দার হিমি। দুজনেই দারুণ জনপ্রিয় নিজ নিজ সেক্টরে। এবার পালা গানের চমক দেখানোর। মজার বিষয় হচ্ছে— এ দুই তারকা একসঙ্গে কখনো অভিনয় করেননি। অথচ তাদের প্রথম গানের অভিষেক হচ্ছে একসঙ্গে! 

    ‘ইত্যাদি’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেশাদার সংগীতশিল্পী না হয়েও খুব চমৎকারভাবেই গানটি গেয়েছেন তারা। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল। সুর ও সংগীত করেছেন ইমরান মাহমুদুল। সিয়াম ও হিমির এই ব্যতিক্রমধর্মী গানটি চিত্রায়িত হয় চারদিকে লেকঘেরা একটি দৃষ্টিনন্দন ব্যতিক্রমী স্থানে।

    গাওয়া প্রসঙ্গে সিয়াম বলেন, ‘আমি জীবনে কোনো দিন গান গাইতাম না। হানিফ সংকেত ও কবির বকুল ভাই যদি আমাকে তাগাদা না দিতেন। আমি গানের মানুষ না। আমি ভালো গান গাই না। কিন্তু তার পরও তারা দুজন বলেছেন— এটা তোমার দর্শকদের জন্য ঈদ উপহার, তাই গানটা গেয়েছি।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • ঈদের ইত্যাদিতে গুজব নাটিকায় বিদেশিরা

    জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র প্রতিটি পর্বে গত প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে আমাদের লোকজ সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরছেন বরেণ্য নির্মাতা হানিফ সংকেত। 

    বিদেশিদের নিয়ে তাদের মাতৃভাষার বদলে বাংলা ভাষায় গ্রামের সহজ সরল মানুষের চরিত্রে অভিনয় করিয়ে তুলে ধরা হয় আমাদের লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ কুসংস্কার, বিভিন্ন অসঙ্গতি, সামাজিক সমস্যা, গ্রামীণ খেলাধুলা ইত্যাদি। 

    প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন জানিয়েছে, এবারের পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন জাপান, ইটালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, চীন, সুইডেন, রোমানিয়া, ডেনমার্ক, ইন্দোনেশিয়া, প্যারাগুয়ে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক। যারা এ দেশে বিভিন্ন দূতাবাস ও বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। 

    এসব বিদেশি নিয়ে এবারের ঈদে হানিফ সংকেত নির্মাণ করেছেন গুজব নিয়ে একটি নাটিকা। একটি পরিবারের মধ্যে গুজব ছড়ানোর কারণে সম্পর্কে টানাপোড়েন, পারিবারিক কলহ এবং মানসিক অশান্তি হতে পারে। সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই করা হয়েছে এবারের বিদেশিদের পর্ব। পাশাপাশি রয়েছে তাদের অংশগ্রহণে একটি গানের সঙ্গে নৃত্য। 

    বিদেশিদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে হানিফ সংকেত বলেন, ‘ওরা অপেশাদার, তবে অনেক পেশাদার শিল্পীরও ওদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। বিশেষ করে বিদেশিদের সময়জ্ঞান, নিষ্ঠা, একাগ্রতা, কষ্ট সহিষ্ণুতা, আন্তরিকতা দেখে আমি মুগ্ধ। মাত্র কয়েকদিনের পরিচয়ে বিদেশিদের সঙ্গে যে আত্মিক বন্ধন তৈরি হয় তা কখনোই ভোলার নয়। আশা করি প্রতিবারের মতো এবারও পর্বটি দর্শকদের অনেক আনন্দ দেবে।’ 

    ইত্যাদি বিটিভিতে প্রচার হবে ঈদের পরদিন রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর। বরাবরের মতো অনুষ্ঠানটি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।

    বিনোদন ডেস্ক