
বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন গত শুক্রবার বড় ছেলে নিষাদ হুমায়ুনকে নিয়ে নিউমার্কেটে শপিং করতে গিয়েছিলেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় হঠাৎ একটি অটোরিকশা এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে অভিনেত্রী রাস্তায় পড়ে যান এবং রিকশার চাকার নিচে তার পা চাপা পড়ে। বাঁ পায়ে গুরুতর চোট পান তিনি। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনার খবর জানালেন অভিনেত্রী।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে অভিনেত্রী শাওন লিখেছেন— বড় ব্যাটা নিষাদ হুমায়ূনকে নিয়ে গিয়েছিলাম নিউমার্কেট, তার বাবার প্রিয় বাজারে। সুন্দরভাবে কাজ শেষ করে গাড়ির কাছে ফিরছিলাম। জুমআর সময়, দুপুর ১টা ৫৫… নিউমার্কেটের ভেতরের অংশের চলাচলের রাস্তায় বসা মুসল্লিদের নামাজ প্রায় শেষের দিকে। রাস্তা একদম ফাঁকা।
ডান-বাম ভালো করে দেখে যে-ই না রাস্তা পার হওয়া শুরু করেছি, কোত্থেকে মাটি ফুঁড়ে এলো ‘বাংলার টেসলা’খ্যাত এক ইঞ্জিনচালিত রিকশা। কোনোরকম বেলের টুংটাং না করে ‘আআআপুউউউ… সরেএএএন’ বলে ডাক দেওয়া আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিন যাত্রীসহ চালক মহাশয় এক সজোর ধাক্কা দিলেন! প্রবল বেগের সেই ধাক্কায় আমি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে রাস্তায় পড়ে গেলাম, আর ‘বাংলার টেসলা’র পেছনের চাকা আমার বাম পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেল।
তিনি আরও বলেন, টেসলার চালককে ধন্যবাদ। তিনি পালিয়ে না গিয়ে নিজের দোষ কিছুটা স্বীকার করেছেন। আশপাশ থেকে ছুটে আসা মানুষকে ধন্যবাদ নানা জ্ঞান দিয়ে আমাকে সাহায্য করার চেষ্টার জন্য।
শাওন বলেন, কৃতজ্ঞতা সেই চা দোকানদারের প্রতি, যিনি নিজ দোকানের ফিল্টার পানির জার পুরোটা ঢেলে আমার পায়ে তাৎক্ষণিক আরাম দিয়েছেন।
দুর্ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা অর্পিতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, আর অর্পিতা, তুই সাথে না থাকলে কীভাবে যে ওই সময়টুকু সামলাতাম জানি না। চোখের সামনে থেকে অন্ধকার সরার পর দেখলাম নিজের পুরো শরীরের ভার তোর ওপর ছেড়ে আমি ঢলে পড়েছি। আর তুই ঠাণ্ডা মাথায় আমাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছিস। পাশাপাশি ঘটনার আকস্মিকতায় নার্ভাস হয়ে পড়া নিষাদকে সামাল দিচ্ছিস! শুধু মুখে মুখে ‘শাওন মা’ না… তুই আমার শক্তপোক্ত মেয়ের দায়িত্বই পালন করে দেখালি। তোর শাওন মা হিসেবে আমি গর্বিত ও শুকরিয়া।
শাওন আরও বলেন, পরম করুণময়আল্লাহর দয়ায় পা ভাঙেনি। তবে পেশি ও কোমল টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পূর্ণ বিশ্রাম আর ওষুধে আগামী কিছু দিনের মধ্যে সেরে যাবে। যেসব ছা*লশাবকেরা ব্যান্ডেজ করা পায়ের ছবিতে ‘হা হা’ অনুভূতি দেখিয়েছেন, তাদের আশার গুড়ে বালি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘নক্ষত্রের রাত’ ধারাবাহিক দিয়ে অভিনয়ে পা রাখেন মেহের আফরোজ শাওন। এরপর বেশ কিছু একক-ধারাবাহিক নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্রে দেখা যায় তাকে। এর মাঝেই একটা সময় লেখকের গলায় মারা পরান অভিনেত্রী।
বিনোদন ডেস্ক





