Home / Entertainment / ‘শেফালি ছিলেন শক্তি, স্বপ্ন ও আশার এক ঝলক’

‘শেফালি ছিলেন শক্তি, স্বপ্ন ও আশার এক ঝলক’

মাত্র পাঁচ দিন আগের কথা। ২৭ জুন বলিউড অভিনেত্রী এবং রিয়েলিটি টিভি তারকা শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যু ইন্ডাস্ট্রি এবং দর্শকদের জন্য ছিল বড় এক ধাক্কা। বলিউডের সত্তরের দশকের সিনেমার ‘কাঁটা লাগা’ গানের রিমিক্সের মিউজিক ভিডিও দিয়েই শেফালির উত্থান। 

ভিডিওটির পরিচালক রাধিকা রাও সম্প্রতি এ অভিনেত্রীকে নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে শেফালি সম্পর্কে অনেক অজানা কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘২০ দিন আগে, তিনি ছিলেন শক্তি, স্বপ্ন এবং আশার এক ঝলক এবং ভবিষ্যতের জন্য এক দুর্দান্ত জীবনের অপেক্ষায়।’

রাধিকা জানিয়েছেন, শেফালির মৃত্যু ভারতীয় শোবিজের কুৎসিত এবং বিপজ্জনক দিক প্রকাশ করেছে। সেটা কীভাবে? তিনি বলেন, ‘শেফালি কখনোই এমন ছিল না। ২০ দিন আগে যখন আমরা তার সঙ্গে দেখা করি, তখন তিনি ছিলেন একগুচ্ছ শক্তি, একগুচ্ছ স্বপ্ন এবং আশা এবং ভবিষ্যতের এক দুর্দান্ত জীবনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।’

শেফালির মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে। তবে তিনি বয়স বেঁধে রাখার জন্য বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি নিচ্ছিলেন। বলিউডে অভিনেত্রীদের বয়স তার ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে টিকে থাকার জন্য অনেক অভিনেত্রীই ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন। শেফালিও তাই করেছিলেন। এর ফলাফল, জীবন দিয়েই তাকে পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। অথচ অভিনেতাদের বয়স নিয়ে কেউ কোনো কথা বলে না। বয়স তাদের ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও কোনো বাধার সৃষ্টি করে না। শেফালির মৃত্যু ইন্ডাস্ট্রির এই কুৎসিত ও অমানবিক দিকটাকে একবার উন্মোচন করেছে বলে বিশ্বাস করেন ‘কাঁটা লাগা’ গানের ভিডিওর নির্মাতা। 

তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে (শেফালি) এমন কিছু নিশ্চয়ই ঘটেছিল, যে কারণে তাকে এমন চিকিৎসা নিতে হচ্ছিল। কিন্তু সবসময় জানতাম, তিনি কখনও কোনও পরিস্থিতির শিকার বা কোনও কিছুর শিকার হননি। হ্যাঁ, এমন অনেক ঘটনা ঘটে, কিন্তু মৃত্যু যখন এত আকস্মিক হয় এবং জীবন এত ছোট হয় তখন কী হয়? জীবনের এই অংশটি সবাইকে মানবিকভাবে দেখার চেষ্টা করা উচিত।’

‘কাঁটা লাগা’র পর শেফালি জারিওয়ালা খুব বেশি সাফল্য পেতে পারেননি। কেন পারেননি সেটাও জানিয়েছেন রাধিকা। বলেছেন, “আমরা ‘কাঁটা লাগা’ গানটি তৈরি করি, তখন শেফালিকে পরামর্শ দিই, তাকে সাজিয়ে তুলি, তখন আমরা তাকে এমন কিছুর জন্য প্রস্তুত করছিলাম। সে কঠোর পরিশ্রম করেছিল, প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে রিহার্সেল করেছিল। এবং তারপরে ফলাফল সবার সামনে এসেছিল। এর শেষে, শেফালি ছিলেন ‘কাঁটা লাগা’-এর মুখ। এরপর তাকে নিয়ে সেভাবে কেউ হয়তো ভাবেনি। তার মুত্যুর পর সবাই ‘কাঁটা লাগা’র মেয়ে বলছিল তাকে। এমন নয় যে, সে এত বছর ধরে বেশি কাজ করেনি, বা অন্য কিছু করেনি। তবে এটি ছিল তার একমাত্র আইকনিক কাজ। অর্জন এবং অপ্রাপ্তি একটি খুব আপেক্ষিক বিষয়।

আনন্দনগর ডেস্ক

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *