Home / Entertainment / রহস্যময় অভিনেত্রী সিমি গারেওয়াল এখনো একা

রহস্যময় অভিনেত্রী সিমি গারেওয়াল এখনো একা

একসময়ে রুপালি পর্দায় অভিনয় করে ঝড় তুলেছিলেন এবং পর্দার বাইরে সম্পর্কেও সমানতালে আলোচনায় ছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় সিমি গারেওয়াল। তার প্রেমজীবন যেন সিনেমার মতোই নাটকীয় ছিল। রাজসিক পরিবার থেকে শুরু করে শিল্পপতি, ক্রীড়াবিদ—অনেকের সঙ্গেই তার নাম জড়িয়েছিল। কিন্তু জীবনের সব অভিজ্ঞতার পরও তিনি আজও একা। 

আজও তাকে দেখা যায় সাদা পোশাকেই—যেন সেই শান্ত ও মার্জিত উপস্থিতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। অনেক প্রেম, অনেক সম্পর্ক, তবু আজও তিনি একা, নিজের মতো করে বাঁচছেন বলিউডের এই চিরকালীন রহস্যময় অভিনেত্রী।

যুক্তরাজ্যে জন্ম হলেও বড় হয়েছেন ভারতে। সত্তরের দশকে সিমি গারেওয়াল বলিউডে পরিচিত হন তার পরিমিত অভিনয় ও চিরন্তন সৌন্দর্য নিয়ে। ‘মেরা নাম জোকার’, ‘কারিশমা’—সবই তার সেরা কাজের মধ্যে পড়ে। অভিনেত্রী হিসেবে যেমন সফল, ঠিক তেমনই উপস্থাপক হিসেবেও ছিলেন সিমি গারেওয়াল এক অনন্য। তার অনুষ্ঠান ‘রঁদেভু উইথ সিমি গারেওয়াল’-এ বলিউডের বড় বড় তারকা নিজেদের জীবনের অজানা কথা খুলে বলতেন অকপটে।

এই অভিনেত্রীর সঙ্গে ‘রহস্যময়’ তকমা ভালোই যায়। কারণ সাদা পোশাকে তার উপস্থিতি মানেই এক ধরনের আভিজাত্যের প্রতীক। সেই অভিনেত্রীই একসময় প্রেমে পড়েছিলেন ৬৯ বছরের এক প্রতিবেশীর।  রাজ কাপুরের সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছিল। অভিনেতা শশী কাপুরও তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ ছিলেন। 

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই প্রেম পড়েন এক রাজার সঙ্গে। জামনগরের মহারাজা, সেই সময় যার বয়স ৬৯। বয়সের বিশাল ব্যবধান সত্ত্বেও বলিপাড়ায় সম্পর্কের গুঞ্জন ওঠে। পরে তার জীবনে আসেন চিরকুমার শিল্পপতি রতন টাটা, যার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও বহু চর্চা হয়েছে। অভিনেত্রী এখানেই থেমে থাকেননি, আরও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে বলিপাড়ায়। একসময় সিমির নাম যুক্ত হয় ক্রিকেটার পতৌদি পরিবারের নবাব মনসুর আলী খান পতৌদির সঙ্গেও। পরে ১৯৭০ সালে অভিনেত্রী বিয়ে করেন দিল্লির চুননামাল পরিবারের সদস্য রবি মোহনকে, কিন্তু প্রায় এক দশকের মধ্যেই সেই সংসার ভেঙে যায়। 

সংসারবিচ্ছেদের পর ‘মেরা নাম জোকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অভিনেতা রাজ কাপুরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। রাজ কাপুরকে তিনি বরাবরই নিজের ‘গডফাদার’ বলে উল্লেখ করেন সিমি গারেওয়াল। তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুজব থাকলেও অভিনেত্রী সবসময় বলেছেন— রাজজি ছিলেন আমার প্রেরণা, তিনি আমার হৃদয়ের খুব কাছের মানুষ।

অভিনেতা শশী কাপুর তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ ছিলেন। শুটিং চলাকালীন এক দৃশ্যের সময় শশী কাপুর নাকি থেমে গিয়ে বলেছিলেন— ‘তুমি এত সুন্দর যে সংলাপ ভুলে যাচ্ছি!’ এক সাক্ষাৎকারে এমন কথা নিজেই জানিয়েছিলেন সিমি গারেওয়াল। 

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, সিমি গারেওয়াল ভারতের একটি গারেওয়াল পরিবারে তার জন্ম। তিনি ১৭ অক্টোবর ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। জেএস গারেওয়াল যিনি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার ছিলেন। তার মা ছিলেন দর্শী, যিনি হিন্দি চলচ্চিত্র পরিচালক যশ চোপড়ার স্ত্রী পামেলার পিতা মোহিন্দার সিংয়ের বোন।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডে অনেক দিন ছিলেন সিমি গারেওয়াল। ইংরেজি ভাষায় বিশেষ দক্ষ হওয়ার কারণে তিনি ১৯৬২ সালে হিন্দি চলচ্চিত্র অভিনেতা ফিরোজ খানের বিপরীতে ‘টারজান গোস টু ইন্ডিয়া’ নামক ইংরেজি চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় তার ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ চলচ্চিত্রে সিমিকে দিয়ে এক আদিবাসী মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করিয়েছিলেন।

বিনোদন ডেস্ক

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *