Home / Entertainment / ভালো শটের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিতে পারি: পাওলি দাম

ভালো শটের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিতে পারি: পাওলি দাম

বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পাওলি দাম ২০০৩ সালে ‘জীবন নিয়ে খেলা’ নামে একটি টেলিভিশন ধারাবাহিক দিয়ে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন। ২০০৯ সালে গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘কালবেলা’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন। ২০১২ সালে ‘হেট স্টোরি’ সিনেমার মাধ্যমে তার বলিউডে অভিষেক হয়। এরপর একের পর এক অভিনয় করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গেছেন অভিনেত্রী পাওলি দাম।

এবার তার নতুন কাজে একেবারে অন্য মেজাজে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎ পাওলি দাম তার ক্যারিয়ারের আশা-আশঙ্কা থেকে আক্ষেপ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

অনেক দিন পর দর্শক পর্দায় আপনার নাচ দেখল—এমন প্রশ্নের উত্তরে পাওলি দাম বলেন, হ্যাঁ, ভীষণ খুশি হয়েছি। আমি যে নাচটাও করতে পারি, সেটি তো সবাই ভুলেই গিয়েছিলেন, তাই জানান দিলাম। 

তিনি বলেন, সিরিয়াস অভিনেত্রী ভেবে নাচ-গান করার স্কোপ আছে—এমন চরিত্র কেউ অফারই করে না। ‘বিবি পায়রা’-তে অর্জুন (দত্ত, পরিচালক) সেই সুযোগ আমায় দিয়েছেন। জমিয়ে নেচেছি, গান গেয়েছি এবং অ্যাকশন করেছি। অনেক দিন পর এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করলাম।

 ‘গ্যাং অফ ঘোস্ট’ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ওটাই আমার প্রথম আইটেম ড্যান্স। সতীশ কৌশিকের পরিচালনায় ‘গ্যাং অফ ঘোস্ট’-এ প্রোপার আইটেম ড্যান্স করেছিলাম। 

তিনি বলেন, আর ‘বিবি পায়রা’ সিনেমায় আমার নাচটা কিন্তু আইটেম ড্যান্স নয়। তবে অনেক দিন পর নাচ করার সুযোগ পেয়ে খুব আনন্দ পেয়েছি। মাঝে মাঝে এমন কিছু চরিত্রের অফার পেলে সত্যিই ভালো লাগে। আমিও চাই, এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে।  

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

প্রায় ১২ বছর পর অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বাঁধা প্রসঙ্গে পাওলি দাম বলেন, এই যে জুটি বললেন, ভালো লাগল। কারণ জুটি মানেই আমাদের ধারণা একজন হিরো ও একজন হিরোইন কিংবা জুটিতে দুজন হিরো। এমনটাই তো দেখে অভ্যস্ত। ‘আরআরআর’ সিনেমায় তিনজন হিরো নাচছে, কিন্তু সেখানে হিরোইন হলো কাইন্ড অফ প্রপ। তাহলে দুজন হিরোইনের জুটি কেন হতে পারে না? 

তিনি বলেন, এ সিনেমায় সেই ছক ভাঙা হয়েছে। ‘ফ্যামিলি অ্যালবাম’-এর পর আবার আমি আর স্বস্তিকা একসঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করলাম। হিরোইনের জুটির সংখ্যা বাড়ুক সিনেমায়। স্বাদবদলেরও তো দরকার আছে, নাকি?

১০ বছর আগে যেমন ছিলেন, এখনো তেমনই আছেন। পাওলির বয়স বাড়ে না?—এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে একজন এই প্রশ্নটাই আমাকে করেছিলেন। আমি শুধু হেসেছিলাম। কী বলব বলুন তো? 

তিনি বলেন, সত্যি কথা বলতে—আমি বয়স ধরে রাখার জন্য বাড়তি কোনো চেষ্টা করি না। মন থেকে খুশি থাকি। অকারণে বেশি চাপ নিই না। স্ট্রেস ফ্রি থাকি। তাই বলে কি কোনো ভাবনা নেই? অবশ্যই আছে। তবে সেসব নিয়ে অত মাথা ঘামাই না। তবে দর্শকের ভালোবাসা আছে বলেই আমি বিশেষ বদলাইনি।

জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তির ঝুলিটা এখনো ফাঁকা। তা নিয়ে খারাপ লাগা আছে কিনা জানতে চাইলে পাওলি দাম বলেন, আমার অভিনীত সিনেমা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। তবে অভিনেত্রী হিসেবে এখনো জাতীয় পুরস্কার পাওয়া হয়নি। 

অভিনেত্রী বলেন, আসলে সব কিছুরই তো নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। এখনো হয়তো সেই সময় আসেনি। ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাইনি বলে সেই অর্থে কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ দর্শকের থেকে এত ভালোবাসা আর প্রশংসা পেয়েছি, সেগুলো কম প্রাপ্তি নয়। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার জন্য তেমন চরিত্রও তো কাউকে লিখতে হবে। দেখি আমার জন্য কেউ তেমন চরিত্র লেখেন কিনা।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শুটিংয়ে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আপনি কখনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে অভিনেত্রী বলেন, ভালো শটের জন্য একজন অভিনেত্রী নিজেকে নিংড়ে দেয়। তখন মাথায় থাকে না সে জলে আছে, না স্থলে আছে। এই জন্য এটা টিমওয়ার্ক। 

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি অ্যালবাম’, ‘নাটকের মতো’—এই দুটো সিনেমাতেই আমার পানিতে ডুবে যাওয়ার সিন ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটেনি। কারণ লাইফ জ্যাকেট, ডুবুরি, হার্নেসসহ সব রকম ব্যবস্থা ছিল। আমরা তো একটা ভালো শট দেওয়ার জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি, তবে সেটি আমাদের শেষ ঝুঁকি হয়ে যাবে না তো?

বিনোদন ডেস্ক

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *