বিয়ে করলেন বিশ্বের সেরা ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট

Written by

in

পর্দার সামনে বিশাল সব আয়োজন, আকাশচুম্বী বাজেট আর রুদ্ধশ্বাস সব চমক ইউটিউবের দুনিয়ায় যার উপস্থিতি মানেই যেন বিশাল এক রাজকীয় কাণ্ড। তবে নিজের জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনটিতে এই গ্ল্যামার ও আলোকের ঝকঝকানি থেকে বহুদূরে রইলেন বিশ্বখ্যাত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার জিমির ডোনাল্ডসন, যিনি বিশ্বজুড়ে ‘মিস্টার বিস্ট’ নামেই এক নামে পরিচিত। 

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর থিয়া বয়সেনের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বিয়ের ছবিগুলো ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে নেন মি. বিস্ট। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমি মিসেস বিস্টকে খুঁজে পেয়েছি এবং এটি ছিল আমার জীবনের সেরা দিন।’

পর্দায় লাখ লাখ ডলারের জমকালো প্রজেক্ট দেখালেও নিজের জীবনসঙ্গীকে আপন করে নেওয়ার আয়োজনে কোনো আড়ম্বর চাননি এই তারকা। দুই পরিবারের সদস্য ও অতি ঘনিষ্ঠ কিছু প্রিয়জনের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও নিরিবিলি এক পরিবেশে সম্পন্ন হয় তাদের এই পরিণয়।

বিয়ের সাজেও ছিল রুচিশীলতার ছোঁয়া। থিয়া বয়সেন পরেছিলেন আইভরি ও নুড রঙের ওপর ফুল ও লেসের সূক্ষ্ম নকশা করা এক আকর্ষণীয় গাউন। অন্যদিকে মি. বিস্ট সেজেছিলেন ধবধবে সাদা টুক্সিডো জ্যাকেট, সাদা শার্ট, কালো ট্রাউজার এবং কালো বো-টাইয়ের ধ্রুপদী সাজে।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাগদান সেরেছিলেন এই যুগল। নিজের এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘পিপল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিমি বলেছিলেন, ‘আমার বন্ধুরা ভেবেছিল আমি হয়তো সুপার বোউলের মতো বিশাল কোনো পাবলিক প্লেসে জাঁকজমকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেব। কিন্তু আমি জানতাম, আমি এর ঠিক উল্টোটা চাই একেবারে ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত হিসেবে এটিকে ধরে রাখতে ‘

জিমি ও থিয়ার ভালোবাসার গল্পের শুরুটা দক্ষিণ আফ্রিকায়, এক সাধারণ বন্ধুর সূত্রে। পরিচয়ের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) থিয়াকে বার্তা পাঠান মি. বিস্ট, যেখানে তিনি থিয়ার লেখা বই ‘দ্য মার্কড চিলড্রেন’ পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই সামান্য আলাপচারিতাই একসময় রূপ নেয় গভীর প্রেমে।

সম্পর্কের এক বছর পূর্ণ হতেই জিমির পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। তবে থিয়া এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘হিউম্যান কগনিটিভ নিউরোসাইকোলজি’-তে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ না করা পর্যন্ত তারা কিছুটা সময় নেন। বিয়ের আগেই নিজেদের রসায়ন নিয়ে থিয়া বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা তো মানসিকভাবে আগেই বিবাহিত। আমরা আমাদের সন্তান এবং ৭০ বছর বয়সে কীভাবে একসঙ্গে থাকব সেসব নিয়ে কথা বলি। এই আনুষ্ঠানিকতা কেবল আমাদের সম্পর্কের আরেকটি ধাপ মাত্র।

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *