বিবিসির বিরুদ্ধে ‘সেন্সরশিপ’ ও ইসরাইলের হয়ে ‘পক্ষপাতের’ অভিযোগ

Written by

in

গাজায় চিকিৎসকদের ওপর ইসরাইলের পদ্ধতিগত হামলা বা ‘মেডিসাইড’-এর সত্যতা তুলে ধরে মর্যাদাপূর্ণ ‘বাফটা টিভি অ্যাওয়ার্ড’ জয় করেছে প্রামাণ্যচিত্র ‘গাজা: ডক্টরস আন্ডার অ্যাটাক’। 

রোববার (১০ মে) প্রামাণ্যচিত্রটি এই পুরস্কার জিতে নেয়। তবে ওই দিন পুরস্কার গ্রহণের সময় বাফটার মঞ্চ উদযাপনের পাশাপাশি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে ‘সেন্সরশিপ’ বা সত্য গোপন এবং ইসরাইলের পক্ষাবলম্বনের এক তীব্র প্রতিবাদী মঞ্চেও পরিণত হয়। 

প্রামাণ্যচিত্রটি মূলত বিবিসির অর্থায়নে নির্মিত হলেও শেষ মুহূর্তে তারা এটি সম্প্রচারে অস্বীকৃতি জানায়। বিবিসির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের পেছনে ‘নিরপেক্ষতার’ অভাবের অজুহাত দেওয়া হলেও সমালোচকদের মতে, ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা থেকে আড়াল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। 

পরবর্তীতে প্রামাণ্যচিত্রটি ‘চ্যানেল ৪’-এ সম্প্রচারিত হয় এবং রোববার লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল হলে এটি ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ বিভাগে সেরা নির্বাচিত হয়। 

পুরস্কার গ্রহণকালে সাংবাদিক ও এর প্রযোজক রামিতা নাভাই জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ১ হাজার সাতশর বেশি ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন এবং ৪৫০ জনেরও বেশি জনকে অপহরণ করেছে ইসরাইলি বাহিনী। তিনি হাসপাতালের ওপর এই পরিকল্পিত আক্রমণকে জাতিসংঘের পরিভাষায় ‘মেডিসাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেন। 

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

নাভাই তার বক্তব্যে বিবিসির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা চুপ থাকতে বা সেন্সরশিপ মেনে নিতে রাজি নই।’ এই ক্ষোভের যৌক্তিকতা তখনই প্রমাণ হয়, যখন বিবিসি এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের টেলিভিশন সংস্করণে নাভাইয়ের বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পাদনা করে বাদ দেয়। 

নির্বাহী প্রযোজক বেন ডি পিয়ার মঞ্চেই বিবিসিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা আমাদের চলচ্চিত্রটি বাদ দিয়েছেন, এখন কি বাফটার স্ক্রিনিং থেকেও আমাদের বাদ দেবেন?’ 

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত ‘তথ্য অধিকার’ আইনের নথিতে দেখা গেছে, গাজা অভিযান শুরুর পর থেকে বিবিসির শীর্ষ নির্বাহীরা ইসরাইলপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নয়বার বৈঠক করেছেন, যেখানে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে মাত্র একবার। 

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিবিসির শতাধিক কর্মী এক খোলা চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ইসরাইলের ‘মুখপাত্র’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছিলেন। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গাজায় ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। সত্য প্রকাশ রুখতে ইসরাইল এ পর্যন্ত ২৭০ জনেরও বেশি সাংবাদিককে হত্যা করেছে।

প্রযোজক ডি পিয়ার গাজাভিত্তিক সাংবাদিক জাবের বদওয়ান এবং ওসানা আল আশির সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, পুরো প্রোডাকশন টিম প্রতিদিন সকালে উঠে ভাবতেন যে তাদের এই দুই সহকর্মী এখনো জীবিত আছেন কিনা। 

প্রামাণ্যচিত্রটির এই বিজয় প্রমাণ করে, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণার প্রকৃত চিত্র বিশ্বদরবারে বারবার ফিরে আসছে। 

সূত্র: ইয়াহু 

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *