
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডেমি মুর। বয়স ৬২ বছর পেরিয়েছে। কিন্তু বয়সকে বেঁধে রাখতে চান নিজের মতো করে। তাই তারুণ্যের উজ্জ্বলতা বজায় রাখার জন্য একাধিকবার ছুরি কাঁচির নিচে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। করেছেন প্লাস্টিক সার্জারি। আর এ কাজটির জন্যই দীর্ঘদিন ছিলেন পর্দার আড়ালে। সার্জারির পর সুস্থ হওয়ার জন্য স্পটলাইট থেকে দূরে সরে গেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির শীর্ষস্থানীয় প্লাস্টিক সার্জন ড. ডেভিড শোক্রিয়ানের মতে, মুরের সম্ভবত মুখ এবং হাত-দুটিরই অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় নিরাময় প্রক্রিয়ার জন্য অভিনেত্রী সময় নিয়েছিলেন এবং সুস্থ হয়েই জনসমক্ষে ফিরে আসেন।
ডেভিড বলেন, মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন ‘হাত এবং মুখের সার্জারির জন্য ফোলাভাব এবং ক্ষতের তীব্র লক্ষণগুলো স্পষ্ট হতে সাধারণত ৭-১০ দিন সময় লাগে, তাই জনসমক্ষে আবার আবির্ভূত হওয়ার আগে প্রাথমিক নিরাময় প্রক্রিয়ার জন্য সময় প্রয়োজন হয়। তবে সার্জারির পর আগের অতিরিক্ত মোটা চেহারার তুলনায় তার মুখ আরও আকর্ষণীয় ও ন্যাচরাল দেখাচ্ছে।’
মূলত ডেমিকে দেখা গেছে ৯৭তম অস্কারের লালগালিচায়। এর আগে বেশ কিছুদিন ক্যামেরার সামনে আসেননি। সেদিনই তাকে দেখে চমকে গিয়েছিলেন অনেকে। সার্জারির পর ডেমিকে বেশ আকর্ষণীয় লাগছিল। যদিও এ ধরনের সার্জারি অস্বাভাবিক কিছু নয়। অনেক তারকাই তাদের চেহারা আরও পরিমার্জিত করার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।
এদিকে ‘দ্য সাবস্ট্যান্স’ সিনেমায় রূপান্তরকারী ভূমিকার জন্য মুর সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জিতবেন বলে ব্যাপকভাবে অনুমান করা হয়েছিল। এতে, তিনি এলিজাবেথ স্পার্কল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যিনি একটি সিরাম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, যা শেষ পর্যন্ত অপ্রত্যাশিত পরিণতির দিকে নিয়ে। চরিত্রটি সাসপেন্সে ভরা হলেও শেষ পর্যন্ত ডেমির ভাগ্যের শিকে ছিঁড়েনি। অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর মুকুট পুরস্কার জয় করেন ২৫ বছর বয়সি মাইকি ম্যাডিসন। পুরস্কারের নাম ঘোষণার পর এদিন অবশ্য মুর বেশ হতাশও হয়েছিলেন।
পুরস্কার রাতের হতাশা সত্ত্বেও, ডেমি মুরের ব্যক্তিগত জীবন ঊর্ধ্বমুখী। গোল্ডেন গ্লোবস শেষে বেভারলি হিল্টনে ৪১ বছর বয়সি ‘অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’ তারকা অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জনও কিন্তু অভিনেত্রীর নামের পাশে জড়িয়ে গেছে।
সূত্রটি রাডার অনলাইনকে জানিয়েছে, ‘সম্পর্ক নিয়ে ডেমি এখনই সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত নন। তবে অ্যান্ড্রুকে তিনি দুরে সরিয়েও দিচ্ছেন না। অন্যদিকে অ্যান্ড্রু কেবল ডেমিকে শুধু সুন্দরীই মনে করেন না, বরং তিনি তাকে একজন অবিশ্বাস্য প্রতিভা হিসাবেও দেখেন।’ সূত্রটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে, ‘ডেমিকে পাশে রাখাই এখন অ্যান্ড্রুর গুরুত্বপূর্ণ এবং একমাত্র কাজ!’
তবে গোপন অস্ত্রোপচার, অস্কার না পাওয়ার হতাশা এবং অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের সঙ্গে প্রেমের গুজব-ডেমি মুরকে পর্দার ভেতরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই আলোচনায় রেখেছে; যেটা তিনি সব সময়ই পছন্দ করেন। বলা যায়, খানিক বিরতির পর এটাই তার নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। ঠিক এমন আলোচনা দিয়েই ফিরতে চেয়েছেন অভিনেত্রী।
শাহনাজ হেনা





