
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। সেই জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে উচ্ছেদ করতে সক্রিয় ছিলেন নির্মাতা ও অভিনেতা খিজির হায়াত খান। নবগঠিত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে তিনি জায়গা পেয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খিজির হায়াত খানকে বরাবরই নানান ইস্যুতে প্রতিবাদের সুরে কথা বলতে দেখা যায়। কখনো নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি, আবার কখনোবা সমাজের মানুষের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন। সরকার পতনের পরও নানা ইস্যু নিয়ে প্রায়ই কথা বলেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) একটি পোস্ট করেন এ নির্মাতা।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ‘ওরা সাত জন’খ্যাত নির্মাতা লিখেছেন—প্রধান উপদেষ্টা আপনি নিজ মুখে বললেন— ছাত্ররা আপনাদের নিয়োগ দিয়েছেন, তাহলে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে এত বিভেদ কেন? তিনি বলেন, এ বিষয়ে ওদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি কেন? অভ্যুত্থানের তিন মাস যেতে না যেতেই কেন এত বিভাজন, এ দায় কার?
দেশের বেশিরভাগ নির্মাতা, প্রযোজক ও শিল্পীর দীর্ঘদিনের চাওয়া ছিল সেন্সর বোর্ড বাতিল হওয়া। সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী সেন্সর বোর্ড বাতিল করে সার্টিফিকেশন বোর্ড আইন পাস করা হয়। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেবল সদস্য বদলের মাধ্যমে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফের পুরোনো সেন্সর বোর্ডকেই পুনর্গঠন করে। এরপর চলচ্চিত্র সমাজ থেকে তুমুল প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। বোর্ড থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন নির্মাতা আশফাক নিপুণ ও সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।
এবার নতুন চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে সদস্য হিসেবে আছেন নির্মাতা ও অভিনেতা খিজির হায়াত খান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ৫৪ বছরে আসলে যা হয়নি, এখন সেটি হয়েছে। আমরা এত বছর পর নাম পরিবর্তন করে শুরু করেছি। আর এই নামকরণের সার্থকতা যদি ধরে রাখতে পারি, মানে ২০২৪ সালে হলিউড-বলিউড যেভাবে কাজ করে, সেভাবে যদি আমরা সার্টিফিকেশনের বিধিগুলো তৈরি করতে পারি, তা হলে আমাদের জন্য ভালো, সিনেমার জন্য ভালো। এখন সেগুলো সবাই মিলে গবেষণার মাধ্যমে তৈরি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আর আমরা যদি আইন পরিবর্তন করে বিধিগুলো বদলে কাজ করতে পারি, তাহলে আমাদের ওপার সম্ভাবনা আছে। আমরা চাই আমাদের সিনেমা বাংলাদেশের গল্পের সিনেমা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।
খিজির হায়াত বলেন, আমার প্রত্যাশা অনেক। আমি চাই আমার দেশের নির্মাতারা সারা পৃথিবী কাঁপিয়ে বেড়াবে। এত এত বাঁধার পরও বাংলাদেশের নির্মাতারা কোথায় যায়নি? মস্কো, বার্লিন, টরেন্টো কোথায় না গেছে? আর আমাদের যদি বাধা খুলে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা কিনা করতে পারব!
এদিকে সিনেমা সংকটে ভুগছে প্রেক্ষাগৃহগুলো। গেল বছর থেকে আমদানি করা হচ্ছিল হিন্দি ছবি। শুরু থেকে এর ঘোর বিরোধিতায় ছিলেন নির্মাতা খিজির হায়াত খান। সেন্সর সদস্যপদ পেয়েও কি তিনি আগের অবস্থানে অনড় থাকবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি ভারতীয় ছবি আমদানির বিপক্ষে। তবে সিনেমা সংকটে আমাদের পরিবেশক ও হল মালিকরা চাচ্ছেন, তাই হিন্দি ছবি এলে যেন দেশের ছবি অবহেলিত না হয়, সেদিকে প্রাধান্য দিতে হবে। যেমন সিনেপ্লেক্সে দেশের সিনেমাগুলোকে বেশি শো ও পিক টাইমে শো দিতে হবে, পরে হিন্দি ছবি চলবে।
বিনোদন ডেস্ক





