Home / Entertainment / ইত্যাদি জাগিয়ে তোলে বিবেকবোধ

ইত্যাদি জাগিয়ে তোলে বিবেকবোধ

তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে দর্শকের কাছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। অনুষ্ঠানটির প্রতিটি পর্বই তথ্যবহুল ও উপভোগ্য। সে ধারবাহিকতা এবারের পর্বেও দেখা গেছে। এবারের ইত্যাদি ধারণ করা হয়েছে মুন্সীগঞ্জের প্রত্ননিদর্শন মোগল দুর্গ ইদ্রাকপুর কেল্লার সামনে। বাহারি আয়োজন দেখে মনে হয়েছে শত শত বছরের নিরব কেল্লা যেন মানুষের কলকাকলীতে আবারও জেগে উঠেছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে বরেণ্য নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতের কারণে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুন্সীগঞ্জকে নিয়ে ছিল একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন। ইত্যাদির এ গবেষণালব্ধ জেলাভিত্তিক প্রতিবেদনগুলো প্রতিটি জেলাকেই দর্শকদের কাছে জীবন্ত করে তোলে। পরপরই স্থানীয় নৃত্যশিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত নৃত্যছন্দে পরিবেশিত মুন্সীগঞ্জের পরিচিতিমূলক গানটিতে তুলে ধরা হয়েছে মুন্সীগঞ্জের অপরূপ রূপ। যা ছিল মনোমুগ্ধকর।

rnrn

এবারের ইত্যাদিতে গান ছিল দুটি। একটি গেয়েছেন মুন্সীগঞ্জের সন্তান জনপ্রিয় অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী তাহসান খান। স্বভাবজাতভাবেই চমৎকার পরিবেশনায় দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন তাহসান। ভালো লেগেছে কক্সবাজারের তিনজন সৈকত শিশু জাহিদ, বাদশা ও শাহজাহানের গাওয়া আবদুল আলীমের গাওয়া ‘পরের জায়গা পরের জমিন’ পল্লীগীতিটি। বরাবরের মতো এবারের ইত্যাদির প্রতিটি নাটিকাই ছিল বেশ তীর্যক ও সচেতনতামূলক। এবার গান, নাটক, ওটিটি, সিনেমাতে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বেশকিছু নাটিকা ছিল। সবই সচেতনতাবৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস। প্রশংসনীয় ছিল অফিসের শপথ বাক্য ও বস-কর্মচারীর তৈলবিষয়ক নাটিকাটি। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতার ওপর জনসচেতনতামূলক নাটিকাটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। এবারের পর্বে কৃষকদের নিয়ে একটি অসাধারণ নাটিকা করা হয়েছে। প্রশংসিত হয়েছে অনলাইন অফলাইন সম্পর্কিত নাটিকা, নানি-নাতির পর্ব, লেক মিশিগানের ওপর তথ্যবহুল প্রতিবেদন।

rnrn

এবারের দর্শকপর্বটিও ছিল বেশ উপভোগ্য। এ পর্বে অতিথি ছিলেন মুন্সীগঞ্জেরই সন্তান সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ ও বালাম। দর্শকদের নিয়ে তারা পরিবেশন করেন আশির দশকের কিছু জনপ্রিয় গান। যা ছিল উপভোগ্য। উপহার হিসাবে পাওয়া গাছের চারা নিয়ে অনেক দর্শকই খুব যত্ন করে রোপণ করেন নিজের বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা অন্য স্থানে। তেমনি দুজন দর্শককে দেখানো হলো যারা ২০ বছর আগে ইত্যাদি থেকে পাওয়া চারা রোপণ করেছিলেন, যা আজ বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। সবশেষে ছিল বড়শিতে গাঁথা চার বোনের জীবন। যারা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ইত্যাদির ক্যামেরায় আন্ধারমানিক নদীতে ভেলায় ভেসে চার বোনের মাছ ধরার দৃশ্য দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়েছেন। তাদের হাতে দুই লাখ টাকা তুলে দিয়েছেন হানিফ সংকেত এবং এসব মানুষদের প্রতি সমব্যথী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেছেন এবারের ইত্যাদি। এভাবেই প্রতিটি ইত্যাদি আমাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে, জাগিয়ে তোলে বিবেক বোধ।

আনন্দনগর প্রতিবেদক

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *