আমি বুড়ি হইনি, জীবনটাকে উদযাপন করছি: অপরাজিতা

Written by

in

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য বর্তমানে বাঙালি দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একজন অভিনেত্রী। পর্দায় একরাশ পজিটিভিটি আর প্রাণখোলা হাসি সবাইকে মুগ্ধ করে রাখে। অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তবজীবনেও তিনি ভীষণ স্পষ্টভাষী। জীবনকে নিজের শর্তে বাঁচতে ভালোবাসেন তিনি। চুলে দুটো পেকে যাওয়া সাদা রঙ কিংবা মুখে দু-চারটে বয়সের ভাঁজ দেখলেই সমাজ যেভাবে একজন নারীকে ‘পুরোনো’ বা ‘অবসরপ্রাপ্ত’ তকমা দিয়ে দিতে চায়, তার বিরুদ্ধেই এবার গর্জে উঠলেন অপরাজিতা আঢ্য।

সম্প্রতি চল্লিশের কোঠা পার করা নারীদের বয়স এবং তাদের লাইফস্টাইল নিয়ে সমাজের চেনা ‘নীতিপুলিশি’ ও বাঁকা চাহনির বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অনুপ্রেরণামূলক পোস্ট শেয়ার করে নিয়েছেন অভিনেত্রী।

বয়সকে স্রেফ একটা সংখ্যা উল্লেখ করে অপরাজিতা তার পোস্টে লিখেছেন— ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একজন নারী আরও বেশি পরিণত ও গভীর হয়ে ওঠে। নিজেকে ভালোবাসার ক্ষমতাটা বাড়ায়।’ নিজের রূপান্তরকে চমৎকার রূপ সাজিয়ে তিনি লিখেছেন, আমি তো সেই মানুষ, শুধু অভিজ্ঞতা একটু বেশি, হাসিটা একটু গভীর, কান্নাটা একটু চুপচাপ, আর নিজেকে ভালোবাসাটা আগের চেয়ে অনেক বেশি। 

অভিনেত্রী বলেন, কুড়িতে ছিলাম কুঁড়ি, ত্রিশে হয়েছি নদী, আর চল্লিশে এসে বুঝেছি— আমি আসলে সমুদ্র! আমার ঢেউ আছে, আমার গভীরতা আছে, আমার ঝড় আছে, আর আছে নিজের মতো বাঁচার সাহস।

সমাজের তৈরি করে দেওয়া ‘বুড়ি’ শব্দটাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে অপরাজিতা আঢ্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বয়স বাড়া কোনো অপরাধ নয়। অপরাধ হলো— একজন নারীর বয়স দেখে তার রঙিন মনটাকে জোর করে অবসর দিয়ে দেওয়া।

অভিনেত্রীর এ পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। হাজার হাজার নারী তার এই লেখনীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বয়স নির্বিশেষে জীবনকে প্রাণভরে উপভোগ করার এ বার্তা সত্যি আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রতিটি নারীর জন্য এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা। 

পোস্টের শেষে একরাশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে অপরাজিতা বলেন, আমি বুড়ি নই, আমি পরিণত। আমি শেষ নই, আমি পূর্ণ। আর যদি লাল শাড়ি পরে, ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়ে, হেসে একটা ছবি তুলি, তাহলে জেনে রেখো—  আমি বুড়ি হইনি, আমি জীবনটাকে উদযাপন করছি! কারণ নারী বুড়ি হয় না, নারী শুধু প্রতি বছর আরও একটু গল্প হয়ে ওঠে।

বিনোদন ডেস্ক

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *