Home / Entertainment / যে কারণে মাছ ও মাংস খাওয়া ছেড়েছেন অভিনেত্রী

যে কারণে মাছ ও মাংস খাওয়া ছেড়েছেন অভিনেত্রী

ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে ভিগান খাদ্যাভ্যাস। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ— উভয়ের জন্যই এই খাদ্যাভ্যাস ভালো, এমন দাবি করা হচ্ছে নানা মহলেই। সব রকমের প্রাণিজ উপাদান পরিত্যাগ করা হয় এ খাদ্যাভ্যাসে। মাংস তো বটেই— ডিম কিংবা দুগ্ধজাত কোনো খাবারও ভিগান খাদ্যাভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়।

ক্রিকেটার বিরাট কোহলি থেকে শুরু করে বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর, রিচা চড্ডা থেকে অক্ষয় কুমার— সবাই ইদানীং এই ডায়েট মেনে চলছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনিও এখন ভিগান বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী জেনেলিয়া ডি সুজা।

অভিনেত্রী সোহা আলি খানের একটি ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে জেনেলিয়া ডি সুজা বলেছেন, তিনি ২০১৭ সালে আমিষ খাবার ছেড়ে সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী হয়ে যান। অভিনেত্রী বলেন, আমি ২০১৭ সাল থেকেই মাংস খাওয়া ছেড়ে দিই। তবে সেই সময় আমি নিরামিষভোজী হয়েছিলাম। তবে পুরোপুরি ভিগান ছিলাম না। আমি তখনো কিছুটা দুগ্ধজাত খাবার ও পনির খেতাম, মাঝেমধ্যে ডিমও খেতাম। 

তিনি বলেন, ভিগান হওয়ার সিদ্ধান্ত খানিকটা নিজের স্বার্থেই নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম যে, এ ধরনের জীবনযাপন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে।

জেনেলিয়া বলেন, তিনি একটি আমিষভোজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় নিরামিষ ভোজন সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানতেন না। তিনি বলেন, নিরামিষ খাবার বলতে আমি শুধু মটরশুঁটি, আলু আর পনিরকেই বুঝতাম। নিরামিষাশী হয়ে জানতে পারলাম যে, নিরামিষ আহার কেবল গুটিকয়েক খাবারের মধ্যেই সীমিত নয়। আমি একজন পশুপ্রেমী, কিন্তু আমি মাংস খেতেও ভালোবাসতাম। তবে মা হওয়ার পর থেকেই কোনো প্রাণীকে মেরে খাওয়ার বিষয়ে আমার খারাপ লাগা ভীষণভাবে বেড়ে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে ভিগান হওয়ার দিকে ঝোঁক বাড়তে শুরু করে। আমিষ এবং দুগ্ধজাত খাবার ছেড়ে দেওয়ার পর আমার শরীরে ইতিবাচক বদল আসতে শুরু করল। খাওয়ার পরও নিজেকে বেশ হালকা লাগত। কোনো রকম সমস্যা হতো না আর।

কোভিডের সময় থেকেই জেনেলিয়া ও তার স্বামী রীতেশ দেশমুখ দুজনেই যে কোনো প্রাণিজ খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেন। প্রথম দিকে শরীরের কথা ভেবেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দুজনে। জেনেলিয়া বলেন, শুরুতে এটা ছিল একান্তই স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি পরিবেশ ও প্রাণীদের সুরক্ষার প্রতিও খুব আগ্রহী হয়ে উঠি। আমার প্রথম বছরে আমি সব নিয়ম নিখুঁতভাবে পালন করতে পারিনি এবং আমি এখনো নিখুঁত নই, কিন্তু আমি প্রতিদিনই শিখি ও চেষ্টা করি।

ভিগান বা নিরামিষাশীদের পুষ্টির ঘাটতি হয় কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে মুম্বাই নিবাসী পুষ্টিবিদ কিনিটা প্যাটেল বলেন, যে কোনো খাদ্যাভ্যাস ভুলভাবে অনুসরণ করলে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। এখন মাংসাশীদেরও ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি দেখা যায়, তাই এটি ভিগান হওয়ার কারণে হয় না। আপনি যে খাদ্যাভ্যাসই অনুসরণ করুন না কেন, আপনাকে আপনার প্যাথোলজি পরীক্ষা করাতে হবে, রিপোর্ট দেখতে হবে এবং ক্লিনিক্যাল ডেটা পড়তে হবে।

আপনাকে দেখতে হবে, আপনার ইতোমধ্যে কোনো কিছুর ঘাটতি আছে কিনা বা আপনার খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন আনা প্রয়োজন কিনা। এর জন্য পুষ্টিবিদের সঠিক পরামর্শ অবশ্যই দরকার। ভিগান খাবার হয়তো আপনাকে সব কিছু সরবরাহ করতে পারবে না, কিন্তু সেই ঘাটতি পূরণের জন্য আপনি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।

বিনোদন ডেস্ক

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *