
দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে এফডিসিতে শিল্পনির্দেশকের সহকারী হিসেবে কাজ করে গেছেন মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। তার শিল্পনির্দেশনায় ফুটে উঠেছে বিনোদন জগতের অসংখ্য সোনালি মুহূর্ত। এ সময় এফডিসির আঙিনা, ইট-কাঠ, আলো-অন্ধকারের সঙ্গে একাকার হয়ে ছিলেন এ শিল্পনির্দেশকের সহকারী। এ সময়ে দেখেছেন চলচ্চিত্রের কত উত্থান-পতন। সময়ের পরিক্রমায় আজ তিনি বিদায়ের পথে।
বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। আর সেই ঝলমলে আলো-কর্ম তাকে টানে না। এফডিসির কোলাহল ছেড়ে ফিরে যাচ্ছেন আপন ভিটায়। বয়সের ভার তাকে দিন দিন দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তাই প্রিয় কর্মস্থল এফডিসি ছেড়ে ফিরতে চান জন্মস্থানে। বিদায় অনুষ্ঠানে তিনি কেঁদেছেন, এবং কাঁদিয়েছেন। চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরবে— এ বিশ্বাস নিয়েই আপন ভিটামাটিতে ফিরছেন বলে জানান খোরশেদ আলম।
বিদায় অনুষ্ঠানে খোরশেদ আলম স্মরণ করেন তার ওস্তাদ শরফুদ্দীন ভূঁইয়া থেকে প্রয়াত নির্মাতাদের। পাশে উপস্থিত নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টুকে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। খোরশেদ আলম বলেন, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন। আমার জন্য যারা এ আয়োজন করেছেন, শরীরের সব রক্ত দিয়েও এ ঋণ শোধ যাবে না। এফডিসি আগের মতো ভালো দিনে ফিরে যাক, সে কামনা করি।
গতকাল বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে খোরশেদ আলমের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মানুষ। পুরো আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন কয়েকজন বিনোদন সাংবাদিক। মানবিক এ উদ্যোগে যুক্ত ছিল চলচ্চিত্রের কয়েকটি সংগঠন। বিদায়লগ্নে তার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিসহ নির্মাণাধীন ‘তছনছ’ সিনেমার টিম। এ ছাড়া অভিনয়শিল্পী থেকে নির্মাতা ও প্রযোজকরাও তার পাশে দাঁড়ান। সেই সঙ্গে এ শিল্পনির্দেশকের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববিও।
এ সময় অভিনেত্রী বলেন, ‘তিনি আমাদের অসংখ্য সিনেমার নেপথ্যে ছিলেন। গোটা জীবন এফডিসিতে দিয়েছেন। তার বিদায়ের দিনে নিজ অবস্থান থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তার পাশে দাঁড়াতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। আশা করি, চলচ্চিত্রের অন্যরাও তার পাশে দাঁড়াবেন।’
খোরশেদ আলমের সঙ্গে কাজের স্মৃতি স্মরণ করে নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, ‘এখনো খোরশেদ আমাকে বলে— আপনি কাজ করেন না কেন, কাজ করেন। আসলে ওর সঙ্গে অনেক স্মৃতি। আমার অনেক ছবিতে ও কাজ করেছে। ও পরিবারের কাছে ফিরছে, এটা আনন্দের। সুস্থভাবে পরিবারের সঙ্গে ওর শেষ সময় কাটুক, সে কামনা করি। নির্মাতাদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফআই মানিক, সাইমন তারিক ও গাজী মাহবুব।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম, অভিনেতা কমল পাটেকর, সনি রহমান, মুন্না খান প্রমুখ।
বিনোদন ডেস্ক





