Tag: সুরকার

  • আব্বাসীকে নিয়ে শেষ স্মৃতি সামনে আনলেন ফেরদৌসী রহমান

    বরেণ্য সংগীতজ্ঞ, শিল্পী, সুরকার, সংগ্রাহক, গবেষক ও লেখক মুস্তাফা জামান আব্বাসী বেশ কিছু দিন কথাবার্তা বলতে পারতেন না। বাসায় কেউ গেলে তাকিয়ে থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার তাকে তার গুলশানের বাসায় দেখতে গিয়েছিলেন ছোট বোন জীবন্ত কিংবদন্তি বরেণ্য সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান। এদিন তিনি ভাইয়ের পাশে অনেকক্ষণ বসেছিলেন। মাথায় হাত বুলিয়েছেন। হাত ধরেছেন। কিন্তু তাদের দুজনের মধ্যে কোনো ধরনের কথাবার্তা হয়নি। বৃহস্পতিবারের দেখাটাই দুই ভাইবোনের জীবিত অবস্থায় শেষ দেখা হয়ে রইল।

    পল্লিগীতির সম্রাট অগ্রপথিক আব্বাসউদ্দীন আহমদ ও লুৎফুন্নেসা আব্বাসের তিন সন্তান। দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল ১০ বছর আগে মারা গেছেন। গতকাল শনিবার (১০ মে) চলে গেলেন আরেক ভাই দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী। বেঁচে রইলেন একমাত্র ছোট বোন ফেরদৌসী রহমান। 

    বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মুস্তাফা জামান আব্বাসী উপমহাদেশের খ্যাতনামা সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবা আব্বাসউদ্দীন ছিলেন পল্লিগীতির অগ্রপথিক। এ দেশের পল্লিগীতিকে তিনিই প্রথম বিশ্বের সব দেশে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। চাচা আবদুল করিম ছিলেন পল্লিগীতি ও ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালির জনপ্রিয় শিল্পী। বড় ভাই মোস্তফা কামাল ছিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি। বোন ফেরদৌসী রহমান ও ভাতিজি নাশিদ কামালও সংগীতাঙ্গনে সুপ্রতিষ্ঠিত। তার স্ত্রী আসমা আব্বাসী একজন প্রথিতযশা শিক্ষক ও লেখিকা ছিলেন। তিনি গত বছর মারা গেছেন।

    এদিকে কয়েক বছর ধরে দুই ভাইবোন নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় দিন পার করছিলেন। এর মধ্যে গতকাল ভোরে মারা যান মুস্তাফা জামান আব্বাসী। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে শোকাহত ফেরদৌসী রহমান। একটি গণমাধ্যমে সেদিনের স্মৃতি তুলে ধরে ফেরদৌসী রহমান বলেন, সেদিন ভাইয়ের পাশে অনেকক্ষণ বসেছিলাম। মনটা খুব খারাপ করে বসেছিলাম। কোনো কথা বলছিল না। তারপর আমি বললাম, বউ (আব্বাসীর স্ত্রী) চলে গেল। রেজাও (স্বামী রেজাউর রহমান) চলে গেল আমাকে না বলে। তোর কী ইচ্ছা, আমাকে বল?

    ফেরদৌসী রহমান বলেন, চল আমরা একটা কাজ করতে পারি—তুই আর আমি হাত ধরাধরি করে বলরামপুর, কোচবিহার চলে যাই, টুক করে। দার্জিলিংয়ে চলে যাই। আমরা কাউকে কিছু বলব না। আমাদের কেউ খুঁজেও পাবে না। এ কথা শোনার পর নড়লচড়ল। মনে হচ্ছিল, কথাটা ওকে স্পর্শ করেছে। এরপর হাত দুটি ওপরের দিকে তুলল। আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আমার মুখটা ধরার চেষ্টা করল। পরে আমি ওর একটা হাত ধরলাম। এটাই ছিল ওর সঙ্গে শেষ কথা। বৃহস্পতিবার জীবিত ভাইয়ের সঙ্গে শেষ দেখা বলেই কাঁদতে লাগলেন ফেরদৌসী রহমান।

    এর আগে ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদে শোকাহত সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে ফেরদৌসী রহমান লিখেছেন—খুবই দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমার ভাই মুস্তাফা জামান আব্বাসী, যাকে আপনারা একজন মহান শিল্পী, গায়ক এবং লেখক হিসেবে জানেন, তিনি আজ সকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি তাঁর দুই কন্যা সামিরা ও শারমিনী এবং আত্মীয়স্বজন ও ভক্তদের একটি বড় দল রেখে গেছেন, যারা তার মৃত্যুতে শোকাহত। অনুগ্রহ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করবেন।

    ঢাকার আজিমপুরে মা–বাবার কবরে দাফন করা হয়েছে দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসীকে। বাবা আব্বাসউদ্দীন আহমদ ও মা লুৎফুন্নেসা আব্বাসের কবরেই চিরনিদ্রায় শায়িত। এর আগে বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে মুস্তাফা জামান আব্বাসীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। 

    উল্লেখ্য, বনানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান মুস্তাফা জামান আব্বাসী। তার ছোট মেয়ে শারমিনী আব্বাসী জানান, তার বাবার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি দুই মেয়ে এবং বহু ভক্ত–অনুরাগী রেখে গেছেন। মেয়ে শারমিনী আব্বাসী জানান, বেশ কিছু দিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন মুস্তাফা জামান আব্বাসী। সর্বশেষ গত শুক্রবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল শনিবার (১০ মে) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘সুরে সুরে পঞ্চাশে’ পারফর্ম করবেন নকীব খান

    সংগীত জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ করেছেন ‘রেনেসাঁ’ ব্যান্ডের গায়ক, সুরকার নকীব খান। এ উপলক্ষে তাকে ঘিরে ‘সুরে সুরে পঞ্চাশে’ শীর্ষক গান, গল্প ও কবিতার আসর সাজিয়েছে নূর’স ইভেন্ট। আগামী ১৭ জানুয়ারি এটি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ইয়ামাহা ফ্ল্যাগশিপ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।

    আয়োজনে নকীব খান গাইবেন তার জনপ্রিয় সব খান, আর শোনাবেন ক্যারিয়ারের ৫০ বছরের উল্লেখযোগ্য গল্প। সঙ্গে থাকছে কবি সুমী নূর ও মেঘলার কবিতা পরিবেশনা।

    নকীব খান বলেন, ‘ইভেন্টটিতে আমার সংগীত জীবনের পথচলার গল্প শোনাতে চাই। সঙ্গে শ্রোতাদের পছন্দের গান তো গাইবই। এমন সুন্দর সন্ধ্যায় শ্রোতা, সাংবাদিকসহ সকলকে আমন্ত্রণ জানাই।’

    পুরো আয়োজনটি উপস্থাপনা করবেন গায়ক ও সুরকার আশফাকুল বারী রুমন।

    আয়োজক সুমী নূর বলেন, ‘আমাদের এটি ৬ষ্ঠ আয়োজন। আগের প্রতিটি আয়োজনেও আমরা কবিতাকে প্রাধান্য দিয়ে গানের সঙ্গে বাংলা সাহিত্য তুলে আনার চেষ্টা করেছি। এবারও তাই থাকছে। আর কিংবদন্তি নকীব খানের সুরকার জীবনের ৫০ বছরের উদযাপন আয়োজন করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।’

    এ আয়োজনের টিকিট মূল্য ধরা হয়েছে ১২০০ টাকা। ইতোমধ্যে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে নূর’স ইভেন্ট আর গেট সেট রক-এর ওয়েবসাইটে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • রহমানের কাছ থেকে কত টাকার সম্পত্তি পাবেন সাবেক স্ত্রী, জানালেন আইনজীবী

    অস্কারজয়ী সুরকার ও সংগীত পরিচালক এআর রহমান ও সায়রা বানু ২৯ বছরের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি টেনেছেন। সংসার জীবনের গতি থমকে দাঁড়ালেও তারা এখন ভিন্ন পথে হাঁটছেন। ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেও এআর রহমানের স্ত্রী সায়রা বানুর চোখে এখনো তার সাবেক স্বামী ‘বিশ্বের সেরা পুরুষ’ বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি রহমানপত্নী সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন— তাদের নিয়ে যেন কোনো নেতিবাচক তথ্য ছড়ানো না হয়। 

    এদিকে বিচ্ছেদের পর প্রাথমিক আইনি ধাক্কা সামলে ওঠার পরেই সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে চলছে কাটাছেঁড়া— এমনটিই দাবি করেছেন নেটিজেনদের একটি অংশ। তাদের মতে, রহমানের বিপুল সম্পত্তির অর্ধেক অংশ নাকি পাবেন তার স্ত্রী সায়রা বানু।

    অস্কারজয়ী সুরকার ১ হাজার ৭২৮ কোটি রুপির মালিক। তার সব সম্পদের পরিমাণ টাকার অঙ্কে দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন অনুযায়ী, সেই সম্পত্তির অর্ধেক শেয়ার পাবেন তার স্ত্রী সায়রা বানু। তবে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন সায়রা বানুর আইনজীবী বন্দনা শাহ।

    তিনি বলেন, অনেকের ধারণা— বিচ্ছেদের পর নাকি ভরণপোষণের জন্য স্বামীর মোট সম্পত্তির অর্ধেক অংশ তার স্ত্রী পান। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। অনেক ভারতীয় এ ভুল ধারণা পোষণ করে আছেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো আইন ভারতীয় সংবিধানে এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত করা হয়নি। তাই স্বাভাবিকভাবেই এআর রহমান ও সায়রা বানুর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য নয়।

    বন্দনা শাহ বলেন, আদালতে এআর রহমানের মোট সম্পত্তির পরিমাণ জানিয়েছেন। এ সময় যদি সায়রা বানু ভরণপোষণের দাবি করেন, সে ক্ষেত্রে আদালত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।

    এ আইনজীবী বলেন, উভয় পক্ষের জমা দেওয়া যাবতীয় তথ্য এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে। পাশাপাশি রহমান ও সায়রা বানু বন্ধুত্বপূর্ণভাবে বিচ্ছেদের পথ অবলম্বন করেছেন। তাই এ ক্ষেত্রে ভরণপোষণের কোনো জায়গা নেই।

    উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) হঠাৎই এআর রহমান ও সায়রা বানু মিডিয়ায় প্রকাশ করেন তাদের বিচ্ছেদের খবরটি। বিচ্ছেদের খবর একদিন যেতে না যেতেই সুরকারের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জনে নাম জড়ায় বাঙালি ললনা মোহিনী দের। 

    এদিকে দীর্ঘ ২৯ বছরের দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার কারণ হিসেবে রহমান ও সায়রা জানান, অগাধ প্রেমের অভাব নয়, মানসিক চাপ ও নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব তৈরি হওয়াতেই তারা বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিচ্ছেদ হলেও এআর রহমান বিশ্বের সেরা পুরুষ: সায়রা বানু

    ২৯ বছরের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি টেনে ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেও সুরকার এআর রহমানের স্ত্রী সায়রা বানুর চোখে এখনো তার সাবেক স্বামী ‘বিশ্বের সেরা পুরুষ’ বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি তাদের বিচ্ছেদকে ঘিরে নানা গুজব ও মিথ্যা প্রচারণার জবাবে এ মন্তব্য করেছেন রহমানপত্নী। পাশাপাশি সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন, তাদের নিয়ে যেন কোনো নেতিবাচক তথ্য ছড়ানো না হয়। 

    জীবন-সংসারের গতি থমকে দাঁড়াল তাদের জীবনে। ইতোমধ্যে এ দম্পতির বিচ্ছেদের খবর জেনে গেছেন ভক্ত-অনুরাগীরাও। দেশবাসীকে থম দিয়েছেন এআর রহমান। কী কারণে বিচ্ছিদ এ দম্পতির জানিয়েছেন রহমানপত্নীর আইনজীবী। গত মঙ্গলবার (নভেম্বর) রাতে এক বিবৃতিতে আইনজীবী বন্দনা শাহ জানান, তিক্ত সম্পর্কের জেরেই এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তার মক্কেল। উভয়ের সম্মতিতেই এ পদক্ষেপ। এআর রহমানের বিচ্ছেদের খবর হাওয়ার বেগে ছড়াতেই বাকরুদ্ধ গোটা দেশ।

    গতকাল রোববার (২৪ নভেম্বর)  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিওবার্তায় সায়রা বানু বলেন, আমি বর্তমানে মুম্বাইয়ে আছি। গত কয়েক মাস ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলাম। তাই আমাকে বিরতি নিতে হয়েছে সবকিছু থেকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আমাদের নিয়ে অনেক মুখরোচক গুজব প্রতিনিয়ত ছড়াচ্ছে। আমি সবাইকে বিশেষ করে ইউটিউব ও তামিল মিডিয়াকে অনুরোধ করছি— এআর রহমানকে নিয়ে খারাপ কিছু বলবেন না। তিনি একজন অসাধারণ মানুষ, বিশ্বের সেরা পুরুষ। 

    অস্কারজয়ী সংগীতশিল্পী এআর রহমানের নিজের ব্যান্ডের গিটারিস্ট মোহিনি দের সঙ্গে সম্পর্কের গুজব নিয়ে সায়রা বানু বলেন, এআর রহমান কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত নন। আমি তাকে সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি এবং খুব ভালোবাসি। কোনো নতুন সম্পর্কের জন্য আমাদের সম্পর্কে প্রভাব পড়েনি। এ বিষয়টি অন্যরকম। তিনি আমার জন্য অনেক কিছু করেছেন, এখনো করেন। তাই অনুগ্রহ করে তার সম্পর্কে মিথ্যা গুজব ছড়াবেন না। ঈশ্বর তার মঙ্গল করুন।

    সবশেষ তিনি বলেন, চিকিৎসা শেষ হলে শিগগিরই চেন্নাই ফিরে আসবেন। সবার প্রতি অনুরোধ— এআর রহমানের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। এ সময় সায়রা বানু এআর রহমানকে ধন্যবাদ জানান এবং শত ব্যস্ততার মধ্যেও তার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার খোঁজ নেন।

    এদিকে এআর রহমান তার আইনজীবীর মাধ্যমে এক্স হ্যান্ডলে কড়া বার্তা দিয়ে একটি নোটিশ পোস্ট করেছেন। সেখানেই রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় সুরকার ও তার স্ত্রী সায়রা বানুর বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে। নোটিশে বলা হয়েছে— বিচ্ছেদ নিয়ে যে বা যারা আপত্তিকর পোস্ট করেছেন অথবা ভিডিও দিচ্ছেন, তারা অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলুন। সেটি না হলে ভারতীয় আইন অনুযায়ী মানহানির মামলার মুখে পড়তে হবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • রাহমানের জীবনে মোহিনী, সে কারণেই বিচ্ছেদ—কী বললেন সুরকারের মেয়ে

    অস্কারজয়ী সংগীতশিল্পী ও পরিচালক এআর রাহমান ও তার স্ত্রী সায়রা বানু ২৯ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে বিবাহবিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন তারা। 

    এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রাহমানের সহযোগী মোহিনী দে-ও তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন। আর তার পরেই দুইয়ে-দুইয়ে চার করতে শুরু করেন অনেকে। সমাজের নীতিবানরা আঙুল তুলতে শুরু করেন মোহিনীর দিকে। 

    তাদের ধারণা, এই বঙ্গললনার কারণেই নাকি ঘর ভেঙেছে সুরকারের। যদিও লোকের কথায় কান দেওয়ার পাত্রী নন মোহিনী। দিব্যি শো করছেন, নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। 

    তবে আতশকাচের তলায় যেন বারবার রাখা হচ্ছে অস্কারপ্রাপ্ত সুরকার এআর রাহমানকে। ক্রমাগত সমালোচনা ও কটাক্ষের মাঝে এবার মুখ খুললেন রাহমানের মেয়ে।

    এদিকে বিচ্ছেদ নিয়ে এআর রাহমানের স্ত্রীর আইনজীবী বন্দনা শাহ জানিয়েছেন, দীর্ঘ তিক্ততা এ বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণ। উভয় পক্ষই আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন মিটিয়ে নিতে। কিন্তু তা আর সম্ভব নয়। ফলে দীর্ঘ দাম্পত্যের পর এই সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্ট কষ্ট হয়েছে তার। কিন্তু সায়রা অপারগ। 

    তাদের বিচ্ছেদের পর বিপুল অঙ্কের খোরপোশ পাবেন সায়রা। এ নিয়ে ইতোমধ্যে নানা কথা শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

    তবে সেসব কথা উড়িয়ে দিয়েছেন সায়রার আইনজীবী। তিনি পাশাপাশি এ বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন— রাহমান-সায়রার বিয়ে ভাঙলেও তাদের বন্ধুত্ব অটুট। এর পর স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, তাদের এই বিচ্ছেদের সঙ্গে মোহিনীর কোনো সংযোগ নেই। 

    রহমান ও সায়রার দীর্ঘ দাম্পত্যে তিন সন্তান রয়েছে তাদের। দুই মেয়ে খাতিজা ও রহিমা এবং এক ছেলে আমিন। খাতিজা বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আমিন অবশ্য সর্বক্ষণ বাবার পাশে পাশে থাকেন। আর মেয়ে রহিমা অবশ্য অনেক বেশি সোজাসাপটা কথা বলেন।

    নেটপাড়ায় রহমান-মোহিনীকে নিয়ে নানা চটুল, রসালো খবর চাউর হতেই শেষমেশ মুখ খুললেন বড়কন্যা রহিমা রহমান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন— সর্বদা মনে রাখবেন, গুজবের জন্ম দেয় নিন্দুকেরা। ছড়িয়ে দেয় বোকারা। সেটি বিশ্বাস করে নির্বোধরা। সত্যিই বলছি— নিজের চরকায় তেল দিন। 

    ছোট বোনের সেই পোস্ট শেয়ার করেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বড় বোন খাতিজা রহমানও। 

    আসলে নাম উল্লেখ না করেই বাবাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কড়া জবাব দিয়েছেন রহিমা। 

    উল্লেখ্য, অস্কারজয়ী সুরকার ও সংগীত পরিচালক এআর রাহমানের ঘরভাঙার খবরে তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দোষারোপ করা হচ্ছে তারই টিমের নারী সদস্য গিটারিস্ট মোহিনী দের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে এ সংগীত পরিচালকের। 

    তবে এ নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি এআর রাহমান। ১৯৯৫ সালে এআর রাহমান ও সায়রা বানুর বিবাহ হয়। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • আমি কখনই মা হতে চাইনি: রাধিকা আপ্তে

    বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে মা হতে চলেছেন। ২০১১ সালে ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী ও সুরকার বেনেডিক্ট টেলরের সঙ্গে লন্ডনে লিভ ইন শুরু করেন তিনি। এরপর জানা যায়, আইনিভাবে বিয়ে সারেন এ যুগল। 

    করণ কান্ধারি পরিচালিত ‘সিস্টার মিডনাইট’ ছবিটির প্রিমিয়ার উৎসবে উপস্থিত ছিলেন রাধিকা আপ্তে। গত অক্টোবরে লন্ডনের সেই চলচ্চিত্র উৎসবে তার বেবি বাম্প নজরে আসতেই অভিনেত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। 

    পরে উৎসবে তোলা কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন নেন রাধিকা আপ্তে। কিন্তু নিজের মা হওয়ার প্রসঙ্গে সেদিন একটি শব্দও তিনি লেখেননি। এমনকি খবর জানাজানি হওয়ার পরও কোনো কথা বলেননি এ অভিনেত্রী।

    তবে এবার নিজের অন্তঃসত্ত্বা নিয়ে মুখ খুললেন রাধিকা। অন্য তারকাদের তুলনায় একটু আলাদাই এ অভিনেত্রী। তাই জীবনের নতুন সুখবরটির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সোজা বলে ফেললেন— আমি কোনো দিনই সন্তানের মা হতে চাইনি।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে খানিক মজার সুরেই রাধিকা বলেন, তিনি এবং তার স্বামী কোনো দিনই সন্তান চাননি তাদের জীবনে। অভিনেত্রী বলেন, বাচ্চাদের পোশাক কীভাবে পরাতে হয়, পরিবর্তন করতে হয়; সেটুকু পর্যন্ত জানি না আমরা। তিনি আরও বলেন, লন্ডনের ওই চলচ্চিত্র উৎসবে হাজির না হলে তার মা হতে যাওয়ার খবর হয়তো জানাজানি হতো না। কারণ তা নিয়ে জানাজানি হোক, এমন কোনো ইচ্ছাও ছিল না তার।

    অভিনেত্রী বলেন, ‘প্রথম যেদিন জানতে পারলাম পেটে সন্তান, বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গিয়েছিলাম। মানতেই চাইছিলাম না। ভাবছিলাম, কীভাবে হলো। যাই হোক, সন্তান নেওয়াটা কোনো দিনই আমার পরিকল্পনার মধ্যে ছিল না। রাধিকা বলেন, মা হওয়ার যে এই পথ চলাটা তা কিন্তু মোটেই দারুণ আনন্দদায়ক নয়, অন্তত আমার কাছে। যথেষ্ট কঠিন ও কষ্টের।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে সঙ্গ দেননি সহধর্মিণীকে, কী করেছিলেন এআর রহমান

    অস্কারজয়ী সংগীত সুরকার এআর রহমান মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে সহধর্মিণীকে সঙ্গ না দিয়ে নাকি সারারাত বীণা বাজিয়েছিলেন। কেন এমন করেছিলেন এ সুরস্রষ্টা? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এআর রহমানের শ্যালক ভগ্নিপতির জীবনের এ অজানা কথাই তুলে ধরলেন।

    দেশের অন্যতম খ্যাতিমান কিংবদন্তি সংগীত সুরকার ও পরিচালক এআর রহমান। বিশ্বজোড়া খ্যাতি তার। দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন অস্কার মঞ্চেও। সাধারণভাবে নিজের কাজের জন্যই প্রচারের আলোয় থাকেন এআর রহমান। স্বভাবজাত কারণে স্বল্পভাষী হওয়ায় ক্যামেরার সামনে বেশ মুখচোরা তিনি। অতীতে ক্যামেরার সামনে বেশ কয়েকবার সুরকারকে দেখা গেছে সহধর্মিণীকে শাসন করতে। তবে সুরকার মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে সহধর্মিণীকে সঙ্গ না দিয়ে নাকি সারারাত বীণা বাজিয়েছিলেন।

    তামিলের পাশাপাশি হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে দাপটের সঙ্গে কাজ করলেও সংগীত পরিচালক এআর রহমান সব সময়ই তামিলকে সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন। সহধর্মিণী সায়রা বানুর সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্য তার। তিন সন্তানের অভিভাবক তারা। তবে বরাবরই নিজের কাজের প্রতি ভীষণ রকম দায়বদ্ধ রহমান। সে কারণে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে নাকি সহধর্মিণীকে সঙ্গ দিতে পারেননি সুরকার। 

    আনন্দবাজারের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এআর রহমানের শ্যালক এক সাক্ষাৎকারে ভগ্নিপতির জীবনের এই অজানা কথাই তুলে ধরলেন। তিনি যে একেবারে বিপরীত স্বভাবের মানুষ সে কথাও জানালেন তিনি। এআর রহমানের শ্যালক বলেন, সহধর্মিণীকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় গেছেন রহমান। সুরকারের সহধর্মিণীকে রাত ১২টা নাগাদ ফোন করতেই তিনি বলেন, ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। পাশের ঘরে বীণা বাজাচ্ছেন রহমান। কারণ একটি সুর নিয়ে অনেক দিন ধরে চিন্তাভাবনা করছিলেন। সেই কারণে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েও সেই কাজকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘আপনি আর বার্তা দিয়েন না আপা, আপনি নিজ পরিবার ছাড়া কাউকে ভালোবাসেন না’

    তীব্র জনরোষের মুখে দীর্ঘদিন সময় ধরে রাখা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। আশ্রয় নেন দিল্লীতে। এরই মধ্যে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছে। যার প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। 

    এমন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বার্তা দিলেন জনপ্রিয় সুরকার প্রিন্স মাহমুদ। সম্প্রতি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিয়েছেন বার্তা। 

    তার এই বার্তা ভাইরাল হওয়ার পর প্রিন্স মাহমুদ সামাজিক মাধ্যমে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নিজের তিক্ত অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
    ফেসবুকে এক পোস্টে প্রিন্স লিখেছেন, আপনি আর কোনো বার্তা দিয়েন না আপা, আপনি নিজ পরিবার ছাড়া কাউকে ভালোবাসেন না। আপনার দম্ভ, জিদ, অহংকার বাংলাদেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রেখে গেছে। আপনি আমাদের মৃত্যুকূপের মধ্যে ফেলে দিয়ে গেছেন। আপনি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধায় দিয়ে গেছেন। আপনার কান্না এখন ‘কুমিরের কান্না’ লাগে। আপনাকে বিশ্বাস করি না। আর কথা বইলেন না, আর না।

    পোস্টের মন্তব্যের ঘরে প্রিন্স মাহমুদ আরও লিখেছেন, নতুন প্রজন্মের হাতে দেশকে সমর্পণ করেছি বার্তা দেন, ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আর খেলবেন না।

    শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেমন নিয়মিত বার্তা দিয়েছেন, আবার রাজপথে নেমেও প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।

    বিনোদন ডেস্ক