Tag: মাইকেল জ্যাকসন

  • এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁয়ে ইতিহাস গড়ল ‘মাইকেল’

    পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ১০০ কোটি ডলার আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর মধ্য দিয়ে এটি ইতিহাসের প্রথম জীবনীভিত্তিক (বায়োপিক) চলচ্চিত্র হিসেবে এক বিলিয়ন ডলার আয়ের রেকর্ড গড়ল।

    চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় করেছে ৬২৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার এবং উত্তর আমেরিকায় ৩৭১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে এর বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ০০১ বিলিয়ন ডলারে।

    এপ্রিলে মুক্তির পর থেকেই ‘মাইকেল’ একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই এটি উত্তর আমেরিকায় ৯৭ মিলিয়ন এবং বিশ্বব্যাপী ২১৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালের ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’–এর ৬০ মিলিয়ন ডলারের উদ্বোধনী রেকর্ড ভেঙে সেরা ওপেনিং করা মিউজিক্যাল বায়োপিকে পরিণত হয়।

    এছাড়া ২০১৮ সালের ‘বোহেমিয়ান র‌্যাপসোডি’–এর ৯১১ মিলিয়ন ডলারের আয় ছাড়িয়ে এটি এখন সর্বাধিক আয় করা মিউজিক্যাল বায়োপিক। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ‘ওপেনহাইমার’–এর ৯৭৫ মিলিয়ন ডলারের আয়ও অতিক্রম করে বায়োপিকের মধ্যে সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার স্বীকৃতি পেয়েছে।

    চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে লায়ন্সগেট, উত্তর আমেরিকায় পরিবেশনার দায়িত্বও ছিল তাদের। আন্তর্জাতিক বাজারে ছবিটি বিতরণ করেছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স। ‘মাইকেল’ লায়ন্সগেটের ইতিহাসে প্রথম এক বিলিয়ন ডলার আয় করা সিনেমাও বটে।

    চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন অতোয়ান ফুকুয়া। এতে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব, জ্যাকসন ফাইভ–এর সদস্য হিসেবে যাত্রা এবং ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। মাইকেলের বাস্তব জীবনের ভাতিজা জেফার জ্যাকসন অভিনয়ে অভিষেকেই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া কোলম্যান ডোমিঙ্গো ও নিয়া লং অভিনয় করেছেন মাইকেলের বাবা-মায়ের ভূমিকায়।

    পরিচালক ফুকুয়া বলেন, এই অর্জন শুধু একটি সিনেমার নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম সেরা সংগীতশিল্পীকে সম্মান জানানোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। দর্শকদের ভালোবাসাই চলচ্চিত্রটিকে ইতিহাসের অংশ করে তুলেছে।

    সূত্র: ভ্যারাইটি

    লাইফস্টাইল ডেস্ক

  • ‘ওপেনহাইমার’কে টপকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী বায়োপিক এখন ‘মাইকেল’

    কিং অব পপ মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও সংগীত নিয়ে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে বিশ্বজুড়ে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী রেকর্ড পরিমাণ ৯৭৭.৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বায়োপিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। 

    এর মাধ্যমে ছবিটি ক্রিস্টোফার নোলানের অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘ওপেনহাইমার’—এর আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে, যার বৈশ্বিক আয় ছিল ৯৭৫ মিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে এটি লায়ন্সগেট স্টুডিওর ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে। 

    চলচ্চিত্রটিতে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশবের ‘জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডের সদস্য থেকে বিশ্বমঞ্চে ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য গল্প তুলে ধরা হয়েছে। 

    সিনেমাটির প্রযোজনা সংস্থা লায়ন্সগেটের মার্কেটিং কৌশল মূলত মাইকেলের মঞ্চ কাঁপানো পারফরম্যান্স, নিখুঁতভাবে পুনর্নির্মিত কনসার্ট এবং তার আইকনিক মিউজিক ভিডিওগুলোর ওপর আলোকপাত করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সিনেমা হলে টানতে মূখ্য ভূমিকা রেখেছে। 

    অ্যান্টোনি ফুকো পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন তারই আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অবশ্য ব্যবসায়িক দিক থেকে রেকর্ড ভাঙা সাফল্য পেলেও চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের কাছ থেকে পেয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। 

    বিখ্যাত বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি উল্লেখ করেছে, সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের একটি ‘পরিশীলিত’ বা পরিমার্জিত রূপ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে, তার জীবনের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়—শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সময়কাল শুরু হওয়ার আগেই চলচ্চিত্রটির কাহিনীর সমাপ্তি টানা হয়েছে, যা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। 

    এদিকে, প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তোলার পর সিনেমাটি এবার ঘরে বসেই দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রোলিং স্টোন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে ফিজিক্যাল মিডিয়ায় মুক্তি পেয়েছে। অ্যামাজনে ছবিটির ‘ফোরকে আল্ট্রা এইচডি ব্লু-রে’ সংস্করণের প্রি-অর্ডার শুরু হয়ে গেছে। 

    উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী জয়যাত্রার অংশ হিসেবে গত ২২ এপ্রিল ইউক্রেনের প্রেক্ষাগৃহগুলোতেও ‘মাইকেল’ বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পেয়েছিল। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ১০০ কোটি ডলার আয়ের পথে ‘মাইকেল’

    পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। গত ২৪ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে ৯১১.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে এটি এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী মিউজিক বায়োপিক (সঙ্গীতভিত্তিক জীবনীচিত্র) হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। 

    এর মাধ্যমে সিনেমাটি ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘কুইন’-এর বায়োপিক ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’কে ছাড়িয়ে গেল, যার বৈশ্বিক বক্স অফিস কালেকশন ছিল ৯১০.৯ মিলিয়ন ডলার।

    অ্যান্টোনি ফুকো পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় (মাইকেল জ্যাকসন) অভিনয় করেছেন খোদ মাইকেল জ্যাকসনেরই ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। সিনেমাটিতে পপ সম্রাটের বিশ্বজোড়া খ্যাতি এবং উত্থানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যার সমাপ্তি টানা হয়েছে ১৯৮৮ সালের প্রেক্ষাপটে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বক্স অফিসেও এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আয়কারী বায়োপিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের ধারণা, সিনেমাটি খুব দ্রুতই বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করবে। ‘মাইকেল’ এখনো বিশ্বের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং দর্শকদের বিপুল সাড়া পেয়ে যাচ্ছে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • হাজার কোটির পথে হাঁটছে ‘মাইকেল’

    মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য দেখাচ্ছে। সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও দর্শকদের আগ্রহে সিনেমাটি আয় করছে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ। মুক্তির পর এখন পর্যন্ত ছবিটির মোট বৈশ্বিক আয় প্রায় ৭৮ কোটি ৮০ লাখ (৭৮৮ মিলিয়ন) ডলার ছুঁয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খুব শিগগিরই এটি ৮০ কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে।

    গত সপ্তাহে শুধু আন্তর্জাতিক বাজার থেকেই সিনেমাটি আরও ২ কোটি ৮৫ লাখ ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে এসেছে প্রায় ৩১ কোটি ৯০ লাখ ডলার, আর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে প্রায় ৪৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এখনো জাপানে সিনেমাটির মুক্তি বাকি থাকায় সামনে আয় আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, একই ধারা বজায় থাকলে সিনেমাটি ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি-এর ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলারের আয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেটি হলে এটি ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয় করা মিউজিক্যাল বায়োপিক হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বে।

    সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেফার জ্যাকসন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আন্তোনি ফুকুয়া। আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স, আর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশনার দায়িত্ব পালন করছে লায়ন্সগেট।

    সূত্র: ভ্যারাইটি

    বিনোদন ডেস্ক

  • বায়োপিকের পর এবার মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে ডকুসিরিজ ‘দ্য ভারডিক্ট’

    বিশ্বখ্যাত পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের ওপর নির্মিত ব্লকবাস্টার বায়োপিক ‘মাইকেল’র অভাবনীয় সফলতার পর, এবার তাকে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন ডকুসিরিজ নিয়ে আসছে স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স। তিন পর্বের এই তথ্যচিত্রের নাম রাখা হয়েছে ‘মাইকেল জ্যাকসন: দ্য ভারডিক্ট’। 

    আগামী ৩ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্মটিতে এটি প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে। 

    ‘কিং অব পপ’ খ্যাত এই তারকার জীবনের ওপর নির্মিত এই নতুন সিরিজটি সম্পূর্ণভাবে জ্যাকসনের ২০০৫ সালের তার সেই বহুল আলোচিত ফৌজদারি মামলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 

    ২০০৩ সালে তার বিরুদ্ধে ওঠা শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং সেই পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের যে নজিরবিহীন উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল—তা এই সিরিজে অত্যন্ত গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

    এই ডকুসিরিজে জ্যাকসনের মামলার উভয় পক্ষ, অর্থাৎ প্রসিকিউশন (অভিযোগকারী পক্ষ) এবং ডিফেন্স (আত্মপক্ষ সমর্থনকারী পক্ষ)—দুটিরই চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে এমন সব ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে যারা সরাসরি সেই সময় আদালতের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন; যার মধ্যে রয়েছেন জুরি সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, অভিযোগকারী এবং জ্যাকসনের আইনজীবীরা। 

    এছাড়াও মাঠপর্যায়ে থেকে এই ঐতিহাসিক ঘটনা কাভার করা বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও বিস্তারিত কথা বলেছেন নির্মাতারা। 

    শো-রানার ডেভিড হারম্যানের সৃষ্টি এবং ‘ক্যান্ডেল ট্রু স্টোরিজ’-এর প্রযোজনায় নির্মিত এই সিরিজটির মূল লক্ষ্য ছিল দর্শককে সরাসরি সেই ঐতিহাসিক বিচার কক্ষের ভেতরে নিয়ে যাওয়া। আর এ কারণেই নির্মাতারা শুধুমাত্র সেইসব প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছেন যারা এই ঘটনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। 

    নিক গ্রিনের পরিচালনায় এই তথ্যচিত্রটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে আছেন ফিওনা স্টুয়ার্টন, ডেভিড হারম্যান এবং জেমস গোল্ডস্টন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    নেটফ্লিক্সের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘টুডুম’-এর সঙ্গে আলাপকালে নির্মাতারা জানান, এই বিচার প্রক্রিয়া এবং এর পেছনে রয়ে যাওয়া অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোকে নতুন করে খতিয়ে দেখার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। তারা এই প্রজেক্টটিকে একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, যেখানে আদালতে যেভাবে তথ্যপ্রমাণ উন্মোচিত হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই তা দেখানো হয়েছে। 

    তারা উল্লেখ করেন, ‘মাইকেল জ্যাকসনের সেই ঐতিহাসিক বিচারের পর ২০ বছর কেটে গেছে, যেখানে তিনি সব অভিযোগ থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও আজ অবধি এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক কমেনি। যেহেতু সেই সময় আদালতের ভেতরে কোনো ক্যামেরা প্রবেশের অনুমতি ছিল না, তাই সাধারণ মানুষ কেবল সংবাদমাধ্যমের খণ্ডিত এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবেশিত খবরই দেখতে পেরেছিল। ফলে পুরো বিচার প্রক্রিয়াটির একটি ফরেনসিক বা নিরপেক্ষ চুলচেরা বিশ্লেষণ দীর্ঘকাল ধরেই বাকি ছিল।’ 

    যদিও এই গ্লোবাল আইকন শেষ পর্যন্ত সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছিলেন, তবুও ২০০৯ সালে তার আকস্মিক মৃত্যুর পরও তার জটিল আইনি লড়াই এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসাধারণের আগ্রহ এখনো আকাশচুম্বী। 

    নির্মাতাদের বিশ্বাস, যারা মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, এই ডকুসিরিজটি তাদের জন্য এক বিরল সুযোগ। এটি মূলত চার দেয়ালের মাঝে আটকে থাকা একটি রুদ্ধদ্বার ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করার সুযোগ করে দেবে। 

    সূত্র: জিও নিউজ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘এখানেই শেষ নয়’ মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিকের সিক্যুয়েল

    বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে কিংবদন্তি পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড গড়ছে সিনেমাটি। যদিও মাইকেলের আলো ঝলমলে জীবন সিনেমায় তুলে ধরলেও তার অন্ধকার দিকগুলো সেভাবে দেখানো হয়নি বলে অনেকেরই আফসোস রয়েছে। 

    তবে এই গল্প এখানেই শেষ হচ্ছে না। 

    লায়ন্সগেট স্টুডিওর প্রধান অ্যাডাম ফোগেলসন সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পপ সম্রাটের জীবনের পূর্ণাঙ্গ আখ্যান তুলে ধরতে অন্তত আরও একটি সিনেমার প্রয়োজন হতে পারে।

    সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘মাইকেল’ চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেললেও সমালোচকদের একটি বড় অংশ অসন্তুষ্ট। অভিযোগ উঠেছে, গায়কের বিরুদ্ধে ওঠা শিশু নির্যাতনের বিতর্কিত বিষয়গুলো এই সিনেমায় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, পরিচালক অ্যান্টনি ফুকো মূলত নেভারল্যান্ডে পুলিশের অভিযানসহ বিতর্কিত ঘটনাগুলোর দৃশ্য ধারণ করেছিলেন। কিন্তু একজন অভিযোগকারীর সঙ্গে আইনি জটিলতার কারণে সেই দৃশ্যগুলো শেষ মুহূর্তে বাদ দিতে হয়। এর ফলে স্টুডিওকে মোটা অংকের অর্থ খরচ করে পুনরায় শুটিং করতে হয়েছে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সংশ্লিষ্টদের মতে, বাদ পড়া এই ফুটেজগুলো এবং নতুন করে ভাবা কিছু অংশ একটি সম্ভাব্য সিক্যুয়েলে স্থান পেতে পারে।

    পরিচালক অ্যান্টনি ফুকো নিশ্চিত করেছেন, তার কাছে এমন প্রচুর ধারণকৃত উপাদান রয়েছে যা পরবর্তী সিনেমার জন্য উপযুক্ত। তবে তিনি বিষয়টিকে নিছক নাটকীয়তায় রূপ দিতে চান না। 

    ফুকো বলেন, ‘আমি মাইকেলকে কেবল একজন অতিমানবীয় তারকা নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে বড় পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চাই।’

    বক্স অফিসে বাজিমাত

    ছবিটি নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও সাধারণ দর্শকদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মুক্তির শুরু থেকেই বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে ‘মাইকেল’। এই বাণিজ্যিক সাফল্যই মূলত নির্মাতাদের সিক্যুয়েল তৈরির পরিকল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।

    সূত্র: জিও নিউজ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • পর্দার ‘মাইকেল’ কে এই জাফার জ্যাকসন?

    বিশ্বজুড়ে ভক্ত–অনুরাগীদের কাছে মাইকেল জ্যাকসন কেবল ‘পপসম্রাট’ নন, কোটি মানুষের হৃদয়ের সম্রাট হয়ে আছেন। তারই জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে। 

    অ্যান্টোনি ফুকোর পরিচালনায় নতুন এই সিনেমাটি বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। মাইকেল জ্যাকসনের পারিবারিক ব্যান্ডের সদস্য থেকে বিশ্বসেরা একক শিল্পী হয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর যাত্রা ফুটে উঠেছে এই বায়োপিকে। তবে দর্শকদের মনে কৌতূহল—পর্দায় খোদ ‘কিং অব পপ’-এর চরিত্রে অভিনয় করা এই নতুন তারকা আসলে কে?

    রক্তের টানেই অভিনয় 

    মাইকেল জ্যাকসনের ভূমিকায় অভিনয় করা জাফার জ্যাকসনকে এই চরিত্রের জন্য খুব বেশি দূরে খুঁজতে হয়নি। তিনি মাইকেলের আপন বড় ভাই জার্মেইন জ্যাকসনের ছেলে। অর্থাৎ জাফার সম্পর্কে মাইকেল জ্যাকসনের আপন ভাতিজা। 

    শুধু পারিবারিক পরিচয়ই নয়, জাফার নিজেও একজন পেশাদার সংগীতশিল্পী। মজার ব্যাপার হলো, সিনেমায় মাইকেলের কণ্ঠে যে গানগুলো শোনা যাচ্ছে, সেগুলো জাফার নিজেই গেয়েছেন। 

    অভিনয় জগতে এটিই জাফারের প্রথম পদার্পণ। এর আগে তাকে পারিবারিক রিয়্যালিটি শো ‘দ্য জ্যাকসনস: নেক্সট জেনারেশন’-এ দেখা গিয়েছিল। 

    সিনেমাটি নির্মাণের পেছনেও রয়েছে পুরো জ্যাকসন পরিবারের ছোঁয়া। মাইকেলের ছেলে প্রিন্স জ্যাকসন এই সিনেমার অন্যতম নির্বাহী প্রযোজক। এছাড়া জাফারের বাবা এবং তার ফুফু-চাচারা (জ্যাকি, মার্লন, লা তোয়া এবং টিটো) প্রযোজনা দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সহজ কথায়, জ্যাকসন ফাইভ-এর বেঁচে থাকা সব সদস্যই এই প্রজেক্টের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে আছেন। 

    অবশ্য পুরো পরিবার যুক্ত থাকলেও মাইকেলের মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন নিজেকে কিছুটা দূরেই রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সিনেমার চিত্রনাট্যের প্রাথমিক খসড়া পড়ে তিনি কিছু মতামত দিয়েছিলেন মাত্র। মডেল এবং অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত প্যারিস এই সিনেমার প্রযোজনা বা অন্য কোনো ভূমিকায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। 

    সিনেমায় কনিষ্ঠ মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জুলিয়ানো ক্রু ভালদি। 

    মজার বিষয় হলো, জাফার বাদে জ্যাকসন পরিবারের অন্য সব সদস্যের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পেশাদার অভিনয়শিল্পীরা। যেমন—মাইকেলের বাবা-মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন একাডেমি অ্যাওয়ার্ড মনোনীত কোলম্যান ডমিঙ্গো এবং নিয়া লং। এছাড়া ‘স্কিনস’ খ্যাত জেসিকা সুলা অভিনয় করেছেন লা তোয়া জ্যাকসনের চরিত্রে। 

    সূত্র: কসমোপলিটন 

    বিনোদন ডেস্ক

  • বায়োপিকের সব রেকর্ড ভেঙে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ‘মাইকেল’

    বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সফল কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জাদু কি আজও অম্লান? বক্স অফিসের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়া বায়োপিক ‘মাইকেল’ মাত্র কয়েক দিনেই ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ১৬০ মিলিয়ন পাউন্ড) আয় করে সর্বকালের সেরা ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়েছে। 

    এর আগে ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া কুইন ব্যান্ডের ফ্রাডি মার্কারির বায়োপিক ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ ১২ কোটি ৪০ লাখ ডলার নিয়ে মিউজিক্যাল বায়োপিকের শীর্ষে ছিল। 

    তবে ‘মাইকেল’ কেবল মিউজিক্যাল নয়, বরং ২০২৪ সালের অস্কারজয়ী সিনেমা ‘ওপেনহাইমার’-এর রেকর্ডকেও (১৮ কোটি ডলার) ছাড়িয়ে গেছে। 

    এখন পর্যন্ত এটিই পৃথিবীর যেকোনো বায়োপিকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ওপেনিং উইকেন্ড। 

    অবশ্য সিনেমাটি দর্শকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হলেও সমালোচকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারেনি। সমালোচকদের মতে, মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত দিকগুলো এড়িয়ে গিয়ে এটিকে একটি ‘পরিশোধিত’ বা ‘পরিচ্ছন্ন’ সংস্করণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। 

    জনপ্রিয় রিভিউ ওয়েবসাইট রোটেন টমেটোসে দেখা গেছে, সাধারণ দর্শকদের রেটিং ৯৭ শতাংশ হলেও সমালোচকদের রেটিং মাত্র ৩৮ শতাংশ। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আইনি জটিলতা ও চিত্রনাট্যে পরিবর্তন 

    সিনেমাটিতে মাইকেলের বিরুদ্ধে ওঠা শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগের কোনো উল্লেখ নেই। নির্মাতা অ্যান্টোনি ফুকো জানান, চিত্রনাট্যের প্রথম দিকে নব্বইয়ের দশকের জর্ডান চ্যান্ডলারের অভিযোগের বিষয়টি রাখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু জ্যাকসনের একটি পুরনো ‘নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট’ আবিষ্কৃত হওয়ার পর আইনি জটিলতা এড়াতে সেই দৃশ্যগুলো পরে বাতিল করা হয়। 

    ফলে সিনেমাটি ১৯৮৮ সালের ঘটনাপ্রবাহেই শেষ করা হয়েছে। এই ব্যয়বহুল রি-শুটের কারণে সিনেমার বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ কোটি ডলারে। 

    সিনেমাটিতে মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার আপন ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। মাইকেলের মূল কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা গানগুলোই সিনেমার প্রধান প্রাণ। এছাড়া তার বাবার চরিত্রে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড মনোনীত কোলম্যান ডমিঙ্গোর অভিনয়ও বেশ প্রশংসা পাচ্ছে। 

    ছবিটির বক্স অফিস সফলতায় লিয়ন্সগেটের চেয়ারম্যান অ্যাডাম ফোগেলসন বলেন, ‘সব বয়সের এবং সব ধরনের দর্শকদের উপস্থিতি ছাড়া এই বিশাল অংক অর্জন সম্ভব ছিল না। মানুষ সত্যিই সিনেমাটি উপভোগ করছে।’

    উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ‘মাইকেল’ জাপানে মুক্তি পায়নি। সেখানে এটি আগামী জুনে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সুখবর হলো, সিনেমাটি দেশের জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পেয়েছে। 

    সূত্র: বিবিসি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • পর্দায় ফিরলেন মাইকেল, তবে আড়ালেই রয়ে গেল জীবনের অন্ধকার

    মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে নির্মিত নতুন সিনেমাটি তার জীবনের কেবল একপাক্ষিক ও বাছাই করা অংশই তুলে ধরেছে। তবে পর্দার বাইরের এ রূপান্তর সম্ভবত সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গেই বেশি মানানসই।

    কেবল মুনাফালোভী স্টুডিও কর্তারাই নন, ভক্তরাও অনেক সময় তাদের প্রিয় তারকার জীবনের অন্ধকার অধ্যায়গুলো এড়িয়ে যেতেই বেশি পছন্দ করেন।

    কোটি কোটি মানুষের মতো আমিও এ সপ্তাহে ‘মাইকেল’ দেখতে গিয়েছিলাম। আমি জানতাম আমি কী দেখতে যাচ্ছি—সিনেমাটির বেশির ভাগ সমালোচনা ছিল বেশ রূঢ়। কেউ একে বলেছেন ‘কলঙ্ক মোচনের চেষ্টা’ (হোয়াইটওয়াশ), কেউ বলেছেন ‘ভুতুড়ে’, আবার কেউ একে ‘বিলাসবহুল প্রমোদতরীর বিনোদন’ বা ‘১২৭ মিনিটের ট্রেলার মন্টাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অথচ মাইকেল জ্যাকসনের বিশ্বতারকা হয়ে ওঠার এ সিনেমাটি বায়োপিক বা জীবনীচিত্রের ইতিহাসে উদ্বোধনী আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই এটি বিশ্বজুড়ে ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে প্রদর্শন শেষে এর আয় ৯০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

    আমি নিজেকেই প্রশ্ন করলাম- আমরা যদি জানিই যে, এ সিনেমাগুলো অনেক সময় সত্য গোপন করে সাজানো একপ্রকার ‘নরম খিচুড়ি’, যেখানে উত্তরাধিকারী বা আইনজীবীরা শিল্পীর জীবনের আস্ত এক একটি অধ্যায় ছেঁটে ফেলেছেন—তবে আমরা কেন দলে দলে সিনেমা হলে ভিড় করছি? অবশ্যই এর একটি সহজ ব্যাখ্যা আছে। এ জীবনীচিত্রগুলো দর্শকদেরতাঁদের প্রিয় শিল্পীর স্বর্ণযুগকে পুনরায় অনুভব করার এবং তাদের জনপ্রিয় গানগুলোতে ডুবে থাকার সুযোগ করে দেয়।

    তবে এর পেছনে আরও একটি কারণ আছে বলে আমার সন্দেহ। সেটি হলো প্রতিভার প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তা ব্যাখ্যা করার এক অদ্ভুত তাড়না।

    আমরা সবসময়ই এটা মানতে কষ্ট পাই যে, কোনো অসাধারণ প্রতিভা বিশেষ কোনো পরিস্থিতি ছাড়াই স্রেফ প্রকৃতিগতভাবে বিদ্যমান থাকতে পারে। প্রায় ২ হাজার বছর আগে প্লুটার্ক যখন ‘প্যারালাল লাইভস’ লিখেছিলেন, তখন থেকেই এ বিশ্বাস জেঁকে বসেছে যে—যদি কোনো মহৎ জীবনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায়, তবে তার সফলতার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব। এ তাড়না থেকেই রোমান্টিক যুগের কবিরা জোর দিয়ে বলতেন যে, কবির মনের ক্ষত না বুঝলে তার কবিতা বোঝা সম্ভব নয়। প্রতিভা যে অযাচিতভাবে এবং কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই আসতে পারে, তা আমরা মেনে নিতে পারি না।

    আমরা জানতে চাই- সেই সুর আর শিল্পের উৎস কোথায়। আমরা সেই শৈশবকে খুঁজতে চাই, সেই জীবন বদলে দেওয়া অভিজ্ঞতাগুলোকে জানতে চাই যা ‘থ্রিলার’ বা ‘বোহেমিয়ান র‌্যাপসোডি’র জন্ম দিয়েছে। শেক্সপিয়রের মনস্তত্ত্ব নিয়ে লিখতে গিয়ে কবি জন কিটস একটি শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন—‘নেগেটিভ ক্যাপাবিলিটি’ বা নেতিবাচক সক্ষমতা। যার অর্থ হলো ‘অনিশ্চয়তা, রহস্য আর সন্দেহকে গ্রহণ করার ক্ষমতা’। পরিহাসের বিষয় হলো, কিটস এটি দিয়ে বুঝিয়েছিলেন কেন প্রতিভাকে ব্যাখ্যা করা যায় না। আর সেই ব্যাখ্যার অতীত রহস্যই আমাদের বারবার চেষ্টা করতে বাধ্য করে।

    জীবনীচিত্রগুলো এ রহস্য সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা কখনই পারে না। ‘মাইকেল’-এর ক্ষেত্রে তার জীবনের অনেক বড় অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। সিনেমাটি ১৯৮৮ সালে এসে থমকে যায়। ফলে শিশু যৌন নির্যাতনের সেই অভিযোগগুলো পুরোপুরি আড়াল করা হয়েছে, যা জ্যাকসনের জীবনের শেষ কয়েক দশকজুড়ে কালো ছায়া ফেলেছিল এবং আজও তার উত্তরাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জ্যাকসন আমৃত্যু এ অভিযোগ অস্বীকার করে গেছেন। কিন্তু জীবনের অন্ধকারতম অংশগুলো বাদ দিয়ে আমরা কীভাবে একজন মানুষের জীবন ও কর্মকে বিচার করতে পারি?

    জ্যাকসনের সম্পত্তির উত্তরাধিকারীরা (যারা এ সিনেমার প্রযোজকও বটে) লক্ষ্য করেছিলেন যে, এক অভিযোগকারীর সঙ্গে সমঝোতার চুক্তিতে একটি ধারা ছিল—যা কোনো সিনেমায় তার উল্লেখ বা চিত্রায়ন নিষিদ্ধ করে। ফলে সিনেমার শেষ এক-তৃতীয়াংশ ফেলে দিয়ে পুনরায় শুটিং করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত যা টিকে আছে তা হলো কিছু রোমহর্ষক মিউজিক্যাল সিকোয়েন্স এবং জাফার জ্যাকসনের অবিশ্বাস্য শারীরিক অভিনয়—কিন্তু মানুষ মাইকেল জ্যাকসনকে এখানে খুঁজে পাওয়া ভার।

    তা সত্ত্বেও, সিনেমায় কিছু অস্বস্তিকর ঝলক ছিল: পিটার প্যানের প্রতি জ্যাকসনের আসক্তি, নেভারল্যান্ডের স্থাপত্য, আর বাস্তব জগত থেকে বাঁচতে এক মানুষের কাল্পনিক জগত তৈরির চেষ্টা। কিন্তু সিনেমাটি তার সৃজনশীল প্রক্রিয়া বা সেই দ্বন্দ্বগুলোর কোনো হদিস দিতে পারেনি, যা তাকে ২০ শতকের অন্যতম আকর্ষণীয় ও বিতর্কিত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আমরা তার অত্যাচারী বাবা জোসেফ জ্যাকসনকে খলনায়ক হিসেবে দেখি। কিন্তু যখন মাইকেল নিজেই একটি নৈতিক সংকটে পরিণত হন, তখন কী হয়? অর্ধেকটা দিয়ে একটি জীবনকে বোঝা সম্ভব নয়।

    স্টুডিও কর্তাদের কাছে জীবনের বাছাই করা অংশ তুলে ধরা কোনো সমস্যাই নয়। বর্তমানে চলচ্চিত্র শিল্প যখন আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত জনপ্রিয় বিষয়ের (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল, তখন মিউজিক বায়োপিক হলো একটি ‘পারফেক্ট প্রোডাক্ট’। এতে আগে থেকেই তৈরি ভক্তকুল আছে, আছে জনপ্রিয় সব গান আর নস্টালজিয়ার হাতছানি। ২০১৮ সালের ফ্রেডি মার্কারির জীবনীচিত্র ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’ ছিল এর টার্নিং পয়েন্ট। মার্কারির যৌন পরিচয় এবং এইডস আক্রান্ত হওয়ার বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাপক সমালোচিত হওয়া সত্ত্বেও এটি ব্যবসায়িকভাবে বিশাল সফল হয়েছিল। হলিউড এখান থেকে শিক্ষা নিয়েছে যে—দর্শকরা জটিলতা নয়, স্রেফ বিনোদন চায়।

    সেই ধারাবাহিকতায় আমরা বব ডিলান, এলভিস, ব্রুস স্প্রিংস্টিন, এলটন জন বা অ্যামি ওয়াইনহাউসদের বায়োপিক পেয়েছি। সামনে আসছে বিটলস নিয়ে চারটি আলাদা সিনেমা। জনি মিচেল বা জ্যানিস জপলিনদের নিয়েও কাজ চলছে।

    শিল্পীদের উত্তরাধিকারীরাও গল্পের কিছু অংশ বলতে এবং কিছু লুকাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ২০০৯ সালে যখন মাইকেল জ্যাকসন মারা যান, তখন তিনি ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি ঋণে ডুবে ছিলেন। আজ তার সম্পত্তির মূল্য ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। রয়্যালটি, মিউজিক্যাল আর এ সিনেমার মাধ্যমে তার সেই সাম্রাজ্য পুনর্গঠিত হয়েছে। এটি কট্টর ভক্ত আর সাধারণ শ্রোতা—উভয়কেই তৃপ্ত করে। অনেকেই চান জ্যাকসনের ফেলে যাওয়া গানগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকতে, যেখানে কোনো কলঙ্কজনক অভিযোগ তাদের আনন্দকে বিষাদগ্রস্ত করবে না।

    কিন্তু যখন কারও জীবনকে এভাবে ‘সম্পাদনা’ করে পরিবেশন করা হয়, তখন আমরা সবাই কিছু না কিছু হারাই। চার্লস বুকোস্কি তার এক কবিতায় কিছু ক্ষতিগ্রস্ত মহাতারকার তালিকা দিয়েছিলেন—যাদের মধ্যে হেমিংওয়ে, ফকনার, সিলভিয়া প্লাথ এবং দস্তয়েভস্কি ছিলেন। তিনি তাদের ‘গৌরবের উন্মত্ত কুকুর’ বলে ডেকেছিলেন, যারা আমাদের দিকে এক চিলতে আলো ছুড়ে দেন। প্রতিভাধর ব্যক্তিরাও ভুলের ঊর্ধ্বে নন এবং তারাও গুরুতর অন্যায় করতে পারেন।

    সম্ভবত ‘মাইকেল’ সিনেমাটি আমাদের এ সত্য মেনে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে যে, অনুমোদিত জীবনীচিত্রগুলো আসলে কী করতে পারে না। এগুলো রাস্তার পাশের সেই নীল ফলকের (ব্লু প্লেক) মতো—যা শুধু আমাদের জানায় যে ‘এখানে একদা একজন মহান ব্যক্তি বাস করতেন’, তার বেশি কিছু নয়। আমরা যদি সত্যিই বুঝতে চাই এই শিল্পীদের মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনের আসল গল্প কী, তবে আমাদের আরও অগোছালো আর অস্বস্তিকর সত্যের মুখোমুখি হতে হবে। যা হয়তো কোনোদিন বড় পর্দার ব্লকবাস্টার সিনেমা হয়ে উঠবে না।

    লেখক: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিবেদক

    নাদিয়া খোমানি

  • বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক

    বিনোদন জগতের সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তির গায়ক মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এ সিনেমাটি সমালোচকদের পাত্তা না দিয়ে মুক্তির প্রথম দিন থেকেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। 

    শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রথম দিনেই প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সপ্তাহান্তে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ৯৫ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে, যা সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে। এর আগে ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ বা ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’ যে মানদণ্ড তৈরি করেছিল, তা সহজেই ছাপিয়ে গেছে ‘মাইকেল’ সিনেমাটি।

    শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ সিনেমাটি দাপট দেখাচ্ছে। ৮০টির বেশি দেশে মুক্তি পেয়ে প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী আয় করে ২০০ মিলিয়ন ডলার ছুঁয়ে ফেলেছে। মহামারির পর প্রযোজনা সংস্থা লায়নসগেটের কোনো সিনেমার এটিই সবচেয়ে বড় ওপেনিং, যা স্টুডিওটির জন্য এক বিশাল স্বস্তির বার্তা।

    ‘মাইকেল’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টনি ফুকোয়া, যিনি এর আগে ‘দ্য ইকুয়ালাইজার’ সিনেমার মতো অ্যাকশন চলচ্চিত্রে সফলতা পেয়েছেন। প্রযোজনায় ছিলেন ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র গ্রাহাম কিং। আগেরটির মতো এবারও তিনি আরেকটি সফল সংগীত বায়োপিক উপহার দিয়েছেন।

    এ সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। তার পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে, বিশেষ করে মাইকেলের নাচ, ভঙ্গি ও কণ্ঠস্বর নিখুঁত পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

    এতদিন সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি ইতিবাচক ছিল না। অনেকেই মনে করেন, সিনেমাটি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ‘৯০-এর দশকের অভিযোগগুলো নিয়ে সিনেমায় খুব বেশি গভীরে যাওয়া হয়নি। কিন্তু দর্শকদের প্রতিক্রিয়া একেবারেই ভিন্ন। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের নাচ–গানের সঙ্গে গলা মেলানো— সব মিলিয়ে যেন এক ধরনের উদযাপনের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং ‘একটি অভিজ্ঞতা’— একটি নস্টালজিক টাইম মেশিন, যা দর্শককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ‘বিলি জিন’ কিংবা ‘থ্রিলার’-এর যুগে।

    ‘মাইকেল’ সিনেমাটি নির্মাণে মোটেও সহজ ছিল না। এ নির্মাণের মাঝপথে আইনি জটিলতা, তৃতীয় অঙ্ক পুনর্নির্মাণ— সব মিলিয়ে বাজেট বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলারে। এমনকি সিনেমার একটি বড় অংশ পুনরায় শুট করতে হয়। যে কারণে বাস্তব জীবনের একটি মামলার প্রসঙ্গ দেখানোর ক্ষেত্রে আইনি বাধা ছিল।

    ১৯৯৩ সালের অভিযোগ— প্রথমে গল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে আইনি জটিলতার কারণে তা বাদ দিতে হয়। ফলে নির্মাতাদের গল্পের ফোকাস সরিয়ে আনতে হয়েছে তার পরিবার, বিশেষ করে বাবা জো জ্যাকসনের সঙ্গে সম্পর্কের দিকে, যা সিনেমার আবেগঘন স্তরকে আরও গভীর করেছে। আর এ সিনেমায় সংগীতের স্বত্ব, বিশাল কনসার্টের দৃশ্য এবং পুনরায় শুটিং— সব মিলিয়ে খরচ বেড়েছে কয়েক ধাপে। বিশেষ করে সিনেমার তৃতীয় অংশ নিয়ে বড় পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

    ‘মাইকেল’ সিনেমার এই সাফল্যের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করেছে। প্রথমত মাইকেল জ্যাকসনের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা। তার গান, নাচ, স্টেজ পারফরম্যান্স— সবকিছুই এখনো বহু প্রজন্মকে আকর্ষণ করে থাকে। দ্বিতীয়ত সিনেমাটি তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘ফ্যান সার্ভিস’ হিসেবে, যেখানে দর্শক তাদের প্রিয় তারকার উজ্জ্বল দিকগুলোই বেশি দেখতে পেয়েছে। তৃতীয়ত সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে সিনেমাটির প্রচার ছিল ব্যাপক। মুক্তির আগেই ট্রেলার ও গানগুলো কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

    এ সিনেমার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ছিল প্রবল। ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ বা ‘প্রজেক্ট হেল মেরি’ সিনেমার দুটি ভালো ব্যবসা করলেও ‘মাইকেল’–এর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। এটি প্রমাণ করে, শক্তিশালী একটি ব্যক্তিত্বকেন্দ্রিক গল্প এখনো দর্শকদের হলে টানতে পারে।

    এই সাফল্যের আরেকটি দিক হচ্ছে— শিল্পীর জীবন নিয়ে নির্মিত ছবি দর্শকপ্রিয়। তবে ‘মাইকেল’ সেই ধারার এক উচ্চতর উদাহরণ, যেখানে শুধু একজন শিল্পীর জীবন নয়, বরং পুরো একটি যুগকে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। আপাতত নিশ্চিত করে বলা যায়, ‘কিং অব পপ’ রাজত্ব হারাননি। 

    বিনোদন ডেস্ক