Tag: বিএনপি

  • এবারও জোটেনি বিএনপির মনোনয়ন, ফেসবুকে যা লিখলেন মনির খান

    বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মনির খান। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন এক সময়। 

    মনোনয়ন প্রত্যাশী তারকাদের মধ্যে আলোচনায় ছিলেন মনির খান। 

    শোনা যাচ্ছিল, ঝিনাইদহ–৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার। তবে বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী তালিকায় নাম নেই তার।। সেখানে মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ মেহেদী হাসান। দলের সিদ্ধান্ত মেনে মনোনীত প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গায়ক। 

    মেহেদী হাসানের সঙ্গে মনির খান।

    সোমবার নিজের ফেসবুকে মেহেদী হাসানের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন মনির খান। ক্যাপশনে লিখেছেন, অভিনন্দন মেহেদী হাসান রনি। ঝিনাইদহ-৩ এ বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী। শুভকামনা রইল।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল সোমবার দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের ২৩৭টিতে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করে বিএনপি। সন্ধ্যায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। 

    বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মনির খানসহ বিনোদন অঙ্গনের বেশ কয়েকজন তারকা। মনোনয়ন প্রত্যাশীও ছিলেন কয়েকজন। তবে প্রাথমিক বাছাইয়ে তারকাদের কারও ভাগ্যে জোটেনি দলের টিকিট।

    এর আগে ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে খুবই আশাবাদী ছিলেন মনির খান; তবে সেবার তাকে ধানের শীষের টিকিট দেওয়া হয়নি। অবশ্য তারও আগে থেকে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন তিনি। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • কুষ্টিয়ার পথে ফরিদা পারভীনের মরদেহ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে তার মরদেহ কুষ্টিয়ায় নেয়া হচ্ছে।

    সেখানে পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

    এর আগে, রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ফরিদা পারভীনের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়। বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে সেখানে সঙ্গীত অঙ্গনের অনেকে ছুটে আসেন। পরিবারের সদস্য থেকে সঙ্গীত সঙ্গী, সবার কণ্ঠেই শোকের বার্তা ছিলো। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেয়া হয়।

    বরেণ্য এই সংগীত শিল্পীর মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শোক জানিয়েছেন। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক জানিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, শিল্পী ফরিদা পারভীন শনিবার দিবাগত রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্বামী এবং চার সন্তান রেখে গেছেন।

    দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। কিছুদিন ধরে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছিল, সপ্তাহে দুই দিন তাকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের অংশ হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। কিন্তু ডায়ালাইসিসের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তখন চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। এর পর থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি চলে যান না–ফেরার দেশে।

    কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন ১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে ১৪ বছর বয়সে তার পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। এরপর গানে গানে তিনি কাটিয়েছেন ৫৫ বছর। ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ কিংবা ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’ এর মতো লালন সাঁইয়ের জনপ্রিয় গান তার কন্ঠে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। শ্রোতারা ভালোবাসে তাকে ‘লালনকন্যা’ উপাধি দিয়েছিলেন।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • ‘শেখ হাসিনা সরকার বার বার দরকার’ বলা অপু বিএনপির মঞ্চে! সমালোচনার ঝড়

    আওয়ামী লীগের হয়ে একসময় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া ঢাকাই চলচ্চিত্র নায়িকা অপু বিশ্বাস বিএনপির মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্থানীয় নেতা রিপন হোসেনের পক্ষে সমর্থন চান।  জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত শোডাউন, ভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন অপু বিশ্বাস ও অভিনেতা নিরব হোসেন। খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন হোসেনের আমন্ত্রণে তারা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। 

    বিএনপির সমাবেশে কালচারাল ফ্যাসিস্ট অপু বিশ্বাসের অংশগ্রহণের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী দোসর অপু বিশ্বাস কিভাবে বিএনপির সমাবেশে যোগ দেয়-সেই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবার্ষিকীর আয়োজক বিএনপি নেতাকর্মীদের বহিষ্কার দাবি জানিয়েছেন। 

    আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজিব নামের একজন লিখেছেন, অপু বিশ্বাসও এখন বিএনপির সমাবেশে! দুঃখজনক।এগুলো দেখলে খুব খারাপ লাগে।তারা কি আর লোক পায় নাই।অপু বিশ্বাসের মতো আওয়ামী সরকারের তেলবাজি করা এই নারীকে ডাকতে হবে।যারা তাকে ডাকছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে সোহেল খান সোহেল নামে এক ব্যক্তি বলেন, অপু বিশ্বাস ও ফেরদৌস নৌকার মাঝি।তারা ভোলার লালমোহনে এসে শাওনের নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছে। সে এখন কিভাবে বিএনপির সমাবেশে অংশগ্রহণ করে- বিএনপির নির্যাতিত জনগণ জানতে চায়। অপু এতদিন কাজ করেছে নৌকার মাঝি হয়ে।তাহলে বিএনপির আমরা যারা নির্যাতিত, জেল, হামলা, মামলার শিকার; তাদের কোনো মূল্য নেই? আমি পুরানা পল্টন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আহত হয়েছি, নাভিতে পাথর পড়েছে, টিয়ার গ্যাসের ভেতরে পড়েছি, ভেবেছিলাম মরেই যাব, কিন্তু আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, আপনার কাছে আমাদের কি কোনো মূল্য নেই?

    জোবায়ের হাসান সুমন লেখেন, আওয়ামী লীগের নমিনেশন চাওয়া অপু বিশ্বাসকে বিএনপির সমাবেশে যারা দাওয়াত করেছে তাদেরকে বহিষ্কার করা হোক।

    নাজমুল হাসান বলেন, বিএনপির লোকজন অপু বিশ্বাসকে দিয়ে সমাবেশ করায়, যে অপু বিশ্বাস হাসিনারে আইডল মানতো এবং আম্মা ডাকতো।

    তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিবির চৌধুরী নামে এক নেটিজেন বলেন, আওয়ামী লীগের নমিনেশন চাওয়া এবং আওয়ামী সমর্থক অপু বিশ্বাস বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অতিথি হয় কিভাবে? বিএনপির সমাবেশে কি লোকজন কমে গেছে? সেজন্যই কি চলচ্চিত্রের নায়িকা নিয়ে সমাবেশ চাঙ্গা করেছেন?যদি চলচ্চিত্রের শিল্পী নিতেই হয় তাহলে বিএনপি সমর্থক শিল্পী কি ছিল না? বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

    শাকিল সরকার বলেন, বিএনপি কি নেতাকর্মীর সংকটে আছে? যদি না থাকে তাহলে আওয়ামী দোসর অপু বিশ্বাস কিভাবে সমাবেশে যায়? 

    আওয়ামী লীগের নমিনেশন চাওয়া অপু বিশ্বাসকে বিএনপির সমাবেশে যারা দাওয়াত করেছে, তাদেরকে বহিষ্কার করা হোক।

    আলিয়া নিশাত নামে এক নারী লেখেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার’ বলা অপু বিশ্বাস এখন কুষ্টিয়ার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে।এসব আওয়ামী দালালদের দাওয়াত দিয়ে যারা প্রোগ্রামে নিয়েছে, সেসব বিএনপির হাইব্রিড নেতাকে আজীবন দল থেকে বহিষ্কার করা হোক। 

    সোনিয়া আক্তার নামে আরেক নারী লিখেছেন, আওয়ামী লীগ যেমন ভোটের আগে নায়িকা ভাড়া করতো প্রচারণার জন্য, বিএনপিও ঠিক সেই পথে পা বাড়াচ্ছে, তাহলে পার্থক্যটা কি?

    সাইয়্যেদা সাথী লিখেছেন, বিএনপিকে ডোবাতে এ ধরনের সস্তা বিনোদন খুবই কাজে দেবে।

    জুয়েল নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রচারণা, মিছিল আর মিটিংয়ে ভাড়া খেটে বেড়ানো অপু বিশ্বাসই ২০২৪ সালের প্রহসনমূলক ‘ডামি মার্কা’ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে লাইন ধরেছিল। অথচ আজ সেই একই অপু বিশ্বাস কুষ্টিয়ায় গিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অতিথি হয়ে বক্তৃতা দেয়!এ দৃশ্য শুধু রাজনৈতিক চরিত্রহীনতার নয় বরং বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরও নগ্ন স্বাক্ষর। যেখানে এমন ভাড়াটে, দ্বিমুখী মানুষকে মঞ্চে স্থান দেওয়া হয়, সেখানে পতন অনিবার্যই মনে হয়।

    নিজেকে বিএনপির কর্মী দাবি করে খান তমিজুল বলেন, আমি জাতীয়বাদী দল-বিএনপির একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে এই বিষয়টা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এখানে এই দুজনকে যারা ইনভাইট করেছে তাদেরকে বহিষ্কার করা উচিত।

    ইয়াসিন আরাফাত লিখেছেন, যেই নেতা অপু বিশ্বাসকে অনুষ্ঠানে নিয়েছে, দলের প্রতি তার ভালোবাসা একদম নাই বললেই চলে। 

    মনিরুজ্জামান মনি লিখেছেন, কুষ্টিয়া বিএনপির এতটা অধঃপতন!একজন আওয়ামী এমপি নমিনেশন প্রত্যাশী নায়িকা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে; এটা কিভাবে সম্ভব?এর উত্তর কে দেবে- কুষ্টিয়া বিএনপি নাকি কেন্দ্রীয় বিএনপি?

    তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে সুজন রাজ বলেন, প্রিয় নেতা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করুন এবং যারা তাদেরকে ইনভাইট করেছে তাদের বহিষ্কার করুন।

    কাদের কাহন বলেন, অপু একজন আওয়ামী লীগের দালাল, যারা দাওয়াত দিয়েছে তারাও আওয়ামী লীগের দালাল।

    যুগান্তর ডেস্ক

  • বিএনপির সমাবেশে গিয়ে যে বক্তব্য দিলেন অপু বিশ্বাস

    আওয়ামী লীগের হয়ে একসময় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসকে এবার দেখা গেল বিএনপির মঞ্চে। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্থানীয় নেতা রিপন হোসেনের পক্ষে সমর্থন চান।

    বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত শোডাউন, ভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন অপু বিশ্বাস ও অভিনেতা নিরব হোসেন। খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন হোসেনের আমন্ত্রণে তারা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাদের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমে যায় মাঠে।

    অনুষ্ঠানে মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘সেই ঢাকা থেকে সাত ঘণ্টা জার্নি করে এসেছি আপনাদের সঙ্গে দেখা করবো এবং কথা বলবো বলে। আমি শিল্পী, এটাই আমার পরিচয়। এই পরিচয়ে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছি। এজন্য আপনাদের কাছাকাছি আসি। জানতে পেরেছি আপনারা সেই দুপুর ১২টা থেকে গরমের মধ্যে বসে আছেন। এটা আসলে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি বগুড়ার মেয়ে। এর আগে রাজবাড়ী এসেছিলাম। কিন্তু খোকসা আসা হয়নি। এখানে আনার জন্য প্রাণপ্রিয় বড়ভাই রিপন ভাইকে ধন্যবাদ জানাই। রিপন ভাই আপনাদের সেবা করতে চান। আমি চাইবো, সেই সুযোগ আপনারা করে দেবেন। যে মানুষ আপনাদের চাওয়া পাওয়ার মূল্য দিতে চায়, আমি মনে করি তার থেকে আর বড় মনের মানুষ হতে পারে না। আপনারা তাকে যে ভালোবাসা ও সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন,আমি চাইবো তিনি যেন লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন। আশা করি আপনারা বাংলা চলচ্চিত্রের সাথেও থাকবেন।’

    উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন নায়িকা অপু বিশ্বাস। 

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • শিল্পী সমাজের বিভাজনে দায়ী ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান দাবি করছেন, শিল্পী সমাজে বিভাজন সৃষ্টির জন্য ‘পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার দায়ী। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি আমাদের শিল্পী সমাজের মধ্যে বিভাজন হয়ে গেছে।

    মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

    সেলিমা রহমান বলেন, ‘শিল্পী সমাজ যারা সমাজের প্রতিনিধি, যারা সমাজকে সত্য ও সুন্দর স্বীকার যারা মানুষের এই মানুষের মাটি ও মায়ের গান নিয়ে জনগণের জীবনযাত্রা নিয়ে মানুষের জীবনকে আলোকিত করে— সেই শিল্পী সমাজ থাকবে সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আজ অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে হলেও সত্যি আমাদের শিল্পী সমাজের মধ্যে বিভাজন হয়ে গেছে। কেন এই বিভাজন? আমি শুধু বলতে চাই, যারা আজকে মায়াকান্না করছেন, কান্নাকাটি করছেন তাদেরকে বলছি যে, আপনারা সেদিন জনসাধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তৎকালীন স্বৈর সরকারের বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে নিজেরা আত্ম সুখ উপলব্ধি করেছেন এবং নিজেদের সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

    সেলিমা রহমান বলেন, ওই বিভাজিত শিল্পীরা সেদিন দেখেন নাই কিভাবে আয়নাঘরে বাবাকে বন্দী করে একটি সন্তানকে বাবার কোল থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। আপনারা সেদিন দেখেন নাই, কিভাবে মানুষের বুকের উপর নির্যাতন চলছে? আপনারা সেদিন দেখেন নাই কিভাবে আমাদের সাধারণ নাগরিক থেকে বিরোধী মতামত যারা পোষণ করত সবাইকে কারাগারে নির্যাতনে শিকার হতে হয়েছে, জেল খাটতে হয়েছে। কারণ আপনারা তো মানুষকে বিশ্বাস করেন না। আপনারা কিসের শিল্পী? 

    এদিন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও হীন প্রচেষ্টা প্রতিরোধে মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনের সভাপতি ইথুন বাবু বলেন, ‘ভালো হতে পয়সা লাগে না। আমরা দেখেছি এখনো কিছু বেসরকারি টেলিভিশন, বিটিভি, শিল্পকলা একাডেমি এখনো ওই ফ্যাসিস্টদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করতেছে.. এটা টেলিভিশন চ্যালেন ও ক্যামেরাম্যানরা ভালো করেই জানেন।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা একটা কথা বলছি আমরা ২১ দিন সময় দিলাম এই প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে… এই ২১ দিনের মধ্যে যার যার স্থান থেকে ফ্যাসিস্টদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে আপনাদের নিজের জায়গা পূরণ করুন। আপনাদের জায়গা পরিষ্কার করুন। এই ২১ দিনের মধ্যে সচিবালয় থেকে শুরু করে টেলিভিশন পর্যন্ত, টেলিভিশন থেকে শুরু করে শিল্পকলা একাডেমী পর্যন্ত যা আছে পরিস্কার করুন।

    শিবা সানুর সঞ্চালনায় এই মানববন্ধনে শিল্পী, প্রযোজক, পরিচালক, আবৃত্তিকারক বক্তব্য রাখেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, এটাই তাদের আতঙ্ক: মনির খান

    নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, এটাই একটি মহলের আতঙ্কের মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বিএনপি নেতা মনির খান। তিনি বলেছেন, এই আশঙ্কা থেকেই একটি পক্ষ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিএনপি এই ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

    সোমবার (২১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য হুমকি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মনির খান।

    মনির খান বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ নেতা তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান এ দেশে প্রধানমন্ত্রী হবেন। এই ভয়ে তারা ব্যস্ত হয়ে গেছে কিভাবে নির্বাচনকে বানচাল করা যায়। বিচ্ছিন্ন যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেটি গত সরকারের বিদায়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য যে ছোটখাটো পিচ্চি পোলাপানকে দিয়ে যে দল গঠন করা হয়েছে, তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মাঠে-ময়দানে তারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে। যদি জনাব তারেক রহমান দুই দিন চুপ থাকেন, যদি শান্ত হতে না বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই ফিডার খাওয়া এই পিচ্চি পোলাপানদের অবস্থা কোথায় যাবে আপনারা একবার ভেবে দেখুন।’

    বিএনপি শান্তভাবে সব কিছু সামাল দিচ্ছে জানিয়ে মনির খান বলেন, ‘আমরা সঠিক নেতৃত্বে বিশ্বাসী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবারই বলেছেন শান্ত থাকো। কোনো প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়। যার কারণে আমরা শান্ত থেকে সারা বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তির যেসব নেতৃবৃন্দ রয়েছেন তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সাধারণ কর্মীরা এখনো চুপ রয়েছে।’

    রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দিয়ে মনির খান বলেন, ‘যা করছেন বাড়াবাড়ি বেশি হয়ে যাচ্ছে। যা ঘটছে তা বাংলাদেশের জন্য ঠিক হচ্ছে না। যা করে বেড়াচ্ছেন তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আপনারা যদি ভেবে থাকেন আপনাদের এই কোটাভিত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য আপনাদের সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনা বাস্তবায়ন করতে চান, সেটা বাংলাদেশের মানুষ কখনো বরদাশত করবে না।’

    উল্লেখ্য, মনির খান শুধু সংগীতশিল্পী নন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তার সুরেলা কণ্ঠে। দেশের সংগীতে অবদানের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। রাজনীতিতে সক্রিয় মনির খান আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।

    অনলাইন ডেস্ক

  • যে বিএনপিকে ভালোবাসি সেই বিএনপি খুঁজে পাচ্ছি না: আসিফ

    শহিদ জিয়ার যে বিএনপিকে ভালোবাসেন সেই বিএনপি খুঁজে পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। 

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন কথা বলেন। 

    আসিফ বলেন, ‘শৈশব থেকেই আমি শহিদ জিয়ার অনুরক্ত, বিএনপির একজন একনিষ্ঠ সমর্থক। দু:খজনক হলেও সত‍্যি যে বিএনপিকে ভালোবাসি সেই বিএনপি খুঁজে পাচ্ছি না। অত‍্যাচারের খড়গে ছিল জিয়া পরিবার, সুফল ভোগ করেছে জাতীয়তাবাদের লেবাসধারী কিছু নেতা, অত‍্যাচারীর এজেন্টরা। সারাদেশে গুম খুন মামলা হামলা জেল জুলুমে নির্যাতিত হয়েছে লক্ষ লক্ষ তৃণমূল নেতাকর্মী, তারাই আজ দলে অপাংক্তেয়। সেই বিএনপি এখন খুঁজে পাইনা যে বিএনপি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ঝান্ডাধারী, যে বিএনপি জনতার।’

    শহিদ জিয়ার বিরামহীন ছুটে চলাই আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক অজেয় ধুমকেতু। শহিদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাঙ্খার মূর্ত প্রতীক। ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় আবারো বিএনপির সামনে এসেছে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ। শহিদ জিয়ার কীর্তিগাঁথা আমরা শুনেছি অগ্রজদের কাছ থেকে। উনার ১৯ দফার মর্মার্থই ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির ম‍্যাগনা কার্টা।’

    জনপ্রিয় এ সংগীতশিল্পী আরও বলেন, শহিদ জিয়ার সেই বিএনপি ফেরত চাই যে বিএনপি দেশের নারী, যুবক, শিশু, ক্রীড়া এবং শিল্পীবান্ধব। জাতির ক্রান্তিকালে দেশের সাধারন মানুষ নতুন আলোর ঝলকানি দেখার অপেক্ষায়। মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত, প্রতিফলন দেখতে চাই শহিদ জিয়ার উচ্চারিত সেই মহান বানীর- ব‍্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়…। 

    যুগান্তর ডেস্ক

  • ‘আমরা গর্বিত— আমাদের একজন খালেদা জিয়া আছেন’

    বিনোদন জগতের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।  খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার আগমুহূর্তে সংগীতযুবরাজের এই স্ট্যাটাসটি ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে ফেসবুকে দেওয়ার স্ট্যাটাসটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ফিরছেন আপন ঠিকানায়। কাতার সরকারের পাঠানো রাজকীয় বিমানে চিকিৎসা নিতে লন্ডন গিয়েছিলেন, ফিরবেন ৫ মে ইনশাআল্লাহ। বেগম জিয়ার জন্য বর্তমান ইন্টেরিম সরকার স্পেশাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, সরকারকে ধন্যবাদ।

    হিথ্রোর মতো ব্যয়বহুল এয়ারপোর্টে সরকারি টাকার মচ্ছব এড়ানোর জন্য তিনি বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশ বিমানের এই ফ্লাইটটি সিলেট হয়ে ঢাকা আসে। ম্যাডামের জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ চেয়েছিল ফ্লাইটটি যেন সরাসরি ঢাকা আসে, পরে সিলেট যাবে। তিনি বিমানের নিয়মিত রুটের নিয়ম ভাঙতে চাননি, বাকি সাধারণের মতো সিলেট হয়েই ফিরবেন আপন আলয়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানকেও ধন্যবাদ জানাই ম্যাডামকে যথাযথ সম্মান জানানোর জন্য। 

    তিনি বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূর্তপ্রতীক। সারাটা জীবন দেশের জন্যই ভেবে গেলেন, কষ্ট করলেন, অত্যাচারিত হলেন। তিনি বলেন, আমরা গর্বিত— আমাদের একজন বেগম খালেদা জিয়া আছেন, যিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। বাংলাদেশ আপনার অপেক্ষায়, আপনার সুস্থতা আর দীর্ঘায়ু কামনা করি ম্যাডাম। 

    ম্যাডামের আগমন উপলক্ষ্যে এয়ারপোর্টে গিয়ে হাঙ্গামা না করলেই ভালো। রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার সিদ্ধান্ত হবে আরও মহত্তর’। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • মধ্যরাতে বাড়ি ঘেরাওয়ের স্মৃতি সামনে আনলেন ন্যান্সি

    জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে গত ১৬ বছর নানাভাবে বঞ্চিত ছিলেন তিনি। অনেক অনুষ্ঠানে তাকে গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি এ কণ্ঠশিল্পী তার এত দিনে বঞ্চনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন। 

    শুক্রবার ন্যান্সি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি বিগত সকরারের আমলে তার ওপর অন্যায় আচরণের কথা তুলে ধরেছেন। 

    তিনি স্ট্যাটাসে লেখেন, ২০১১ সালে প্রজাপতি সিনেমার ‘দু দিকেই বসবাস’ গানটির জন্য আমি সেরা নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে মনোনীত হই। এর পুরস্কার প্রদান করা হয় ২০১৩ সালের মার্চ মাসে। 

    আমার বড় কন্যার অসুস্থতার কারণে আমি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারিনি, পরবর্তীতে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমার পুরস্কারটি সংগ্রহ করি। ২০১৩ সালের শেষে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমি ফেসবুকে ছোট্ট একটি লেখা লিখি, যার সারমর্ম ছিল— শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য যারা আওয়ামী লীগ সমর্থন করেন, তাদের সময় এখন ফিরে আসার। সেই সময় বিগত জালিম সরকারের সমালোচনা অনেকেই করেছিল (তখনো কিছুটা স্বাধীনতা অবশিষ্ট ছিল)। কিন্তু রাতারাতি বারুদের মতো আমার লেখনী সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ফল ফেসবুক পোস্টের একদিন পরেই মধ্যরাতে আমার নেত্রকোনার বাড়ি ঘেরাও হয়।

    ন্যান্সির মা বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সভাপতি ছিলেন উল্লেখ করে ন্যান্সি লিখেছেন— আমার মা আমৃত্যু নেত্রকোনা জেলা জাসাসের সভাপতি ছিলেন (২০১২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন)। অথচ পুলিশ ফোর্স জানালো তাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর আছে— আমার বাসা নাকি জামায়াত-শিবির জঙ্গির আস্তানা! তারা বাড়ি তল্লাশি করবে। আমি অসম্মতি জানালে এসএসসি পরীক্ষার্থী আমার ছোট ভাইকে তারা তুলে নিয়ে যেতে চাইল। আমার সঙ্গে অনেক বাগবিতণ্ডার পর তারা চলে গেলেন। বাধ্য হয়ে আমি প্রেস কনফারেন্স করলাম। আমি মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচলাম, কিন্তু হয়রানি বন্ধ হলো না। হয়রানির তালিকা লম্বা, অনেকে নিয়শ্চই জানেন। যারা জানেন না, তারা আমার কমেন্ট বক্সে গিয়ে বাংলাভিশনের ইন্টারভিউ দেখে নেবেন।

    গানের শো বাতিল হওয়া নিয়ে এ গায়িকা লেখেন, ২০১৪ সাল থেকে একের পর এক স্টেজ শো বাতিল হতে থাকলো। সিনেমার গান- সে তো স্বপ্ন! আমার প্রায় ৩০ লাখ ফলোয়ার এর ফেসবুক পেজ গায়েব হয়ে গেল যেন আমার কথা মানুষের কাছে না পৌঁছায়! আমার জানামতে ২০১৪ সালে শিল্পীদের মধ্যে ফেসবুকে অর্গানিকভাবে সবচাইতে বেশি ফ্যান-ফলোয়ার ছিল আমার। এমনকি নতুন করে যে ফেসবুক আইডি খুলতাম সেটাই কিছুদিন পর লাপাত্তা হয়ে যেত!

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ন্যান্সির জীবন কিভাবে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে তার বর্ণনা দেন। এ প্রসঙ্গে এ গায়িকা লেখেন, ২০১৪ সালে অবৈধভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সমর্থক আমার জীবন দুর্বিষহ হয়ে গেল। ততদিনে চেনা মুখগুলো অচেনা হতে শুরু করল। আওয়ামী সমর্থকদের তখন জোর দাবি- শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূ কথা বলা এই আমাকে কেন জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হলো? অথচ আমি একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করেছিলাম মাত্র! ওদের ভাব এমন যেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তি আমার অর্জন নয় কিংবা বাংলাদেশ সরকার এই সম্মাননা দেয়নি, স্বয়ং শেখ হাসিনা বুঝি ভিক্ষা দিয়েছেন!

    মানসিক চাপে অস্থির হয়ে ঠিকমতো ঘুমাতে পারতেন না ন্যান্সি। তিনি তার স্ট্যাটাসে জানান, ২০১৪ সালে আর্থিক, মানসিক, সামাজিক, কর্মক্ষেত্রে হেয় প্রতিপন্ন ২৬ বছর বয়সী আমি ভয়ংকর রূপে সাইবার বুলিংয়ের শিকার। বিধ্বস্ত অবস্থায় ঘর- সংসার সব ফেলে নেত্রকোনা চলে গেলাম। ঘুম নেই, খাওয়া নেই, প্রতিদিন পুলিশ ভ্যান বিকাল থেকে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে আর আমি বাসার ছাদে পায়চারি করি। আর নিতে না পেরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলাম। শেখ হাসিনার মব বাহিনীর সে কি কুৎসিত উল্লাস!

    নতুন করে লড়াইয়ের শুরু করার প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, মন শক্ত করলাম। নিজেকে বোঝালাম, আমি একজন যোদ্ধা। কাজ খোঁজা শুরু করলাম। বেশিরভাগ জায়গায় অলিখিত ব্ল্যাক লিস্টেড। শো এর সংখ্যা তলানিতে। সে সময় বেশ কিছু গান নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করল স্নেহাশিস ঘোষ। শুরু হলো সিডি চয়েসের ব্যানারে আমার একের পর এক গান মুক্তি পাওয়া।

    কঠিন সময়ের যারা ন্যান্সির পাশে এসে দাঁড়ান, তাদের কথা তুলে ধরে ন্যান্সি লেখেন, ন্যান্সি উইথ স্টারস শিরোনামে দারুণ একটা প্রজেক্ট হলো। আমার দুঃসময়ে সর্বাধিক কাজ করেছি সিডি চয়েসের ব্যানারে। অন্যদিকে এগিয়ে এলো সাউন্ডটেক। আহমেদ রিজভীর সার্বিক পরিচালনায় সাউন্ডটেকের ব্যানারে এলো একক অ্যালবাম ‘ভালোবাসো বলেই’। আমার জীবনের সেরা কাজের একটি নিঃসন্দেহে। এছাড়া গাংচিল মিউজিক, বাংলা ঢোল, রঙ্গন মিউজিক, সিএমভি এর সঙ্গেও অল্প বিস্তর কাজ হয়েছে। করোনা পরবর্তী সময়ে গান গাইলাম প্রো টিউন আর অনুপমেরর ব্যানারে। আবার নামকরা একটি ব্যানার (নাম বলতেও রুচিতে বাঁধে) গান গাইয়ে নামমাত্র সম্মানীও দিয়েছে। আমার অনেক গুণমুগ্ধ নবীনরাও আমাকে ভালো সম্মানী দিয়ে আমার সঙ্গে গান গেয়েছেন এবং এখনো গাইছেন। হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে গান আগের মতো না হলেও অল্প কিছু হচ্ছিল তবে তার কোনোটাই সিনেমার জন্য নয়।

    টেলিভিশনের গান গাওয়া প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, টিভি চ্যানেলগুলোতে কদাচিৎ ডাক পেতাম। সেটাও সম্ভব হত যেসব প্রোগ্রাম প্রডিউসার আমার গান ভালোবাসতেন তাদের বদৌলতে। তবে একটি টিভি চ্যানেল পুরোটুকু সময় আমার উপস্থিতি পর্দায় চলমান রেখেছে- চ্যানেলটির নাম বাংলাভিশন। এমনকি আমার আপন দুই ভাই বাংলাভিশনে কর্মরত।

    সব শেষে ন্যান্সি লেখেন, প্লে ব্যাক সিঙ্গার হিসেবে আমি বিগত ১১ বছরে ১১টি গান সিনেমার জন্য গেয়েছি বলে মনে পরে না। ফিল্মে আমার সব জনপ্রিয় গান ২০১৪ সাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। সে কারণেই আমার আর কখনোই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া হয়নি। আমি জোর কণ্ঠে বলতে পারি, হাসিনা বাহিনীর রোষানলে পরা ব্ল্যাক লিস্টেড আমি টিকে ছিলাম এবং টিকে আছি আমার মনোবল ও ভক্ত শ্রোতাদের ভালোবাসায়।

    এদিকে,আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের ইস্যুতে মুখ খুলেছেন সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই শিল্পী লিখেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কিছু নেই। এই দল ডাইনোসর এর মত বহু আগেই বিলুপ্ত হয়ে নতুন নামকরণ করে হয়েছিল মুজিব লীগ। দীর্ঘদিন নির্লজ্জের মত জোর পূর্বক ক্ষমতায় থেকে হয়েছিল সন্ত্রাসী লীগ। পালাব না বলেও পালিয়ে যাওয়া নেত্রী দলের লোকদের ফেলে স্বপরিবারে দেশের অর্থ লুট করে পলায়নের পর এরা হলো এতিম লীগ। করোনা ভাইরাসের মত মিউট্যান্ট হয়ে এখন তারা অনলাইন বট লীগ, জনতার কাছে এরা পতিত লীগ।

    তিনি আরও লিখেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ে এতো কমেডিয়ান নেতৃবৃন্দ এবং তৃণমূলে এতো কুরুচিপূর্ণ নেতাকর্মী আজ অবধি দেখা যায়নি! বিগত ১০ বছরে হাসিনার নেতৃত্বে তার দলের সিংহভাগ লোকের রাজনৈতিক শিস্টাচার তলানিতে ঠেকেছে। আগ্রাসী আচরণের জন্য খুনি ফ্যাসিস্ট মাফিয়া হাসিনার অনুসারীদের সহসাই পুনর্বাসন নয়; বরং রাজনৈতিক পাঠশালায় ভর্তি করে অ, আ, ক, খ শেখানো উচিত।

    অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেছেন তিনি।

    জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে গত ১৬ বছর নানাভাবে বঞ্চিত ছিলেন তিনি। অনেক অনুষ্ঠানে তাকে গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি এ কণ্ঠশিল্পী তার এত দিনে বঞ্চনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আ.লীগ থেকে বিএনপির ছায়াতলে ডিপজল

    সিনেমার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা ডিপজলের নাম। একসময় বিএনপির রাজনীতি করতেন। গত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরব উপস্থিতি ছিল তার।  পালন করছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল, তবে সাড়া পাননি। এবার বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির ব্যানারে রাজনীতির মাঠে আলোচনায় আসলেন ডিপজল।

    তিনি মহান বিজয় দিবসে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রকাশ করেছেন পোস্টার। আর তাতেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। কারণ—রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ডিজাইন করা পোস্টার। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কেনা ও বিএনপির রাজনীতিকে অস্বীকার করে আসা এ তারকার পোস্টারে এখন বিএনপির শীর্ষ তিন নেতার ছবি এবং স্লোগান। তাতে ব্যবহার করেছেন জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি।

    ক্যাপশনে ডিপজল লিখেছেন, ‘১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। যাদের মহান আত্মত্যাগে আমাদের এই স্বাধীনতা, সেই সব বীর শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। লাখো শহিদের রক্তে লেখা, বিজয়ের এই ইতিহাস, মুক্তির বার্তা নিয়ে বারবার ফিরে আসুক ডিসেম্বর মাস।’

    পোস্টারে বিএনপির নেতাদের ছবি ব্যবহার করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ডিপজল। কারণ, বিগত সরকারের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

    ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঢাকা-১৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কেনেন ডিপজল। ২০২১ সালেও ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। গত আগস্টে সরকার পতনের পর তার নামে হয়েছে একাধিক মামলা। অনেকে বলছেন, মামলা থেকে রেহাই পেতেই ভোল পালটেছেন ডিপজল।

    ডিপজলের দল পালটানোর নীতি নতুন কিছু নয়। এর আগে ১৯৯৪ সালে বিএনপির সমর্থন নিয়ে ঢাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে নিজেকে আওয়ামী লীগের কর্মী বলে দাবি করেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক