Tag: ফ্রান্স

  • ভয়াবহ দাবানলে সস্ত্রীক ফ্রান্স ছাড়লেন জর্জ ক্লুনি

    ফ্রান্সে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলের জেরে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ব্রিগনোলস-এর কাছে অবস্থিত নিজেদের বিলাসবহুল বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়েছেন হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি ও তার মানবাধিকার আইনজীবী স্ত্রী আমাল ক্লুনি। 

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

    গত এক সপ্তাহ ধরে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী বনভূমির দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে ফ্রান্স। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া সবচেয়ে বড় দাবানলটিতে ইতোমধ্যেই প্রায় ৪২,০০০ হেক্টর (১,০৩,০০০ একর) বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরের মোট আয়তনের চেয়েও বড়। 

    ব্রিগনোলসের কাছে জর্জ ক্লুনি ও আমাল ক্লুনি দম্পতির ‘ডোমেইন দ্যু ক্যানাদেল’ নামক একটি সুবিশাল সম্পত্তি রয়েছে, যার খুব কাছেই গত বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। 

    পিপল সাময়িকীতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিগনোলসের মেয়রের কাছে লেখা এক চিঠিতে ক্লুনি দম্পতি জানান, ‘এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের সুন্দর বাড়িটি রক্ষা পাবে কিনা, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে আমাদের কোনো ধারণা নেই।’ 

    প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা কামনা করে চিঠিতে তারা আরও লেখেন, ‘আমাল এবং আমি এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে—আমাদের গ্রামের যাই ঘটুক না কেন, আমরা এই সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবেই থাকব এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুরোপুরি পাশে থাকব।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ব্রিগনোলসের মেয়র জানিয়েছেন, তারকা দম্পতিকে সরাসরি সরিয়ে নেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা ছিল না; তবে আগাম সতর্কতা হিসেবে তারা স্বেচ্ছায় সম্পত্তি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    ১৭০ হেক্টর (৪২০ একর) আয়তনের ওপর নির্মিত জর্জ ক্লুনির এই বিশাল সম্পত্তিতে একটি ১৮ শতকের ঐতিহাসিক ম্যানর হাউস, একটি লেক, সুইমিং পুল এবং বিস্তীর্ণ আঙুরের বাগান রয়েছে। 

    ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ব্রিগনোলসের এই সাম্প্রতিক দাবানলে ইতোমধ্যেই ১৩০ হেক্টর (৩২১ একর) এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং বাধ্য হয়ে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অধিকাংশ অধিবাসী নিজ নিজ ঘরে ফিরতে পেরেছেন। 

    বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে ২৭০ জন দমকলকর্মী মোতায়েন ছিলেন এবং চার্টার্ড ওয়াটার-বোম্বিং হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছিল। উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে চারজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • তাপদাহ উপেক্ষা করে সুরের উৎসবে মাতল ফ্রান্স

    প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেও ফ্রান্সজুড়ে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘ফেত দ্য লা মিউজিক’  বা বিশ্ব সঙ্গীত উৎসব। রোববার  (২১ জুন) অনুষ্ঠিত এ উৎসবে রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন শহর, জনপদ ও পর্যটন এলাকায় হাজারো শিল্পী ও লাখো দর্শকের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

    ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৯৮২ সালে যাত্রা শুরু করা এ উৎসব বর্তমানে বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে পালিত হয়। প্রতি বছর উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিনের (২১ জুন) সন্ধ্যায় আয়োজিত এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হলো সঙ্গীতকে উন্মুক্ত পরিসরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এ উপলক্ষে পেশাদার ও অপেশাদার শিল্পীরা বিনামূল্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

    এ বছর জুন মাসজুড়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল। আবহাওয়া বিভাগ একাধিক অঞ্চলে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করলেও উৎসবের আয়োজন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়। দর্শকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন স্থানে পানীয় জল সরবরাহ, প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনার ব্যবস্থা রাখা হয়।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    প্যারিসের বিভিন্ন স্কয়ার, পার্ক, ঐতিহাসিক চত্বর, ক্যাফে ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে দিনভর এবং রাত পর্যন্ত চলতে থাকে সঙ্গীত পরিবেশনা। জ্যাজ, রক, পপ, শাস্ত্রীয়, লোকসঙ্গীত, র‌্যাপ, ইলেকট্রনিক এবং বিশ্বসঙ্গীতসহ বিভিন্ন ধারার শিল্পীরা অংশ নেন উৎসবে। অনেক এলাকায় স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিল্পীদেরও পরিবেশনা ছিল।

    উৎসব উপলক্ষে প্যারিস, লিয়ঁ, মার্সেই, তুলুজ, লিল, স্ট্রাসবুর্গ ও বোর্দোর মতো বড় শহরগুলোতে উল্লেখযোগ্য জনসমাগম দেখা যায়। সন্ধ্যার পর থেকে রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও উৎসবে অংশ নেন।

    উৎসবস্থলগুলো ঘুরে দেখা যায়, স্পেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা এ আয়োজন উপভোগ করছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও ছবি প্রকাশের মাধ্যমে উৎসবের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এবারের আয়োজনে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্যারিস অঞ্চলের ও-বার-ভিয়ে, লা কুরনেভ এবং গার দ্য নর এলাকায় পৃথকভাবে বাংলা গানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ও-বার-ভিয়ে এলাকায় এসকে সাউন্ডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘জলের গান’-এর রাহুল আনন্দ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গীতপ্রেমীরাও অংশ নেন।

    ফরাসি সংস্কৃতি বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জের সময়েও ‘ফেত দ্য লা মিউজিক’ মানুষের মধ্যে সামাজিক সংযোগ ও সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা এ উৎসব ফ্রান্সের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে।

    হাসান ইলিয়াছ তানিম, প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে

  • পর্দা নামল কান চলচ্চিত্র উৎসবের, স্বর্ণপাম পেল মুঙ্গিউয়ের ‘ফিয়র্ড’

    ফ্রান্সের কান শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব কানের ৭৯তম আসরের পর্দা নেমেছে শনিবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায়।  একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান ও আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী পর্ব। প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী এই আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও প্রযোজকরা অংশ নেন।

    উৎসবের শেষ রাতে ঘোষণা করা হয় প্রতিযোগিতার প্রধান বিভাগগুলোর বিজয়ীদের নাম। এবারের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম  দ্য’র বা স্বর্ণপাম জিতেছে রোমানিয়ান পরিচালক ক্রিস্তিয়ান মুঙ্গিউয়ের চলচ্চিত্র ‘ফিয়র্ড’।

    নরওয়ের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি একটি অভিবাসী ধর্মীয় পরিবারকে ঘিরে সামাজিক ও পারিবারিক টানাপোড়েনের গল্প তুলে ধরে। প্রদর্শনীর পর থেকেই ছবিটি আন্তর্জাতিক সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং উৎসবজুড়ে শীর্ষ প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হয়।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    বিচারকদের মতে, সংযত নির্মাণশৈলী, বাস্তবধর্মী চিত্রভাষা এবং শক্তিশালী আবেগঘন গল্প বলার কারণে ‘ফিয়র্ড’ সর্বোচ্চ স্বীকৃতির যোগ্যতা অর্জন করে।

    পরিচালক ক্রিস্তিয়ান মুঙ্গিউ এই জয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো কান উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপাম পেলেন।  তিনি এর আগে ২০০৭ সালে প্রথমবার এই সম্মান লাভ করেন।

    উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান গ্রাঁ প্রি পেয়েছে রুশ পরিচালক আন্দ্রেই জভিয়াগিনৎসেভের চলচ্চিত্র ‘মিনোটর’। আর জুরি পুরস্কার জিতেছে জার্মান পরিচালক ভ্যালেসকা গ্রিসেবাখের চলচ্চিত্র ‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’।

    সেরা পরিচালকের পুরস্কার এবার যৌথভাবে পেয়েছেন পোল্যান্ডের পাভেল পাভলিকোভস্কি তার চলচ্চিত্র ‘ফাদারল্যান্ড’ এবং স্পেনের পরিচালক জুটি হাভিয়ের কালভো ও হাভিয়ের আমব্রোসি তাদের চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্ল্যাক বল’।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অভিনয় বিভাগে সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন ভার্জিনি এফিরা ও তাও ওকামোতো, তাদের অভিনীত চলচ্চিত্র ‘অল অব আ সাডেন’ এর জন্য। একইভাবে সেরা অভিনেতা হয়েছেন ভ্যালেনতিন ক্যাম্পান ও এমানুয়েল মাকিয়া, চলচ্চিত্র ‘কাওয়ার্ড’ এর জন্য।

    চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন এমানুয়েল মার তার চলচ্চিত্র ‘আ ম্যান অব হিজ টাইম’ এর জন্য।

    উৎসবের সমাপনী আয়োজনে জানানো হয়, এবারের আসরে ইউরোপীয় আর্টহাউস সিনেমার উপস্থিতি এবং সামাজিক বাস্তবতা নির্ভর গল্প বলার প্রবণতা বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল।

    বিশ্ব চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কিংবদন্তি শিল্পী বারব্রা স্ট্রেইস্যান্ড কে প্রদান করা হয় সম্মানসূচক পাম দ্য’র। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    শারীরিকভাবে তিনি উপস্থিত না থাকলেও ভিডিও বার্তায় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

    এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হলো শক্তিশালী গল্পনির্ভর সিনেমার জয় এবং ইউরোপীয় চলচ্চিত্রধারার ধারাবাহিক প্রভাবের মধ্য দিয়ে। উৎসবজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিল ‘ফিয়র্ড’, যা শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপাম নিজের করে নেয়। 

    হাসান ইলিয়াছ তানিম, কান (ফ্রান্স) থেকে

  • ফ্রান্সের চলচ্চিত্র উৎসবে একমাত্র বাংলাদেশি সিনেমা ‘আনসিন’

    ফ্রান্সের অন্যতম জনপ্রিয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা নিকন চলচ্চিত্র উৎসব। এ উৎসবের ১৬তম আসরে প্রায় ৬ হাজার চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে একমাত্র বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে বাংলাদেশি নির্মাতা সৈয়দ সাহিলের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আনসিন’।

    এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ‘বিউটি’ বা সৌন্দর্য। নির্মাতা সাহিল তার চলচ্চিত্রে প্রচলিত চাক্ষুষ সৌন্দর্যের বাইরে মানবিক আবেগ ও অদৃশ্য অনুভূতিগুলোকে তুলে ধরেছেন।

    প্যারিসে নির্মিত এ সিনেমাটির সংলাপ সম্পূর্ণ ফরাসি ভাষায় হলেও আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য এতে ইংরেজি সাবটাইটেল যুক্ত করা হয়েছে।

    নির্মাতার কথায়, ‘আনসিন’-এর মাধ্যমে এমন এক সৌন্দর্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা চোখে দেখা যায় না। যে অনুভূতিগুলো আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি এবং যেসব মানুষকে আমরা প্রকৃত অর্থে দেখতে পাই না।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    চলচ্চিত্রটির অধিকাংশ কলাকুশলীই বাংলাদেশি। সাবরিনা ইসলামের প্রযোজনায় এর চিত্রগ্রহণ করেছেন পার্বত রায়হান এবং সম্পাদনা করেছেন নিশান মাহমুদ। এতে অভিনয় করেছেন ফরাসি শিল্পী জঁ-লুক জ্যাকো, জুলিয়েট পিরোত্তে, এলিজাবেথ সেলেম এবং বাংলাদেশি অভিনেতা ইমতিয়াজ রনি।

    উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া প্রায় ৬ হাজার চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রথম ধাপেই ২,৫১১টি সিনেমার শর্টলিস্টে জায়গা করে নেয় ‘আনসিন’। পরে দর্শক ভোটের জন্য চলচ্চিত্রগুলো উন্মুক্ত করা হলে ব্যাপক সমর্থনে ১,১৫৮টি শর্ট ফিল্মের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এটি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রিয় বলিউড তারকার নাম জানালেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট

    কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই রূপালি পর্দার ছোঁয়া দিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সম্প্রতি ভারত সফরকালে এক আলাপচারিতায় ম্যাক্রোঁ প্রকাশ করেছেন তার প্রিয় বলিউড তারকার নাম। তবে অন্য অনেকের মতোই এক্ষেত্রে শাহরুখ খানের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

    কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি জানান, হিন্দি সিনেমায় তার পছন্দের অভিনেতা হলেন অনিল কাপুর।

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ব্রুট ইন্ডিয়া’-র সঙ্গে কথা বলার সময় ম্যাক্রোঁকে তার প্রিয় ভারতীয় অভিনেতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘গতকালই আমি ‘জয় হো’ (স্ল্যামডগ মিলিয়নিয়ারের গান) প্রসঙ্গে কথা বলেছি, তাই আমি অনিল কাপুরের নামই বলব।’ তার এই মন্তব্যটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কূটনীতির সঙ্গে জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক দারুণ সমন্বয় দেখা গেছে।

    মুম্বাই সফরের সময় ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের একঝাঁক উজ্জ্বল নক্ষত্রের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। আইকনিক গেটওয়ে অব ইন্ডিয়ার সামনে আয়োজিত এই মিলনমেলায় বলিউড থেকে উপস্থিত ছিলেন মনোজ বাজপেয়ী, অনিল কাপুর, জোয়া আখতার, রিচা চাড্ডা, শাবানা আজমি এবং রিকি কেজ।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে ম্যাক্রোঁ লেখেন, ‘ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তিদের পাশে। সংস্কৃতি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে।’

    অনিল কাপুরের প্রতিক্রিয়া 

    বিশেষ এই সাক্ষাতের পর অভিনেতা অনিল কাপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ছবি শেয়ার করে ফ্রান্স প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    তিনি জানান- সিনেমা, সংস্কৃতি এবং ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যকার শক্তিশালী সেতুবন্ধন নিয়ে তাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ‘গল্প বলার শিল্প’ (Storytelling) কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।

    ম্যাক্রোঁ-র ভারত সফর 

    প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ তিন দিনের সফরে মুম্বাই ও নয়াদিল্লি ভ্রমণ করেন। এই সফরে তিনি দিল্লিতে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ অংশ নেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও ফ্রান্স যৌথভাবে ‘এআই অ্যাকশন সামিট’ পরিচালনা করেছিল। ‘হরাইজন ২০৪৭’ রোডম্যাপের আওতায় উদ্ভাবন, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।

    এদিকে পেশাদার জীবনে অনিল কাপুরকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘ওয়ার ২’ ছবিতে কর্নেল বিক্রান্ত কউলের চরিত্রে। সামনে এ অভিনেতাকে শিভ রাওয়াইল পরিচালিত ‘আলফা’ সিনেমায় আলিয়া ভাট ও শর্বরীর সঙ্গে দেখা যাবে।  এছাড়া অনিল অভিনীত এবং সুরেশ ত্রিবেণী পরিচালিত অ্যাকশন-ড্রামা ‘সুবেদার’ আগামী ৫ মার্চ প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কানে যা বললেন বর্ষা

    ফ্রান্সে ৭৮তম ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’ গত মঙ্গলবার (১৩ মে) থেকে শুরু হয়েছে। সমুদ্র শহর কানে বিশ্ব সিনেমার সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ এ উৎসব শুরু হয়েছে। ২৪ মে শেষ হবে বিশ্বের অন্যতম সেরা এ উৎসব। এবারের উৎসবে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন অভিনেত্রী ও প্রযোজক বর্ষা। 

    এর মধ্যেই কানে উপস্থিত হয়েছেন অভিনেত্রী। কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিয়েছেন বর্ষা। এর আগে ২০২২ সালে উৎসবের ৭৫তম আসরে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই সময় সঙ্গে ছিলেন স্বামী চিত্রনায়ক, প্রযোজক ও ব্যবসায়ী অনন্ত জলিল। 

    এবারের আসরের দ্বিতীয় দিন ওয়ার্ল্ড উইমেন কানস অ্যাজেন্ডা ডিসকাশন পর্বে অংশ নিয়েছেন বর্ষা। ‘নিউ এরা অব আইডেন্টি অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড গ্লোবাল সিনেমা’ শীর্ষক এ সেমিনারে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলেন অভিনেত্রী।

    সেমিনারের শুরুতেই বাংলাদেশ থেকে আসার কথা জানিয়ে বর্ষা বলেন, আমি একজন অভিনেত্রী। পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ীও। কাজ করেন মানুষের উন্নয়নে। তিনি বলেন, অভিনয় জীবনের বাইরে ব্যবসায়িক জীবনেও আমি আমার ইচ্ছা, মেধা এবং লক্ষ্যপূরণে সচেষ্ট থাকি। 

    অভিনেত্রী বলেন, আমার ব্যবসায় সবসময় নারীর অংশগ্রহণ ও সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি। তাই নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করার জন্যই একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আমার এ অংশগ্রহণ। 

    বর্ষা বলেন, বিশ্বব্যাপী সিনেমার বিষয়টির এক অসাধারণ ক্ষমতা ও শক্তি আছে, যা মানুষকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করতে পারে। বাস্তবসম্মত গল্পগুলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং অধিকারের বিষয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান অভিনেত্রী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • কানে নিষিদ্ধ খোলামেলা পোশাক

    ফ্রান্সে ৭৮তম ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’ গত মঙ্গলবার (১৩ মে) থেকে শুরু হয়েছে। প্রতিবারের মতো এ বছরও লালগালিচায় দেখা যাবে বলিউড তারকাসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের জনপ্রিয় তারকাদের। এবার এ আসরে উপস্থিত থাকছেন হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজ, রবার্ট ডি নিরো, ওয়েস অ্যান্ডারসনের মতো বিশ্ব তারকা। প্রতিযোগিতায় রয়েছে বিশ্বজুড়ে নির্বাচিত অসাধারণ ২২টি সিনেমা। ২৪ মে শেষ হবে বিশ্বের অন্যতম সেরা মর্যাদাপূর্ণ এ উৎসব। 

    এটি যতটা সিনেমার প্রতিযোগিতা, ঠিক ততটাই হয়ে ওঠে তারকাদের ফ্যাশন আর সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা। কানে উপস্থিত প্রত্যেক তারকা তার সবচেয়ে জমকালো ও সুন্দর পোশাক আর সৌন্দর্য নিয়ে উপস্থিত হন কানের লালগালিচায়।

    কার চেয়ে ফ্যাশনে এগিয়ে থাকবেন, তাই নিয়ে একপ্রকার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন তারকারা। বিশেষ করে অভিনেত্রীরা এ আসরে একপ্রকার এক্সপেরিমেন্ট চালান পোশাক নিয়ে। অনেকে হাজির হন একেবারে খোলামেলা পোশাকে। কিন্তু এবার বদলে গেছে আগের নিয়ম। ‘নগ্নতা’ বা খোলামেলা পোশাক উপস্থাপন করা যাবে না।

    এবার কানের লালগালিচায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নগ্নতা’ ও ‘অতিরিক্ত লম্বা’ পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো নগ্ন পোশাকে নিজেকে উপস্থাপন করা যাবে না। ২০২২ সালে কানের লালগালিচায় একজন বিক্ষোভকারী টপলেস হয়ে হাজির হওয়ার ফলস্বরূপ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ ছাড়া বছরের শুরুতে গ্র্যামিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন বিয়াঙ্কা সেনসোরি। তিনি অতিরিক্ত স্বচ্ছ পোশাক পরে হাজির হয়েছিলেন। যাতে তার শরীরের পুরো অবয়ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে এটিও কারণ বলে জানা গেছে।

    উৎসবের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও ফরাসি আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কান উৎসব একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছে। কান চলচ্চিত্র উৎসব তার সনদে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা কার্যকর কিছু নিয়ম স্পষ্ট করে দিয়েছে। লক্ষ্য— পোশাক নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং অনুষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও ফরাসি আইন অনুসারে লালগালিচায় পূর্ণ নগ্নতা নিষিদ্ধ করা।

    যাদের পোশাক অন্যান্য অতিথির চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে কিংবা স্ক্রিনিং রুমে বসার ব্যবস্থা জটিল করে তুলতে পারে, তাদের প্রবেশাধিকারে বাধা দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। এই দীর্ঘ ও অতিরিক্ত প্রশস্ত পোশাক অতিথিদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং থিয়েটারে বসার ব্যবস্থা জটিল করে তোলে। এমনকি গালা স্ক্রিনিং চলাকালীন টোট ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক এবং বড় ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক