Tag: ইরান

  • হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি শিল্পীকে শাস্তি

    ঘটনা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর। সামাজিক মাধ্যম ইউটিউব লাইভে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামে একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেছিলেন ২৯ বছর বয়সি ইরানি সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি। সেই সময় তিনি হিজাব ছাড়াই পারফর্ম করেছিলেন। সেই গানটি পরবর্তী সময়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে। কিন্তু ওই কনটেন্টটিকেই ‘অশ্লীল’ আখ্যা দিয়েছেন ইরানের একটি আদালত।

    গান প্রকাশের কিছু দিনের মধ্যেই পারাস্তু আহমাদি ও তার কয়েকজন সতীর্থকে আটক করে ইরান প্রশাসন। পরে তারা মুক্তি পেলেও আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সেই মামলার রায়ে দোররা ও নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি ‘অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট’-এর অভিযোগ এনে গায়িকা পারাস্তু আহমাদিকে কঠোর শাস্তি দিয়েছেন দেশটির আদালত। তিনি এবং তার দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা মারা হবে। এ ছাড়া এ সংগীতশিল্পীকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন কোম প্রদেশের আদালত।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমালোচনা হচ্ছে সারা বিশ্ব। মানবাধিকার ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন— এ রায় কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়; বরং ভিন্নমত ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাকে দমনের একটি উদাহরণ। সরকারের সমালোচনামূলক অবস্থানে থাকা শিল্পীদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে বলে জানান তারা। তা ছাড়া এ ঘটনায় ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি, নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    ইরানি অ্যাক্টিভিস্টদের আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থা ‘দাদবান’-এর মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেছেন, এ রায়ের কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়া কিংবা সংগীত পরিবেশন করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব কর্মকাণ্ডকে ‘অশ্লীল কনটেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা আইনের অপপ্রয়োগ।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেছেন, শুধু গান গাওয়া এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার কারণে একজন শিল্পীকে ৭৪ দোররা মারার সাজা দেওয়া অত্যন্ত কঠোর ও উদ্বেগজনক। এটি ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মানসিক ট্রমা কাটানো মানে নিজের দেশকে ভুলে যাওয়া নয়: মান্দানা কারিমি

    চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিজ দেশ ইরানের সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগের মতো নিয়মিত পোস্ট না করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী মান্দানা কারিমি। 

    সম্প্রতি ভারত ছেড়ে দুবাইয়ে পাড়ি জমানো এই অভিনেত্রী তার নতুন জীবনযাত্রাকে ‘স্বাভাবিক’ বা ‘আমোদপ্রমোদ’ হিসেবে জাহির করছেন—নেটিজেনদের এমন অভিযোগের মুখে এবার সরাসরি ও কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি।  

    ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি নতুন দীর্ঘ ভিডিও বার্তায় মান্দানা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জনসম্মুখে নিজের কষ্ট বা কান্না প্রদর্শন করার মাধ্যমেই কেবল দেশপ্রেম বা অ্যাক্টিভিজম (আন্দোলন) পরিমাপ করা যায় না। 

    ভিডিও বার্তায় সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে মান্দানা কারিমি বলেন, ‘অনেকেই ইদানীং মেসেজ পাঠিয়ে জানতে চাচ্ছেন কেন আমি প্রতিদিন ইরান নিয়ে কথা বলছি না, কেন সবকিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি না মানুষ এর পেছনের চড়া মূল্যটা বোঝে। 

    এই প্রতিবাদের কারণে আমি কত কাজ হারিয়েছি, কত সুযোগ হাতছাড়া করেছি, তা কেউ জানে না। নিজের দেশকে এভাবে ধ্বংস হতে দেখা এবং নিজের পরিবার সেখানে থাকা সত্ত্বেও পুরোপুরি অসহায় বোধ করার যে কষ্ট তা আমি বয়ে বেড়াচ্ছি।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘লড়াই মানে কখনো কথা বলা, কখনো স্রেফ টিকে থাকা, আবার কখনো নিজেকে নিরাময় করার সুযোগ দেওয়া। আপনারা যে আমার ওয়ার্কআউট কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের পোস্ট দেখছেন, তার মানে এই নয় যে আমি আমার দেশের মানুষকে বা ইরানকে ভুলে গেছি। এর মানে হলো আমি এখনো টিকে আছি, তারা আমাকে ভেঙে ফেলতে পারেনি। এত কিছুর পরও আমি হাসতে, বাঁচতে এবং সামনে এগিয়ে যেতে চাচ্ছি।’ 

    পোস্টের ক্যাপশনে মান্দানা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, সবচেয়ে বড় প্রহসন হলো—কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার মেসেজগুলো আসছে খোদ ইরানের ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। আর বিষাক্ত আক্রমণগুলো ছড়াচ্ছে ইরানের বাইরে নিরাপদে বসে থাকা কিছু ছদ্মনামী বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে, যাদের আন্দোলন কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। 

    সমালোচকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে ইরানি বংশোদ্ভূত এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার সুস্থ হয়ে ওঠাকে নীরবতা ভাববেন না। আমার বেঁচে থাকাকে উদাসীনতা মনে করবেন না। আমি নিপীড়নকে স্বাভাবিক করছি না, আমি ট্রমা বা মানসিক আঘাতের পর জীবনকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। 

    নিজের অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে আমি জাতীয় টেলিভিশনে কথা বলেছি, প্রতিটি সাক্ষাৎকারে নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করেছি, যার জন্য আমাকে বড় ধরণের মাশুল দিতে হয়েছে। আপনারা যারা নিরাপদ দূরত্বে থেকে শুধু দেখছেন, তারা বিচার করার আগে নিজেদের জিজ্ঞেস করুন—আপনারা দেশের জন্য আসলে কী ঝুঁকি নিয়েছেন?’ 

    বক্তব্যের শেষে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যদি কারো তার হাসিমুখ, ফ্যাশন, ভ্রমণ কিংবা জীবনের খুশির মুহূর্তগুলো দেখতে সমস্যা হয়, তবে তারা তাকে ‘আনফলো’ করে দিতে পারেন। কিন্তু কেউ তার গল্প নতুন করে লেখার বা দেশের প্রতি তার ভালোবাসাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রাখে না। 

    উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে পুরোদমে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ইরানে জন্ম নেওয়া মান্দানা শুরু থেকেই এই সংঘাতের বিরুদ্ধে এবং নিজ দেশের মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। 

    ১০ বছর আগেই ইরানে প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়া এই অভিনেত্রী প্রায় ১৬ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন এবং বলিউডের ‘ভাগ জনি’, ‘ক্যায়া কুল হ্যায় হাম ৩’ এবং ওটিটি রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’-এ অংশ নিয়ে পরিচিতি পান। 

    তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি, মানসিক চাপ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে গত মাসে তিনি তার দ্বিতীয় বাড়ি ভারত ছেড়ে স্থায়ীভাবে দুবাইয়ে চলে যান। বর্তমানে দুবাইয়ে থেকেই নতুন করে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবন গোছানোর চেষ্টা করছেন তিনি। 

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ঝুঁকি জেনেও দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি ইরানি নির্মাতা

    উস্কানিমূলক প্রচারণার অভিযোগে চলতি সপ্তাহেই তেহরানের একটি আদালতে হাজির হতে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত ও অস্কার মনোনীত ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি। সোমবার (১৮ মে) ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২০ মে) তেহরানের বিপ্লবী আদালতে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গত ৩০ মার্চ দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ইরানে ফিরে আসার পর তার বিরুদ্ধে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো। 

    গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘পাম দ’র’ জয়ী এবং তার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’-এর জন্য অস্কারে মনোনীত এই পরিচালককে গত ডিসেম্বর মাসে তার অনুপস্থিতিতেই সাজা শুনিয়েছিল আদালত। ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং দুই বছরের জন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

    পরবর্তীতে পানাহির আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আদালত নতুন এই শুনানির দিন ধার্য করে। 

    আইএসএনএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করবেন বিচারক ইমান আফশারি। এর আগেও রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের কঠোর সাজা দেওয়ার ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে তার। এমনকি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আপত্তির মুখে ইমান আফশারির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্বেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এমন এক সময়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন ফ্রান্সে বিশ্ববিখ্যাত কান চলচ্চিত্র উৎসব চলছে—যেখানে জাফর পানাহির চলচ্চিত্র ও সৃষ্টিশীলতা আন্তর্জাতিক মহলে বরাবরের মতোই ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করছে। 

    তবে শুনানির দিন এই পরিচালক সশরীরে আদালতে উপস্থিত হবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে তাকে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে কোনো পোস্ট করতেও দেখা যায়নি। 

    জাফর পানাহির জন্য ইরানের আইনি চাপ বা কারাবরণ নতুন কিছু নয়। এর আগেও তাকে বিভিন্ন মেয়াদে দেশটিতে জেল খাটতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি বারবার ইরানকে নিজের একমাত্র আবাসস্থল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আইনি পরিণতির কথা জেনেও দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন তিনি। 

    উল্লেখ্য, জাফর পানাহির সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ মূলত একটি রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা। এর গল্পে দেখা যায়, বেশ কিছু চরিত্র এমন একজন ব্যক্তির মুখোমুখি হয়, যাকে তারা একসময় কারাগারে নিজেদের নির্যাতনকারী বলে বিশ্বাস করত। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই গল্পের সঙ্গে পানাহির নিজস্ব কারাজীবনের অভিজ্ঞতার গভীর মিল রয়েছে।

    চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রথম সারির সমালোচকদের একজন ছিলেন তিনি।

    গত ফেব্রুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পানাহি মন্তব্য করেছিলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে বৈধতা হারিয়েছে। তবে দেশে ফেরার ব্যাপারে নিজের দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন, আমি ইরানেই ফিরব। কারণ এটিই আমার ঘর।’ 

    সূত্র: নিউজ১৮ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ভারত ছাড়লেন খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা অভিনেত্রী মান্দানা

    দীর্ঘ ১৬ বছর ভারতে বসবাসের পর অবশেষে দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী ও মডেল মান্দানা করিমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি ভারতের ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিদায় জানিয়েছেন। 

    সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ সেশনে এক ভক্ত জানতে চান তিনি কি চিরতরে মুম্বাই ছাড়ছেন? এর উত্তরে বিমানবন্দর থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে মান্দানা বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি বা বিশ্বাস করতে পারিনি যে আমাকে এটা বলতে হবে— কিন্তু বিদায় ভারত। প্রায় ১৬ বছর পর আমার দ্বিতীয় ঘরকে পেছনে ফেলে চলে যাওয়াটা খুব কঠিন। তবে এখন নতুন কিছুর শুরু। নতুন দেশ, নতুন ঘর, নতুন সব।’ 

    কিন্তু হঠাৎ কি কারণে তাকে চিরতরে ভারত ছাড়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো?

    চলতি বছরের শুরুর দিকে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মান্দানা জানিয়েছিলেন, ভারতে তিনি নিজেকে নিরাপদ বোধ করছেন না। মূলত নিরাপত্তার কারণেই তিনি দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। 

    অভিনেত্রী জানান, ইরানি নারীদের অধিকার ও সে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মান্দানা দীর্ঘ সময় ধরে সোচ্চার ছিলেন। তার অভিযোগ, এই প্রতিবাদের কারণেই তাকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সাক্ষাৎকারে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি ভারতে কোনো মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন? তার সরাসরি জবাব ছিল— ‘সব সময়।’ 

    এছাড়াও মান্দানা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তার এই কঠিন সময়ে বন্ধু-বান্ধব, সরকার বা সংবাদমাধ্যম— কারো কাছ থেকেই তিনি কোনো সমর্থন পাননি। তার ভাষায়, ‘এ কারণেই এখানে আর নিজের ঘরের মতো অনুভূতি হয় না। যা কিছু করেছি ইরান ও আমার মানুষের জন্য করেছি, সমর্থন না পেলেও আমি আবারও তাই করতাম।’ 

    বর্তমানে মান্দানা ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার কড়া সমালোচক হওয়ায় সেখানে ফিরতে পারছেন না। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত অন্য একটি দেশে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। তবে নিরাপত্তার খাতিরে সেই দেশের নাম তিনি গোপন রেখেছেন।

    উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তুমুল আলোচনায় এসেছিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত এই অভিনেত্রী। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইরান ছেড়ে এসেছিলেন ভারতে। প্রায় এক দশক আগে তার নিজ দেশে প্রবেশও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর ইরানে ফিরতে পারেননি তিনি। 

    মান্দানা করিমিকে সর্বশেষ নেটফ্লিক্সের ‘থার’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ৯’ এবং ‘লক আপ’-এ অংশ নিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। 

    সূত্র: এনডিটিভি

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’—শাহরুখের সংলাপ দিয়ে ট্রাম্পকে ইরানি দূতের জবাব

    আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানে এবার জায়গা করে নিল বলিউডের রূপালি পর্দার সংলাপ। সিনেমা হলের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের রসায়নে যোগ হলো মেগাস্টার শাহরুখ খানের সেই বিখ্যাত সংলাপ— ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’ (সিনেমা এখনো শেষ হয়নি)। 

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে এই নাটকীয় পন্থা অবলম্বন করেছে মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট। 

    কিছুদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরান সম্পর্কে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ-শক্তি আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই ইরানের কনস্যুলেট পাল্টা প্রচারণা শুরু করে। 

    সম্প্রতি ইরানি কনস্যুলেট তাদের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনীর উচ্চগতির বোটের মহড়া ও নিখুঁত লক্ষ্যে মিসাইল উৎক্ষেপণের দৃশ্য। 

    সেই সঙ্গে ভিডিওতে ইরানের নৌ-প্রস্তুতির একটি শক্তিশালী মহড়াও দেখানো হয়। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ভিডিওর ক্যাপশনে তারা সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করলেও তার দাবির তীব্র সমালোচনা করে। কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে বলা হয়, আধুনিক সমরাস্ত্র ও কৌশলী বাহিনী কীভাবে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তা সাম্প্রতিক ঘটনাবলিই প্রমাণ করে। 

    তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ ছিল শাহরুখ খানের ২০০৭ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ওম শান্তি ওম’-এর সংলাপের ব্যবহার। 

    ভিডিওর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া বার্তায় বলা হয়- ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’। এর মাধ্যমে ইরান বোঝাতে চেয়েছে যে, ট্রাম্প ইরানকে যতটা দুর্বল ভাবছেন পরিস্থিতি আসলে তেমন নয়; বরং আসল লড়াই বা ‘ক্লাইম্যাক্স’ এখনো সামনে রয়ে গেছে। 

    আন্তর্জাতিক রাজনীতির মতো গম্ভীর বিষয়ে বলিউডের এমন পপ-কালচারাল রেফারেন্সের ব্যবহার দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা একে ‘কূটনীতির নতুন ধরণ’ হিসেবে দেখছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ভারতীয় সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে ইরানের নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এই কৌশলটি বেশ বুদ্ধিদীপ্ত। 

    সূত্র: সামা টিভি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • চাটাই বিছিয়ে বাজালেন তার, ইরানের এই শিল্পীর সুর পৌঁছেছে কোটি মানুষের প্রাণে

    মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা আর পাল্টাপাল্টি হামলার আতঙ্ক, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী সুরের মাধ্যমে শান্তির আহ্বান জানালেন ইরানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আলি ঘামসারি। রাজনৈতিক স্লোগান বা তপ্ত বক্তব্যের বদলে তার হাতিয়ার ছিল পারস্যের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘তার’।

    সম্প্রতি তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে একটি সাধারণ চাটাই বিছিয়ে বসে পড়েন ঘামসারি। চারপাশের কঠোর শিল্প অবকাঠামোর মাঝে তিনি তুলে ধরেন শাস্ত্রীয় সংগীতের শান্ত ও হৃদয়স্পর্শী সুর। তার এই পারফরম্যান্স কেবল বিনোদন নয়, বরং যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক গভীর মানবিক আবেদন হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

    বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে বসে সুর তোলার সেই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। নেটিজেনরা ভিডিওটি শেয়ার করে সংঘাত থামানোর দাবি জানাচ্ছেন। এমনকি বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অনেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও ট্যাগ করছেন সেই পোস্টে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইরানের বিদ্যুৎ সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস। সাম্প্রতিক উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই স্থাপনাটি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। শিল্পী আলি ঘামসারি জানান, তিনি চান তার সুরের মাধ্যমে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে, যাতে সংঘাতের কারণে কোনো সাধারণ মানুষের ঘরের আলো নিভে না যায়।

    আলি ঘামসারি ইরানের সমসাময়িক সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ঐতিহ্যবাহী পারস্য সংগীতকে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করতে তার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। এবারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করলেন, সুরের শক্তি কখনো কখনো অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ঝুঁকি জেনেও দেশে ফিরলেন ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি

    আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রচারণা ও অস্কারের দৌড় শেষ করে নিজ দেশ ইরানে ফিরেছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারজয়ী নির্মাতা জাফর পানাহি। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ইরান ইন্টারন্যাশনাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    সূত্রমতে, বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় পানাহি মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তুরস্ক হয়ে সড়কপথে ইরানে প্রবেশ করেন। তিনি তার চলচ্চিত্র ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’-এর প্রচারণার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। চলচ্চিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ সম্মান ‘পাম দর’ জয় করেছে এবং ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছিল।

    ঝুঁকি সত্ত্বেও ফেরার অঙ্গীকার 

    আইনি জটিলতা ও কারাদণ্ডের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পানাহি পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দেশে ফিরেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘সিনেমার প্রচারণা শেষ হওয়া মাত্রই আমি ইরানে ফিরে যাব।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    উল্লেখ্য, পানাহি ইরানে দীর্ঘদিন ধরে আইনি চাপের সম্মুখীন। তার অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তার ওপর দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। পানাহি এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, দীর্ঘ সময় দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কবলে ছিলেন। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেন তিনি।

    ইরানের এই চলচ্চিত্র পরিচালক তার লড়াকু নির্মাণশৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। সরকারি নানা বাধা ও নজরদারির মধ্যেও তিনি নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করে গেছেন। তার কাজগুলোতে মূলত ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট এবং তার নিজস্ব বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা ফুটে ওঠে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বলিউড ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে যা বললেন ইরানি মডেল

    বলিউড ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানি মডেল ও অভিনেত্রী মান্দানা করিমি। দীর্ঘ সময় মুম্বাইয়ে বসবাস ও কাজ করলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশটিতে একাকীত্ব ও বন্ধুহীন বোধ করছেন বলে জানান তিনি।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েন একসময়ে ‘বিগ বস’-এর ঘরে প্রতিযোগী হিসেবে যোগ দিয়ে বিনোদুনিয়ায় পরিচিতি পাওয়া  অভিনেত্রী মান্দানা করিমি। ইরানি লাস্যময়ীর রূপে মোহিত অনুরাগীর সংখ্যাও নেহাত কম নয় ভারতে। সফল মডেল হওয়ার পাশাপাশি বলিউডেও বেশ কিছু কাজ করে ফেলেছেন তিনি।

    কিন্তু যেখানে কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলেছেন, এবার সেই মাটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরেই স্বদেশে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মান্দানা করিমি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভারত ও তার কর্মক্ষেত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দ্রুত ইরানে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এ অভিনেত্রী।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    নিজের বদলে যাওয়া জন্মভূমিতে ফিরতে মরিয়া মান্দানা করিমি বলেন, এক স্বাধীন ইরানকে দেখতে পাচ্ছি। যে দেশে নারীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো চলতে পারবেন, যা খুশি পরতে পারবেন।  তিনি বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চান, সেখানেই পড়তে পারবেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও ইরানের দুর্দান্ত সম্পর্ক দেখতে পাচ্ছি। যেখানে আর কেউ ইরানকে হুমকি বলে মনে করবে না। আমরা ইরানের মানুষেরাই মজবুত মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তোলার অগ্রদূত। যে মুহূর্তে ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন হবে, আমি ওখানে চলে যাব।

    অভিনেত্রী বলেন, ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছি। এবং খুব শিগগির ভারতের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশে ফিরে যাব। কারণ আমার পক্ষে এখানে থাকা খুবই কষ্টের হয়ে উঠেছে।

    কেন এমন সিদ্ধান্ত? তার কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মান্দানা করিমি বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। বলিউডে বহু বন্ধু হারিয়েছি। গত দুই মাসে মুম্বাইতে যতটা একাকীত্ব বোধ করেছি, আগে কখনো সে রকম মনে হয়নি।

    তিনি বলেন, এখানে আমার অনেক বন্ধু আছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ইরান সম্পর্কে এত খোলামেলাভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে অনেক ‘তথাকথিত’ বন্ধু হারালাম। আমার মনে হয় ভারত আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। অবশ্য ভারত আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে। আমার পেশাগত পরিচিতি গড়ে দিয়েছে। এখন আমার এগিয়ে যাওয়ার সময়। এবং আশা করছি এবার আমি ইরানে ফিরতে পারব।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ইরানে বর্তমান সরকার ব্যবস্থার পতন হবে: পানাহি

    স্বর্ণপামজয়ী ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ডিসেম্বরে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন ইরানের একটি আদালত। সাম্প্রতিক দেশটিতে চলমান সহিংস আন্দোলনে ইরানের সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

    জাফর পানাহি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধের মুখে ইসলামী প্রজাতন্ত্র এখন যে পরিস্থিতিতে আছে সেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। তেহরানের নেতারা শতভাগ পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’ 

    গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশটিতে সহিংস আন্দোলনের জেরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্মাতা এসব কথা বলেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে পানাহি অভিযোগ করেন, ‘ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়ে কর্তৃপক্ষ বৃহৎ আকারের সহিংসতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে নিজেকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এই ইরানি নির্মাতার দাবি, তেহরানে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা কখনোই আশা করিনি বিষয়টা এই পর্যায়ে এসে পৌঁছাবে। পানাহি জোর গলায় বলেছেন, ইরানে বর্তমান সরকার ব্যবস্থার পতন হবে। 

    এদিকে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এক বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ইরানের একটি আদালত জাফর পানাহির উপর দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের সদস্যপদে যোগদানের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • কান চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী ইরানি পরিচালকের কারাদণ্ড, নেপথ্যে কি

    ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কান চলচ্চিত্র উৎসবের স্বর্ণ পাম জয়ী পরিচালক জাফর পানাহিকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। খবর এএফপির।

    জাফর পানাহির আইনজীবী মোস্তফা নিলির বরাতে দ্য হলিউড রিপোর্টার জানিয়েছে, কারাদণ্ডের পাশাপাশি জাফরকে দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। তাছাড়া যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের সদস্যপদে যোগদানের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। 

    পরিচালকের আইনজীবী মোস্তফা নিইলি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। কি কারণে পানাহির শাস্তি, এমন প্রশ্নের জবাবে তার আইনজীবী বলেছেন, পানাহির বিরুদ্ধে অভিযোগ রাষ্ট্রবিরোধী ‘প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকা। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে তিনি জানান, ইরানের বাইরে আছেন পানাহি।

    ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এ বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে পানাহি তার চলচ্চিত্র ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’–এর জন্য সর্বোচ্চ সম্মান পাম দ’র অর্জন করেন। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন পানাহি। আসন্ন অস্কারে ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ এর পক্ষে ক্যাম্পেইনে অংশ নিতেই তার এই ভ্রমণ। পানাহির অবর্তমানেই ইরান সরকার তাকে কারাদণ্ড দেয়ার কথা ঘোষণা করলো।

    ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’-এই চলচ্চিত্রটি ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এবারের অস্কারে অফিসিয়াল এন্ট্রি হিসেবে মনোনীত হয়েছে এবং মার্চের অস্কার আসরে সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার বিভাগে শর্টলিস্ট হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পানাহি ইউরোপের বিভিন্ন উৎসবে বহু পুরস্কার জিতেছেন। ১৯৯৫ সালে কান উৎসবে তার বিখ্যাত ছবি ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’ সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জেতে। ২০১০ সালে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে সমর্থন ও আধুনিক ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণের কারণে তাকে দেশত্যাগ ও চলচ্চিত্র নির্মাণে ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’র অভিযোগে তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তিনি মাত্র দুই মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

    নিষেধাজ্ঞার এক বছর পর তিনি কেকের ভেতর ইউএসবি ড্রাইভে লুকিয়ে কান উৎসবে পাঠান ‘দিস ইজ নট আ ফিল্ম’ নামের একটি ডকুফিল্ম। ২০১৫ সালে প্রকাশিত তার চলচ্চিত্র ‘ট্যাক্সি’ও ইরান সরকারের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই তৈরি। ওই সিনেমাতে তিনি নিজেই ট্যাক্সিচালক হিসেবে অভিনয় করেছিলেন, আর পুরো দৃশ্য একটি গাড়ির ভেতর ধারণ করা হয়।

    ২০২২ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তিনি আবারও গ্রেফতার হন এবং প্রায় সাত মাস কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পান। এই মুহূর্তে পানাহি তার নতুন সিনেমা ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিডেন্ট’-এর প্রচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বলে জানা গেছে। 

    বিনোদন ডেস্ক