Tag: আওয়ামী লীগ

  • লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের জ্যোতিকা

    টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচিত মুখ এবং আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ তারকাদের মধ্যে অন্যতম এক অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। যিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্ত এবং হোয়াটসঅ্যাপের ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। আর এ অভিনেত্রী এবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জ্যোতিকা জানান― দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, অনলাইনে হয়রানি ও কাজের সংকটে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত তিনি। আর একপর্যায়ে এ অভিনেত্রী বলেন, আমি আর পারছি না।

    জ্যোতিকা শুরুতেই বলেন, নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি বলেন, কোনো দুর্ঘটনার পর অনেক কথা বলি আমরা। কিন্তু যে মানুষটি এমন অবস্থার মধ্যে থাকে, তার কষ্ট শুধু তিনি নিজেই জানেন। আমি নিজেকে সবসময় শক্ত রাখার চেষ্টা করেছি, যা এখন আর পারছি না।

    তার দাবি―গত দুই বছর ধরে তেমন কোনো কাজ নেই তার। কিন্তু এই সময় নিয়মিত অনলাইনে হয়রানি, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। আর্থিক সংকটের কথাও জানান তিনি। বলেন, অনেক সময় মা-বাবার কাছ থেকে সাহায্য নিতে হচ্ছে, যা তাকে অধিকতর মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এ সময় জ্যোতিকা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও হয়রানি বেড়ে যায়। তার ভাষ্য, তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে একাধিক পক্ষের সমালোচনা, হুমকি এবং অনলাইন বুলিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন।রাজনৈতিক সংবাদ

    তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণ দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেননি। নানা সময় তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। যা তার জন্য খুবই কষ্টের। আর এসব ঘটনার প্রভাব তার পেশাগত জীবনে পড়ছে বলেও জানিয়েছেন জ্যোতিকা।

    এ অভিনেত্রীর দাবি, তাকে নিয়ে কাজ করতে এখন অনেকেই ভয় পান। এ কারণে তার পেশাগত জীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না। আবার আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবন একদম নরকের মতো হয়ে গেছে।

    এছাড়া লাইভের শেষ দিকে জ্যোতিকা বলেন, আমি হেল্পলেস। আমি দুঃখিত, এভাবে আমার দুর্বলতা প্রকাশ করতে হলো। কিন্তু আমার আর শক্তি নেই। মনে হচ্ছে, আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।

    এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে ঘিরেও আলোচনায় আসেন জ্যোতিকা জ্যোতি। সে সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তাকে অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়েছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আমি আ. লীগের সমর্থিত ছিলাম ও এখনো আছি: সিদ্দিক

    নিজেকে এখনো আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন মানুষ বলে জানিয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। তবে নিজেকে পেশাদার রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন না বলেও মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার (১২ মে) যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সিদ্দিকুর রহমান।

    তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন মানুষ। আমি ছিলাম না, আমি এখনো আছি— সত্যি কথা যেটা। কারণ আমি তো আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছি। আমি আওয়ামী লীগের দলীয় নমিনেশন পেপার চেয়েছিলাম, পাইনি।

    তবে মনোনয়নপত্র চাওয়ার বিষয়টি তাকে রাজনৈতিকভাবে দায়বদ্ধ করে না বলে জানিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান।

    তিনি বলেন, আমি যে দলটির দলীয় নমিনেশন পেপার চেয়েছিলাম, তাদের দায়ভারটা তো আমার উপরে আসবে না। কারণ ওতপ্রোতভাবে আমি প্রফেশনালি কোনো পলিটিশিয়ান না। তিনি বলেন, দিনশেষে আমি নাট্যকার, অভিনেতা এবং নির্মাতা সিদ্দিকুর রহমান।

    দেশের একজন নাগরিক হিসেবে তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার রয়েছে বলেও জানান এ অভিনেতা। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী কাজের সঙ্গে জড়িত না। আমি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত না। 

    তিনি বলেন, আমি কারও কোনো ক্ষতি চাইনি। আমার দ্বারা কারও ক্ষতি হয়নি কিংবা আমি বরং ওই জায়গা থেকে মানবতার সেবক হতে চেয়েছি। সেবকের জায়গা থেকে আমি কথা বলেছি।

    আওয়ামী লীগ মনোনয়নপত্র চাওয়া প্রসঙ্গে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পলিটিক্যাল জায়গা থেকে আমি কথা বলেছি। সেটুকু হলো যে, নমিনেশন পেপার যখন চেয়েছিলাম, আমি সেটার জন্য অনুতপ্ত একটা মাত্র কারণে। সেই কারণ হচ্ছে— ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ চলে যাওয়া এবং দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়াকে। তিনি বলেন, যেহেতু নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, আমি যেহেতু তাদের সমর্থিত একটা মানুষ, আমার মনে হয় কার্যক্রম নিয়েও আমার কথা বলা উচিত না। 

    এ অভিনেতা বলেন, কারণ সেটাও নিষিদ্ধ। অতএব আমি সেই ব্যাপারে তেমন কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটা আসলে যারা প্রফেশনালি রাজনীতি করেন, তাদের জন্য। আমি এখনো প্রফেশনাল রাজনীতিক না বলে জানান।

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রভাকে জড়িয়ে আ. লীগ নিয়ে ফেসবুকে ছড়ানো দাবিটি ভিত্তিহীন

    সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার নাম জড়িয়ে ‘আওয়ামী লীগ মানেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা এক অদম্য ফিনিক্স পাখি’ শিরোনামের একটি মন্তব্য অনলাইনে প্রচারিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যেটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

    ফ্যাক্টচেক

    রিউমার স্ক্যানার টিমের যাচাইয়ে দেখা গেছে, অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা ওই ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। বাস্তবে, কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই উক্ত মন্তব্যটি তার নাম ব্যবহার করে প্রচার করা হচ্ছে।

    প্রভা এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেছেন কি না—এ বিষয়ে রিউমার স্ক্যানার অনুসন্ধান চালায়। প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে খোঁজ নিয়ে গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য মেলেনি। পাশাপাশি অভিনেত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এমন কোনো বক্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

    পরে দাবিটির উৎস অনুসন্ধানে ‘দৈনিক আমাদের খবর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১০ এপ্রিল সকাল ৯টা ১ মিনিটে প্রকাশিত একটি পোস্টকে সম্ভাব্য প্রথম উৎস হিসেবে শনাক্ত করা যায়। পোস্টটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এতে কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য সূত্র উল্লেখ ছাড়াই বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।

    অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি কোনো সূত্র ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে; যা পরবর্তীতে আসল দাবিতে ব্যাপকভাবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

    সুতরাং, ‘আওয়ামী লীগ মানেই ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠা এক অদম্য ফিনিক্স পাখি।’ শীর্ষক মন্তব্যটি অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা করেছেন দাবিটি মিথ্যা।

    যুগান্তর ডেস্ক

  • রাজপথের আওয়ামী লীগ অধিক শক্তিশালী ও জনপ্রিয়: রিচি সোলায়মান

    পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ জানা যাবে আজ। এই রায়ের আগে ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এই বিষয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। 

    তিনি লিখেছেন, ‘রাজপথের আওয়ামী লীগ অধিক শক্তিশালী ও জনপ্রিয়। আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন একদিন আগেই সফল করে ফেলেছে প্রতিপক্ষ। এটাই বোধসম্পন্ন লোকেদের রাজনীতি।’

    নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘এবার আওয়ামী লীগ যখন ফিরবে তখন রেডিমেড নেতামুক্ত লীগ আমরা দেখতে পাবো এটাই আশা করি। যারা চেটে নয়, খেটে ও মগজ দিয়ে রাজনীতি করবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ থেকে রাজপথের আওয়ামী লীগ অধিক শক্তিশালী ও জনপ্রিয়।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • সাকিবের বিষয়ে কী বলেছিল ডিবি? মুখ খুললেন মেঘনা আলম

    বিতর্কিত মডেল মিস আর্থ ২০২০ মেঘনা আলম বলেছেন, গোয়েন্দা পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বলেছিল বাংলাদেশকে বিশ্বে একমাত্র সাকিব আল হাসান ব্র্যান্ডিং করছেন। নিজের এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান আলোচিত এ মডেল।    

     তিনি বলেন, আমার ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডিবি আমাকে জিজ্ঞেস করল, মিস বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন আসলে কী করে? কেন সরকারি সংস্থা, ডিপ্লোম্যাটিক প্ল্যাটফর্ম আর এম্বাসিগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখে? 

    মেঘনা আলম তখন বলেন, ৮ বছর বয়স থেকে বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে আর বিদেশ ভ্রমণ করে আমি বুঝেছি- বিশ্ববাসী হয় বাংলাদেশকে চিনেই না, নয়তো আমাদেরকে শুধু দারিদ্র্য, বন্যা, ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ, পিছিয়ে পড়া দেশ হিসেবে দেখে। আর মনে করে আমরা সবসময় আমাদের প্রতিবেশী ভারতের নিচে।  

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    কিন্তু আসল সত্যিটা হলো- 

    •  লন্ডনের বেশিরভাগ ‘ইন্ডিয়ান’ রেস্টুরেন্ট? আসলে বাংলাদেশিদের।
    •  দুনিয়ার বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড? তাদের পোশাক তৈরি হয় বাংলাদেশে।
    •  আমাদের সংস্কৃতি? ফ্যাশন, গ্ল্যামার, সৌন্দর্য, আধ্যাত্মিকতা, খাদ্য আর সম্প্রীতির রঙিন মিশেল।
    •  আমাদের মানুষ? বহুভাষিক, উদ্যোক্তা, অভিযোজনক্ষম।

    তাই আমার কাজ হলো বাংলাদেশকে নতুনভাবে পরিচয় করানো, ‘পজিটিভ রিব্র্যান্ডিং’ করা, সিম্প্যাথি চাইতে নয়, বরং সমান মর্যাদার দেশ হিসেবে দাঁড় করানো। 

    আমি চালাই এক ধরনের ‘অল্টার-ডিপ্লোম্যাসি’ এসডিজি-সমন্বিত নারী নেতৃত্বের প্ল্যাটফর্ম।  

    মেঘনা আলম বলেন, ডিবি আমার কথা শুনে বলেছে- এসব অর্থহীন, কেননা একমাত্র সাকিব আল হাসান বিশ্বে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করছে।  

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আপনার এগুলো করার তো দরকার নেই কোনো। বাংলাদেশের সব ব্র্যান্ডিং তো সাকিব আল হাসান করে ফেলছে। পুরো দুনিয়া ওকে চেনে এটাই বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট। 

    মেঘনা বলেন, তখন আমি ভাবছিলাম- আমেরিকাকে যদি কেউ বলে, তোমাদের সিলিকন ভ্যালির দরকার নেই, তোমাদের তো বিয়ন্সে আছে, বা ফ্রান্সকে বলে তোমাদের ডিপ্লোম্যাসি লাগবে না, এমবাপ্পে তো আছেই, তাহলে কেমন লাগবে?  

    যুগান্তর ডেস্ক

  • রাজনীতিতে জড়িয়ে হারিয়ে যাচ্ছেন শিল্পীরা, প্রতিকার নিয়ে যা বলছেন সংশ্লিষ্টজনরা

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। এরপর ক্ষমতার পালাবদলে পরিবর্তন হতে দেখা গেছে অনেক কিছু। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের মতো বিনোদন জগৎও এ নিয়ে অস্থির সময় পার করছে। 

    প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিচয় ও আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা থাকায় অনেক শিল্পী পড়েছেন সংকটে। বিশেষ করে যারা প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার গণহত্যায় সমর্থন দিয়েছেন, আন্দোলন চলাকালীন ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, তারাই আজ বিপাকে। যদিও এদের কেউ কেউ ভোল পালটে বর্তমান স্রোতের সঙ্গে মিশে গেছেন, তবু বড় অঙ্কের শিল্পী কিন্তু আড়ালে। কেউ কেউ হয়েছেন গ্রেফতার। মিডিয়ার ইতিহাসে শিল্পীদের এ করুণ দশা এর আগে আর ঘটেনি। 

    কারণ, শিল্পীদের রাজনীতি চর্চা করাটা নতুন নয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এমন চিত্র দেখা গেছে। কিন্তু আওয়ামী ঘনিষ্ঠ শিল্পীরা লেজুড়বৃত্তি রাজনীতিতে এতটাই বুঁদ ছিলেন যে, ভুলে গিয়েছিলেন শিল্পের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ। দলকানা হিসাবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বিবেকবোধ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতার লোভে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে আজ অনেককেই। আজ এদের অনেকের হাতেই নেই কোনো কাজ। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নেই সরব উপস্থিতি। প্রকাশ্য রাজনীতি চর্চার কারণে এদের অনেকেই হচ্ছেন হামলা-মামলার শিকার, আবার কেউ হচ্ছেন নিন্দিত। 

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে ক্ষমতার রাজনীতি। জনকল্যাণের রাজনীতি খুব কমই হয়েছে। এ কারণে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যারা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকেন, তারা ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিগৃহের শিকার হন।’

    সম্প্রতি প্রায় দুই ডজনের বেশি শিল্পীর নামে হয়েছে মামলা, আবার অনেকেই গ্রেফতার হয়ে রয়েছেন কারাগারে। এসব শিল্পীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযোগ গৃহীত হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর, মামুনুর রশীদ, সুবর্ণা মুস্তাফা, মমতাজ বেগম, চঞ্চল চৌধুরী, ফেরদৌস, অরুণা বিশ্বাস, শামীমা তুষ্টি, মেহের আফরোজ শাওন, নুসরাত ফারিয়া, চিত্রনায়ক রিয়াজ, জায়েদ খান, অপু বিশ্বাস, আশনা হাবিব ভাবনা, আজিজুল হাকিম, নিপুণ, শমী কায়সার, সাজু খাদেম, জ্যোতিকা জ্যোতি, সোহানা সাবা, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, তানভীন সুইটি, জাকিয়া মুন, সাইমন সাদিক, রোকেয়া প্রাচী, তারিন জাহান, সিদ্দিকুর রহমানসহ অনেকেই। এদিকে জনগণের রোষানলে পড়ে হামলার শিকার হয়েছেন এমন কয়েকজন শিল্পীও রয়েছেন। 

    বিষয়গুলো নিয়ে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে শিল্পীর ওপর হামলা বলে প্রতিবাদও জানাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্টজনরা বলছেন, ‘যেসব শিল্পীর ওপর হামলা হয়েছে, সেটাকে ‘শিল্পীর ওপর হামলা’ না বলে তিনি যে দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেই দলের কর্মী বা নেতানেত্রী উল্লেখ করা উচিত।’

    এদিকে অনেকেই বলছেন, সমাজের আয়না হচ্ছেন শিল্পীরা। কিন্তু তারা যখন রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, তখন সেই আয়নায় দাগ পড়ে। গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে বহু নামকরা শিল্পী রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়েছেন। কেউ সরকারবিরোধী মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছেন, কেউ আবার দলীয় কোন্দলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতি তাদের ক্যারিয়ার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

    বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে শিল্পীদেরও উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন নেটিজেনদের অনেকে। তাদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো দলের হয়ে কাজ করা, রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়ানো কোনো শিল্পী নিরপেক্ষ থাকতে পারেন না। তবে শিল্পীদের রাজনৈতিক দর্শন থাকাটা দোষের কিছু নয়ও বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

    এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম গণমাধ্যমে বলেন, ‘সক্রিয় রাজনীতি শিল্পীদের কাজ নয়। শিল্পী হবেন সার্বজনীন। তিনি তার শিল্পকর্মটা ঠিকমতো করবেন। এটাও ঠিক, মানুষ যখন কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করেন, তিনি নিরপেক্ষ হতে পারেন না। কোনো না কোনো পক্ষের প্রতি তার সমর্থন থাকেই। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা যেন অন্ধের মতো না হয়।’

    এদিকে রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও অনেক শিল্পী ব্যক্তিগত ইস্যু ঘিরেও মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়েছেন। যা কমিয়ে দিচ্ছে কাজের গতি। ছিটকে পড়ছেন মিডিয়া থেকে। এভাবেই রাজনৈতিক চাপ, সামাজিক হয়রানি এবং ব্যক্তিগত দুর্ভোগ মিলে মিডিয়া থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন অনেক প্রতিভাবান শিল্পী। তাতে করে নাটক কিংবা সিনেমায় এখন দেখা দিচ্ছে শিল্পী সংকট। এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন তারকাশূন্য হয়ে পড়বে। তাই শিল্পীদের শিল্পকর্মেই বেশি মনোনিবেশ করাটাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    রিয়েল তন্ময়

  • ‘মুরগির মতো প্রাণ বাঁচিয়ে বিড়ালের মতো বেঁচে থাকুন’, কাকে বললেন চমক

    জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে থেকেই তিনি রাজপথে ছাত্রদের সঙ্গে একযোগে ছিলেন।

    এ কারণে অভিনেত্রী মনে করেন, যদি ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন না ঘটতো, তাহলে আন্দোলনকারীদের অনেক আগেই দেশদ্রোহিতার অভিযোগে নিশ্চিহ্ন করা হতো।

    শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন এবং আওয়ামী সমর্থকদের সরাসরি সতর্ক করে দেন।

    চমক লিখেছেন, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা এক নয়। দুটিকে একাকার করে ফেলবেন না।

    জীবন নিয়ে অভিনেত্রী আর ভয় করেন না জানিয়ে বলেন, স্বৈরাচার সরকার ৫ অগাস্ট পতন না হলে, আমরা যারা আন্দোলনে নেমেছিলাম তাদের দেশদ্রোহীতার অপরাধে এতদিনে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতেন। সেই ভয় জেনেও আমরা নেমেছিলাম রাস্তায়। তাই জীবনের ভয় আমরা করি না।

    চমক আরও লেখেন, মৃত্যু নিশ্চিত সামনে আসলেও যেটা ন্যায় সেটাকে ন্যায়ই বলব, যেটা অন্যায় সেটাকে অন্যায়। তাই যারা এখনো ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন, তারা দুইটা ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুম দেন। নিজেরা মুরগির মতো প্রাণ বাঁচিয়ে আজীবন বিড়ালের মতো বেঁচে থাকুন। আমরা বাঘের মতো একদিন বেঁচে থাকতে পারলেও গর্বিত, ধন্যবাদ।

    অনলাইন ডেস্ক

  • ‘তাপস যদি বিপদগামী হয়েই থাকে তার জন্য হাসিনা দায়ী’

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্র করে জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গান বাংলার প্রধান নির্বাহী কৌশিক হোসেন তাপসকে। গত সোমবার উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান তাপসকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে তাপসকে গ্রেফতারের ব্যাপারে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তার মা মেহের নিগার চঞ্চল। একই সঙ্গে অপরাজনীতি নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।

    যদিও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরাপূর্ব থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু শুনানির সময় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় শুনানির তারিখ পেছানোর আবেদন করে পুলিশ। পরে তাপসের রিমান্ড ও জামিন শুনানির জন্য বুধবার (৬ নভেম্বর) ধার্য করেন আদালত।

    এদিকে তাপসের মা বলেন, ২০১২ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামে একটি গানের অনুষ্ঠান থেকে তাপসকে তুলে নেওয়া হয়।  তারপর থেকে এই ১২ বছরে পাঁচ মিনিট করে ১২ বারও তার দেখা পাইনি আমি। সেই তখন থেকে শেখ হাসিনা সরকার আমাকে একা করে দিয়েছে। ওই সময় তাকে তুলে নেওয়ার এক বছর পর যেখানে পেয়েছি, তা আর বলতে চাই না।

    মেহের নিগার বলেন, অপরাজনীতির জন্য ১৯৭৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নেই আমি। এ ছাড়া হত্যা মামলার ব্যাপারে তাপসের মা বলেন, এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে তাপস জড়িত না। আর যতটুকু শেখ হাসিনার সঙ্গে জড়িত, আমি বলব— সে যদি বিপদগামী হয়েই থাকে তার জন্য শেখ হাসিনা দায়ী।

    উল্লেখ্য, ইশতিয়াক মাহমুদ নামে একজন ব্যবসায়ী হত্যাচেষ্টার একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে থেকে গান বাজনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ক্যাডারদের উৎসাহ ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করে গান বাংলার তাপস।

    গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আসামিদের ছোড়া গুলিতে বাদীর পেটে গুলি লাগে। গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে থেকে অপারেশনের মাধ্যমে তার পেটের গুলি বের করা হয়। এ ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইশতিয়াক মাহমুদ বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ১২৬ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় তাপস এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • তোমাদের উচিত প্রকাশ্যে আসা: ওমর সানী

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যেসব শিল্পী ও কলাকুশলী আত্মগোপনে রয়েছেন, তাদের প্রকাশ্যে আসার বার্তা দিয়েছেন নব্বই দশকের ঢালিউড তারকা অভিনেতা ওমর সানী।

    মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তায় সিনেমার শিল্পীদের আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। যেখানে ওমর সানী বলেন, তোমাদের যে অপরাধ, মনে হয় না এর জন্য ফাঁসি হবে। তাই তোমাদের উচিত প্রকাশ্যে আসা। 

    প্রায় সাড়ে চার মিনিটের ওই ভিডিওর শুরুতেই ওমর সানী বলেন, ‘যারা আমার ফিল্ম আর্টিস্ট, তাদের নিয়ে আজকে কথা বলব এবং যারা সংগীতের আর্টিস্ট। সরকার পতনের পর যারা পালিয়ে আছ, লুকান্তরে আছ, তাদের উদ্দেশে এই কথাগুলো বলছি।’

    এ অভিনেতা বলেন, তোমাদের পালিয়ে থাকার তো দরকার নেই। তোমরা দল করেছ, দলের সঙ্গে জড়িত ছিলে। মাঝেমধ্যে কিছু পকপক করেছ, এই যা। মার্ডার তো করনি, মার্ডার করছ? তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করছ? জানি না। আমার মনে হয় পালিয়ে থাকার চেয়ে প্রকাশ্যে এসে কথা বলা উচিত। ওমর সানী বলেন, কিছু মানুষ গালি দেবে, সেটি সহ্য করতে হবে। কিছু মানুষ বিদ্রূপ করবে, কিন্তু তোমাদের ভুলগুলো দোষগুলো স্বীকার করতে হবে।

    ওমর সানী আরও বলেন, ‘পালিয়ে না থেকে আমার মনে হয় প্রকাশ্যে এসো, তোমরা বলো যে— আমরা অমুকটা করেছি, যা ঠিক হয়নি। অপরাধ করে থাকলে বিচার হবে, বড়জোর কিছু দিন রিমান্ডে থাকতে পারো। আমার তো মনে হয় না তোমাদের যে অপরাধ, তার জন্য ফাঁসি হবে। যারা কাপুরুষ, তারা পালিয়ে থাকে। তোমরা শিল্পীরা কেন পালিয়ে থাকবা!

    ফিল্ম আর্টিস্টদের নিয়ে এ অভিনেতা বলেন, আমার ফিল্মের সহকর্মী, আর্টিস্ট টেকনিশিয়ানস— তোমরা যারা পালিয়ে আছ, তোমাদের তো পালিয়ে থাকার দরকার নেই। প্রকাশ্যে আসো। দরকার হলে জেলে যাও। জেলে তো রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি থেকে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ; অনেকেই যায়। পালিয়ে থাকার চেয়ে জেলখানায় থাকাও ভালো। সেজন্যই বলি— পালিয়ে থাকার চেয়ে প্রকাশ্যে এসে মানুষের সঙ্গে কথা বলো। ধরা দাও, দরকার হলে জেলে যাও। তিনি বলেন, আমার দৃষ্টিতে এটাই বলে— কার দৃষ্টিতে কী বলবে আমি জানি না। আমার কাছে মনে হয়েছে, তোমাদের উদ্দেশে এটা বলা উচিত; আমি বললাম এবং প্রকাশ্যেই বললাম, কে কী ভাবছেন তা জানি না।

    ওমর সানী বলেন, একটা জিনিস তো সত্য, যে যে লাইনের মানুষ, সেই লাইনের মানুষের প্রতি তার তো একটা সফট কর্নার কাজ করেই। আমরা কেউ দোষের ঊর্ধ্বে না। আমরা মহামানবও না, আমরা নবীও না, আমরা কোনো ওলি-আল্লাহ বা দরবেশও না, শয়তানও না। আমরা নবীর উম্মত। আমাদের দোষ থাকতে পারে, কেউ দোষের ঊর্ধ্বে না। তাই বলে লুকিয়ে থেকে লাভ নেই। প্রকাশ্যে এসে সবার সঙ্গে মিশো এবং নিজের ভুলটা অনুভব কর।

    বিনোদন ডেস্ক

  • একাত্তরে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন ফারুকী

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই সরব ছিলেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।ওই সময় থেকে বিগত আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন অন্যায় ও নৈরাজ্যের বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন এই নির্মাতা।

    এরই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফারুকী।

    সোমবার আবরার ফাহাদ হত্যার পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে তার বাবা ও বুয়েট শিক্ষার্থীদের দুটি ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন ফারুকী। সেখানে ‘কে পক্ষ, কে বিপক্ষ?’ শিরোনামে ফারুকী লিখেছেন, ‘এই যে ছবিটাতে আবরার ফাহাদের বাবাকে দেখতে পারছেন, তার চেহারার প্রত্যেকটা ভাঁজের দিকে তাকান। যে বেদনা, বিস্ময়, হতাশা দেখতে পান সেই একই হতাশা আর বেদনা হলের বারান্দায় দাঁড়ানো ছাত্রদের বডি ল্যাংগুয়েজেও দেখবেন। এই বেদনাই পরবর্তীতে ক্ষোভ হয় এই কয় বছরে। ফলে আবরার না থেকেও এই অভ্যুত্থানে ছিলেন।’

    এই নির্মাতা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ১৯৯১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের ন্যারেটিভ যে আর দোয়ানো যাচ্ছে না, এর কারণ হচ্ছে জনগণ দেখতে পাচ্ছে একাত্তরের আগে আইয়ুব খানের পান্ডা সংগঠন এনএসএফ যে ভূমিকায় ছিল, এই সময়ে ছাত্রলীগ চলে গেছে সেই ভুমিকায়। একাত্তরের জামায়াতের ভূমিকায় চলে গেছে আওয়ামী লীগ। যে দলটা একাত্তরে ছিল জনগণের পক্ষে, এই সময়ে এসে তাদের অবস্থান বিপরীত দিকে।’

    স্বাধীনতার পক্ষ মানেই চিরকাল তাকে স্বাধীনতার পক্ষ বলা যাবে- এমনটা নয় উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আবরার ফাহাদের ঘটনাটা একটা উদাহরণ, একমাত্র না; যেটা দিয়ে আপনি বুঝবেন এককালের স্বাধীনতার পক্ষ মানেই চিরকাল তাকে স্বাধীনতার পক্ষ বলা যাবে তা না। বরং ইতিহাসের পরিহাসে স্বাধীনতার পক্ষ হয়ে যেতে পারে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি। ইতিহাসের এক ট্র্যাজিডিই এটা বটে।’

    যুগান্তর ডেস্ক