Home / Entertainment / বরাবরের মতোই ইত্যাদি ছিল উপভোগ্য

বরাবরের মতোই ইত্যাদি ছিল উপভোগ্য

বরাবরের মতোই ইত্যাদি ছিল উপভোগ্য
ছবি: যুগান্তর

গত তিন দশক ধরেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি ধারণ করছেন নন্দিত নির্মাতা হানিফ সংকেত। আর এজন্য দেশের আনাচে কানাচে ছুটে বেড়াচ্ছে ইত্যাদির টিম। তুলে ধরছে অজানা অদেখা বিষয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রচারিত নেত্রকোণার অনুষ্ঠানটিও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

নেত্রকোণায় যে এত নৈসর্গিক দৃশ্য-হাওর-বাঁওড়, কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব, অসাধারণ সব সাংস্কৃতিক স্থাপনা রয়েছে ইত্যাদির এ পর্বটি না দেখলে দর্শকরা তা জানতেই পারতেন না। বাউল সাধক উকিল মুন্সির স্মৃতিস্তম্ভ, কবিগুরুর একান্ত সহচর শৈলজারঞ্জন মজুমদারের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কবি নির্মলেন্দু গুণ ও প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমদের পৈতৃক ভিটা- সবকিছুই হানিফ সংকেত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই কয়েকশত নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত নৃত্যটি ছিল বর্ণাঢ্য। দুই পালাকার কুদ্দুস বয়াতি ও ইসলাম উদ্দিন পালাকারের ভিন্ন রূপে সংগীত উপস্থাপন- এসবই ইত্যাদির বৈশিষ্ট্য। সোমেশ্বরী নদীর মহাশোলের গল্প কে না শুনেছে কিন্তু দেখেনি কেউ। নেত্রকোণার ইত্যাদিতে মানুষের সেই স্বাদও মিটিয়েছেন হানিফ সংকেত।  ট্রেনে পাথর ছোড়ার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিষয়টি ছিল প্রশংসনীয়। 

এবারের প্রায় প্রতিটি নাট্যাংশই ছিলো অত্যন্ত বাস্তবধর্মী। টেলিভিশন নিয়ে করা নাটিকা, খাবারের সেলফি তোলার জন্য নিজের সন্তানকে খেতে না দেয়া, ছোটরা অভিভাবকদের ভুল ধরা, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্স্টফুডের দোকানের সংখ্যা বাড়া, পরিবেশগত কারণে শরীরে বিভিন্ন রোগব্যাধি হওয়া- প্রতিটি বিষয়ই যেন মানুষের মনের কথা। দীর্ঘদিন পর শব্দ সৈনিক মলয় কুমার গাঙ্গুলীকে দেখে দর্শক মনে ভালোলাগার সৃষ্টি হয়েছে। 

অনুষ্ঠানের শেষে ছিল মুক্তির বন্ধু অমলেন্দু কুমার দাশের উপর একটি চমৎকার প্রতিবেদন। এবারের পর্বে উপস্থিত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকার যথার্থই বলেছেন, ‘ইত্যাদি যে অত্যন্ত চমৎকার একটি অনুষ্ঠান এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু ইত্যাদিতে যে বক্তব্যগুলো বলা হয়, সেইগুলি কতজন ধারণ করতে পারে সেই ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে। এই বক্তব্যগুলো যাতে ধারণ করতে পারে সেজন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যদি পরিবর্তন না আসে তাইলে এটা হবে না।’

আনন্দনগর প্রতিবেদক

সূত্র: যুগান্তর

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *