
টালিউড পরিচালক রাজর্ষি দে পূজার আগে স্বস্তিতে। টানা ছয় মাস ধরে আইনি টানাপোড়েন চলছিল। মার্চ মাসে প্রযোজক অরিন্দম ঘোষ ও অভিনেতা-প্রযোজক প্রিয়াংকা ভট্টাচার্য তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা এবং অভিনেত্রী নুসরাত জাহানের সই জালের অভিযোগ এনেছিলেন। অবশেষে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক রাজর্ষি জানিয়েছেন, যাবতীয় অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আদালত তাকে সসম্মানে মামলা থেকে রেহাই দিয়েছেন। পরিচালক বলেন, শুরু থেকে বলে আসছি— আমি আর্থিক প্রতারণায় জড়িত নই। নুসরাত কেন, কারও সই নকল করিনি। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বাস করেনি। তিনি বলেন, সেই সময় এ রকমও রটেছিল, তিনি নাকি বাংলা বিনোদন দুনিয়ার বহু খ্যাতনামার প্রাপ্য টাকা দেননি।
রাজর্ষি বলেন, কারও কোনো কথার প্রতিবাদ সেদিন করিনি। আইনের ওপরে ভরসা রেখেছিলাম। আমার হয়ে জি বাংলা মামলা করেছিল। আইনের চোখে প্রমাণিত, আমি নির্দোষ। এই দিনটির অপেক্ষাতেই ছিলাম।
সেই সময় ছবির ১০ দিনের শুটিং হয়ে গিয়েছিল। চার দিনের কাজ বাকি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ৮০ লাখ টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগ আনেন সিনেমার দুই প্রযোজক অরিন্দম ও প্রিয়াংকা। তাদের দাবি— নিজেকে বাঁচাতে পরিচালক নায়িকার সই-ও জাল করেছেন।
এ প্রসঙ্গে আনন্দবাজারকে প্রযোজক অরিন্দম ও প্রিয়াংকা বলেছিলেন, রাজর্ষিদা আমাদের জি বাংলা ও জি টিভির সঙ্গে ছবি নিয়ে তার চুক্তিপত্র দেখান। সেই চুক্তি অনুযায়ী, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ রাজর্ষিদার মোট ছয়টি ছবি কিনবেন। সেই ছয়টি ছবির অন্যতম একটি ‘ও মন ভ্রমণ’। এই ছবির মোট বাজেট ১ কোটি ৮৫ লাখ। ছবিমুক্তির পর ব্যবসা দেখে খরচের ৮৫ শতাংশ অর্থ জি আমাদের ফেরত দেবে। খুব ভালো ব্যবসা করলে পুরো অর্থই ফেরত পাব আমরা। প্রিয়াংকা-অরিন্দম এর পরে অর্থলগ্নিতে রাজি হয়ে যান। তারা প্রথমে ১০ লাখ টাকা নগদ দেন। বাকিটা চেকে দিতে থাকেন।
তাদের অভিযোগ— পরিচালক নাকি পুরো টাকা একবারে পেতে চেয়েছিলেন। প্রযোজকরা তাতে রাজি না হয়ে ভাগে ভাগে টাকা দিতে থাকেন। এদিকে পরিচালকও নাকি কিছু দিন অন্তর টাকার জন্য তাড়া দিতে শুরু করেন। এভাবে মোট ৮০ লাখ টাকা খরচের পর প্রযোজকদের সন্দেহ হওয়ায় তারা পরিচালকের কাছে খরচের হিসাব জানতে চান। কিন্তু রাজর্ষি তা জানাতে রাজি হননি! শুরু হয় প্রযোজক-পরিচালক কাজিয়া।
এ প্রসঙ্গেও সোমবার নিজের বক্তব্য জানান রাজর্ষি। তিনি বলেন, কখনো অস্বীকার করিনি— প্রযোজকদের থেকে ৮০ লাখ টাকা নিয়েছি। সেই টাকা ছবি তৈরির খাতেই খরচ হয়েছে। এবার প্রযোজকদের কাছে আর টাকা না-ও থাকতে পারে। কিংবা তারা আর টাকা না-ও দিতে চাইতে পারেন। সেটি অন্য বিষয়।
এভাবে পরিচালকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনতে পারেন কি? উত্তরে পরিচালক বলেন, গত ছয় মাস ধরে তদন্ত করেছে পুলিশ। তারপরও সই জালের এ অভিযোগের কোনো হদিশ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, জি বাংলা চ্যানেলের লেটারহেডে যে নথি দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেটিও ভুয়া। সেটি প্রমাণ করতেই চ্যানেল কর্তৃপক্ষ পরিচালকের হয়ে মামলা করেছিলেন। যে ছবি কেন্দ্র করে এত দড়ি টানাটানি, তার ভবিষ্যৎ কী? রাজর্ষির বলেন, ছবি শেষ করব। প্রযোজকদের ৮০ লাখ টাকাও শোধ করব। তবে ওরা আর এ ছবির কেউ নন। এটা ঠিক, সব অভিনেতা তাদের পাওনা অর্থ পাননি। কারণ ছবির শুটিং এখনো বাকি।
বিনোদন ডেস্ক





