
দীর্ঘদিন পর আবার বাংলা সিনেমায় ‘বালিকা বধূ’। বাঙালি দর্শকদের যেন আহ্লাদের সীমা নেই। কত বছর পর ফিরলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়? ‘আড়ি’ সিনেমা দেখতে দেখতে সেই হিসাব করার ফাঁকেই অনুরাগীদের কৌতূহল— অভিনেতা যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে অভিনেত্রীর সমীকরণ কেমন তৈরি হলো?
নিছক দুই প্রজন্মের দুই অভিনেতা-অভিনেত্রী তারা? না কি সেসব পেরিয়ে পর্দার মতো বাস্তবেও মা-ছেলের সম্পর্কে বাঁধা পড়লেন? মৌসুমী যেমন বড় মেয়ে পায়েলকে হারিয়েছেন, যশও তো মাতৃহারা।—এই প্রশ্ন নিয়ে নায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল একটি গণমাধ্যম। সেখানে এক সাক্ষাৎকারে সম্পর্ক যে তৈরি হয়েছে, সে কথা অস্বীকার করেননি যশ দাশগুপ্ত।
অভিনেতা বলেন, বিনোদন দুনিয়ার রীতি— শুটিং শেষ সম্পর্ক শেষ। যে যার মতো ফিরে যাই নিজের ডেরায়। কিন্তু মৌসুমীদির ক্ষেত্রে বিষয়টি বোধহয় অন্য রকম হতে চলেছে। আমাদের সম্পর্কটা মনে হচ্ছে, এখানেই ফুরিয়ে যাওয়ার নয়।
যশ বলেন, তিনি কোনো দিন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াত কন্যা পায়েলের জায়গা নিতে পারবেন না। অভিনেত্রীও পারবেন না তার মায়ের জায়গা নিতে। তবু যেন অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে বাঁধা পড়েছেন উভয়েই।
বলতে বলতে অভিনেতা ফিরে গেলেন শুটিং শুরুর দিনগুলোতে। জানালেন, একটু ভয়ে ভয়েই গিয়েছিলেন ষাট-সত্তরের দশকের সাড়া জাগানো বাংলা-হিন্দি সিনেমার নায়িকার কাছে। দ্বিধায় ছিলেন তিনি, মৌসুমী রাজি হবেন তো?
যশ বলেন, আমরা ওর কাছে মায়ের চরিত্র নিয়ে গিয়েছিলাম। উনিও একজন মায়ের চোখ দিয়ে চরিত্রটিকে বিচার করেছেন। চিত্রনাট্য শুনেছেন। তারপর এক কথায় রাজি হয়ে গেছেন। অভিনেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কিছুই করেননি।
সেই থেকে কলকাতায় বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর অভিভাবক যশ। অভিনেত্রীর ছোট মেয়ে শহরে মাকে ছাড়তে এসেছিলেন। তিনি যশের হাত ধরে বলে গিয়েছিলেন— মাকে তোমাদের জিম্মায় ছেড়ে যাচ্ছি। নিজেদের মা মনে করে যত্ন নিও। সামলে রেখ। কাজ ফুরোলে আবার মাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিও।
অভিনেতা বলেন, সেদিন থেকে তিনি মৌসুমীর ছেলে, অভিনেত্রী তার মা। কাঁধে গুরুদায়িত্ব এসে পড়ল। বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে নয়, একজন মাকে সুস্থভাবে তার সন্তানের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
তাই সেটে এবং সেটের বাইরে যশ মৌসুমীর ২৪ ঘণ্টার ‘স্থানীয় অভিভাবক’। সেটেই রান্না হয়েছে শুক্তো থেকে মাছে ঝোল। মৌসুমী তৃপ্তি করে খেতেন। একবার তালের বড়া খাওয়ার বায়না করলেন মৌসুমীদি। আমাদের সেটের ঠাকুর তাল এনে, চেঁছে, বড়া ভেজে খাওয়ালেন। খেয়েদেয়ে ছেলেমানুষের মতো খুশি।
আবার বেগতিক দেখলে ‘মা’কে শাসনও করেছেন। যাতে শরীর খারাপ না হয়। শনিবার ফের মুম্বাই উড়ে গেলেন মৌসুমী। পর্দার ছেলে-ছেলের বউ কলকাতা বিমানবন্দরে ছাড়তে এসেছিলেন তাকে। মনখারাপ?—এমন প্রশ্নের উত্তরে যশ বললেন, তা তো একটু হবেই।
ইদানীং বাংলা সিনেমায় পুরোনো দিনের অভিনেতাদের রমরমা। বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী থেকে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ে শর্মিলা ঠাকুর, রাখি গুলজার, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। এই প্রজন্মের অভিনেতারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে যশ বলেন, বিষয়টি আমি এভাবে দেখি না। কারণ অভিনেতাদের অবসর বলে কিছু নেই। যে কোনো বয়সে তারা অভিনয় করতে পারেন। আর ওরা ফিরছেন বলে ওদের সময়ের দর্শকরাও হলে ফিরছেন। এই শ্রেণির দর্শকরা মাঝে কিন্তু বাংলা সিনেমা দেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন।
পাল্টা প্রশ্ন যশও করেছেন— এবার বলুন, পুরোনো দিনের অভিনেতারা ফিরলে ইন্ডাস্ট্রির লাভ না লোকসান?
বিনোদন ডেস্ক





