
অভিনেতা মামুনুর রশীদকে কিছুদিন মঞ্চে অভিনয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ। এ পরামর্শের পেছনে দেশের ‘বর্তমান বাস্তবতাকে’ কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
অভিনেতাকে এমন পরামর্শ দিয়ে রীতিমতো তোপের মুখে পড়েছেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক। নাট্যকর্মীদের অনেকেই তার এ আচরণের নিন্দা জানিয়ে সরব হন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এ ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। রোববার সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন- ‘মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি স্লোগানের বিরোধিতা করেছেন, তিনি শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প নিয়ে ‘বাহাস’ এর বিরোধিতা করেছেন।
‘কিন্তু এটাও তো ঠিক যে, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শরিক হয়েছিলেন, তিনি বিভিন্ন সময় ফুলবাড়ি, সুন্দরবন আন্দোলনের পক্ষে কথা বলেছেন। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে নাট্যকার, অভিনেতা, সংগঠক হিসেবে তিনি বাংলাদেশের নাট্যজগতে খুবই শক্তিশালী এক ব্যক্তিত্ব।’
এ বিষয়ে মামুনুর রশীদ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রাঢ়াঙ নাটকটিতে আমি যেন ‘কিছুদিন অভিনয় না করি’, সেটি আমাকে বলেছেন শিল্পকলার মহাপরিচালক।
তিনি আরও বলেন, ‘সৈয়দ জামিল আহমেদ একই সঙ্গে যেমন ব্যক্তি, আবার তিনি শিল্পকলার মহাপরিচালকও। ফলে তিনি যখন শিল্পকলাকেন্দ্রিক কোনো বিষয়ে আমাকে ফোন করেন, তখন সেটি তো মহাপরিচালকের জায়গা থেকেই বলেছেন বলে ধরে নেব।’
এ ব্যাপারে জামিল আহমেদ বলেন, ‘মামুনুর রশীদ আমার কাছে ভীষণ সম্মানের জায়গায় আছেন। তাকে নিষিদ্ধ করার আমি কে? আমি কেবল পরিস্থিতি জানানোর জন্য তাকে ফোন করেছিলাম। জুলাই আন্দোলনের সময় মামুনুর রশীদসহ কয়েকজন একটা বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে কিছু লোক তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। মামুনুর রশীদের মতো একজন গুণীশিল্পী যেন কোথাও অসম্মানিত না হন, এজন্য ব্যক্তিগত জায়গা থেকে তাকে পরিস্থিতিটা বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চেয়েছি আরণ্যক প্রযোজিত ‘রাঢ়াঙ’ নাটকটি সারা দেশে মঞ্চায়ন হোক, এটি আমারও খুবই পছন্দের নাটক। সম্প্রতি ‘নিত্যপুরাণ’ নাটক নিয়ে যা হয়েছে, মামুনুর রশীদকে নিয়ে যেন এরকম কিছু না হয়। তার মতো গুণীশিল্পীকে ঘিরে কোনো রকম বিতর্ক যেন না আসে।’
বিনোদন ডেস্ক





