Tag: সামিরা হক

  • সামিরাকে বিয়েতে রাজি করাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন সালমান!

    বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক অমর নাম সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার আকস্মিক মৃত্যু এখনো রয়ে গেছে রহস্যে ঘেরা। তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন অভিনেতার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। 

    তার দাবি, সালমান শুধু আত্মহত্যা করেছেন তাই নয়, বিয়ের আগেও তিনি একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এর মধ্যে একবার সামিরাকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্যও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এই জনপ্রিয় নায়ক।

    ২০২৪ সালের সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামিরা জানান, ইমন (সালমান শাহ) মানসিকভাবে আত্মহত্যাপ্রবণ ছিল। আমাদের বিয়ের আগেই সে তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন- একবার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে, একবার আমাকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য, আরেকবার অন্য এক ঘটনায়। সামিরার দাবি অনুযায়ী, এসব ঘটনার রেকর্ড মেট্রোপলিটন হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে রয়েছে। 

    সালমান শাহ ও সামিরা হক ১৯৯২ সালে বিয়ে করেন। সাক্ষাৎকারে সামিরা আরও জানান, সালমানের শৈশব ও পারিবারিক জীবনে নানা মানসিক আঘাত ছিল, যা তার মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। 

    তিনি বলেন, ইমন অনেক কিছু দেখে বড় হয়েছে, যা ওর দেখার কথা ছিল না। সেই মানসিক চাপ থেকে ও কখনও বেরোতে পারেনি। এখন যেমন কাউন্সেলিং বা রিহ্যাবের সুযোগ আছে, তখন এসব ছিল না। তাই ওর ভেতরের কষ্টগুলো কেউ বুঝতে পারেনি।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সম্প্রতি, প্রায় ২৯ বছর পর নতুন করে মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক নীলা চৌধুরীর আবেদনের পর এই আদেশ দেন। সালমানের পরিবারের দাবি, পিবিআইয়ের আগের তদন্ত ছিল পক্ষপাতমূলক এবং অসম্পূর্ণ। 

    প্রসঙ্গত, মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর পর থেকে পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাব ও পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত চালালেও রহস্যের সমাধান হয়নি। নব্বইয়ের দশকে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’সহ পরপর হিট সিনেমা উপহার দিয়ে দেশের চলচ্চিত্রে রোমান্টিক হিরোর নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন সালমান শাহ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি কে এই আজিজ মোহাম্মদ ভাই?

    আজিজ মোহাম্মদ ভাই। যাকে নিয়ে আছে নানা গল্প ও রহস্য। আর এসব গল্পের বেশিরভাগই চলচ্চিত্র জগতের নারী ও হত্যা কেন্দ্রিক। দীর্ঘ ২৯ বছর পর জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলায় ১১ জন আসামির মধ্যে রয়েছেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই। হত্যা মামলায় প্রধান আসামি নায়কের স্ত্রী সামিরা হক। 

    আজিজ মোহাম্মদের নামের সঙ্গে ‘ভাই’ শব্দটি থাকার কারণে অনেকেই মনে করেন গডফাদার বলেই তাকে ভাই বলা হয়। সাধারণত মাফিয়া ডন বা গডফাদারদেরকে ভাই ডাকে তাদের অনুগতরা। কিন্তু আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের নামে ‘ভাই’ শব্দটি মূলত তাদের বংশপদবী। তাদের পরিবারের সবারই নামের শেষে ভাই পদবি আছে।

    এমনকি নারীদের নামের সঙ্গেও ভাই দেখতে পাবেন। তার বাবার নাম মোহাম্মদ ভাই। মায়ের নাম খাদিজা মোহাম্মদ ভাই। ১৯৪৭ এ ভারত ভাগের পর তাদের পরিবার ভারতের গুজরাট থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশে আসে।

    তাদের পরিবার মূলত পারস্য বংশোদ্ভূত। তারা ‘বাহাইয়ান’ সম্প্রদায়ের লোক। ‘বাহাইয়ান’ কে সংক্ষেপে ‘বাহাই’ বলা হয়। উপমহাদেশের উচ্চারণে এই ‘বাহাই’ পরবর্তীতে ‘ভাই’ হয়ে যায়।

    ধনাঢ্য এই পরিবার পুরান ঢাকায় বসবাস শুরু করে।

    ১৯৬২ সালে আজিজ মোহম্মদ ভাইয়ের জন্ম হয় আরমানিটোলায়। পারিবারিক সূত্রে আজিজ মোহাম্মদ ভাই নিজেও শুরু করেন ব্যবসা।

    দিনে দিনে বাড়তে থাকে তার অর্থ সম্পদ। ঢাকা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, সিঙ্গাপুরে রয়েছে তার হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসা। আবার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনি সার্ক চেম্বারের আজীবন সদস্য। কথিত আছে, ভারতের পলাতক ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ব্যবসার পাশাপাশি ৯০ এর দশকে আজিজ মোহাম্মদ ভাই এমবি ফিল্মসের ব্যানারে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসেন। চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা থেকে নাকি নায়িকাদের রূপের মোহে এবং কালো টাকা সাদা করতে নাকি শুধুই ব্যবসায়িক মানসিকতায় অথবা মিডিয়ার মনোযোগ কাড়তে প্রযোজনায় এলেন—সেটা নিয়ে চর্চা রয়েছে।

    তবে এসেই নিজের আধিপত্য বিস্তার করে ফেলেন তিনি। পরিচালক, অভিনেতা, অভিনেত্রী, মিডিয়া মালিক ও সাংবাদিকরা সমীহ করে চলত তাকে। ৫০টির মতো চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই। দেশের বিজ্ঞাপন জগতে গ্লামার আনতেও তার ভূমিকা ছিল। নিজের প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক ব্যাটারির ‘আলো আলো বেশি আলো’ বিজ্ঞাপনে মিতা নূরের ঝলমলে উপস্থিতি তখন বেশ নজর কেড়েছিল।

    এরশাদের আমলে তিনি গ্রেফতার হন। প্রচলিত আছে এক নারী নিয়ে দন্দ্বের কারণেই এরশাদ তাকে গ্রেফতার করিয়েছিলেন। চলচ্চিত্র নায়িকাসহ বিভিন্ন নারীর সঙ্গে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সম্পর্ক নিয়ে নানা মুখরোচক গল্প ছড়াতে থাকে।

    একজন পত্রিকা সম্পাদককে হত্যার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে কিন্তু সেটাকে পরে হার্ট অ্যাটাক বলে প্রচার করা হয়। তবে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন ১৯৯৭ সালে। সেসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। 

    শোনা যায় সালমান শাহ মারা যাওয়ার আগে একটি পার্টিতে সালমানের স্ত্রী সামিরাকে চুমু দেন আজিজ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সবার সামনে আজিজকে চড় মারেন সালমান। এটাকে মোটিভ হিসেবে ধরেন অনেকেই। সেসময় সালমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুইবার জিজ্ঞাসাবাদও করা হয় আজিজকে। কিন্তু পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    এর দুই বছর পর ঢাকা ক্লাবে খুন করা হয় আরেক চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে। এ হত্যাকাণ্ডেও আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও তার পরিবারের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। সে সময় সোহেল চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছিল ঢাকার ডিশ ব্যবসা। এই ব্যবসা নিজেদের কব্জায় নিতে সোহেল চৌধুরীকে হত্যা করা হয় বলে ধারণা।

    বর্তমানে আজিজ মোহাম্মদ ভাই সপরিবারে থাইল্যান্ডে থাকেন। সেখান থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করেন। তার স্ত্রী নওরিন মোহাম্মদ ভাই দেশে এসে ব্যবসা দেখেন। 

    বিনোদন ডেস্ক