Tag: সাইফ আলী খান

  • সেই ১৫ মিনিট কাটতেই চায়নি সারার

    মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসায় যখন সাইফ আলী খান আক্রমণের শিকার হন, তখন বাসায় ছিলেন না সারা আলী খান। খবরও পেয়েছিলেন অনেক পরে। কিন্তু যখন খবর শুনেছিলেন তখন ঠিক থাকতে পারেননি। বলিউডের অভিনেতা বাবার করুণ অবস্থার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন বলি নায়িকা সারা।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সারা জানিয়েছেন, যখন প্রথম খবরটি শোনেন তখন ১৫-২০ মিনিট স্তব্ধ হয়ে পড়েছিলেন। সেটি কাটে যখন তার বাবা সাইফ ঘরে ফেরেন, তখন।

    ভারতের গণমাধ্যম টাইমস নাউ’কে সারা বলেছেন, ‘আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। মনে করতে পারছি না—ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি জানতাম না কি হতে যাচ্ছে। তবে আমরা ভাগ্যবান যে বাজে কিছু ঘটেনি। হাসপাতাল থেকে আপডেট আসছিল, সেই ১৫-২০ মিনিট সময় আমার কাছে লাইফটাইমন মনে হচ্ছিল।’

    সারা জানিয়েছেন, ১৬ তারিখ দুর্বৃত্ত্বের ছুড়িকাঘাতে যখন আহত হন সাইফ, তার পর থেকেই ঠিক ছিলেন না। যখন সাইফ হাসপাতাল থেকে বের হন, তখন ধাতস্ত হন সারা, ‘এটাই তিনি। দুর্দান্ত একজন পিতা। সে চার সন্তানের বাবা, তাকে ঠিক আছে দেখাতেই হতো। সে সব সময় একজন ফাইটার। আমি কখনও তাকে হাল ছাড়তে দেখিনি।’ 

    বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান গত ১৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নিজ বাড়িতে দুষ্কৃতকারীর হাতে আক্রান্ত হওয়ার পর মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। সেখানে সফল অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউ থেকে জেনারেল বেডে নেওয়া হয়। পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকার পর বাড়ি ফেরেন অভিনেতা।

    যুগান্তর ডেস্ক

  • কারিনা নিজেই কেন সাইফকে হাসপাতালে নিলেন না?

    বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান গত মাসে নিজের বাড়িতে এক দুষ্কৃতকারীর ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন। সেদিন ব্যর্থ ডাকাতির চেষ্টায় হামলাকারী তাকে ছয়বার আঘাত করে। এর মধ্যে একবার অভিনেতার মেরুদণ্ডের কাছাকাছি স্থানে তিন ইঞ্চি পরিমাণ ছুরির ফলা ঢুকে যায়। যার কারণে দুটি বড় অস্ত্রোপচার করাতে হয় সাইফকে।

    এ ঘটনা নিয়ে সাইফের শুভাকাঙ্ক্ষীরা যেমন তার পাশে দাঁড়ান, তেমনি কিছু লোক আবার ঘটনাটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন। 

    তবে সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাইফ আলী খান জানান, তিনি কিভাবে একা ওই অস্ত্রধারী হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করেন। যতক্ষণ না তার গৃহপরিচারিকা তাকে সাহায্য করতে আসেন।

    এ সময় কেন ছেলে তৈমুর হাসপাতালে নিয়ে গেল তাকে, কারিনা নয়? এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফ বলেন, তার ছেলে তৈমুরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল, কারিনা নন।

    তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘তৈমুর ওই সময় পুরোপুরি শান্ত ছিল। সে বলল, ‘আমি তোমার সঙ্গে যাচ্ছি’। আমিও ওকে দেখে ভরসা পাচ্ছিলাম এবং একা যেতে চাইনি। আমার স্ত্রীও ওকে পাঠিয়েছিল। সে (কারিনা) জানত যে, এই মুহূর্তে তৈমুরই আমার পাশে থাকতে পারবে। আল্লাহ না করুন, যদি কিছু খারাপ হতো, তাই আমি চাইতাম সে আমার পাশে থাকুক’।

    এদিকে কারিনা কাপুর তার ছোট ছেলে জেহকে নিয়ে বড় বোন কারিশমা কাপুরের বাড়িতে চলে যান বলে জানান সাইফ।

    অভিনেতা জানান, সেদিন রাত ২টার দিকে যখন তিনি ও কারিনা ঘুমাচ্ছিলেন, তখন এক গৃহকর্মী আতঙ্কিত অবস্থায় ঘরে ছুটে আসেন। তিনি জানান, একজন দুষ্কৃতকারী ছোট ছেলে জেহর ঘরে ঢুকে টাকা চাইছে।

    সাইফ সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে যান এবং দেখেন, একজন মুখোশধারী ব্যক্তি জেহর বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে দুটি লাঠির মতো কিছু। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন, এগুলো আসলে ধারালো ‘হেক্সা ব্লেড’।

    সাইফ বলেন, ‘ওই সময় একটা অদ্ভুত শক্তি আমাকে আচ্ছন্ন করল। আমি লোকটাকে ধরে নিচে ফেলে দিলাম। কিন্তু সে তখনই আমার পিঠে ও গলায় ছুরির আঘাত করে। আমি একপর্যায়ে আর সহ্য করতে পারছিলাম না, কারণ একসঙ্গে দুটি ছুরি ব্যবহার করছিল সে। আমি শুধু প্রার্থনা করছিলাম, যেন কেউ আমাকে এই লোকটার হাত থেকে বাঁচায়’।

    সেই সময় তার গৃহকর্মী গীতা এগিয়ে আসেন এবং হামলাকারীকে টেনে সরিয়ে দেন, জানান সাইফ।

    তিনি বলেন, এর ফলে কিছুটা সময় পাই এবং দ্রুত হামলাকারীকে জেহর ঘরে তালাবদ্ধ করি। কিন্তু সে আবার বাচ্চাদের বাথরুমের ড্রেন পাইপ দিয়ে পালিয়ে যায়।

    এদিকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা জানান, চার ইঞ্চি লম্বা ছুরির ফলা তার কাঁধের হাড় ভেদ করে মেরুদণ্ডের খুব কাছাকাছি চলে গেছে। এটি মেরুদণ্ডের প্রতিরক্ষামূলক আবরণও কেটে দিয়েছে, যার ফলে তৎক্ষণাৎ তার পায়ের অনুভূতি হারিয়ে যায়।

    সাইফ বলেন, ‘ছুরিটা আর মাত্র এক মিলিমিটার গভীরে গেলেই আমি প্যারালাইসড হয়ে যেতে পারতাম’।

    গুরুতর এই আঘাতের পর সাইফকে ছয় ঘণ্টার একটি জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাকে চিরকালের জন্য বদলে দিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

    বিনোদন ডেস্ক

  • সাইফের বাড়িতে চুরির ঘটনার নেপথ্যে কারিনা!

    বলিউডে ছোট-বড় যে কোনো বিষয় নিয়ে প্রায়ই মতপ্রকাশ করে থাকেন অভিনেতা তথা স্বঘোষিত চিত্র সমালোচক কমল আর খান। নিজের এই কথার জন্য একাধিকবার আইনি বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয়েছে কমল আর খানকে। 

    এবার সাইফ আলী খানকে মাত্র পাঁচ দিনে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করলেন কমল আর খান। তিনি জানান এ ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন স্ত্রী কারিনা কাপুরই!

    পাঁচ দিনের মাথায় হাসপাতাল থেকে যখন সাইফকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন তার চেহারা দেখে চমকে ওঠেন সকলে। হাতের কব্জি ও ঘাড়ের কাছে ব্যান্ডেজ ছাড়া সারা শরীরে ক্ষতের কোনো চিহ্ন নেই। চোখে-মুখে উজ্জ্বলতা দেখে সন্দেহের দানা বাঁধে অনেকের মনে। কেউ কেউ এই ঘটনাকে সাজানো বলেও অভিহিত করেন!

    এবার সইফ-কাণ্ডে চুরির ঘটনা সব সাজানো বলে দাবি করেছেন এই অভিনেতা। তিনি জানান নেপথ্যে রয়েছেন স্ত্রী কারিনা কাপুরই!

    কমলের কথায়, ‘সাইফকে ছয় বার ছুরি দিয়ে কোপানো হলো আর হামলাকারীকে একটা আঁচড় পর্যন্ত দেননি সাইফ! যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া ব্যক্তি মুখেরও কোনো মিল নেই। তাই আমার মনে হয় সে রাতে ওদের বাড়িতে কেউ আসেনি, আর এটা সাইফ-কারিনার ঝগড়ার পরিণতি।’

    যদিও কমলের এই দাবি কেউ বিশেষ পাত্তা দিতে নারাজ। উলটো তাকে নিয়ে অনেকের মত- শুধু দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

    আনন্দবাজার পত্রিকা

    বিনোদন ডেস্ক

  • আনুশকার মতো কারিনাকে দোষারোপ করা হচ্ছে: টুইঙ্কেল খান্না

    বিরাট কোহলির ব্যর্থতার পর কারণে অকারণে তার স্ত্রী আনুশকা শর্মাকে টেনে আনা হয়। সমালোচনা করা হয়। এবার তেমনই সমালোচিত হচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর। স্বামী সাইফ আলি খান আক্রমণের শিকার হওয়ার পর থেকেই কারিনাকে নিয়ে সমালোচনায় মেতেছে নেটিজেনরা। যাদের একার ধুয়ে দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্না।

    গত ১৬ জানুয়ারি নিজ বাড়িতে আততায়ীর ছুরিকাঘাতে হাসপাতালে যেতে হয়েছে সাইফকে। সে সময় বাড়িতে ছিলেন না সাইফের স্ত্রী কারিনা। একটি পার্টিতে গিয়েছিলেন। যে কারণে অনেকেই কারিনাকে এর জন্য দোষারোপ করছেন। এবার সেই নিন্দুকদের জবাব দিয়েছেন টুইঙ্কেল।

    টুইঙ্কল বলেন, ‘লোকেরা কেবল স্ত্রীর উপর দোষ চাপিয়ে উপভোগ করেছে – একটি খুব পরিচিত প্যাটার্ন। বিরাট কোহলি যখন আউট হন, তখন আনুশকা গালি খান।’

    এ ব্যাপারে টুইঙ্কেল আরও বলেন, ‘আমি মনে করি প্রতিটি পুরুষের হেরে যাওয়া কিংবা জয়ের পেছনে একজন নারী থাকেন। এখন হয়তো কারিনাকে এ কারণে অপমানিত হতে হচ্ছে। কিন্তু এরপরও সে তার মাথার ওপর শক্তভাবে হাত রাখবে। তাকে সমর্থন দেবে।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • সাইফ-কারিনার পরস্পরবিরোধী বয়ানসহ নানা অসঙ্গতি ঘিরে রহস্যজট

    সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় বলিউডের নাবাব খ্যাত অভিনেতা সাইফ আলী খান ও অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের বাড়িতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটে। গত ১৬ জানুয়ারি ডাকাতির চেষ্টার এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত আরও গভীরতর হচ্ছে।

    এ নিয়ে সাইফ ও কারিনার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, চিকিৎসা রিপোর্টের অসঙ্গতি এবং সিসিটিভি ফুটেজ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, পাকিয়েছে রহস্যের জট।

    পরস্পরবিরোধী বয়ান

    সাইফের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এবং কারিনা বান্দ্রার সাতগুরু শরন বিল্ডিংয়ের ১১ তলার শোবার ঘরে ছিলেন। হঠাৎ করেই তাদের ছোট ছেলে জেহ’র দেখভালকারী এলিয়ামা ফিলিপস চিৎকার করে ওঠেন। 

    সাইফ বলেন, চিৎকার শুনেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং তিনি ডাকাতকে প্রতিরোধ করার সময় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আহত হন।

    অন্যদিকে কারিনা দাবি করেন, তিনি ১২ তলা থেকে নেমে এসে দেখেন সাইফ আক্রমণকারীর সঙ্গে লড়াই করছেন। 

    দুজনের এই দুই বয়ানের ভিন্নতা ঘটনার সঠিক সময়কাল নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।

    চিকিৎসা রিপোর্টের অসঙ্গতি

    এদিকে সাইফের চিকিৎসা রিপোর্টে পাওয়া তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় নিরুপম তো সাইফের দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। 

    আরও জানা গেছে, সাইফকে হাসপাতালে নিয়ে যান তার বন্ধু আফসার জাইদী। যদিও প্রথমে বলা হয়েছিল, তার ছেলে ইব্রাহিমই তাকে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান।

    সিসিটিভি ফুটেজে অসঙ্গতি

    এদিকে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিওতে দেখা আক্রমণকারী সাইফকে আঘাত করেছে বলে জানা গেলেও তার পোশাকে কোনো রক্তের দাগ দেখা যায়নি।

    নিরাপত্তা বৃদ্ধি

    অন্যদিকে ওই ঘটনার পর মুম্বাই পুলিশ সাইফের বান্দ্রার বাড়ির বাইরে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। সেখানে দুজন কনস্টেবল পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে বাড়ির জানালায় গ্রিল এবং অতিরিক্ত ক্যামেরাও বসানো হয়েছে।

    তদন্তের গুরুত্ব

    মুম্বাই পুলিশের সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা নির্মল কৌর বলেছেন, এই অসঙ্গতিগুলো আদালতে পুলিশকে একটি পরিষ্কার বক্তব্য পেশ করতে বাধ্য করবে। তবে তদন্তের ফলাফল নিয়ে জনমনে কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • তারকা হতে চান না সাইফকে বাঁচানো অটোচালক

    বাংলার পতৌদি পরিবারের নবাব বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান বুধবার (১৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে নিজ বাড়িতে দুষ্কৃতকারীর হাতে আক্রান্ত হওয়ার পর মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে শয্যাশায়ী হন। পরে তাকে অস্ত্রোপচার করানো হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বাড়ি ফেরেন অভিনেতা।  

    এর আগে বান্দ্রার বাড়ির সামনে গভীর রাতে মুমূর্ষু সাইফের স্বজনরা যখন চিৎকার করে অটোওয়ালাকে ডাকছিলেন, তখন প্রাণ রক্ষার্থে ছুটে যান মুম্বাইয়ের এক অটোচালক। অভিনেতাকে নিয়ে ছুটে যান লীলাবতী হাসপাতালে। এরপরই অভিনেতাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পর থেকেই অটোচালক ‘ভাইরাল’।

    গত ১৬ জানুয়ারি ভোরে রক্তাক্ত সাইফ আলি খানকে বান্দ্রার বাড়ি থেকে লীলাবতী হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন ভজন। এক প্রকার ‘নতুন জীবন’ই উপহার দিয়েছিলেন পতৌদির ‘ছোট নবাব’কে। কিন্তু ওই রাতের পরই বদলে দিয়েছে ভজনের জীবন। কতটা বদলে গেল অটোচালকের জীবন? জানতে চেয়েছিল আনন্দবাজার অনলাইন।

    বুধবার সকাল থেকে ভজনের ফোন ব্যস্ত। ফোন বাজলেও ধরছেন না। তিনি কি অটো চালাচ্ছেন! সাবধানতার কারণে ফোন ধরছেন না? জানার উপায় নেই। তবে বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় ফোন ধরলেন ভজন। দিনের শেষে সবে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর ফোনের ওপার থেকে ক্লান্ত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো— আমি সাক্ষাৎকার দিতে চাই না, যা বলার আগেই সব বলে দিয়েছি। আর নতুন করে সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে দয়া করে দেখা করুন। কে কোথা থেকে ফোন করছেন? আমি কিছু বুঝতে পারছি না, মুখোমুখি কথা বলব। 

    জানালেন গত কয়েক দিনে লাগাতার গণমাধ্যমের চাপ তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না। তার ছবি ব্যবহার করে নেটদুনিয়ায় অজস্র ‘ফেক ভিডিও’ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তিনি। দুটো কথা জানিয়েই ফোন রাখার উপক্রম করলেন ভজন। সাইফ নন, যদি শুধু তাকে নিয়ে দুটি প্রশ্ন করা হয়, উত্তর দেবেন তিনি? কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর রাজি হলেন আদতে উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা ভজন সিং রানা।

    উত্তরাখণ্ডের খতিমা শহরে বড় হয়েছেন ভজন। মুম্বাইয়ে প্রায় ২০ বছর অটো চালাচ্ছেন তিনি। থাকেন খার অঞ্চলে। প্রতিদিনের মতো ১৫ জানুয়ারি রাতেও গিয়েছিলেন বান্দ্রা অঞ্চলে, ভাড়ার সন্ধানে। তার পরের ঘটনা সবাই জানেন। গত মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে ভজনের সঙ্গে দেখা করেন সাইফ। 

    বুধবার দুজনের একসঙ্গে তোলা সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ভজন বলেন, জানি না কীভাবে ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে। তার পর থেকে আরও সবাই বিরক্ত করছেন। আমি একটু বিশ্রাম চাই। দেশের বাড়ি থেকেও একের পর এক ফোন।

    ভজন জানতেন না, যে আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন, তিনি অভিনেতা সাইফ আলি খান। ভবিষ্যতেও কি এভাবেই তিনি কারও বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িতে দেবেন? হেসে বললেন, কেন করব না? অবশ্যই করব। ধনী বা গরিব— এই বিভাজন না রেখেই মানুষকে সাহায্য করা উচিত।  

    ভজন কোনো দিন কলকাতায় আসেননি। তবে কলকাতার হলুদ ট্যাক্সির কথা জানেন, নির্দিষ্ট রুটে অটোর কথাও শুনেছেন। শহরে বিভিন্ন কারণে ট্যাক্সি বা অটোচালকদের সমালোচনা যেমন হয়, তেমনই তাদের ভালো কাজের প্রশংসাও করা হয়। এ মুহূর্তে ভজন তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। 

    কথা প্রসঙ্গেই তার ‘বাঙালি ভাই’দের প্রতি বার্তা দিলেন ভজন। তিনি বললেন, মানুষকে সাহায্য করুন। হয়তো কোনো পথদুর্ঘটনা হয়েছে, দেখি অনেক চালক ভয় পেয়ে যান। ভয় পাবেন না। কাউকে সাহায্য করার পর দেখবেন, নিজেরই মনটা আনন্দে ভরে উঠবে।

    এক রাতের ঘটনায় তার নামের সঙ্গে ‘তারকা’ তকমা জুড়ে গেছে। জীবন কি বদলে গেছে তার?—এমন প্রশ্নের উত্তরে ভজন বলেন, সংবাদমাধ্যমে যা বলা হচ্ছে, মানুষ দেখছেন। আমি কোনো তারকা হতে চাই না। আমার যা করার সেটি করে দিয়েছি। সামাজিক মাধ্যমে চর্চা— সাইফ নাকি ভজনকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন। কিন্তু ভজন এ রকম গুজবকে উড়িয়ে দিলেন। তার জায়গায় অন্য কেউ হলে, হয়তো সাইফের হাত ধরেই আরও সুরক্ষিত পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবতেন। ভজন তা করেননি। তিনি বলেন, আমি তার থেকে কিছু চাইনি। কিছু অনুরোধ করার চেষ্টাও করিনি। উনি খুশি হয়ে আমার সঙ্গে দেখা করেছেন, আর কী চাই।

    তার কাজের প্রশংসাস্বরূপ ইতোমধ্যে মুম্বইয়ের একটি সংস্থা ভজনকে ১১ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছে। আর হাসপাতালে দেখা হওয়ার পর সাইফের পরিবার তার হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছে। কিন্তু টাকার প্রসঙ্গ উঠতে ভজন চুপ করে গেছেন, কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি। সাইফের পরিবারের সদস্যরা তাকে কী বলেছেন? এ প্রসঙ্গ তুলতেই ভজন বলেন, আমি তারকা হতে চাই না, যা করেছি মানবিকতার খাতিরে। ওর পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা হয়েছে। তারা আমার প্রশংসা করেছেন। আর কিছু চাই না। 

    আর কোনো প্রশ্ন করা গেল না। ক্লান্ত ভজন রাতের খাবার খেতে বসবেন। আগামী কাল থেকে কী পরিকল্পনা তার? বললেন, আমি এবার শুধু কাজে ফিরতে চাই।

    বিনোদন ডেস্ক

  • জীবন বাঁচানো অটোচালককে কত টাকা পুরস্কার দিলেন সাইফ

    বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল গত মঙ্গলবারই। অভিনেতার সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন অটোচালক ভজন। ছবিতে দেখা গেছে, হাসপাতালের বিছানায় বসে আছেন সাইফ। বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মিনিট পাঁচেক দেরিতেই ঢোকেন ভজন। হাসপাতালে ঢোকামাত্রই সোজা তাকে নিয়ে যাওয়া হয় অভিনেতার কক্ষে। দরজা খুলে দেখেন বিছানায় বসে নবাব। 

    ভজন বলেন, যখন ওনার ঘরে ঢুকলাম, দেখলাম— তার মাসহ গোটা পরিবার সেখানে উপস্থিত। সবার চোখেমুখেই চিন্তার ছাপ। কিন্তু আমাকে ভীষণ সম্মান দিয়েছেন তারা সবাই। তিনি বলেন, আমাকে ডেকেছেন, ভালো লেগেছে। তেমন কিছু না, একেবারেই সাধারণ সাক্ষাৎ। আমি ওনার জন্য আগেও প্রার্থনা করেছি, এখনো তা-ই করব। তবে শুধু সাক্ষাতেই নয়, তাকে আর্থিক সাহায্যও করেছেন অভিনেতা বলে জানান অটোচালক।

    এর আগে যখন হাসপাতালে সাইফ আলিকে নিয়ে যান ভজন, তখন কোনো ভাড়া তিনি চাননি। সেই সময় টাকা দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি। তবে সুস্থ হতেই ভজনকে ডেকে ধন্যবাদ জানান সাইফ। অভিনেতা বলেন, সেই রাতে সময়মতো আপনি পৌঁছে দিয়েছেন, অনেক ধন্যবাদ।

    তা হলে কি সুস্থ হতেই সেদিনের ভাড়া মিটিয়ে দিলেন সাইফ?—এমন প্রশ্নের উত্তরে অটোচালক ভজন বলেন, টাকা-পয়সার বিষয়ে কিছু জানি না। আমি সেদিনও কিছু চাইনি, আজও কিছু চাইব না। দিলেও ভালো, না দিলেও আক্ষেপ নেই। 

    একটি সূত্রের খবর, সাইফ আলি খান সে রাতের কথা মাথায় রেখে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার তুলে দেন অটোচালক ভজনের হাতে। যদিও এর আগেই এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফ থেকে ভজন ১১ হাজার টাকা পুরস্কার পেয়েছেন।

    উল্লেখ্য, অভিনেতা সাইফ আলি খান বুধবার (১৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে নিজ বাড়িতে দুষ্কৃতকারীর হাতে আক্রান্ত হওয়ার পর মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন। সেখানে তাকে অস্ত্রোপচার করানো হয়। সফল অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউ থেকে জেনারেল বেডে নেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও মেরুদণ্ডের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ক্ষত হওয়ার শঙ্কা ছিল। অবশেষে পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকার পর সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বাড়ি ফেরেন অভিনেতা। আর এ পতৌদি পরিবারের নবাবকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান অটোচালক ভজন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • হাসপাতাল ছাড়লেন সাইফ

    ভর্তি হওয়ার ৬ দিনের মাথায় হাসপাতাল ছেড়েছেন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন পতৌদি রাজপরিবারের এই নবাব। এসময় নিজ পায়ে হেঁটে হাসপাতাল ছাড়তে দেখা যায় তাকে। খবর এনডিটিভির।

    গত বুধবার গভীর রাতে পশ্চিম বান্দ্রায় নিজ ফ্ল্যাটে হামলার শিকার হন ৫৪ বছর বয়সী সাইফ। ছুরি দিয়ে ছয়বার জখম করে হামলাকারী। এতে গুরুতর আহন হন তিনি। পরে ছেলে ইব্রাহিম তাকে অটোরিকশায় করে বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরের লীলাবতী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অস্ত্রোপচার হয় তার।

    এনডিটিভি জানায়, হাসপাতাল ছাড়ার সময় সাইফের সঙ্গে ছিলেন মা শর্মিলা ঠাকুর ও স্ত্রী কারিনা কাপুর। বর্তমানে সুস্থ থাকলেও সাইফকে এক সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এমনকি ক্ষতস্থানে সংক্রমণ এড়াতে আপাতত পরিবারের বাইরে কারও সঙ্গে দেখা না করতেও বলা হয়েছে তাকে।

    সাইফের হাসপাতাল ছাড়ার সময় ওই এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নেন। এছাড়া রাস্তায় উৎসুক জনতার ভিড় কমাতেও কাজ করে নিরাপত্তা বাহিনী।

    এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, পুলিশি জেরার মুখে সাইফের ওপর হামলার দায় শিকার করেছেন অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শেহজাদ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সাইফের বোন সোহার বাড়িতেও হানা দিয়েছিল দুর্বৃত্ত

    বর্তমানে বলিউডপাড়ায় একটাই আলোচনা, আর তা হলো সাইফ আলী খানের ওপর ছুরি হামলা। সাইফ শুধু অভিনেতা-ই নন, পাতৌদি রাজপরিবারের একজন সদস্যও। এমন একজন হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির বাড়িতে কীভাবে এক দুর্বৃত্ত ঢুকে পড়লো, কীভাবে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা বান্দ্রা এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সাইফের আগেও পাতৌদি পরিবারের আরেক সদস্য দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। ২০১১ সালে সাইফের বোন ও অভিনেত্রী সোহা আলী খানের বাড়িতে চুরির জন্য প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল এক দুর্বৃত্ত। তবে সে যাত্রায় স্বামী কোনাল খেমুর সাহসীকতায় রক্ষা পান সাইফের বোন।

    এক প্রতিবেদনে পিংক ভিলা জানিয়েছে, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুনালের একটি সিনেমা দেখে দুজন সোহার অ্যাপার্টমেন্টে যায়। দ্বিতীয়তলায় অবস্থিত সেই ফ্ল্যাটে রাতের খাবার শেষে তারা কথা বলছিল। এমন সময় বারান্দা থেকে তারা একটি শব্দ শুনতে পান।

    অদ্ভুত শব্দে বারান্দায় ছুটে যান কুনাল। এ সময় তিনি দেখেন কেউ একজন বারান্দা দিয়ে তাদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করার চেষ্টায় রয়েছে। কুনালকে দেখে ওই ব্যক্তি লাফ দিয়ে নিচে পড়ে যায়। এই সুযোগে কোনাল সিঁড়ি দিয়ে নেমে ওই ব্যক্তিকে ধরার প্রচেষ্টা চালায় ও সক্ষম হয়।

    পরবর্তীতে তদন্ত করে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি পূর্বে অনেক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

    প্রসঙ্গত, সাইফের ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সাইফের ওপর হামলায় ব্যথিত কারিনার সাবেক প্রেমিক

    শহরটির অভিজাত ওই অংশে পরিবার নিয়ে থাকেন বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। সেখানকার নিরাপত্তা অন্যসব স্থানের থেকে বেশি। কিন্তু ওই নিরাপত্তার বলয়ের মধ্যেও হামলার শিকার হলেন সাইফ আলী খান।

    ভারতের মুম্বাই শহরের ওই অভিজাত অংশের নাম বান্দ্রা। ওই এলাকায় স্ত্রী কারিনা কাপুর ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন সাইফ আলী খান। গত বুধবার নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন সাইফ। এতে হতবাক হয়ে পড়েছে গোটা বলিউড পাড়া। এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।

    এবার সে তালিকায় যুক্ত হলেন ‘কবির সিং’ খ্যাত অভিনেতা শহিদ কাপুর। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বলিউডের নবাবের ওপর হামলায় হতবাক কারিনার সাবেক প্রেমিক শহিদ।

    নিজের সিনেমা দেবার প্রচারণার সময় এই অভিনেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাইফের সঙ্গে যা হয়েছে তা দুঃখজনক। আমরা সকলেই এই ঘটনাটি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। আশা করি, সাইফ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

    মুম্বাই পুলিশের প্রশংসা করে শহিদ কাপুর যোগ করেন, ‘আমাদের শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভালো। শহরবাসীরা নিরাপদেই রয়েছে। রাত ২-৩টার সময়ও শহরবাসী নিরাপদে বাইক নিয়ে ঘুরতে পারে। আমাদের শহরে এমনটা হবে আশা করা যায় না।’

    প্রসঙ্গত, সাইফের ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে তুলেছে মুম্বাই পুলিশ। ওই ব্যক্তির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    বিনোদন ডেস্ক