Tag: সরকার

  • আরজি করকাণ্ডে সরকারের বিরোধিতা করেছি বলে কাজ পাইনি: শ্রীলেখা

    আরজি করকাণ্ডে সরকারের বিরোধিতা করেছি বলে কাজ না দেওয়ার নির্দেশ এসেছে উপরমহল থেকে অভিযোগ করে আনন্দবাজারের এক সাক্ষাৎকারে জানান টালিউড অভিনেতা শ্রীলেখা মিত্র। তিনি বলেন, আরজি করকাণ্ডে একটু বেশিই জোরালো প্রতিবাদ করেছি। অবশেষে তার ফল পেলাম। দুই-দুটা বিজ্ঞাপনের কাজ হাতছাড়া হয়ে গেল। দুটা কাজ থেকেই ভালো অঙ্কের পারিশ্রমিক পেতাম।  ক্লায়েন্ট যোগাযোগ করেছিলেন এজেন্সির সঙ্গে। এজেন্সির যিনি প্রতিনিধি তিনি আমাকে পছন্দ করেন। চেয়েছিলেন কাজটা আমিই করি। কিন্তু ওর তো কোথাও না কোথাও বাধা রয়েছে। উনি বললেন—দিদি আরজি করকাণ্ডে তোমার বক্তব্য তোমার বিরুদ্ধে গেছে। তুমি সরকারের বিরোধিতা করেছ। তোমাকে দিয়ে কাজ না করানোর নির্দেশ এসেছে। 

    শ্রীলেখা বলেন, ছবি হাতছাড়া হচ্ছে প্রায়শই। রিয়্যালিটি শো থেকে বাদ পড়ছি। বিজ্ঞাপনী ছবির জন্য নির্বাচিত হয়েও শেষে আর কাজ হলো না। অভিযোগের তালিকা অনেক লম্বা। কিছু জানিয়েছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেক কিছুই জানাইনি। জানিয়ে লাভ নেই, তাই জানাইনি। 

    তিনি বলেন, কিন্তু আবারও আমি সরব। আরজি করকাণ্ড নিয়ে অনেকের অনেক বক্তব্য। প্রায় রোজই কেউ কিছু না কিছু বলছেন। আমি একটু বেশিই জোরালো প্রতিবাদ করেছি। অবশেষে তার ফল পেলাম। দু-দুটা বিজ্ঞাপনের কাজ হাতছাড়া হয়ে গেল। 

    তিনি আরও বলেন, আমি আর এ ধরনের ঘটনায় বিচলিত হই না। কোনো কালেই মধু মাখিয়ে কথা বলতে পারি না। বাকিরা যতটা না মনের গভীর থেকে মৃতা চিকিৎসকের জন্য ন্যায়বিচার চেয়েছেন, আমার চাওয়া ছিল আরও গভীর। আমার বক্তব্য ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। বাংলায় এই দুই পদেই মুখ্যমন্ত্রী আসীন। তাহলে কাকে বলব? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই মুখ খুলতে হবে। সেটিই করেছি।

    এ অভিনেত্রী বলেন, ভয় না পাওয়ার আরও একটা কারণ— আমার মাথার ওপরে কোনো দায় নেই। ঋণের বোঝা নেই। প্রচুর চাহিদা নেই। দামি গাড়ি, দামি বাড়ি, দামি পোশাকের বিলাসিতা নেই। ফলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজনও নেই। একইভাবে যতটা সম্ভব সৎ থেকে কাজ করা যায় ততটাই সৎ আমি। 

    তিনি বলেন, একমাত্র দেয়ালে পিঠ ঠেকে না গেলে মিথ্যে কথা বলি না। বললেও এমন মিথ্যে বলি না যা অপরের ক্ষতি করবে। বরাবর নিজের কাজ নিজেই জোগাড় করে এসেছি। কোনো দিন তথাকথিত ‘সুগার ড্যাডি’ নেই। ভালোবাসার মানুষজনেরও বড়ই অভাব। সব মিলিয়ে নিজেই নিজের হর্তা-কর্তা-বিধাতা। ফলে যা-ই ঘটুক ঠিক চালিয়ে নেব।

    শ্রীলেখা বলেন, আজ আমি পরিচালক হলে এমন অভিনেতা বাছাই করতাম, যিনি আক্ষরিক অর্থেই সৎ ব্যক্তি। তা হলেই আমার বিজ্ঞাপন বেশি বিশ্বাসযোগ্য হতো। কারণ জনতা সেই বিশ্বাসযোগ্য মুখ দেখে জিনিস কেনার ভরসা পেত। আমার মতো করে তো সবাই ভাববেন না। অনেকে বলেন— এত বিতর্ক, এত বিরোধিতা যখন, তখন একটু কম কথা বললেই তো হয়। তিনি বলেন, আমি বলেছি— আমি পারব না। এই বয়সে এসে নিজেকে বদলানো সম্ভব নয়। তা ছাড়া মাথা নোয়াতে শিখিনি। তাই আমার মতো করেই চলব। এককালে খুব কম উপার্জন করিনি। সেগুলো উড়িয়ে নষ্ট করিনি। আমার চলে যাবে। বরং এ ধরনের ঘটনা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। বুঝতে পারি— আমিই সঠিক। ঠিক পথে হাঁটছি বলেই আমাকে ঘিরে এত কথা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সৌদি আরব মাতাবেন জেমস

    আগামী ২০ নভেম্বর সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো রিয়াদে যাচ্ছে নগরবাউল। সৌদির আমন্ত্রিত অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে গান শুনতে পারবেন সংগীতপ্রেমীরা। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন নগরবাউল ব্যান্ডের ব্যবস্থাপক রুবাইয়াৎ ঠাকুর।

    তিনি বলেন, ২০ নভেম্বর সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে রিয়াদে যাচ্ছে নগরবাউল। সেখানে একটি অনুষ্ঠানে গান গাইবেন জেমস। দর্শকরা বিনামূল্যে গান শুনতে পারবেন।  আশা করি, ভালো একটা শো হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

    রুবাইয়াৎ ঠাকুর বলেন, সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে রিয়াদে যাচ্ছেন জেমস। ২২ নভেম্বর রিয়াদের আল-সুওয়াইদি পার্কে গান শোনাবে নগরবাউল। আয়োজনটির নাম রাখা হয়েছে ‘বাংলাদেশ কালচার’, এটি সৌদি সরকারের আয়োজন রিয়াদ সিজনের অংশ।

    রক্ষণশীলতার ঘেরাটোপ থেকে সৌদি সমাজকে বের করে আনতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ভিশন–২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় ২০১৮ সালে বিনোদন জগৎ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, খুলে দেওয়া হয় সৌদির সিনেমা হলগুলো। আয়োজন করা হয় চলচ্চিত্র উৎসব থেকে শুরু করে কনসার্ট, ফ্যাশন শো ইত্যাদির। এরই ধারাবাহিকতায় আরেকটি উদ্যোগ ‘রিয়াদ সিজন’।

    সৌদির মিনিস্ট্রি অব মিডিয়ার আমন্ত্রণে পেয়ে এবারের রিয়াদ সিজনে অংশ নিচ্ছে ৯ দেশ। এর মধ্যে আছে— দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া ৪৫ দিনের এ আয়োজন শেষ হবে ৩০ নভেম্বর। এ উৎসবের লক্ষ্য সৌদি আরব ও অংশগ্রহণকারী এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়। উৎসবটি শীতকালীন বিনোদনের অন্যতম আয়োজন হিসেবে বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করবে বলে আশা করছে সৌদি সরকার।

    আমন্ত্রিত প্রতিটি দেশের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে এক সপ্তাহ। সেখানে এসব দেশের সংগীত, নৃত্য, ঐতিহ্যবাহী খাবার তুলে ধরা হচ্ছে। আয়োজনের সপ্তম সপ্তাহকে ‘বাংলাদেশ উইক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ২০ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে।

    এর আগে শেষ গত শুক্রবার ঢাকার মাটিকাটা রোডের সেনাপ্রাঙ্গণ মিলনায়তনে গান শুনিয়েছেন নগরবাউল জেমস। এদিন ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিয়ো না’ গান দিয়ে কনসার্ট শুরু করেন জেমস। একে একে তিনি শোনান ‘দিওয়ানা মাস্তানা’, ‘গুরু ঘর বানাইলা’, ‘মা’, ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘মীরাবাই’, ‘তারায় তারায় রটিয়ে দেব’ ও ‘পাগলা হাওয়া’। গানের পাশাপাশি গিটারেও নৈপুণ্য দেখিয়েছেন নব্বইয়ের জনপ্রিয় এ রকস্টার।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘আল্লাহ বাঁচিয়েছে, তৌহিদ আফ্রিদির বিয়ের পর দীঘি

    গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর বেশ চাপে আছেন আলোচিত ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। এত কিছুর মাঝেই হুট করে আফ্রিদির বিয়ের খবর প্রকাশ্যে এলো। সামাজিক মাধ্যমে বুধবার বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে তার। যেখানে বরের সাজে দেখা যাচ্ছে তাকে।

    কনের বেশে আছেন শ্যালিকা রাইসা। এতে অনেকের ধারণা- বিয়ে করেছেন তৌহিদ আফ্রিদি-রাইসা। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিয়ের যেসব ছবি খবর হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে পাত্রী রাইসা ছিলেন না বলে জানিয়েছে আফ্রিদির পরিবারসহ কনের পরিবার। আফ্রিদির পরিবার জানায়, রাইসার বিয়ে এক বছর আগেই হয়ে গেছে।

    রাইসা ও রামিসা যমজ বোন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাইসা খুব পরিচিত মুখ। তাই সবাই ধরে নিয়েছিল, রাইসাকেই আফ্রিদি বিয়ে করেছেন।  

    এদিকে তৌহিদ আফ্রিদির সঙ্গে চিত্রনায়িকা দীঘির প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেছে অনেক দিন। প্রায় সময়ই তাদের নিয়ে চর্চা হতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

    আফ্রিদির বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর গণমাধ্যমকে দীঘি বলেন, ‘আফ্রিদির সঙ্গে আমার কখনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। সে সব সময় আমার ভালো বন্ধু। যাক, আল্লাহ বাঁচিয়েছে। কয়েক দিন পর পর ওর সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে যেভাবে নানা গুঞ্জন হতো, তা নিয়ে বেশ বিরক্ত ছিলাম। অবশেষে একটু শান্তি পেলাম।’

    দীঘি আরও বলেন, আমি যতটুকু জানি- পারিবারিকভাবে কনের বাড়িতেই আপাতত কাবিন হয়েছে। পরে বড় পরিসরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে।

    এদিকে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পর্কে আফ্রিদি বলেন, মেয়েকে দেখতে গিয়ে তাদের বাড়িতে বিয়ে করে ফেলেছি। পারিবারিক আয়োজনেই হয়েছে তা। আর সেই আয়োজনে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বড় পরিসরে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার অনুষ্ঠান করা হবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ভাইরাল হওয়া সেই পোস্ট নিয়ে যা বললেন শবনম ফারিয়া

    বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকমহলে ব্যাপক পরিচিত পেয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব তিনি। এ অভিনেত্রীর একটি ভুয়া পোস্ট সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে— হাসিনা সরকার দেশ পরিচালনার সময় অভিনেত্রীকে কোনো পোস্ট ডিলিট করতে হয়নি । 

    এ ঘটনার তিন দিন পর ফারিয়ার ভাইরাল হওয়া ভুয়া পোস্টের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি—গত ১৫ বছরে হাসিনা সরকার দেশ পরিচালনার সময় কয়েক হাজার পোস্ট ডিলিট করেছেন। 

    এই ভুয়া পোস্টের ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন— আমি গত তিন দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। আমি কোনো পোস্ট করিনি কোনো বিষয়ে। বিশেষ করে রাজনীতিবিষয়ক, এই পোস্ট সম্পূর্ণ এডিটেড। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    কয়েক হাজার পোস্ট ডিলিট করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনাদের অবস্থা এত খারাপ যে, এখন এডিট করে অন্যদের নামে পোস্ট চালায় নিজেদের কথা বলতে হচ্ছে। শবনম বলেন, আমি এই পোস্ট দিয়েছি ভেবে যারা খুশি, তারা প্লিজ খুশি হইয়েন না। আবার লিখেছে ১৫ বছরে নাকি কোনো পোস্ট ডিলিট করতে হয়নি। গত ১৫ বছরে কয়েক হাজার পোস্ট ডিলিট করতে হয়েছে।

    অভিনেত্রী বলেন, স্ট্যাটাস দেওয়ার ৫ মিনিটে কল চলে আসত— আপা ডিলিট করেন, সমস্যা হবে, অন্যদের মতো তেল মারিনি দেখে কোনো সুযোগ-সুবিধাও পাইনি। তিনি বলেন, আমার আলোও আসেনি। আর এমন কোনো স্টেটমেন্ট দিলে সেটি রাখার সাহসও রাখি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী বন্যার প্রতিষ্ঠান ‘সুরের ধারা’র জমির লিজ বাতিল

    বিনোদন জগতের সংগীত অঙ্গনের প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার প্রতিষ্ঠান ‘সুরের ধারা’র জমি বাতিল করেছে সরকার। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রামচন্দ্রপুর খালের ওপর লিজ নেওয়া জমিটি সরকার বাতিল করে দিয়েছে। 

    গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাস জমি-১ অধিশাখার উপসচিব মো. আমিনুর রহমানের সই করা এক চিঠিতে ওই জমি বাতিলের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে— সুরের ধারার চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দেওয়া ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন রামচন্দ্রপুর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সিএস ও এসএ-৬৯২, আরএস-১৮৯৫ এবং সিটি-১১৬৬৭ নম্বর দাগের ০.১৭০০ একর ও ১১৪১২ নম্বর দাগের ০.৩৪২০ একর মোট ০.৫১২০ একর জমি সিএস হতে আরএস রেকর্ডে ‘খাল’ শ্রেণি থাকায় উক্ত বন্দোবস্ত বাতিল করা হলো। এ বিষয়ে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য ঢাকার জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে ‘সুরের ধারা’ গড়ে তোলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। বিগত সরকারের আমলে ‘সুরের ধারা’র স্কুল পরিচালনার জন্য মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    যুগান্তর ডেস্ক

  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে আশাবাদী সূচন্দা

    কিংবদন্তি অভিনেত্রী কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। অভিনয় জীবনে মানুষের ভালোবাসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি ভালোও বেসেছেন মানুষকে। বর্তমান দেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে তিনিও বেশ ভাবেন। তাই নিজের অভিমতও ব্যক্ত করেছেন এ অভিনেত্রী। 

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেশে একের পর এক ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে সুচন্দা বলেন, ‘এতদিনের সমস্যা ও জঞ্জাল তো খুব দ্রুত পরিষ্কার করা যাবে না। আমরা যদি ভাবি এতো বছরের আবর্জনা রাতারাতি দূর করে ফেলবে, সেটা ঠিক হবে না। এমন চিন্তা করা ভুল হবে। দেশের প্রায় সব মানুষ ড. ইউনুসকে মূল্যায়ন করেন। ফলে তার প্রতি সবার চাওয়াও অনেক। কিন্তু সেই কারণে আমি মনে করি, আমরা যারা দেশকে ভালোবাসি, তারা সবাই ধৈর্য ধারণ করব। দেশের মঙ্গলের জন্য আমরা অপেক্ষা করব। আশা করি দেশের সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

    সরকারের কাছে নিজের চাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কোনো কিছুতে নিরাশ হই না। আমি বিশ্বাস করি, এই ছাত্র-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা ড. ইউনূসের মতো একজন বিজ্ঞ মানুষকে পেয়েছি। উনার মতো একজন গুণী ব্যক্তিত্ব যেহেতু আমাদের মাঝে আছেন, সামনের দিনগুলোতে দেশে ভালো কিছু হবে।’

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • আমি শুধু জানতে চাই, শুনতে চাই : তমা মির্জা

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সংস্কারের নামে এখনো গণপিটুনিতে হত্যাযজ্ঞ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে একশ্রেণির মানুষ।

    সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জেল নামে এক যুবককে পিটিয়ে মারা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা শামীমও গণপিটুনিতে আহত হয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি ‘অমানবিক’ ও ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিনোদন জগতের শিল্পীরাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা জানিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন তারা।

    তোফাজ্জল হত্যার বিচার চেয়ে ইতোমধ্যে প্রতিবাদ করেছেন অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকরাও। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী তমা মির্জা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে তমা লিখেছেন— নিহত তোফাজ্জল কোন দল, কোন ধর্ম, কোন বর্ণ, কেমন ব্যক্তি ছিল, মানসিকভাবে সুস্থ ছিল কি ছিল না— জানতে চাই না। ওনারাই বা (খুনিরা) কেন এমন করল, কীভাবে করল, কোন পরিস্থিতিতে করল— শুনতে চাই না। আমি শুধু জানতে চাই, শুনতে চাই— তোফাজ্জল ন্যায়বিচার কি পেল? (এবং সেটি অনতিবিলম্বে’।)

    এর আগে তমা মির্জা মারপিটের আঘাতে বিপর্যস্ত তোফাজ্জলের নিথর দেহ পড়ে থাকার একটি প্রতীকী ছবি শেয়ার করেন। সেখানে তমা লিখেছিলেন— ‘আমি বিচার চাই’।

    শুধু তমা মির্জাই নন; তোফাজ্জল হত্যার নিন্দা প্রকাশ ও মর্মান্তিক এ হত্যার বিচার চেয়ে এর আগে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী, নির্মাতা আশফাক নিপুন, নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী, চিত্রনায়িকা মৌসুমি হামিদ, অভিনেতা শামীম হাসান, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, সংগীতশিল্পী হাসান সানিসহ আরও অনেকে।

    এ বিষয়ে নির্মাতা আশফাক নিপুন লিখেছেন— আমি শুধু তাদের মায়েদের কথা ভাবি। এই যে তোফাজ্জল নামের মানসিকভাবে অপ্রকৃতস্থ এক যুবককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র পিটিয়ে মেরে ফেলল। আমি ভাবি— তোফাজ্জলের মা সেটা দেখতে পেলে কি করতেন? জানলাম উনি মারা গেছেন আগেই। কিন্তু এমনও তো হতে পারে তোফাজ্জলের কাছ থেকে ৩ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন উনি। ছেলেকে বাঁচাতে পারছিলেন না দেখে চূড়ান্ত অসহায় বোধ করছিলেন? হয়তো ছেলেকে ভাত খেতে দেখে আশান্বিত হচ্ছিলেন যে ছেলের কিছু হবে না আর, এই যাত্রায় বেঁচে যাবে? হয়তো এরপরও নির্যাতনের মাত্রা দেখে আল্লাহর কাছেই ফরিয়াদ করছিলেন ছেলেটার যেন মৃত্যু হয়, ছেলেটা যেন আর কষ্টের ভেতর দিয়ে না যায়?

    তোফাজ্জলকে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী প্রশ্ন ছোড়েন, ‘গণপিটুনিকে নরমালাইজ করা হচ্ছে কেন?’

    ক্ষোভ প্রকাশ করে মৌসুমি হামিদ তার ফেসবুকে লিখেছেন— ‘আমি তোফাজ্জল হত্যার বিচার চাই। এই হাতের ওপর লাঠি রেখে যারা ওর হাত পাড়াচ্ছে? পা দুইটা থেঁতলায় ফেলছে মারতে মারতে? এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।’

    এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় ঘৃণা প্রকাশ করেছেন অভিনেতা শামীম হাসান সরকার। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে  লিখেছেন— কারও কোনো ক্ষতি না করেও রাতে ঘুম আসে না। চিন্তা হয় কত কিছু নিয়ে, নিজেকে নিয়ে, পরিবারকে নিয়ে, ভবিষ্যৎ নিয়ে এবং দেশকে নিয়ে। তিনি বলেন, আপনারা খুন করে রাতে ঘুমান কীভাবে? ভাত খান কীভাবে? কষ্ট হয় না?

    শামীম হাসান আরও বলেন, মানসিক ভারসাম্যটা তোফাজ্জলেরই ছিল, আপনাদের ছিল না? ভিডিওগুলো যতবার সামনে আসছে, বুকটা ফাঁকাই লাগছে। কীভাবে সম্ভব? তবে বিচার হতেই হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্ব— এ খুনিদের বিচার করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষার্থে হলেও করতেই হবে।

    সংগীতশিল্পী এফএ সুমন লিখেছেন— হায় রে! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যার কেউ নাই তার আল্লাহ আছে। আল্লাহ এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কর। বর্তমান সরকারের প্রতি সঠিক তদন্ত করে এর দ্রুত বিচারের আহ্বান জানাচ্ছি। তোফাজ্জল ভাইকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন। আমিন।

    অভিনেত্রী সুষমা সরকার লিখেছেন— হায় মানবিকতা। গায়ক পারভেজ লিখেছেন— যে যায় লংকায়, সে হয় রাবণ? দিনশেষে অত্যাচারী আর অত্যাচারিত— এ দুদলেই বিভক্ত থেকে গেলাম আমরা?’

    উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে একদল শিক্ষার্থী তোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে কয়েক দফায় নির্যাতন করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলি ইউনিয়নে। কয়েক বছর ধরে তোফাজ্জল মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন।

    তোফাজ্জল হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত বহিষ্কার, তাদের সিট বাতিল, হল প্রভোস্টকে অব্যাহতিসহ বেশ কিছু জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আ.লীগ সরকারের পতন হয়েছে: সাদিয়া আয়মান

    বিরতি শেষে শুটিংয়ে ফিরেছেন অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। সম্প্রতি তিনি শেষ করলেন ‘পুতুল পুতুল খেলা’ নামে একটি নাটকের শুটিং। এটি পরিচালনা করেছেন ইফতেখার আহমেদ ফাহমি। 

    কাজ শুরু প্রসঙ্গে সাদিয়া বলেন, ‘আন্দোলন, বন্যায় দেশের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিল না। পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজ করা হয়নি। ফাহমি ভাইয়ের পরিচালনায় একটি নাটকের শুটিং শেষ করলাম। কাজটি করে বেশ ভালো লেগেছে। আশা রাখি দর্শকদের ভালো লাগবে।’ 

    ছাত্র-জনতার পক্ষে আন্দোলনে সরব থাকায় বেশ ধকল পোহাতে হয়েছে সাদিয়া আয়মানকে। হুমকি পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে এই অভিনেত্রীর জীবনে। তবে এসব কিছুকে গুরুত্ব না দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এসেছেন। 

    আন্দোলনের সময়গুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সে সময়ে লেখালেখি করায় আমার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড কী, আমি কে, এসব জানতে চাওয়া হয়েছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে সেই সরকারের পতন হয়েছে। তা না হলে আমিসহ আরও অনেককেই বিপদে ফেলত ওরা। মানুষ তাদের চিনতে পেরেছে। কিছু শিল্পীর মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। তাদের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়েছে।’

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • প্রধানমন্ত্রীর কাছে কী দাবি জানালেন শুভশ্রী

    পশ্চিমবঙ্গের আরজি করকাণ্ডের ঘটনায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা করার এ ঘটনার রেশ পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে। একে একে বলিউডের তারকারাও কলকাতার এ ঘটনার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

    rnrn

    মৃতা চিকিৎসকের বিচারের দাবিতে আরও সরব হয়েছেন হৃতিক রোশন, আলিয়া ভাট, কারিনা কাপুর, প্রীতি জিনতা, রিচা চড্ডা ও টুইঙ্কল খান্না, আয়ুষ্মান খুরানা, সামান্থা রুথ প্রভুরা। যদিও বলিউডের তিন খানের তরফে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বলিউডের নতুন প্রজন্মের অভিনেতারা ইতোমধ্যে সরব হয়েছেন। সে তালিকায় রয়েছেন অমিতাভ বচ্চনের নাতনি নব্যা নভেলি নন্দা। পিছিয়ে নেই শাহরুখকন্যা সুহানা খানও।

    rnrn

    আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত চিকিৎসকের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে পথে আছেন টালিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। গত ১৫ আগস্ট থেকে একের পর প্রতিবাদ মিছিল চলছে কলকাতা শহরে। বাড়িতে বসে থাকেননি কলকাতার তারকারাও। সাধারণ মানুষের সঙ্গে পথে নেমেছেন তারাও।

    rnrn

    এভাবেই যেন সবার ভাবনা একাকার হয়ে ক্রমশ বৃহৎ আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসের আজ প্রথম দিন, নাগরিক সমাজের ‘মহামিছিল’। সেখানে হাঁটবেন খ্যাতনামা সব তারকা। সবার একটাই দাবি— ‘বিচার চাই’। বারবার রাষ্ট্রের কাছে জবাব চেয়েছেন সবাই। এবার মোদির কাছে অনুরোধ শুভশ্রীর। তুললেন ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের প্রসঙ্গ।

    rnrn

    তবে এই প্রথম নয়, এর আগে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-কর্মসূচি প্রসঙ্গ টেনে সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী। কখনো আবার সমাজে মেয়েদের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার বার্তাও দিয়েছেন। দিন কয়েক আগেই শুভশ্রী প্রশ্ন তোলেন— রাতারাতি নোটবন্দি হতে পারে, লকডাউনের ঘোষণা হতে পারে। তা হলে রাতারাতি ধর্ষকের কেন ফাঁসি হতে পারে না? এবার শুভশ্রীর মোদির কাছে অনুরোধ— স্বচ্ছ ভারতের নয়, আমাদের সুরক্ষিত ভারতের প্রয়োজন। যদিও সম্প্রতি এমনই এক পোস্ট সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই পোস্ট শেয়ার করে নিচ্ছেন অনেকেই। ১৪ আগস্ট রাত থেকে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন শুভশ্রী। প্রযোজক-পরিচালক তৃণমূল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে পথেও নেমেছিলেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘পিএমের চোখে পড়ার এটাই সুবর্ণ সুযোগ, সরকার যতদিন আছে সুবিধা পাবি’

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিলেন দেশের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় তরুণ সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। কখনো পরোক্ষভাবে আবার কখনো প্রত্যক্ষভাবেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জুগিয়েছেন তিনি। 

    rnrn

    সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাসরিফ জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে। এমনকি রড দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয় কুড়েঘর ব্যান্ডের ড্রামার শান্তকে। 

    rnrn

    বৃহস্পতিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে সেই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। যেসব ঘটনার পরে নিজ বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন বলে দাবি করেছেন তাসরিফ। 

    rnrn

    ‘কিছু নির্মম ইতিহাস টাইমলাইনে থাকুক’ শিরোনামে সেই পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

    rnrn

    ‘২৩ জুলাই রাত রাত ১টার কথা বলছি। একজন সিনিয়র ইনফ্লুয়েন্সার কল দিয়ে বললেন, ‘তাসরিফ, তোর বাসার নিচে নাম, চা খাইতে আসতেছি, গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা আছে।

    rnrn

    ৫ জুলাই থেকে ছাত্রদের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট করা, কবিতা লিখতে থাকা এবং ‘রাজার রাজ্যে সবাই গোলাম’ গানটা ফেসবুকে চলতে থাকায় সরকারি গুণ্ডা বাহিনীর থ্রেটে আমি তখন বাসার বাইরে অবস্থান করছিলাম। ওই সিনিয়র ইনফ্লুয়েন্সারের কথায় বিশ্বাস করে আমি তখন বাসার সামনে আসি উনার সঙ্গে দেখা করতে। গাড়ি থেকে ৬-৭ জনের মতো নেমে আসে। ইনফ্লুয়েন্সার সাহেব আমাকে একটু সাইডে নিয়ে আস্তে করে বুঝিয়ে বলেন, ‘সাথে যারা আছে তারা একটা এজেন্সির লোক এবং আইন প্রয়োগ সংস্থার বাহিনীর কয়েকজনও আছে এখানে।’ 

    rnrn

    আমি তখন উনার কাছে জানতে চাই যে, উনারা কেন এসেছেন, কী চাচ্ছেন মূলত! উনি তখন বুঝায়ে বলেন, ‘সরকারি একটা কাজ আছে, এই সরকার আরও ৭-৮ বছর ক্ষমতায় থাকব। আমরা ঠিকমতো বাঁচতে চাইলে সরকারের পক্ষে কাজ করতে হইব, এর বাইরে কোনো রাস্তা নাই।’

    rnrn

    এই কথা বলে উনি (ইনফ্লুয়েন্সার) আবার আমাকে গাড়ির কাছে নিয়ে যান। সেই ৬-৭ জনের মধ্য থেকে একজন আমাকে বলে, ‘তাসরিফ, তোমাকে আমরা চিনি। আমরা তোমাকে একটা স্ক্রিপ্ট দিতেছি, ছোট্ট একটা ভিডিও করতে হবে। এই ভিডিওটা আমাদের কালকের মধ্যে লাগবে। পরশু সরাসরি প্রধানমন্ত্রী এই ভিডিওটা দেখবেন এবং তারপর তুমি আপলোড করবা।’

    rnrn

    সেই ইনফ্লুয়েন্সার তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমাকে বলেন, ‘দেখ তাসরিফ, পিএমের চোখে পড়ার এটাই সুবর্ণ সুযোগ, ভিডিওটা ভালো করে কর, সরকার যতদিন আছে সুবিধা পাবি।’ 

    rnrn

    কথা শেষ করার আগেই উনি পকেট থেকে এক লাখ টাকার তিনটা বান্ডেল, মোট তিন লাখ টাকা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এইটা সামান্য ছোট একটা গিফট! টাকা যত চাস, তত দেওয়া হবে, ভিডিওটা সুন্দর কইরা কর।’ 

    rnrn

    ঠিক এই সময় আমার ফোনে আমার ব্যান্ডের ড্রামার শান্তর নম্বর থেকে একটা কল আসে। ফোন রিসিভ করতেই শান্ত আমাকে কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘তাসরিফ! পাঁচ-ছয়জন পুলিশ এবং সিভিল ড্রেসের কয়েকজন মিলে আমাকে রোল দিয়া সারা শরীরে মারছে!’ 

    rnrn

    শান্তর কথা শুনে আমার হাত-পা একরকম কাঁপতে থাকে। আমি বোঝার চেষ্টা করি, এই মাইর খাওয়াটা কি আমাকে এদিকে রাজি করানোর জন্য ভয় দেখানো? নাকি কেবলমাত্র একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা? শান্তর লাইন কেটে যায়।

    rnrn

    আমি আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয় দেওয়া তাদেরকে বলি, ‘ভাই, এইমাত্র কয়েকজন মিলে আমার ভাই, আমার ব্যান্ডের ড্রামার শান্তকে প্রচুর মারছে!’ ওরা জাস্ট আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, ‘আরেহ! দেশের যে অবস্থা, এটা এখন কিছু করা যাবে না। ওরে বলো বাসায় চলে যাইতে।’

    rnrn

    আমার তখন মাথায় আসে, এখন যদি আমি ওদেরকে টাকা ফিরিয়ে দিই অথবা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানাই, তবে তারা আমাকে চাইলেই গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে ভিডিও করে জোরপূর্বক আপলোড করাতে পারে। আমি তাই মাথা ঠাণ্ডা করে ওদেরকে বলি ঠিক আছে আমি দেখতেছি কী করতে পারি, কালকের মধ্যে জানাচ্ছি। ওরা আমাকে তখনও একরকম থ্রেট দিয়ে বলে, ‘ভাই জানাচ্ছির সুযোগ নাই! সিচুয়েশন তো বুঝেনই। ভিডিও কালকেই লাগবে।’ সাথে ওই ইনফ্লুয়েন্সারও আমাকে বলে, ‘তাসরিফ, ভিডিওটা তো পিএম দেখবে সো বুইঝা-শুইনা সুন্দর কইরা করিস।’

    rnrn

    ওদের সাথে কথা শেষ করে আমি বাসায় ফেরত যাই। বাসায় সবাইকে সব সিচুয়েশন জানিয়ে আমি আমার ম্যানেজার আয়মান সাবিতকে ফোন দিয়ে বলি, ‘আয়মান, আমি বাসা ছেড়ে দিচ্ছি, এই এই ঘটনা ঘটছে। আমি তোকে নম্বর দিচ্ছি, তুই ওই এজেন্সিকে আমার বাসা থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে ওদেরকে দিয়ে দিবি কালকেই। আমি আপাতত বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছি, কারণ আমি বাসায় থাকলে ওরা আমাকে তুলে নিয়ে যাবে।’

    rnrn

    ওই সময় আমার মনের অবস্থা আমি জানি। আমার বাসার অবস্থা, ডায়াবেটিসের রোগী আমার আম্মুর অবস্থা, আব্বুর টেনশন, গুম হয়ে যাওয়ার চিন্তা এবং দেশের সাথে বেইমানি করতে ওরা আমাকে বাধ্য করতে চাচ্ছে। সব কিছুই আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সাথে বারবার আমার কানে বাজছে শান্তর ওই কান্না ভরা আর্তনাদ।

    rnrn

    কষ্টের ব্যাপার কী জানেন? এই ঘটনার ঘণ্টাখানেক আগে শান্ত আমাকে ফোন দিয়ে বলছিল, ‘খান, আমার বাসায় আম্মা নাই। এদিকে কারফিউ চলছে, দুপুরের খাওয়া হয় নাই, একটা দোকানও খোলা নাই আমার প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগছে, কী করব?’ আমি শান্তকে বলছিলাম, ‘এক বড় ভাই ফোন দিয়েছে, আমার বাসার সামনে যাওয়া লাগছে, তো তুমি আমার বাসায় চইলা আসো, দুই ভাই একসাথে খাব।’

    rnrn

    ছেলেটা চেয়েছিল আমার বাসায় এসে ভাত খাইতে অথচ তাকে রাস্তায় বেধড়কভাবে মাইর খাইতে হইল। মার খাওয়ার পরে ফোনকলে ও আমাকে এটাও বলছিল যে, ‘খান! সবাই আমারে একসাথে রোল দিয়ে মারতেছিল আর একজন বন্দুক তাক করে চিল্লায়ে বলছিল, চুপচাপ মাইর খা অমুকের পোলা নাইলে গুলি কইরা মাইরা ফালামু, লাশ খুঁজে পাইব না তোর পরিবার!’

    rnrn

    শান্ত এই কথাটা বলতে বলতে কাঁদতেছিল যে, ‘আমাকে ছাত্র বইলা বইলা ওরা মারছে আর বারবার বলতেছিল যে এই অমুকের পোলা ছাত্র! ওরে মার!’ ওই রাতে আমি বাসা থেকে পালিয়ে যাই।

    rnrn

    আমি জানি কয়েকটা পোস্ট, কবিতা লেখা আর ‘রাজার রাজ্যে সবাই গোলাম’-এর মতো কিছু গান করা ছাড়া দেশের জন্য তেমন কিছুই করতে পারি নাই। আমি জানি, আমি আবু সাঈদের মতো পথে গিয়ে বুক পেতে দিতে পারি নাই। হয়তোবা এতটুকু সাহস আমার তখন হয় নাই। তবে, আল্লাহ জানেন আর আমি জানি, আমি টাকার কাছে বিক্রি হয় নাই আর দেশের সাথে বেইমানি করি নাই।

    rnrn

    এই পোস্ট, পোস্টে শান্তর ছবিগুলো এবং ওদের নির্মমতার কথাগুলো আমি লিখে পোস্ট করছি এই কারণে, যেন ভবিষ্যতে কখনও এই স্বৈরাচারের প্রতি আমার ঘৃণা এতটুকু পরিমাণও কমে না যায়।’
    rn 

    বিনোদন ডেস্ক