Tag: সংসদ সদস্য

  • ইচ্ছে ছিল মধ্যরাতে মেয়ের ছবি দেব, কন্যাকে প্রকাশ্যে আনলেন শ্রীময়ী

    বছরশেষে শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে পেলিং ও দার্জিলিং ঘুরে এলেন দিব্যি। নতুন বছরে অবশেষে কৃষভিকে প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেতা-সংসদ সদস্য কাঞ্চন মল্লিক ও অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। গোলাপি পশমের পোশাকে কৃষভিকে কোলে নিয়ে অভিনেতা। যদিও তারা মেয়ের মুখ দেখাননি। পাশে দাঁড়িয়ে শ্রীময়ীর মা। মেয়ের সঙ্গে রংমিলন্তি অভিনেত্রীর মা। গোলাপি শাড়িতে নিজেকে সাজিয়ে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে শুভেচ্ছা জানালেন সবাইকে। বললেন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাই— অতীতের সব খারাপ সরে যাক। ২০২৫ সালে নতুন করে জীবন কাটান।

    যদিও শ্রীময়ীর ইচ্ছে ছিল অন্যরকম। আনন্দবাজার অনলাইনকে তিনি বলেন, ইচ্ছে ছিল নতুন বছরের সূচনা মুহূর্তে অর্থাৎ মধ্যরাতে মেয়ের ছবি দেব। কাঞ্চনও সায় দিয়েছিল। কিন্তু বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে গেল। এসে দেখি মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। হাসতে হাসতে জানালেন মা নিজেও সাজতে ভালোবাসে। মেয়েকেও তাই মনের মতো করে সাজিয়েছেন। নতুন বছরে মা-বাবার কোলে চেপে বেড়াতে বেরোবে কৃষভি? কোনো সম্ভাবনাই নেই। বড্ড ছোট। আগামী বছরে নিশ্চয়ই আমাদের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দেবে।

    মেয়ে বাড়িতে। মা-বাবা যদিও সকাল থেকে বাইরে। সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় ব্যস্ত। শ্রীময়ী বলেন, প্রতি বছর এই দিনে উপোস করে উদ্যানবাটীতে যাই আমরা। শ্রীরাম কৃষ্ণ দেবের আশীর্বাদ নিই, পূঁজা দিই। তার পর দক্ষিণেশ্বরে। সেখানেও পূঁজা দেন তারা, ভোগ খান। সবশেষে কালীঘাট মন্দিরে। ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে সোজা বাড়িতে। বাকি সময় মেয়ের জন্য তোলা। রাতে কবজি ডুবিয়ে পাঠার মাংস আর ভাত।

    নতুন বছরে কোনো নতুন প্রতিজ্ঞা?—এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্রীময়ী বলেন, অবশ্যই নিয়েছি। সমস্ত নেতিবাচকতা, এই মানসিকতার মানুষ এবং তাদের কটাক্ষকে আবর্জনার বাক্সে ফেলে সতেজ মন নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। নিজে ভালো থাকব। সবাইকে ভালো রাখার চেষ্টা করব।

    বিনোদন ডেস্ক

  • কঙ্গনার নিশানায় পড়েছেন রাহুল গান্ধী

    কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে ‘জিম’ ট্রেনারের সঙ্গে তুলনা করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত। রাহুল নাকি সংসদে এসেও নিজের পেশির জোর দেখান বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

    কঙ্গনা রানাউতের নিশানায় পড়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদের অন্দরে সরকার ও বিরোধীপক্ষের ধস্তাধস্তি থেকেই এর সূত্রপাত। এর জেরে সংসদের মধ্যেই বিজেপি সংসদ সদস্য প্রতাপচন্দ্র ষড়ঙ্গী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। 

    ষড়ঙ্গীর অভিযোগ, সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে তাকে ধাক্কা মেরেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এ কংগ্রেস নেতা। এ বিষয়ে এবার মুখ খুললেন বিজেপি সংসদ সদস্য তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা।

    রাহুলকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে কঙ্গনা বলেন, খুব লজ্জাজনক। আমাদের একজন সংসদ সদস্যের মাথায় আঘাত লেগেছে, সেলাইও পড়েছে। ওদের (কংগ্রেস) হিংসা আজ সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এমনকি রাহুলকে ‘জিম’-এর প্রশিক্ষকের সঙ্গে তুলনাও করেছেন কঙ্গনা।

    কঙ্গনা তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছেন— সংসদে বিজেপি সংসদ সদস্যদের ওপর রাহুল গান্ধী হামলা করেছেন। এ লোকটা সংসদে নিজের হাতের পেশি দেখাতে দেখাতে আসেন। যেন কোনো ‘জিম ট্রেনার’। এবার তো লোকজনকে ধাক্কা দিলেন, ঘুষিও মারলেন। রাহুল গান্ধীর কোনো সম্মান নেই।

    ঘটনার সূত্রপাত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অম্বেডকর-মন্তব্য থেকে। এ দিনের ঘটনায় মাথায় চোট পেয়েছেন ষড়ঙ্গী। সতীর্থ বিজেপি সংসদ সদস্য এবং লোকসভার কর্মীরা ধরাধরি করে বাইরে আনার পর ষড়ঙ্গীকে দেখতে আসেন রাহুল। তার পর আহত সংসদ সদস্যকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

    ষড়ঙ্গী বলেন, রাহুল গান্ধী এক সংসদ সদস্যকে ধাক্কা মারেন। তিনি আমার গায়ের ওপর পড়েন। ফলে আমি মাটিতে পড়ে যাই।

    বিনোদন ডেস্ক

  • এবার নাকি প্রেমে ফিরতে চান কঙ্গনা

    বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির মান্ডির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবসময় বিতর্কে জড়িয়ে থাকেন। এ নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে সমালোচনার ঝড় ওঠে। 

    এ বিতর্কের রানি ফের বিতর্কে জড়াতে অরুচি জানিয়েছে, এবার প্রেমে ফেরা যাক— উদ্যাপনের আবহে বুঝি এমনই ভাবনা কঙ্গনার মনে উঁকি দিয়েছে? এবার ‘তনু ওয়েডস মনু ৩’ ছবিতে থাকার কথা জানিয়েছে একটি প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে। আর কঙ্গনার সঙ্গী অবশ্যই থাকছেন মাধবন।

    কিছুই অসম্ভব নয়। কারণ বিজেপি বিধায়ক কঙ্গনা রানাউতের মর্জি বোঝা দায়। এই তিনি ‘ইমার্জেন্সি’ ছবির কারণে বিতর্কের মধ্যমণি, সেই তিনিই নাকি ফের যাবতীয় তর্ক সরিয়ে রোমান্টিক মেজাজে ফিরতে চলেছেন। সৌজন্যে আনন্দ এলো রাইয়ের ‘তনু ওয়েডস মনু ৩’ ছবি। উৎসবের আবহে প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে এ ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই কঙ্গনার অভিনয়ের অনুরাগীদের মন ভালো করে দিয়েছে।

    কারা থাকবেন ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির তৃতীয় পর্বে? পরিচালক-প্রযোজকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, কঙ্গনার সঙ্গী আর মাধবন অবশ্যই থাকছেন। থাকবেন আগের দুই পর্বের অভিনেতারাও। একই সঙ্গে এই প্রজন্মকে জুড়তে এখনকার কিছু জনপ্রিয় মুখও জায়গা করে নেবেন। তৃতীয় পর্বের গল্প লিখতে আনন্দকে সহযোগিতা করেছেন হিমাংশু শর্মা। 

    এর আগে ২০২৩ সালে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শোনা গিয়েছিল, ‘তনু ওয়েডস মনু ৩’ আসছে। যদিও আনন্দের মুখ থেকে কোনো কথা কেউ শোনেননি। পাশাপাশি তিনি করবেন না, এমন বক্তব্যও কাউকে জানাননি।

    আরও জানা গেছে, ছবিটি সম্ভবত আগামী বছর শুটিং ফ্লোরে যাবে। তার আগে রাই ‘তেরে ইশক মে’ ছবির শুটিং শেষ করবেন। এ ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন ধনুশ। তবে ‘তনু ওয়েডস মনু ৩’ নিয়ে আনন্দ ঘোষণা করলেও ‘বিতর্কের রানি’র মুখ থেকে এখনো কিছু শোনা যায়নি। বলিউড আপাতত তার বক্তব্য শোনার জন্য মুখিয়ে।

    সম্প্রতি মহাত্মা গান্ধী ও লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পোস্ট করে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়ে ছিলেন কঙ্গনা রানাউত। এ বিতর্কের রানি শাস্ত্রীর ১২০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন। কংগ্রেসের দাবি— জাতির জনক হিসেবে মহাত্মা গান্ধীর মর্যাদা হ্রাস পেয়েছে। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পোস্ট করে কঙ্গনা রানাউত লিখেছেন— দেশের কোনো বাবা হয় না, লাল (সন্তান) হয়, ধন্য এই ভারতমাতার সন্তানরা।

    এর পরই শুরু হয় বিতর্ক। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মান্ডির এ সংসদ সদস্য দেশে গান্ধীর স্বচ্ছতার উত্তরাধিকার বহন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। এর ফলে কংগ্রেসের তরফ থেকে একাধিক আক্রমণাত্মক পোস্ট এসেছে কঙ্গনা রানাউতের বিরুদ্ধে। অনেকেই তার মন্তব্যকে অশ্লীল ও নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন। 

    কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতে এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন— বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে তাকে অশ্লীল কটাক্ষ করেছেন। গডসে উপাসকরা বাপু এবং শাস্ত্রীজির মধ্যে পার্থক্য টানেন। নরেন্দ্র মোদি কি তার দলের নতুন গডসে ভক্তকে আন্তরিকভাবে ক্ষমা করবেন? জাতির পিতা আছেন, পুত্র আছেন, শহিদ আছেন— সবারই সম্মান প্রাপ্য। 

    পাঞ্জাবের বর্ষীয়ান বিজেপি নেত্রী মনোরঞ্জন কালিয়াও গান্ধীর জয়ন্তী নিয়ে কঙ্গনার মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, রাজনীতি তার ক্ষেত্র নয়।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক ভিডিওতে কালিয়া বলেন, গান্ধীজির ১৫৫তম জন্মবার্ষিকীতে কঙ্গনা রানাউতের করা মন্তব্যের নিন্দা করছি। স্বল্প রাজনৈতিক জীবনে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন তিনি। রাজনীতি তার জন্য নয়। রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কথা বলার আগে ভাবতে হবে— তার বিতর্কিত মন্তব্য দলের জন্য অশান্তি ডেকে আনছে।

    কৃষি আইন প্রত্যাহারের পক্ষে সওয়াল করেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কঙ্গনা রানাউত। কঙ্গনা যদিও জানিয়েছেন, তার মন্তব্য ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শকে প্রতিফলিত করে না।

    এদিকে কঙ্গনা রানাউত অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও পা রেখেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে রাজনীতির সফর শুরু হয়েছে কঙ্গনা রানাউতের। তবে বিতর্কের কারণে শিরোনামে আসা তার কাছে নতুন কিছু নয়। এ জন্য তাকে ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী বলা হয়ে থাকে। বিটাউনেও নানা মন্তব্য করে বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। পরিণতির কথা না ভেবেই একাধিকবার নানা মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন কঙ্গনা। নিজেই স্বীকার করেছেন, তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে— এমন ক্ষমতা কারও নেই।

    একটি সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, কেউ আমাকে কখনো কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এ অধিকার আমি কাউকে দিইনি। আমার নিজের পছন্দ-অপছন্দের জন্য কেউ কথা শোনাবে বা তির্যক মন্তব্য করবে— এমন অধিকার কারও নেই।

    উল্লেখ্য, কঙ্গনা রানাউত পরিচালিত ও অভিনীত ‘ইমার্জেন্সি’ সিনেমা আইনি জটিলতায় পড়ে সেন্সর বোর্ডে আটকা আছে।  সিনেমাটি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে সামাজিকমাধ্যমে। ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই এটি নিয়ে কয়েকটি শিখ গোষ্ঠী প্রতিবাদ জানায়। এ সিনেমা শিখ ধর্মের অনুসারীদের ভাবাবেগে আঘাত করেছে বলে জানায় শিখ গোষ্ঠী। ফলে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ২১ মাসের জরুরি অবস্থা জারি করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ওপর ভিত্তি করে এ সিনেমা তৈরি করেছিলেন কঙ্গনা রানাউত। 

    ‘ইমার্জেন্সি’ ছবিতে কঙ্গনা রানাউত ছাড়াও থাকছেন অনুপম খের, মহিমা চৌধুরী, মিলিন্দ সোমান, শ্রেয়স তালপাড়ে প্রমুখ। থাকছেন প্রয়াত অভিনেতা সতীশ কৌশিকও। জি স্টুডিওজ এবং মণিকর্নিকা ফিল্মস এ ছবিটি প্রযোজনা করেছে। ভারতের অন্যতম অশান্ত সময়কে তুলে ধরা হয়েছে এ ছবিটিতে। 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত লিখেছেন, ‘ভারাক্রান্ত মন নিয়ে জানাচ্ছি— আমার পরিচালিত সিনেমা ‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তির সময় পিছিয়েছে। এখনো সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছি। সিনেমাটি আগামীতে কবে মুক্তি পাবে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে। বিষয়টি বোঝার জন্য এবং ধৈর্য ধরার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম পূজা, যা বললেন সায়ন্তিকা

    আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে শুরু হলো আনন্দবাজার অনলাইনের বিশেষ বিভাগ ‘তারকার পুজো’। উদ্যাপনের স্মৃতি ও পরিকল্পনা জানাচ্ছেন বিনোদন জগতের তারকারা। এবার পূজা নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের শেয়ার করে জানালেন টালিউড অভিনেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    তিনি লিখেছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর এখন পর্যন্ত চারপাশে সে রকম উন্মাদনা চোখে পড়েনি। কারণটা নতুন করে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে এ বছরের পূজা আমার কাছে একাধিক কারণে তাৎপর্যপূর্ণ।

    সায়ন্তিকা বলেন, আমার মনে হচ্ছে—এবার আমার জীবনের পূজার তৃতীয় পর্যায়। ছাত্রজীবনে বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে রাত জেগে ঠাকুর দেখা, রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়া করা— এটি ছিল একটা জীবন। তার পর যখন শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেলাম, তখন এভাবে ঘোরাঘুরি বন্ধ হয়ে গেল। এর পরিবর্তে বন্ধুদের বাড়িতে আড্ডা দেওয়া বেড়ে গেল। গভীর রাতে তখন সবাই মিলে ঠাকুর দেখতে যেতাম। তখন পূজার সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যস্ততাও বাড়ল। সেখানে পূজা উদ্বোধন থেকে শুরু করে মাচা— সবই রয়েছে। এমনিতে পূজার সময়ে কাজ করতে বরাবর ভালোই লাগে। জন্মদিনে কখনো আমি শুটিংয়ের জন্য কলকাতার বাইরে থেকেছি। কিন্তু পূজার সময়ে আমি সাধারণত কলকাতাতেই থাকি। পূজার শহরের প্রতি আমার একটা আলাদা ভালো লাগা কাজ করে। পূজার সময়ে ষষ্ঠী-সপ্তমী পর্যন্ত আমি কাজ করি। তারপরও যদি কাজ আসে, আমি না বলি না।

    এ সংসদ সদস্য বলেন, কিন্তু এবারের পূজায় আমি তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছি।

    তিনি বলেন, বিধায়ক হিসেবে এটি আমার প্রথম পূজা। ইতোমধ্যে বরাহনগরের একাধিক পূজার উদ্বোধনের অনুরোধ এসেছে। তাই ওই আবার প্রথম পর্যায়ে ফিরে যাব। একটা টিম নিয়ে একটা পূজা থেকে আরেকটা পূজায় যাব। সেখানে আমাদের কাউন্সিলররা থাকবেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নারী। আমাদের চেয়ারম্যানও একজন নারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে একটার পর একটা পূজায় যাব, সেটি নিয়ে আমি বেশ উত্তেজিত। সবার সঙ্গে একটু স্বাধীনভাবে ঘুরতেও পারব। আবার সুযোগ পেলে কোথাও দাঁড়িয়ে ফুচকাও খেয়ে নেব।

    এ অভিনেত্রী বলেন, আমি কোনো দিনই পূজার আলাদা কোনো পরিকল্পনা করি না। তবে বাড়ির বড়দের দেওয়ার জন্য পোশাক নিজের হাতেই কেনার চেষ্টা করি। কিন্তু নিজের জন্য আলাদা করে কোনো দিনই পূজার কেনাকাটা করি না। কারণ যে পেশায় রয়েছি, সারা বছরই কিছু না কিছু কেনা হয়। কেউ হয়তো পূজার আগে একটা শাড়ি উপহার দিলেন। রেখে দিলাম পূজায় পরব বলে। তার বেশি কিছু নয়।

    সায়ন্তিকা বলেন, এ বছর আমার শহরের মন খারাপ। কেউ পূজায় অংশ নেবেন, কেউ হয়তো নেবেন না। কিন্তু তাই বলে তো মায়ের আসা থেমে থাকবে না। তবে এটা ঠিক— গত এক-দুই মাসে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই শহর গেছে, তা দেখে জানি মানুষের অনেক জমে থাকা কথা প্রকাশ্যে এসেছে। এটার প্রয়োজন ছিল। 

    তিনি বলেন, আরজি করকাণ্ডে দোষীদের শাস্তি আমিও চাই। পূজায় অংশগ্রহণ করার অর্থ এটি নয় যে, আমি ন্যায়বিচার চাই না। দুর্গাপূজার পর কালীপূজা বা তারও পরে বড়দিন— কিন্তু আমার নিজের অবস্থান বদলাবে না।

    এ অভিনেত্রী বলেন, পূজা নিয়ে নানা কথা চারদিকে শুনেছি। ইদানীং তারকাদেরও খুব খারাপভাবে কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু পূজা উদ্বোধন, বিজ্ঞাপন, শুটিং— এগুলো তো আমাদের কাজ। রিল বানিয়ে তো আমি একটা পারিশ্রমিক পাই। এগুলো তো আমাদের উপার্জনের মাধ্যম! এটা নিয়ে কারও কোনো সমস্যা হলে কিছু করার নেই। ন্যায়বিচার না পাওয়া গেলে নিশ্চয়ই আমরা আবার পথে নামব। কিন্তু আমি আজকে কাজ না করে বাড়িতে বসে থাকলে কি সেই পদ্ধতি আরও দ্রুত হওয়া সম্ভব? পুরো বিষয়টিই তো এখন সিবিআই দেখছে। ফলে পূজার অংশ হিসেবেও দাবি একটাই— দোষীদের যেন ফাঁসি হয়।

    তিনি বলেন, আগেই লিখেছি— এই বছর পূজায় বরাহনগরেই বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করব। কিন্তু তার পাশাপাশি শিল্পী হিসেবে কোথাও যদি যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তা হলে দুদিক ব্যালান্স করে চলব। আগে তো বাঁকুড়াতেও আমি নিয়মিত যেতাম। ওখানেও পূজা উদ্বোধন করেছি। কাজ সেরে আবার কলকাতায় ফিরে আসতাম। এবার প্রয়োজনে কাছাকাছি কোথাও যাব, যাতে সহজেই কাজ সেরে আবার বরাহনগরে ফিরে আসতে পারি। আশা করছি, কঠিন সময়ের মধ্যেও এবারের পূজা ভালো কাটবে। আমার তরফে আনন্দবাজার অনলাইনের পাঠকদের শারদীয়ার শুভেচ্ছা। আপনাদের পূজা খুব ভালো কাটুক।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সত্য বলে অনেককে হারিয়েছি, কাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়লেন মিমি

    টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তী। অভিনয় ও সংসদ সদস্য হিসেবেও বেশ প্রশংসিত তিনি। এর মধ্যে সামাজিকমাধ্যমে প্রায়ই নিজের ক্যারিয়ারের বাইরে ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ের কথা শেয়ার করতে দেখা যায় এ অভিনেত্রীকে।

    তিনি খুবই সাদামাটা জীবন কাটান, সেটি তার বক্তব্যে স্পষ্ট। কখনো কোনো মিথ্যার আশ্রয় নেন না। আর সত্য বলে বিভিন্ন সময় অনেক কিছু হারিয়েছেন। একই সঙ্গে অনেকের শত্রু হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন মিমি।

    সম্প্রতি ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, আমি সত্য বলে জীবনে অনেক বন্ধু হারিয়েছি। আর এর কোনো হিসাব নেই। তারা আসলে সবাই তেল মারায় অভ্যস্ত। আবার সত্য বলার জন্য তাদের শত্রুও হয়েছিলাম।

    সত্য বলে শত্রু হওয়ার কারণে বন্ধুর সংখ্যা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে এর জন্য কখনো কোনো আফসোস হয় কিনা―এ ব্যাপারে এ অভিনেত্রী বলেন, একদমই না। এটাই বরং বেশ ভালো। যারা সত্য কথা বললে চলে যায়, তারা কখনই বন্ধু ছিল না আমার।

    মিমি বলেন, যারা থেকে গেছে, তারা সারাজীবন আমার সঙ্গে থাকবে। অনেকেই হয়তো মুখে বলবে, আমায় কিন্তু সব সত্য বলবি। কিন্তু যখনই আমি সত্য বললাম, তখন আর নিতে পারে না তারা। আসলে এ রকম কাউকে প্রয়োজন নেই আমার। বন্ধুরা তো সাফল্যে খুশি হবে, বাহবা দেবে। কিন্তু তারা যদি ঈর্ষা করে তা হলে কীসের বন্ধু।

    জীবনে খুব কম মানুষ রয়েছে, যারা আমায় নিয়ে গর্ব করে। আর এই ধরনের কিছু বন্ধু আছে বলে আমিও ভীষণ গর্বিত বলে জানান তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক