Tag: শেখ হাসিনা

  • শেখ হাসিনাকে নিয়ে মীর স্নিগ্ধর পোস্টের জবাবে যা বললেন শাওন

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমানের (মুগ্ধ) যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান (স্নিগ্ধ) বলেছেন, ফ্যাসিস্ট দলের প্রধান শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে না ঝোলানো পর্যন্ত তার নাম মাথায় ঘুরবে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন।

    কিন্তু এমন মন্তব্যের পরপরই এটিকে অন্যের দ্বারা লেখা স্ক্রিপ্ট বলে মনে করেন ঢালিউড অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। স্নিগ্ধর স্ট্যাটাসটির স্ক্রিনশট শেয়ার করে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পাল্টা পোস্টে অভিনেত্রী বলেন, আপনার স্ক্রিপ্ট কে লিখে দেয় ভাইয়া? অতিদ্রুত তাকে বদলে একজন ভালো স্ক্রিপ্টরাইটার নিয়োগ দিন, প্লিজ।

    এই স্ক্রিপ্টলিটনের ফ্ল্যাট’-এর রচয়িতার চেয়েও খারাপ হয়েছে বলে উল্লেখ্য করেন মেহের আফরোজ শাওন।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এর আগে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এক বক্তব্যে আপসহীন নেত্রী শেখ বলার পরেই আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া বলেন। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের
    নেটিজেনরা
    বলছেন, তার সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যাই এই স্ট্যাটাস।

    সদ্য বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত মীর মাহবুবুর রহমান
    স্নিগ্ধ
    লিখেছেন, অন্তরে ঘৃণা নিয়ে যে নামটির জন্ম হয়েছে, সেটি হলো শেখ হাসিনার নাম।
    এটা
    শুধু আমার নয়; বরং বাংলাদেশের সব সাধারণ মানুষের, বিগত ১৬ বছরে অত্যাচারিত হয়েছেএমন সব পরিবারের।

    তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত এই খুনি হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে দেশের মাটিতে ফাঁসির দড়িতে না ঝোলানো হচ্ছে, ততদিন সকালবিকাল, সজ্ঞানে কিংবা ঘুমের স্বপ্নেও এই হাসিনার নাম মাথায় ঘুরবে।

    তিনি আরও বলেন, যতবার এই নাম মুখে আসে, মনে রাখবেনতা কেবল ঘৃণা থেকেই আসে। এই খুনি শেখ হাসিনা যতদিন ফাঁসির দড়িতে না ঝুলছে, ততদিন শান্তি নেই। শেখ শেখ মুখ দিয়ে বের হবেই যতদিন পর্যন্ত না ফাঁসিতে ঝোলানো হচ্ছে এই স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে বলেও জানান মীর মাহবুবুর রহমান
    স্নিগ্ধ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফ্যাসিস্ট হাসিনার দুষ্কর্মে বিনোদন জগতের যারা সমর্থন দিয়েছেন

    জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থী ও সারা দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে শোবিজ তারকারাও যখন রাজপথে নেমে এসেছিলেন, ঠিক তখন শোবিজে দেখা যায় বিভক্তি। শিল্পীদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাজপথে থাকলেও, আরেক দল স্বৈরাচার হাসিনার তোষামোদী নিয়েই ব্যস্ত ছিল। ছাত্র-জনতার রক্তে যখন রাজপথ রক্তাক্ত, মুক্তিকামী দেশবাসী যখন তাদের নির্মম মৃত্যুতে কাঁদছে, ঠিক তখন ইট-পাথরের তৈরি কিছু ভবনের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন একদল সুবিধাভোগী শিল্পী। 

    চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ১৮ জুলাই রাজধানীর রামপুরায় বিটিভি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি শিল্পীদের একাংশ। বিটিভিতে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে ১ আগস্ট বিটিভি প্রাঙ্গণে হাজির হন সংস্কৃতি অঙ্গনের আওয়ামীপন্থি একঝাঁক তারকাশিল্পী। তাদের মধ্যে ছিলেন অভিনেতা ফেরদৌস, রিয়াজ, আজিজুল হাকিম, অভিনেত্রী নিপুণ, সোহানা সাবা, রোকেয়া প্রাচী, জ্যোতিকা জ্যোতি, নূনা আফরোজ,   কণ্ঠশিল্পী শুভ্রদেব, নির্মাতা এসএ হক অলীক, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরুসহ আরও অনেকে। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। অগ্নিকাণ্ডে বিটিভির ক্ষয়ক্ষতি দেখে তাদের অনেকে অঝোরে কেঁদেছিলেন। অথচ সে সময় নিহত ছাত্র-জনতার জন্য তাদের চোখে কোনো পানি ছিল না। তাদের চোখের পানি গড়িয়েছে ইট পাথরের দেয়ালের জন্য। এর আগেও শেখ হাসিনার সমর্থনে বিটিভি ভবন পরিদর্শন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, সারা যাকের, পিযূষ বন্দোপাধ্যায়, গোলাম কুদ্দুস, ঝুনা চৌধুরী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ প্রমুখ।      

    শুধু তাই নয়, ছাত্রদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে আওয়ামীপন্থী সেসব শিল্পী খুলেছিল ‘আলো আসবেই’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। সেখানে পরিকল্পনা করা হতো কীভাবে ছাত্র-জনতার গায়ে ‘গরম পানি’ ঢেলে দিয়ে আন্দোলন থামান যায়। এ গ্রুপে দুই শতাধিক সংস্কৃতিকর্মী ছিলেন। যারা জুলাইবিপ্লবের পুরোটা সময় শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে আন্দোলনের বিরোধিতা করে গেছেন এবং কীভাবে আন্দোলনকে দমানো যায় তার পরামর্শ দিয়েছেন। সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী আরাফাতের সমন্বয়ে এ গ্রুপের অ্যাডমিন ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, রিয়াজ, সাজু খাদেম ও অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি। 

    গ্রুপের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, তানভীন সুইটি, জ্যোতিকা জ্যোতি, রোকেয়া প্রাচী, সোহানা সাবা, সুবর্ণা মুস্তফা, বিজরী বরকতুল্লাহ, স্বাগতা, শমী কায়সার, আশনা হাবীব ভাবনা, উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, হৃদি হক, দীপান্বিতা মার্টিন, নূনা আফরোজ, মেহের আফরোজ শাওন, সঙ্গীতা মেখাল, শাহনূর, অভিনেতা আজিজুল হাকিম, রওনক হাসান, রফিক (রজনীগন্ধা), জামশেদ শামীম, খান জেহাদ, ফজলুর রহমান বাবু, আশরাফ কবীর, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, ঝুনা চৌধুরী, লিয়াকত আলী লাকি, সাইফ খান, স্মরণ সাহা, সায়েম সামাদ, শাকিল (দেশনাটক), শহীদ আলমগীর, মো. শাহাদাত হোসেন, মিলন ভট্ট, নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ, মাসুদ পথিক, এবার্ট খান, জুয়েল মাহমুদ, মুশফিকুর রহমান গুলজার, এসএ হক অলীক, রুবেল শঙ্কর, রাজিবুল ইসলাম রাজিব, সৈয়দ আওলাদ, সাবেক এমপি হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ সমর্থক হারুনুর রশিদ, সাখাওয়াত মুন, নাহিদ, প্রণীল, রুনি প্রমুখ। এদের মধ্যে অনেকেই এখনো ফেসবুকে সক্রিয়ভাবে ও প্রকাশ্যে জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করছেন। 

    এদিকে অনেক শোবিজ তারকা কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ছাত্ররা যখন ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল, তখন সেটার বিরোধিতা করে ফেসবুকে স্টেটাস দিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

    মাসুম রেজা (লেখক ও নির্দেশক) : ‘যারা একাত্তরে পরাজিত হলো তাদের পরিচয়ে নিজেদের পরিচিত করছেন! কী দারুণ মেধাবী আপনারা! এত মেধা আপনাদের কোন প্রেতাত্মা সাপ্লাই করছে!’

    রওনক হাসান (অভিনেতা) : হাজারো সাধারণ ছাত্রছাত্রীর এ আন্দোলনকে সুকৌশলে যেদিকে প্রবাহিত করা হলো তা দেখে এটাই স্পষ্ট এর মাস্টারমাইন্ড কারা।’

    শামীমা তুষ্টি (অভিনেত্রী): যারা নিজেদের রাজাকার বলতেও দ্বিধা করে না, আবার তারাই সরকারি চাকরির জন্য কোটা চায়, তাদের হাতে দেশ গেলে কি হবে সেটাই ভাবছি।’

    আর অভিনয়শিল্পী সংঘ ছিল আরও এক কাঠি সরস। সংগঠনের সভাপতি অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম ও সাধারণ সম্পাদক অভিনেতা রওনক হাসান কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হচ্ছে, এমন দাবি করে বিবৃতি দিয়ে প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এছাড়া অনেকেই শেখ হাসিনার পদত্যাগের ‘একদফা দাবি মানি না’ বলেও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

    এ ছাড়াও আন্দোলনে বেশ কিছু তারকাশিল্পী ছিলেন নীরব ভূমিকায়। হাসিনার দোসর হিসাবে চিহ্নিত সেসব শিল্পী নীরবে স্বৈরাচারের পক্ষে কাজ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। যিনি বহুবার গণভবনে গিয়ে হাসিনাকে ‘মা’ সম্বোধন করে গান শুনানোর আবদার করতেন। গান শুনাতেনও। তার সঙ্গে একাধিক তারকা গণভবনে গিয়ে হাসিনার মনোরঞ্জনের খোরাক জোগাতেন। অভিনেতা মীর সাব্বির ও অভিনেত্রী তারিন জাহানও সর্বদা শেখ হাসিনার তোষামোদে ব্যস্ত ছিলেন। যে কোনো আয়োজনে হাসিনা উপস্থিত থাকুক বা না থাকুক, মাইক্রোফোন হাতে তার বন্দনায় মত্ত থাকতেন এ দুই অভিনয়শিল্পী। 

    আন্দোলন নিয়ে এসব শিল্পী রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম সব জায়গায় ছিলেন নীরব। শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত নিথর দেহও তার মন গলাতে পারেনি। এদিকে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া তো স্বয়ং হাসিনার রূপেই আবির্ভূত হয়েছিলেন। ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ নামে একটি সিনেমায় তিনি হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আন্দোলনে তিনি ছিলেন বিদেশে। দেশের রাজপথ যখন ছাত্র-জনতার রক্তে সিক্ত, তখন বিদেশ থেকেই স্বল্পবসনা ছবি প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে উত্তাপ ছড়িয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ছিল তার। চিত্রনায়ক আরিফিন শুভও ছিলেন এ তালিকায়।  

    তার বিয়ে বিচ্ছেদ অনেক আগেই হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলন থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্নদিকে সরাতে নিজের বিয়ে বিচ্ছেদের পুরোনো খবর প্রকাশ্যে আনেন আওয়ামী সুবিধাভোগী এ অভিনেতা। এছাড়া এমন আরও অনেক তারকা রয়েছেন যারা সামাজিক মাধ্যমে বেশ সরব ছিলেন আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে। এসব দলকানা শিল্পী কাজ করেছেন স্বৈরাচার হাসিনার হয়ে।

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে অনুশোচনা ছিল না নুসরাত ফারিয়ার

    গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত দল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন না নুসরাত ফারিয়া। তবে ‘মুজিব’ সিনেমায় শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করার পর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি। একবার তো এও বলে বসেছিলেন যে, ‘প্রত্যেকটা বাঙালি মেয়ের মধ্যেই একটা করে হাসিনা রয়েছে।’

    তখন থেকেই পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে দেখা হয় নুসরাত ফারিয়াকে। যার জেরে গতকাল রোববার (১৮ মে) ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আটক হন তিনি। পরে তাকে ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

    শেখ হাসিনা চরিত্রে অভিনয় করার পর যে সমালোচনার শিকার হয়েছেন তিনি, তা নিয়ে গত মার্চে প্রথমবার মুখে খোলেন নুসরাত ফারিয়া। তাকে একটি পডকাস্টে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি কি শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করার কারণে অনুশোচনায় ভোগেন? এ প্রশ্নের উত্তর ফারিয়া ইংরেজিতে দেন, যার বাংলা করলে দাঁড়ায়— ‘আমি বলতে চাই, এখানে অনুশোচনার মতো কিছুই নেই। মুজিব সিনেমার জন্য ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল— এই ৫ বছর আমি একই লুকে নিজেকে মেইনটেইন করেছি। চুলে কোনো রঙ করিনি, কালো চুল নিয়ে ঘুরেছি এই চরিত্রটির জন্য। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ শারীরিক ওজনের মধ্যে থাকতে হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাইছি— এই সিনেমার জন্য আমি আমার জীবনের দীর্ঘ ৫ বছর দিয়েছি। ফলে সেই কাজটিকে নিয়ে যদি অনুশোচনা করি, তাহলে আমার পেশাকেই অপমান করা হবে।’

    নুসরাত বলেন, ‘এই সিনেমার জন্য আমি যে পরিস্থিতি পার করেছি বা এখনো করছি, তা আমার ভাগ্যে লেখা ছিল বলেই মনে করি। এটা খণ্ডানোর ক্ষমতা আমার ছিল না। একটি দেশের সরকারি পর্যায় থেকে কোনো কাজের প্রস্তাব এলে তা নিজের অত পছন্দ না হলেও মানা করা যায় না।’

    গেল বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর লম্বা সময় নিভৃতেই ছিলেন নুসরাত ফারিয়া। তবে গত রোজার ঈদের সময় ফের বিনোদন অঙ্গনে সরব হন তিনি। ঈদে তার সিনেমা ‘জ্বিন-৩’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। তবে ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত অন্যান্য সিনেমার তুলনায় খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি ‘জ্বিন-৩’।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আরজে থেকে যেভাবে পর্দার হাসিনা নুসরাত ফারিয়া

    এই সময়ে ঢালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া চট্টগ্রামে জন্ম হলেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে। ২০২১ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা অভিনেত্রীর ভাই ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। ছোটবেলায় তিনিও হতে চেয়েছিলেন একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক। কিন্তু জীবন তাকে নিয়ে এসেছে বিনোদন জগতে।

    পর্দার হাসিনার মিডিয়ায় পথচলা শুরু হয় আরজে হিসেবে। এরপর জনপ্রিয়তা পান উপস্থাপনায়। আরটিভির ‘ঠিক বলছেন তো’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টেলিভিশনে উপস্থাপনা শুরু করেন তিনি। ২০১২ সালে এনটিভির ‘থার্টিফাস্ট ধামাকা কক্সবাজার’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে নজর কাড়েন নুসরাত ফারিয়া। ২০১৩ সালে বলিউড তারকা সুনিধি চৌহানের কনসার্ট উপস্থাপনাও তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক প্রশংসা। ‘লেট নাইট কফি উইথ নুসরাত ফারিয়া’, ‘ক্লিয়ার এসএ লাইভ স্টুডিও’, ‘লাক্স ওয়ার্ল্ড অব গ্ল্যামার’ ও রেডিও ফুর্তির ‘নাইট শিফট উইথ ফারিয়া’— এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেন টেলিভিশন স্ক্রিনের এক পরিচিত মুখ।

    অভিনেত্রী ও উপস্থাপনার বাইরেও নুসরাত ফারিয়া জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন মডেল ও গায়িকা হিসাবেও। তিনি ‘ডোর’ ফ্যাশন হাউসের ব্র্যান্ড মডেল হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়া ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি, সিম্ফনি, সিটিসেলসহ বহু বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হয়েছেন অভিনেত্রী। গানেও রেখেছেন সাড়া জাগানো উপস্থিতি, যা তাকে শোবিজের এক বহুমাত্রিক প্রতিভায় রূপ দিয়েছে।

    এরপর একদিন হঠাৎ ডাক আসে সিনেমার। দুই চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে বড়পর্দার জন্য দাঁড়ালেন ক্যামেরার সামনে। ২০১৫ সালে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘আশিকী’ দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক অভিনেত্রীর। এ সিনেমার মাধ্যমেই উপস্থাপিকা থেকে পরিণত হন রুপালি পর্দার নায়িকায়। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি নুসরাতকে। 

    দুই বাংলায় একের পর এক সিনেমায় কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। এরপর কেটে গেল অনেক বছর। দিন দিন দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা হয়ে উঠেন নুসরাত ফারিয়া। বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ‘হিরো ৪২০’, ‘বাদশা দ্য ডন’, ‘প্রেমী ও প্রেমী’, ‘অপারশেন সুন্দরবন’, ‘বস ২’, ‘বিবাহ অভিযান’ উল্লেখযোগ্য। 

    তবে ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমায় শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনা ও সমালোচনা দুই-ই যোগ করেন ক্যারিয়ারে। এটি তার জীবনে সিনেমাপ্রেমীদের বিভক্তি গড়ে দেয়। শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর সিনেমা ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এ সিনেমাটি পরিচালনা করেন ভারতের খ্যাতিমান পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। এ সিনেমায় শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং শেখ হাসিনা চরিত্রে অভিনয় করেন নুসরাত ফারিয়া। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর পর্দার শেখ হাসিনাও দেশ ছাড়ছিলেন। তবে হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলেও নুসরাত ফারিয়ার গন্তব্য ছিল থাইল্যান্ডে।

    গতকাল রোববার (১৮ মে) শেখ হাসিনার মতো দেশ ছেড়ে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় অভিনেত্রীকে। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করে। 

    উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত ভারতেই অবস্থান করছেন স্বৈরাচার আওয়ামী নেত্রী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনা হচ্ছে।

    সেই আন্দোলন চলাকালীন রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা থাকায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল ঢালিউড অভিনেত্রী পর্দার হাসিনা নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে। ওই মামলায় তাকে আটক করা হয়।

    এ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার মামলা রয়েছে ভাটারা থানায়। যেহেতু মামলা রয়েছে, সে জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে দিয়েছে। এরপর ভাটারা থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। 

    মামলা সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের সংশ্লিষ্ট ২৮৩ জন ও অজ্ঞাতনামা তিন-চারশজনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি করেছেন এনামুল হক। মামলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে আসামি করা হয় অভিনেত্রী নায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে।

    এদিকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নুসরাত ফারিয়া চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলেন। যার অ্যাপয়েন্টমেন্ট আগেই নেওয়া ছিল।

    বিনোদন ডেস্ক

  • পাঠ্যবইয়ে ঠাঁই পেলেন র‌্যাপার হান্নান ও সেজান

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ উইনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এর আগে সাধারণ শিক্ষার্থী ও মানুষের আন্দোলনকে বেগবান করতে দুই র‌্যাপার হান্নান ও সেজান গান করেছিলেন। সেই গানগুলো এবার পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    তরুণ র‌্যাপার হান্নান হোসাইন শিমুলের ‘আওয়াজ উঠা’। নারায়ণগঞ্জের এই তরুণ র্যাপারের গানটি প্রকাশ হওয়ার সপ্তাহখানেক পরই ২৫ জুলাই গ্রেফতার করা হয় তাকে। পরে ১২ দিন কারাগারে থাকার পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে মুক্তি পান তিনি। অন্যদিকে ১৬ জুলাই মোহাম্মদ সেজানের ‘কথা ক’ প্রকাশের পরই বিদ্রোহের অংশ হয়ে উঠে গানটি। এবং প্রতিবাদী গান করার কারণে ওই সময়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রোষানলে পড়েন তারা। 

    এবার সেই গানের জন্যই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন হান্নান ও সেজান। সম্প্রতি এ নিয়ে দেশের একটি সংবাদ মাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে জায়গা করে নিয়েছে তরুণ দুই র‌্যাপার হান্নান ও সেজানের কথা। আর বইয়ে বলা হয়েছে―আপনি কি সেজানের ‘কথা ক’ গানটি শুনেছেন? আগের প্রজন্মের শিল্পীরা গানকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করতে ভয় পেলেও সেজান ও হান্নানের মতো শিল্পীরা সে সাহস দেখিয়েছেন।

    ইংরেজি বইয়ে ‘নতুন প্রজন্ম’ শিরোনামের সেই লেখায় আরও বলা হয়েছে— তাদের র‌্যাপ গানগুলো ২০২৪ সালের জুলাই বিদ্রোহের সংগীতে পরিণত হয়েছিল। নতুন প্রজন্ম আর ভয় পায় না, তারা সাহসী ও ব্যতিক্রম।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিপদে আছেন তিশা, ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ফোন নম্বর

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ উইনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। সেই অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 

    এ মুহূর্তে এ নির্মাতার ‘৮৪০’ তথা ‘ডেমোক্রেসি প্রাইভেট লিমিটেড’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে চলছে। এবার টিভি পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি। আগামীকাল ৩ জানুয়ারি দেশের তিনটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেখানো হবে রাজনীতিভিত্তিক এ স্যাটেয়ার। সেই উপলক্ষে গতকাল বুধবার (১ জানুয়ারি)  চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন সিনেমার প্রযোজক-অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। 

    প্রথমবার সিনেমার প্রযোজক হিসেবে এসেছেন অভিনেত্রী। ২০ দিনে সিনেমাটি কতটা ব্যবসা হয়েছে— এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, ‘প্রথম দিন থেকে মানুষ সিনেমাটি দেখছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা সিনেমাটি বেশি দেখছে। ব্যবসা নিয়ে আমরা খুব বেশি ভাবছি না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সিনেমাটি যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়।

    তিশা বলেন, একটি সিনেমা মুক্তির পর সিনেমা হলের পাশাপাশি দেশের তিনটি চ্যানেলে একই দিন থেকে প্রচার হতে যাচ্ছে— এমনটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ঘটেনি। দর্শকদের কথা বিবেচনা করে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ দর্শক সিনেমাটি দেখতে চায়।

    তিশা আরও বলেন, ৩ জানুয়ারি থেকে চ্যানেল আই, দীপ্ত টিভি ও আর টিভি-তে সম্প্রচার করা হবে। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই সম্প্রচার। চ্যানেল আইতে দেখানো হবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে, আরটিভিতে রাত ৮টায় এবং দীপ্ত টিভিতে প্রচার হবে রাত সাড়ে ১০টায়। পাশাপাশি সিনেমা ভার্সন চলবে দেশের সিনেমা হলগুলোতে।

    সেখানে তিশাকে প্রশ্ন করা হয়— আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের চিত্র নিয়ে তৈরি এই সিনেমা মুক্তির পর প্রযোজক হিসেবে কোনো হুমকি পেয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ পেয়েছি। দুঃশাসনের চিত্র নিয়ে তৈরি এ সিনেমাটি প্রচারের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে হুমকি পাচ্ছেন তিনি।  সেই সঙ্গে আমার ফোন নম্বরটা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 

    তিনি বলেন, আমি বলব— সিনেমা মুক্তির পর কী হয়েছে না হয়েছে, কে কতটা মন খারাপ করেছে, সেটি মাথায় ধরে রাখলে চলবে না। সিনেমাটা দর্শক পছন্দ করছে— এটিই আমার জন্য বড় বিষয়।

    প্রসঙ্গত, এ সংবাদ সম্মেলনে অভিনেত্রী তিশা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান, মিলন শেখ, আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান, দীপ্ত টিভির সিইও তাসনুভা আহমেদ টিনা এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসিফের দীর্ঘ পোস্ট

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ উইনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কিছু দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বিনোদন জগতের সংগীতের যুবরাজ আসিফ আকবর।

    এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোণঠাসা ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। কোনো একটি দলের সমর্থনের কারণে দেশের টিভিচ্যানেলসহ কোনো অনুষ্ঠানে কোথাও তাকে গান করতে দেওয়া হয়নি। এখন তিনি উন্মুক্ত। কোনো বাধা নেই। সারা দেশে তার গান বাজছে। বিভিন্ন প্রোগ্রামে অনুষ্ঠান করছেন তিনি।

    সম্প্রতি আসিফ আকবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে তিনি সরকারের কাছে বিভিন্ন সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বলেছেন, মিডিয়ায় বলেছিলাম— অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ না হলে আলোচনা-সমালোচনায় যাব না। নতুন সরকারকে ১০০ দিন সময় দেওয়া এক ধরনের সৌজন্যতা। আমার তরফ থেকে সৌজন্যতা শেষ, এখন থেকে ভালো-মন্দ লিখতে হবে, পুরোনো অভ্যাস। 

    তিনি বলেন, শুরু করতে চাই আমার জেলা কুমিল্লা নিয়ে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ দুজনই কুমিল্লার সন্তান, দুজনেই সরকারের প্রভাবশালী সভাসদ, আপনাদের অভিনন্দন। 

    ১. এই মৌসুমে বিপিএল ক্রিকেটে কুমিল্লা নেই কেন? এই প্রশ্নের উত্তর তিন নম্বর আসিফ, অর্থাৎ আমার কাছে জানতে চায়, আমি নিজেও জানতে চাই। আসিফ মাহমুদ আপনি এই সহজ ব্যাখ্যাটা দিয়ে দিন প্লিজ। 

    ২. কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি এখনও কেন দেওয়া হয়নি? কেন এখনও অনিশ্চয়তা? মূল কমিটি তাহলে কবে হবে? খেলাধুলার ইয়ার ক্যালেন্ডার কীভাবে হবে? এদিকে লোকাল খেলাধুলা বন্ধ হয়ে আছে! 

    ৩. ঢাকার ফুটবল টিমকে কুমিল্লা স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেওয়ার কারণ কি? তারা হোমগ্রাউন্ড বানিয়ে খেলবে আর কুমিল্লার খেলোয়াড়রা থাকবে মাঠের বাইরে— এটি কোন ধরনের যুক্তি। ক্রিকেট মৌসুম শুরু হয়ে গেছে, অথচ মাঠ দখল করেছে ঢাকার ক্লাব ফুটবল দল। কুমিল্লার খেলোয়াড় সৃষ্টিতে মহা প্রতিবন্ধক এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কেন? 

    ৪. পতিত স্বৈরাচার হাসিনা কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে কলোরেক্টাল (Colorectal) অ্যালার্জিতে ভুগে শেষমেশ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো। আপনারা এবার কাইন্ডলি কুমিল্লাবাসীকে জানান— কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে বাঁধা কোথায়? অগ্রগতি কতদূর? 

    ৫. কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া— এই ছয় জেলায় প্রবাসী আধিক্য বেশি। কুমিল্লা এয়ারপোর্ট পুনরায় চালু করার দাবি বহু আগে থেকেই সরব, আপনাদের পদক্ষেপ কি জানতে চাই? 

    আসলে স্বাধীনতার পর কুমিল্লা জেলাবাসী বিরাট বিরাট নেতা মন্ত্রী পেয়ে শুধু তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে। মেডিক্যাল কলেজ আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কুমিল্লাবাসীর পক্ষ থেকে করা এই জরুরি প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • দানবের হাত থেকে বের হতে না হতেই মহাদানবের আবির্ভাব: চমক

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। সেই আন্দোলনের সময় বিনোদন জগতের ছোটপর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। প্রায় সময়ই সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে থাকেন তিনি। পাশাপাশি নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডেও দেখা যায় তাকে।

    এদিকে সরকার পতনের পর দেশজুড়ে নৈরাজ্যের ঘটনায় ১৬ বছর ধরে শাসনামলে থাকা আওয়ামী লীগ দলটিরই দায় দেখেছেন অভিনেত্রী। তবে সম্প্রতি সময়ে কিছু বিষয় যেন হতাশা করেছেন রুকাইয়া জাহান চমক।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি লিখেছেন— এক দানবের হাত থেকে বের হতে না হতেই অন্য মহাদানবের আবির্ভাবের বিষয়টি তারাই সবচেয়ে বেশি রিলেট করতে পারবে, যারা এক টক্সিক রিলেশন থেকে বের হয়ে আরও এক্সট্রিম টক্সিক রিলেশনে গেছে। আল্লাহ রক্ষা কর।

    এদিকে গতকাল মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) আরও একটি স্ট্যাটাসে এ অভিনেত্রী লিখেছেন— অতঃপর মা বুঝাইয়া কহিলো, বোবার কোনো শত্রু নাই, তাই ভালো চুপ থাকাই। এরপর কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করে রুকাইয়া জাহান চমক লিখেছেন— দেখেন যেইটা ভালো মনে করেন। কিছু জিনিস এই দেশে জীবন দিয়েও পরিবর্তন হবে না।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছিলেন রুকাইয়া জাহান চমক। এরপর ২০২০ সালে অভিনয়ে নাম লেখান তিনি। কাজ করেন টেলিভিশন নাটকে। এরপর বেশ অল্প দিনেই ছোটপর্দার পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন এ অভিনেত্রী। ‘হায়দার’, ‘হাউস নম্বর-৯৬’, ‘মহানগর’, ‘সাদা প্রাইভেট’, ‘অসামপ্ত’, ‘ভাইরাল হ্যাজব্যান্ড’-এর মতো বেশ কিছু একক নাটক, ধারাবাহিক ও ওয়েব সিরিজে কাজ করে বেশ আলোচনায় এসেছেন চমক।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফারুকীকে অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন জয়

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যুক্ত হলেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান এ পরিচালক। তার সঙ্গে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে আরও দুজন যুক্ত হয়েছেন। তারা হলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম ও ব্যবসায়ী সেখ বশির উদ্দিন।

    রোববার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন উপদেষ্টাদের শপথ পড়ান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ।

    এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে জায়গা পাওয়ায় বিনোদন জগতের তারকারা ফারুকীকে অভিনন্দন জানান। প্রথম অভিনন্দন বার্তাটি পাঠিয়েছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। সন্ধ্যা ৭টায় এ নির্মাতা শপথগ্রহণের আগেই ফারকীর একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে তাকে অভিনন্দন জানান জয়। যেখানে তিনি লিখেছেন—অভিনন্দন ফারুকী ভাই। আমাদের মানুষ। আমাদের আস্থা। শান্তির বার্তা দিয়ে হোক শুরু আপনার নেতৃত্ব।

    জয়ের সেই স্ট্যাটাসে ভক্তরাও ফারুকীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তার হাত ধরে এবার দেশের শোবিজ অঙ্গনে বড় কিছু পরিবর্তন আসবে বলেও প্রত্যাশা করেছেন তারা।

    উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। ওইদিনই বিলুপ্ত হয় মন্ত্রিসভা। পর দিন ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • আপনারা খুনির ফোনালাপ শোনেন: ফারুকী

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। ছাত্র-জনতার এ আন্দোলনে বিনোদন জগতের তারকারা ছিলেন বিভক্তিতে। এক দল শিল্পী ছিল আওয়ামী সরকারের দালালিতে, অন্যদিকে আরেক দল ছিল একদফা দাবিতে সরকার পতনের আন্দোলনে।

    আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ উইনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। কিন্তু এরপরও থেমে নেই একশ্রেণির শিল্পীদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সেই ষড়যন্ত্র। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে ঢালিউড নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক হলেও একজন শিল্পী রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যা, গুমের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিস্টের পক্ষে কথা বলতে পারেন না। 

    তিনি বলেন, আপনি আওয়ামী লীগ সমর্থক হতে পারেন, বিএনপি সমর্থক হতে পারেন; কিন্তু শিল্পী হলে কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যা, গুমের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিস্টের পক্ষে কথা বলতে পারেন না। ফ্যাসিজমের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করতে পারেন না। এবার আপনারা গত ১৬ বছর এই তিনটি সংগঠনের সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক ভূমিকা কি ছিল, সেটা ভেবে দেখুন। তার মানে কি— এসব ফুট সোলজারদের আঘাত করতে হবে? বিপ্লবের পক্ষের ভাইবোনদের অসন্তুষ্টির আশঙ্কা মাথায় নিয়েও বলব— আমি ব্যক্তিগতভাবে এর বিরুদ্ধে।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে এ নির্মাতা আরও লিখেছেন— আমি এর আগেও অনেকবার লিখেছিলাম যে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ‘সময়’ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। আওয়ামী লীগের বি-টিম হিসেবে খেলতে খেলতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এবং শর্ট ফিল্ম ফোরাম নতুন প্রজন্মের কাছে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে।

    হিটলারের সময় উল্লেখ করে ফারুকী লিখেছেন— একবার ভাবুন, হিটলারের আমলে কোনো শিল্পী হিটলারের মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিবাদ তো দূরের কথা, তার গাছের গোড়ায় পানি ঢাললে তাকে ইতিহাস কি হিসেবে বিচার করত।

    ফারুকী বলেন, পাশাপাশি এটিও মাথায় রাখতে হবে— রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। খুনি-লুটপাটকারীর বিচার শুরু হয়নি। কিন্তু নানা জায়গায় উসকানি দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ডি-স্ট্যাবিলাইজ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আপনারা খুনির ফোনালাপ শোনেন। দেখেন সে অনুতপ্ত নাকি আরও খুন করার উসকানি দিচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিপ্লবের পর কুলিং পিরিয়ডটা পার হতে দিতে হয়। না হলে এ অবস্থায় আমি লিবারেল ক্রিটিকের স্পেস কীভাবে আশা করব? এর উত্তর আমি জানি না।

    বিনোদন ডেস্ক