Tag: শিল্পকলা একাডেমি

  • বিনামূল্যে তিন দিনে ছয় সিনেমা দেখতে পাবেন শিল্পকলায়

    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তিন দিনব্যাপী ‘চলচ্চিত্র উৎসব: একাল-সেকাল’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। আগামী ৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এ উৎসব চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। জাতীয় চলচ্চিত্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিভিন্ন সময়ের মোট ছয়টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে এবং দর্শকদের জন্য সব প্রদর্শনী থাকবে বিনামূল্যে উন্মুক্ত।

    উৎসবের উদ্বোধনী প্রদর্শনী হিসেবে ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় দেখানো হবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’। কোরবানির ঈদে মুক্তির পর দেশ-বিদেশে প্রশংসিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। একই দিন রাত ৮টায় প্রদর্শিত হবে জহির রায়হানের কালজয়ী সৃষ্টি ‘জীবন থেকে নেয়া’, যেখানে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল ও আনোয়ার হোসেনসহ অনেক গুণী শিল্পী।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ১০ আগস্ট উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে দর্শকরা দেখতে পাবেন খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’। এরপর রাত ৮টায় প্রদর্শিত হবে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান নির্মিত ‘মাস্তুল’।

    উৎসবের শেষ দিন ১১ আগস্ট বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে আমজাদ হোসেনের ‘দুই পয়সার আলতা’। সমাপনী আয়োজন হিসেবে রাত ৮টায় দেখানো হবে আকাশ হক পরিচালিত ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’।

    ‘সবার জন্য চলচ্চিত্র, সবার জন্য শিল্প-সংস্কৃতি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত উৎসবটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। পুরো আয়োজনের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • শুক্রবার শিল্পকলায় ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ এর ৪৪তম মঞ্চায়ন

    ঢাকার অন্যতম নাটকের দল ঢাকা পদাতিক। দলটির ৩৮তম প্রযোজনা ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’। আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার দলে নাটকটির ৪৪তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।

    বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়বস্তুকে উপজীব্য করে নাটকটি মঞ্চে আনে ঢাকা পদাতিক। নাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তার মৃত্যুর পর নাটকটির নবনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন দেশের প্রথিতযশা অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী।

    প্রয়োজন অনুযায়ী, নাটকটির কিছু অংশে অলংকরণ ও মঞ্চ-পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি। নাটকটি মঞ্চপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শক্তিশালী সংলাপ এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এটি বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের আলোচিত প্রযোজনাগুলোর অন্যতম।

    এরই মধ্যে ভারতের দিল্লিতে নাটকটির দুটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দর্শক ও নাট্যসমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

    নবনির্দেশনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাদের চৌধুরী বলেন, ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মাসুম আজিজ ভাই। তার প্রয়াণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু অংশে অলংকরণ করে নবনির্দেশনার কাজটি করেছি। নাটকে আমি মাস্টারদা সূর্যসেন চরিত্রে অভিনয় করছি। ইতিহাসভিত্তিক এই নাটক বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই দেখা উচিত।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    প্রায় ৪০টি চরিত্র নিয়ে নির্মিত নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অম্বিকা চক্রবর্তী, নির্মল সেন, ব্রিটিশ উকিল, নেত্র সেন ও বাঙালি উকিল।

    বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, হাসনাহেনা শিল্পী, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসান, রবিউল মিলটন, আক্তার হোসেন, তারেক আলী মিলন, আতিকুর রহমান, আল আমিন স্বপন, সুমন ঘোষ, ফারজানা নিপা, আরিফ, মাকসুদ, জাহিদ প্রমুখ।

    নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন জাকারিয়া কিরণ, সংগীত পরিচালনায় আবুল বাশার সোহেল এবং মঞ্চ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন শ্যামল হাসান।

    বলে রাখা ভালো, ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশে একাধিক সফল মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নাটকটি ইতিহাসভিত্তিক নাট্যপ্রযোজনার অন্যতম আলোচিত সংযোজন হিসেবে দর্শকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।

    নিজস্ব প্রতিবেদক

  • চাঁদ রাতে বিশেষ ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’ শিল্পকলায়

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাঁদ রাতকে ঘিরে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। ‘চাঁদ রাতের ঈদ আনন্দ উৎসব–২০২৬’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে একাডেমির নন্দন মঞ্চে, চাঁদরাত সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে।

    শিল্পকলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আনন্দকে আরও বর্ণিল ও প্রাণবন্ত করে তুলতে দেশের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীদের অংশগ্রহণে সাজানো হয়েছে এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবেন দিলরুবা খান, বেবী নাজনীন, ন্যান্সি, পিয়াল হাসান, নোলক বাবু, অনিমেষ রায়, অনন্যা আচার্য ও সমীর কাওয়ালসহ আরও অনেকে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমানের। এছাড়া সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা আয়োজকদের।

    আয়োজনের একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে ‘মেহেদী কর্নার’। চাঁদরাতের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ কর্নারে দর্শনার্থীরা মেহেদী পরার সুযোগ পাবেন, যা উৎসবে বাড়তি আনন্দ যোগ করবে।

    শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের অংশগ্রহণে এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিনি জানান, পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দর্শকরা চাঁদ রাতের আবহে এক অনন্য সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন।

    ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নানা আয়োজন থাকলেও শিল্পকলা একাডেমির এই উদ্যোগটি বরাবরের মতোই সংস্কৃতিমনা দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, সংগীত, আড্ডা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভিন্নমাত্রার এক চাঁদ রাত উপহার দেবে এই অনুষ্ঠান।

    সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

  • বিভাগীয় শহরে হচ্ছে চলচ্চিত্র উৎসব, প্রদর্শিত হবে ৮৯টি সিনেমা

    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু হচ্ছে ৫ দিনব্যাপী ‘চতুর্থ বাংলাদেশ
    স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৫’। ২৭ মে থেকে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে
    শুরু হবে এ উৎসব। চলবে ৩১ মে পর্যন্ত।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) উৎসবের উদ্বোধন করবেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অনম বিশ্বাস।
    সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা
    সরয়ার ফারুকী।

    শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় সন্ধ্যা আজ ৭টা থেকে উদ্বোধনী আয়োজনে
    প্রদর্শিত হবে মহিউদ্দিন আল আরাবীর ‘সূর্যমুখী’, সাইয়াদুস সালেহীন জাইমের ‘কালাপাথর’,
    সুপিন বর্মনের ‘আ লেটার অব পোস্টমাস্টার’, নূরে আলম নির্ভীকের ‘নদীর কোনো দেশ নাই’,
    সিজান আজমিরের ‘এম আদার’, মুহাম্মদ জুনায়েদ হাসানের ‘ধন্যবাদ মা’ ও রাশেদ মানিকের
    ‘প্রাণবিক’। ৩১ মে সমাপনী আয়োজনে থাকছে মিজানুর রহমানের ‘চোরাপথের শেষে’, মল্লিকা রায়ের
    ‘প্রদোষে’, মো. জনি হোসাইনের ‘নিড়া’ চলচ্চিত্র।

    উৎসব প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক
    মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এবং নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের
    ব্যবস্থাপনায় উৎসব হচ্ছে। আর আগেও একাডেমি বিভিন্ন সময় ৩টি উৎসব আয়োজন করেছে। চলচ্চিত্র
    শিল্পের প্রসার, বিকাশ এবং মানসম্মত দেশীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রক্ষেপণ
    এবং অনুধাবন করাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উক্ত উৎসবের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য
    এবং মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করাই এ উৎসবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’

    জানা গেছে, সারা দেশ থেকে সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যরে মোট
    ৩০০টি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। যার মধ্যে রয়েছে ২০৯টি ফিকশন এবং ৯১টি ডকুমেন্টারি। পরবর্তীতে
    সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে প্রাথমিক যাচাই বাছাইয়ের ভিত্তিতে ৮৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর
    জন্য নির্বাচন করা হয়। যার মধ্যে ৬০টি ফিকশন এবং ২৯টি প্রামাণ্য চিত্র। প্রদর্শিতব্য
    চলচ্চিত্র থেকে জুরি কমিটি পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে উভয় ক্যাটাগরি থেকে শ্রেষ্ঠ
    চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং বিশেষ জুরি নির্ধারণ করবেন। এছাড়া উভয় ক্যাটাগরি
    থেকে সার্বিকভাবে ৪টি বিশেষ পুরস্কার নির্ধারিত হবে। এগুলো হলো শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক,
    শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা এবং শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনা।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটটি বিভাগীয় শহরে নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী চলচ্চিত্র
    প্রদর্শিত হবে। উৎসবে প্রদর্শিত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ৩০ জনকে
    নিয়ে ৩০ মে দিনব্যাপী জাতীয় নাট্যশালার আর্কাইভ রুমে মাস্টারক্লাস-এর আয়োজন করা হবে।
    ৫ দিনব্যাপী এ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উৎসবটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    রিয়েল তন্ময়

  • এবার নাট্যকর্মীদের সমাবেশে ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ

    শিল্পকলা একাডেমিতে ‘নিত্যপুরাণ’ নাটকের প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে সমাবেশ ডেকেছিল গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। জাতীয় নাট্যশালার সামনে এই সমাবেশ চলাকালে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন নাট্যকর্মীরা।

    জানা গেছে, শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৪টার পর সমাবেশে নাট্যকার মামুনুর রশীদের বক্তব্যের সময় কিছু লোক আচমকা ডিম ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। এসময় নাট্যকর্মীদের ধাওয়ায় হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

    এ ঘটনার পর মামুনুর রশীদ বলেন, ‘যারা এই ন্যক্কারজনক কাজটি করলেন, তারা কেন পালিয়ে গেলেন? আপনারা আসুন। আমরা নাটক করব।”

    নিরাপত্তাবাহিনীর উপর ক্ষোভ জানিয়ে মামুনুর রশীদ একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘তাহলে তারা কী নিরাপত্তা দিয়েছে আমাদের।’

    পুলিশের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন নাট্যকার মাসুম রেজাও, ‘এখানে পুলিশ ছিলেন, তারা কাউকে কেন আটক করতে পারলেন না? যারা এসেছিল, তারা কয়েকজন। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

    ঘটনার পর সমাবেশ মঞ্চ থেকেই প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ।

    তিনি বলেন, ‘আমরা সাত দিন সকল সাংস্কৃতিক আয়োজনে কালো ব্যাজ ধারণ করব এবং আগামী ১৫ নভেম্বর সারাদেশের নাট্যকর্মীরা এই ঘটনার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করব।’

    প্রসঙ্গত, গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালায় ‘দেশ নাটক’-র প্রোডাকশন ‘নিত্যপুরাণ’-র প্রদর্শনী চলাকালে একদল লোক উপস্থিত হয়ে দেশ নাটকের সদস্য এহসানুল আজিজ বাবুকে তাদের হাতে তুলে দিতে বলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে শিল্পকলার মহাপরচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ নাটকটির প্রদর্শনী বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

    দেশ নাটক-র সদস্য এহসানুল আজিজ বাবুর বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার বিকৃত ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছিল। যদিও পরে সমালোচনার মুখে সে ছবি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • এবার শিল্পকলার ‘আওয়াজ উডা’ কনসার্টে গাইবেন র‌্যাপার হান্নান

    জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা ছড়িয়ে দিয়েছিল ‘আওয়াজ উডা’ শিরোনামের র‌্যাপ গানটি। ভাইরাল এই গানটির জন্য নারায়ণগঞ্জের র‌্যাপার হান্নানকে জেলে পর্যন্ত যেতে হয়েছে।

    গণ–অভ্যুত্থানের গান নিয়ে এবার ‘আওয়াজ উডা’ নামে একটি কনসার্টের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ। 

    আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় নন্দন মঞ্চে এই আয়োজনে র‌্যাপর হান্নানও গাইবেন।

    শিল্পকলা একাডেমি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই আয়োজনে নিজেদের ভাষায় গান করবেন লুম্বিনী চাকমা, ধর্মচন্দ্রা তঞ্চঙ্গ্যা, ডিউক মুরমু ও সমাপন স্মাল। আরও থাকছে নারীদের ব্যান্ড এফ মাইনর, ডিমোক্রেজি ক্লাউনস, সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানি।

    আয়োজনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শুরুতেই সমবেত সংগীত ‘চল চল চল’ পরিবেশন করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা। সমবেত সংগীত ‘আমরা করব জয়’ ও ‘নীল নির্বাস’ পরিবেশন করবে ডিমোক্রেজি ক্লাউনস। আহমেদ হাসান সানি ও এফ মাইনরের পর গাইবে যিন ব্রাদার্স। সবশেষে সমবেত সংগীত ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত’ পরিবেশন করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা।

    এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ, বিশেষ অতিথি থাকবেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে শহীদ তাহীর জামান প্রিয়র মা শামসী আরা জামান। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করবেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ আশরাফুল।

    স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক মেহজাবীন রহমান। ‘আওয়াজ উডা’ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ থেকে যাত্রা উৎসব

     ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ’—এ প্রতিপাদ্যে ঢাকার সোহরাওয়ার্দীর উদ্যানের মুক্তমঞ্চে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে উৎসব যাত্রাপালা। এবারই প্রথম শিল্পকলা একাডেমি বাইরে খোলা চত্বরে এ যাত্রাপালা উৎসব শুরু হলো। সাত দিনের এ উৎসব চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। এ আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত।

    শিল্পকলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সাতটি যাত্রা দল প্রতিদিন একটি ঐতিহাসিক বা সামাজিক ঘটনা অবলম্বনে যাত্রাপালা পরিবেশন করবে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পালা পরিবেশিত হবে। 

    আজ সন্ধ্যা ৬টায় উৎসবের উদ্বোধন করা হবে। প্রধান অতিথি থাকবেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ইসরাফিল মজুমদার। বিশেষ অতিথি থাকবেন যাত্রাশিল্পী অনিমা দে। স্বাগত বক্তব্য দেবেন শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক ফয়েজ জাহির। সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, নাট্যনির্দেশক ও শিক্ষক সৈয়দ জামিল আহমেদ।

    শিল্পকলা একাডেমির বাইরে উৎসব প্রসঙ্গে মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, ‘শৈশবে সামাজিক যাত্রাপালাগুলো দেখে আমরা নৈতিকতার শিক্ষা লাভ করেছি। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় যাত্রাশিল্পকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হবে। 

    তিনি বলেন, সুস্থধারার যাত্রাপালার পরিবেশনা, মানোন্নয়ন, চর্চা এবং যাত্রাশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালাকে জনজীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। শিল্পচর্চার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এবং গ্রামীণ জনসাধারণের বিনোদনের ঐতিহ্য বিবেচনায় আমরা এই যাত্রাপালার আয়োজন করেছি।

    আজ সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে সুরুভী অপেরার ‘নিহত গোলাপ’। এটির পালাকার আগন্তুক, নির্দেশক কবির খান। 

    আগামীকাল শনিবার (২ নভেম্বর) একই সময়ে থাকবে নিউ শামীম নাট্য সংস্থার পালা ‘আনারকলি’। এর পালাকার প্রসাদকৃষ্ণ ভট্টাচার্য এবং নির্দেশক শামীম খন্দকার। 

    রোববার (৩ নভেম্বর) বঙ্গবাণী অপেরার ‘মেঘে ঢাকা তারা’, নির্দেশক মানস কুমার ও পালাকার রঞ্জন দেবনাথ।

    সোমবার (৪ নভেম্বর) মঞ্চস্থ হবে নর-নারায়ণ অপেরার ‘লালন ফকির’, নির্দেশক ব্রজেন কুমার বিশ্বাস ও পালাকার দেবেন্দ্রনাথ। 

    মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বন্ধু অপেরার ‘আপন দুলাল’। এটির নির্দেশনা দিয়েছেন মনির হোসেন, পালাকার শামসুল হক।

    বুধবার (৬ নভেম্বর) দেখা যাবে শারমিন অপেরার পালা ‘ফুলন দেবী’। এটির নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ রফিকুল ও পালাকার পুর্ণেন্দু রায়। 

    শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দেখা যাবে যাত্রাবন্ধু অপেরার ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’। পালার নির্দেশক আবুল হাশেম ও পালাকার শচীননাথ সেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সিনা টান করে বেরিয়ে এসেছি: জ্যোতি

    সহকর্মীদের তোপের মুখে শিল্পকলা একাডেমি ছেড়ার পর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি বলেছেন, তিনি সিনা টান করে, মাথা উঁচু করেই সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছেন। 

    মঙ্গলবার মধ্যরাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমনটা জানিয়েছেন তিনি। যদিও এর আগে এক ফেসবুক লাইভে এসে শিল্পকলা একাডেমিতে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য কাঁদতে দেখা যায় তাকে। 

    সে সময় তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমিতে তাকে অপমান করা হয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, ‘এতবছর ধরে আমি অভিনয় করছি। কখনো দেশ ছেড়ে বাহিরে চলে যাওয়ার কথাও চিন্তা করিনি। তবুও এই অপমান কি আমার প্রাপ্য ছিল? কোনো দলের সমর্থক ছিলাম বলে কি দেশটা আমার নয়? আমি তাহলে কোথায় যাব? এই প্রশ্ন আপনাদের কাছে রেখে গেলাম।’

    এরপর এদিন রাতেই এক স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী জানান, কিছু পত্র-পত্রিকা ও টিভি মিডিয়ায় নানান ভুলভাল তথ্য ছড়াচ্ছে। তাই তুলে ধরলাম ইতিহাস-

    ‘প্রায় দুইমাস পর আজ অফিসে গেলাম,এই দুইমাস অফিসে যাবার প্রয়োজন ও পরিস্থিতি ছিলো না বলে যাওয়া হয়নি। অফিস করার জন্য মন অস্থির হয়ে ছিল। দুপুর ১টার দিকে একজন নতুন স্টাফ আমার সাথে সেলফি তুলতে চাইলে নিজেও দুটো ছবি তুললাম।

    তখনই শুরু হট্টগোল। কানে আসলো অফিসের একটা গ্রুপ আমিসহ অন্য পরিচালকদের অফিস করতে দিবে না। তাই বাজে পরিস্থিতি এড়াতে অফিসের কেউ কেউ দ্রুত চলে যেতে বললো। আমি কখনো পলায়নপর না এবং এমন কোন কিছু জীবনে করি না যে কোথাও থেকে মাথা নীচু করে বের হতে হবে। তাই সিচুয়েশনটা ফেস করতে চাইলাম। 

    ততক্ষনে সাংবাদিকরা ফোন করা শুরু করেছে এবং জানতে চাচ্ছে যে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কি না। কারণ শিল্পকলা থেকে তাদেরকে এমনটাই জানানো হয়েছে। আমি জানালাম, এমন কিছু আমি জানিনা।

    এরপর ২টার দিকে ডিজি মহোদয় মিটিং সেরে দপ্তরে আসলে তার সাথে কথা বলার জন্য রুম থেকে বেরিয়ে লবির দিকে এগিয়ে আসতেই দেখলাম, এক জটলা সহকর্মী আমার দিকে হিংস্র, আক্রমণাত্মক, শকুন চোখে তাকিয়ে আছে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। বুঝলাম, আমাকে সরানোর জন্যই এই আয়োজন। আমি কোনদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে ডিজির দিকে এগিয়ে গেলাম। তিনি সবাইকে শান্ত করে অমাকে চলে যেতে বললেন। ডিজির কথা মেনে আমি ব্যাগপত্র নেওয়ার জন্য রুমে ঢুকলাম।

    একটু পর সেই লোভী কাকের মতো অফিসাররা আবার আমার রুমের দরজায় এসে ভিড় করলো। তখন সচিব স্যার এসে বললেন দ্রুত বেরিয়ে যেতে। আমিও কাকদের বললাম, আমি পরিচালক থাকবো কী থাকবো না সেটা মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত আসবে। সে অনুযায়ী আমি কাজ করে যাবো। 

    এই ফাঁকে কোনো একজন আমার রুমের দরজার লক ভাঙলো। আমি আমার ব্যক্তিগত অল্পকিছু জিনিস যেমন- ডায়েরি, মায়ের ছবি এসব গুছাতে গুছাতে মনে হলো, এরা আমাকে বিপাকে ফেলার জন্য অনেক কিছুই করতে পরে। তাই আমার যা যা সাথে নিলাম তার সবকিছুই তাদের দেখালাম, এমনকি আমার স্যানিটারি প্যাডের প্যাকেট উচিয়েও জিজ্ঞেস করলাম এটা আমি নিতে পারবো কি না।

    সচিব স্যার আবার বেরিয়ে যাবার তাগিদ দিলো। আমি স্যারের সাথে বেরিয়ে আসলাম। নীচে এসে আমার বিভাগের উপপরিচালককে সচিব স্যার দায়িত্ব দিলেন গেট অব্দি পৌঁছে দেবার। সিনা টান করে, মাথা উঁচু করে বেরিয়ে এলেও রাস্তায় এসে চোখের পানি আটকে রাখতে পারছিলাম না। কেন তার কারণ জানিনা! 

    যারা আতংকগ্রস্থ হয়ে আমার খবর নিয়েছেন, তাদের জন্য ভালোবাসা। আজ আমার প্রত্যেক সাংবাদিক বন্ধুরা যারা ফোন করেছেন বা নক করেছেন, পেশাদারিত্বের সাথে যে সহমর্মিতার পরিচয় দিয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • শিল্পকলা থেকে বিতাড়িত হয়ে ভেঙে পড়েছেন ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের জ্যোতি

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন আওয়ামীপন্থি শিল্পীরা। তারা শুরু থেকেই আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। এসব শিল্পীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। 

    ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গোপন এই গ্রুপের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠে। এরপর ‘আলো আসবেই’ গ্রুপ নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন অনেক শিল্পী। তবে সবাই তোপের মুখে পড়েন। গ্রুপে থাকার কথা স্বীকার করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন জ্যোতিও। 

    সেই সমালোচনার রেশ না কাটতেই মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে ফের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামীপন্থি শিল্পী জ্যোতি। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এই অভিনেত্রী দুপুর ১২টার দিকে অফিসে প্রবেশ করেন। সেখানে নতুন মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। এরপর রুম থেকে বের হতেই সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন জ্যোতি। একপর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। 

    ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে আসেন জ্যোতি। শিল্পকলা একাডেমিতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমিতে পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলাম। এখনো আমার মেয়াদ শেষ হয়নি এবং নিয়োগ বাতিলেরও কোনো প্রক্রিয়া এখনো হয়নি। সুতরাং আমার চাকরিটা আছে। গত দুই মাস ধরে দেশে যা চলছে, তারপর থেকে শিল্পকলা একাডেমির অফিসের কাজ মোটামুটি বন্ধই বলা যায়। সপ্তাহখানেক হয়েছে নতুন ডিজি এসেছেন, তাই আমার মনে হয়েছে আমার অফিসে যাওয়া উচিত। যদিও সচিব স্যারের, পরামর্শ ছিল- আমি যাতে এখন শিল্পকলায় না যাই। কিন্তু আমার চাকরি এখনো আছে। আমারও ভালো লাগছিল না, তাই গিয়েছিলাম।’

    তিনি বলেন, ‘শিল্পকলায় যাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে অনেক সাংবাদিক ফোন করে জানতে চাচ্ছিলেন, আমার অবস্থা সম্পর্কে। কারণ তারা জানতে পেরেছেন, আমাকে নাকি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমি তখনো বিষয়টি জানি না। আমার আরেক সহকর্মী ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, চলো বেরিয়ে যাই। আমি তাকে বলি, আমার চাকরি তো শেষ হয় নাই, তাহলে আমি কেন যাব? প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ বাতিল হলে অবশ্যই আমি আর আসব না।’

    শিল্পকলা একাডেমির ডিজির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘আমি যখন শিল্পকলায় যাই তখন ডিজি স্যার একটা মিটিংয়ে ছিলেন। এরপর উনি যখন বের হন, তখন আমি ওনার সঙ্গে দেখা করার জন্য বের হই। বেরিয়ে দেখি শিল্পকলায় অনেক লোকজন। অনেকে চেচামেচি করছে। আমি ডিজি স্যারের সঙ্গে দেখা করলাম। স্যার বললেন, দেখেন এই অবস্থা। এর মধ্যে অফিসে কেন এসেছেন? আপনারা বরং চলে যান, পরিস্থিতি সামলাতে দেন। পরে এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয় সে মোতাবেক কাজ করবেন।’

    ‘ডিজি স্যারের সঙ্গে কথা বলে লবিতে ফিরে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু উনারা কোনো কথা বলবেন না। শুনতে পেলাম, আরও লোকজন খবর দেওয়া হয়েছে। আমাদের আটকে রাখবে বা কিছু করবে। আমার খুব অবিশ্বাস্য লাগছিল, সবার মুখ অপরিচিত লাগছিল। কারণ এরাই আমার সহকর্মী ছিলেন!’

    অফিসে জ্যোতিকা জ্যোতির ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিল। চলে আসার সময়ে সেসব জিনিস নিয়ে আসেন। কিন্তু উপস্থিত সহকর্মীদের সেসব জিনিসপত্র দেখিয়ে তারপর শিল্পকলা একাডেমি থেকে বের হন জ্যোতি।

    লাইভের একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই অভিনেত্রী। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এতবছর ধরে আমি অভিনয় করছি। কখনো দেশ ছেড়ে বাইরে চলে যাওয়ার কথাও চিন্তা করিনি। তবুও এই অপমান কি আমার প্রাপ্য ছিল? কোনো দলের সমর্থক ছিলাম বলে কি দেশটা আমার নয়? আমি তাহলে কোথায় যাব? এই প্রশ্ন আপনাদের কাছে রেখে গেলাম।

    জ্যোতি আরও বলেন ‘আমাকে নিয়ে অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন, আমি ঠিক আছি কিনা, তা জানতে চাইছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমি ঠিক আছি। তবে মানসিকভাবে কবে ঠিক হবো জানি না। আমার সঙ্গে যা হয়েছে এই চাপ আমি কীভাবে সামলাব জানি না। আমার এই চাকরিটা থাকছে না। তাহলে আমি কোথায় যাব?’

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • ‘জ্যোতিরা রক্ত ঝরার জন্য দায়ী, তাদের আমরা সহকর্মী হিসেবে চাই না’

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আজ নিজ কর্মস্থল শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। একপর্যায়ে শিল্পকলা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

    মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমবার শিল্পকলা একাডেমিতে যান জ্যোতি। অভিনেত্রী অফিসে প্রবেশের পরই সহকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তিনি বাধ্য হয়ে শিল্পকলা একাডেমি থেকে চলে আসেন।

    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর আইরিন পারভীন লোপা গণমাধ্যমকে বলেন, জ্যোতি অফিসে আসায় আমরা হতবাক হয়েছি। তিনি কীভাবে অফিসে আসেন, যিনি স্বৈরাচার সরকারের হয়ে কথা বলেছেন। যারা সরাসরি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে উৎসাহিত করেছেন, যারা রক্ত ঝরার জন্য দায়ী, তাদের আমরা সহকর্মী হিসেবে চাই না।

    তিনি আরও জানান, জ্যোতি আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর অফিসে প্রবেশ করেন। আসার পরই বাইরে বিভিন্ন বিভাগের সহকর্মীদের জড়ো হতে দেখে জ্যোতি দরজা বন্ধ করে দেন। 

    ‘আমরা তাকে বলেছি অফিস থেকে চলে যেতে। কারণ, তিনি “আলো আসবেই” নামে একটি গ্রুপে যুক্ত হয়ে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে কথা বলেছেন। এমন লোক আমরা দেখতে চাই না’।

    জ্যোতির সঙ্গে কী কথা হয়েছে-জানতে চাইলে আইরিন পারভীন বলেন, এখনো তিনি নিজেকে সরকারের নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা ভাবছেন। তার অধিকার রয়েছে অফিসে আসার। যে সরকার নেই, সেই সরকারের দাপট দেখাচ্ছেন। আমরা তাকে সসম্মানে চলে যেতে বলেছি।

    গণঅভ্যুত্থানে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন জ্যোতি। আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে ‘আলো আসবেই’ নামে হোয়াটসআপ গ্রুপে যুক্ত হয়ে সরব ছিলেন তিনি। 

    যুগান্তর প্রতিবেদন