Tag: লাশ

  • এমন গোলাপ কলি ফুটতে দিল না: এলিনা শাম্মী

    পাঁচ বছরের শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সিলেটের কানাইঘাটে নিখোঁজের সাত দিন পর বাড়ির পাশে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাবেক গৃহশিক্ষিকা, গৃহশিক্ষিকার মা ও নানি মিলেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হত্যার পর মরদেহ প্রথমে মাটিতে পুঁতে ফেলেন তারা, পরে পুকুরে ফেলার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে গৃহশিক্ষিকার মা।

    এ ঘটনায় পুলিশ শিশু মুনতাহার গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম মার্জিয়া, তার মা আলিফজান বিবি ও নানি কুতুবজান বিবিকে গ্রেফতার করেছে। সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার কানাইঘাট (সার্কেল) অলক কান্তি শর্মা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মুনতাহা নিখোঁজের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি শেয়ার করে অনেকেই সন্ধান চান। এমনকি পুরস্কারও ঘোষণা করেন অনেকেই। শিশু মুনতাহার সন্ধান চান শোবিজ অঙ্গনের বড় বড় তারকারাও। তার মৃত্যুর খবরে সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েন। অনেকেই তার ছবিটি শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতির কথা লিখেছেন।

    বিনোদন জগতের ছোটপর্দার অভিনেত্রী এলিনা শাম্মী রোববার (১০ নভেম্বর) মুনতাহার একটি ছবি ও অভিযুক্ত তিন খুনির ছবি শেয়ার করে তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন— এদেরকে কি মানুষ বলা যায়? এতটুকু শিশুকে যারা খুন করে তাদের কীভাবে মানুষ বলি! তাহলে তারা আসলে কী! একজন নারী, যিনি একজন মা, সে কীভাবে এত নিষ্ঠুর হয়।

    তিনি আরও লিখেছেন—আহা ফুটফুটে মুনতাহা, এমন গোলাপ কলি ফুটতে দিল না দৈত্যের দল। বেহেশতি ফুল তুমি সেখানেই ফুটে থেকো। তবে দুনিয়াতে তুমি তোমার বাবা-মায়ের কাছে যে দোজখের আগুন ফেলে গেলে সে আগুন কোন সান্ত্বনায় নিভবে জানি না। আল্লাহতায়ালা তাদেরকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি দিন।

    এ অভিনেত্রী বলেন, এই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। গায়ের জোরে, নিজের জিদ তেজ প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে যারা মানুষ খুন করে বা করতে চায়, তারা মানসিক বিকারগ্রস্ত। তারা হিংস্র। হিংস্র প্রাণী যেমন লোকালয়ে রাখা যায় না, তাদের হয় জঙ্গলে অথবা লোহার সিকের বেষ্টনীতে রাখা হয়, এই মানুষদেরও আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি প্রদান করে আটকে রাখা উচিত। মাথাটা আউলা লাগছে, এই নিউজটা নেওয়া যাচ্ছে না।

    এদিকে গতকাল রোববার (১০ নভেম্বর) ভোরে মাটিতে পুঁতে ফেলা লাশ তুলে মুনতাহার চাচার বাড়ির পুকুরে ফেলার সময় হাতেনাতে গৃহশিক্ষিকার মাকে আটক করেন স্থানীয়রা। এ সময় গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় মুনতাহার লাশ দেখতে পান স্বজনরা।এ ঘটনায় শিশু মুনতাহার গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম মার্জিয়া, তার মা আলিফজান বিবি ও নানি কুতুবজান বিবিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া আরও সন্দেহভাজন তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে ছয়জনকে আইনের আওতায় আনা হলো।

    মুনতাহা আক্তার জেরিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরদল গ্রামের ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে। গ্রেফতার তিনজনই মুনতাহার প্রতিবেশী।

    সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার (৩ নভেম্বর) ভিকটিম মুনতাহা মাগরিবের নামাজের আগে একটি আপেল খেতে খেতে মার্জিয়ার ঘরে প্রবেশ করে। প্রবেশ করতেই মার্জিয়া ভিকটিম মুনতাহার গলাটিপে ধরে। গলাটিপে ধরার সঙ্গে সঙ্গে সে মারা যায়। মুনতাহার লাশ মার্জিয়া ও তার মা মিলে বাড়ির পেছনের নর্দমার মধ্যে ফেলে দেয়।

    তিনি বলেন, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে মার্জিয়া বলেছে— তিনি ১৬৪ ধারায় বলতে রাজি আছে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আদালতে গিয়ে। আমরা প্রথমে মার্জিয়া ও তার মাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করি। পরে আরও সন্দেহজনক নিজাম উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন ও নাজমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছি। তাদের আটক করা হয়নি। যেহেতু মার্জিয়া নিজে স্বীকার করেছে সে ও তার মা হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

    স্থানীয়রা জানান, শনিবার (৯ নভেম্বর) রাতে সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশু মুনতাহার গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম মার্জিয়াকে থানায় নেয় পুলিশ। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে মার্জিয়ার বাড়িতে মুনতাহার সন্ধানে তল্লাশি চালান স্থানীয়রা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে মার্জিয়ার বাড়ির আশপাশে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে মার্জিয়ার মা আলিফজান বিবিকে অন্ধকারের মধ্যে রাস্তা পার হতে দেখেন। এ সময় তাকে আটকাতে চাইলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা কাদামাটি মাখা মুনতাহার লাশ দেখতে পান। পরে মার্জিয়ার মাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।

    উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর সকালে মেয়ে ও ছোট ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরেন শামীম আহমদ। এরপর মুনতাহা প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায়। বিকাল ৩টার দিকে তাকে খুঁজতে গিয়েও কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। খেলার সাথীরাও মুনতাহার বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি।

    সেই সময় ছোট্ট শিশু মুনতাহার সন্ধানদাতাদের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন অনেকেই। মুনতাহার সন্ধান এবং ‘অপহরণকারীকে’ ধরিয়ে দিতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন কয়েকজন প্রবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তারা এ ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ফারমিস আক্তার নামের সিলেটের এক নারী সমাজকর্মী মুনতাহার সন্ধানদাতার জন্য একটি স্বর্ণের চেইন পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। তখনই পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেছিলেন, মুনতাহাকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘আল্লাহ তুমি দুনিয়াতেই বিচার করো, তার যেন কবর না হয়’

    শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিলেটের কানাইঘাটে নিখোঁজের সাত দিন পর বাড়ির পাশে তার লাশ উদ্ধার করে। মুনতাহা নিখোঁজের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি শেয়ার করে অনেকেই সন্ধান চান। এমনকি পুরস্কারও ঘোষণা করেন অনেকেই। শিশু মুনতাহার সন্ধান চান শোবিজ অঙ্গনের বড় বড় তারকারাও। তার মৃত্যুর খবরে সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েন। অনেকেই তার ছবিটি শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতির কথা লিখেছেন।

    বিনোদন জগতের ছোটপর্দার অভিনেত্রী ও মডেল প্রসূন আজাদ মুনতাহার একটি ছবি শেয়ার করে তার ফেসবুকে লিখেছেন— ‘সকাল সকাল কাঁদলাম। আল্লাহ তুমি দুনিয়াতেই তার বিচার কর, যে এই ফেরেশতার জীবন নিয়ে গেছে তার যেন কবর না হয়।’

    গতকাল রোববার (১০ নভেম্বর) ভোরে মাটিতে পুঁতে ফেলা লাশ তুলে মুনতাহার চাচার বাড়ির পুকুরে ফেলার সময় হাতেনাতে গৃহশিক্ষিকার মাকে আটক করেন স্থানীয়রা। এ সময় গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় মুনতাহার লাশ দেখতে পান স্বজনরা।এ ঘটনায় শিশু মুনতাহার গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম মার্জিয়া, তার মা আলিফজান বিবি ও নানি কুতুবজান বিবিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া আরও সন্দেহভাজন তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে ছয়জনকে আইনের আওতায় আনা হলো।

    মুনতাহা আক্তার জেরিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরদল গ্রামের ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে। গ্রেফতার তিনজনই মুনতাহার প্রতিবেশী।

    সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার (৩ নভেম্বর) ভিকটিম মুনতাহা মাগরিবের নামাজের আগে একটি আপেল খেতে খেতে মার্জিয়ার ঘরে প্রবেশ করে। প্রবেশ করতেই মার্জিয়া ভিকটিম মুনতাহার গলাটিপে ধরে। গলাটিপে ধরার সঙ্গে সঙ্গে সে মারা যায়। মুনতাহার লাশ মার্জিয়া ও তার মা মিলে বাড়ির পেছনের নর্দমার মধ্যে ফেলে দেয়।

    তিনি বলেন, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে মার্জিয়া বলেছে— তিনি ১৬৪ ধারায় বলতে রাজি আছে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে আদালতে গিয়ে। আমরা প্রথমে মার্জিয়া ও তার মাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করি। পরে আরও সন্দেহজনক নিজাম উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন ও নাজমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছি। তাদের আটক করা হয়নি। যেহেতু মার্জিয়া নিজে স্বীকার করেছে সে ও তার মা হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

    স্থানীয়রা জানান, শনিবার (৯ নভেম্বর) রাতে সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশু মুনতাহার গৃহশিক্ষিকা শামীমা বেগম মার্জিয়াকে থানায় নেয় পুলিশ। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে মার্জিয়ার বাড়িতে মুনতাহার সন্ধানে তল্লাশি চালান স্থানীয়রা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে মার্জিয়ার বাড়ির আশপাশে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে মার্জিয়ার মা আলিফজান বিবিকে অন্ধকারের মধ্যে রাস্তা পার হতে দেখেন। এ সময় তাকে আটকাতে চাইলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা কাদামাটি মাখা মুনতাহার লাশ দেখতে পান। পরে মার্জিয়ার মাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।

    উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর সকালে মেয়ে ও ছোট ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরেন শামীম আহমদ। এরপর মুনতাহা প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায়। বিকাল ৩টার দিকে তাকে খুঁজতে গিয়েও কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। খেলার সাথীরাও মুনতাহার বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি।

    সেই সময় ছোট্ট শিশু মুনতাহার সন্ধানদাতাদের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন অনেকেই। মুনতাহার সন্ধান এবং ‘অপহরণকারীকে’ ধরিয়ে দিতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন কয়েকজন প্রবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তারা এ ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ফারমিস আক্তার নামের সিলেটের এক নারী সমাজকর্মী মুনতাহার সন্ধানদাতার জন্য একটি স্বর্ণের চেইন পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। তখনই পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেছিলেন, মুনতাহাকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ভ্যানে লাশের স্তূপের ভিডিও দেখে বাকরুদ্ধ ফারুকী

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা একের পর এক লাশ ভ্যানে তুলছেন। ময়লা চাদর আর ব্যানার দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন লাশগুলো। ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের এই ভিডিও দেখে শিউরে উঠছেন মানুষ। এমন নৃশংসতা দেখে বাকরুদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও।

    ভিডিওটি দেখে শনিবার (৩১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। পোস্টে ফারুকী লিখেছেন, ‘মেরুদণ্ড শীতল করে দেয়া যেসব ডিটেইল বের হয়ে আসছে ধীরে ধীরে তাতে স্তব্ধ হয়ে যেতে হয়।’

    এই নির্মাতা আরও লেখেন, ‘যে সরকারের শপথ ছিল নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার, সে সরকারই যদি ক্ষমতার জন্য লাশের স্তূপের উপর বসে নৃত্য করে, এর চেয়ে ভয়ংকর আর কি হইতে পারে? ভ্যানের ওগুলা যেনো মানুষের লাশ না, এক দলা মাংসপিণ্ড যেগুলা কোথাও বিলং করে না, কারো ভাই হয় না, সন্তান হয় না। যেনো তাদের অপেক্ষায় কোনো বাড়ীতে কেউ বসে নাই। কি বিভৎস ক্ষমতার এই লোভ!’

    ফারুকীর সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এবং পোস্টটি শেয়ার করে নেটিজেনরা অপরাধীদের বিচার চেয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    জানা যায়, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাভারের আশুলিয়ায় নির্মম এই ঘটনা ঘটে। সরকার পতনের আগমূহুর্তে ছাত্র-জনতা আশুলিয়া থানার সামনে জড়ো হলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ছোড়ে। আন্দোলনকারীদের অনেকেই তখন ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পরে পুলিশ নিহতদের একটি ভ্যানে করে অন্য স্থানে নিয়ে যায়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ঢাকায় শাফিন আহমেদের লাশ, দুপুরে গুলশানে জানাজা

    মৃত্যুর চারদিন পর দেশে ফিরল দেশীয় সংগীতের জনপ্রিয় ব্যান্ডতারকা ও সংগীতশিল্পী শাফিন আহমেদের লাশ। সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গায়ককে বহন করা উড়োজাহাজ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে একটি হাসপাতালের হিমঘরে তার মরদেহ রাখা হয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাইলস তারকা এরশাদুল হক টিংকু।

    তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় দেশে পৌঁছেছে শাফিন ভাইয়ের লাশ। পরে বিমানবন্দর থেকে উত্তরার বাসায় কফিন নেওয়া হয়েছে। সেখানে একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে তার লাশ।

    এরশাদুল হক টিংকু আরও জানান, মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) জোহরের নামাজের সময় তার মরদেহ গুলশান আজাদ মসজিদে নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

    এদিকে ব্যান্ডতারকা শাফিনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বাদজোহর গুলশান আজাদ মসজিদে নামাজে জানাজার পর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে তার মরদেহ। যেখানে গায়কের বাবা সংগীতগুরু কমল দাশগুপ্ত ও মা কিংবদন্তি নজরুলশিল্পী ফিরোজা বেগম শায়িত আছেন।

    প্রবাসীদের গান শোনোনোর জন্য গত ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন শাফিন আহমেদ। গত ২০ জুলাই ভার্জিনিয়ায় একটি কনসার্ট ছিল তার। কিন্তু তার আগেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর গত ২৫ জুলাই সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে মৃত্যু হয় তার।

    প্রসঙ্গত, শাফিন আহমেদের জন্ম ১৯৬১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। মা কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম এবং বাবা সংগীতঙ্গ কমল দাশগুপ্ত। এই পরিবারে জন্ম নেওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই শাফিন আহমেদ গানের ভেতরেই বড় হন। শৈশবে বাবার কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছেন আর মায়ের কাছে শিখেছেন নজরুল। নিজের প্রচেষ্টায় শেখেন পাশ্চাত্য সংগীত।

    ১৯৭৯ সালে শাফিন আহমেদ গড়ে তোলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা জনপ্রিয় ব্যান্ড দল মাইলস। ১৯৮২ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘মাইলস’ এবং ১৯৮৬ সালে ‘স্টেপ ফাদার’ দিয়ে মাইলসের নিজস্ব গান বাজারে আসে। এরপর ১৯৯১ সালে রিলিজ হয় প্রথম বাংলা অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’ এই অ্যালবামের চাঁদ-তারা গানটি তখন বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।

    এরপর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শত শত শ্রোতপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন উপমহাদেশের এই অন্যতম সংগীত তারকা। চাঁদ তারা সূর্য, দরদিয়া, প্রথম প্রেমের মতো, জাদু, কতকাল খুঁজব তোমায়, ধি কি ধি কি, পাহাড়ি মেয়ে, পিয়াসি মন, জাতীয় সংগীতের দ্বিতীয় লাইন, জ্বালা জ্বালা, ফিরিয়ে দাও-এর মতো তুমলু জনপ্রিয় গানগুলি আজও শ্রোতাপ্রিয়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘পুনর্জন্ম’র প্রযোজক রূহানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    প্রযোজক মাসুদুল মাহমুদ রূহান আর নেই। বুধবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যা করেছেন তিনি। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন তরুণ নির্মাতা শ্যামল শিশির।

    জানা গেছে, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে রূহানের নিজ রুম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল তার লাশ।

    স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকির জনপ্রিয় ‘রেডরাম’ সিনেমার প্রযোজনা করেছেন রূহান। এ ছাড়া ‘পুনর্জন্ম’, ‘চম্পা হাউজ’, ‘শুক্লপক্ষ’, ‘দ্য সাইলেন্স’, ‘আরারাত’র মতো জনপ্রিয় নাটক-সিরিজের নির্বাহী প্রযোজকও তিনি। নির্মাতা ভিকি জাহেদের অধিকাংশ কাজের প্রযোজনা করেছেন রূহান। তার মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ সহকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন তারা।

    এদিকে, ব্যক্তিজীবনে বিবাহিত ছিলেন রূহান। ২০২০ সালে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, এরপর থেকেই হতাশায় ভুগছিলেন রূহান।

    উল্লেখ্য, মাসুদুল মাহমুদ রূহানের বাড়ি রংপুরে। পড়াশোনা করেছেন সেখানকার পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে। প্রযোজনার পাশাপাশি পরিচালনাতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। বানিয়েছেন ‘উস্কানি’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • গোপালগঞ্জে পৌঁছেছে খালিদের লাশ, যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন সংগীতশিল্পী

    অসংখ্য গানের রূপকার সংগীতশিল্পী খালিদ আনোয়ার সাইফুল্লাহ। সোমবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। খালিদের মৃত্যুতে দেশের সংগীত ভুবনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    রাজধানীর গ্রিন রোড জামে মসজিদে ওইদিন রাত ১১টায় খালিদের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার লাশ নিয়ে রাতেই গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা করা হয়। রাত সাড়ে ৩টায় গোপালগঞ্জ শহরের বাসায় পৌঁছায় খালিদের নিথর দেহ। 

    মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বাদ জোহর গোপালগঞ্জ কোর্ট মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে শহরের গেটপাড়ার কবরস্থানে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

    আরও পড়ুন:

    প্রসঙ্গত, গোপালগঞ্জে জন্ম নেয়া এ শিল্পী ১৯৮১ সাল থেকে গানের জগতে যাত্রা খালিদের। ১৯৮৩ সাল থেকে ‘চাইম’ ব্যান্ডে যোগ দেন তিনি। একের পর এক হিট গান উপহার দিয়ে অল্প সময়েই খ্যাতি পান তিনি, তার গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

    তার গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘সরলতার প্রতিমা’, ‘যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে’, ‘কোনো কারণেই ফেরানো গেল না তাকে’, ‘হয়নি যাবারও বেলা’, ‘যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে’, ‘তুমি নেই তাই’ ইত্যাদি।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • জনপ্রিয় অভিনেত্রী রবিন বার্নার্ডের লাশ উদ্ধার

    আমেরিকান জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘জেনারেল হসপিটাল’ খ্যাত বিখ্যাত অভিনেত্রী রবিন বার্নার্ডের (৬৪) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১২ মার্চ ভোরে তার লাশ পাওয়া যায়। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।

    আমেরিকার সরকারি সংস্থা রিভারসাইড কাউন্টি করোনার বরাত ফক্স করপোরেশনের ট্যাবলয়েড নিউজ অর্গানাইজেশন টিএমজেড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১২ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার সান জাকিন্টোর ডেপুটিরা একটি লাশ তদন্ত করে। পরে অভিনেত্রীর আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে তাকে শনাক্ত করা হয়। তাদের জানানো হয়েছে, ওইদিন ভোরে লাশ পাওয়া গেছে রবিন বার্নাডের।

    রিভারসাইড কাউন্টি করোনার এখনো অভিনেত্রীর মৃত্যুর কোনো সঠিক কারণ নির্ধারণ করতে পারেনি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে জানতে পারবে তারা। এ জন্য কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন তাদের।

    ১৯৫৯ সালে টেক্সাস শহরের গ্ল্যাডওয়াটারে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেত্রী রবিন বার্নার্ড। ৮০-এর দশকে ‘ডিভা’, ‘দ্য ফ্যাক্টস অব লাইফ’, ‘সাইমন অ্যান্ড সাইমন’ ও ‘ট্যুর অব ডিউটি’র মতো টেলিভিশন শোয়ে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয় ক্যারিয়ার তৈরি করেন তিনি।

    মাঝে দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ১৯৮৪ সালে টেলিভিশন শো ‘জেনারেল হসপিটাল’-এর মাধ্যমে যাত্রা করেন তিনি। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ১৪৫টি পর্বে টেরি ব্রকের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন এই আমেরিকান অভিনেত্রী।

    ২০০২ মালে ‘ভয়েসেস ফ্রম দ্য হাই স্কুল’ সিনেমায় একজন মনোবিজ্ঞানীর চরিত্রে কৃত্বিত্বপূর্ণ অভিনয় করেন। তবে অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার পর ব্যক্তিজীবন একদম স্পটলাইটের বাইরে রাখেন এ বিখ্যাত অভিনেত্রী।

    অনলাইন ডেস্ক

  • ফ্ল্যাট থেকে লোকসংগীত শিল্পী আঁচলের লাশ উদ্ধার

    ফ্ল্যাট থেকে বহুল পরিচিত লোকসংগীত শিল্পী আঁচল প্যাটেল ওরফে আঁচল রাঘওয়ানির লাশ উদ্ধার হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর।

    বুধবার (৬ মার্চ) ভারতের বারানসির উত্তরপ্রদেশে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তার। 

    বিরহ ধাঁচের গান করা সংগীতশিল্পী আঁচল উত্তরপ্রদেশের শিবপুর থানা এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার (৫ মার্চ) মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন তার ভাই বিকাশ। গায়িকার ভাই দাবি করছেন, তার বোনকে স্বামী দীপক ও এক নারী মিলে খুন করেছেন। আপাতত বোনজামাই ও সেই নারীর নামে বিকাশ অভিযোগ জানিয়েছেন শিবপুর থানায়।

    হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানার জন্য তদন্ত করা হচ্ছে।

    শিবপুর থানা থেকে জানানো হয়েছে, গায়িকা আঁচলের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী ও এক নারীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটি নির্ভর করছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী। এখন সেই প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

    গায়িকা আঁচলের বাবার বাড়ি বারানসির ঢেলওয়ারিয়া এলাকায়। স্বামী দীপকের সঙ্গে শিবপুর থানা এলাকায় থাকতেন। গায়িকার পরিবার মঙ্গলবার ফোনের মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। এর পর ছুটে আসেন তারা।

    জানা গেছে, দীপকের সঙ্গে তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছে আঁচলের। তাদের ফ্ল্যাটে সচরাচর বাইরের মানুষ আসতেন। দীপকও স্ত্রীকে অত্যাচার করতেন বলে জানানো হয়েছে পুলিশকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • গাড়ির ভেতরে মিলল অস্কারজয়ী অভিনেতার লাশ 

    অস্কারজয়ী ছবি ‘প্যারাসাইট’-এর অভিনেতা লি সান কিউন মারা গেছেন। বুধবার সকালে তার গাড়ির ভেতর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। 

    rnrn

    সিওলের একটি পার্কের ভেতরে রাখা গাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেতা লির দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিনেতার মৃত্যুর নেপথ্য কারণ এখনো জানা যায়নি।  খবর আনন্দবাজারের। 

    rnrn

    জানা গেছে, বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়েই বেরিয়েছিলেন লি। তার বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে একটি সুইসাইড নোট খুঁজে পান অভিনেতার স্ত্রী। লির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন তিনি। সিওলের একটি পার্ক থেকে লির মৃতদেহ পাওয়া যায়। 

    rnrn

    এদিকে বহুদিন ধরে খবরের শিরোনামে রয়েছেন লি। একটি নাইটক্লাবে বেআইনিভাবে মাদক সেবন করার অভিযোগ ওঠে অভিনেতার বিরুদ্ধে। মাদককাণ্ডে নাম জড়ানোর পর তদন্তও শুরু হয়।
    rnলির মৃত্যুর সঙ্গে এ ঘটনারও কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ২০১৯ সালে বং জুন-হোর পরিচালনায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ব্ল্যাক কমেডি ঘরানার ছবি ‘প্যারাসাইট’। 

    rnrn

    এই ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন লি। এ ছাড়া ‘হেলপলেস’, ‘অল অ্যাবাউট মাই লাইফ’-এর মতো একাধিক দক্ষিণ কোরিয়ার ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। 

    rnrn

    ২০২১ সালে ‘অ্যাপল টিভি প্লাস’-এ মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম কোরিয়ান সিরিজ ‘ডক্টর ব্রেন’-এ অভিনয় করেন তিনি।
    rn 

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনেত্রী হিমুর লাশের সুরতহাল শেষে যা বলল পুলিশ

    অভিনেত্রী হোমায়রা হিমুর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকলেও তার গলায় রশির দাগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

    বৃহস্পতিবার রাতে অভিনেত্রীর লাশের সুরতহাল করেন উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মাসুদা খাতুন। সুরতহাল শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

    মাসুদা খাতুন বলেন, হোমায়রা হিমুর পরিচিত দুজন তাকে হাসপাতালে এনেছিল। আমরা তাকে হাসপাতালেই পেয়েছি। এখানেই আমরা প্রাথমিকভাবে হোমায়রা হিমুর লাশের সুরতহাল করেছি। তার শরীরে কোনো আঘাত বা চিহ্ন ছিল না। তবে তার গলায় রশির দাগ পাওয়া গেছে। সম্ভবত তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আসল কারণ চিকিৎসক বলতে পারবেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহিদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেই রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

    এর আগে অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম বলেন, আত্মহত্যা নাকি হত্যা এখনই বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আসল কারণ জানা যাবে। হিমুর বাবা-মা নেই। তার আত্মীয়স্বজনদের খবর দিলে তারা এখানে আসে। তাদের সঙ্গে আলাপ করে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া শুক্রবার চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে বাদ জুমা জানাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকালে হোমায়রা হিমুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এর পর সন্ধ্যায় অভিনয়শিল্পী সংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অভিনয়শিল্পী হোমায়রা হিমু আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আজ বিকাল ৪টা ৪৬ মিনিটে হিমুর একজন বন্ধু ও মিহির হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসেন। পৌঁছানোর পর উপস্থিত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হিমুর লাশ রেখেই পালিয়ে যায় অভিনেত্রীর সেই বন্ধু। পুলিশ মিহিরকে (অভিনেত্রীর মেকআপ আর্টিস্ট) সঙ্গে নিয়ে হিমুর সেই বন্ধুকে খুঁজছে।

    প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্ম হোমায়রা হিমুর। তিনি ইস্পাহানি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ইডেন মহিলা কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। মঞ্চনাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রথম নাট্য জগতে প্রবেশ করেন। ফ্রেঞ্চ নামক নাট্য দলের হয়ে তিনি অভিনয় করেন।

    অসংখ্য টিভি নাটকে দেখা গেছে হিমুকে। ‘ছায়াবীথি’ নামের একটি নাটকের মাধ্যমে ২০০৬ সালে টেলিভিশন নাটকে তার অভিনয় শুরু। তার অভিনীত অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে রয়েছে— ‘ডিবি’, ‘সোনাঘাট’, ‘চেয়ারম্যানবাড়ি’, ‘শোনে না সে শোনে না’, ‘বাটিঘর’, ‘কমেডি-৪২০’, ‘চাপাবাজ’, ‘অ্যাকশন গোয়েন্দা’, ‘ছায়াবিবি’, ‘এক কাপ চা’ অন্যতম। ২০১১ সালে ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ সিনেমাতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড়পর্দাতেও অভিষেক হয় তার।

    বিনোদন ডেস্ক