Tag: রুক্মিণী

  • সমুদ্রসৈকতে দোলনায় দুলছেন দেব, সঙ্গী রুক্মিণী

    জনপ্রিয় অভিনেতা দেব ও অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র টালিউডের অন্যতম পাওয়ার কাপল। মাঝে মধ্যেই এ জুটি কাজের ফাঁকে বেরিয়ে পড়েন দূরদেশে নিজেদের মতো সময় কাটাতে। যদিও কখনই তাদের একসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করতে দেখা যায় না। তবে আলাদা আলাদা যতই ছবি দিক— দুইয়ে দুইয়ে চার করতে অসুবিধা হয় না নেটিজেনদের। এবারও কি একসঙ্গেই বেড়াতে গেলেন দেব ও রুক্মিণী?

    এদিন দেব বেশ কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। সেখানে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে সমুদ্রসৈকতে গাছের ছায়ায় থাকা একটি দোলনায় বসে দুলছেন দেব। সামনে দিগন্ত বিস্তৃত নীল সমুদ্র। এই ছবিটি পোস্ট করে অভিনেতা লিখেছেন—’এমনি।’ শুধু তাই নয়, এই ছবির সঙ্গে জুড়ে দেন জানে মন তুই জীবন গানটি। আরেক দিকে অভিনেতা একটি খালি দোলনা, সমুদ্রের ছবি এবং সকাল সকাল সমুদ্রের শোভা দেখতে দেখতে শরীর চর্চার ছবি পোস্ট করেছেন।

    অন্যদিকে রুক্মিণী মৈত্র একটি ঘরে বসেই বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তুলে সেটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছেন— ‘লুকোচুরি।’ তারা কোথায় বেড়াতে গেছেন সেটিও জানাননি। তবে তাদের অনুরাগীদের অনুমান মালদ্বীপে ছুটি কাটাচ্ছেন তারা। এদিন দেব ও রুক্মিণী একসঙ্গে নিজেদের কোনো ছবি পোস্ট না করলেও নেটিজেনদের  অনুমান তারা একসঙ্গেই বেড়াতে গেছেন।

    উল্লেখ্য, দেব অভিনীত ‘খাদান’ সিনেমাটি গত ডিসেম্বরে মুক্তি পেয়েছিল। বক্স অফিসে তুমুল সাড়া ফেলে সেই সিনেমা। ব্লকবাস্টার হিট হয়। অন্যদিকে রুক্মিণী মৈত্র অভিনীত ‘বিনোদিনী একটি নটীর উপাখ্যান’ সিনেমাটি গত জানুয়ারি মাসে মুক্তি পেয়েছে। সেই সিনেমাটিও মোটের ওপর ভালোই ব্যবসা করেছে। দর্শকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে রুক্মিণীর অভিনয়। 

    একটি বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভালো, সদ্যই এ সিনেমাটি সাউথ এশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে একটি নয়, তিন-তিনটি বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে। সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেত্রী এবং সেরা দর্শকদের পছন্দের সিনেমার খেতাব পেয়েছে রাম কমল মুখোপাধ্যায় পরিচালিত সিনেমাটি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিতর্কিত ময়ূখের সঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে দেব-রুক্মিণী

    কলকাতার বিতর্কিত টেলিভিশন উপস্থাপন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। যেখানে দেখা যায়, জনপ্রিয় অভিনেতা দেব-রুক্মিণী সঙ্গে সেলফি তুলছেন ময়ূখ।

    এ ছবি শেয়ার করার পর নেটিজেনের কটাক্ষের মুখে পড়েছেন দেব-রুক্মিণী। ছবি শেয়ার করে ময়ূখ ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘কয়লা খাদানের কিছু ব্ল্যাক ডায়মন্ড।’

    কমেন্ট বক্সে যেন কটাক্ষের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আরহি হাওলাদার নামে এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘দেব আর থাকবে না দাদা এবার থাকবে না, রুক্মি কাছে দেব থাকবে না।’

    আরেকজনের লেখেন, ‘মলম বিক্রেতা হকার সাংবাদিক। থাকবে না, থাকবে না। মিন মিন মিন মিন মিন।’ 

    মিরাজ নামে আরেকজনের কথায়, ‘মিন মিন মিন করে খাদান সিনেমায় ঢুকে যান বিশিষ্ট ফুটপাতের চুলকানি মলম ব্যবসায়ী।’

    প্রসঙ্গত, ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল রিপাবলিক বাংলায় সিনিয়র এডিটর এবং হেড অফ ইনপুট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি দিয়ে সংবাদ উপস্থাপনের মাধ্যমে দর্শকমহলের নজরে এসেছেন। মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের কারণে বেশ সমালোচনা মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • নটী বিনোদিনীর গান প্রকাশ্যে, রুক্মিণী বুঝিয়ে দিলেন কে বিনোদিনী

    টালিউড অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র অভিনীত ‘বিনোদিনী-একটি নটীর উপাখ্যান’ ছবি আগামী ২৩ জানুয়ারি পাচ্ছে। আর এ ছবিতে ‘নটী বিনোদিনী’র চরিত্রে অভিনয় করার আগে আলাদা করে নাচের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তিনি নতুন করে নাচের প্রশিক্ষণ নেন। সম্প্রতি সেই ‘নটী বিনোদিনী’র প্রথম গান ‘কানহা’ প্রকাশ্যে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আর সেখানে অভিনেত্রীকে দেখা যায়, ‘বিনোদিনী দাসি’র ভূমিকায় যে নৃত্যশৈলী পরিবেশন করেছেন রুক্মিণী, তাতে মুগ্ধ হয়েছেন নেটিজেনরা।

    নাট্যমঞ্চে ‘নটী বিনোদিনী’র চরিত্রকে আত্মস্থ করতে সব রকমের প্রশিক্ষণ নেন রুক্মিণী। মঞ্চে বিনোদিনীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে ব্যক্তিত্ব আর নৃত্যশৈলী আত্মস্থ করতে হয় তাকে। তারই এক ঝলক দেখা গেল ‘বিনোদিনী-একটি নটীর উপাখ্যান’ সিনেমা থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত গানে। সেই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্টে দেখা যায়, অভিনেত্রীর পরনে রয়েছে লেহেঙ্গা চোলি। অলঙ্কারে বিভূষিতা ‘নটী’ বেশে জলসা মাতাচ্ছেন রুক্মিণী মৈত্র। যেখানে গুরমুখ রাইয়ের ভূমিকায় বিনোদিনীর নৃত্যশৈলী উপভোগ করতে দেখা যায় মীর আফসার আলিকে। 

    উল্লেখ্য, আগামী ২৩ জানুয়ারি ‘বিনোদিনী- একটি নটীর উপাখ্যান’ সিনেমা হলে মুক্তি পেতে চলেছে। আর এ ছবিতেই দেখা যাবে পরিচালক রামকমল মুখার্জির পিরিয়ড ড্রামার কাস্টিংয়ে তাক লাগানো অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রের নৃত্যশৈলী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • দেবের জন্মদিনে রুক্মিণীর আবেগঘন পোস্ট

    ওপার বাংলার তারকা জুটি দেব-রুক্মিণী। অফস্ক্রিন হোক বা অনস্ক্রিন সব জায়গাতেই সুপারহিট তারা। এদিকে দেবের জন্মদিন উপলক্ষ্যে পার্টি ছিল একেবারে অন্যরকম।

    ‘মন মানে না’ থেকে ‘পাগলু ডান্স’- একের পর এক গানে নাচতে দেখা যায় তাদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে এসব ভিডিও শেয়ার করেছেন। 

    দেবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রুক্মিণী পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, এই বিশ্বের কাছে প্রার্থনা জানাই, শুধু তোমার জন্মদিন নয়, প্রতিটা দিন শুভ করার জন্য। এমনভাবেই চালিয়ে যাও। আরও সফল হও। অপরাজিত থেকো। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের জন্য ভালো কাজ করো। এই মহাবিশ্ব সবসময় তোমার পাশে থাকবে। শুভ জন্মদিন দেব, ভালোবাসা সব সময়ের জন্য।

    ম্যাচিং কালো পোশাকে এ দিন পার্টিতে দেখা যায় এ তারকা জুটিকে। অভিনেত্রী মনামী ঘোষ জন্মদিনের পার্টির একঝাঁক ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। কেক কাটা, ছবি তোলার পাশাপাশি তারা জমিয়ে নাচলেন। ‘মন মানে না’ সিনেমার গানে দেব আর রুক্মিণীর নাচের মুহূর্তে হলো ক্যামেরাবন্দি।

    দেবের জন্মদিনের পার্টিতে উপস্থিত ছিল তাদের কাছের মানুষেরা। যিশু সেনগুপ্ত ও সৃজিত মুখার্জিকেও দেখা যায়। একটি ছবিতে দেবকে দেখা মিলল মনামী ঘোষের সঙ্গে ক্যামেরায় পোজ দিতে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • দেবকে ‘আনফলো’ রুক্মিণীর! কী হল হঠাৎ?

    বলিউড ও টালিউডের মধ্যে ছবি আদান-প্রদান চলে। ছবির গল্প থেকে ছবি হিটের ফর্মুলা এটি। এবার চর্চা শুরু টালিউড অভিনেতা দেব ও অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রের মান-অভিমান নিয়ে। 

    ঘটনার সূত্রপাত একটি ভিডিও। ‘খাদান’ ছবির প্রচারে বেরিয়েছিলেন প্রযোজক-অভিনেতা দেব, অভিনেত্রী ইধিকা পাল, যিশু সেনগুপ্তসহ ছবির পুরো টিম। ছবির নায়ক রসিকতা করে ক্যামেরার সামনে বলেন, তিনি ‘সিঙ্গেল (একলাই)’ এ ভিডিওই নাকি দুই অভিনেতার মনোমালিন্যের অন্যতম কারণ। 

    সেই অভিমানেই দেবকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসরণ করা বন্ধ করে দিয়েছেন অভিনেত্রী রুক্মিণী। এ জায়গা থেকেই টালিউডের কেউ কেউ দাবি করে বলেছেন— দেব আর‘দেবী’র এই বিচ্ছেদও নাকি সুপরিকল্পিত।

    জানা গেছে, এর পরেই আচমকা দেবকে ‘আনফলো’ করেন অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র। অথচ ৩০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুজনেই। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সৌজন্যে রুক্মিণীর দেওয়া উত্তরীয় দেবের গলায় পৌঁছেছে। 

    সত্যিকারের মান-অভিমান থাকলে এ ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়ার কথা উভয়েরই। কিন্তু সেদিন কোনো অস্বস্তি বা বিস্ময় তো ছিলই না; বরং দেব-রুক্মিণী হাসতে হাসতে ঘটনা উপভোগ করেন। 

    সত্যিই যদি কোনো সমস্যা থাকত, তবে অভিনেত্রীকে অন্তত সেদিনের অনুষ্ঠানে ওভাবে দেখা যেত না। যদিও পরে  অভিনেত্রীর সহকারী বলেন, দেবকে ‘আনফলো’ করার ঘটনাটি নাকি ভুলবশত ঘটে গেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • স্বস্তিকা বনাম দেবের লড়াই, কি করবেন রুক্মিণী

    দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে টালিউডে মুক্তি পেয়েছে সিনেমা ‘টেক্কা’। এ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন অভিনেতা দেব। আরও আছেন স্বস্তিকা, টোটাও— এমনকি পোড়খাওয়া পরান বন্দ্যোপাধায়ও। ‘টেক্কা’য় ছবির নায়ক কিন্তু দেব নন, রুক্মিণী মৈত্র। এ ছবি ‘টেক্কা’য় সৃজিতীয় চমক আর দেব-রুক্মিণী-টোটার রসায়ন কেমন, সে কথা জানিয়েছেন আনন্দবাজার অনলাইনে সুদীপ ঘোষ।

    তিনি লিখেছেন— যখন তিনি থ্রিলার ছবি বানান, তখন সৃজিত মুখোপাধ্যায় সেই ছবির চলনে নিজের একটা ছাপ রেখে যান বরাবর। মনে করুন— ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘চতুষ্কোণ’— সৃজিতের পেশায় আসার একেবারে প্রথম দিকের দুটি ছবি। বাংলা থ্রিলার ছবি সাম্প্রতিক অতীতে এভাবে কেউ বানাননি। এতটাই রুদ্ধশ্বাস ছিল সেগুলো। দর্শক তার উপযুক্ত মূল্যও দিয়েছিলেন। সৃজিত প্রায় রাতারাতি বাংলা সিনেমার ‘পোস্টার বয়’ হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী কালে তার ‘ভিঞ্চি দা’ বক্স অফিসে সফল হলেও সব ধরনের মানসিকতার দর্শককে মাতাতে পারেননি। 

    আনন্দের খবর হলো— ২০২৪-এর পূজায় সৃজিতের তৈরি ‘কিডন্যাপ থ্রিলার’ ছবি ‘টেক্কা’ বেশ কয়েক বছর পর প্রায় সব মানসিকতার দর্শককে আবার মাতাতে পারে।

    কিন্তু ‘উৎসবের ছবি’ হিসাবে ‘টেক্কা’র অনেক গুণাগুণ থাকলেও সে ছবিকে এ ক্ষেত্রে বেশি নম্বর দেওয়া গেল না। তার কারণ— সংলাপে প্রচুর অপশব্দের প্রয়োগ। পরিবারের সব বয়সের সদস্যকে নিয়ে এ ছবি একসঙ্গে বসে দেখতে হয়তো কিছুটা দ্বিধা বোধ করবেন অনেক দর্শকই। দুঃখের হলেও এটা সত্যি যে, বাঙালি আজও সম্পূর্ণ প্রাপ্তমনস্ক হয়ে উঠতে পারেনি। আর এখানেই ‘উৎসবের ছবি’ হিসাবে ‘টেক্কা’ একটু পিছিয়ে থাকবে। তা ছাড়া ‘টেক্কা’য় উৎসবের বাকি সব মশলা মজুত। রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা, গতিশীলতা, ভালো অভিনয়, ঘটনার ঘনঘটা, জটিল মনস্তাত্ত্বিকতা— এককথায় এই সময়ে দর্শক আকর্ষণ করতে যা যা লাগে, তার সবটাই এ ছবিতে হাজির। যদিও অপভাষার প্রয়োগ ছবির ওই মুহূর্তগুলোতে সৃজিত সংলাপ লিখিয়ে হিসাবে চাইলেও এড়াতে পারতেন না। একজন অল্পশিক্ষিত অপহরণকারী যখন বন্দুকের নল উঁচিয়ে হুমকি দেয়, তখন তার ভাষ্যে বাংলায় ‘খিস্তি’ এসে যাওয়াটা স্বাভাবিক সংলাপেরই দাবি।

    তিনি বলেন, এ ছবির নায়ক কিন্তু দেব নন, রুক্মিণী মৈত্র। স্বস্তিকা আছেন, টোটাও আছেন। এমনকি পোড়খাওয়া পরান বন্দ্যোপাধায়ও আছেন। কিন্তু তারা কেউ নায়কের জায়গা নিতে পারেননি। সেখানে সম্পূর্ণ ছবিজুড়ে মাতিয়ে দিয়েছেন একা রুক্মিণী। ভীষণ শহুরে, অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী এক পুলিশের চরিত্রে রুক্মিণীকে সৃজিত অনেকটা জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন চিত্রনাট্যে। এবং কী সাবলীল অভিনয় করেছেন ভদ্রমহিলা! দেখে মনে হয়, যেন শানানো ছোরা। এতটাই সাবলীল তার বাচনভঙ্গি ও হাবভাব। মননশীল ও বলিষ্ঠতার ছাপ সব কিছুতেই। সেই সঙ্গীর প্রতি তার ছোট্ট বাক্য উচ্চারণেই হোক বা অপহরণকারীর সঙ্গে দর কষাকষিতেই হোক। তবে এ কথা না স্বীকার করে উপায় নেই যে, ‘টেক্কা’র প্রারম্ভিক অনুপ্রেরণা একটি হলিউডি ছবি।

    ১৯৯৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘ম্যাড সিটি’। প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ডাস্টিন হফম্যান ও জন ট্রাভল্টা। ‘ম্যাড সিটি’র ট্রাভল্টার চরিত্রটি ‘টেক্কা’য় করছেন দেব। আর ডাস্টিনের চরিত্রটি এখানে করছেন রুক্মিণী। এমনকি মূল ছবিতে যে টেলিভিশন সাংবাদিকের চরিত্রটি ছিল, সেটি এখানে ভাগ হয়েছে দুই নতুন অভিনেতার মধ্যে— আরিয়ান আর এক নবাগত সে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু মূল অনুপ্রেরণার ব্যাপারে কোনো কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেননি সৃজিত, ছবির কোথাও। এটি ঠিক মেনে নেওয়া যায় না। অবশ্য ‘ম্যাড সিটি’ও একই দোষে দুষ্ট ছিল। ‘শিকাগো সান’ সংবাদপত্রের সিনেমা সমালোচক রজার এবার্ট লেখার সময় ছবির রেটিংয়ে এই কারণে নম্বর কাটেন। ৪-এ ২ দিয়েছিলেন তিনি। কারণ তার মনে হয়েছিল, ‘ম্যাড সিটি’ আসলে পূর্ববর্তী সিনেমা ‘এস ইন দ্য হোল’-এর অনুকরণ। আমরা অত কড়া মনোভাব নিতে পারছি না। কারণ সৃজিত অনুপ্রেরণা নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু গল্পটিকে নিজস্ব একটি মাত্রা দিতে সমর্থ হয়েছেন। এটাই ‘সৃজিতীয়’ প্রতিভা। ওই যে শুরুতেই লিখলাম— থ্রিলার বানালে সৃজিত তাতে একটা নিজস্ব মাত্রা যোগ করেন। সেটি এখানেও উপস্থিত।

    ছবিতে গানগুলো কানে আরাম দেয়। রণজয় ভট্টাচার্যের আবহে নিজস্ব সুরে গান গেয়েছেন কবীর সুমন, অনুপম রায় ও আরও একজন। অবশ্য সৃজিতের সব সিনেমাতেই গান এবং সুর বিশেষ জায়গা দখল করে রাখে। যিনি নিজে মাউথ অর্গান বাজান অনায়াসে, তেমন মানুষের সিনেমায় সুরের খেলা অনুপস্থিত থাকবে এমন তো হতে পারে না, স্বভাবতই।

    সব মিলিয়ে ‘টেক্কা’য় একটি বাংলা বাণিজ্যিক সফল ছবির মালমশলা সবটাই উপস্থিত। পূজায় এবার বক্স অফিসের লড়াই যে জমে যাবে, এ কথা বলে ফেলাই যায় এখন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সৃজিত আমার কাছে কোনো পরিচালক নয়: রুক্মিণী

    পূজায় মুক্তি পাচ্ছে টালিউড অভিনীত রুক্মিণী মৈত্রের ছবি ‘টেক্কা’। এ ছবি ছাড়াও তিনি কি প্রতিযোগীদের টেক্কা দিতে বিশ্বাসী? আনন্দবাজার অনলাইনের প্রশ্নের মুখোমুখি তিনি। এ অভিনেত্রী ফোন ধরেই জানালেন— মুম্বাই থেকে সবেমাত্র কলকাতায় ফিরেছেন। সাক্ষাৎকার দিতে প্রস্তুত আছেন তিনি। 

    আপনি কি ক্লান্ত— আনন্দবাজারের এমন প্রশ্নের উত্তরে রুক্মিণী বলেন, একদমই নয়। ছবি মুক্তি পাচ্ছে, এখন বিশ্রামের প্রশ্নই আসে না। 

    প্রশ্ন: ‘পাসওয়ার্ড’-এর পাঁচ বছর পর আবার পূজায় আপনার অভিনীত ছবি ‘টেক্কা’ মুক্তি পাচ্ছে। আপনি নিশ্চয়ই উত্তেজিত?

    রুক্মিণী: (হেসে) তাই কি! সত্যি বলছি— আমি ততটা ভেবে দেখিনি। প্রশ্নটার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। কারণ গত পাঁচ বছরে অনেক কিছু বদলে গেছে। সিনেমা জগৎ প্রত্যেক শুক্রবার বদলে যাচ্ছে। অভিনেত্রী হিসেবে আমিও প্রত্যেক ছবির সঙ্গে একটু একটু করে বদলে যাচ্ছি। কিন্তু পূজার ছবি নিয়ে উত্তেজনা এতটুকুও বদলায়নি। ব্যক্তি রুক্মিণী এখনো একই রয়ে গেছে।

    প্রশ্ন: অভিনেত্রী হিসেবে নিজের মধ্যে কী কী পরিবর্তন লক্ষ করেছেন?

    রুক্মিণী: আমি নিজের উন্নতিতে বিশ্বাস করি। পাঁচ বছর আগে আমি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন এসেছিলাম। কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। ইচ্ছে বা আকাঙ্ক্ষাও সেই অর্থে ছিল না। তখন সব সময়েই বলতাম যে, আমার প্রথম প্রেম মডেলিং। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে করতে এখন বলতেই পারি— এখন অভিনয়ের প্রেমে পড়ে গেছি। অ্যাকশন আর কাটের মধ্যেই এখন ভালো লাগে। চরিত্রগুলোকে সম্মান করতে শিখেছি। হয়তো আগের মতো এখনো লিখতে পারি। কিন্তু এখন ভাষার ব্যাকরণটা আরও ভালো করে রপ্ত করতে পেরেছি।

    প্রশ্ন: এখন তা হলে প্রথম প্রেম অভিনয়?

    রুক্মিণী: মডেলিং প্রথম প্রেম। আর অভিনয় শেষ ভালোবাসা। কারণ প্রথম প্রেম অনেক হতে পারে। কিন্তু এই প্রেমটা রয়ে যাবে।

    প্রশ্ন: দেব শুনলে রেগে যাবে তো।

    রুক্মিণী: (হাসতে হাসতে) পরের প্রশ্ন।

    প্রশ্ন: ‘বুমেরাং’-এ ন্যাড়া মাথা। ‘টেক্কা’য় ছোট চুল। প্রথম সারির অভিনেত্রীদের মধ্যে অনেকেই কিন্তু লুক নিয়ে এতটা সাহস দেখাবেন না।

    রুক্মিণী: ধন্যবাদ। আমার মা তো মজা করে বলেছিলেন— আগের ছবিতে ন্যাড়া হয়েছিলি। এবার মাথায় একটু চুল গজিয়েছে। আসলে আমি নিজের মতো কাজ করতে পছন্দ করি। এমন চরিত্র, যা শুধু আমাকে নয় একই সঙ্গে দর্শককেও মজা দেবে। অনেকেই বারণ করেছিলেন। লুক যদি চরিত্রের ৫০ শতাংশ হয়, তা হলে বাকি ৫০ শতাংশ অভিনয়। আসলে একটাই তো জীবন। সবাই যেটা করছে, আমিও সেটি করলে নিজস্বতা হারিয়ে যায়। কার ভালো লাগছে বা কার ভালো লাগছে না, সেটি ভাবতে গেলে আমি তাদের মতো হয়ে যাব।

    প্রশ্ন: ‘টেক্কা’য় মায়া চরিত্রটি আপনার আগের চরিত্রগুলো থেকে কতটা আলাদা?

    রুক্মিণী: খুব কঠিন চরিত্র। পুলিশ অফিসার। একটু পুরুষালি ভাব আছে। কথাও সেভাবে বলে। অ্যাকশনও করে। এখন আর বেশি বলতে চাই না। কিন্তু আমার ক্যারিয়ারের কঠিনতম তিনটি চরিত্রের মধ্যে মায়া একটি।

    প্রশ্ন: সৃজিত কতটা সাহায্য করেছিলেন?

    রুক্মিণী: সৃজিত আমার কাছে কোনো পরিচালক নয়, ও আমার কাছে একটা অভিজ্ঞতা। সৃজিতের সবচেয়ে বড় গুণ— একজন অভিনেতার থেকে ও কী চাইছে, সেটা ওর কাছে স্পষ্ট। আমার আগের ছবিগুলো শুটিংয়ের আগে পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করতাম। কিন্তু এবারে ততটা সময় পাইনি। তাই ও ঠিক আমার কাছে কী চাইছে, সেটি সেটে গিয়েই বুঝতে পারি। একশ জন দর্শকের যদি মায়াকে পছন্দ না হয়, তার দায় আমার। কিন্তু একজনেরও ভালো লাগলে, সেই কৃতিত্ব কিন্তু সৃজিতের।

    প্রশ্ন: এই ছবিতে দেব একটি বাচ্চা মেয়েকে অপহরণ করছে। মায়ার কাঁধে মেয়েটিকে উদ্ধারের দায়িত্ব। দেবকে যদি কেউ অপহরণ করে, তা হলে আপনি উদ্ধার করতে যাবেন?

    রুক্মিণী: (হাসতে হাসতে) ওকে অপহরণ করলে আরও কয়েক দিন তার কাছে রেখে দিতে বলব। কারণ ও এতটাই ব্যস্ত যে, ছুটি পায় না। তাই অপহরণ করে ওকে এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে ওর কাছে কোনো ফোন থাকবে না। এক-দুই মাস কাজ থেকে দূরে থাকুক। তার পর আমি গিয়ে না হয় ছাড়িয়ে নিয়ে আসব।

    প্রশ্ন: ‘টেক্কা’র শুটিংয়ের সময়ে দেব নাকি ‘খাদান’-এর কাজেও ব্যস্ত ছিলেন। লোকসভা ভোটের পর ছবির কাজ। এখন ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতি। দেব কি আপনাকে সময় দিতে পারেন?

    রুক্মিণী: আমার মনে হয়, ভগবান তাকেই দায়িত্ব দেন, যিনি সেগুলো পালন করতে পারেন। আর খুব কম মানুষই সেই সুযোগ পান। আমি খুব খুশি যে, দেব তাদের মধ্যে একজন। আমি তো মানুষটাকে চিনি। যে ওকে চিনতে পারবে, সে অভিযোগের তুলনায় ওকে নিয়ে বেশি গর্বিত হবে।

    প্রশ্ন: ‘বহুরূপী’ বা ‘শাস্ত্রী’র ট্রেলার দেখেছেন?

    রুক্মিণী: মিঠুন দার সঙ্গে তো সেদিন দেখা হলো। কিন্তু ‘শাস্ত্রী’র ট্রেলার এখনো দেখা হয়নি। তবে গল্পটা আমি শুনেছিলাম। খুব ভালো লেগেছিল। তার ওপর মিঠুন দা রয়েছেন। ‘বহুরূপী’র ট্রেলার দেখে শিবুকে (পরিচালক, অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) মেসেজও করেছিলাম। আবীরের (আবীর চট্টোপাধ্যায়) সঙ্গে আমি খুব মজা করি। ওকে বলেছিলাম— তুমিও পুলিশ, আমিও পুলিশ। কিন্তু কে কাকে টেক্কা দেবে, সেটি যথাসময়েই বোঝা যাবে। আমি জানি না, ছেলেরা কোলো ভালো কিছু করলে আমি কেন যেন একটু প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ি। কিন্তু মেয়েরা হলে আমি তখন প্রশংসাই বেশি করি।

    প্রশ্ন: পূজার তিনটে ছবিকে সাজাতে বলা হলে আপনি কোন ছবিকে কোথায় রাখবেন।

    রুক্মিণী: নিজের ছবি। তাই ‘টেক্কা’ সব সময়েই প্রথমে থাকবে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান বলা খুব কঠিন। এই বছর যেহেতু মাত্র তিনটে ছবি, তাই প্রতিযোগিতার রেশটাও কম। ছবি কম বলে আশা করি প্রত্যেকেই ভালো শো পাবে। দর্শক বিভাজনের সম্ভাবনাও কম থাকবে। তাই ব্যবসার দিক থেকে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তিনটে ছবি পূজায় ভালো চললে কিন্তু এই পূজায় সবাই লাভ করবে।

    প্রশ্ন: ইন্ডাস্ট্রিতে রেষারেষির কথা শোনা যায়। এই যে নিজে থেকে অন্যের প্রশংসা করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে সামাজিকমাধ্যম ছাড়া ব্যক্তিগত স্তরে সবাই কি অন্যের প্রশংসা করেন?

    রুক্মিণী: কে কী করে, তা বলতে পারব না। তবে আমি এ রকমই। ‘প্রতিযোগী’ হলেও কারও ভালো কাজ দেখলে আমি প্রশংসা করি। প্রশংসা করলে তার যদি মুখে একটু হাসি ফোটে, তাতে তো আমার কোনো ক্ষতি নেই। ‘মির্জ়া’র সময়ে ঐন্দ্রিলাকে (ঐন্দ্রিলা সেন) ফোন করেছিলাম। কোয়েলের (কোয়েল মল্লিক) কোনো কিছু ভালো লাগলে ওকে মেসেজ করে জানাই। সামাজিকমাধ্যমে মিমির (মিমি চক্রবর্তী) কোনো ছবি হয়তো পছন্দ হয়েছে, সেটিও ওকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছি। দিনের শেষে তো আমরা সবাই একে অপরের বন্ধু।

    প্রশ্ন: এটা কিন্তু বড় গুণ।

    রুক্মিণী: ‘ভালো’কে ভালো বলার সাহস আমার রয়েছে। টেক্কার ট্রেলার যদি খারাপ হলো, তা হলে তো সবাই সামাজিকমাধ্যমে লিখে ভরিয়ে দিতেন! আসলে আমাদের একটা কোনো পদক্ষেপ ভুল হলে একশ জন সমালোচনা করতে হাজির হন। কিন্তু কিছু ভালো করলে, তখন একজনেরও প্রশংসা খুঁজতে হলে দুরবিনের প্রয়োজন হয়। এভাবে মানুষ হিসেবে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।

    প্রশ্ন: পূজায় কি কলকাতায় থাকবেন?

    রুক্মিণী: ছবি মুক্তি পাচ্ছে, তাই শহরেই রয়েছি। তার পর দিল্লিতে দাদা-বৌদির কাছে যাব। ২০ অক্টোবর আমার ভাইঝি আমায়রার জন্মদিন। সেদিনটা ওর সঙ্গেই কাটানোর ইচ্ছে রয়েছে।

    প্রশ্ন: ‘বিনোদিনী: একটি নটীর উপাখ্যান’ ছবির মুক্তির দিন প্রকাশ্যে এসেছে। ‘দ্রৌপদী’র প্রস্তুতি কবে শুরু করবেন?

    রুক্মিণী: বিনোদিনী আমার ক্যারিয়ারের খুব গুরুত্বপূর্ণ ছবি। আর দ্রৌপদী আমার ক্যারিয়ারে স্বপ্নের চরিত্র। খুব বড় ভাবে ছবিটাকে ভাবা হয়েছে। ‘মহাভারত’-এর অংশ বলে সেভাবে কাস্টিংও করতে হবে। তাই আমরা একটু সময় নিয়ে কাজটা শুরু করতে চাই।

    প্রশ্ন: অনন্ত আম্বানির বিয়েতে আপনি অতিথি। মুম্বাই যাতায়াত বাড়িয়েছেন। ‘সনক’ আর ‘ক্র্যাক’-এর পর নতুন কোনো খবর?

    রুক্মিণী: (হেসে) এখন ‘টেক্কা’ নিয়েই ব্যস্ত। মাঝে বলিউডের বেশ কিছু প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু আমি পর পর শুটিংয়ের জন্য রাজি হতে পারিনি। নতুন কোনো খবর হলে যথাসময়ে সবাই জানতে পারবেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘বাবার মৃত্যুর পরদিনই’ কেন মায়ের ওপর রেগেছিলেন রুক্মিণী?

    টলিউডে অন্যতম আলোচিত নায়িকা রুক্মিণী মৈত্র। তেমন কোনো বিতর্ক নেই তাকে নিয়ে। সাত বছরে টলিপাড়ায় নিজের আসন প্রায় শক্ত করে ফেলেছেন এ অভিনেত্রী। তবে ফ্যাশন জগতে তার বিচরণ বহু দিনের। 

    ২০১৭ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘চ্যাম্প’। অভিনেতা দেবের সঙ্গে জুটি বাঁধেন নায়িকা। সেই একই সময় বাবাকেও হারান এই অভিনেত্রী। সেই বছরটা এক অদ্ভুত সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন নায়িকা। 

    সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই পুরনো স্মৃতিটাই স্মরণ করলেন রুক্মিণী।

    নায়িকা জানালেন তার বেস্ট ফ্রেন্ড হলেন তার মা। জীবনের খুঁটিনাটি যা ঘটে সবটাই তিনি মায়ের সঙ্গে শেয়ার করে থাকেন। তাই রুক্মিণীর মাও মেয়ের কোনটা ভালো হবে না হবে- সেটা বোঝেন। 

    রুক্মিণী জানালেন নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডের ওপর কেনো রেগে গিয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি মায়ের ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করি। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পরের দিন মায়ের ওপর খুব রাগ হয়েছিল’। 

    কেন রাগ হয়েছিল? বাবাকে হারানোর পর এমন কী করেছিলেন মা, যে বিরক্ত হয়েছিলেন নায়িকা?

    রুক্মিণী বলেন, ‘বাবা চলে যাওয়ার পরের দিন আমি দেখলাম, মা প্রতি দিনের মতোই রেডি হয়েছেন শাড়ি পরে। নিজের কাজে যাচ্ছেন। আর আমায় বললেন, আমি যেন নিজের শুটিংয়ে যাই। সেই মুহূর্তে মায়ের ওপর রাগ হয়েছিল খুব। মনে হয়েছিল কেনো মা এটা করছেন। কিন্তু পরে বুঝতে পেরেছিলাম। মা সেটের প্রত্যেককে বলে দিয়েছিলেন যেন, আমায় কেউ প্রশ্ন না করে যে আমি ঠিক আছি কিনা। আর পাঁচটা দিনের মতোই যেন আমার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়’। 

    সেই একটা মুহূর্তের জন্য নিজের মায়ের ওপর বিরক্ত হয়েছিলেন নায়িকা। পরে অবশ্য অনুভব করেন, ঠিক কী কারণে তার মা সেদিন এমনটা করেছিলেন। 

    এদিকে এই মুহূর্তে রুক্মিণীর ঝুলিতে রয়েছে একের পর এক সিনেমা। পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে খুব ভালো সময়ই কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • একটি ছোট্ট কাজ অন্যকে অনুপ্রাণিত করতে পারে: রুক্মিণী

    আরজি করকাণ্ডে শহরের পরিস্থিতি অস্থির। লাগাতার নাগরিক প্রতিবাদের পাশাপাশি পুজো বয়কট করার ডাক দিয়েছেন কেউ কেউ। পাশাপাশি টালিউডে যৌন হেনস্তার অভিযোগে তোলপাড়। এর মধ্যেই আসন্ন পুজোয় মুক্তি পাচ্ছে টালিউড অভিনীত রুক্মিণী মৈত্রের ছবি ‘টেক্কা। পুজো নিয়ে কী ভাবছেন এ অভিনেত্রী?

    সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এবং দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চার্স লিমিটেডের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘টেক্কা’। এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন রুক্মিণী মৈত্র। ছবিটি পুজোয় মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্মাতা। আগামী ৮ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে  সিনেমাটি। এতে রুক্মিণী পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। আছেন দীপক অধিকারী দেব, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, অনির্বাণ চক্রবর্তী প্রমুখ।

    সাম্প্রতিক নারীনিগ্রহের ঘটনাগুলো রুক্মিণীর অজানা নয়। নারীসুরক্ষার জন্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বার্তা দিতে চেয়েছেন এ অভিনেত্রী।

    সম্প্রতি বিদেশে ছুটি কাটিয়ে শহরে ফিরেছেন রুক্মিণী মৈত্র। তার পরেই শুরু হয়ে গেছে তার নতুন ছবি ‘টেক্কা’র প্রচার। এ অভিনেত্রী বলেন, এখনো কিছুই ভেবে উঠতে পারিনি। শহরে ফিরেই পরিবারে কিছু সমস্যা হয়। এখন তো ছবির প্রচারে ব্যস্ত হয়ে যাব। আরজি কর আবহে সাধারণ মানুষের একাংশ উৎসবের বিপক্ষে। রুক্মিণীর মতে, কেউ কোনো বিষয়কে সমর্থন করবেন, না কি তার বিরোধিতা করবেন— সেটি ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্ত। অভিনেত্রী বলেন, কেউ চাইলে উৎসবে অংশ না নিতেই পারেন, সেটি তার সিদ্ধান্ত। তার জন্য কেউ তাকে অসম্মান করবে না।

    তিনি বলেন, উৎসব খুবই সীমিতসংখ্যক মানুষের কাছে ‘উৎসব’ হয়ে ওঠে। রুক্মিণী বলেন, সমাজের খুব ছোট্ট একটা অংশ অর্থনৈতিক দিক থেকে সুরক্ষিত। তারা আগামী এক বছর কিছু না করলেও হয়তো কোনো সমস্যা হবে না। 

    কিন্তু অভিনেত্রীর আশঙ্কা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের সেই অংশকে নিয়ে, যারা পুজোর কয়েক দিনের উপার্জনের ওপর নির্ভর করে আগামী কয়েক মাসের পরিকল্পনা করেন। রুক্মিণী বলেন, ‘‘উৎসবে ফিরতে বলছি না। কিন্তু এ মানুষগুলোর দিকে সাহায্যের হাতটা বাড়িয়ে দিই, তা হলে হয়তো মানুষ হিসেবেও আমরা আরও একটা ধাপ এগিয়ে যাব। আরজি করের ঘটনাকে মনে রেখেই রুক্মিণী জানালেন, ভালো-খারাপের মিশেলেই সমাজ। কিন্তু কোনো একটি খারাপ ঘটনাকে ভালো করতে গিয়ে আরও একাধিক খারাপ পদক্ষেপের বিরোধী তিনি।

    টালিউডে একের পর এক নারীনিগ্রহের ঘটনা সম্পর্কে অবগত রুক্মিণী। একদিকে ইন্ডাস্ট্রিতে নারীসুরক্ষা বজায় রাখতে টলিপাড়ার নারী শিল্পীরা সংগঠন তৈরি করেছেন। অন্যদিকে হেমা কমিটির আদলে রাজ্যে একটি কমিশন তৈরির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিনেত্রী ঋতাভরি চক্রবর্তী। রুক্মিণী বলেন, খুবই ভালো উদ্যোগ। সুদীপ্তাদি (অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী) আমাকে সেদিনই বিষয়টি জানিয়েছেন। আর আমার মনে হয়, এ ধরনের সংগঠনে নিরপেক্ষ একটি প্যানেলও থাকা উচিত।

    রুক্মিণী বলেন, অনেক দিন আগেই ইন্ডাস্ট্রিতে নারীসুরক্ষার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। তার আক্ষেপ, যেটি ঘটেছে, সেটি সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক! দুঃখের বিষয়— কিছু একটা ঘটে গেলে তখন আমরা নড়েচড়ে বসি। দেরি হলেও সেটি শুরু হয়েছে দেখে আমি খুব খুশি। এ অভিনেত্রী বলেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নারীসুরক্ষার পক্ষে বার্তা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ঘটনা, কিন্তু আমার এখনো মনে আছে। কোনো একটি প্রতিযোগিতায় আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, নিজের জন্য কী করার ইচ্ছা জানতে চাওয়া হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, আমি নায়িকাসুলভ কোনো উত্তর দেব। আমি বলেছিলাম— আমি নারীসুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে চাই।

    দেবের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রুক্মিণী। শুটিংয়ের সময় নারী শিল্পীদের সুবিধার জন্য তাদের প্রযোজনা সংস্থা যে বাড়তি সুবিধা ফ্লোরে রাখে, সে কথা অনেকেরই জানা। রুক্মিণী বলেন, নারীদের সুরক্ষা বা হাইজিন শুধু নয়, আমরা কোনো প্রজেক্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নারীসুরক্ষার বিষয়টি খেয়াল রাখি। শিল্পীদের সুবিধার্থে তাই প্রযোজনার সঙ্গে নিজেও জড়িয়ে থাকেন রুক্মিণী। তিনি বলেন, পুরুষ ও নারী— প্রত্যেকেই যেন সঠিক সময়ে গাড়ি পান, ভালো খাবার পান— এ রকম কিছু জিনিস ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়। কারণ একজন মানুষকে ভালো এবং সুরক্ষিত পরিবেশ দিলে আমার বিশ্বাস— তিনিও নিজের সেরাটা দিতে পারেন।

    নারীসুরক্ষা বজায় রাখতে অবশ্যই পদক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করেন রুক্মিণী। তবে ‘চ্যাম্প’ ছবির সময় থেকেই যে তিনি নিজের সংস্থার মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টা শুরু করেছেন বলে জানান তিনি। রুক্মিণী বলেন, নিজেদের ঢাক পেটাতে চাই না। কিন্তু আমি একটা ইতিবাচক উদ্যোগ বা একটা ছোট্ট পদক্ষেপ নিলে চারজন সেটা দেখেও আরও ছড়িয়ে দিতে পারে, যা আরও কিছুসংখ্যক মানুষকে হয়তো অনুপ্রাণিত করবে।

    রুক্মিণী নিজেও একাধিক ছবি দেবের সঙ্গে সহপ্রযোজনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রযোজনা সংস্থার তরফে ‘বাঘা যতীন’ ছবির জন্য প্রায় দু’-তিন হাজার অভিনেত্রীর অডিশন নেওয়া হয়। রুক্মিণী বলেন, সংস্থার কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয় যে, কাজের বাইরে কোনো অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। আর আগামী দিনেও একই নিয়ম জারি থাকবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিয়েতে ‘অনীহা’ দেবের, ক্ষুব্ধ রুক্মিণী যা বললেন

    বিয়ে করতে ‘অনীহা’ টালিউড অভিনেতা দীপক অধিকারী দেবের। তাই ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র — মানুষ এতটা ব্যস্ত হতে পারে না।

    জীবনে বিয়ে সবচেয়ে জরুরি নয়, বরং দুটি মানুষের ভালো থাকা খুবই জরুরি। তাই ৪০-এর গণ্ডি পেরিয়েও এখনো টালিউডের মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর তকমা থেকে নাম বাদ যায়নি অভিনেতা দেবের। যদিও প্রায় এক দশক ধরে রুক্মিণী মৈত্রের সঙ্গে প্রণয় ডোরে আবদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেসের এ তারকা সংসদ সদস্য। 

    দেবের হাত ধরেই অভিনয়ের জগতে পা রেখেছিলেন রুক্মিণী মৈত্র। এখন টালিপাড়ার অন্য়তম ব্যস্ত অভিনেত্রী তিনি। কাজ করছেন বলিউডে, তাও নিজের যোগ্যতায়। নিজেদের সম্পর্ক শুরুর দিন থেকে গোপন রাখেননি কোনো কিছুই। তবে ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যক্তিগতই রাখতে ভালোবাসেন এ অভিনেত্রী। সদ্য সৌদি আরব থেকে ঘুরে এলেন দুজনে। তবে একসঙ্গে কোনো ছবি পোস্ট করেননি তারা। কবে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন এ তারকা জুটি? এই প্রশ্নের উত্তর বরাবর এড়িয়ে যান দুজনে। 

    বিনোদন জগতে থেকেও সেভাবে দেবের নামের কোনো গসিপ নেই। শুভশ্রীর সঙ্গে ব্রেকআপের পর রুক্মিণীর সঙ্গে স্টেডি সম্পর্ক নায়কের। রুক্মিণী তার শক্তির উৎস, প্রকাশ্যে প্রেমিকার প্রশংসায় কার্পণ্য করেন না দেব। দুজনের এই সহজ সম্পর্কের পেছনের রহস্যটা কী? 

    হিন্দুস্তান টাইমসের এক সাক্ষাৎকারে রুক্মিণী জানিয়েছিলেন, সম্পর্কে এমন কোনো সমস্যা আসে না, যা সময়ের সঙ্গে ঠিক হয় না। আর কোনো মানুষ এতটা ব্যস্ত হতে পারে না যে, তিনি অন্য মানুষকে সময় দিতে পারছেন না। আর এই বিশ্বাস থেকেই পরস্পরের জন্য সময় বার করে নেন দুজনে। দেব-রুক্মিণীর সম্পর্কে সায় রয়েছে দুই পরিবারের। 

    রুক্মিণী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার কাছে সবচেয়ে প্রয়োজন ভালো থাকা, খুশি থাকা এবং অবশ্যই একে-অপরের ওপর বিশ্বাস রাখা। সম্পর্ক প্রশ্নের উত্তরে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার কাছে আমার মনের মানুষটা প্রাইমারি। বাকি সব সেকেন্ডারি। আমরা না এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের ফোটোটা, তারপর কোথাও ঘুরতে গেলাম সেটাতেই আটকে আছি। আমি সত্যি ভালো আছি, খুশি আছি এবং কমিটমেন্টে আছি— এটাই দরকার। এই সম্মান, এই কমিটমেন্টটাই দরকার আমার কাছে'।

    দেব পুজোয় নিয়ে আসছেন সিনেমা ‘টেক্কা’। অন্যদিকে ক্রিসমাসে নিয়ে আসছেন ‘খাদান’। আজ বৃহস্পতিবার ‘খাদান’ সিনেমার টিজার সামনে আসছে। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের টেক্কা সিনেমায় আবার দেবের সঙ্গে জুটি হয়ে আসছেন রুক্মিণী। অন্যদিকে খাদান-এ ইধিকার সঙ্গে রোম্যান্স করতে দেখা যাবে দেবকে। এ ছবি পরিচালনা করেছেন সঞ্জয় রিনো দত্ত। আরও থাকছেন যিশু সেনগুপ্ত, বরখা বিশতরা প্রমুখ।

    বিনোদন ডেস্ক