Tag: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

  • কাজ শেষে দেশে ফিরব: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

    অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নির্মাতা ও সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে। অনেকে দাবি করছেন, তিনি আর দেশে ফিরবেন না। তবে এসব আলোচনাকে গুঞ্জন বলে নাকচ করে দিয়েছেন ফারুকী।

    ‎এত এত আলোচনা হলেও নিজ থেকে ফেসবুকে বা অন্যমাধ্যমে তিনি কোনো উত্তর দেননি।  এ বিষয়ে রোববার সকালে যুগান্তরের পক্ষ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টা হওয়ার আগেও আমার একটা ক্যারিয়ার ছিল। সেই ক্যারিয়ারেই আমি ফিরে আসছি। উপদেষ্টা হওয়ার আগেও কাজের প্রয়োজনে বহুবার দেশের বাইরে যেতে হয়েছে। গেছি, আবার ফিরেছিও।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ‎তিনি বলেন, ‘এখন উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজন হলে বাইরে যাচ্ছি, কাজ শেষ হলে দেশে ফিরব। আবার প্রয়োজন হলে বাইরে যাব, আবার ফিরব।  এবারও তার ব্যতিক্রম কিছু নয়।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ‎এদিকে তার অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাসসহ কয়েকজনের মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ে। তবে ফারুকী বলেছেন, তার এই সফর সম্পূর্ণ পেশাগত প্রয়োজনেই এবং দেশে না ফেরার গুঞ্জনের কোনো ভিত্তি নেই।

    ‎মুহম্মদ আকবর‎

  • উপদেষ্টা ফারুকী ও তার স্ত্রী তিশার সম্পদের হিসাব প্রকাশ

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।  মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর আলোচনায় এসেছে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশার নাম। 

    মঙ্গলবার প্রকাশিত সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে যেখানে উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মোট সম্পদ কমেছে, সেখানে তার স্ত্রী অভিনয়শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ বেড়েছে দেড় কোটি টাকার বেশি। 

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের স্ত্রী অথবা স্বামীর ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী প্রায় আট মাসের হিসাব এখানে দেওয়া হয়নি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার মোট সম্পদ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। প্রজ্ঞাপন মতে, এক বছরে তিশার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা। 

    অন্যদিকে একই সময়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে ফারুকীর সম্পদের পরিমাণ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘সরকারে যোগ দেওয়ার পর গত চারটা দিন ছিল আমার জন‍্য সবচেয়ে অস্বস্তির’

    সরকারে যোগ দেওয়ার পর গত ৪ দিন নিজের জন্য অস্বস্তিকর ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সোমবার বিকালে বাউল শিল্পীকে গ্রেফতার ইস্যুতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। পাঠকদের জন্য উপদেষ্টার পোস্টটি হুবহু দেওয়া হলো। 

    ‘সরকারে যোগ দেওয়ার পর গত চারটা দিন ছিলো আমার জন‍্য সবচেয়ে অস্বস্তির। অনেকেই আমাকে বলেছেন, আমি চুপ করে আছি কেন? আমি বলেছি, আমাদের কাজ তো কাজটা করা। সরকারে বসে বিবৃতি দেওয়া না।’ 

    ‘কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ফর দ‍্য রেকর্ড কয়েকটা প্রসঙ্গে কথা বলি : ১. আবুল সরকারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এটা জানা মাত্রই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করি। তখন সেখান থেকে আমাকে একটা ভিডিও ক্লিপ পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতির উত্তাপ এবং ঝুঁকির দিকগুলো ব‍্যাখ‍্যা করা হয়।

    আমি বুঝতে পারি একটা সংকটের দিকে যাচ্ছে পুরা ব্যাপারটা। যেকোনো ফৌজদারি অপরাধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। আমি আমার পক্ষ থেকে যা যা করার বা বলার তা তা করছি এবং বলছি। এর বেশি এখানে লেখাও আমার পক্ষে সঙ্গত কারণে সম্ভব না।

    মনে রাখতে অনুরোধ করব, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির ক্ষেত্রে আমি বা আমার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কোনো ক্ষমতা বা ভূমিকা নাই। এই সম্পর্কিত যাবতীয় সিদ্ধান্তের এখতিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে এই স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল বিষয়টা হ্যান্ডেল করার চেষ্টা করছে। আমি এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে সবাইকে ধৈর্য্য এবং সংযম প্রদর্শনের জন‍্য অনুরোধ করছি।

    ধর্মীয় এবং সামাজিক সম্প্রীতিই কেবল আমাদের দেশটাকে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নিতে পারবে, অন‍্য কিছু কেবল ধ্বংসের দিকেই নিবে।’

    ‘২.এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার কিছু ইন্টারেস্টিং প‍্যাটার্ন লক্ষ‍্য করছি। কোনো সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় না—লক্ষ্য ফারুকী। এদের মাঝে কয়েকজনকে চিনি যারা আমাদের কমন সার্কেলের আড্ডায় বলেছে, ফারুকীর মিনিস্ট্রি যেসব ডকুমেন্টারি বানাচ্ছে এটা তো দেশে ইনক্লুসিভ রাজনীতির জন‍্য ক্ষতিকর! অর্থাৎ বিচার, অপরাধ স্বীকার এবং অনুশোচনার আগেই উনারা যার প্রতি সফ্‌ট তাকে গ্রাউন্ড তৈরি করতে দিতে হবে। অনুমান করি, সেই প্রসঙ্গে তৈরি হওয়া গাত্রদাহ আবুল সরকার উসিলায় এখন আমার উপর ঢালছেন হয়তো।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ‘তাদের উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে বলতে চাই, এই কাজটা আমাকে করতেই হবে, কারণ শহীদেরা আমাকে এই কাজ করতেই পাঠিয়েছে। আই অ‍্যাম সরি টু মেক ইউ ফিল আনকমফোরটেবল। এবং সামনে আমাদের মন্ত্রণালয় আরও আনকমফোরটেবল কাজে হাত দিবে। ইতিহাস গায়েব করে অথবা এর নির্বাচিত অংশ পেশ করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইনটেলেকচুয়াল কলোনি বানানোর যে প্রকল্প চলে আসছে বহু বছর, সেটাকে একদল তরুণ গবেষক যাচাই বাছাই করে দেখার কাজে হাত দিয়েছে। ফলে আমাকে আরো আক্রমণ করার জন্য তৈরি হতে অনুরোধ করছি।’

    “৩.সমালোচনা-প‍্যাটার্নের দ্বিতীয় রূপ – ‘মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লালন সেলিব্রেট করে আর বাউল মারে! ভণ্ডামী!’ বুঝলাম না, বাউল কি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় মারল? আপনাদের একটু কষ্ট করে রিসার্চ করতে বলব। তাহলেই দেখতে পাবেন ফকির-বাউলের উপর এই অত্যাচারের ইতিহাস অনেক পুরোনো। এমনকি আওয়ামী লীগের আমলটা ঘেঁটে দেখেন, কত জায়গায় বাউলদের উপর আক্রমণ হয়েছে, চুল কেটে দিয়েছে, বাদ‍্যযন্ত্র ভেঙে ফেলেছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে পালাকার গ্রেফতার হয়েছে!”

    ‘এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই আমরা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ যেটা করা সম্ভব সেটাই করেছি- লালনকে জাতীয়ভাবে সেলিব্রেট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে একটা বার্তা দিতে চেয়েছি যে আমরা তাদের সাথে আছি এবং লালন শাহ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তক-কবি-দার্শনিকদের একজন। এর পাশাপাশি সারা দেশে আমরা অনেকগুলো সাধুসঙ্গ করেছি। আমরা পরিষ্কার বহুত্বের পক্ষে সাংস্কৃতিকভাবে অবস্থান নিয়েছি। ৫৪ বছরে প্রথমবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঈদ, বৌদ্ধ পূর্নিমা, দুর্গাপূজা সেলিব্রেট করেছি। নববর্ষে সকল জাতিগোষ্ঠিকে নিয়ে একসঙ্গে উৎসব করেছি। আমাদের এই অবস্থানটাই নতুন বাংলাদেশ। যেখানে সকল জনগোষ্ঠীর স্টেইক থাকবে।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ‘এখন আমার মনে যে প্রশ্নটা উদয় হয়েছে : আমি ঠিক বুঝতে পারছি না সরকারের করণীয় কী? ধরেন কোথাও মেয়েদের একটা ফুটবল খেলা বন্ধ হলো। তখন আমাদের করণীয় কী? আমার তো মনে হয় আমাদের কর্তব্য যারা এটা করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা এবং খেলার সংখ‍্যা বাড়িয়ে দেওয়া। নাকি সেই বাড়িয়ে দেওয়াটা অন্যায় হবে কারণ অমুক জায়গায় একটা খেলা বন্ধ হয়েছিলো—সুতরাং মেয়েদের খেলাই বন্ধ করে দাও? তো লালন জাতীয়ভাবে পালন করে এবং সরকারি উদ্যোগে সাধুসঙ্গ বাড়ানোটা কেমনে অপরাধ হইলো বুঝতেছি না। নাকি এখানেও সেই কেইস? অন‍্য কারণের রাগ এই কারণে ঢালা? তাহলে একই উত্তর—আপনাকে আনফরচুনেটলি আরো জ্বলতে হবে।’

    ‘৫. সবচেয়ে তামাশাময় এইটা। বাউলরা আক্রান্ত হইছে? ড্রোন শো করতে বলো ফারুকীকে? আমেনার মা রিকশা থেকে পড়ে গেছে? ফারুকীকে বলো আরো ড্রোন শো করতে। হাহাহাহা। ভেরি ফানি। ভাইয়েরা ও বোনেরা আমার, টেলিভিশন সিনেমার আমিন চেয়ারম‍্যান হবেন না প্লিজ। আমার বন্ধু ডরোথি ওয়েনার টেলিভিশন দেখে আপ্লুত হয়ে আমাকে একটা কথা বলেছিল—“মানুষের সবচেয়ে বড় ভয় হচ্ছে ‘ফিয়ার অফ দ‍্য আননোন’।” তার বিবেচনায় আমিন চেয়ার‍ম‍্যানের কাছে টেলিভিশন ছিলো সেই আননোন থিং।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ‘ডরোথির বাবা ইস্ট জার্মানির। বার্লিন দেয়াল ভাঙার পর ভদ্রলোক তাকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটার সময় দোকানের ডিসপ্লেতে বার্বি দেখলে ডরোথির চোখ হাত দিয়ে ঢেকে দিতো, যাতে মেয়ে নষ্ট না হয়ে যায়! তার জন‍্য বার্বি ছিলো ‘দ‍্য আননোন থিং’। আমাদের কতিপয় বিশুদ্ধবাদীর কাছে ড্রোন শো হচ্ছে সেই আননোন থিং। আজকে আর লম্বা করলাম না। পরে একদিন ড্রোন শো নিয়ে আমার কথা বলব।’

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    ‘ড্রোনাতংকে ভোগা বন্ধুদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে এইটুকু বলি—মিডিয়া ইজ ইভলবিং এভরিডে। দুনিয়ার বেশিরভাগ বড় ইভেন্টে এখন ড্রোন শো যুক্ত হচ্ছে। আমরা যখন শুরু করি তখনও এতোটা ছিলো না। কয়েকদিন আগে দুনিয়ার অন‍্যতম বৃহৎ যাদুঘর গ্র‍্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম ওপেনিংয়ে বিশেষ আয়োজন ছিলো ড্রোন শো। ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের প্রচারনায় ২৬ শহরে সম্ভবত ড্রোন শো করেছে। আর নতুন বছর, জাতীয় দিবস, পূজা, কালচারাল ফেস্টিভ্যাল—এগুলোতে এখন ড্রোন শো ইজ দ‍্য নিউ নর্মাল। বাংলাদেশেও তাই হয়েছে, আরও হবে।’

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • বিয়ে না করার কারণ জানালেন মারজুক রাসেল

    চলতি মাসের ১৩ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে ঢালিউড নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘৮৪০’। এ ছবিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা মারজুক রাসেল। এ চরিত্রে তার অভিনয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ‘৮৪০’-সহ নানা প্রসঙ্গ নিয়ে একটি গণমাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার কথা বলেছেন মারজুক রাসেল। এটি যুগান্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

    আপনাকে সিনেমায় অভিনয়ে খুব একটা দেখা যায় না। যাও দেখা গেছে, তার প্রায় সবকটি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায়। ‘৮৪০’–এ অভিনয়ের ক্ষেত্রে কতটা সম্পর্ক, কতটা গল্পের মুগ্ধতা কাজ করেছে? মারজুক রাসেল বলেন, আমি তো সেই অর্থে একাডেমিক অভিনেতা নই, তাই অনিয়মিত। আসলে আমি যা যা করি, তার সবকিছুতেই অনিয়মিত, ২০২১ থেকে সেমি-নিয়মিত। কিশোরবেলার কৌতূহল আমারে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ামে জড়াইতে উসকানি দিছে। পরে ২০০০ সালের দিকে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ছবিয়াল’-এ যোগ দিলে টানা ১৫ বছর টেলিভিশন-সিনেমার পেছন-সামনের অ, আ, ক, খ শেখা হয়েছে। ফিলোসফিতে (দর্শনে) ভিন্নতা থাকলেও মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে বন্ধু-বস-সম্পর্ক সব সময় অটুট, ৮৪০-এর ক্ষেত্রে গল্প ও ‘আমার সাম্প্রতিক পপুলারিটি’ কাজ করেছে,―কাজের সময় নিজেকে বহিরাগত মনে হয়নি।

    চলচ্চিত্রে আপনার একটি সংলাপ ছিল— ‘রাজনীতিতে সবসময় অ্যাটাক চলে না…’। এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কিছুই রাজনীতির বাইরে না’—এই হিসাব খালি জীবনের নয়, মরণেরও; জীবন–মরণের সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাজনীতি মানে ‘মনুষ্যগঠিত কয়েকটা স্থানীয় সংগঠনের কার্যক্রম’ নয়।

     ‘৮৪০’–এর প্রচারণায় আপনি প্রেক্ষাগৃহে গেছেন। দর্শকরা ছবিটি দেখে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা বলেছেন, তা কী আপনার নজরে এসেছে? মারজুক বলেন, সরাসরি প্রতিক্রিয়া ছিল ‘ভালো হইছে’, ‘সমসাময়িক’, ‘ফানি’, ‘রিয়েলিস্টিক’—এ রকম আরও কিছু শব্দ ও শব্দের বাক্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোফাইল/আইডি চালাই না, পেজ চালাই বইলা কিছু ‘যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা’ টাইপ আর মিশ্র প্রতিক্রিয়া নজরে এসেছে; এসে থাকতে পারে নাই, চইলাও গেছে।

    এবার অন্য প্রসঙ্গ। একটা সময় আপনার লেখা গান নিয়মিতই আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, এরপর আসিফ আকবরসহ অন্যরাও গেয়েছেন। এখন গান লেখালেখিতে আপনাকে সেভাবে পাওয়া যায় না কেন? এ অভিনেতা উত্তরে বলেন, শুরুতেই বলছিলাম, আমি যা যা করি, তার সবকিছুতেই অনিয়মিত ও গানেও। ‘গানের কবিতা’ স্বেচ্ছায় এলে এখনো লিখি; অর্ডার বা ফরমাশে, বিষয় নির্বাচন করে দিলে লিখতে পারি না। অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে গেলে হাঁপাইয়া উঠি। গান হয়ে ওঠায় গীতিকবি, সুরকার, সংগীতশিল্পী, কণ্ঠশিল্পীদের সমন্বয় না হওয়ায় ‘কারও হয়ে’ বা ‘কারও জন্য’ আমার গান লেখার আগ্রহে ভাটা পড়ছে সত্যি; কিন্তু স্বেচ্ছায় আসা নানান লেখায় জোয়ার আর জোয়ার।

    এখনো তো গান হচ্ছে, শোনা হয় কি? শোনা হলে গীতিকবিতা বা গায়কী ও সুরে মুগ্ধ হয়েছেন, এমন কেউ আছেন? মারজুক রাসেল বলেন, জুনায়েদ ইভানের গান আর আলী হাসানের র্যাপে মুগ্ধ আছি দীর্ঘদিন। ‘তোরা বাতাস কর বাতাস কর’ গাওয়া সুমনের গায়কীতেও মুগ্ধ ছিলাম। যথাযথ পরিচর্যার অভাবে অকালপ্রয়াণ হইল তার!

    যত দূর শুনেছি, আপনি যখন যা করতে চেয়েছেন, করেছেন। এরপরও এমন কিছু করতে চেয়েছেন কিন্তু করা হয়নি—এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, অর্গানিক ‘ক্রিয়া’ ছাড়া অনেক ‘হাইব্রিড ক্রিয়া’–ও করতে হইছে, হইতেছে, হবে। নিজের লেখা কিছু লিরিক গাওয়ার চাওয়া আছে আমার অসুরা-কণ্ঠে,―মেশিন ভরসা।

    ব্যক্তিজীবন প্রসঙ্গে আসি। শুনেছি, জেরিন নামের এক তরুণীর সঙ্গে আপনার প্রেম ছিল। এরপর তিনি বিয়ে করে সংসারী হলেও আপনি হননি। এই প্রেমই কি আপনাকে সংসারবিবাগী করেছে? আপনার কি সংসারী হতে ইচ্ছা করে না? মারজুক রাসেল বলেন, একটু আগেও যা বলে এলাম, তা–ও আমার ব্যক্তিজীবনের বাইরের প্রসঙ্গ নয়। যা–ই হোক, ওইটা একতরফা ছিল, আমার তরফে, ওয়ান-সাইডেড। কিশোরবেলায় প্রকৃতি আমারে দিয়া ওই পাগলামি করাইয়া নিছিল। 

    তিনি বলেন, দাম্পত্য জীবন আর সংসারজীবন এক নয়। একলাও সংসার করা যায়। কাজকর্মে, দূরে একলা থাকলেও আমি সংসারবিবাগী নই—নানু, মা, বোন, ভাইদের নিয়েই আমাদের সংসার। দাম্পত্যে জড়াইতে প্রথম চেষ্টা করছি ১৯৯৬ সালেই, ম্যাচ হয়নি।―ম্যাচ না করলে সামাজিক আইন মাইনা, জোর কইরা ম্যাচ করাইয়া আজীবন বা বিচ্ছেদের পূর্বাপর ‘ক্যাচক্যাচ, ঘ্যাচঘ্যাচ’ কইরা যাওয়ায় আমি আগ্রহী নই। ইংরেজি ‘ম্যাচমেকিং’ শব্দবন্ধটা এই ক্ষেত্রে স্মরণীয়। ‘ম্যাচ’ করে না!

    আপনার লেখা গান, জিঙ্গেল, বই অনেককে মুগ্ধ করেছে। কার বই আপনাকে বেশি প্রভাবিত করেছে, মুগ্ধ করেছে? এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, অসংখ্যের লেখা। তাদের নাম উল্লেখ করে কাউকে ছোট, বড়, মেজ বানানোর চর্চা আমার ইদানীং নেই।

    সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে অনেকে প্রকৃতি কিংবা নির্জনতা পছন্দ করেন। আপনার ক্ষেত্রে কোনটা?

    মারজুক রাসেল বলেন, সৃজনশীল কাজের পরিবেশ, স্থান–কাল–পাত্র— এসব মিথের কারাগার থেকে অনেক আগেই মুক্তি পাইছি। এখন আমার যা কিছু লেখা হয়, সব অভ্যাসবশত অভিজ্ঞতা, রিয়েল ইভেন্ট, কল্পনা, আড্ডা, পাঠ, দর্শন, শ্রবণ, খাওন, ঘুম, গোসল, প্রেম প্রভৃতির অংশগ্রহণে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • দুঃসংবাদ দিয়ে অনুরোধ করলেন ফারুকী

    ঢালিউড নির্মাতা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’-র অফিশিয়াল পেজ হ্যাক হওয়ায় দুঃসংবাদ দিয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) আনুমানিক বেলা ২টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

    এ নির্মাতা জানিয়েছেন, বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালন করায় তিনি নিজের হ্যাক হওয়া অফিশিয়াল পেজ নিয়ে কোনোরকম পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। তবে হ্যাক হওয়া পেজটি ফিরে পেতে তিশা ও তার টিম কাজ করছে। হঠাৎ এমন অঘটন হওয়ার পেছনে একটি চক্র দায়ী।

    ফারুকী আরও বলেছেন, আমার দর্শকরা আমার ফিল্ম মেকিং ক্যারিয়ারে প্রচুর অবদান রেখেছেন। আমি নিশ্চিত আপনারা সবাই জানেন কেন এসব ঘটছে, কারা এটা ঘটাচ্ছেন। বিগত বছরে আমি আমার ছবির প্রচারমূলক কাজ করেছি। কিন্তু এখন আমি ভিন্ন একটি ভূমিকা পালন করছি। ৮৪০-র প্রচারের জন্য আমি কিছুই করতে পারিনি। তাই এটা স্পষ্ট যে, এক বা এক-চতুর্থাংশের বেশি নেতৃত্বে একটি দূষিত প্রচেষ্টা চলছে।

    ৮৪০ সিনেমা প্রসঙ্গে সংস্কৃতি উপদেষ্টা  বলেন, যারা ৪২০ পছন্দ করেন, তারা অনুগ্রহ করে হলে যান এবং ৮৪০ ওরফে ডেমোক্রেসি প্রাইভেট লিমিটেড দেখুন। যেহেতু আমি আমার চলচ্চিত্রটি সঠিকভাবে প্রচার করতে পারছি না, তাই আপনি ছবিটি উপভোগ করুন, চলচ্চিত্রটির প্রচারক হোন। একই সঙ্গে আমাকে আমার জনসাধারণের কাজ চালিয়ে যেতে দিন, যার জন্য আমি ২০০ শতাংশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ!

    উল্লেখ্য, ঢালিউড নির্মাতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে ২০০৭ সালে নির্মাণ করেছিলেন ‘৪২০’। কিন্তু গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও তামাশা সবকিছুকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখে তিনি নির্মাণ করে ৪২০’-এর ডাবলআপ ‘৮৪০’, যা গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে একটি রিলস পোস্ট করে জানিয়েছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এবং পরদিন শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুকে ‘৮৪০’–এর ট্রেলার নির্মাতা নিজেই শেয়ার করেন।  ৪২০’-এর ডাবলআপ ‘৮৪০’, যার পূর্ণ নাম ‘ডেমোক্রেসি প্রাইভেট লিমিটেড’। ছবিটি গতকাল শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) হলে মুক্তি পেয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে আগের দেওয়া ফেসবুক পোস্টে ফারুকী লিখেছিলেন, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বানাই ‘৪২০’। প্রকৃতির কী বিচিত্র খেয়াল, আবার আসছে সেই রকম একটা দুষ্টু কিছু, তাও আরেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। যেটার শুটিং করেছি ফ্যাসিবাদের কালে। তিনি বলেন, খোদার কসম, এটা মুক্তি পাওয়ার পর তোমরা ভেব না আমি আগেই জানতাম। এই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার থাকবে, তা না হলে এটা কোন সাহসে বানালাম?

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘শাহবাগের আড্ডায় ঈদ নিয়ে আলোচনাকে স্মার্ট মনে করা হতো না’

    যারা সংস্কৃতি চর্চা করেন তারা তো সবার প্রতি একই ধরনের উদারতা দেখাবেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য যে, আমি দেখেছি-আমাদের শাহবাগের সেই সাংস্কৃতিক আড্ডাগুলোতে পূজা-বড়দিন এগুলো নিয়ে আলোচনা হতো। কিন্তু ঈদ নিয়ে কথা বলা একটুও স্মার্ট হিসেবে মনে হতো না।

    রোববার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন অন্তর্বর্র্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

    তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর এটা স্রেফ সরকার পরিবর্তন না। একটা বড় বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে গেছে আমাদের দেশ। গত ১৫ বছরে আমাদের যে অধঃপতন হয়েছে— এটা বাইরে রাজনীতিগত অধঃপতন, আর ভেতরে সাংস্কৃতিক অধঃপতন। সাংস্কৃতিক অধঃপতনের জন্য কে দায়ী কারা দায়ী— এটা আলোচনা করা যাবে।

    ফারুকী বলেন, এই যে আমরা কাউকে ‘অপর’ ভেবেছি আবার কেউ আমাদের ‘অপর’ ভেবেছে। আমি মনে করি, এই অপর ভাবা বাংলাদেশের জন্য খুব ভালো কিছু না। সামনে এই বিপ্লবের পরে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ চাই এবং নতুন প্রজন্ম যে নতুন বাংলাদেশ চায়, আমি মনে করি, নতুন প্রজন্ম এই ‘অপরায়ন’ থেকে দূরে থাকতে চায়। তারা আমাদের বহু ভাষা, ধর্ম, মতের মানুষ মিলে মিশে থাকুক এটাই চায়। কেউ কাউকে হেয় না করুক এটা তারা চায়। যদি এটি করা যায়, তাহলে সত্যিকার অর্থে আমরা আলোকিত মানুষ হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে পারবো। আমরা সেই আলোকিত মানুষ হওয়ার পথেই রওনা দিয়েছি। জুলাই সেদিকে আমাদের নিয়ে যাক।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার বেশ বড়রকমের ভুমিকা রাখে এবং তা অর্থনৈতিকভাবেও নানারকম সহযোগিতা করে। এখানে কিন্তু সরকারের নিজের কোনও টাকা নেই, টাকা জনগণের।  জনগণের টাকা জনগণের কাজেই ব্যয় করতে হয়। এই ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারও জনগণের কাজ এবং এই কাজে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকতে পারছে বলে আমি মনে করি যে, মন্ত্রণালয় তার কাজ ঠিকঠাক করছে। আমরা সামনে এই কাজ নিয়ে আরও এগোবো। আরও অনেক আলোচনা আমরা বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে করবো। এটাকে কীভাবে আমরা আরও ছড়িয়ে দিতে পারি, সেটি নিয়ে কাজ করবো।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির সভাপতি শিক্ষাবিদ আবুল কাশেম ফজলুল হক। অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ উপস্থিত ছিলেন।

    এ বছর ৩টি গাড়ির মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলার ১২৮টি স্থানে বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন করার কথাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফারুকী ভাই উপযুক্ত ব্যক্তি: তমা মির্জা

    অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রখ্যাত নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাকে নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কথা চালাচালি হচ্ছে। তার অতীতের বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ঘেঁটে তাকে বিভিন্ন ‘ট্যাগ’ দিচ্ছেন একশ্রেণির মানুষ।

    আবার জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সামাজিক মাধ্যমে তার প্রতিবাদী ভূমিকার কারণে ফারুকীর পক্ষেও দাঁড়াচ্ছেন কেউ কেউ। এই যখন পরিস্থিতি তখন নিজের ‘ভোটটা’ এই নির্মাতাকেই দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তমা মির্জা।

    সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুকীকে অভিনন্দন জানিয়ে তমা বলেন, ‘আমি রাজনীতি বুঝি না। বিষয়টি থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করি। তার পরেও মনে হয়, বিনোদন দুনিয়ার কোনো ব্যক্তি যদি বিষয়টি বোঝেন, তাহলে তিনি যোগ দিতেই পারেন। সেই জায়গা থেকে ফারুকী ভাই উপযুক্ত ব্যক্তি।’

    ভারতীয় ওই গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে ভারতের ভিসা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়টিও এসেছে তমার কথায়, ‘ভিসা জটিলতায় আমি নিজেও ভুগছি। সব সময় কাজের জন্যই যে পড়শি দেশে যেতে হবে, এমন কথা নেই। পড়শি ভারতেও অনেক বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। ইচ্ছে করে, তাঁরা আসুন বা আমরা তাঁদের কাছে যাই। এই জায়গাটা অনেক দিন ধরেই বন্ধ।’

    ভিসা জটিলতায় দুই বাংলার শিল্পীদের কাজে বিঘ্ন ঘটায় কষ্ট পেয়েছেন তমা, ‘আমার খুব খারাপ লেগেছে, আমাদের অনেক শিল্পী ভিসা জটিলতার কারণে ভারতে চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও যখন কাজ করতে পারেননি। কলকাতার অনেক শিল্পীও একই ভাবে বঞ্চিত। এটা আমাদের কাছে খুবই কষ্টের। কারণ, চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর আমরা সেই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি।’

    তাই তমার চাওয়া, আগামী দিনে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যেন কোনো শিল্পীকে কাজ না হারাতে হয়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অন্তর্বর্তী সরকারকে ডি-স্ট্যাবিলাইজ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: ফারুকী

    নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নানান ইস্যুতে প্রতিবাদের সুরে কথা বলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই ছাত্র-জনতাকে সমর্থন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব ছিলেন তিনি। এবারো তার ব্যতিক্রম হলো না। শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন ফারুকী। সেখানে আবারো ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

    পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

    তিনি লিখেছেন, ‘আমি এর আগেও অনেকবার লিখেছিলাম যে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ‘সময়’ থেকে পুরাপুরি বিচ্ছিন্ন। আওয়ামী লীগের বি-টিম হিসেবে খেলতে খেলতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, এবং শর্ট ফিল্ম ফোরাম নতুন প্রজন্মের কাছে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। একবার ভাবেন, হিটলারের আমলে কোনো শিল্পী হিটলারের মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিবাদ তো দূরের কথা তার গাছের গোড়ায় পানি ঢাললে তাকে ইতিহাস কি হিসেবে বিচার করত?’

    তিনি আরও লিখেন, আপনি আওয়ামী লীগ সমর্থক হতে পারেন, বিএনপি সমর্থক হতে পারেন, কিন্তু শিল্পী হলে কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যা, গুমের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিস্টের পক্ষে কথা বলতে পারেন না, ফ্যাসিজমের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করতে পারেন না। এবার আপনারা গত ষোলো বছর এই তিনটা সংগঠনের সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক ভূমিকা কি ছিল সেটা ভেবে দেখেন। তার মানে কি এইসব ফুট সোলজারদের আঘাত করতে হবে? বিপ্লবের পক্ষের ভাই-বোনদের অসন্তুষ্টির আশঙ্কা মাথায় নিয়েও বলবো— আমি ব্যক্তিগতভাবে এর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি এটাও মাথায় রাখতে হবে রক্তের দাগ এখনও শুকায় নাই, খুনির-লুটপাটকারীর বিচার শুরু হয় নাই, কিন্তু নানা জায়গায় উস্কানী দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ডি-স্ট্যাবিলাইজ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আপনারা খুনির ফোনালাপ শোনেন। দেখেন সে অনুতপ্ত নাকি আরও খুন করার উস্কানী দিচ্ছে? বিপ্লবের পরে কুলিং পিরিয়ডটা পার হতে দিতে হয়। না হলে এই অবস্থায় আমি লিবারাল ক্রিটিকের স্পেস কিভাবে আশা করবো? এর উত্তর আমি জানি না।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • ব্যাংক লুট মেগা চুরির জন্য আ.লীগকে আরেকবার দরকার: ফারুকী

    মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জনপ্রিয় নির্মাতা।  পলিটিক্যাল গল্প নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘৪২০’-এর মতো দীর্ঘ ধারাবাহিক।  সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাকে।  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শুরু থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন ফারুকী।  সরকার পতনের পর থেকেই ফেসবুকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে নানা আলোচনা সমালোচনামূলক পোস্ট করে থাকেন তিনি। এবারো আওয়ামী লীগ সরকারের উপলব্ধি নিয়ে পোস্ট করেছেন এ নির্মাতা।

    সোমবার ফেসবুকে এ বিষয়ক একটি পোস্ট করেন ফারুকী। পোস্টে ফারুকী লেখেন, অনেকে আশা করেছিলেন আওয়ামী লীগের উপলব্ধি হবে। তারা অনুশোচনায় ভুগবে, বিচার পর্ব পার হয়ে নতুন রাজনীতি নিয়ে আসবে মানুষের সামনে।

    আর ওদিকে আওয়ামী লীগ আশা করছে বাংলাদেশের মানুষের উপলব্ধি হবে যে তাদের আমাদের কতোটা দরকার। তারা কল্পনায় দেখতে পাচ্ছে আমরা তাদের মিস করছি। কি বিস্ময়কর!!!

    আসুন আমরা একটু কল্পনা করার চেষ্টা করি তাদের আমাদের কেনো দরকার। পাঠকদের জন্য মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

    অনেকে আশা করেছিলেন আওয়ামী লীগের উপলব্ধি হবে। তারা অনুশোচনায় ভুগবে, বিচার পর্ব পার হয়ে নতুন রাজনীতি নিয়ে আসবে মানুষের সামনে।

    আর ওদিকে আওয়ামী লীগ আশা করছে বাংলাদেশের মানুষের উপলব্ধি হবে যে তাদের আমাদের কতোটা দরকার। তারা কল্পনায় দেখতে পাচ্ছে আমরা তাদের মিস করছি। কি বিস্ময়কর!!!

    আসুন আমরা একটু কল্পনা করার চেষ্টা করি তাদের আমাদের কেনো দরকার।

    এই জুলাই হাজারের বেশী তরুণ-কিশোর-ছাত্র-ছাত্রীকে খুন করেছে। আরো কয়েক হাজার খুন করার জন্য তাদের দরকার? সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় নিজের ক্যাশিয়ার মারফত ব্যাংক লুট করে লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে, যেটাকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি বলা হচ্ছে। আরো দশটা ব্যাংক লুটের জন্য দরকার?

    মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা চুরির জন্য দরকার? কুইক রেন্টালের নামে কুইক ডাকাতির জন্য দরকার? অসম এবং অবিশ্বাস্য চুক্তির জন্য দরকার?

    এই দফায় দলের সব নেতাকে সমান প্রশ্রয় দেওয়া যায় নাই। সামনের দিনে নিশ্চিত করা হবে জাভেদের মতো সবাই যেনো বিদেশে কম-সে-কম ৩৬৫টা বাড়ি কিনতে পারে। কোনো বৈষম্য করা হবে না। এই জন্য দরকার?

    এক যুগের বেশী সময় ধরে শত শত মানুষকে গুম করেছে। আরো কয়েক হাজার গুম করার জন্য দরকার? আরেকটা বিডিআর কার্নেজের জন্য দরকার?

    তার মানে কি এখন যা হচ্ছে সব ঠিক? অ্যাবসোলিউটলি নট। নির্বাচিত সরকার আসার আগ পর্যন্ত সবাই নিজেকেই সরকার ভেবে অনেক উল্টাপাল্টা কাজ করছে। কেউ কেউ অনলাইন-অফলাইনে বিভেদ উস্কে ঘোলা পানিতে মাছ ধরতে চাইছে। এই সরকারের ১০০০ বিষয়ে আমার নিজেরই সমালোচনা আছে। কিন্তু আমি বাস্তবতাটাও বুঝি। ১৬ বছরে সব সিস্টেম দলীয় লুটপাট আর ক্ষমতা টিকায়ে রাখার কাজে যখন ব্যবহৃত হয়, তখন যে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়, তাদের আসলে সালাম করা উচিত। আমি প্রফেসর ইউনুসকে সালাম জানাই আমাদের বর্জ্য পরিষ্কারের চ্যালেন্জ গ্রহণ করার জন্য। ওয়াকার সাহেব এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের সালাম জানাই জনতার হয়ে এই কাজ করার জন্য। তারা আরামেই থাকতে পারতেন হাসিনার সুবিধা খেয়ে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আমি যেমন সেভাবে যদি কথা না বলি, মেকি মনে হবেই: ফারুকী

    ছবিয়ালের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে ঢালিউড নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তো ছিলেনই, আরও ছিলেন ভাই-বেরাদেররা; অর্থাৎ তার সহকারী পরিচালকরা। সেই সব সহকারী পরিচালকের সহকারী পরিচালকেরাও। এভাবে পরম্পরাকে সম্মান জানিয়ে এবং পরিবারের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে সবাই মিলে আনন্দে কাটিয়েছেন সন্ধ্যাটি।

    ছবিয়ালের ২৫ বছর পূর্তিতে দর্শকদের উদ্দেশে ফারুকী বলেন, ‘২৫ বছর দর্শকদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বড় হওয়া। আমি তো মনে করি— আমার সিনেমাগুলো সময়ের সঙ্গে যেমন কথা বলে, তেমন দর্শকের সঙ্গেও কথা বলে এবং এই কথা বলার মধ্য দিয়েই আমরা বড় হচ্ছি— বুড়ো হচ্ছি। দর্শকরা আমাদের না ভালোবাসলে প্রথম সিনেমার পরই ছিটকে যেতাম। তারা যেভাবে আমাদের পথটাকে সমর্থন করেছেন, সে জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

    ‘ছবিয়াল’ নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মালিকানাধীন একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যানারেই তিনি নির্মাণ করে আসছেন বিজ্ঞাপন, নাটক ও সিনেমা। ১৯৯৮ সালে ছবিয়াল থেকে ফারুকীর প্রথম নির্মাণ হয় ‘ওয়েটিং রুম’। সেই সময় কোনো টিভি চ্যানেল কিনতে চায়নি ফিকশনটি। ২৫ বছরে এসে চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। 

    মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নামের আগে যুক্ত হয়েছে বিশেষণ। তিনি এখন অন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো সে স্বীকৃতি দিয়েছে তাকে। সহজ ছিল না এ পথ— এখনো নেই। 

    ছবিয়াল থেকে ফারুকীর সাম্প্রতিক নির্মাণ ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ সিনেমাটি দেখলে তার কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। ফারুকী বলেন, ‘ছবিয়াল থেকে আমরা এমন সব সিনেমাই করতে চেয়েছি, যার মধ্যে বাংলাদেশের নিঃশ্বাস আছে।’ নিজস্বতা তৈরি করার এই চেষ্টাই অনন্য করে তুলেছে ছবিয়াল ও ফারুকীকে। এ যাত্রায় ছবিয়াল ও ফারুকীকে অনেকেই সাহায্য করেছেন। যাদের মধ্যে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও চ্যানেল ওয়ানের কর্ণধার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন অন্যতম। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    এদিকে ‘ডুব’, ইংরেজিতে ‘নো বেড অব রোজেস’ সিনেমাটি যেবার বাংলাদেশ থেকে অস্কার প্রতিযোগিতায় গিয়েছিল, সেই বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ভ্যারাইটির রিভিউয়ার ম্যাগি লি এমন এক বাক্য লেখেন, যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের। সিনেমাটিতে সুখ, একাকিত্ব ও মনস্তত্ত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে নিয়ে বলেন, ‘ফারুকী প্রমাণ করেছেন, তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অনন্য কণ্ঠস্বর।’

    যিনি কবিতা লেখেন, তাকে যদি কবিয়াল বলা যায়, তাহলে যিনি ছবি বানান, তাকে ‘ছবিয়াল’ কেন বলা হবে না? এটিই বোধহয় ‘ছবিয়াল’ নামকরণের কারণ ছিল। ব্যাখ্যায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ‘বোধহয়’ শব্দটি ব্যবহার করলেন। কেন করলেন, তার উত্তর জানতে চাওয়া হয়নি। তবে আন্দাজ করা যায়, অনেক আগের কথা বলেই হয়তো এভাবে বললেন। তাহলে এখন জানতে চাওয়া, কত আগের? ২৫ বছর।

    ২৫ বছর বলতেই যেন হুড়মুড় করে স্মৃতির মুখবন্দি বাক্স এসে পড়তে লাগল ফারুকীর সামনে। তার হয়তো ইচ্ছা করছিল, সব কটির মুখ খুলে দিতে; কিন্তু তা সম্ভব নয়। তিলে তিলে গড়ে ওঠা ছবিয়াল, ভুল করে শিখতে শিখতে এগিয়ে যাওয়া ফারুকীর ২৫ বছরের গল্পসম্ভার এভাবে কিছু সময়ে শোনা বা বলা যায় না।

    ছবিয়ালের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘ব্যাচেলর’ সিনেমা নির্মাণের সময় ফারুকীর সঙ্গে আমার পরিচয়। সেই ফারুকী এখন কোন পর্যায়ে আছেন, তা দর্শকরা ভালো করেই জানেন। ফারুকী শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতাই নন, সমাজের সবকিছু নিয়ে তার রয়েছে বিচার-বিশ্লেষণ। তাই ফারুকীর সিনেমায় আমরা আপনাকে-আমাকে দেখতে পাই।’

    ছবিয়ালের শুরুর দিকে চ্যানেল ওয়ান থেকে সিরিজ চাওয়া হয়েছিল ছবিয়ালের কাছে, তথা ফারুকীর কাছে। সিরিজ না করে ‘ছবিয়াল উৎসব’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফারুকী। সেই সময়ের কথা উল্লেখ করে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিল— আমাদের দেশের তরুণরা অনেক সুন্দর এবং নতুন কিছু করতে পারেন। যার জন্য চ্যালেঞ্জটা আমরা নিই এবং সফল হই।

    এর পাশাপাশি ছবিয়াল আরও একটি দৃষ্টান্ত রেখে গেছে দেশের বিনোদন অঙ্গনে। সেটি হলো— ফারুকীর পাশাপাশি তরুণ নির্মাতা তৈরি করা। যারা একসময় সহকারী পরিচালক হিসেবে ছিলেন ছবিয়ালে, তারাই এখন নিজেদের নামে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অনেকেই তাদের গুচ্ছ আকারে ‘ভাই-বেরাদার’ নামে চেনেন। যাদের মধ্যে অন্যতম রেদওয়ান রনি, আশুতোষ সুজন, শরাফ আহমেদ জীবন, আশফাক নিপুণ, ইফতেখার আহমেদ ফাহমী, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ও আদনান আল রাজীব।

    স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ‘ভাই-বেরাদার’ আশফাক নিপুণ বলেন, ‘আমার নির্মাণে সব সময় লেখা থাকে ‘বানিয়েছেন আশফাক নিপুন’। আর সেই আশফাক নিপুণকে বানিয়েছে ছবিয়াল— মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আজ যা একটু করতে পারি, তা ওই দুটি নামের জন্য।’

    আরেক ‘ভাই-বেরাদার’ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির প্রধান নির্বাহী রেদওয়ার রনি বলেন, ‘ছবিয়াল আমার এবং আমার মতো অনেকের আঁতুড়ঘর। ছবিয়াল নিয়ে অল্প কথায় বলা যায় না। কারণ এটা খুব ইমোশনাল জায়গা, ইমোশনাল জার্নি। ছবিয়াল কোনো প্রতিষ্ঠান না— এটি একটি আঁতুড়ঘর, আশ্রম।’

    ২৫ বছরের পথচলায় অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ফারুকী ও ছবিয়ালকে। যার মধ্যে অন্যতম ভাষার ব্যবহার। নাটকে কথ্য ভাষার ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়েন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একসময় বুঝলাম— অভিনয় মেকি লাগার অন্যতম কারণ ভাষা। আমি যেমন, সেভাবে যদি কথা না বলি, তাহলে সেটা মেকি মনে হবেই। তাই আমি চরিত্রের ধরন অনুযায়ী ভাষার ব্যবহার করেছি। দর্শক সেটি গ্রহণ করেছে।’

    ছবিয়ালের উল্লেখযোগ্য ফিকশন ও ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে রয়েছ— ‘আয়শা মঙ্গল’, ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘কানামাছি, ‘চড়ুইভাতি, ‘৬৯’, ‘৫১বর্তী, ‘৪২০’। সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘ব্যাচেলর’, ‘টেলিভিশন’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘ডুব’, পিঁপড়াবিদ্যা’ ইত্যাদি।

    বিনোদন ডেস্ক