Tag: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

  • ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’র পর মৌসুমীর ‘এ যুদ্ধ কবে হবে শেষ’

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংগীতশিল্পী মৌসুমী চৌধুরীর গাওয়া গান— ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ সেই সময় প্রেরণা জুগিয়েছিল। ৩৬ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে সেই গান গাওয়া নিয়ে দুঃসময়ের কথা তুলে ধরেন এ সংগীতশিল্পী।

    মৌসুমী চৌধুরী বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে আমরা কথা বলতে পারিনি। আমাদের কোনো বাক্স্বাধীনতা ছিল না। ফলে অনেক কিছু আমাদের সহ্য করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এখন মনে হচ্ছে— বাক্স্বাধীনতা পেয়েও পাইনি। এখন হয়তো স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি, মুখটা আটকে ধরছে না কেউ, তবু আমরা স্বাধীন নই। আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেই যাচ্ছি।

    ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’—এ গানটির গল্প জানতে চাওয়া হলে মৌসুমী চৌধুরী বলেন, ১৬-১৭ বছর থেকেই আন্দোলন হচ্ছে। আমি ২০২২ সালে বিএনপির মহাসমাবেশ থেকে আন্দোলনে শামিল হয়েছি। গানটা রেকর্ড করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। গানটি লিখেছেন আমার গুরু ইথুন বাবু। 

    এ সংগীতশিল্পী বলেন, রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে গানটি গেয়েছি। এরপর গানটি নিয়ে পুরো দেশে ঘুরেছি। স্বভাবতই ফ্যাসিস্ট সরকারকে নিয়ে গানটি করা। সে ক্ষেত্রে জীবনের বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছিলাম। যার কারণে আমাকে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকতে হয়েছে।

    মৌসুমী চৌধুরী বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে কয়েকবার পালিয়ে থাকতে হয়েছে। তবে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর সবচেয়ে বেশি সময় ধরে পালিয়ে ছিলাম। তখন অনেক হুমকি পেয়েছিলাম, বাসা পরিবর্তন করতে হয়েছিল। গ্রামের বাড়ি থেকেও অনেক হুমকি পেয়েছিলাম। আমি বলব— সেই সময় থেকে এখন অনেক ভালো আছি। আমরা আরও ভালো থাকতে চাই।

    ২০২২ সালের গান ২০২৪ সালে ৩৬ জুলাই আন্দোলনে সাড়া জাগালো। এ প্রসঙ্গে মৌসুমী চৌধুরী বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে গানটা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৬ জুলাই আবু সাঈদের যখন মৃত্যু হয়, তখন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা তো আমাদের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যৎ ঝরে পড়ে গেলে, এই খারাপ লাগাটা অন্য রকম। তখন পল্টনে আমরা আন্দোলন করছিলাম। 

    তিনি বলেন, একটা কাজে আমি যমুনা ফিউচার পার্কে গিয়েছিলাম। ওখানে আন্দোলনে আমার গানটা গাইছিল। শুনে খুব ভালো লেগেছিল। ৩ আগস্ট রাতেও রামপুরায় ছিলাম আমরা। ওই দিন ‘ক্ষমতা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটা গানও ছেড়েছিলাম। ৫ আগস্ট ঘুম থেকে উঠেই আনন্দের খবরটা পেয়েছিলাম। আনন্দ মিছিলে বেরিয়ে পড়েছিলাম।

    বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত—এ প্রসঙ্গে এ সংগীতশিল্পী বলেন, হ্যাঁ। আন্দোলনের প্রোগ্রামগুলো শুরুর পর মনে হয়েছিল, শুধু অস্ত্র ধরেই তো দেশের জন্য যুদ্ধ করা যায় না; গান, নাটিকা, আবৃত্তির মাধ্যমেও অনেক কিছু ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।  

    তিনি বলেন, যদি আমার কণ্ঠই অস্ত্র হয়, তাহলে কেন আমি পিছিয়ে থাকব। কেন আমি যুদ্ধ করব না? এর পর থেকে বিএনপির সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হয়ে গেছি। আমি কোনো পদপদবির আশায় কাজ করছি না। ভালোবেসে কাজ করছি। দেশের প্রতি ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে কাজ করছি।

    চলতি সপ্তাহে ‘এ যুদ্ধ কবে হবে শেষ’ এমন শিরোনামে একটি গান করেছেন। এ সময়ে সেই গানটি কেন করলেন? এর উত্তরে মৌসুমী চৌধুরী বলেন, কয়েক মাস ধরেই দেশ নানান ঝামেলা ও মারামারির মধ্যে যাচ্ছে। সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে গানটি করেছি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী বাঁধন

    ঢালিউড অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে প্রায়ই নিজের বিভিন্ন ভাবনা-চিন্তা ও অনুভূতির কথা শেয়ার করেন। এবারও তার অনুরাগীদের জানালেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। 

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই সামাজিকমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথে সরব ছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একমত পোষণ করে সরব ছিলেন অভিনেত্রী। সবসময় ছাত্র-জনতার পক্ষে কথা বলেন তিনি।

    এবার সেই সময়ের অভিজ্ঞতা সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন বাঁধন। বৃষ্টিতে ভিজে গত বছর ১ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটে শিল্পীদের সমাবেশে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এ অভিনেত্রী।

    বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) একটি স্ট্যাটাসে বাঁধন লিখেছেন— রাত থেকেই মানসিকভাবে আমি অতিরিক্ত চাপে ছিলাম। তবে এক ধরনের উত্তেজনাও বোধ করছিলাম, যে কারণে হয়তো সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। ভোরে বিছানা থেকে উঠি। স্নিকার্স পায়ে দিই। কারণ আমি জানতাম না, আমার জীবনে আজ কি ঘটতে যাচ্ছে।

    ১ আগস্টের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী লিখেছেন—আমার একমাত্র মেয়ে সেদিন মা-বাবার সঙ্গে ছিল। তারা তিনজনই জানত না আমি কোথায় যাচ্ছি। আমি তাদের এতটুকুই বলেছিলাম— কিছু মিডিয়ার বন্ধু মিলে একটা ইভেন্টে যাচ্ছি। তারপরেই শঙ্কা নিয়ে বাসা থেকে বের হই। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি বলেন, এ আন্দোলন জোরালো করতে আগে থেকেই ব্যানার, পোস্টারসহ যাবতীয় প্রস্তুত ছিল। বাসা থেকে বের হয়েই আমি চলে যাই নিকেতনে। সেখান থেকে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, মাইক ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে নিয়ে নিই। তখন কারফিউ ছিল। এর মধ্যে আমরা জানতাম না সামনে কি হতে চলেছে। আমার ড্রাইভারকে বলেছিলাম— আপনার সঙ্গে মোবাইল আছে, যদি কিছু ঘটে ভিডিও করে রাখবেন। ড্রাইভার ভিতুর মতো আমার দিকে তাকিয়ে ছিল, আমিও ভীত ছিলাম সেই সময়।

    বাঁধন বলেন, সেই সময় ক্রমেই তারকা, শিল্পী, কলাকুশলীসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ভিড় করতে থাকেন। সময় ছিল ১১টার মতো। এর মধ্যে বৃষ্টি দেখা দেয়। আমি খামারবাড়ি এলাকায় বাবার গাড়িটি রেখে ফুটপাতে অপেক্ষা করি। আরও কয়েকজনকে দেখি। 

    তিনি বলেন, পুলিশ এসে বলে আমরা কোনো সভা বা প্রতিবাদ করতে পারব না। কারণ পাশেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। তখনই রাজীব ভাই, মোমেন ভাই, মামুন ভাই এলেন। প্রোগ্রাম বাতিল করতে সিনিয়র পুলিশ তাদের কনভিন্স করার চেষ্টা করলেন। আমি চুপচাপ এসব দেখে সামনে পা বাড়ানো শুরু করি। 

    অভিনেত্রী সেই সময় পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান। কারণ পুলিশ তাদের নিরাপত্তার কারণে বারবার সরে যেতে বলেন। বাঁধন বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা আমাদের ভয়ও দেখান। কারণ আমরা সবকিছুকে অবজ্ঞা করে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে যাচ্ছিলাম। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে প্রতিবাদের অনুমতি পাই।

    প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সেই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, তারা চেষ্টা করেছিল মামুন ভাইকে গাড়িতে করে নিয়ে যেতে। কিন্তু লিমা আপা, রাজীব ভাই সবাই মিলে আমরা হেঁটে ফার্মগেট চলে আসি। পুলিশ আমাদের ওপর খুশি ছিল না। পরে বৃষ্টির মধ্যে ব্যানার নিয়ে আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাই। 

    অভিনেত্রী বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করি। এটা ছিল আমার জীবনের সেরা পাওয়ারফুল মোমেন্টস। আমি কখনই দিনটির কথা ভুলব না।

    তিনি বলেন, ১ আগস্টের দিন শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীদের নেতারা প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য দেন। অনেক সাধারণ মানুষও শিল্পীদের সঙ্গে এ সমাবেশে অংশ নেন। এখানে জমায়েত বেশ বড় হয়ে ওঠে। সেই সময় বক্তাদের মধ্যে ছিলেন মামুনুর রশীদ, আকরাম খান, পিপলু আর খান, ঋতু সাত্তার, আমরিন মুসা, আশফাক নিপুন, মোশাররফ করিম, সুকর্ণ শাহেদসহ অনেকে। বৃষ্টির কারণে সবাই বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন।

    উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সেদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা নূরুল আলম আতিক, মাতিয়া বানু শুকু, রেদওয়ান রনি, তানিম নূর, নুহাশ হুমায়ূন, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আদনান আল রাজীব, শঙ্খ দাশ গুপ্ত, ইরেশ যাকের, সিয়াম আহমেদ, জাকিয়া বারী মম, সুকর্ণ শাহেদ, মোস্তফা মন্ওয়ার, দিপু ইমাম, সাবিলা নূর, প্রবর রিপন, শ্যামল মাওলা, রাফিয়াত রশিদ মিথিলাসহ আরও অনেকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • জামায়াত নেতার ছবি শেয়ার করা নিয়ে যা বললেন বাঁধন

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আলোচনায় ছিলেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন। মাঝেমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এই অভিনেত্রী রোববার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি জামায়াতকর্মী। কারণ আমি আমার প্রোফাইলে এক জামায়াত নেতার ছবি শেয়ার করি, সে জন্য।’

    সামাজিক মাধ্যমে আজমেরি হক বাঁধন লিখেছেন, ২০২১ সালে যখন বলিউডের একটি সিনেমা ‘খুফিয়া’তে কাজ করলাম, তখন আমি ছিলাম একজন গর্বিত ‘র’ এজেন্ট। সিনেমায় সহ-অভিনেতা হিসেবে ছিলেন টাবু। কিন্তু এরপরই ঘটনায় মোড় নেয়, যখন আমাকে সিনেমার প্রিমিয়ারে যেতে বাধা দেওয়া হলো।

    অভিনেত্রী বলেন, আমার ভিসা একবার-দুবার নয়, পাঁচবার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে প্রত্যাখ্যান করা হলো। কারণ হিসেবে তারা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে একটি ছবি দেখায় এবং এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানায়। 

    তিনি বলেন, এরপর আমি আমার দেশের কিছু উচ্চপদস্থ বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করি এবং এক মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা পাই। খবর পাই, আমার সেই সিনেমার কোনো এক অভিনেতা এ ভিসা বিপত্তির জন্য দায়ী। এর ফলে বলিউড ও কলকাতার একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলেও জানান বাঁধন।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন,  জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমাকে বলা হয়— আমি সিআইয়ের এজেন্ট এবং ইউএসএইড থেকে টাকা নিয়েছি এবং এ অভ্যুত্থানের জন্য দায়ী। এরপর বলা হয়— আমি জামায়াতকর্মী। কারণ আমি আমার প্রোফাইলে এক জামায়াত নেতার ছবি শেয়ার করি, সে জন্য।

    বাঁধন বলেন, এর মধ্যে আমাকে বলা হয়— আমি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্য। এরপর গতকাল রাতে (২৪ মে) আমাকে আবারও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ‘র’ এজেন্ট বলা হলো। তিনি বলেন, তার এক কাছের বন্ধু, যিনি বর্তমান সরকারে আছেন, তিনি বলেছেন, টাকা খাইছো? হতাশা প্রকাশ করে অভিনেত্রী বলেন, কী ধরনের সমাজে বাস করি আমরা। এখানে কেউ দেশকে ভালোবাসে না। এবং মনে থেকে কেউ দেশকে ভালোবাসে না বলে জানান বাঁধন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • নুরের সঙ্গে ছবি থাকায় ৫ বার আমার ভারতীয় ভিসা রিজেক্ট হয়: বাঁধন

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আলোচনায় ছিলেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন। মাঝেমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। আজ রোববার (২৫ মে) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রী সেই স্ট্যাটাসে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নিয়েছেন তার ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে। জানিয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ও আগের বেশ কিছু ঘটনা। কীভাবে নিজেকে একাধিক দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হিসেবে আবিষ্কার করেছেন, সেই অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন বাঁধন।

    সামাজিক মাধ্যমে আজমেরি হক বাঁধন লিখেছেন, ২০২১ সালে যখন বলিউডের একটি সিনেমা ‘খুফিয়া’তে কাজ করলাম, তখন আমি ছিলাম একজন গর্বিত ‘র’ এজেন্ট। সিনেমায় সহ-অভিনেতা হিসেবে ছিলেন টাবু। কিন্তু এরপরই ঘটনায় মোড় নেয়, যখন আমাকে সিনেমার প্রিমিয়ারে যেতে বাধা দেওয়া হলো।

    অভিনেত্রী বলেন, আমার ভিসা একবার-দুবার নয়, পাঁচবার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে প্রত্যাখ্যান করা হলো। কারণ হিসেবে তারা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে একটি ছবি দেখায় এবং এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানায়। 

    তিনি বলেন, এরপর আমি আমার দেশের কিছু উচ্চপদস্থ বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করি এবং এক মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা পাই। খবর পাই, আমার সেই সিনেমার কোনো এক অভিনেতা এ ভিসা বিপত্তির জন্য দায়ী। এর ফলে বলিউড ও কলকাতার একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলেও জানান বাঁধন।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন,  জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমাকে বলা হয়— আমি সিআইয়ের এজেন্ট এবং ইউএসএইড থেকে টাকা নিয়েছি এবং এ অভ্যুত্থানের জন্য দায়ী। এরপর বলা হয়— আমি জামায়াতকর্মী। কারণ আমি আমার প্রোফাইলে এক জামায়াত নেতার ছবি শেয়ার করি, সে জন্য।

    বাঁধন বলেন, এর মধ্যে আমাকে বলা হয়— আমি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্য। এরপর গতকাল রাতে (২৪ মে) আমাকে আবারও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ‘র’ এজেন্ট বলা হলো। তিনি বলেন, তার এক কাছের বন্ধু, যিনি বর্তমান সরকারে আছেন, তিনি বলেছেন, টাকা খাইছো? হতাশা প্রকাশ করে অভিনেত্রী বলেন, কী ধরনের সমাজে বাস করি আমরা। এখানে কেউ দেশকে ভালোবাসে না। এবং মনে থেকে কেউ দেশকে ভালোবাসে না বলে জানান বাঁধন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • পাঠ্যবইয়ে ঠাঁই পেলেন র‌্যাপার হান্নান ও সেজান

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ উইনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এর আগে সাধারণ শিক্ষার্থী ও মানুষের আন্দোলনকে বেগবান করতে দুই র‌্যাপার হান্নান ও সেজান গান করেছিলেন। সেই গানগুলো এবার পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    তরুণ র‌্যাপার হান্নান হোসাইন শিমুলের ‘আওয়াজ উঠা’। নারায়ণগঞ্জের এই তরুণ র্যাপারের গানটি প্রকাশ হওয়ার সপ্তাহখানেক পরই ২৫ জুলাই গ্রেফতার করা হয় তাকে। পরে ১২ দিন কারাগারে থাকার পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে মুক্তি পান তিনি। অন্যদিকে ১৬ জুলাই মোহাম্মদ সেজানের ‘কথা ক’ প্রকাশের পরই বিদ্রোহের অংশ হয়ে উঠে গানটি। এবং প্রতিবাদী গান করার কারণে ওই সময়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রোষানলে পড়েন তারা। 

    এবার সেই গানের জন্যই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন হান্নান ও সেজান। সম্প্রতি এ নিয়ে দেশের একটি সংবাদ মাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে জায়গা করে নিয়েছে তরুণ দুই র‌্যাপার হান্নান ও সেজানের কথা। আর বইয়ে বলা হয়েছে―আপনি কি সেজানের ‘কথা ক’ গানটি শুনেছেন? আগের প্রজন্মের শিল্পীরা গানকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করতে ভয় পেলেও সেজান ও হান্নানের মতো শিল্পীরা সে সাহস দেখিয়েছেন।

    ইংরেজি বইয়ে ‘নতুন প্রজন্ম’ শিরোনামের সেই লেখায় আরও বলা হয়েছে— তাদের র‌্যাপ গানগুলো ২০২৪ সালের জুলাই বিদ্রোহের সংগীতে পরিণত হয়েছিল। নতুন প্রজন্ম আর ভয় পায় না, তারা সাহসী ও ব্যতিক্রম।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিপদে আছেন তিশা, ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ফোন নম্বর

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ উইনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। সেই অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। 

    এ মুহূর্তে এ নির্মাতার ‘৮৪০’ তথা ‘ডেমোক্রেসি প্রাইভেট লিমিটেড’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে চলছে। এবার টিভি পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি। আগামীকাল ৩ জানুয়ারি দেশের তিনটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেখানো হবে রাজনীতিভিত্তিক এ স্যাটেয়ার। সেই উপলক্ষে গতকাল বুধবার (১ জানুয়ারি)  চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন সিনেমার প্রযোজক-অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। 

    প্রথমবার সিনেমার প্রযোজক হিসেবে এসেছেন অভিনেত্রী। ২০ দিনে সিনেমাটি কতটা ব্যবসা হয়েছে— এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, ‘প্রথম দিন থেকে মানুষ সিনেমাটি দেখছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা সিনেমাটি বেশি দেখছে। ব্যবসা নিয়ে আমরা খুব বেশি ভাবছি না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সিনেমাটি যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়।

    তিশা বলেন, একটি সিনেমা মুক্তির পর সিনেমা হলের পাশাপাশি দেশের তিনটি চ্যানেলে একই দিন থেকে প্রচার হতে যাচ্ছে— এমনটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ঘটেনি। দর্শকদের কথা বিবেচনা করে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ দর্শক সিনেমাটি দেখতে চায়।

    তিশা আরও বলেন, ৩ জানুয়ারি থেকে চ্যানেল আই, দীপ্ত টিভি ও আর টিভি-তে সম্প্রচার করা হবে। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই সম্প্রচার। চ্যানেল আইতে দেখানো হবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে, আরটিভিতে রাত ৮টায় এবং দীপ্ত টিভিতে প্রচার হবে রাত সাড়ে ১০টায়। পাশাপাশি সিনেমা ভার্সন চলবে দেশের সিনেমা হলগুলোতে।

    সেখানে তিশাকে প্রশ্ন করা হয়— আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের চিত্র নিয়ে তৈরি এই সিনেমা মুক্তির পর প্রযোজক হিসেবে কোনো হুমকি পেয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ পেয়েছি। দুঃশাসনের চিত্র নিয়ে তৈরি এ সিনেমাটি প্রচারের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে হুমকি পাচ্ছেন তিনি।  সেই সঙ্গে আমার ফোন নম্বরটা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 

    তিনি বলেন, আমি বলব— সিনেমা মুক্তির পর কী হয়েছে না হয়েছে, কে কতটা মন খারাপ করেছে, সেটি মাথায় ধরে রাখলে চলবে না। সিনেমাটা দর্শক পছন্দ করছে— এটিই আমার জন্য বড় বিষয়।

    প্রসঙ্গত, এ সংবাদ সম্মেলনে অভিনেত্রী তিশা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান, মিলন শেখ, আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান, দীপ্ত টিভির সিইও তাসনুভা আহমেদ টিনা এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসিফের দীর্ঘ পোস্ট

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ উইনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কিছু দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বিনোদন জগতের সংগীতের যুবরাজ আসিফ আকবর।

    এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোণঠাসা ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। কোনো একটি দলের সমর্থনের কারণে দেশের টিভিচ্যানেলসহ কোনো অনুষ্ঠানে কোথাও তাকে গান করতে দেওয়া হয়নি। এখন তিনি উন্মুক্ত। কোনো বাধা নেই। সারা দেশে তার গান বাজছে। বিভিন্ন প্রোগ্রামে অনুষ্ঠান করছেন তিনি।

    সম্প্রতি আসিফ আকবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে তিনি সরকারের কাছে বিভিন্ন সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বলেছেন, মিডিয়ায় বলেছিলাম— অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ না হলে আলোচনা-সমালোচনায় যাব না। নতুন সরকারকে ১০০ দিন সময় দেওয়া এক ধরনের সৌজন্যতা। আমার তরফ থেকে সৌজন্যতা শেষ, এখন থেকে ভালো-মন্দ লিখতে হবে, পুরোনো অভ্যাস। 

    তিনি বলেন, শুরু করতে চাই আমার জেলা কুমিল্লা নিয়ে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ দুজনই কুমিল্লার সন্তান, দুজনেই সরকারের প্রভাবশালী সভাসদ, আপনাদের অভিনন্দন। 

    ১. এই মৌসুমে বিপিএল ক্রিকেটে কুমিল্লা নেই কেন? এই প্রশ্নের উত্তর তিন নম্বর আসিফ, অর্থাৎ আমার কাছে জানতে চায়, আমি নিজেও জানতে চাই। আসিফ মাহমুদ আপনি এই সহজ ব্যাখ্যাটা দিয়ে দিন প্লিজ। 

    ২. কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি এখনও কেন দেওয়া হয়নি? কেন এখনও অনিশ্চয়তা? মূল কমিটি তাহলে কবে হবে? খেলাধুলার ইয়ার ক্যালেন্ডার কীভাবে হবে? এদিকে লোকাল খেলাধুলা বন্ধ হয়ে আছে! 

    ৩. ঢাকার ফুটবল টিমকে কুমিল্লা স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেওয়ার কারণ কি? তারা হোমগ্রাউন্ড বানিয়ে খেলবে আর কুমিল্লার খেলোয়াড়রা থাকবে মাঠের বাইরে— এটি কোন ধরনের যুক্তি। ক্রিকেট মৌসুম শুরু হয়ে গেছে, অথচ মাঠ দখল করেছে ঢাকার ক্লাব ফুটবল দল। কুমিল্লার খেলোয়াড় সৃষ্টিতে মহা প্রতিবন্ধক এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কেন? 

    ৪. পতিত স্বৈরাচার হাসিনা কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে কলোরেক্টাল (Colorectal) অ্যালার্জিতে ভুগে শেষমেশ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো। আপনারা এবার কাইন্ডলি কুমিল্লাবাসীকে জানান— কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে বাঁধা কোথায়? অগ্রগতি কতদূর? 

    ৫. কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া— এই ছয় জেলায় প্রবাসী আধিক্য বেশি। কুমিল্লা এয়ারপোর্ট পুনরায় চালু করার দাবি বহু আগে থেকেই সরব, আপনাদের পদক্ষেপ কি জানতে চাই? 

    আসলে স্বাধীনতার পর কুমিল্লা জেলাবাসী বিরাট বিরাট নেতা মন্ত্রী পেয়ে শুধু তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে। মেডিক্যাল কলেজ আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কুমিল্লাবাসীর পক্ষ থেকে করা এই জরুরি প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফারুকীকে অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন জয়

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যুক্ত হলেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান এ পরিচালক। তার সঙ্গে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে আরও দুজন যুক্ত হয়েছেন। তারা হলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম ও ব্যবসায়ী সেখ বশির উদ্দিন।

    রোববার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন উপদেষ্টাদের শপথ পড়ান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ।

    এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে জায়গা পাওয়ায় বিনোদন জগতের তারকারা ফারুকীকে অভিনন্দন জানান। প্রথম অভিনন্দন বার্তাটি পাঠিয়েছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। সন্ধ্যা ৭টায় এ নির্মাতা শপথগ্রহণের আগেই ফারকীর একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে তাকে অভিনন্দন জানান জয়। যেখানে তিনি লিখেছেন—অভিনন্দন ফারুকী ভাই। আমাদের মানুষ। আমাদের আস্থা। শান্তির বার্তা দিয়ে হোক শুরু আপনার নেতৃত্ব।

    জয়ের সেই স্ট্যাটাসে ভক্তরাও ফারুকীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তার হাত ধরে এবার দেশের শোবিজ অঙ্গনে বড় কিছু পরিবর্তন আসবে বলেও প্রত্যাশা করেছেন তারা।

    উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। ওইদিনই বিলুপ্ত হয় মন্ত্রিসভা। পর দিন ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • আপনারা খুনির ফোনালাপ শোনেন: ফারুকী

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। ছাত্র-জনতার এ আন্দোলনে বিনোদন জগতের তারকারা ছিলেন বিভক্তিতে। এক দল শিল্পী ছিল আওয়ামী সরকারের দালালিতে, অন্যদিকে আরেক দল ছিল একদফা দাবিতে সরকার পতনের আন্দোলনে।

    আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ উইনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। কিন্তু এরপরও থেমে নেই একশ্রেণির শিল্পীদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সেই ষড়যন্ত্র। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে ঢালিউড নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক হলেও একজন শিল্পী রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যা, গুমের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিস্টের পক্ষে কথা বলতে পারেন না। 

    তিনি বলেন, আপনি আওয়ামী লীগ সমর্থক হতে পারেন, বিএনপি সমর্থক হতে পারেন; কিন্তু শিল্পী হলে কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যা, গুমের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিস্টের পক্ষে কথা বলতে পারেন না। ফ্যাসিজমের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করতে পারেন না। এবার আপনারা গত ১৬ বছর এই তিনটি সংগঠনের সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক ভূমিকা কি ছিল, সেটা ভেবে দেখুন। তার মানে কি— এসব ফুট সোলজারদের আঘাত করতে হবে? বিপ্লবের পক্ষের ভাইবোনদের অসন্তুষ্টির আশঙ্কা মাথায় নিয়েও বলব— আমি ব্যক্তিগতভাবে এর বিরুদ্ধে।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে এ নির্মাতা আরও লিখেছেন— আমি এর আগেও অনেকবার লিখেছিলাম যে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ‘সময়’ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। আওয়ামী লীগের বি-টিম হিসেবে খেলতে খেলতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এবং শর্ট ফিল্ম ফোরাম নতুন প্রজন্মের কাছে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে।

    হিটলারের সময় উল্লেখ করে ফারুকী লিখেছেন— একবার ভাবুন, হিটলারের আমলে কোনো শিল্পী হিটলারের মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিবাদ তো দূরের কথা, তার গাছের গোড়ায় পানি ঢাললে তাকে ইতিহাস কি হিসেবে বিচার করত।

    ফারুকী বলেন, পাশাপাশি এটিও মাথায় রাখতে হবে— রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। খুনি-লুটপাটকারীর বিচার শুরু হয়নি। কিন্তু নানা জায়গায় উসকানি দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ডি-স্ট্যাবিলাইজ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আপনারা খুনির ফোনালাপ শোনেন। দেখেন সে অনুতপ্ত নাকি আরও খুন করার উসকানি দিচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিপ্লবের পর কুলিং পিরিয়ডটা পার হতে দিতে হয়। না হলে এ অবস্থায় আমি লিবারেল ক্রিটিকের স্পেস কীভাবে আশা করব? এর উত্তর আমি জানি না।

    বিনোদন ডেস্ক

  • শেখ হাসিনা আমাকে একা করে দিয়েছেন: তাপসের মা

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। আওয়ামী সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ উইনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। 

    জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গান বাংলার প্রধান নির্বাহী কৌশিক হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ইশতিয়াক মাহমুদ নামে একজন ব্যবসায়ী হত্যাচেষ্টার এ মামলাটি করেন। 

    মামলার এজাহারে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে থেকে গান বাজনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ক্যাডারদের উৎসাহ ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করেন গান বাংলার প্রধান নির্বাহী তাপস।

    গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আসামিদের ছোড়া গুলিতে বাদীর পেটে গুলি লাগে। গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে থেকে অপারেশনের মাধ্যমে তার পেটের গুলি বের করা হয়। এ ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইশতিয়াক মাহমুদ বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ১২৬ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় তাপস এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি।

    এরপর গত সোমবার (৩ নভেম্বর) উত্তরা থেকে তাপসকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান তাপসকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে তাপসকে গ্রেফতারে শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছেন তার মা মেহের নিগার চঞ্চল। শেখ হাসিনা আমাকে একা করে দিয়েছেন বলেও জানান তাপসের মা।

    তিনি বলেন, ২০১২ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামে একটি গানের অনুষ্ঠান থেকে তাপসকে তুলে নেওয়া হয়।  তারপর থেকে এই ১২ বছরে পাঁচ মিনিট করে ১২ বারও তার দেখা পাইনি আমি। সেই তখন থেকে শেখ হাসিনা আমাকে একা করে দিয়েছেন। ওই সময় তাকে তুলে নেওয়ার এক বছর পর যেখানে পেয়েছি, তা আর বলতে চাই না বলেও জানান মেহের নিগার চঞ্চল।

    তাপসকে গ্রেফতারের ব্যাপারে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান তিনি। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের অপরাজনীতি নিয়েও কথা বলেছেন মেহের নিগার। তিনি বলেন, অপরাজনীতির জন্য ১৯৭৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নেই আমি। এ ছাড়া হত্যা মামলার ব্যাপারে তাপসের মা বলেন, এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে তাপস জড়িত না। আর যতটুকু শেখ হাসিনার সঙ্গে জড়িত, আমি বলব— সে যদি বিপদগামী হয়েই থাকে তার জন্য শেখ হাসিনা দায়ী।

    যদিও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরাপূর্ব থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু শুনানির সময় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় শুনানির তারিখ পেছানোর আবেদন করে পুলিশ। পরে তাপসের রিমান্ড ও জামিন শুনানির জন্য বুধবার (৬ নভেম্বর) ধার্য করেন আদালত।

    বিনোদন ডেস্ক