Tag: ফারুক

  • আমাকে উপদেষ্টা করা এখন সময়ের দাবি: ফারুকী

    এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। যদিও তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নন। সরকার পতনের পর তাকে নিয়ে নানা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ। কারণ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের পক্ষে সরব ছিলেন দেশের জনপ্রিয় এই নির্মাতা।


    সম্প্রতি এক স্ট্যাটাসে ফারুকী জানালেন-সরকার পতনের পরেও আওয়ামী লীগ নানাভাবে তাকে নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। যে বিষয়টি আবারো তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।


    ফারুকী লিখেছেন- আমাকে উপদেষ্টা করা এখন সময়ের দাবি! আওয়ামী প্রোপাগান্ডু লীগ যেভাবে আমার ব্যাপারে তাদের ক্ষোভ জানাচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে ফ্যাসিবাদের পতনে আমার বিশাল ভূমিকা আছে। সুতরাং ‌‘ফ্যাসিবাদের পুচ্ছে আগুন’ কোটায় আমাকে উপদেষ্টা করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহবান জানাচ্ছি!


    নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনটি বিষয় তুলে ধরেন এই নির্মাতা। যেখানে প্রথমত তিনি বলেন, ওহে, আমি কোনো রাজনৈতিক কর্মী না। আমি আওয়ামী লীগ-বিএনপি সবারই ভালো কিছুর প্রশংসা এবং খারাপ কাজের নিন্দা করতে পারি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনেতা ফারুকের সঙ্গে যে কথা হয়েছিল জল্লাদ শাহজাহানের

    সদ্য প্রয়াত জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়ার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক আহমেদ। তার সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত নিয়ে করলেন স্মৃতিচারণ। 

    সামাজিক মাধ্যমে জল্লাদ শাহজাহানকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই অভিনেতা।

    অভিনেতা লিখেছেন, ‘এ বছর বইমেলায় কিংবদন্তী পাবলিকেশনস থেকে শাহজাহান ভূঁইয়ার লেখা একটা বই প্রকাশ হয়েছিল। বইটির নাম কেমন ছিল জল্লাদ জীবন। মেলার কিংবদন্তী প্রকাশনীতে আমার লেখা একটি বইও ছিল। বইমেলার প্রায় ১৫ দিন আমি কিংবদন্তী স্টলে বসেছি। জল্লাদ শাহজাহানের সঙ্গে আমার কিংবদন্তীর স্টলেই পরিচয়।

    ‘তার দীর্ঘ জেলজীবন, জল্লাদ হওয়ার গল্প, ফাঁসি দেওয়ার সময় তার মনের অবস্থা, ফাঁসির সময় আসামির ক্রিয়া, এসব বিষয় তার কাছে জানতে চেয়েছি। তিনি খোলামেলাভাবে আমার কথার উত্তর দিয়েছেন।

    একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মুক্ত জীবন কেমন লাগছে? তিনি মাথা নিচু করে বললেন, ভালো না। আমার কেউ নাই। কিচ্ছু নাই। ভালো লাগে না। আমি বোকার মতো তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আহারে জীবন!

    অভিনেতা ফারুক জল্লাদ শাহজাহানের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আরও লিখেছেন, ‘জীবনের ৪০ বছরের বেশি সময় জেলের চার দেয়ালের ভেতর কাটিয়ে মুক্ত জীবন পেয়েও বলেন তার ভালো লাগে না! আমি তাকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, কী করলে আপনার ভালো লাগবে? তিনি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন, মরে গেলে।

    অভিনেতা আরও লিখেছেন, ‘জল্লাদ শাহজাহান আজ দুপুরে মারা গেছেন। তার চাওয়া পূরণ হয়েছে। ওপারে ভালো থাকবেন জল্লাদ শাহজাহান।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফারুকের আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তুললেন সিদ্দিক

    চিত্রনায়ক ও সংসদ সদস্য (এমপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে লড়তে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম তুলেছেন ছোটপর্দার অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক।

    rnrn

    সোমবার আওয়ালী লীগ দলের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলীয় ফরম সংগ্রহ করেন এ অভিনেতা। 

    rnrn

    ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সিদ্দিক বলেন, আজ ঢাকা-১৭ ( গুলশান-বনানী ক্যান্টনমেন্ট) আসনের উপ-নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন ফরম উঠালাম। সকলের কাছে দোয়াপ্রার্থী। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। 

    rnrn

    মনোনয়ন তোলার পরে এই অভিনেতা বলেন, আমার বিশ্বাস আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকেই মনোনীত করবেন। নির্বাচনে লড়লে আমি সফল হবো বলে আশাবাদী।

    rnrn

    এছাড়াও তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মনোনয়ন বোর্ড যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেন, তাহলে আমি এ আসনে ফারুক ভাইয়ের অসম্পূর্ণ কাজগুলো বাস্তবায়ন করব।

    rnrn

    উল্লেখ, সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৫ মে মারা যান চিত্রনায়ক ফারুক। পরে তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে জানালেন ফেরদৌস

    সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা আকবর হোসেন খান পাঠান ফারুক ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার প্রয়াণে আসনটি শূন্য হয়ে যায়। এ শূন্য আসনে অভিনেতা ফেরদৌসের নির্বাচন করার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছিল। মূলত চিত্রনায়ক ওমর সানী একাধিকবার ফেরদৌসের নাম প্রস্তাব করে নিজের অভিমত প্রকাশ করেন।

    ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নিয়ে বৃহস্পতিবার ফেরদৌস বলেন, ওমর সানী ভাই আমার নাম বলেছেন, কোথাও প্রস্তাব করেননি। তিনি নিজের অভিমত প্রকাশ করেছেন। এ অধিকার তো তার আছে। তিনি বলতেই পারেন। এ বিষয়ে তো আমার বলার কিছু থাকতে পারে না।

    ফারুকের শূন্য আসনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে আছে কিনা- জবাবে ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি নিয়ে কিছু বলার নেই।

    তবে এটা অনুমান করা যায়, একান্তই যদি দলীয় সিদ্ধান্ত আসে সেক্ষেত্রে হয়তো তিনি অমত করবেন না।

    এদিকে গণমাধ্যমে খবর এসেছে, প্রায় ১৫ বছর পর নিজ গ্রামে বুধবার গিয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। এদিন দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার কাপাশকান্দি এলাকায় পৌঁছান এই নায়ক। এ সময় তাকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন স্থানীয়রা।

    ফেরদৌস বলেন, এটা ঠিক নয়। আমি সর্বশেষ ২০১৬ সালে গিয়েছিলাম। ওখানে আমার আত্মীয়স্বজন কেউ থাকে না, যার ফলে যাওয়া হয় না; কিন্তু একটা স্কুলের সভাপতি আমি। নিয়োগের সময় যাওয়াটা একান্তই দরকার।

    জানা গেছে, ফেরদৌস তার বাবার প্রতিষ্ঠিত কাপাশকান্দি মডেল একাডেমির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদে রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ব্যাপারেই তার সেখানে যাওয়া।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনেতা ফারুকের অজানা অধ্যায়

    ১৫ মে পৃথিবীর মায়া ছিন্ন করে পরপারে চলে যান বীর মুক্তিযোদ্ধা, কিংবদন্তি অভিনেতা ও সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। জীবদ্দশায় ফারুককে নিয়ে ছিল অনেক আলোচনা। তার জীবনের কিছু অজানা অধ্যায় পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

    দুলু থেকে ফারুক, এরপর মিয়াভাই

    বীর মুক্তিযোদ্ধা, অভিনেতা ও সংসদ সদস্য ফারুকের পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান। তার ডাক নাম ছিল দুলু। নায়ক ফারুক হিসাবেই সিনেমায় পরিচিত ছিলেন। মিয়াভাই নামেও তিনি চিত্রপুরিতে পরিচিত ছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন কীভাবে দুলু থেকে ফারুক হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, চলচ্চিত্র পরিচালক এইচ আকবর ও ফারুক নামের এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি ‘ফারুক’ নামটি ধারণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ছয় দফা আন্দোলনের পর আমি ওয়ান্টেড ছিলাম, যে কারণে নাম দিয়ে দিল ফারুক। ওরা বলল, এ নামে তোমাকে প্রথমে কেউ ধরবে না। দ্বিতীয়ত চলচ্চিত্রের নামগুলো ছোট হলে ভালো হয়, সুন্দর হয়, যেমন রাজ্জাক, উজ্জল, আলমগীর, শাবানা; নাম ছোট হলে ক্যাচি হয়।’ এরপর ফারুক নামেই অভিনয় জগতে তার পথচলা শুরু হয়। তার অভিনীত ‘মিয়াভাই’ নামে একটি সিনেমা বেশ দর্শকপ্রিয়তা পায়। ব্যবসাসফলও হয়। সেই সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফারুক। তারপর থেকে বাস্তবে তাকে কেউ কেউ ‘মিয়াভাই’ নামে ডাকতে শুরু করেন।

    মামলা থেকে বাঁচতে অভিনয়ে

    ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর ৩৭টি মামলা হয় ফারুকের বিরুদ্ধে। এক পর্যায় ফারুক শুনতে পান তাকে মেরে ফেলা হবে। মামলা থেকে রেহাই পেতে ও বেঁচে থাকার জন্য সিদ্ধান্ত নেন তিনি অভিনয়ে যোগ দেবেন। তার ধারণা ছিল অভিনয় করলে মানুষ চিনবে জানবে, এতে তার জনপ্রিয়তা বাড়বে। যার ফলে তার বিরুদ্ধে কিছু করতে গেলে সেটা সহজেই করা যাবে না। সে থেকেই তার অভিনয়ে আসা। এখানেই শেষ নয়। ‘জলছবি’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে পড়েন আরেক বিপাকে। এ সিনেমার নায়িকা প্রয়াত কবরীকে কেউ জানায়, ফারুক একজন মাস্তান। ভালো ছেলে না। সে জন্য তার সঙ্গে অভিনয় করতে রাজি ছিলেন না কবরী। তবে ফারুক অনেকটা জোর করে বুঝিয়ে শুনিয়ে কবরীকে অভিনয় করতে বাধ্য করেন।

    প্রখ্যাতদের সঙ্গে আড্ডা

    ফারুকের জন্ম মানিকগঞ্জের ঘিওরের এক গ্রামে হলেও সেখানে বেশি দিন থাকেননি। তিনি বেড়ে উঠেছেন পুরান ঢাকায়। এখানেই তিনি পেয়েছেন পরিচালক এইচ আকবর, এ টি এম শামসুজ্জামান, প্রবীর মিত্রর মতো নির্মাতা-শিল্পীদের। তাদের সঙ্গেই ছিল তাদের চলাফেরা, আড্ডা। সে সময় লালকুঠিতে নাটক প্রদর্শিত হতো। নাটক শেষে শিল্পী, নির্মাতাদের সেখানেই আড্ডা দিতেন ফারুক।

    শিল্পীদের জন্য ছিলেন দায়িত্বশীল

    অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফারুক। তার নেতৃত্বগুণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সেটা তিনি রাজনীতির মাঠেও দেখিয়েছেন। অভিনেত্রী রোজিনার বয়ানে জানা যায়, ঢাকার বারিধারা নামে নতুন একটি আবাসন হলো। সেখানে শিল্পীদের জন্য প্লট বরাদ্দ চলছিল। ফারুক রোজিনাকে ফোন করে বললেন, ‘২৫ হাজার টাকা পাঠা। বারিধারায় প্লট কিনব তোর জন্য।’ রোজিনা বললেন, ‘টাকা তো প্রযোজকদের কাছ থেকে নিতে হবে।’ এরপর ফারুক নিজ উদ্যোগেই প্রযোজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা নিয়ে রোজিনার জন্য প্লটের আবেদন করে দিলেন। কিন্তু সে প্লট পাননি। পরে রোজিনার জন্য উত্তরায় প্লটের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে সেখানেই থাকছেন রোজিনা।

    রাজ্জাক-ফারুক দ্বন্দ্ব

    সিনেমাপাড়ায় কথিত ছিল নায়করাজ রাজ্জাক ও নায়ক ফারুকে মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। একবার নাকি রাজ্জাক ফারুকের গায়েও হাত তুলেছিলেন। ‘সখী তুমি কার’ সিনেমার মাধ্যমে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তখন নাকি রাজ্জাক এ সিনেমায় ফারুকের অনেক দৃশ্য ফেলে দিতে পরিচালককে চাপ দিয়েছিলেন। যদিও জীবদ্দশায় এক সাক্ষাৎকারে রাজ্জাক বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘পরিচালক যেটা ভালো মনে করেছেন সেটা করেছেন। আর ফারুকের সঙ্গে আমার বিশেষ কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। প্রফেশনালি যেটা ছিল সেটা সবার মধ্যেই থাকে।’ তবে রাজ্জাক-ফারুক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে ‘পৃথিবী তোমার আমার সিনেমার মাধ্যমে। দ্বন্দ্ব কেটে যাওয়ার পর দুজনার মধ্যে এমন বন্ধুত্ব হয় যে, ফারুক রাজ্জাকের বাসার কাছাকাছি বাসা নেয় এবং রাজ্জাকও প্রায়ই ভোরে ফারুককে ঘুম থেকে ডেকে ফজর নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে নিয়ে যেতেন।

    চিকিৎসা খরচ বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব ফারুকের পরিবার

    ফারুকের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ বহনের জন্য বিক্রি করতে হয়েছিল প্রায় পনেরো কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট। রাজধানীর বারিধারায় এ দুটি ফ্ল্যাট কেনার পর একদিনও থাকার সৌভাগ্য হয়নি তার পরিবারের। পাশাপাশি স্বজনদের কাছ থেকেও ধার-দেনা করতে হয়েছিল। ফারুকের স্ত্রী ফারহানা পাঠান গত বছরই এমন তথ্য জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথে চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল, সে জন্য সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে আমাদের। চিকিৎসকরা যখন ফারুককে আইসিইউতে রাখার পরামর্শ দেন ওই সময় আমাদের হাত ছিল একেবারে খালি। করোনার কারণে ফ্ল্যাটও বিক্রি করতে পারছিলাম না। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তার দেওয়া টাকা দিয়েই আইসিইউর প্রথম মাসের বিল পরিশোধ করেছি।

    সিনেমার চরিত্র নিয়ে ফারুকের ক্ষোভ

    অভিনয় ক্যারিয়ারে বেশিরভাগ সিনেমায় গ্রামীণ চরিত্রে দেখা গেছে ফারুককে। গ্রামীণ চরিত্রে অনবদ্য হলেও এ ধরনের চরিত্রের প্রতি তার ক্ষোভও ছিল। সেটাও তিনি আরেক সাক্ষাৎকারে বলেছিছেন। তিনি বলেন, ‘যখন দেখা গেল কোনো একটি সিনেমায় আমি গ্রামীণ চরিত্রে ভালো করেছি, সিনেমাটি হিট হয়েছে তখন সবাই আমাকে দিয়ে এ ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য উঠেপড়ে লাগত। হয়েছেও তাই। বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বিরক্ত হতাম। চেষ্টা করতাম খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে। কিন্তু দিনশেষে প্রযোজক পরিচালকদের ইচ্ছার পাশাপাশি দর্শকদের পছন্দটাকেও প্রাধান্য দিতে হতো।’

    শাকিবের নিষেধাজ্ঞা মিটিয়েছিলেন ফারুক

    ২০১৭ সালে যখন শাকিবকে চলচ্চিত্রের সব সংগঠন কর্তৃক বহিষ্কার করা হয়, তখন এ দ্বন্দ্ব মিটিয়েছিলেন ফারুক। তিনি চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বাহক হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন শাকিবের। এক সাংবাদিক ও এক প্রযোজকের ডাকে সাড়া দিয়ে শাকিবকে ক্ষমা করে দেন ফারুকসহ চলচ্চিত্রের সব সংগঠনের নেতা। তারপর শাকিব আবারও তার কাজ স্বাভাবিকভাবে শুরু করার সুযোগ পান।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বাবার কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যা বললেন ফারুকের ছেলে

    আমার বাবা চলে গেলেন। আপনারা আমার বাবা প্রতি কোনো দাবি রাখবেন না। তার জন্য দোয়া রাখবেন। এমন অনুরোধই জানালেন ফারুকের ছেলে রওশন হোসেন পাঠান শরৎ।

    মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ফারুকের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আনা হয়। সেখানেই মিয়া ভাই খ্যাত এই নায়ককে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সেখানে বাবার শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শরৎ।

    সবার উদ্দেশে শরৎ বলেন, ‘সারাজীবন বাবা মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। মৃত্যুর পর আপনারা সেই ভালোবাসা দিয়ে যাবেন। তার আত্মার জন্য দোয়া রাখবেন।’

    সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এই বিদায় অনুষ্ঠানে প্রথমেই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও স্পিকারের পক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য ফারুককে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এই আনুষ্ঠানিকতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে পুস্পস্তবক অর্পন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    বিদায় অনুষ্ঠানে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, ফেরদৌস, নিপুন, জায়েদ খান সহ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন ঢাকাই সিনেমার নবীন প্রবীন বহু পরিচিত মুখ।

    সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফারুক। তিনি জিবিএস নামে বিরল নিউরোলোজিক্যাল রোগে ভুগছিলেন। টানা দেড় বছর চিকিৎসা শেষে অবশেষে মারা গেলেন অভিনেতা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • শহীদ মিনারে চিত্রনায়ক ফারুকের মরদেহ

    সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়েছে। 

    মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানে রাখা হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ২টায় মরদেহ নেওয়া হবে এফডিসিতে। 

    পরে গুলশানের আজাদ মসজিদে বাদ আসর জানাজা শেষে নায়ক ফারুককে সমাহিত করা হবে গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে। পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। 
     
    এর আগে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট সিঙ্গাপুর থেকে ফারুকের মরদেহ নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ফারুকের মৃত্যুতে যা বললেন আলমগীর

    চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন নায়ক আলমগীর। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান আলমগীর।

    চলচ্চিত্রের অভিনেতা সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়। 

    এখন স্মৃতিচারণা করার মতো মন-মানসিকতা নেই। চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মৃত্যুর পর গণমাধ্যমে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেতা আলমগীর।

    আলমগীর বলেন, চলচ্চিত্রে নায়ক ফারুক এবং নায়ক আলমগীর হওয়ার পর আমরা পরিচিত হইনি। তার আগে থেকে আমরা পরিচিত। ১৯৬৪ সাল থেকে আমরা বন্ধু, আমরা ভাই। সে ৭০–এ নায়ক হয়েছে, আমি ৭২–এ। আমাদের ইতিহাসটা অনেক লম্বা। অনেক কথা আছে, পরে বলব। 

    তিনি বলেন, ফারুক নেই কথাটা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে তার, কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। আবার অসুস্থ অবস্থায় গত দুই বছর কষ্ট পাচ্ছিলেন ফারুক।

    তিনি আরও বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা চলাকালীন ভাবির সঙ্গে আমার প্রায়ই কথা হতো। ফারুক অনেক কষ্ট পাচ্ছিল। সে তার কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়েছে। আল্লাহ ফারুকের সব গুনাহ মাফ করে তাকে জান্নাতবাসী করুক। ওর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’ 

    সেইসঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করেন, যে যেভাবে পারেন সেভাবে যেন চিত্রনায়ক ফারুকের জন্য দোয়া করেন।

    দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন অভিনেতা ফারুক। সবশেষ ২০২১ সালের মার্চ মাসে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে যান তিনি। পরীক্ষায় রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর পর থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করছিলেন তিনি। সিঙ্গাপুরে নিজের পরিচিত চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। হাসপাতালে ভর্তির কয়েক দিন পর তার মস্তিষ্কেও সংক্রমণ ধরা পড়ে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যর্থ হয়। সোমবার সিঙ্গাপুরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    বিনোদন ডেস্ক