Tag: প্রেক্ষাগৃহ

  • ঈদে প্রেক্ষাগৃহ মাতাবেন নাটকের শিল্পীরা

    ঈদের উৎসবে দেশের প্রেক্ষাগৃহে একসঙ্গে এত সিনেমা মুক্তি পায় যে, দর্শকও সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন কোনটি দেখবেন। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও প্রযোজকরা এ সময়টাকেই বেছে নেন সিনেমা মুক্তির জন্য। 

    এদিকে প্রেক্ষাগৃহ সংকটে অনেক সিনেমা ঠিকঠাকভাবে দর্শকের কাছেও পৌঁছায়ও না। ফলে, কিছু সিনেমা ভালো সাড়া পেলেও, বেশিরভাগই ব্যর্থ হচ্ছে। এদিকে আসন্ন কুরবানির ঈদেও মুক্তির তালিকায় রয়েছে ১১টি সিনেমা। প্রেক্ষাগৃহ সংকটের মধ্যে একসঙ্গে এতগুলো সিনেমা মুক্তির আয়োজন আত্মঘাতী হলেও, সংশ্লিষ্টরা তাদের সিদ্ধান্তে অনড়।

    গত কয়েকবছর ধরেই বেশ কিছু সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, যা দর্শক আগ্রহ তৈরি করতে পেরেছে। প্রেক্ষাগৃহে দর্শক সমাগম বাড়াতে পেরেছে। তবে আলোচিত সেসব সিনেমা এফডিসিকেন্দ্রিক নয়। এসব সিনেমা নির্মাণে অধিকাংশ নির্মাতাই ছিলেন এফডিসির বাইরের।

    বলা যায়, মৌসুমি নির্মাতা। ঈদ মৌসুমকেই টার্গেট করে তারা সিনেমা নির্মাণে আসেন। এক সময়ের এফডিসিকেন্দ্রিক হিট সিনেমার পরিচালকরা এখন অনেকেই বেকার। যাদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল ঢাকাই সিনেমার তারকা, তাদের হাতে নেই সিনেমা।

    বর্তমানে যেসব সিনেমা তৈরি হচ্ছে সবই এফডিসির বাইরের। আর তাতে প্রাধান্য পাচ্ছেন ছোট পর্দার শিল্পীরা। সিনেমার হাতেগোনা কয়েকজন তারকাশিল্পীর ব্যস্ততা থাকলেও, অধিকাংশই এখন বেকার। এদিকে নাটকের শিল্পীরা সিনেমায় আগ্রহী হয়ে উঠায় ব্যস্ততা বেড়েছে তাদের। আসন্ন ঈদের মুক্তির তালিকায় থাকা সিনেমাগুলোর দিকে তাকালেও এমন চিত্রই দেখা যাবে। ঈদে মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমাগুলো হচ্ছে ‘তাণ্ডব’, ‘পিনিক’, ‘টগর’, ‘ইনসাফ’, ‘নীলচক্র’, ‘উৎসব’, ‘এশা : মার্ডার কর্মফল’, ‘গোয়ার’, ‘শিরোনাম’, ‘সর্দার বাড়ির খেলা’, ‘নাদান’। 

    এর মধ্যে বেশিরভাগ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে রয়েছেন নাটকের তারকাশিল্পী। অর্থাৎ, ঈদ উৎসবে এবার প্রেক্ষাগৃহ নাটকের শিল্পীদের দখলেই থাকবে।

    তাণ্ডব

    ঈদে দর্শক আগ্রহ তুঙ্গে থাকা সিনেমা হচ্ছে ‘তাণ্ডব’। এ সিনেমা দিয়েই এবার অভিষেক হতে যাচ্ছে নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর-এর। তিনি অভিনয় করছেন ঢাকাই সিনেমার ব্যস্ত নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে। এটি নির্মাণ করছেন রায়হান রাফি। অভিষেক সিনেমা হিসাবে সাবিলার প্রতি রয়েছে দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ। এটি দিয়েই অভিনেত্রী বড় পর্দায় তার আসন পাকাপোক্ত করবেন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে আরও রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। এ ছাড়া ছোট পর্দার আরও একাধিক শিল্পী সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন।

    ইনসাফ

    নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ প্রথমবার হাজির হচ্ছেন ফর্মুলা সিনেমার নায়িকা হয়ে। ওয়েব সিনেমার বাইরে ‘ইনসাফ’ হতে যাচ্ছে এ অভিনেত্রীর দ্বিতীয় সিনেমা। এর আগে ২০২৪ সালে তার অভিনীত প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা ‘ফাতিমা’ মুক্তি পায়। ‘ইনসাফ’-এ তার বিপরীতে রয়েছেন শরিফুল রাজ। এ সিনেমা দিয়ে খলনায়করূপে পর্দায় হাজির হতে চলেছেন নাটকের জনপ্রিয় আরেক অভিনেতা মোশাররফ করিম। অ্যাকশন ও থ্রিলার গল্পকেন্দ্রিক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সঞ্জয় সমাদ্দার। এ সিনেমাটিতেও নাটকের অভিনয়শিল্পীদের আধিপত্য রয়েছে। বিশেষ করে ফারিণ ও মোশাররফ করিমের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন দর্শক।

    নীলচক্র

    একাধিকবার মুক্তির তারিখ পেছানোর পর এবার কুরবানির ঈদেও মুক্তির ঘোষণা দিয়েছে ‘নীলচক্র’। এতে অভিনয় করেছেন মন্দিরা চক্রবর্তী। নাটক দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা এ অভিনেত্রীর দ্বিতীয় সিনেমা এটি। এতে মন্দিরার সঙ্গে রয়েছে আরিফিন শুভ। মিঠু খান পরিচালিত সিনেমাটি এর আগে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছে আমেরিকান ফিল্ম মার্কেটে। ক্রাইম ঘরানার এ সিনেমায় ইন্টারনেট জগতের নেতিবাচক দিককে তুলে ধরা হয়েছে। মানবকল্যাণে ইন্টারনেটের তাৎপর্যবহুল অবদান থাকলেও এর গহিনে রয়েছে ভয়াবহ ফাঁদ। 

    এ ফাঁদে পড়ে অনেকের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়, এমনকি প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটে। এমনি প্রেক্ষাপটের ওপর নির্মিত হয়েছে সিনেমার কাহিনি। এদিকে এ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিনয় যাত্রা শুরু করতে চলেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বালাম।

    উৎসব

    ঈদে মুক্তির তালিকায় রয়েছে ‘উৎসব’ নামে একটি সিনেমা। এটি নির্মাণ করেছেন তানিম নূর। কিংবদন্তি ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের ‘এ ক্রিসমাস ক্যারোল’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এটি। এখানে বিখ্যাত চরিত্র ‘স্ক্রুজ’র ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। এ ছাড়া সিনেমাটি অভিনয় করেছেন ছোট পর্দার একঝাঁক তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, অপি করিম, আফসানা মিমি, তারিক আনাম খান, আজাদ আবুল কালাম, ইন্তেখাব দিনার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সৌম্য জ্যোতি, সাদিয়া আয়মানসহ অনেকে। বলা যায়, ছোট পর্দার শিল্পীদের নিয়েই এটি নির্মিত হয়েছে।

    টগর

    আদর আজাদ ও পূজা চেরী অভিনীত ‘টগর’ সিনেমাটিও রয়েছে আলোচনায়। পরিচালক আলোক হাসান এরই মধ্যে এটি নিয়ে বেশ প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। সিনেমাটির নায়ক-নায়িকা ছাড়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ছোট পর্দার শিল্পীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন আজাদ আবুল কালাম, রোজী সিদ্দিকী, সুমন আনোয়ার প্রমুখ।

    এশা মার্ডার-কর্মফল

    একাধিকবার মুক্তির তারিখ পিছিয়ে যাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত ‘এশা মার্ডার : কর্মফল’। তবে এবার আসন্ন ঈদেই সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক সানী সানোয়ার। এতে পুলিশ চরিত্রে রয়েছেন বাঁধন। এ অভিনেত্রী ক্যারিয়ার শুরু করেন সিনেমা দিয়ে। তবে একাধিক নাটকেও তিনি অভিনয় করেছেন। এ সিনেমার মাধ্যমে বাঁধন দীর্ঘদিন পর পর্দায় আসছেন। আশা করা হচ্ছে, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ অভিনেত্রীর সিনেমাটিও দর্শক পছন্দের তালিকায় থাকবে। এতে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছোট পর্দার শিল্পীর উপস্থিতিও মিলবে।

    নাদান

    ঈদে মুক্তির তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘নাদান’ নামে আরও একটি সিনেমা। এটি পরিচালনা করেছেন ফরহাদ হোসেন। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, যিনি নাটকে বেশ জনপ্রিয় অভিনেতা। বর্তমানে ওটিটি কনটেন্টে বেশি কাজ করছেন। এর মাঝে কয়েকটি সিনেমা তিনি করেছেন। এতেও ছোট পর্দা থেকে উঠে আসা একাধিক শিল্পীর দেখা মিলবে।

    রিয়েল তন্ময়

  • বহির্বিশ্বে উন্মুক্ত হচ্ছে বাংলা সিনেমার দুয়ার

    হলিউড ও বলিউড সিনেমা বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের এ পরিধি আরও বাড়ছে, বিস্তৃত হচ্ছে বাজার। শুধু তাই নয়, তামিল, তেলেগু সিনেমার পাশাপাশি ভারতের আঞ্চলিক সিনেমাও বিশ্বের অন্যান্য দেশে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু এদিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে ছিল ঢাকাই সিনেমা। 

    বলা যায়, বিদেশে সিনেমা মুক্তি দেওয়ার মতো সাহস করতেই পারছিল না সংশ্লিষ্টরা। কারণ, ঢালিউডের অবস্থা এতটাই করুণ ছিল যে, এগুলো দেশের প্রেক্ষাগৃহেই দর্শক টানতে ব্যর্থ হচ্ছিল। সেখানে এগুলো বিদেশে মুক্তি দেওয়াটাও একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের মতোই ছিল। তাই হয়তোবা এতদিন বিদেশের বাজার ধরার চিন্তাও করতে পারেনি প্রযোজনা সংস্থাগুলো। 

    তবে দেরিতে হলেও, এবার সে পথেই হাঁটছেন তারা। গত কয়েক বছরে অনেক ভালো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। যা দেশের দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহমুখী করেছে। ফলে এগুলো নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিদেশের মাটিতে সিনেমাগুলো প্রবাসীরাও যেন প্রেক্ষাগৃহে বসে দেখতে পারেন সেই আবেদনও অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে আসছিলেন। 

    প্রবাসী দর্শকদের উৎসাহ উদ্দীপনাতেই বিদেশে বাংলা সিনেমার একটি বাজার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও লক্ষ করেছেন প্রযোজক ও পরিবেশকরা। তাই সিনেমাগুলো এখন মুক্তি পাচ্ছে বিদেশে। উন্মুক্ত হয়েছে বাংলা সিনেমার বিশ্ব দুয়ার। হলিউড বলিউডের পাশাপাশি এখন ঢাকাই সিনেমাও চলছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। শুধুই যে চলছে এমনটাও নয়, বেশ ভালো ব্যবসাও করছে। যা রীতিমতো বাংলা সিনেমার জন্য এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

    ‘অস্তিত্ব’ নামের একটি সিনেমা দিয়ে ২০১৬ সাল থেকে বিদেশে বাংলা সিনেমা প্রদর্শনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘শিকারি’, ‘আয়নাবাজি’, ‘নবাব’, ‘দেবী’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘মুসাফির’, ‘শান’, ‘সম্রাট’, ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘স্বপ্নজাল’, ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’ সিনেমাগুলোও মুক্তি দেওয়া হয়। আর তাতে করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা সিনেমার বাজার ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে। 

    ধারাবাহিকভাবে গতবছর বিদেশে মুক্তির তালিকায় যুক্ত হয় ‘প্রিয়তমা’, ‘সুড়ঙ্গ’, ‘রাজকুমার’, ‘দেয়ালের দেশ’, ‘ওমর’ সিনেমাগুলো। যে সময়টাতে হলিউড সিনেমার সুপারপিক মৌসুম, ঠিক সে সময় এ সিনেমাগুলো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দেখিয়েছে দাপট, চোখ রাঙিয়েছে হলিউড সিনেমাকে। 

    এদিকে গত ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ছয়টি সিনেমা। যার মধ্যে ‘বরবাদ’, ‘দাগি’, ‘জংলী’ নামের তিনটি সিনেমাই মুক্তি পেয়েছে বিদেশে। যা এখনো চলছে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে।

    ‘দাগি’ সিনেমার নির্মাতা শিহাব শাহীন বলেন, ‘দেশের বাইরে প্রবাসী বাংলাদেশি যারা আছে, তারা বাংলাদেশি সিনেমা দেখতে চান। তাদের আগ্রহ রয়েছে অনেক। দেশি কিছু পেলেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রবাসীরা উৎসবের মতো করেই বাংলা সিনেমা দেখেন এবং তা উদযাপন করেন। তাই আমরাও আমাদের সিনেমাটি নিয়ে তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছি। আমরা চাই আমাদের সিনেমাগুলো ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছে যাক। দেশের সিনেমার গল্প আরও গ্লোবাল ও ইউনিভার্স হোক এটাই চাই। আর তাতেই ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যেও আমাদের সিনেমার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এখন যেভাবে দেশের সিনেমা বিদেশে মুক্তির ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে এটি নিঃসন্দেহে বাংলা সিনেমার জন্য এক অপার সম্ভাবনাই বলব আমি।’

    ‘বরবাদ’ সিনেমার পরিচালক মেহেদি হাসান হৃদয় বলেন, ‘বিদেশে আমাদের দেশের সিনেমা মুক্তি পাওয়াটাকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি। এটা দেশের জন্য গর্বের, বাংলাদেশিদের জন্য অহংকারের। অনেক আগে থেকেই বিদেশে দেশের সিনেমা মুক্তি পেলেও, কয়েক বছরে সেটি কিন্তু বাড়ছে। ধীরে ধীরে আরও বাড়বে। বিদেশেও আমাদের বাজার তৈরি হবে। আমরা যদি ভালো কনটেন্ট বানাতে পারি, তাহলে একদিন বিশ্ববাজারে বাংলা সিনেমা শক্ত অবস্থানে থাকবে।’

    কয়েকবছর আগেই বিদেশে মুক্তি পেয়েছিল ‘আয়নাবাজি’ নামে একটি সিনেমা। এটি নির্মাণ করেছেন অমিতাভ রেজা। দেশের বাইরে বাংলা সিনেমার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার সিনেমাটি যখন বিদেশে মুক্তি দিয়েছিলাম, তখন তেমন ব্যবসা করতে পারিনি। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশের বাইরে বাংলাদেশের সিনেমার একটা নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। এখনো বাণিজ্যিকভাবে তেমন সাফল্য না এলেও, আশা সঞ্চারিত হয়েছে। এ প্রক্রিয়া বাংলা সিনেমার জন্য নতুন পথ খুলে দিয়েছে। বাঙালি প্রবাসীরা দেশের টানে কিন্তু বাংলা সিনেমা দেখতে চান। তবে এসব দর্শকের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিয়ে সিনেমা বানাতে হবে। প্রবাসীরা কিন্তু হলিউড বলিউডের সিনেমা দেখে অভ্যস্ত, তাই বিদেশের মাটিতে আমাদের বাজার বাড়াতে হলে গুণগতমানের কোনো বিকল্প নেই।’

    এদিকে পরিবেশক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশে সিনেমা মুক্তির প্রক্রিয়াটা খুব একটা কঠিন নয়। সেক্ষেত্রে প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে ভালো সিনেমা। যেখানে দেশে সিনেমার ভালো প্রচার-প্রচারণা ও দর্শক চাহিদা থাকার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া সিনেমাটির ন্যূনতম টু কে রেজুলেশনে শুট করা ও সাবটাইটেল থাকতে হয়। শর্তগুলো থাকলেই প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিনেমা পাঠানো থেকে শুরু করে সেন্সর করানো ও প্রচার-প্রচারণার সব খরচ পরিবেশক প্রতিষ্ঠানই বহন করে থাকে।

    রিয়েল তন্ময়

  • প্রেক্ষাগৃহে ছুটছেন শিল্পীরা, সিনেমার প্রতি কমছে দর্শক আগ্রহ

    সিনেমা মুক্তি পেলেই এখন প্রচারণার জন্য প্রেক্ষাগৃহে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন নায়ক-নায়িকা তথা সংশ্লিষ্ট সিনেমার শিল্পীরা। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন জানিয়ে, একাধিক শিল্পী দাবি করছেন, তাতে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক সমাগম বাড়ে। পছন্দের শিল্পীদের কাছ থেকে দেখার সুযোগে দর্শকদের মধ্যেও সিনেমাটি নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়। তাই সিনেমা মুক্তি পেলেই শিল্পীরা পরিকল্পনা করেই রাখেন কখন কোন প্রেক্ষাগৃহে যাবেন। সেটার সময়সূচিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    গত ঈদেও মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর শিল্পীদের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা গেছে। একমাত্র শাকিব খান ছাড়া প্রায় অন্য সব শিল্পীকে এক প্রেক্ষাগৃহ থেকে অন্য প্রেক্ষাগৃহে ছুটতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, নিজেদের বিভিন্ন ঢংয়ে উপস্থাপন করতেও দেখা গেছে। সিনেমার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করার জন্যই নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে প্রচারণায়। কিন্তু শিল্পীদের এভাবে সহজলভ্য করে তোলায় অনেকেই বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবেও দেখছেন। একটা সময় সিনেমা দেখা ছিল উৎসবের মতো। নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পেলে পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে যেতেন অনেকেই। পছন্দের নায়ক-নায়িকার সিনেমা দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। দর্শকের কাছে নায়ক-নায়িকারা ছিলেন স্বপ্নের মানুষ। তাদের অনুসরণ-অনুকরণ করতেন। তাদের কথা-বার্তা, পোশাক, চালচলন, হেয়ার স্টাইল ফলো করতেন। এমনকি সিনেমায় তাদের সংলাপও মুখে মুখে ফিরত। এসবই হতো পর্দায় তাদের অভিনয় এবং উপস্থিতি দেখে। নায়ক-নায়িকারা ছিলেন দর্শকের ধরাছোঁয়ার বাইরে। সিনেমা ছাড়া বাস্তবে তাদের দেখা পাওয়া ছিল স্বপ্নের মতো। অনেকে নায়ক-নায়িকাকে নিয়ে কল্পনার সাগরে ভেসে নিজের মনের মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন।

    কিন্তু বর্তমানে দর্শকের মধ্যে নায়ক-নায়িকাদের নিয়ে সেই উন্মাদনা ও স্বপ্নের জাল বোনার সুযোগ নেই। এখন তারা পর্দার নায়ক-নায়িকাদের সহজেই বাস্তবে দেখতে পান। পর্দায় দেখার আগেই তাদের দেখে ফেলেন। শিল্পীরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সহজেই দর্শকের সঙ্গে মিশছেন, ছবি তুলছেন এবং নিজেদের সহজলভ্য করে তুলেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে পয়সা দিয়ে টিকেট কেটে কেন তাদেরকে পর্দায় দেখতে হবে? পর্দায় দেখার আগেই তো বাস্তবে তাদের সঙ্গে কথা-বার্তা ও ছবি তোলা হয়ে যাচ্ছে। তাদের সম্পর্কে ধারণা হয়ে যাচ্ছে। তারা যে বিশেষ কেউ, এ ধারণা কিছুটা হলেও কমে যাচ্ছে। এতে দর্শক বাস্তবে এবং পর্দার নায়ক-নায়িকাদের সঙ্গে পার্থক্য খোঁজার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। অথচ তাদের শুধু পর্দায়ই দেখার কথা। রহস্য মানব-মানবী হয়েই থাকার কথা। তা হচ্ছে না। এতে শিল্পী ও শিল্পের মান বিবেচনার দিক থেকে কতটা উন্নতি হচ্ছে সেটাই ভাবার বিষয়।

    আমাদের সিনেমায় এখনো অনেক নায়ক-নায়িকা কালজয়ী হয়ে আছেন, তাদের কিন্তু পর্দায় ছাড়া বাস্তবে এত সহজে দেখা যেত না। ফলে এখনো তারা দর্শকের স্বপ্নের মানুষই হয়ে আছেন। এ প্রজন্মের নায়ক-নায়িকারা কী দর্শকের মনে তাদেরকে বাস্তবে দেখার সেই আফসোস সৃষ্টি করতে পেরেছেন? পারেননি। সিনেমার প্রতি দর্শকের আকর্ষণ কমে যাওয়ার এটিও একটি অন্যতম কারণ। যাকে বাস্তবে সহজে দেখা যায়, তাকে পর্দায় দেখার আগ্রহে কিছুটা হলেও ভাটা পড়ে। হ্যাঁ, সিনেমার সেই স্বর্ণালি সময়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া জানতে প্রেক্ষাগৃহে তারকারা যে যেতেন না, তা নয়। যেতেন, তবে তারা এমনভাবে যেতেন যেন দর্শক কোনভাবেই বুঝতে না পারেন তাদের সঙ্গে বসে সিনেমা দেখছেন তাদেরই স্বপ্নের নায়ক-নায়িকারা। নায়িকারা বোরকা পরে, আর নায়করা ছদ্মবেশ নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে যেতেন। নীরবে বসে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া জানতেন।

    কিন্তু, বর্তমান সময়ে দর্শকদের মধ্যে সিনেমা দেখার আগ্রহের চেয়ে বাস্তবে নায়ক-নায়িকা দেখার আগ্রহই বেশি দেখা যায়। সিনেমা হয়ে পড়ে গৌণ। আসলে এ সময়ের নায়ক-নায়িকারা নিজেদের সিনেমা দেখার ট্রেডমার্ক বা আইকনে পরিণত করতে পারছেন না। দর্শকের কাছে সিনেমা দেখার আগ্রহ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে প্রচারণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই প্রচার করতে গিয়ে নায়ক-নায়িকাদের বাস্তবে দর্শকের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে সিনেমার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কমছে।

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • ‘সেনারা প্রাণ দিচ্ছেন, আর আমরা ঘরে বসে পাকিস্তানি ছবি দেখব’

    আগামী ২ অক্টোবর ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে পাকিস্তানের সিনেমা ‘মওলা জাট’। এতে অভিনয় করেছেন একসময়ে বলিউড কাঁপানো অভিনেতা ফাওয়াদ খান ও অভিনেত্রী মাহিরা খান। কিন্তু এ সিদ্ধান্তে মোটেই খুশি নয় মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)।

    আনন্দবাজার প্রতিবেদন সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে উরির সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার পর পাক শিল্পীরা নিষিদ্ধ হন বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। অবশেষে সেই জট কেটে গিয়ে ২ অক্টোবর ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ফাওয়াদ খান ও মাহিরা খান অভিনীত ছবি ‘মওলা জাট’-এর। কিন্তু এ সিদ্ধান্তে মোটেই খুশি নয় মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— কোনোভাবেই এ ছবি ভারতের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করতে দেওয়া হবে না।

    সংবাদমাধ্যমকে এমএনএসের সভাপতি অমেয়া খোরপার বলেছেন, ভারতে কিছুতেই পাকিস্তানের ছবি এবং অভিনেতাদের গ্রহণ করা হবে না। তিনি অন্য রাজ্যের রাজনৈতিক দলকেও এ ছবি মুক্তির বিরোধিতা করার আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, এ ছবি ভারতে মুক্তি পাবে না। শুধু ছবিই নয়; পাকিস্তানের কোনো শিল্পীকেই এ দেশে গ্রহণ করা হবে না। যদি এমন কিছু হয়, তা হলে জোরদার আন্দোলন হবে।

    এমএনএসের সভাপতি আরও বলেন, সীমান্তে আমাদের সেনারা প্রাণ দিচ্ছেন। পাকিস্তানি অভিনেতাদের আমাদের কিসের প্রয়োজন, আমাদের এখানে কি প্রতিভার অভাব রয়েছে?

    হুমকি দিয়ে খোরপার বলেন, প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা জানেন— প্রেক্ষাগৃহের দরজা-জানলার কাচ খুবই দামি। পাকিস্তানের কোনো অভিনেতা এখানে এলেই আমরা হামলা করব। শিল্প ও রাজনীতি ভিন্ন সে কথা উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, সেনাদের জীবনের থেকে শিল্প কখনই বড় হতে পারে না। এটাকে হুমকি হিসেবেই নেওয়া উচিত। গত সপ্তাহ পর্যন্ত ওরা হামলা করেছে। আর আমরা ঘরে বসে পাকিস্তানের ছবি দেখব? এ দেশের মাটিতে আমরা ওদের পা রাখতে দেব না। আমরা ভাঙচুর করব।

    উল্লেখ্য, অভিনেত্রী মাহিরা খান ও ফাওয়াদ খান দুজনই ভারতীয় ছবিতে কাজ করেছেন। শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘রইস’ ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন মাহিরা। অন্যদিকে ‘কাপুরস অ্যান্ড সন্স’-এ নজর কেড়েছিলেন ফাওয়াদ খান। ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিতে আনুশকার সঙ্গে ফাওয়াদের সমীকরণে মজেছিল ভারতীয় দর্শক। সোনম কাপুরের সঙ্গে ফাওয়াদের ‘খুবসুরত’-ও জনপ্রিয় হয়েছিল।

    বিনোদন ডেস্ক

  • কলকাতায় তারিনের অভিষেক কেমন হলো?

    নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী তারিন জাহান। তিন দশকেরও বেশি সময় এ অভিনেত্রী নাটক দিয়েই দর্শকের মন কেড়েছেন। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা হৃদি হক পরিচালিত ‘১৯৭১ সেইসব দিন’। এটি গত বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সিনেমাটিতে তারিনের অনবদ্য অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়।

    rnrn

    এবার কলকাতায়ও প্রশংসিত হয়েছেন এ অভিনেত্রী। সম্প্রতি সেখানে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত মানসী সিনহা পরিচালিত সিনেমা ‘এটা আমাদের গল্প’।

    rnrn

    জানা গেছে, মুক্তির পর থেকেই দর্শক বেশ আগ্রহ নিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করছেন।

    rnrn

    তারিন জানিয়েছেন, কলকাতায় সিনেমার প্রচারণা করতে গিয়ে সেখানে তার নাটকের অনেক দর্শকের সঙ্গেও দেখা হয়েছে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও তারা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করেছেন।

    rnrn

    তিনি বলেন, ‘দর্শকের এই আগ্রহ আর ভালোবাসায় ভীষণ উচ্ছ্বসিত আমি। মনে হচ্ছে জীবনের নতুন এক অধ্যায় কলকাতায় অতিবাহিত করছি।’

    rnrn

    উল্লেখ্য, ‘এটি আমাদের গল্প’ সিনেমার গল্প বউ শাশুড়ির রাগ অভিমান, ভালোবাসাকে ঘিরে। মানুষের যখন বয়স হয়ে যায় তখন মানুষ একা হয়ে যায়। সেই বয়সে প্রেমে পড়াটা অপরাধ নয়। একা থাকার চেয়ে কাউকে ভালোবেসে ভালো থাকাটা ভালো। গল্পে তারিন বাংলাদেশের একটি হিন্দু পরিবারের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

    rnrn

    এদিকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কলকাতার সিনেমায়ও তারিনের অভিষেক নিয়ে এ অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। তিনিও দীর্ঘদিন কলকাতার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন।

    আনন্দনগর প্রতিবেদক

  • ‘মুজিব’ দেখে তৃপ্ত দর্শক

    শুক্রবার দেশের দেড় শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’।

    rnrn

    বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ভারতীয় নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।

    rnrn

    চলতি বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির ট্রেলার প্রদর্শিত হয়। সেটা পরবর্তীতে অনলাইনে প্রকাশ হলে সিনেমাটির নির্মাণশৈলী নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়। অনেকে তখন বলেছেন ৮৩ কোটি বাজেটে নির্মিত এ সিনেমার ট্রেলার এতটা দুর্বল হবে কেন?

    rnrn

    অবশ্য পরবর্তীতে মুক্তির আগে যে ট্রেলার প্রকাশ হয় সেটা দেখে দর্শকদের হতাশা কিছুটা হলেও কেটেছে। এবার মুক্তির পর পুরোটাই তৃপ্ত দর্শক।

    rnrn

    শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। রাজধানীর প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত সিনেমাটি।

    rnrn

    মতিঝিলের মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহে শো শেষে বের হওয়া দর্শকের চোখে মুখে তৃপ্তি। শাহিন হোসেন নামে এক দর্শক যুগান্তরকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস যতটা বইতে পড়েছি, পর্দায় জীবন্ত বঙ্গবন্ধুকে কেমন লাগে সেটা দেখতে এসেছি। আমি তৃপ্ত। কিছু ছোট ছোট জিনিস বাদ দিলে দারুণ একটি ইতিহাস তৈরি হয়েছে। যারা বঙ্গবন্ধুকে দেখেনি, তারা পর্দায় তার চরিত্রাভিনেতার (আরেফিন শুভ) মধ্য দিয়ে তাকে উপলব্ধি করতে পারবেন।’

    rnrn

    শারমিন সুলতানা নামে এক দর্শক বলেন, বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ এক সূত্রে গাঁথা। তার জীবনী পর্দায় দেখলাম। দারুণ লেগেছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন একটি কাজ আরও আগে দরকার ছিল।

    rnrn

    এদিকে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাসেও প্রদর্শিত হচ্ছে ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’। সিনেমাটি দেখতে সেখানেও দর্শকদের বেশ আগ্রহ দেখা গেছে।

    rnrn

    শো শেষে তৃপ্ত হোসেন শাহরিয়ার নামে এক দর্শক বলেন, ‘ইটস অ্যামেইজিং। বঙ্গবন্ধুকে যেন জীবন্ত দেখলাম। সিনেমাটির বিষয়টি বাদ দিলে ইতিহাসের একটি একটি চলমান দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করবে, এটা আমার বিশ্বাস। আমার মতে, সিনেমাটি সবারই দেখা উচিৎ।

    rnrn

    সিনেমাটির প্রিমিয়ার দেখতে স্টার সিনেপ্লেক্সে হাজির হয়েছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। পোস্টারের পাশে দাঁড়িয়ে তুলেছেন ছবি। বলেছেন, দারুণ একটি দৃশ্যায়ন। পর্দায় মুগ্ধ হয়ে থাকার মতো। কিছু কিছু বিষয় তো বেশ কষ্ট দেবে এটা সত্যি। যেমন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড, এটা আপনাকে কাঁদাবে। যারা এ সিনেমাটির পেছনে শ্রম দিয়েছেন অভিনেতা, কলা-কুশলী সবাইকে আমার পক্ষ থেকে অভিনন্দন। দারুণ কাজ করেছেন সবাই।

    rnrn

    সিনেমাটি নিয়ে সিনেমা নির্মাতা মেঘ বলেছেন, ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার সিনেমা দেখে মনে হয়েছে ভারতীয় নন্দিত চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল অর্থ সঠিকভাবে খরচ করেছেন।

    rnrn

    সিনেমার শুরুতেই তথ্যগত বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, নাটকীয়তার জন্য গল্প সংযোজন করা হয়েছে। দুটি দৃশ্যের তথ্য সমালোচনা বাদ দিলেই এটি অসাধারণ একটি সিনেমা। দলমত নির্বিশেষে এ সিনেমা সবার দেখা দরকার।

    rnrn

    এদিকে সিনেমাটির বিশেষ কিছু দৃশ্য নিয়েও দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে শেখ মুজিবের বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান।

    rnrn

    এ দৃশ্য প্রসঙ্গে কামরুল হাসান নামের এক দর্শক বলেন, ‘বিয়ের সময় গায়ে হলুদ নামের অনুষ্ঠান দেখা যায় বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলে। গ্রামের নারীরা বিভিন্ন লোকসংগীত কণ্ঠে তুলে অনুষ্ঠান জমিয়ে তোলেন। বঙ্গবন্ধুর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আরিফিন শুভর মুচকি হাসি, চাহনি, লজ্জা পাওয়ার ব্যাপারগুলো বঙ্গবন্ধুর কথা মনে করিয়ে দেয়। মনে হচ্ছিল বঙ্গবন্ধুর বিবাহ অনুষ্ঠানটা এমন ভাবে উৎসবে মেতে উঠেছিল সবাই, আর তিনি এভাবেই বঙ্গমাতাকে দেখতেন বইয়ের আড়াল থেকে লুকিয়ে।’

    rnrn

    উল্লেখ্য, এ সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। শেখ হাসিনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ফারিয়া এবং বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুন নেছা মুজিবের চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশা।

    rnrn

    অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল আলম সবুজ (লুৎফর রহমান), দিলারা জামান (সাহেরা খাতুন), সায়েম সামাদ (সৈয়দ নজরুল ইসলাম), শহীদুল আলম সাচ্চু (এ কে ফজলুল হক), প্রার্থনা ফারদিন দীঘি (ছোট রেনু), রাইসুল ইসলাম আসাদ (আবদুল হামিদ খান ভাসানী), গাজী রাকায়েত (আবদুল হামিদ), তৌকীর আহমেদ (সোহরাওয়ার্দী), সিয়াম আহমেদ (শওকত মিয়া), মিশা সওদাগর (জেনারেল আইয়ুব খান), এলিনা (বেগম খালেদা জিয়া) ও জায়েদ খান (টিক্কা খান)।

    আনন্দনগর প্রতিবেদক