Tag: থাইল্যান্ড

  • ‘মিস ইউনিভার্স’ ঘিরে নতুন বিতর্ক, মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

    থাই মিডিয়া উদ্যোক্তা এবং ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতার সহ-মালিক অ্যান জাকাপং জাকরাজুততিপের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে দক্ষিণ ব্যাংকক সিভিল কোর্ট। প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার (৩০ মিলিয়ন বাত) জালিয়াতির অভিযোগে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এই পরোয়ানা জারি হয় বলে আদালতের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন। 

    চলতি বছরের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা মাত্র এক সপ্তাহ আগে ব্যাংককে শেষ হলেও এবার আয়োজনকে ঘিরে ছিল একের পর এক বিতর্ক। সঞ্চালকের অশালীন মন্তব্য, যৌনতাবাদের অভিযোগ এবং একাধিক অনিয়মের পরও প্রতিযোগিতা শেষ হয় মিস মেক্সিকোর বিজয়ে। তবে পুরস্কার বিতরণীর উত্তাপ কাটতে না কাটতেই নতুন ঝড় ওঠে সহ-মালিক জাকাপংকে ঘিরে। 

    ২০২৩ সালে জেকেএন গ্লোবাল গ্রুপে বিনিয়োগে রাজি করার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন এবং ফেরতের বিষয়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগে একজন প্লাস্টিক সার্জন জাকাপংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দিতে অক্ষম জেনেও বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছিলেন, যা প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত। মঙ্গলবার মামলার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও জাকাপং আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। নতুন করে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর।  

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের মধ্যেই জাকাপং নাকি থাইল্যান্ড ছেড়ে মেক্সিকো চলে গেছেন। তবে মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, এই আইনি প্রক্রিয়া তাদের প্রতিযোগিতা পরিচালনার সঙ্গে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয়।

    সম্প্রতি শেষ হওয়া ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’ প্রতিযোগিতায়ও বিতর্কের পারদ ছিল তুঙ্গে। লাইভ অনুষ্ঠানে এক পুরুষ সঞ্চালক বিজয়ী মিস মেক্সিকো ফাতিমা বোশকে প্রচারমূলক কনটেন্ট পোস্ট না করার অভিযোগে প্রকাশ্যে অপমান করেন। তার মন্তব্যের প্রতিবাদে বোশসহ কয়েকজন প্রতিযোগী মঞ্চ ত্যাগ করেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা চাইলেও ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবামের নজর কাড়ে।

    উল্লেখ্য যে, একসময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ছিল ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতা। ২০২২ সালে অ্যান জাকাপংয়ের জেকেএন গ্লোবাল গ্রুপ ২০ মিলিয়ন ডলারে এটি কিনে নেয় এবং পরে ১৬ মিলিয়ন ডলারে অর্ধেক শেয়ার মেক্সিকোর লেগ্যাসি হোল্ডিং গ্রুপ ইউএসএর কাছে বিক্রি করে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • স্টেজ থেকে নামার পর আজকে আমার খুব কান্না আসছে: মিথিলা

    থাইল্যান্ডে চলছে মিস ইউনিভার্সের ৭৪তম আসর। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের মডেল ও অভিনয়শিল্পী তানজিয়া জামান মিথিলা। আগামীকাল জানা যাবে কার মাথায় উঠতে যাচ্ছে ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’-এর মুকুট। 

    এর আগে প্রতিদিনই বিভিন্ন সেশনে প্রতিযোগীদের নেওয়া হচ্ছে নানা পরীক্ষা।

    বুধবার (১৯ নভেম্বর) ১২১টি দেশের প্রতিযোগীরা হেঁটেছেন নিজ নিজ দেশের ন্যাশনাল কস্টিউম পরে। এরই মধ্যে মিথিলা তার ন্যাশনাল কস্টিউম লুকের ছবি পোস্ট করেছেন সামাজিক মাধ্যমে।

    মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার মঞ্চে ন্যাশনাল কস্টিউম হিসেবে মিথিলা বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের নারীদের প্রধান পোশাক শাড়ি। আর দেশের ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পছন্দ করেছেন সাদা জামদানি।

    জামদানি শাড়ির মোটিফে আছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। 

    ছবি দিয়ে মিথিলা লিখেছেন, ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল কস্টিউম—“দ্য কুইন অব বেঙ্গল”।’ এরপর পুরো লুকের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    তিনি লিখেছেন, ‘মিস ইউনিভার্সের মঞ্চের ন্যাশনাল কস্টিউম পর্বের জন্য পরছি ঐতিহ্যবাহী অভিজাত জামদানি; এটি বাংলার রাজকীয় ইতিহাসের জীবন্ত ঐতিহ্য।’

    ‘ন্যাশনাল কস্টিউম’ পরা নিয়ে বুধবার দুপুরে এক ফেসবুক লাইভে মিথিলা বলেন, ‘ন্যাশনাল কস্টিউম সবার কাছে কেমন লেগেছে? আশা করি, সবার ভালো লেগেছে, মনের মতো হয়েছে। বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে এই কস্টিউম বেছে নিয়েছি। আমার মনে হয়, ন্যাশনাল কস্টিউমে বাংলাদেশকে কেউ এভাবে তুলে ধরল। আর আমি হ্যাপি, কারণ আমার পারফরম্যান্সও খুব ভালো হয়েছে। সবাই খুব প্রশংসা করেছে।

    স্টেজ থেকে নামার পর আজকে আমার খুব কান্না আসছে। অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। মঞ্চে যখন থাকবেন এবং নিজের দেশকে উপস্থাপন করা কত বড় সাহস আর শক্তির প্রয়োজন, সেটা তখনই উপলব্ধি করা যায়।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • মিস ইউনিভার্স জিতলে যে পরিমাণ টাকা দেওয়া হয় মুকুটজয়ীকে

    আগামী ২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় শহর পাক ক্রেটে অনুষ্ঠিত হবে ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসরের জমকালো গ্র্যান্ড ফাইনাল। এর মধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় ১২১ দেশের প্রতিযোগীদের নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ আসরে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। এর মধ্যেই সব প্রতিযোগীকে নিয়ে নানা ধরনের কার্যক্রমের বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। নানা বিভাগে শুরু হয়েছে ভোটিং। 

    বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস ইউনিভার্স’ ২০২৫ সালের আসরে বিজয়ী পাবেন মুকুট ‘ফোর্স অব গুড’। যেখানে মুকুটে রয়েছে ১১০ ক্যারেট নীলকান্তমণি ও ৪৮ ক্যারেট সাদা হীরা। যার মূল্য প্রায় ৫.৭৫ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। এই মুকুট এক বছরের জন্য পাওয়া যায়। স্থায়ী স্মৃতি হিসেবে দেওয়া হয় ১৫-২০ হাজার ডলারের রেপ্লিকা।

    মিস ইউনিভার্স হওয়া শুধু সৌন্দর্যের মুকুট নয়; এটি এক বছরের জন্য স্বপ্নের রাজ্যে প্রবেশের সুযোগ। পুরো বছরজুড়ে রান্না, পোশাক, ভ্রমণ— কোনো কিছু নিয়েই চিন্তা করতে হয় না বিজয়ীকে। ব্যক্তিগত জেট, বিলাসবহুল আবাসন, আন্তর্জাতিক মিডিয়া কাভারেজ এবং দাতব্য কার্যক্রম— সব মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ ও স্বপ্নময় যাত্রা।

    ‘মিস ইউনিভার্স’ মুকুট বিজয়ী হওয়ার পরবর্তী এক বছর সব খরচ বহন করে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ। চলুন দেখে নেওয়া যাক, প্রতিযোগিতার বিজয়ী হলে কী কী সুযোগ-সুবিধা পান—

    কোনো বিজয়ী মুকুট জয়ের পর প্রথম উপহার হিসেবে পান নগদ আড়াই লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন কোটি টাকারও বেশি। এটি এক বছরের জন্য এনে দেয় আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বপ্নপূরণের সুযোগ। দ্বিতীয়ত বিজয়ীকে এক বছরের জন্য দেওয়া হয় নিউইয়র্ক সিটির একটি লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট। সেখানে থাকার পাশাপাশি অফিস, ফটোশুট, প্রেস মিট সব আয়োজনই থাকে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায়।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এ ছাড়া বিজয়ীকে দেওয়া হয় সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধার একটি— ব্যক্তিগত বিমান বিশ্ব ভ্রমণের সুযোগ। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে সফর, পাঁচতারকা হোটেল, খাবার–দাবার থেকে শুরু করে সব আয়োজন থাকে নিশ্চয়তার মধ্যে। তবে প্রতিটি সফরেই থাকতে হয় দাতব্য কাজের অংশগ্রহণ হিসাবে।

    উল্লেখ্য, ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ২ নভেম্বর থাইল্যান্ডে পৌঁছান ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট জয় করা মডেল-অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। দেশের পতাকা নিয়ে মুকুট জয়ের প্রত্যাশায় একের পর এক ধাপ উতরে যাচ্ছেন তিনি। প্রত্যাশা রয়েছে মুকুট জয়ের।

    এর আগে বাংলাদেশ থেকে ২০১৯ সালে শিরীন শিলা এবং ২০২৪ সালে আনিকা আলম মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তবে মিথিলার এই অর্জন দেশের মিস ইউনিভার্স ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করতে চলেছে।

    যুগান্তর ডেস্ক

  • ‘ওয়াশরুম ভিডিও’ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মিথিলা

    ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসর। এবারের আসরে ১২১টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে সগৌরবে প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশের তানজিয়া জামান মিথিলা। থাইল্যান্ডে শুরু হওয়া এ আসরে ইতোমধ্যে ভোটের তালিকায় ২য় অবস্থানে উঠে এসেছেন মিথিলা। 

    আগামী ২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় শহর পাক ক্রেটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসরের জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে। 

    গত সেপ্টেম্বরে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট জেতার পর দেশের পতাকা হাতে গত অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি থাইল্যান্ডে মূল মঞ্চে উড়ে গিয়েছেন।

    তবে মূল প্রতিযোগিতায় নামার আগে পুরোনো একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের বিতর্কের মুখে পড়লেন এই মডেল। পুরোনো সেই বিতর্কিত ‘ওয়াশরুম ভিডিও’ প্রসঙ্গে সম্প্রতি লাইভে এসে মুখ খুলেছেন মিথিলা। নেটিজেনদের ক্রমাগত নেতিবাচক প্রচারণায় তিনি রীতিমতো বিব্রত।

    লাইভে মিথিলা প্রথমে স্বীকার করেন যে ঘটনাটি বহু বছর আগেরপ্রায় সাত থেকে আট বছর পুরোনো। তিনি দাবি করেন, যখন ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন তারা সবাই ছোট ছিলেন এবং এটি একটি ‘প্র্যাঙ্ক’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

    বিতর্কিত ভিডিওটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রথমে যেটা বলতে চাই, যখন ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন আমরা ছোট ছিলাম। ওই ঘটনাটা যখন ভাইরাল হয়, একদল মানুষ বলে, আমি সেক্সুয়ালি তাকে হ্যারাস করেছি। তার আগে বলি, যে মানুষটা ওয়াশরুমে ছিল, সে কিন্তু আমাদের বন্ধু ছিল। আমরা জিনিসটাকে প্র্যাঙ্কের মতো করে দেখিয়েছিলাম।’

    তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ওখানে ছিলাম, ওখানে আপনারা আমাকে দোষ দিতে পারেন না। আপনারা যেহেতু জিনিসটাকে এত বড় করেছেন। ফেসবুকে অনেকবার বলেছি, আমাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিয়েন। আমি ছোট ছিলাম বুঝিনি, বোকার মতো কাজটা করেছি।’

    নেটিজেনদের তিনি বলেন, ‘আপনারা ৭/৮ বছরের পুরোনো ভিডিওতে আমাকে নিয়ে নেগেটিভ পাবলিসিটি করছেন। আমাকে নেগেটিভ পাবলিসিটি করলে (প্রতিযোগিতায়) জিততে পারবো না, আমাকে জেতাবে না এরা।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • সীমানার ওপারে: গুয়াংজুতে এশিয়ান পারফর্মিং আর্টসের এক নতুন ভোর

    যখন শিল্প সীমা অতিক্রম করে, ভাষা নীরব হয়ে যায়, থেকে যায় শুধু ছন্দ, সুর আর হৃদয়ের অনুরণন।

    এই চিরন্তন ভাবনাটিই জীবন্ত হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার শহর গুয়াংজুতে, আন্তর্জাতিক উৎসব সীমানার ওপারে: এশিয়ার পারফর্মিং আর্টসের নতুন ঢেউ ২০২৫ উপলক্ষে।

    এই উৎসবটি ২ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এশিয়া কালচার সেন্টারের (এসিসি) আয়োজনে।যা এশিয়ার সৃজনশীলতা ও বৈচিত্র্যের এক অনন্য উৎসব।

    চারদিনব্যাপী এই বর্ণিল উৎসবে অংশ নেন এশিয়ার ১১টি দেশের শিল্পীরা— জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ।

    নৃত্য, সঙ্গীত ও নাটকের মাধ্যমে তারা প্রকাশ করেন এমন এক মানবিক ছন্দ, যা ভাষা ও ভূগোলকে অতিক্রম করে এক করে দেয় হৃদয়ের সুর।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশ নেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংস্কৃতি কর্মকর্তা সৈয়দা সাহেদা বেগম, যিনি উৎসবের পরিচালনা ও সৃজনশীল পরিকল্পনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি হাসান জাবেদ অংশ নেন এশিয়া কালচার সেন্টারের আমন্ত্রণে একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে।

    বাংলাদেশের নৃত্যদল কাথ্যাকিয়া তাদের ঐতিহ্যবাহী ছন্দ ও আধ্যাত্মিক নৃত্যের সমন্বয়ে পরিবেশন করে এক মোহময় পরিবেশনা, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের মুগ্ধ করে তোলে।

    একজন কোরিয়ান দর্শক মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের পরিবেশনাটি আত্মাকে স্পর্শ করেছে— এটি যেন চলমান কবিতা।

    এশিয়ার ছন্দে উৎসবের দিনপঞ্জি

    প্রথম দিন —এশিয়ার ছন্দ:

    উদ্বোধনী রাতে কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী ড্রামের বজ্রনিনাদ, জাপানি নৃত্যের কোমল ভঙ্গিমা এবং বাংলাদেশের লোকনৃত্যের প্রাণবন্ত উপস্থিতি মিলিয়ে সৃষ্টি হয় শিল্পের এক অনন্য সেতুবন্ধন।

    বার্তাটি ছিল স্পষ্ট — “শিল্পের কোনো সীমানা নেই; এটি প্রতিটি মানুষের আত্মায় বেঁচে থাকে।”

    দ্বিতীয় দিন — কর্মশালা ও বিনিময়:

    জাপান, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের কোরিওগ্রাফারদের পরিচালনায় আধুনিক ও সমসাময়িক নৃত্য কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

    সব দেশের শিল্পীরা যৌথভাবে অংশ নিয়ে দেখান, “শিল্পই মানবতার একমাত্র অভিন্ন ভাষা।”

    তৃতীয় দিন — ঐতিহ্যের কণ্ঠস্বর:

    এই দিনে উদযাপিত হয় এশিয়ার জীবন্ত ঐতিহ্য।

    চীনের ফ্যান ডান্স, থাইল্যান্ডের খন মুখোশ নাটক, শ্রীলঙ্কার কান্ডিয়ান আচারনৃত্য — প্রতিটি পরিবেশনাই ছিল নিজস্ব সৌন্দর্যে অনন্য।

    বাংলাদেশের “কাথ্যাকিয়া” দল উপস্থাপন করে ধ্রুপদী নৃত্য ও লোকআধ্যাত্মিকতার চমৎকার সংমিশ্রণ, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

    চতুর্থ দিন — ঐক্যের সিম্ফনি:

    শেষ দিনে সব দেশের শিল্পীরা একসঙ্গে মঞ্চে এসে নৃত্য ও সঙ্গীতের মাধ্যমে গেঁথে তোলেন ঐক্য ও শান্তির এক মহাকাব্যিক সুরেলা চিত্র।

    এশিয়া কালচার সেন্টার: যেখানে এশিয়া মিলিত হয় বিশ্বের সাথে। এশিয়া কালচার সেন্টার (এসিসি) দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজুর হৃদয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে।

    ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি কোরিয়ার “এশিয়ান কালচারাল হাব সিটি” গড়ে তোলার স্বপ্নের অংশ।

    গুয়াংজুর ঐতিহাসিক ১৮ মে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্থানে নির্মিত এই ভবনটি শহরের মানবাধিকার আন্দোলনের ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করে। শুধু পারফরম্যান্স নয়, এর লক্ষ্য হলো আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া, গবেষণা ও সৃজনশীল সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

    এই কেন্দ্রের পাঁচটি প্রধান বিভাগ রয়েছে, তাদের কাজ হচ্ছে:

    ১. আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ প্রচার করা।

    ২. শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে কাজ করা।

    ৩. এশিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা।

    ৪. শিল্পীদের সহায়তা ও নতুন সৃষ্টিকে উৎসাহিত করা।

    ৫. উদ্ভাবনী পারফরম্যান্স ও উৎসব আয়োজন করা।

    প্রদর্শনী, রেসিডেন্সি ও “Beyond Borders”-এর মতো উৎসবের মাধ্যমে এসিসি আজ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

    বিয়ন্ড বর্ডারস ২০২৫-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশটির ক্রমবর্ধমান সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।

    সাহিদা বেগম ও হাসান জাবেদ— দুজনের উপস্থিতি বাংলাদেশকে কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং এশিয়ার শিল্পচর্চার ভবিষ্যৎ গঠনে এক সক্রিয় অংশীদার হিসেবে তুলে ধরেছে।

    সাহিদা বেগম বলেন, বাংলাদেশের শিল্পে আছে ঐতিহ্য আর উদ্ভাবনের মিশ্রণ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তা উপস্থাপন করা মানে বিশ্বের সামনে আমাদের সংস্কৃতির হৃদস্পন্দনকে পৌঁছে দেওয়া।

    শেষ রাতের পর যখন আলো নিভে গেল, তখনও ১১টি জাতির সম্মিলিত কণ্ঠস্বর বাতাসে ভাসছিল — এক অনন্ত সত্যের প্রতিধ্বনি হিসেবে: সত্যিকারের শিল্প কখনও সীমা মানে না; এর ডানা আকাশেরও ওপারে পৌঁছে যায়।

    গুয়াংজুর উৎসব প্রাঙ্গণে, যেখানে ছন্দ মিলেছিল নিরবতার সাথে, আর ঐতিহ্য মিশেছিল নব উদ্ভাবনে —

    শিল্প আবারও প্রমাণ করেছে, এটি মানবতার সার্বজনীন ভাষা — যা দেশ, সংস্কৃতি ও হৃদয়কে একসূত্রে বাঁধে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সৈকতের ছবি পোস্ট না করলে কী আর ছুটি কাটালেন: আলিয়া

    এ মুহূর্তে থাইল্যান্ডে ছুটি কাটাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। সঙ্গে আছেন মেয়ে রাহা ও স্বামী অভিনেতা রণবীর কাপুর। থাইল্যান্ডের কোহ ইয়াও নোই দ্বীপের পূর্ব উপকূলে ব্যক্তিগত রিসোর্ট এএনআইতে সময় কাটাচ্ছেন তারা। যেখানে ৬ রুমের ভিলা বুকিং করতে খরচ করতে হয়েছে ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

    বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ড সফরের কিছু ছবি এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে নেন আলিয়া ভাট। সেখানে দেখা যায়, কালো মনোকিনিতে সমুদ্রে নেমেছেন অভিনেত্রী। সঙ্গে ওয়াটার স্পোর্টসেরও মজা নিচ্ছেন তিনি। যার উজ্জ্বল হাসিতে মন হারিয়েছেন ভক্তরা। তাদের মন্তব্য ছিল ঠিক এমন— আলিয়া যেন সাক্ষাৎ জলপরী। এ ছাড়া আরামদায়ক এই ছুটির ফাঁকে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস হিসেবে জেট স্কি চালাতে দেখা গেছে অভিনেত্রীকে। 

    এদিকে অভিনেত্রী আলিয়া ভাট ছুটি কাটাতে গিয়েও জিম থেকে দূরে থাকেননি। ওয়ার্কআউট সেশনের জন্য সময় বের করে নিয়েছিলেন তিনি। বোন শাহিন ভাটের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে সূর্যের আলো গায়ে মাখতেও দেখা গেছে অভিনেত্রীকে। ছবিগুলো শেয়ার করে আলিয়া ক্যাপশনে লিখেছেন—আপনি যদি সমুদ্রসৈকতের ছবি পোস্ট না করেন, তা হলে আর কী ছুটি কাটালেন?

    উল্লেখ্য, আলিয়াকে আগামীতে ওয়াইআরএফের স্পাই ইউনিভার্স ফিল্ম আলফাতে দেখা যাবে। শিব রাওয়াইল পরিচালিত এ ছবিটি যশরাজের স্পাই ইউনিভার্সের প্রথম নারীকেন্দ্রিক ছবি। যেখানে আলিয়ার পাশাপাশি শর্বরীও অভিনয় করেছেন। 

    এ ছাড়া আলিয়ার হাতে রয়েছে সঞ্জয় লীলা বানসালির লাভ অ্যান্ড ওয়ার, যেখানে তিনি ভিকি কৌশল ও রণবীর কাপুরের সঙ্গে পর্দা শেয়ার করবেন। দুটি ছবিই মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • থাইল্যান্ডের সৈকতে অন্য রূপে দেখা মিলল তানজিন তিশার

    ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয়। ভ্রমণ, কাজের খবর, উৎসব-পালাপার্বণ বা নিছকই শখের ফটো সেশন- বহু মুহূর্ত ভক্তদের জন্য তুলে ধরতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে থাকেন তিশা। 

    এবারও ফেসবুকে তিশাকে দেখা গেল থাইল্যান্ডের ফি ফি সৈকতে।

    সাগরের নীল জলরাশি আর নীল আকাশ যেখানে মিলেমিশে একাকার হয়েছে, থাইল্যান্ডের সেই ফি ফি সৈকতে গিয়েছিলেন তানজিন তিশা।

    ছবিগুলোর ক্যাপশনে তিশা লিখেছেন, ‘বেবিগার্ল, তুমি নিশ্চই জয়ী হবে এবং এটাই গল্পের শেষ’।

    অবশ্য কোন গল্প বা তার শুরু কোথায়, তা জানাননি এই অভিনেত্রী।

    পশ্চিমা পোশাক বরাবরই পছন্দ তিশার। তাই ছবিতেও কালো রঙয়ের পোশাক পরা তিশার চোখ ঢাকা কালো চশমায়। কানে বাহারি রঙের লম্বা দুল।

    ঘুরে বেড়ালেও এই অভিনেত্রীর কাজের সংখ্যাও কম নয়। তবে গত বছর বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ঈদে তিশার এক ডজন নাটক প্রচার হলেও চলতি বছরে প্রচার হয়েছে মাত্র তিনটি। 

    এ বিষয়ে তিশার ভাষ্য, বেছে বেছে কাজ নিচ্ছেন তিনি। এছাড়া ভালো স্ক্রিপ্ট পেলে পা রাখতে চান ওটিটিতেও।

    বিনোদন ডেস্ক