Tag: জ্যোতিকা জ্যোতি

  • কোথাও ঠাঁই হচ্ছে না জ্যোতিকা জ্যোতির

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। আওয়ামী লীগপন্থি এই অভিনেত্রী ‘আলো আসবেই’ নামের এক বিতর্কিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাই গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বিপাকেই পড়েছেন তিনি।

    ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে থাকা ‘শিল্পী’দের বেশিরভাগই এখন ‘সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই একপ্রকার গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলেন জ্যোতি। সরকার পতনের পর শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে সেসময় ছাত্র আন্দোলনের সপক্ষের শিল্পীদের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে।

    সম্প্রতি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এক সিনেমায় কাস্টিং করল, পরিচালক বাসায় এসে গল্প শোনালেন, জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুটিং। চরিত্র নিয়ে ভাবনা শুরু হলো, অনেকদিন পর শুটিং করব, ভালোলাগা শুরু হলো। অফিসিয়াল ফরমালিটিস কমপ্লিট করতে হবে এমন কথা হলো, তার ৩ দিন পরই পত্রিকায় দেখলাম এক বিদেশি অভিনেত্রীকে কাস্টিং করা হয়েছে আমার জায়গায়!’

    ‘ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হবে, সেখানে কোনো না কোনো দায়িত্বে থাকার কথা ছিল। আগেও ছিলাম। পরে শুনলাম দায়িত্ব তো দূরের কথা, ফেস্টিভ্যালে আমি না গেলেই নাকি ভালো! এক আপার মেয়ের বিয়ে। গায়ে হলুদ, রং খেলা, বিয়ে, বউভাত। কতশত প্ল্যান! আরেক আমন্ত্রিত অভিনেত্রী গেস্ট বললেন জ্যোতিকা জ্যোতি এলে তিনি আসবেন না-যোগ করেন তিনি।

    এখন নিজের বাসস্থান নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন জানিয়ে জ্যোতি আরও লিখেছেন, ‘এপ্রিলে এক নতুন বাসায় শিফট করলাম। আমার কুকুর আছে বলে নিলাম। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করলেন কোনো সমস্যা নেই। বরং আমার পরিচয় তার বাসার ভাড়াটিয়া হিসেবে তাকে আরও গর্বিত করবে বলে জানালেন। জুলাইয়ে যখন দেশে তুমুল গণ্ডগোল তখন বড়িওয়ালা বললেন আমার নিরাপত্তার দায়িত্ব তার। আগস্টের ৬ তারিখ জানালেন, আমাকে নিয়ে সমস্যা হচ্ছে তাই আমি যেন কুকুর নিয়ে বাসার নিচে না যাই। তবে তার কথায় মনে হলো বাসা ছেড়ে দিলেই ভালো।’

    অবশেষে বাড়িওয়ালা একদিনের নোটিশে বের করে দিলেন উল্লেখ করে জ্যোতি লিখেছেন, ‘১৬ আগস্ট আমাকে ফোন করে বললেন আমি যেন আগামীকালই বাসা ছেড়ে দিই। তিনি কিছুতেই আমাকে সময় দিতে রাজি না। এক দিনের মধ্যে ওই বাসায় মালপত্র রেখে আমি আমার কুকুর নিয়ে একটি গেস্ট হাউজে প্রায় ১৩ দিন থেকে নতুন বাসা নিলাম। আমার এক বন্ধুকে পাঠিয়ে মালপত্র সরালাম দিন দশেক পর। কিন্তু তিনি আমার ২ মাসের এডভান্স ফেরত দিলেন না।’

    প্রসঙ্গত, হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জ্যোতি আওয়ামী লীগের দলীয় পদের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালকের পদেও ছিলেন। তবে সরকার পরিবর্তনের পর শিল্পকলার চাকরি হারাতে হয়েছে তাকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আমরা কী করেছি যে এ কথা শুনতে হবে: জ্যোতি

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। এরপর থেকেই সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না ছোটপর্দার অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতির। জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় ‘আলো আসবেই’ নামক আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিল্পীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সক্রিয় থাকায় বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। 

    এর পরপরই শিল্পকলা একাডেমি থেকে চাকরি হারান জ্যোতি। ব্যক্তিগত জীবনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরব থাকায় সরকার পতনের পর নানাভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এ অভিনেত্রী। বিষয়গুলো নিয়ে সম্প্রতি একটি ফেসবুকে লাইভে হাজির হন জ্যোতি। 

    যেখানে শুরুতেই ‘আলো আসবেই’ গ্রুপ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এ অভিনেত্রী। জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, এতদিন কথা বলিনি। কিন্তু আর চুপ থাকতে পারলাম না। কারণ, আমিসহ ওই গ্রুপের সবাইকে সামাজিক কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপনই করতে পারছি না। বলতে পারেন সামাজিক হেনস্তার শিকার হচ্ছি। তিনি বলেন, তাই একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে আমি আমার বিষয়টি পরিষ্কার করতে ফেসবুক লাইভে এসেছি।

    জ্যোতি বলেন, যারা ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে ছিলেন, তাদের দুটি তকমা দেওয়া হচ্ছে। একটি হলো— স্বৈরাচারের দোসর, আরেকটি হলো— গণহত্যার ইন্ধনদাতা! এ দুটি কথার মানে কি আপনারা জানেন? আমরা কি করেছি যে, এ ধরনের কথা শুনতে হবে? 

    জ্যোতি বলেন, আমি আজ থেকে আরেকটি বারের জন্যও এ অপবাদ নিজের কাঁধে নিতে চাই না বলেই কথাগুলো বলতে এসেছি। এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম তার কোনো প্রমাণ আপনাদের কাছে আছে? না থাকলে এসব কথা কেন বলছেন? আপনারা কি জানেন, এ ধরনের অপবাদ মানুষের ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলে? আমি তার সহ্য করতে না পেরে আজ কথাগুলো বলছি।

    জ্যোতি আরও বলেন, একে তো আমি নারী, আজকাল দেশে নারীদের কোনো সম্মান নেই। তার ওপর আমি অভিনেত্রী, তাতে তো আমাকে নিয়ে বাজে কথা বলা আরও সহজ! সেই সাথে আমি হিন্দু, আমি অন্যায় দেখলে মুখ বন্ধ রাখি না— এই সবকিছুতেই তো আপনাদের সমস্যা। এ জন্য এমনিতেই নানা ধরনের চাপের মধ্যে আছি। কিন্তু যে কাজের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই তার জন্য দয়া করে আমাকে অপবাদ দিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করবেন না। এটুকু অনুরোধ থাকলো সবার প্রতি।’

    ওই গ্রুপে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা শিল্পীরাই ছিলেন— জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, যেসব শিল্পী আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন, তারাই ওখানে ছিলেন। ইনিয়ে-বিনিয়ে বলব না যে, আমাকে কেন অ্যাড করেছে, কে অ্যাড করেছে জানি না। সবকিছু জেনেশুনেই ছিলাম। কারণ আমি জানতাম, ওই গ্রুপের এমন কোনো উদ্দেশ্য নেই, যা আমাদের দেশের বা দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। দু-একটা কথা হয়তো আপনারা ক্ষতিকর মনে করছেন। কিন্তু সেই কথাগুলো কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, সেটা আপনারা জানেন না। কোনো শিল্পী কখনই মানুষ হত্যার সমর্থন করতে পারে না, এটা আপনারা ভুলে গেছেন।

    আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন উল্লেখ করে জ্যোতি বলেন, ‘আমি সেই সময় দুটি প্রোগ্রামে গেছি। একটি বিটিভিতে হামলার প্রতিবাদ করতে, অন্যটি আন্দোলনে যে ছাত্ররা আহত হয়েছেন, তাদের হাসপাতালে দেখতে। কিন্তু আপনারা ছাত্রদের দেখতে যাওয়ার বিষয়টি কেউ সামনে আনলেন না, আনলেন বিটিভির বিষয়টি। আমরা তো সেখানে গিয়েছিলাম সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলতে। এটা তো দোষের কিছু নয়। আমরা সবসময় বলে এসেছি যে, এই ধরনের ধংসযজ্ঞ ছাত্ররা করতে পারে না। ছাত্রদের মধ্যে একদল সুবিধাবাদী ঢুকে গিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করেছে। তাহলে আপনারা কেন আলো আসবেই গ্রুপের শিল্পীদের ছাত্রদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন? অহেতুক আপনারা এই গ্রুপটিকে নিয়ে নানা রঙচঙ মাখিয়ে শিল্পীগুলোকে ক্ষতির মুখে ফেলেছেন।’

    প্রসঙ্গত, জ্যোতিকা জ্যোতি ছাড়াও সেই গ্রুপে ছিলেন অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও সাংবাদিক। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন— রোকেয়া প্রাচী, সোহানা সাবা, অরুণা বিশ্বাস, ফেরদৌস, রিয়াজ আহমেদ, সুবর্ণা মুস্তাফা, আজিজুল হাকিম, স্বাগতা, বদরুল আনাম সৌদ, শমী কায়সার, তানভীন সুইটি, আশনা হাবীব ভাবনা, জামশেদ শামীম, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, সাজু খাদেম, হৃদি হক, দীপান্বিতা মার্টিন, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, লিয়াকত আলী লাকী, নূনা আফরোজ, রোকেয়া প্রাচী, রওনক হাসান, আহসানুল হক মিনু, পরিচালক গুলজার, নির্মাতা এস এ হক অলীকসহ অনেকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • চাকরি হারালেন আন্দোলনকারীদের ‘টোকাই’ বলে ব্যঙ্গ করা সেই জ্যোতি

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ‘টোকাই বলে ব্যঙ্গ করা অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতিকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে শিল্পকলা একাডেমি।

    জ্যোতি ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমির চুক্তিভিত্তিক আরও চারজন পরিচালককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের চুক্তি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ থেকে জ্যোতিকা জ্যোতি দুই বছরের চুক্তিতে একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। 

    সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব নিলুফার ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্যোতিকা জ্যোতির অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জ্যোতি ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমির চুক্তিভিত্তিক আরও চারজন পরিচালককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    ফেসবুকে অব্যাহতির প্রজ্ঞাপনের একটি ছবি পোস্ট করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো আমার প্রথম সরকারি চাকরি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমার চাকরির মেয়াদ থাকার পরও আমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আজ (১ অক্টোবর) থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক পদের দায়িত্বে আমি আর নেই।’

    জ্যোতি বলেন, ‘দেড় বছরের এই যাত্রায় নতুন নতুন অভিজ্ঞতায় আমাকে যারা ঋদ্ধ করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

    গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পরিস্থিতি বিবেচনায় আর কর্মস্থলে উপস্থিত হননি তিনি। সম্প্রতি শিল্পকলায় নতুন মহাপরিচালক হিসেবে সৈয়দ জামিল আহমেদের নিয়োগ হওয়ার খবর পেয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিজ কর্মস্থলে গেছেন জ্যোতি। সেখানে গিয়ে সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন এই অভিনেত্রী। এরপরই পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি পান জ্যোতিকা জ্যোতি।

    প্রসঙ্গত গণঅভ্যুত্থানে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন জ্যোতি। আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে ‘আলো আসবেই’ নামে হোয়াটসআপ গ্রুপে যুক্ত হয়ে সরব ছিলেন তিনি। ছাত্র–জনতার ওপর দমন–পীড়ন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সাফাই গাইতে দেখা গেছে তাকে। 

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • সিনা টান করে বেরিয়ে এসেছি: জ্যোতি

    সহকর্মীদের তোপের মুখে শিল্পকলা একাডেমি ছেড়ার পর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি বলেছেন, তিনি সিনা টান করে, মাথা উঁচু করেই সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছেন। 

    মঙ্গলবার মধ্যরাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমনটা জানিয়েছেন তিনি। যদিও এর আগে এক ফেসবুক লাইভে এসে শিল্পকলা একাডেমিতে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য কাঁদতে দেখা যায় তাকে। 

    সে সময় তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমিতে তাকে অপমান করা হয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, ‘এতবছর ধরে আমি অভিনয় করছি। কখনো দেশ ছেড়ে বাহিরে চলে যাওয়ার কথাও চিন্তা করিনি। তবুও এই অপমান কি আমার প্রাপ্য ছিল? কোনো দলের সমর্থক ছিলাম বলে কি দেশটা আমার নয়? আমি তাহলে কোথায় যাব? এই প্রশ্ন আপনাদের কাছে রেখে গেলাম।’

    এরপর এদিন রাতেই এক স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী জানান, কিছু পত্র-পত্রিকা ও টিভি মিডিয়ায় নানান ভুলভাল তথ্য ছড়াচ্ছে। তাই তুলে ধরলাম ইতিহাস-

    ‘প্রায় দুইমাস পর আজ অফিসে গেলাম,এই দুইমাস অফিসে যাবার প্রয়োজন ও পরিস্থিতি ছিলো না বলে যাওয়া হয়নি। অফিস করার জন্য মন অস্থির হয়ে ছিল। দুপুর ১টার দিকে একজন নতুন স্টাফ আমার সাথে সেলফি তুলতে চাইলে নিজেও দুটো ছবি তুললাম।

    তখনই শুরু হট্টগোল। কানে আসলো অফিসের একটা গ্রুপ আমিসহ অন্য পরিচালকদের অফিস করতে দিবে না। তাই বাজে পরিস্থিতি এড়াতে অফিসের কেউ কেউ দ্রুত চলে যেতে বললো। আমি কখনো পলায়নপর না এবং এমন কোন কিছু জীবনে করি না যে কোথাও থেকে মাথা নীচু করে বের হতে হবে। তাই সিচুয়েশনটা ফেস করতে চাইলাম। 

    ততক্ষনে সাংবাদিকরা ফোন করা শুরু করেছে এবং জানতে চাচ্ছে যে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কি না। কারণ শিল্পকলা থেকে তাদেরকে এমনটাই জানানো হয়েছে। আমি জানালাম, এমন কিছু আমি জানিনা।

    এরপর ২টার দিকে ডিজি মহোদয় মিটিং সেরে দপ্তরে আসলে তার সাথে কথা বলার জন্য রুম থেকে বেরিয়ে লবির দিকে এগিয়ে আসতেই দেখলাম, এক জটলা সহকর্মী আমার দিকে হিংস্র, আক্রমণাত্মক, শকুন চোখে তাকিয়ে আছে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। বুঝলাম, আমাকে সরানোর জন্যই এই আয়োজন। আমি কোনদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে ডিজির দিকে এগিয়ে গেলাম। তিনি সবাইকে শান্ত করে অমাকে চলে যেতে বললেন। ডিজির কথা মেনে আমি ব্যাগপত্র নেওয়ার জন্য রুমে ঢুকলাম।

    একটু পর সেই লোভী কাকের মতো অফিসাররা আবার আমার রুমের দরজায় এসে ভিড় করলো। তখন সচিব স্যার এসে বললেন দ্রুত বেরিয়ে যেতে। আমিও কাকদের বললাম, আমি পরিচালক থাকবো কী থাকবো না সেটা মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত আসবে। সে অনুযায়ী আমি কাজ করে যাবো। 

    এই ফাঁকে কোনো একজন আমার রুমের দরজার লক ভাঙলো। আমি আমার ব্যক্তিগত অল্পকিছু জিনিস যেমন- ডায়েরি, মায়ের ছবি এসব গুছাতে গুছাতে মনে হলো, এরা আমাকে বিপাকে ফেলার জন্য অনেক কিছুই করতে পরে। তাই আমার যা যা সাথে নিলাম তার সবকিছুই তাদের দেখালাম, এমনকি আমার স্যানিটারি প্যাডের প্যাকেট উচিয়েও জিজ্ঞেস করলাম এটা আমি নিতে পারবো কি না।

    সচিব স্যার আবার বেরিয়ে যাবার তাগিদ দিলো। আমি স্যারের সাথে বেরিয়ে আসলাম। নীচে এসে আমার বিভাগের উপপরিচালককে সচিব স্যার দায়িত্ব দিলেন গেট অব্দি পৌঁছে দেবার। সিনা টান করে, মাথা উঁচু করে বেরিয়ে এলেও রাস্তায় এসে চোখের পানি আটকে রাখতে পারছিলাম না। কেন তার কারণ জানিনা! 

    যারা আতংকগ্রস্থ হয়ে আমার খবর নিয়েছেন, তাদের জন্য ভালোবাসা। আজ আমার প্রত্যেক সাংবাদিক বন্ধুরা যারা ফোন করেছেন বা নক করেছেন, পেশাদারিত্বের সাথে যে সহমর্মিতার পরিচয় দিয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • শিল্পকলা থেকে বিতাড়িত হয়ে ভেঙে পড়েছেন ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের জ্যোতি

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন আওয়ামীপন্থি শিল্পীরা। তারা শুরু থেকেই আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। এসব শিল্পীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। 

    ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গোপন এই গ্রুপের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠে। এরপর ‘আলো আসবেই’ গ্রুপ নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন অনেক শিল্পী। তবে সবাই তোপের মুখে পড়েন। গ্রুপে থাকার কথা স্বীকার করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন জ্যোতিও। 

    সেই সমালোচনার রেশ না কাটতেই মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে ফের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামীপন্থি শিল্পী জ্যোতি। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এই অভিনেত্রী দুপুর ১২টার দিকে অফিসে প্রবেশ করেন। সেখানে নতুন মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। এরপর রুম থেকে বের হতেই সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন জ্যোতি। একপর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। 

    ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে আসেন জ্যোতি। শিল্পকলা একাডেমিতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমিতে পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলাম। এখনো আমার মেয়াদ শেষ হয়নি এবং নিয়োগ বাতিলেরও কোনো প্রক্রিয়া এখনো হয়নি। সুতরাং আমার চাকরিটা আছে। গত দুই মাস ধরে দেশে যা চলছে, তারপর থেকে শিল্পকলা একাডেমির অফিসের কাজ মোটামুটি বন্ধই বলা যায়। সপ্তাহখানেক হয়েছে নতুন ডিজি এসেছেন, তাই আমার মনে হয়েছে আমার অফিসে যাওয়া উচিত। যদিও সচিব স্যারের, পরামর্শ ছিল- আমি যাতে এখন শিল্পকলায় না যাই। কিন্তু আমার চাকরি এখনো আছে। আমারও ভালো লাগছিল না, তাই গিয়েছিলাম।’

    তিনি বলেন, ‘শিল্পকলায় যাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে অনেক সাংবাদিক ফোন করে জানতে চাচ্ছিলেন, আমার অবস্থা সম্পর্কে। কারণ তারা জানতে পেরেছেন, আমাকে নাকি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমি তখনো বিষয়টি জানি না। আমার আরেক সহকর্মী ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, চলো বেরিয়ে যাই। আমি তাকে বলি, আমার চাকরি তো শেষ হয় নাই, তাহলে আমি কেন যাব? প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ বাতিল হলে অবশ্যই আমি আর আসব না।’

    শিল্পকলা একাডেমির ডিজির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘আমি যখন শিল্পকলায় যাই তখন ডিজি স্যার একটা মিটিংয়ে ছিলেন। এরপর উনি যখন বের হন, তখন আমি ওনার সঙ্গে দেখা করার জন্য বের হই। বেরিয়ে দেখি শিল্পকলায় অনেক লোকজন। অনেকে চেচামেচি করছে। আমি ডিজি স্যারের সঙ্গে দেখা করলাম। স্যার বললেন, দেখেন এই অবস্থা। এর মধ্যে অফিসে কেন এসেছেন? আপনারা বরং চলে যান, পরিস্থিতি সামলাতে দেন। পরে এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয় সে মোতাবেক কাজ করবেন।’

    ‘ডিজি স্যারের সঙ্গে কথা বলে লবিতে ফিরে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু উনারা কোনো কথা বলবেন না। শুনতে পেলাম, আরও লোকজন খবর দেওয়া হয়েছে। আমাদের আটকে রাখবে বা কিছু করবে। আমার খুব অবিশ্বাস্য লাগছিল, সবার মুখ অপরিচিত লাগছিল। কারণ এরাই আমার সহকর্মী ছিলেন!’

    অফিসে জ্যোতিকা জ্যোতির ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিল। চলে আসার সময়ে সেসব জিনিস নিয়ে আসেন। কিন্তু উপস্থিত সহকর্মীদের সেসব জিনিসপত্র দেখিয়ে তারপর শিল্পকলা একাডেমি থেকে বের হন জ্যোতি।

    লাইভের একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই অভিনেত্রী। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এতবছর ধরে আমি অভিনয় করছি। কখনো দেশ ছেড়ে বাইরে চলে যাওয়ার কথাও চিন্তা করিনি। তবুও এই অপমান কি আমার প্রাপ্য ছিল? কোনো দলের সমর্থক ছিলাম বলে কি দেশটা আমার নয়? আমি তাহলে কোথায় যাব? এই প্রশ্ন আপনাদের কাছে রেখে গেলাম।

    জ্যোতি আরও বলেন ‘আমাকে নিয়ে অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন, আমি ঠিক আছি কিনা, তা জানতে চাইছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমি ঠিক আছি। তবে মানসিকভাবে কবে ঠিক হবো জানি না। আমার সঙ্গে যা হয়েছে এই চাপ আমি কীভাবে সামলাব জানি না। আমার এই চাকরিটা থাকছে না। তাহলে আমি কোথায় যাব?’

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • ‘জ্যোতিরা রক্ত ঝরার জন্য দায়ী, তাদের আমরা সহকর্মী হিসেবে চাই না’

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আজ নিজ কর্মস্থল শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। একপর্যায়ে শিল্পকলা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

    মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমবার শিল্পকলা একাডেমিতে যান জ্যোতি। অভিনেত্রী অফিসে প্রবেশের পরই সহকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তিনি বাধ্য হয়ে শিল্পকলা একাডেমি থেকে চলে আসেন।

    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর আইরিন পারভীন লোপা গণমাধ্যমকে বলেন, জ্যোতি অফিসে আসায় আমরা হতবাক হয়েছি। তিনি কীভাবে অফিসে আসেন, যিনি স্বৈরাচার সরকারের হয়ে কথা বলেছেন। যারা সরাসরি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে উৎসাহিত করেছেন, যারা রক্ত ঝরার জন্য দায়ী, তাদের আমরা সহকর্মী হিসেবে চাই না।

    তিনি আরও জানান, জ্যোতি আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর অফিসে প্রবেশ করেন। আসার পরই বাইরে বিভিন্ন বিভাগের সহকর্মীদের জড়ো হতে দেখে জ্যোতি দরজা বন্ধ করে দেন। 

    ‘আমরা তাকে বলেছি অফিস থেকে চলে যেতে। কারণ, তিনি “আলো আসবেই” নামে একটি গ্রুপে যুক্ত হয়ে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে কথা বলেছেন। এমন লোক আমরা দেখতে চাই না’।

    জ্যোতির সঙ্গে কী কথা হয়েছে-জানতে চাইলে আইরিন পারভীন বলেন, এখনো তিনি নিজেকে সরকারের নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা ভাবছেন। তার অধিকার রয়েছে অফিসে আসার। যে সরকার নেই, সেই সরকারের দাপট দেখাচ্ছেন। আমরা তাকে সসম্মানে চলে যেতে বলেছি।

    গণঅভ্যুত্থানে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন জ্যোতি। আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে ‘আলো আসবেই’ নামে হোয়াটসআপ গ্রুপে যুক্ত হয়ে সরব ছিলেন তিনি। 

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • সহকর্মীদের তোপের মুখে শিল্পকলা ছাড়লেন জ্যোতি

    শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে ‘আলো আসবেই’ নামে হোয়াটসআপ গ্রুপে যুক্ত হয়ে সরব ছিলেন তিনি। 

    ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর মঙ্গলবার প্রথমবার শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়েছিলেন জ্যোতি। কিন্তু অভিনেত্রী অফিসে প্রবেশের পরই সহকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। 

    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর আইরিন পারভীন লোপা গণমাধ্যমকে বলেন, জ্যোতি অফিসে আসায় আমরা হতবাক হয়েছি। তিনি কীভাবে অফিসে আসেন, যিনি স্বৈরাচার সরকারের হয়ে কথা বলেছেন। যারা সরাসরি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করতে উৎসাহিত করেছেন, যারা রক্ত ঝরার জন্য দায়ী, তাদের আমরা সহকর্মী হিসেবে চাই না।

    তিনি আরও জানান, জ্যোতি আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর অফিসে প্রবেশ করেন। আসার পরই বাইরে বিভিন্ন বিভাগের সহকর্মীদের জড়ো হতে দেখে জ্যোতি দরজা বন্ধ করে দেন। 

    ‘আমরা তাকে বলেছি অফিস থেকে চলে যেতে। কারণ, তিনি “আলো আসবেই” নামে একটি গ্রুপে যুক্ত হয়ে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে কথা বলেছেন। এমন লোক আমরা দেখতে চাই না’।

    জ্যোতির সঙ্গে কী কথা হয়েছে-জানতে চাইলে আইরিন পারভীন বলেন, এখনো তিনি নিজেকে সরকারের নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা ভাবছেন। তার অধিকার রয়েছে অফিসে আসার। যে সরকার নেই, সেই সরকারের দাপট দেখাচ্ছেন। আমরা তাকে সসম্মানে চলে যেতে বলেছি।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে জ্যোতি রুম থেকে বের হয়ে যান। গত বছর মার্চ থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালকের দায়িত্ব পান জ্যোতিকা জ্যোতি।

    এদিকে দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে জ্যোতিকা জ্যোতি বলেন, তিনি সচিবের পরামর্শ অনুযায়ী অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু অফিসে গিয়ে দেখেন পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত। মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে তিনি অফিস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    তিনি বলেন, আমার রুমে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত জিনিস ব্যাগে ভরি। তখন লবিতে গিয়ে বাইরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিন্তু তারা কথা বলতে চান না। ওই মুখগুলো আগে পরিচিত থাকলেও সেই মুখগুলো আজ খুব অপরিচিত লাগছিল।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • আন্দোলনকারীদের ‘টোকাই’ বলে ব্যঙ্গ করেন জ্যোতিকা জ্যোতি

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদেরকে ‘টোকাই বলে ব্যঙ্গ করেছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতিকে। 

    rnrn

    আন্দোলনের সময় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও দলটির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শিল্পীদের কথোপকথনের যে স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে জ্যোতি এমন মন্তব্য করেছেন। 

    rnrn

    অভিনেত্রী জ্যোতিকে লিখতে দেখা গেছে, ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগুন। ফায়ার সার্ভিস ও গণমাধ্যমকে ঢুকতে দিচ্ছে না টোকাই জামাত শিবিরের মেধাবী আন্দোলনকারীরা।’

    rnrn

    তখন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস বলেছেন, ‘গরম জল দিলেই হবে।’

    rnrn

    মঙ্গলবার দুপুরে ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের কয়েকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচনার ঝড় উঠে।

    rnrn

    নির্মাতা ইমেল হক একাধিক স্ক্রিনশট ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘অরুণা বিশ্বাস এবং সোহানা সাবার এখন কথা ফুটছে। অথচ আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে এরা কী ধরনের আলাপ করত তার দুইটা নমুনা দিলাম।…’

    rnrn

    এই গ্রুপের অ্যাডমিন ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, চিত্রনায়ক রিয়াজ, অভিনেতা সাজু খাদেম ও অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি। গ্রুপটিতে সক্রিয় ছিলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। 

    rnrn

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি স্ক্রিনশট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গ্রুপের সদস্যরা আন্দোলনের বিপক্ষে সরব ছিলেন। আন্দোলনকারী ও আন্দোলনের পক্ষে থাকা নির্মাতা ও শিল্পীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিলেন তারা। আন্দোলনকারীদের বিষোদগার করেছেন ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের শিল্পীরা।

    rnrn

    কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিল্পী ও নির্মাতাদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থীদের পক্ষে রাজপথে ছিলেন। পুলিশের গুলিতে একের পর এক শিক্ষার্থীর নিহতের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন বহু শিল্পী–নির্মাতা। ছাত্র–জনতার ওপর দমন–পীড়ন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সাফাই গাইতে দেখা গেছে অল্প কয়েকজন শিল্পীকে; মূলত তাঁরাই ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের সদস্য ছিলেন।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • নতুন জীবনে কেমন আছেন জ্যোতি

    অভিনেত্রী হিসাবেই পরিচিত ও জনপ্রিয় জ্যোতিকা জ্যোতি। গত মাস থেকে ‘চাকরীজীবী’ পেশাও যুক্ত হয়েছে তার নামের পাশে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক পদে যোগ দিয়েছেন তিনি।

    rnrn

    প্রতিষ্ঠানটির ‘প্রকাশনা ও গবেষণা’ বিভাগের পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ১৫ মার্চ থেকে।

    rnrn

    কেমন কাটছে চাকরী জীবন? জানতে চাইলে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘অভিনয় জীবনটা এক রকম, আর এ চাকরি জীবন আরেক রকম। একাডেমির প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করছেন।

    rnrn

    আমি সব সময়ই ক্রিয়েটিভ কাজ করতে পছন্দ করি। আমার ভালোলাগে প্রকাশনা ও গবেষণা বিষয়টি। প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করছি।’

    rnrn

    এদিকে সময় পেলে অভিনয়ও করছেন তিনি। এরই মধ্যে তাজু কামরলের পরিচালনায় ছয় পর্বের ওয়েব সিরিজ ‘অমানবিক’র কাজ শেষ করেছেন। শিগ্গির তার একটি সরকারি অনুদানের সিনেমার কাজ শুরু করারও কথা রয়েছে।

    rnrn

     

    আনন্দনগর প্রতিবেদক