Tag: জুবিন গার্গ

  • জুবিনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যা জানাল সিঙ্গাপুর পুলিশ

    গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও অভিনেতা জুবিন গার্গ। মৃত্যুর পর থেকেই এর সঠিক কারণ কি সেটা নিয়ে রহস্য যেন শেষই হচ্ছিল না। অবশেষে সেই রহস্যই উদঘাটন করেছে সিঙ্গাপুর পুলিশ। 

    সম্প্রতি দেশটির পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জুবিনের মৃত্যু কোনো হত্যাকাণ্ড নয়; এটি ছিল একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা। সমুদ্রে নেমে লাইফ জ্যাকেট পরতে অস্বীকার করাই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

    গত বছর সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করতে সে দেশে যান আসামের সংগীতজগতের এই কিংবদন্তি। কিন্তু তার পারফর্মের ঠিক আগের দিন সেখানে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যু হয় তার। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কোরোনার কোর্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্যই উঠে এসেছে। 

    তদন্তে বলা হয়, জুবিন প্রথমে লাইফ জ্যাকেট পরলেও পরে তা খুলে ফেলেন। দ্বিতীয়বার লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হলেও তিনি তা পরতে অস্বীকার করেন এবং একা লাজারাস আইল্যান্ডের দিকে সাঁতার কাটতে শুরু করেন। সেখানে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে ইয়টের দিকে ফিরতে গিয়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে ভেসে যেতে থাকেন এবং তার মুখ পানির মধ্যে ছিল। সেখান থেকে দ্রুত উদ্ধার করে সিপিআর দেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সিঙ্গাপুর পুলিশ জানায়, জুবিনের উচ্চ রক্তচাপ ও মৃগী রোগের ইতিহাস ছিল। দুর্ঘটনার দিন তিনি নিয়মিত ওষুধ নিয়েছিলেন কিনা, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অটোপসি রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ড্রাউনিং’ বা ডুবে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকালে শরীরে যে আঘাতগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো সিপিআর বা উদ্ধার কার্যক্রমের সময়ের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। 

    প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ইয়টে প্রায় ২০ জন উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে খাবার, পানীয় ও অ্যালকোহল পরিবেশন করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জুবিনও অ্যালকোহল গ্রহণ করেছিলেন। টক্সিকোলজি রিপোর্টে তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা পাওয়া যায় ৩৩৩ মিলিগ্রাম প্রতি ১০০ মিলিলিটার-যা গুরুতর মাতাল অবস্থার ইঙ্গিত দেয় এবং সমন্বয় ও প্রতিক্রিয়াশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। 

    সিঙ্গাপুর পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি এবং এই গায়কের মৃত্যু সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত কারণে হয়েছে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • জুবিন গার্গের স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি

    সদ্য প্রয়াত ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ–এর স্ত্রী গারিমা সাইকিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বামীর মৃত্যু ও তার পরবর্তী তদন্ত ঘিরে মানসিক চাপের কারণেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

    জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে গারিমাকে দ্রুত গুয়াহাটির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, শোক আর অবসাদে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ঘুম না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

    হাসপাতালে গারিমার রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি ও আলট্রাসাউন্ডসহ বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসক ব্রজেন লখর–এর তত্ত্বাবধানে আছেন। যদিও তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল, তবুও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কবে ছাড়পত্র দেওয়া হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    জানা গেছে, জুবিনের মৃত্যুর পর তার অসমাপ্ত শেষ সিনেমা ‘রই রই বিনালে’–এর মুক্তির প্রস্তুতি নিয়েই দিনরাত ব্যস্ত ছিলেন গারিমা। স্বামীর শোক সামলাতে না পেরে এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তিনি।

    গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত নর্থ–ইস্ট ফেস্টিভ্যালে সাঁতার কাটার সময় আকস্মিকভাবে মারা যান সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ। তার এই অকাল মৃত্যুর পর আসামজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া, যা থেকে এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার পরিবার ও অনুরাগীরা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • শেষ সিনেমা নিয়ে চিঠিতে কি লিখেছিলেন জুবিন গার্গ?

    সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, সুরকার ও অভিনেতা জুবিন গার্গ সম্প্রতি মারা গেছেন। আসামের অকাল প্রয়াত এ গায়কের শেষ সিনেমা ‘রই রই বিনালে’ শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) আসমে মুক্তি পেয়েছে। এখানে জুবিন গার্গ অন্ধ সংগীতশিল্পীর চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন।

    সিনেমাটি আসামের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দারুণ সাড়া ফেলেছে। এদিকে সেই সিনেমা মুক্তির ঠিক আগে জুবিনের হাতে লেখা চিঠি শেয়ার করেছেন স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গার্গ।

    জুবিনের একটি স্কেচ ও তার লেখা হস্তলিখিত বার্তা সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন গরিমা শইকিয়া গার্গ। বার্তায় লেখা ছিল, ‘Roi Roi Binale. Mur notun cinema. Sabole aahibo. ‘Morom’. Zubeen da। এর বাংলা অর্থ দাঁড়ায়— আমার নতুন সিনেমা। সবাই আসবেন। ‘ভালোবাসাসহ’। জুবিন দা।’

    পোস্টে গরিমা শইকিয়া গার্গ লিখেছেন, ১৫ সেপ্টেম্বর তুমি যেসব চিঠি লিখেছিলে…। তোমার প্রতিটি শব্দ হৃদয়কে আঘাত করে, গোল্ডি! কিন্তু সবকিছুর মাঝে ফাঁকা বুকে এক ধরনের জ্বলন আছে। আরেকটি প্রশ্ন— ১৯ সেপ্টেম্বর কি ঘটেছিল? কীভাবে, কেন? আমি জানি না কোথায় শান্তি আছে। কিন্তু এই উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত শ্বাস নিতে ইচ্ছে করছে না।

    পিটিআই অনুসারে, মুক্তি পাওয়া ‘রই রই বিনালে’ সিনেমাটি আগামী সপ্তাহের প্রতিটি শোর টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। প্রচুর চাহিদার কারণে আরও প্রদর্শনী যোগ করা হয়েছে। কিছু থিয়েটারে দিনে সাতটি শো পর্যন্ত আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথম শো ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে।

    উল্লেখ্য, জুবিন গার্গ একজন সংগীতশিল্পী হলেও মাঝে মধ্যে অভিনয়ও করে থাকেন।  মুক্তি পাওয়া ‘রই রই বিনালে’ সিনেমায় তিনি একজন অন্ধ সংগীতশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ সিনেমায় ১১টি গান রয়েছে। সব গানই জুবিন নিজেই রচনা করেছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে জুবিনকে, বিস্ফোরক দাবি ব্যান্ড সদস্যের

    প্রখ্যাত ভারতীয় গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে জলঘোলা যেন থামছেই না। এবার তার ব্যান্ড সদস্য এবং মূল সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী জুবিনকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ এনেছেন। গোস্বামী তার ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা এবং ইভেন্ট ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্তের বিরুদ্ধে এই হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিমান্ড নোটে গোস্বামী দাবি করেছেন, জুবিন গার্গের মৃত্যু একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। হত্যাকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর জন্যই সিঙ্গাপুরের একটি নিরিবিলি স্থান, বিশেষ করে প্যান প্যাসিফিক হোটেলকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।

    ভারতের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০তম বার্ষিকী এবং ভারত-আসিয়ান পর্যটনবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন ৫২ বছর বয়সি জুবিন গার্গ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি দ্বীপের কাছে সাঁতার কাটার (স্কুবা ডাইভিং) সময় ডুবে গিয়ে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    রিমান্ড মেমোর বরাত দিয়ে নিউজ ১৮ বলেছে, মূল সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ করেছেন। গোস্বামী দাবি করেন, যখন জুবিনের মুখ ও নাক দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল, তখন ম্যানেজার শর্মাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘যাব দে, যাব দে’ (যেতে দাও)। শর্মা তখন জরুরি চিকিৎসাসহায়তা না দিয়ে কেবল ‘অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স’ বলে উড়িয়ে দেন। সাক্ষীরা মনে করছেন, এই অবহেলা জুবিনের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে।

    গোস্বামী জোর দিয়ে বলেন, জুবিন ছিলেন ‘দক্ষ সাঁতারু’। ফলে তার স্বাভাবিকভাবে ডুবে যাওয়ার কোনো কারণ ছিল না। গোস্বামী আরও অভিযোগ করেছেন, শর্মা তাকে ইয়ট দুর্ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ শেয়ার না করার নির্দেশ দিয়ে প্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

    জুবিন গার্গের মৃত্যুসংক্রান্ত ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট চারজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন—জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ইভেন্ট ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্ত, ব্যান্ড সদস্য ও মূল সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং আরেকজন সহশিল্পী (ব্যান্ড সদস্য)।

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক