Tag: চীন

  • মাত্র ৬ হাজার টাকায় নির্মিত সিনেমার আয় ২৬ কোটি টাকা!

    এতটাই বাজে সিনেমা যে, মানুষ তা দেখতে এখন প্রেক্ষাগৃহে লাইন দিচ্ছে! এমনই এক অভিনব ঘটনার জন্ম দিয়েছে চীনের স্বল্প বাজেটের অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নিউ লাই’। 

    একটি গরুর স্বপ্নের অদ্ভুত কাহিনি এবং অত্যন্ত নিম্নমানের গ্রাফিক্সের জন্য নেটদুনিয়ায় ট্রোলের শিকার হয়ে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গেছে সিনেমাটি, আর তাতেই রকেট গতিতে বেড়েছে এর টিকিট বিক্রি। অথচ ছবিটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে মোটে ৪৭ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৭০০ টাকা)।

    মুভি ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘মাও ইয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম ১০ দিনে ছবিটির আয় ছিল মাত্র ৭,৭০৫ ইউয়ান (প্রায় ১,১৪০ ডলার)। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। 

    কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরুর পর ইতোমধ্যে চলচ্চিত্রটির মোট আয় ১৪.৯ মিলিয়ন ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা) ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে ‘দ্য ওডিসি’ কিংবা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-র মতো হলিউড ব্লকবাস্টার ছবির সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে এই স্বল্প বাজেটের সিনেমাটি। 

    চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক জনপ্রিয় পোস্টে বলা হয়েছে, ‘সিনেমাটি দেখলে আপনি হয়তো ৮০ মিনিটের জন্য অনুশোচনা করবেন, কিন্তু না দেখলে অনুশোচনা থেকে যাবে সারাজীবনের জন্য!’ 

    বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের ছড়াছড়ি, তখন নেটিজেনদের একাংশ এই সিনেমাটিকে একটি ব্যতিক্রমী ‘প্রতিষেধক’ হিসেবে দেখছেন। এর বাজে অ্যানিমেশন কোয়ালিটিকে উপহাসের ছলে ‘হস্তশিল্প’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন দর্শকেরা। এটি যে কোনো এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং মানুষের হাতেই তৈরি—সেটিরই প্রমান হিসেবে ক্লিপগুলো শেয়ার করা হচ্ছে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবো-তে ব্যবহারকারীরা ছবিটিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। 

    ছবিটি জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে আরও এক অদ্ভুত কারণ রয়েছে। চীনে ‘ষাঁড়’ এবং ‘গরু’—দুটোকেই একই চীনা অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়। শেয়ার বাজারের চাঙ্গা ভাবকে বলা হয় ‘বুলিশ মার্জিন’। ফলে চাঙ্গা শেয়ার বাজারের প্রত্যাশায় অনেকে কেবল নামের খাতিরেই সিনেমাটিকে সমর্থন জানাচ্ছেন!

    এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘আগামীকাল সূচক যদি ৪,০০০ পয়েন্টে পৌঁছায়, তবে আমি সিনেমা হলে গিয়ে এই সিনেমাকে সমর্থন দিয়ে আসব।’ অন্য একজন মন্তব্য করেন, ‘সিনেমাটি বাজে হলেও নামটা দুর্দান্ত!’ 

    একে তো নামমাত্র বাজেটের সিনেমা, তার ওপর মুক্তির আগে কোনো বড় প্রচারণাও ছিল না। সিনেমাটি এতটা অবহেলিত ছিল যে এর কোনো অফিশিয়াল পোস্টারও প্রকাশ করা হয়নি। এখন হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়িয়েছে প্রেক্ষাগৃহগুলো। 

    মজার বিষয় হলো, ছবিটির কোনো পোস্টার না থাকায় অনেক সিনেমা হলের কর্মীরা নিজেরাই হাতে ছবি এঁকে অভিনব পোস্টার বানিয়ে দর্শকদের আকর্ষণ করছেন! 

    চলচ্চিত্র পর্যবেক্ষণকারী এক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মতে, ‘বক্স অফিসের এই রেকর্ড অভূতপূর্ব এবং হয়তো ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি আর দেখা যাবে না।’ 

    তবে সবাই কিন্তু এই অভাবনীয় সাফল্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। গত সপ্তাহের শেষে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘বেইজিং নিউজ’-এর এক সম্পাদকীয়তে এ বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এভাবে প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়িয়ে নিচু মানের সিনেমা প্রচার করতে থাকলে প্রেক্ষাগৃহগুলো দর্শকদের ‘বিশ্বাস হারাতে’ পারে।

    বেইজিং নিউজের নিবন্ধে বলা হয়, ‘অতীতে বাজে কাজের জন্য সমালোচিত হওয়া সিনেমাগুলোর মতো ‘নিউ লাই’ ছবিটির মাধ্যমে বাজে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে দর্শকদের প্রত্যাশার মান আরও এক ধাপ নিচে নেমে গেল।’ 

    এর পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহগুলোকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা আরও উল্লেখ করে, ‘সিনেমা হলগুলোর উচিত দর্শকদের জন্য সচেতন অভিভাবক হিসেবে কাজ করা। স্ট্যান্ডার্ডের নিচে থাকা এমন নিম্নমানের সিনেমাকে প্রশ্রয় না দিয়ে শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করা।’ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ৩৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে জনপ্রিয় অভিনেতা

    রোমান্টিক ড্রামা ও স্বল্পদৈর্ঘ্য সিরিজের মাধ্যমে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া চীনা অভিনেতা জিন জে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৩ বছর। অভিনেতার এজেন্সি একটি অফিশিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে খবরটি নিশ্চিত করেছে, তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। 

    অভিনেতা জিন জে-এর এজেন্সি ‘শেংশি গুয়াংনিয়ান কালচার কোং লিমিটেড’ শনিবার (৬ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, জিয়াংজি প্রদেশের হাংঝোতে অবস্থিত নিজ বাসভবনে গত ৪ জুন শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জিন জে, যার প্রকৃত নাম ছিল ঝাং জিয়াউই। 

    সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা অত্যন্ত গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের চুক্তিবদ্ধ অভিনেতা জিন জে (ঝাং জিয়াউই) ২০২৬ সালের ৪ জুন হাংঝোতে তার নিজ বাসভবনে মারা গেছেন।’ 

    বিবৃতিতে এজেন্সি তাকে একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান তরুণ অভিনেতা ও মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জিন জে, যিনি পূর্বে ঝাং জিয়াউই নামে পরিচিত ছিলেন, ১৯৯৩ সালের ৩০ জানুয়ারি শানডং প্রদেশের ওয়েইহাইতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন অসাধারণ তরুণ অভিনেতা ও মডেল ছিলেন… আমরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তার পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’ 

    এজেন্সি একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে অভিনেতার পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর জন্য জনসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এদিকে এজেন্সির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসার আগেই চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিনেতার প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যুর খবরটি অনলাইন দুনিয়ায় অন্যতম শীর্ষ আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়, যা ভক্ত এবং বিনোদন জগতের সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। 

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে তার ভক্ত ও সহকর্মীরা একের পর এক শোকবার্তা শেয়ার করতে থাকেন। সবাই তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিনয়শিল্পী এবং অত্যন্ত নম্র ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। 

    জিন জে এমন একটি সময়ে চলে গেলেন যখন তার বেশ কয়েকটি নতুন প্রজেক্ট মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘ওয়েটিং ফর দ্য ফ্লাওয়ার্স টু ব্লুম, ওয়েটিং ফর ইয়োর রিটার্ন’ নামক একটি ড্রামা, যা নিয়ে দর্শকদের মাঝে আগে থেকেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ইন্ড্রাস্ট্রির ডেটা অনুযায়ী, ‘হংগুও শর্ট ড্রামা’ প্ল্যাটফর্মে মুক্তির আগেই এই সিরিজটির জন্য ১.৪৮ মিলিয়নেরও (১৪.৮ লাখ) বেশি প্রি-রিলিজ রিজার্ভেশন বা অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছিল। 

    ১৯৯৩ সালের ৩০ জানুয়ারি শানডং প্রদেশের ওয়েইহাইতে জন্মগ্রহণ করা জিন জে অভিনয়জগতে আসার আগে বেইজিং ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। 

    শুরুতে তিনি ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে মডেল হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়েন এবং ব্যাপক পরিচিতি পান। পরবর্তীতে অভিনয়ে পদার্পণ করেন এবং টেলিভিশন ড্রামা ও রোমান্টিক সিরিজে দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। 

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বেশ কিছু জনপ্রিয় প্রজেক্টে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে হ্যালো জোয়ান, ফরগেট ইউ রিমেম্বার লাভ, বিগিন এগেইন, লিগ্যালি রোমান্স, বিউটি রিবর্ন, ডোন্ট নেগোশিয়েট উইথ ইয়োর বস উল্লেখ্যযোগ্য। 

    সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রিয় অভিনেতাকে দেখতে গিয়ে আহত ৫

    গত ৩১ মে চীনের নাননিং শহরে একটি ব্র্যান্ড ইভেন্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল জনপ্রিয় চীনা অভিনেতা ঝাং লিংহের (২৮)। তবে প্রিয় তারকাকে সশরীরে দেখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় চরম হতাশ তার ভক্ত-অনুরাগীরা। 

    উল্টো অনিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে সেই ইভেন্টে পাঁচজন আহতও হন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার দুঃখ প্রকাশ করে অনুরাগীদের যাতায়াত ও হোটেল খরচের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার এক নজিরবিহীন ঘোষণা দিল অভিনেতার স্টুডিও। 

    ২০২৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত  ব্লকবাস্টার সি-ড্রামা সিনেমা ‘পারস্যুট অব জেড’-এর মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই তারকার চীনা আইওয়্যার ব্র্যান্ড ‘মলসিয়ন’-এর প্রচারণায় গুয়াংসি প্রদেশের রাজধানী নাননিংয়ের একটি শপিং মলে হাজির হওয়ার কথা ছিল।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শপিং মলটি খোলার অনেক আগে থেকেই বাইরে হাজার হাজার ভক্ত ভিড় জমান। সকালবেলা মলের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ভেতরে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়। মানুষের প্রচণ্ড চাপে মলের একটি কাঁচের দরজা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন সামান্য কেটে গিয়ে আহত হন এবং তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

    অন্যান্য ফুটেজে দেখা যায়, অভিনেতাকে একনজর দেখার জন্য ভালো জায়গা নিশ্চিত করতে অনুরাগীরা মলের ছয়টি তলা জুড়েই তাড়াহুড়ো করে ছোটাছুটি করছিলেন। 

    নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে আয়োজকরা অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে বাধ্য হন। সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও ঝাং লিংহে পরবর্তীতে তার অনুরাগীদের জন্য একটি অনলাইন লাইভস্ট্রিমের আয়োজন করেন। 

    উইবো-তে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইওয়্যার ব্র্যান্ড ‘মলসিয়ন’ দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে ভক্ত-অনুরাগী এবং ঝাং লিংহের কাছে এই আকস্মিক পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চায়। বিবৃতিতে তাদের ভাষ্য, ‘ভবিষ্যতের ইভেন্টগুলোর জন্য আমরা সমস্ত প্রক্রিয়া আরও ভালোভাবে করব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করব, যাতে একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অনুষ্ঠান উপহার দেওয়া যায়।’ 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সেদিনই পরবর্তীতে ঝাং লিংহের স্টুডিও থেকে একটি আলাদা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনুরাগীদের প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তাদের সম্পূর্ণ যাতায়াত, পরিবহন এবং হোটেল বুকিংয়ের খরচ পরিশোধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নাননিংয়ে এটিই ছিল লিংহের প্রথম কাজ। আমরা সবাই এই ইভেন্টটি নিয়ে এবং আপনাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। আমরা জানি অনেক ভক্তই লিংহেকে দেখতে অন্য শহর থেকে ভ্রমণ করে এসেছেন এবং স্থানীয়রাও নিজেদের শহরে তার আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন। আপনাদের এই ভালোবাসার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ এবং যারা বুকভরা আশা নিয়ে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন, তাদের এই কষ্ট আমরা অনুভব করতে পারছি।’ 

    স্টুডিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৩ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে ভক্তদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সমস্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। 

    জনপ্রিয়তার শীর্ষে ঝাং লিং-হে 

    ‘লাভ বিটুইন ফেয়ারি অ্যান্ড ডেভিল’ (২০২২) এবং ‘স্টোরি অফ কুনিং প্যালেস’ (২০২৩)-এর মতো জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে আগেই পরিচিতি পেয়েছিলেন লিংহে। তবে গত ২৭ মার্চ সমাপ্ত হওয়া ‘পারস্যুট অব জেড’-এ ‘শিয়ে ঝেং’ চরিত্রে তার অভিনয় তাকে জনপ্রিয়তার এক নতুন শিখরে নিয়ে গেছে। 

    অবশ্য এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কিছু নেতিবাচক দিকও ইদানীং সামনে আসছে। গত এপ্রিলে ঝেজিয়াংয়ের একটি রেলওয়ে স্টেশনে রিয়েলিটি শো ‘দ্য ট্রুথ সিজন ৪’-এর শুটিংয়ে যাওয়ার পথে কিছু অতি-উৎসাহী ভক্ত এবং আলোকচিত্রীদের দ্বারা হেনস্থার শিকার হতে হয় এই অভিনেতাকে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ছাদ থেকে পড়ে ৩৭ বছর বয়সি চীনা জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যু

    চীনা গায়ক, অভিনেতা ও মডেল ইউ মেংলং আর নেই। মাত্র ৩৭ বছর বয়সেই চলে গেলেন তিনি। হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায় বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেইজিংয়ে একটি ভবন থেকে পড়ে প্রাণ হারান এই তারকা।

    ইউ মেংলংয়ের ব্যবস্থাপনা দল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পুলিশ তদন্তে অপরাধমূলক কোনো কর্মকাণ্ডের’ প্রমাণ পায়নি। 

    বিবৃতিতে বলা হয়, অসহনীয় বেদনা নিয়ে জানাচ্ছি, আমাদের প্রিয় মেংলং ১১ সেপ্টেম্বর ভবন থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। পুলিশ কোনও অপরাধের প্রমাণ পায়নি। আমরা চাই তিনি শান্তিতে থাকুন এবং তার প্রিয়জনরা শক্ত থাকুন।

    এর আগে এক পাপারাজ্জি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউ মেংলংয়ের মৃত্যুর খবর শেয়ার করে পরবর্তীতে পোস্টটি মুছে ফেলেন। সেখানে উল্লেখ ছিল, ৯ সেপ্টেম্বর ইউ মেংলং কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে এক বন্ধুর বাড়িতে খেতে গিয়েছিলেন। ১১ সেপ্টেম্বর ভোররাতে তিনি শোবার ঘরে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা লাগান। সকাল ৬টার দিকে বন্ধুরা বাড়ি ছাড়ার সময় তাকে দেখতে না পেয়ে নিচে খুঁজতে গেলে দেহটি মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এক প্রতিবেশী কুকুর হাঁটাতে বের হয়ে প্রথমে বিষয়টি লক্ষ্য করেন ও পুলিশে খবর দেন।

    ইউ মেংলং ২০০৭ সালে ‘মাই শো, মাই স্টাইল’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে পা রাখেন। ২০১১ সালে ‘দ্য লিটল প্রিন্স’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার অভিনয়জীবনের সূচনা। তিনি ‘গো প্রিন্সেস গো’, ‘লাভ গেম ইন ইস্টার্ন ফ্যান্টাসি’, ‘ফিউড’ ও ‘ইটারনাল লাভ’-এর মতো জনপ্রিয় চীনা ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি গায়ক হিসেবেও বেশ কিছু গান প্রকাশ করেছিলেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • বিশ্বমঞ্চে চীনা সুর, সবাইকে পেছনে ফেলা কে এই চেন চুশেং?

    জনপ্রিয় চীনা সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ‘সিঙ্গার ২০২৫’-এর সরাসরি সম্প্রচারিত ফাইনালে গায়করা মুখোমুখি হন এক জমজমাট লড়াইয়ে। শনিবারের (৯ আগস্ট) এই ফাইনালে চীনের ইতিহাসে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফাইনালিস্টরা সংখ্যায় চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে যান।

    তবে শেষমেশ এতে শীর্ষস্থান অর্জন করেন চীনের মূল ভূখণ্ডেরই সঙ্গীতশিল্পী চেন চুশেং। এতে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ছিলেনচীনা মূলভূখণ্ডের শান ইয়িচুন, তাইওয়ানের এ-লিন, যুক্তরাষ্ট্রের মিকি গাইটন ও গ্রেস কিন্স্টলার, মালয়েশিয়ার জেস লি এবং জাপানের বেনি।

    হুনান টিভি ও ম্যানগো টিভির যৌথ আয়োজনে হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত গায়ক-গায়িকারা প্রতি সপ্তাহে সরাসরি সম্প্রচারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দর্শক এবং অনলাইন ভোটের ভিত্তিতে ফলাফল নির্ধারণ হয়; সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া শিল্পীরা বাদ পড়েন, আর নতুন চ্যালেঞ্জারদের প্রবেশের সুযোগ হয়।

    আন্তর্জাতিক শিল্পীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে চীনে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য এই শো বিশেষভাবে পরিচিত। ব্রিটিশ পপ তারকা জেসি জে ২০১৮ মৌসুমে শীর্ষস্থান অর্জন করে এই শোর অন্যতম সফল বিদেশি প্রতিযোগী হয়ে ওঠেন।

    এবারের মৌসুমে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক লাইনআপ ছিল, যেখানে ফাইনালিস্টদের পাশাপাশি অতিথি শিল্পী হিসেবে ছিলেন কানাডিয়ান গায়ক মাইকেল বুবলে, ব্রাজিলের আলেক্সিয়া এভেলিন এবং মার্কিন গায়ক চার্লি পুথ ও জর্ডান স্মিথ।

    চীনা দর্শকদের প্রশংসা করে মার্কিন সঙ্গীত শিল্পী গ্রেস কিন্স্টলার বলেন, ‘আমি মুগ্ধ হয়েছি, যেভাবে তারা খোলাখুলি শিল্পীদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে, তা দেখে’।

    এ বছরের শুরুর দিকে শাওহংশু অ্যাপে যোগ দেওয়ার পর তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    গ্রেস কিন্স্টলার ও জেস লি

    কিন্স্টলার বলেন, ‘এই শো আমাকে প্রেরণা জোগায়, আমাকে এগিয়ে যেতে উত্সাহিত করে। আমি এই অভিজ্ঞতার বিনিময়ে কিছুই চাইব না’।

    এদিকে ফাইনালে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা মার্কিন প্রতিযোগী মিকি গাইটন এই অভিজ্ঞতাকে ‘জীবন পরিবর্তনকারী’ বলে অভিহিত করেন। তিনি পরিবারসহ প্রথমবার চীন ভ্রমণে এসে স্থানীয় খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সংস্কৃতির স্বাদ উপভোগ করেন।

    তার ভাষায়, ‘চীনা দর্শক অসাধারণতারা খুব খোলা মনের, আবেগপ্রবণ, সহনশীল ও উত্সাহদায়ী। আমি অবশ্যই ভবিষ্যতে আবার আসব এবং তাদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখব’।

    ‘সিঙ্গার ২০২৫’ ১৬ মে থেকে সম্প্রচার শুরু হয় এবং ফাইনালের আগে ১২টি পর্ব প্রচারিত হয়। চূড়ান্ত পর্বে দুটি ধাপ ছিলযুগল পরিবেশনার র‌্যাংকিং এবং একক পরিবেশনার র‌্যাংকিং, প্রতিটি ধাপে ৫০% করে চূড়ান্ত স্কোরে যোগ হয়।

    প্রায় চার মাসের এই সঙ্গীতযাত্রায় আন্তর্জাতিক শিল্পীরা চীনা ঐতিহ্যবাহী সুরের সঙ্গে নিজেদের সৃজনশীল ধারা মিশিয়েছেন; আবার চীনা শিল্পীরা তাদের গানে সাংস্কৃতিক উপাদান শেয়ার করেছেন। শো-এর বাইরে, বিদেশি শিল্পীরা চীনের ঐতিহ্য, নান্দনিকতা ও আতিথেয়তার উষ্ণতা উপভোগ করেছেন। সূত্র: সিনহুয়া

    বিনোদন ডেস্ক

  • ভূমিকম্পের সকালে যা করলেন মনীষা

    চীনের তিব্বতের প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

    তীব্র ভূমিকম্পে পর আফটারশকে ৪০ বার কেঁপে উঠেছে দেশটি। আর এ অবস্থার মধ্যে থেমে থাকেননি মনীষা কৈরালার শরীরচর্চা। এমনটাই জানিয়েছেন বলিউডের এই অভিনেত্রী।

    এখন মনীষা রয়েছেন মাতৃভূমি নেপালে। আজ সকালে কাঠমান্ডুর এক শরীরচর্চা কেন্দ্রে দেখা যায় তাকে। ট্রেডমিলে হাঁটতে হাঁটতে মনীষা একটি ভিডিও করেন। ঘন নীল জ্যাকেট, মানানসই টুপি আর গোলাপি স্কার্ফে মনীষাকে দেখা গিয়েছে শরীরচর্চা করতে। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সেই ভিডিও প্রকাশ করে ‘হ্যাশট্যাগ আর্থকোয়েক’ জুড়ে তিনি লিখেছেন, ‘সকালে ভূমিকম্প আমাদের জাগিয়ে দেওয়ার পরে!!’

    মনীষা নেপাল রাজপরিবারের সদস্য। ১৯৯১ সালে সুভাষ ঘাইয়ের ‘সওদাগর’ ছবি দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে বিধু বিনোদ চোপড়ার ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ ছবি থেকে তার উত্থান। ২০১২ সালে অভিনেত্রীর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। যদিও দীর্ঘ চিকিৎসার পর এখন সুস্থ আছেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জুরির দায়িত্ব পালন করবেন বাঁধন

    আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের আয়োজনে ৭৫ দেশের ২২০টির বেশি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। উৎসবটির পর্দা নামবে ১৯ জানুয়ারি। আর এ উৎসবের জুরির দায়িত্ব পালন করবেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী বাঁধন বহুগুণে গুণান্বিত। ইতোমধ্যে তিনি নাটক, মডেলিং ও সিনেমায় নিজের কাজের দ্যুতি ছড়িয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এ অভিনেত্রী। আর উৎসবের ওমেন ফিল্মমেকার বিভাগে জুরির দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে তাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাঁধন নিজেই জানিয়েছেন এ তথ্য। এ ছাড়া উৎসবের অফিশিয়াল সাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে তথ্যটি।

    এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বাঁধন বলেন, এটা আমার জন্য অনেক সম্মানের। ভীষণ ভালো লাগছে। দেশের কোনো উৎসবে প্রথমবার জুরি হিসেবে থাকতে পারছি। এর আগে আমি অভিনেত্রী হিসেবে কান চলচ্চিত্র উৎসবে গেছি। এ ছাড়া আরও বড় কয়েকটি উৎসবে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। অনলাইনে জুরির কাজ করেছি। সেখানে নানা রকম সিনেমা দেখেছি, নানা রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।

    অভিনেত্রী বলেন, এর আগে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের আই অ্যাম টুমরো চলচ্চিত্র উৎসব ও ভারতের বেঙ্গালুরু চলচ্চিত্র উৎসবে অনলাইনে জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এবার আমি ঢাকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নিজে উপস্থিত থাকব। উৎসবে সিনেমা দেখব, অন্য জুরিদের সঙ্গে আড্ডা হবে, সিনেমা নিয়ে কথা হবে, সেটি আমার জন্য ভীষণ এক্সাসাইটিং ব্যাপার।

    ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামালের ফেসবুক স্ট্যাটাস সূত্রে জানা যায়, ওমেন ফিল্মমেকার বিভাগে জুরি হিসেবে বাঁধনের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন আরও তিনজন। তারা হলেন— অভিনেত্রী ও নির্মাতা লিসা গাজী, চীনের প্রযোজক ও চলচ্চিত্র সমালোচক মেই পো রেইনবো ফঙ এবং ইরানি অভিনেত্রী হোদা মোগহাদ্দাম মানেশ।

    বিনোদন ডেস্ক