Tag: কাজী নজরুল

  • এ আর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করবে কাজী নজরুলের পরিবার

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গান ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটির সুর-বদল করার জন্য অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কবির পরিবার। এ বিষয়টি সামনে আসার পর কবির পরিবারের ভেতরের বড়সড় ফাটল সামনে এসেছে।

    ‘পিপ্পা’ সিনেমায় ব্যবহৃত ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। কারণ সিনেমার সুরকার এ আর রহমান গানটি নিজের মতো করে সুর দিয়েছেন।এ গানের সুর বিকৃত করার অভিযোগের জবাবে সিনেমার নির্মাতারা জানিয়েছেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করেছেন। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে স্বত্ব বিক্রি নিয়ে।

    বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলন করে কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ভারতে যেমন মামলা হবে, তেমনই বাংলাদেশেও জনস্বার্থ মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

    সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের দুই ছেলে কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্রের দুই ছেলেমেয়ে খিলখিল কাজী ও কাজী অরিন্দম। এদিন উপস্থিত ছিলেন অরিন্দমের স্ত্রী সুপর্ণা ভৌমিক এবং তাদের পুত্র-কন্যা অনুরাগ ও অভীপ্সা। 

    দাদা অনির্বাণ কাজীর বিরুদ্ধে কাজী অরিন্দমের অভিযোগ, তাদের না জানিয়েই তিনি কবির গানের স্বত্ব বিক্রি করেছিলেন। 

    খিলখিলের দাবি- আমরা চাই, রহমান এবং রায় কাপুর ফিল্মসের পক্ষ থেকে যেন জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া হয়।

    তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কলকাতায় কেন নজরুল বিষয়ক কোনো প্রতিষ্ঠান নেই? দাদা অনির্বাণের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষোভ অরিন্দমের। ১০ নভেম্বরের পর থেকে একাধিকবার অনির্বাণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় তার পক্ষ থেকে কিন্তু কোনো জবাব মেলেনি।

    অরিন্দম বলেন, আমার মা কল্যাণী কাজীর ৮৬ বছর বয়স ছিল। দাদাকেই বৈষয়িক দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দাদা যে এমন ঘটাবে সেটা হয়তো মাও আশা করেননি। আমি শুনেছি, দাদুর (কাজী নজরুল ইসলাম) পাওয়া সরকারি পুরস্কারও নাকি বিক্রি করতে গিয়েছিলেন আমার দাদা। উনি জানিয়েছিলেন, নজরুলের একমাত্র উত্তরসূরি নাকি তিনিই। আমরা কি তাহলে আত্মা? 

    তিনি বলেন, আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি অবিলম্বে যেন নজরুলের একটি সংগ্রহশালা তৈরি করা হয়। দাদা অনির্বাণ এবং রায় কাপুর ফিল্মসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শিগগিরই।
     

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানের সুর বিকৃত করায় ছায়ানটের নিন্দা

    বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর সৃষ্টি ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানের বিকৃতিতে ধিক্কার ও নিন্দা জানিয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট। 

    মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে নিন্দা জানান ছায়ানট শিল্পীরা। 

    বিবৃতিতে বলা হয়, উপমহাদেশে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময়, ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে কাজী নজরুল ইসলাম স্বদেশ প্রেমের পটভূমিতে ‘ভাঙার গান’ শিরোনামে ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ গানটি রচনা করেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তো বটেই, ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত ভাগের পর পূর্ব বাংলার সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ কোটি বাঙালিকে সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছে বিদ্রোহী কবির এই গান। 

    সম্প্রতি ভারতীয় একটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর এবং আঙ্গিকে কালজয়ী গানটি পরিবেশিত হয়েছে। আমরা মনে করি, এই উদ্যোগ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের চরম অবমাননা, স্রষ্টার অমর্যাদা এবং সংস্কৃতিবিনাশী কাজ।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল রচিত, পরাধীনতায় জর্জরিত মানুষকে জাগিয়ে তোলার এই গান বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ; অঙ্গাঙ্গী মিশে আছে আমাদের মর্মে, আত্মপরিচয়ের বিশ্বাসে। যে সুর ও বাণীর এমন ঐতিহাসিক পটভূমি, গভীর তাৎপর্যতার ন্যূনতম বিচ্যুতি বাঙালি সইবে না, মানবে না কোনো বাণিজ্যিক চটুল বিকৃতি। 

    বলা হয়, কাজী নজরুল ইসলামের সব সৃষ্টিই বাঙালি তথা বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। সেই স্রষ্টার কালোত্তীর্ণ কর্মকে পণ্য করে কোনো ব্যক্তিবিশেষ কিংবা গোষ্ঠীর হীন বাণিজ্য করবার অপপ্রয়াস আমাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য। 

    বিবৃতিতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাপূর্বকালে পাকিস্তানি শাসকেরা কাজী নজরুলকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপনের অপপ্রয়াসে লিপ্ত ছিল, কিন্তু মুক্তবুদ্ধির অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বাঙালি প্রতিবাদে মুখর হয়ে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে। বিকৃত-সংস্কৃতির আগ্রাসনে আবারো সেই সম্মিলিত প্রতিবাদ-ঝড় তোলার সময় সমাগত। 

    অমর গানটির প্রকৃত সুর-আবেদন-আবেগে আমূল পরিবর্তন আমাদের সংস্কৃতি ও মননে অপূরণীয় ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। ছায়ানট এই ধরনের ধৃষ্টতা ও সাংস্কৃতিক তাণ্ডবের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং বিকৃত গানটির প্রচার অবিলম্বে বন্ধ করে, প্রয়োজনে অবিকৃত গানের সংযোজন ও প্রকাশের দাবি জানাচ্ছে। 

    ছায়ানট রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ বাংলার সকল গীতিকার ও সুরকারের নিজস্ব ও অনুমোদিত বাণী ও সুরের শুদ্ধ চর্চা ও প্রসারে নিয়োজিত এবং সে সব সৃষ্টির যে কোনো ধরনের বিকৃতিকেই অপরাধ বলে মনে করে।

     

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ ‘বিকৃত’ করায় মুখ খুললেন নজরুলের নাতি

    বাংলাদেশের জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ওই লৌহ কপাট’-এ এআর রহমানের দেওয়া সুর নিয়ে ক্ষোভ ঝরছে দুই বাংলায়। তার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বাংলার শিল্পীরা। এবার কাজী পরিবারের পক্ষ থেকেও বিষয়টির সমালোচনা করা হয়েছে।
    rn 
    rnবিদ্রোহী কবির নাতি অনির্বাণ কাজী প্রতিবাদ করে বলেছেন, ‘যে সৎ বিশ্বাসে গান ব্যবহার করার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, তার মর্যাদা রাখা হয়নি।’ গানের ক্রেডিট থেকে তার পরিবারের নাম মুছে ফেলা হোক বলেও দাবি তার। 

    rnrn

    অনির্বাণ বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারিনি যে, এআর রহমানের মতো একজন শিল্পী এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে এবং এভাবে গানটিকে হত্যা করতে পারে। প্রতিবাদ হিসেবে আমি চলচ্চিত্রের ক্রেডিট লাইনে 'বিশেষ ধন্যবাদ'-এ আমাদের পরিবারের নাম চাই না।’

    rnrn

    তিনি বলেন, ‘মা গানটা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন সুর ও কথা না বদলে রিক্রিয়েট করার জন্য। কিন্তু সেই সময় ওদের তরফে বলা হয়েছিল— গানটা ওরা নিজেদের মতো করে ব্যবহার করতে চায়। মা ওদের বলেছিল, গানটা তৈরি হয়ে গেলে একবার শোনাতে। ২০২১ সালে মা অনুমতি দেন। কিন্তু ওরা কিছুই শোনায়নি। এর পর মা-ও মারা যান।’

    rnrn

    ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অনির্বাণ বলেন, ‘এআর রহমানকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েই জানতে চাই— ওকে কে অধিকার দিল গানটি বিকৃত করার। স্বত্ব দেওয়ার সময় তো সুর বদলের কথা বলা হয়নি। কী রকম একটা করে দিয়েছে গানটাকে! একটা গ্রামীণ সংগীতের মতো, ভাটিয়ালির মতো করে দিয়েছে। অনেক সস্তা করে দিয়েছে।’ 

    rnrn

    নজরুল ১৯২২ সালের ২০ জুন ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি লিখেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দাস যখন কারারুদ্ধ হন, তখন তার স্ত্রী বাসন্তী দেবী নজরুলকে বলেছিলেন— বাংলার মানুষকে নিয়ে কিছু লিখতে। সেই অনুরোধের সম্মান রেখেই নজরুল রচনা করেছিলেন ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি। ১৯৪৯ সালের জুন মাসে যা রেকর্ড করা হয়েছিল। গেয়েছিলেন গিরিন চক্রবর্তী। 

    rnrn

    গানটির পরিচালক রাজাকৃষ্ণ মেননের ছবি ‘পিপ্পা’য় ব্যবহার করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি ছবিতে নজরুলের গান ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু সুর নিজের মতো করে বদলে নিয়েছেন অস্কারজয়ী এআর রহমান।

    যুগান্তর ডেস্ক

  • কাজী নজরুলের গান ‘বিকৃতি’, বিতর্কের মুখে এআর রহমান

    বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘কারার ওই লৌহ কপাট’। এর প্রতিটি কথা-সুর ভাবায়, মনে ছাপ ফেলে। এবার সেই গানকেই ব্যবহার করা হয়েছে হিন্দি সিনেমা ‘পিপ্পায়’। গানটিকে নতুনভাবে তৈরি করেছেন অস্কারজয়ী ভারতীয় সুরকার এআর রহমান, কিন্তু সেটা শুনে মোটেই খুশি নন কেউ। নেটিজেনদের অভিযোগ, গানটিকে বিকৃত করেছেন রহমান।

    রাজাকৃষ্ণ মেনন পরিচালিত পিপ্পা আজ মুক্তি পেতে যাচ্ছে আমাজন প্রাইম ভিডিওতে। ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে এর স্পেশাল স্ক্রিনিং, প্রকাশ্যে এসেছে গানও। এ সিনেমায় ব্যবহৃত হয়েছে নজরুল ইসলামের লেখা ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি। গেয়েছেন একাধিক বাঙালি গায়ক। এদের মধ্যে আছেন তীর্থ ভট্টাচার্য, রাহুল দত্ত, পীযুষ দাস, শালিনী মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। 

    একজন লিখেছেন- মনটা জাস্ট ভেঙে গেল। এআর রহমান এত সুন্দর গানটির পুরো বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, সঠিক সুরে সঠিকভাবে গানটি বানালে ভালো হতো। আসল গানটা শুনলে যে অনুপ্রেরণা পাই, তার সিকিভাগ এটা শুনে আসছে না।

    সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রাজা কৃষ্ণ মেনন। এতে অভিনয় করেছেন- ইশান খাট্টার, মৃণাল ঠাকুর, প্রিয়াংশু।
     

    বিনোদন ডেস্ক