Tag: এফডিসি

  • এফডিসিতে শিল্পী সমিতির নির্বাচন শুরু, ভোটার ৫৭৩ জন

    রূপালি পর্দার শিল্পীদের জন্য আজ এফডিসিপাড়ায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। কেননা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন শুক্রবার (৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

    বিএফডিসি প্রাঙ্গণে সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ৯টা থেকে ভোট কাউন্ট শুরু হয়, চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। মাঝে দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার জন্য নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থাকবে। 

    এদিন আগামী দুই বছরের জন্য নিজেদের যোগ্য নেতা বেছে নেবেন চলচ্চিত্র শিল্পীরা। এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। সকাল থেকেই ভোটার, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে এফডিসি প্রাঙ্গণ। জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। 

    এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুটি প্যানেলের মধ্যে। এর মধ্যে একটি প্যানেলের নেতৃত্বে আছেন শিবা শানু ও জয় চৌধুরী। অন্যদিকে, তাদের টেক্কা দিতে আরমান ও রুমানা ইসলাম মুক্তি গড়েছেন আরেকটি শক্তিশালী প্যানেল। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    শিবা সানু-জয় চৌধুরীর প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে লড়ছেন রোজিনা ও ডিএ তায়েব, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে পলি, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোসাফকুল জামিল কাকন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে জাদু আজাদ নির্বাচন করছেন। 

    অন্যদিকে, আরমান-মুক্তির প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে নূতন ও ইলিয়াস কোবরা, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে রিনা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চুন্নু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে রাসেল মিয়া, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

    এছাড়া ১১টি কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদের বিপরীতে দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

    এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু। 

    উল্লেখ্য, গত মেয়াদে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবার কোনো পদেই শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেননি।  

    বিনোদন ডেস্ক

  • চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভোটযুদ্ধ আজ

    উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে আজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক মেয়াদের নির্বাচন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) এই ভোটগ্রহণ শুরু হবে, যা কোনো বিরতিহীনভাবে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে মূলত দুটি প্রধান প্যানেল—‘আরমান-মুক্তি পরিষদ’ এবং ‘শিবা সানু-জয় চৌধুরী পরিষদ’—নেতৃত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার প্রস্তুত ও বুথ স্থাপনসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে।

    বিএফডিসির অভ্যন্তরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি এফডিসির প্রবেশদ্বারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। যেন কেবল বৈধ ভোটার ও কার্ডধারী ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারেন।

    নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনার কিবরিয়া লিপু বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় আছে। আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতায় পুরো প্রক্রিয়াটি একদম ঠিকঠাক ও শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হবে।

    এবারের নির্বাচনে প্রধান দুটি প্যানেলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এক প্যানেলে সভাপতি পদে লড়ছেন ফাইটার ও প্রযোজক আরমান এবং তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। এই প্যানেলের মূল পদগুলোতে রয়েছেন নূতন, ইলিয়াছ কোবরা, রিনা খান ও মারুফ আকিবের মতো পরিচিত মুখেরা।

    অন্য প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খল অভিনেতা শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। এই প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে ডি এ তায়েব ও রোজিনাসহ কার্যনির্বাহী সদস্য পদে আলীরাজ, সুব্রত, পলি ও ইয়ামীন হক ববির মতো তারকারা অংশ নিচ্ছেন।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে কিবরিয়া লিপু ছাড়াও কমিশনার হিসেবে যুক্ত আছেন খোরশেদ আলম খসরু ও বিএইচ নিশান। আজ সন্ধ্যার পর ভোটগণনা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। রুপালি পর্দার তারকাদের এই শীর্ষ সংগঠনের নেতৃত্ব আগামী দুই বছর কার হাতে যাচ্ছে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ঢালিউড পাড়া।

    তেজগাঁও (ঢাকা) প্রতিনিধি

  • ভোট চলে গেলে এফডিসিতে কুকুর ঘুরে: হারুন কিসিঞ্জার

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই এফডিসিতে উৎসবের আমেজ। বছরের অন্য সময় শিল্পীদের তেমন দেখা না গেলেও নির্বাচন এলে প্রবীণ-নবীন শিল্পীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় (বিএফডিসি)। 

    নির্বাচনের এই আবহ নিয়েই কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার বলেছেন, ‘এফডিসিতে ভোট তো চলে এসেছে তাই অনেক মানুষ দেখছি । কিন্তু সাধারণ সময় এফডিসিতে এসে দেখি মানুষ নেই, দু-একটা কুকুর ঘুরে। সত্যি কথা বলছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন নাটক আর বিজ্ঞাপনের কাজ বেশি করি। তাই এফডিসিতে খুব একটা আসা হয় না। তবে নির্বাচন এলেই চলে আসি। কারণ এ সময় পুরোনো অনেক শিল্পীর সঙ্গে দেখা হয়, নতুনদের সঙ্গেও পরিচয় হয়। সবাইকে একসঙ্গে দেখতে খুব ভালো লাগে।’

    কাকে ভোট দেবেন? জানতে চাইলে হারুন কিসিঞ্জার বলেন, ‘ভোটের আগের রাতে বসে চিন্তা করবো এত ভদ্র মানুষের ভিড়ে কাকে ভোট দেওয়া যায়। দুই প্যানেলের সবাই ভালো মানুষ। তবে একটা ভোট আমি এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারি। আমার শিষ্য চিকন আলীকে আমি অবশ্যই ভোট দেব।’

    চিকন আলীকে ভোট দেওয়ার যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেন হারুন কিসিঞ্জার বলেন, ‘আমি কোনোদিন নির্বাচন করিনি। আগে থেকেই বলেছি, চিকন আলী নির্বাচন করছে। তাকে একটা ভোট দেব। আমি মারা গেছি এমন গুজব ছড়ানোর পর সে অনেক কান্নাকাটি করেছিল। তাই ওকে একটা ভোট তো দিতেই হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আগে অনেক বড় বড় তারকা নির্বাচনের সময় বলেছিলেন শিল্পীদের জায়গা দেবেন, ফ্ল্যাট দেবেন, থাকার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হয়নি। আমার কথা হলো, এখন যারা নির্বাচন করছেন তারা যেন মিথ্যা কথা না বলেন। যেটা পারবেন, শুধু সেটাই প্রতিশ্রুতি দিন। শিল্পীদের সঙ্গে মিথ্যা বলার দরকার নেই। পরে কিন্তু ধরা খেতে হবে।’

    এই কৌতুক অভিনেতা আরও বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলো অনেক বেশি উৎসবমুখর ছিল। এমন পরিবেশ হতো যে জাতীয় নির্বাচনকেও হার মানিয়ে দিতো। দেশের বাইরের মানুষও এ নির্বাচন নিয়ে জানতো। এবার সেই জৌলুস কিছুটা কমেছে। তারপরও আমরা আনন্দ করছি, সবাই একসঙ্গে হচ্ছি এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’

    বিনোদন ডেস্ক

  • এফডিসির শিল্পনির্দেশকের সহকারী খোরশেদের বিদায়লগ্নে যা বললেন ঝন্টু

    দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে এফডিসিতে শিল্পনির্দেশকের সহকারী হিসেবে কাজ করে গেছেন মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। তার শিল্পনির্দেশনায় ফুটে উঠেছে বিনোদন জগতের অসংখ্য সোনালি মুহূর্ত। এ সময় এফডিসির আঙিনা, ইট-কাঠ, আলো-অন্ধকারের সঙ্গে একাকার হয়ে ছিলেন এ শিল্পনির্দেশকের সহকারী। এ সময়ে দেখেছেন চলচ্চিত্রের কত উত্থান-পতন। সময়ের পরিক্রমায় আজ তিনি বিদায়ের পথে। 

    বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। আর সেই ঝলমলে আলো-কর্ম তাকে টানে না। এফডিসির কোলাহল ছেড়ে ফিরে যাচ্ছেন আপন ভিটায়। বয়সের ভার তাকে দিন দিন দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তাই প্রিয় কর্মস্থল এফডিসি ছেড়ে ফিরতে চান জন্মস্থানে। বিদায় অনুষ্ঠানে তিনি কেঁদেছেন, এবং কাঁদিয়েছেন। চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরবে— এ বিশ্বাস নিয়েই আপন ভিটামাটিতে ফিরছেন বলে জানান খোরশেদ আলম।

    বিদায় অনুষ্ঠানে খোরশেদ আলম স্মরণ করেন তার ওস্তাদ শরফুদ্দীন ভূঁইয়া থেকে প্রয়াত নির্মাতাদের। পাশে উপস্থিত নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টুকে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। খোরশেদ আলম বলেন, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন। আমার জন্য যারা এ আয়োজন করেছেন, শরীরের সব রক্ত দিয়েও এ ঋণ শোধ যাবে না। এফডিসি আগের মতো ভালো দিনে ফিরে যাক, সে কামনা করি।

    গতকাল বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে খোরশেদ আলমের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মানুষ। পুরো আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন কয়েকজন বিনোদন সাংবাদিক। মানবিক এ উদ্যোগে যুক্ত ছিল চলচ্চিত্রের কয়েকটি সংগঠন। বিদায়লগ্নে তার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিসহ নির্মাণাধীন ‘তছনছ’ সিনেমার টিম। এ ছাড়া অভিনয়শিল্পী থেকে নির্মাতা ও প্রযোজকরাও তার পাশে দাঁড়ান। সেই সঙ্গে এ শিল্পনির্দেশকের পাশে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববিও।

    এ সময় অভিনেত্রী বলেন, ‘তিনি আমাদের অসংখ্য সিনেমার নেপথ্যে ছিলেন। গোটা জীবন এফডিসিতে দিয়েছেন। তার বিদায়ের দিনে নিজ অবস্থান থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তার পাশে দাঁড়াতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। আশা করি, চলচ্চিত্রের অন্যরাও তার পাশে দাঁড়াবেন।’

    খোরশেদ আলমের সঙ্গে কাজের স্মৃতি স্মরণ করে নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, ‘এখনো খোরশেদ আমাকে বলে— আপনি কাজ করেন না কেন, কাজ করেন। আসলে ওর সঙ্গে অনেক স্মৃতি। আমার অনেক ছবিতে ও কাজ করেছে। ও পরিবারের কাছে ফিরছে, এটা আনন্দের। সুস্থভাবে পরিবারের সঙ্গে ওর শেষ সময় কাটুক, সে কামনা করি। নির্মাতাদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফআই মানিক, সাইমন তারিক ও গাজী মাহবুব।

    এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম, অভিনেতা কমল পাটেকর, সনি রহমান, মুন্না খান প্রমুখ। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ঢালিউডের হৃদয়, অথচ মৃতপ্রায় এফডিসি

    ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এফডিসি (তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন) মূলত সিনেমার সবধরনের কাজ এক ছাদের নিচে করার সুযোগ করে দিয়েছিল। এখানেই ক্যারিয়ার গড়েছিলেন রাজ্জাক, সুচন্দা, আলমগীর, ববিতা, জাফর ইকবাল, শাবানা, সালমান শাহ, মৌসুমী থেকে শুরু করে বহু তারকা। এখানেই তৈরি হয়েছিল কালজয়ী সব সিনেমা। 

    তবে সেই গৌরবের ঠিকানা আজ যেন এক পরিত্যক্ত চলচ্চিত্র নগরী। অবকাঠামোতে ভাঙন, ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা, এসব সঙ্গী করেই চলছে এফডিসি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বেশিরভাগ স্টুডিও পরিত্যক্ত বা অকার্যকর। শুটিং ফ্লোরে নষ্ট এসি, ফাটল ধরা দেয়াল, মলিন মেকআপ রুম, ঝাঁপসা লাইট, এসবই এখনকার বাস্তবতা। ল্যাবরেটরি, রেকর্ডিং স্টুডিও কিংবা পোস্ট-প্রোডাকশন ইউনিটগুলো আধুনিকায়নের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশ্ব যখন ফোর-কে, এইট-কে, ভার্চুয়াল প্রোডাকশন ও ভিএফএক্সে এগিয়ে গেছে, তখন এফডিসিতে এখনো চলছে অ্যানালগ মনোভাব নিয়ে। ডিজিটাল ক্যামেরা, সাউন্ড প্রুফিং, কালার গ্রেডিং, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট-সব কিছুতেই ঘাটতি। ফলে তরুণ নির্মাতারা বাইরে লোকেশন বেছে নিচ্ছেন, ইউটিউব বা ওটিটির জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রজেক্ট করছেন। এফডিসি থেকে তারা বিমুখ। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন শিল্পীদের জন্য নেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। পুরনো তারকারাও অনুভব করেন, এফডিসি এখন আর সেই ‘মর্যাদার জায়গা’ নয়। এক সময়কার বিখ্যাত মেকআপ রুম, কস্টিউম ডিপার্টমেন্ট বা সেট ডিজাইনের জন্য পরিচিত বিভাগগুলো এখন অপ্রাসঙ্গিক। সিনিয়র শিল্পীদের পদচারণা এখন এফডিসিতে নেই বললেই চলে। তারা যেতেও চান না। এখানে রয়েছে  শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতিসহ প্রায় ১৭টি সংগঠনের অফিস। সমিতির সদস্যদের আনাগোনা ছাড়া এফডিসিতে আর কেউ পারতপক্ষে যান না। মাঝে মাঝে এই সংগঠনগুলোর মধ্যেও দেখা যায় সমন্বয়ের বদলে দ্বন্দ্ব, দখলদারিত্ব, এবং ক্ষমতার লড়াই। যা এফডিসির পরিবেশ নস্ট করে। ফলে প্রশাসন, বাজেট, রক্ষণাবেক্ষণসহ সবকিছুতেই তৈরি হয় স্থবিরতা।

    এফডিসি কর্তৃপক্ষ সিনেমার উন্নয়নে কাজ করার কথা থাকলেও, তারা রয়েছে পিছিয়ে। যেখানে আজ দর্শক ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, বায়োস্কোপে সময় দিচ্ছে, সেখানে এফডিসির কোনো উদ্যোগ নেই। ওটিটি নির্মাতাদের সহযোগিতায় কোনো প্ল্যান নেই, নেই প্রশিক্ষণ বা টেকনিক্যাল সাপোর্টও। ওটিটি নির্মাতাদের মতে, ওটিটির জন্য শুট করতে এফডিসির চেয়ে কক্সবাজারের সমুদ্র বা পুরান ঢাকা অনেক বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক। কারণ এফডিসিতে পরিবেশটাই নেই।

    সিনেমার সুদিন ফিরিয়ে আনতে এফডিসির উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ জরুরীভাবেই নেয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তার কতোটুকুও বা করা হচ্ছে। প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কশপ, স্বচ্ছ বাজেট ও প্রশাসনিক জবাবদিহি, ওটিটি ও ওয়েব প্রোডাকশনের জন্য সহায়ক পরিবেশ, সমিতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও পুনর্গঠন, চলচ্চিত্র ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য ফিল্ম মিউজিয়াম ও আর্কাইভ তৈরি এগুলোর ব্যাপারে কি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কর্তৃপক্ষ? 

    বিএফডিসির সংকট, সম্ভাবনা, পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি  বলেন, ‘বর্তমান সরকার কিছু জিনিস সংস্কার করার পর, দুটো ফ্লোর ভাড়া হচ্ছে রেগুলার। অনেক নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা ছিল। যে কারণে মানুষ আরও অনুৎসাহিত হতো। ভাড়া বেশি ছিল। ভাড়া একদম কমিয়ে দেয়া হয়েছে। আরও কিছু আনুষাঙ্গিক কাজও আমরা করছি।’ 

    এফডিসি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের বাংলা সিনেমার ঐতিহ্যের প্রতীক। কিন্তু ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে দরকার সময়োপযোগী পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত নবায়ন এবং সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা। না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একে চিনবে শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায়, একটি প্রতিষ্ঠানের নাম হিসাবে। তারা জানবে, যার হৃদয়ে ছিল ঢালিউড, অথচ সে নিজেই হারিয়ে গেছে আজ নীরবতার অন্ধকারে।

    রিয়েল তন্ময়

  • জুলাই বিপ্লবের প্রকাশ্য বিরোধিতাকারীদের নিয়ে এফডিসিতে নির্বাচন!

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছিল বিরোধী দলগুলো। কিন্তু দমনপীড়নের মাধ্যমে হাসিনা তার দুঃশাসন চালিয়ে গেছেন গত ১৬ বছর ধরে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন এ স্বৈরশাসক। 

    হাসিনার এ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আন্দোলন নিয়ে রাস্তায় নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে ছাত্রদের একটি সংগঠন। শুরুটা হয়েছিল কোটাবিরোধী আন্দোলন দিয়ে। গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে মারলে আন্দোলন বেগবান হয়। দেশজুড়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে যখন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যসব বাহিনীর সদস্যরা ছাত্রদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করছিল, তখন সাধারণ জনতাও আন্দোলনে যোগ দিয়ে হাসিনার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

    ঠিক সেই মুহূর্তে হাসিনার পাশে এসে দাঁড়ায় সিনেমাশিল্পের একদল আওয়ামী সমর্থক ও সরকারের সুবিধাভোগী। তাদের মধ্যে অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজকসহ টেকনিশিয়ানও রয়েছেন। জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদেরকে নিয়েই এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির ২০২৫-২৬ সালের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন।

    গত ২৮ ডিসেম্বর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিপ্লবের পক্ষের লোকজনের প্রতিবাদের মুখে সেটা পিছিয়ে যায়। এবার নির্বাচনের তারিখ ১০ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নির্বাচন নিয়ে এরইমধ্যে সংস্কৃতি অঙ্গনে বেশ ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। অনেকেই বলছেন, আন্দোলন চলাকালীন যারা প্রকাশ্যে ব্যানার নিয়ে ছাত্র-জনতাকে দেশাদ্রোহী আখ্যা দিয়ে হাসিনার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তারাই আবার সিনেমাশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বের জন্য লড়াইয়ে নেমেছেন!

    জানা গেছে, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একটি প্যানেল তৈরি হয়েছে সমমনা ঐক্য পরিষদ নাম দিয়ে। যেখানে সভাপতি প্রার্থী মুশফিকুর রহমান গুলজার ও মহাসচিব প্রার্থী সাফিউদ্দিন সাফি। এ প্যানেলে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবুল খায়ের বুলবুল, মো. সালাহউদ্দিন, মো. তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, আব্দুর রহিম বাবু, রফিক সিকদার, এসডি রুবেল, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, শাহ আলম কিরণ, বদিউল আলম খোকন, ইফতেখার জাহান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, বজলুর রাশেদ চৌধুরী, গাজী মাহবুব, মো. আনোয়ার সিরাজী, দেওয়ান নাজমুল, জয়নাল আবেদীন ও মো. আতিকুর রহমান লাভলু।

    প্যানেলটিতে সভাপতি প্রার্থী মুশফিকুর রহমান গুলজার জুলাই বিপ্লবের সরাসরি বিরোধীতাকারী। তিনি আন্দোলন চলাকালীন এফডিসিতে প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী ও দেশাদ্রোহী বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, হাসিনার শাসনামলে তিনি একাধিকবার সরকারি অনুদানে সিনেমা নির্মাণসহ সিনেমাসংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন। বিতর্কিত ‘আলো আসবেই’ গ্রুপেরও সক্রিয় সদস্য ছিলেন গুলজার। এ প্যানেলের মহসচিব প্রার্থী সাফিউদ্দিন সাফিও আন্দোলন চলাকালীন ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে একাধিক স্টেটাস দিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর তিনি সেসব স্টেটাস মুছে দিয়েছেন। একই প্যানেলে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের প্রকাশ্য বিরোধিতাকারী ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, শাহ আলম কিরণ এবং গায়ক এসডি রুবেল। প্যানেলটির অন্য প্রার্থীরাও আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন ও হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন। তবে আশ্চর্য হলেও সত্যি, একই প্যানেল থেকে ছাত্র-জনতা আন্দোলনের পক্ষের বিএনপি সমর্থিত চিত্রপরিচালক বদিউল আলম খোকন এবং তারিকুল ইসলামও (সায়মন তারিক) ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে মিলেমিশে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন!

    অন্যদিকে ‘পাশে ছিলাম, পাশে আছি পাশে থাকব’ স্লোগানে সভাপতি পদে শাহীন সুমন ও মহসচিব পদে শাহীন কবির টুটুল একটি প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই প্যানেলের অন্যরা হলেন কবিরুল ইসলাম রানা (অপূর্ব রানা), সেলিম আজম, ওয়াজেদ আলী বাবলু, বন্ধন বিশ্বাস, সাইফ চন্দন, সাইদুর রহমান সাঈদ, ছটকু আহমেদ, জাকির হোসেন রাজু, শাহাদাৎ হোসেন লিটন, পল্লী মালেক, মো. জয়নাল আবেদীন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এখলাস আবেদীন ও ডা. বুলবুল বিশ্বাস। এ প্যানেলের বেশিরভাগ প্রার্থীই আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রকাশ্যে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    এদিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া নির্বাচন আবারও ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে এরইমধ্যে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রথমত, স্বৈরাচার হাসিনার প্রকাশ্য সমর্থকদের আবারও সিনেমার নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে সরকার, এমন অভিযোগ জুলাই বিপ্লবের পক্ষের সাধারণ নির্মাতাদের। তারা বিষয়টি মোটেও মানতে পারছেন না। দ্বিতীয়ত, শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের তারিখ ১০ জানুয়ারি। ঠিক এ দিনেই আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা নির্বাচন করে আবারও পরিচালক সমিতির ক্ষমতা নিজেদের দখলে নেবেন, এটাকে একটা গভীর ষড়যন্ত্র হিসাবেই দেখছেন জুলাই বিপ্লব সমর্থকরা। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের দাবি, গণহত্যার প্রকাশ্য সমর্থনকারী ও স্বৈরাচারের দোসরদের নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচন বন্ধ করতে হবে। তাদেরকে এফডিসিসহ সিনেমাসংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজে নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সমিতিকে সচল রাখতে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একটি নির্বাচনি আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়ার জন্য সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের দাবি, দুই হাজারেরও অধিক শহিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে অর্জিত এই বিপ্লবের সুফল স্বৈরাচার ও গণহত্যাকারী হাসিনার দোসরদের কোনোভাবেই ভোগ করতে দেওয়া যাতে না হয়।

    এফ আই দীপু

  • এফডিসিতে কফিনবন্দি অঞ্জনাকে সতীর্থদের শেষ শ্রদ্ধা

    সত্তর ও আশির দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জনাকে চিরবিদায় জানাতে ভিড় করেছেন পরিচালক, নির্মাতা, অভিনেতা ও শিল্পী কলাকুশলীরা। চলচ্চিত্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন-বিএফডিসির ভেতরে আনা হলো অঞ্জনাকে।

    পাঁচ দশক আগে যেখানে কিশোরী অঞ্জনা রহমান দাঁড়িয়েছিলেন লাইট, ক্যামেরার সামনে। সেখানেই এলেন শেষবারের মত কফিনবন্দি হয়ে। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে অভিনেত্রীর মরদেহবাহী গাড়িটি প্রবেশ করে বিএফডিসিতে।

    সেখানে অঞ্জনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পরিচালক ছটকু আহমেদ, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও অভিনেতা সনি রহমানসহ চলচ্চিত্র ও অভিনয় জগতের অনেকে।

    মায়ের বিদায় ক্ষণে ছেলে নিশাত রহমান মনি জানান, বাদ জোহর এফডিসিতে জানাজা শেষে অভিনেত্রীর মরদেহ তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে দ্বিতীয়বার জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে শায়িত হবেন অঞ্জনা।

    মায়ের অসুস্থতা নিয়ে মনি বলেন, আম্মু সুস্থ ছিল, জ্বর আসত আবার চলে যেত। ১৫ দিন আগে বাসায় মেহমান এসেছিল সবাইকে নিজ হাতে রান্না করে খাইয়েছে। তারপরই অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। সাধারণ জ্বর ভেবে ওষুধ খাচ্ছিল, হাসপাতালে যেতে চাইত না। অসুস্থতা বাড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গত চারদিন আগেও আইসক্রিম খেতে চেয়েছিল।

    কান্নায় ভেঙে পড়ে মনি বলেন, আমার সারা জীবনের আফসোস থাকবে। আমি কখনো বুঝতেই পারিনি আম্মুর ভেতরে এমন অসুস্থতা ছিল। এমন সুস্থ একজন মানুষের ভিতরে এতটা অসুখ কীভাবে বাসা বাঁধল।

    ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১টা ২০ মিনিটে অঞ্জনা রহমান মারা যান।

    অভিনেত্রীকে বুধবার রাত থেকে হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই অঞ্জনা চলে যান না ফেরার দেশে।

    এফডিসিতে অঞ্জনাকে শ্রদ্ধা জানান অভিনেত্রী পলি আক্তার, রোমানা ইসলাম মুক্তি, জয় চৌধুরী, নৃত্য পরিচালক ইউসুফ খান, শ্রাবণ সাহা প্রমুখ।

    নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী বলেন, মিষ্টি হাসি আর কাজ অঞ্জনা আপাকে সবার মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে।

    অভিনেত্রীর ছেলে মনি জানান, বাড়িতে জ্বর হওয়ার পর বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে অঞ্জনাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে রক্তের সংক্রমণ ধরা পড়লে ওই হাসপাতালেই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে কিছুটা উন্নতি হলে সিসিইউতে আনা হয়। সেখানে নয় দিন চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার রাতে বিএসএমএমইউ ভর্তি করা হয় অঞ্জনাকে। রক্তের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, ফুসফুসে পানি আসা, ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া, এর মধ্যেই স্ট্রোক হওয়াসহ নানা জটিলতা তৈরি হয় অভিনেত্রীর। এক পর্যয়ে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়।

    যেখান থেকে শুরু

    ঢাকায় এক সংস্কৃতিমনা পরিবারে অঞ্জনার জন্ম। ছোটবেলা থেকে নাচের প্রতি তার আগ্রহের কারণে বাবা-মা তাকে নাচ শিখতে ভারতে পাঠান। সেখানে তিনি ওস্তাদ বাবুরাজ হীরালালের কাছে নাচের তালিম নেন, শেখেন কত্থক।

    সিনেমায় আসার আগেই অঞ্জনা পরিচিতি পান নৃত্যশিল্পী হিসেবে। ১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি ঢাকাই সিনেমায় কাজ শুরু করলেও তার মুক্তি পাওয়া প্রথম চলচ্চিত্র ছিল শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত ‘দস্যু বনহুর’।

    নায়ক সোহেল রানার বিপরীতে ওই সিনেমার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি অঞ্জনাকে। নিজের সেরা সময়ে ঢাকাই সিনেমার প্রথম সারির প্রায় সব নায়কের বিপরীতেই অভিনয় করেছেন তিনি।

    নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে ৩০টি সিনেমায়, যার মধ্যে রয়েছে অশিক্ষিত, রজনীগন্ধা, আশার আলো, জিঞ্জির, আনারকলি, বিধাতা, বৌরানী, সোনার হরিণ, মানা, রামরহিমজন, সানাই, সোহাগ, মাটির পুতুল, সাহেব বিবি গোলাম ও অভিযান।

    এছাড়া ভারতের সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী, পাকিস্তানের অভিনেতা ফয়সাল, নাদিম, জাভেদ শেখ, ইসমাইল শাহ, নেপালের শীবশ্রেষ্ঠ ও ভুবন কেসির সঙ্গেও অভিনয় করেছেন এই নায়িকা।

    চার দশকের ক্যারিয়ারে শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন অঞ্জনা। ‘গাংচিল’ সিনেমার জন্য ১৯৮২ সালে এবং ‘পরিণীতা’ সিনেমার জন্য ১৯৮৬ সালে পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পাশাপাশি তিনবার বাচসাস এবং নৃত্যে দুবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

    ১৯৯২ সালের পর থেকে সিনেমায় অনিয়মিত হয়ে যান অঞ্জনা। ২০০৮ সালে মুক্তি পায় তার সর্বশেষ সিনেমা ‘ভুল’।

    অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে গেলেও তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘অঞ্জনা ফিল্মস’ থেকে প্রাণ সজনি, বন্ধু যখন শত্রু, চালু সরদার প্রমুখ সিনেমা মুক্তি পায়।

    পর্দায় সক্রিয় না হলেও চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিয়মিতই যাতায়াত ছিল তার। সর্বশেষ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • পরিচালক সমিতির নির্বাচন স্থগিত

    বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পরিচালক সমিতির ২০২৫-২৬ মেয়াদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

    শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই প্যানেলের প্রার্থীরা এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব প্রার্থী ও নির্বাচন কমিশনার মিলেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

    এ নির্বাচনের তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে।

    এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে একটির সভাপতি পদে রয়েছেন শাহীন সুমন ও মহাসচিব পদে শাহীন কবির টুটুল এবং অপর প্যানেলে রয়েছেন মুশফিকুর রহমান গুলজার ও সাফিউদ্দীন সাফি।

    নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আবদুল লতিফ বাচ্চু।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএফডিসি) বলা হয় চলচ্চিত্রের আঁতুর ঘর। বেশ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে এফডিসিতেই পরিচালক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারও পরিচালক সমিতির দ্বিবার্ষিক মেয়াদের এই নির্বাচন এফডিসিতেই করতে চান তারা। তাই সবকিছু স্বাভাবিক হলে এফডিসি প্রাঙ্গণেই নির্বাচন করতে চান পরিচালকরা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রথমবারের মতো এফডিসিতে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। এ নির্বাচন উপলক্ষ্যে এফডিসিতে এখন চলছে পরিচালকদের আসা-যাওয়া। বেড়েছে নির্মাতাদের যোগাযোগ। 

    এর মাঝেই হঠাৎ করে এফডিসিতে হাজির হয়ে চমকে দিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। এবারই প্রথম এফডিসিতে গেলেন তিনি।

    রোববার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সঙ্গে মতবিনিময় করে পরিচালক সমিতি। দুই পক্ষের উপস্থিতিতে এ দিন বেশ আনন্দঘন হয়ে ওঠে এফডিসির পরিবেশ। তাদের বিদায়ের পরপরই এফডিসির স্টাডি রুম (পরিচালক সমিতি) প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন উপদেষ্টা। এ সময় সমিতির অভ্যন্তরে তাকে স্বাগত জানান পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন।

    এ বিষয়ে উপমহাসচিব কবিরুল ইসলাম বলেন, তথ্য উপদেষ্টা মহোদয় আসবেন এমন কোনো খবর আমাদের কাছে ছিল না। হঠাৎ করেই এফডিসি ভিজিটে আসেন তিনি। আমাদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। প্রায় ২০ মিনিটের মতো এফডিসিতে ছিলেন তিনি। এ সময় আমাদের কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শুনেছেন তিনি। একপর্যায়ে চলচ্চিত্র উন্নয়নে তার কিছু পদক্ষেপের কথা আমাদের মাঝে তুলে ধরেন।

    কবিরুল বলেন, খুব শিগগির চলচ্চিত্রের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের সঙ্গে বসবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।

    এর আগে গত ১৩ অক্টোবর এই মন্ত্রণালয়ের ‘চলচ্চিত্র সার্চ কমিটি’র আহ্বায়ক আল আমিন রাকিব তনয়ের সঙ্গে এফডিসিতে অবস্থানরত নবগঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন ফোরামের সঙ্গে আলোচনা হয়। এদিন আলোচনায় সরকারের নেওয়া চলচ্চিত্র ও এফডিসির সংস্কারে কিছু পদক্ষেপ নিয়ে শিগগিরই সবার সঙ্গে বসবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। ওই বৈঠকের প্রায় দুই মাস পর গতকাল এফডিসিতে আন-অফিসিয়াল সফর করেন তিনি।

    তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন বলেন, আমাদের মাঝে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ভীষণ আন্তরিক তিনি। আমাদের থেকেও চলচ্চিত্র উন্নয়নে মতামত চেয়েছেন। আমরা চেষ্টা করব আমাদের মতামতগুলো দ্রুত উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরতে।

    যুগান্তর ডেস্ক

  • বিএনপির রাজনীতিতে আমি অতিথি নই: নায়ক উজ্জ্বল

    চলচ্চিত্রে এক সময় ছিল তার ব্যাপক পদচারণা। চলচ্চিত্রের নানামুখি উন্নয়নে তার ছিলো নিরলস প্রচেষ্টা। তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক এবং পরবর্তীতে পরিচালক-প্রযোজক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল। 

    চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সমিতির নেতৃত্বেও ছিলেন উজ্জ্বল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত তিনি। চলতি বছরের ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর এফডিসিসহ সাংস্কৃতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গেছে। রাজনীতি, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নানা দিক নিয়ে কথা হয় উজ্জ্বলের সঙ্গে। 

    বর্তমানে আপনাকে বিএনপির নানা কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও বক্তৃতা দিচ্ছেন। এর কারণ কী? 

    জবাবে নায়ক উজ্জ্বল বলেন, ‘আমাকে সভা সমাবেশ কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হঠাৎ দেখা যাচ্ছে বিষয়টি এমন নয়। বিএনপির রাজনীতিতেও আমি নতুন নই। ছোটবেলা থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আমি জড়িত। এ কথা তো বলাই যায় যে, বিএনপির রাজনীতিতে আমি অতিথি নই। একজন একনিষ্ঠ কর্মী। নানা কৌশলে সব সময় এ দলের সঙ্গে আমি ছিলাম আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। এটা সত্যি যে, এখন আমাদের মিডিয়াতে দেখা যাচ্ছে। কারণ এখন মিডিয়া সব প্রচার করতে পারে। আগে তা পারত না। এখন আমরাও কথা বলতে পারছি। আগে তো আপনারাও লিখতে পারতেন না। চাইলে যে কোনো খবর প্রচার করতে পারতেন না।’ 

    ৫ আগস্টের পর চলচ্চিত্রাঙ্গনের অবস্থা সম্পর্কে উজ্জ্বল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এ দেশের চলচ্চিত্র দৈন্যদশায় আছে। এ অবস্থার পরিবর্তন করা রাতারাতি সম্ভব হবে না। সেই ১৯৫৬ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমা দিয়ে এ দেশে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিখ্যাত সব মেধাবী নির্মাতার হাত ধরে ধীরে ধীরে এ চলচ্চিত্র একসময় একটা সোনালি সময়ে আসীন হয়। তখন ছিল এনালগ যুগ। আর এখন ডিজিটাল যুগের সূচনা হয়েছে। কিন্তু চলচ্চিত্র নির্মাণের সূতিকাগার খ্যাত এফডিসি এ ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রবর্তনে এখনো পুরোপুরি সক্ষম হয়নি। তাই এক্ষেত্রে আগে উন্নয়ন দরকার। তারপর আমাদের চলচ্চিত্রের প্রকৃত সময় আবার ফিরবে আমার বিশ্বাস।’ 

    বিগত বছরগুলোতে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের অবস্থা সম্পর্কে নায়ক উজ্জল বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৫ বছর রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতিসহ দেশের সব সেক্টর যেমন অন্যায় দুর্নীতিতে নিম্নগামী হয়েছে, চলচ্চিত্রও তার বাইরে নয়। এখানেও যথেষ্ট দলীয়করণ হয়েছে। আসলে তখন চলচ্চিত্রের যোগ্য লোকজনকে কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়গুলো পত্র-পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছে, সবাই দেখেছে। প্রকৃতপক্ষে ক্যামেরার সামনে কোনো কাজ হয়নি। যা হয়েছে পেছনে। এতে করে চলচ্চিত্রের প্রকৃত লোকজনের হাতে কোনো কাজ ছিল না। স্বৈরাচার সরকার দেশে থাকলে দেশের অধঃপতন হয়, চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’

    শিল্পীদের দল থাকতে নেই। এমন প্রবাদ আমরা শুনে আসছি। কিন্তু বিগত এক দশক বা তারও অধিক সময় যে দলাদলি আর রাজনৈতিক বৈষম্য দেখা গেছে সেটি কি আপনি লক্ষ করেছেন। এর ফল কি ভালো হয়েছে? 

    শিল্পীদের দল থাকতে নেই। এ প্রবাদ নিয়ে আমার দুটি কথা আছে। শিল্পীদের অবশ্যই দল থাকবে। আপনিও হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন প্রতিটি দলের সাংস্কৃতিক একটি সংগঠন থাকে। আমার দলেও একটি ভ্রাতৃপতিম সংগঠন আছেন। আমি সেটির সাধারন সম্পাদক। কথা হচ্ছে আমি দল বা রাজনীতি করবো সেটি রাজনীতির মাঠে। কর্মস্থলে নয়। আপনি আওয়ামী লীগ করেন ঠিক আছে সেটি আপনি গুলিস্তানে গিয়ে করেন। আমি বিএনপি করি ঠিক আছে আমি সেটি পল্টনে গিয়ে করবো। রাজনীতির মাঠেই রাজনীতি এফডিসি তো রাজনীতির জায়গা না। যারা রাজনীতির নামে বৈষম্য এফডিসিতে এনেছে তারা আজ কোথায়? কেউ কেউ তো শুনছি আত্মগোপনে আছে। কেউ কেউ তো শুনছি দেশের বাইরে চলে গেছে। তারা যদি ভালো রাজনীতি করতো তবে কেন পালিয়ে গেলো কেন আত্মগোপনে থাকতো হচ্ছে?

    চিত্রনায়ক রিয়াজ-ফেরদৌসের মতো যারা আত্মগোপনে আছেন তাদের নিয়ে আপনি কী বলবেন—এমন প্রশ্নে উজ্জ্বল বলেন, আমি দু চারজনের নাম বলতে চাই না। যারা যে কর্ম করেছে তারা  তার ফল পাবে। ভালো কর্ম  করলে ফলও ভালো হবে। তবে এটি বলতে চাই, এখানে আত্মশুদ্ধির সুযোগ আছে। কেউ যদি নিজের পিছনের কর্মের কথা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নতুন করে আসতে চায় সেটির সুযোগ আছে। কিন্তু দলবাজি তেলবাজি হবে না।’

    চলচ্চিত্র নিয়ে পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নায়ক উজ্জ্বল বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুদান প্রথা প্রবর্তন, চলচ্চিত্রের মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কল্যাণ ফান্ড গঠন, একুশে পদক প্রথা চালু থেতে শুরু করে সবই করেছেন। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে চলচ্চিত্র নিয়ে আমার আলাপ-আলোচনা হতো। তিনি দেশের এ প্রধান ও বড় গণমাধ্যমটির উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তার হাতে গড়া রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে আমি সবসময় যুক্ত ছিলাম। এখন আমি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানজনক পোস্ট সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আগামীতে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে চলচ্চিত্রের সময়োপযোগী সার্বিক উন্নয়নে আমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছি।

    হাসান সাইদুল