Tag: এআই

  • রুক্মিণীর বিকৃত ছবি অনলাইনে ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    ভারতের কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির অভিনেত্রী রুক্মিণী বসন্তকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-জেনারেটেড ভুয়া কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করার অভিযোগে বেঙ্গালুরু সাইবার ক্রাইম পুলিশ তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। নিজের বিকৃত ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার পর এই কন্নড় অভিনেত্রীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এ ব্যবস্থা নেয়। 

    কন্নড় সিনেমার উদীয়মান তারকা রুক্মিণী ‘সপ্ত সাগরাদাঁচে এল্লো’ এবং ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’-এর মতো চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত। সামাজিক মাধ্যমে নিজের আপত্তিকর এআই-জেনারেটেড ভিজ্যুয়াল দেখতে পেয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন। 

    সম্প্রতি বিকৃত করা কিছু ছবি ও ভিডিও রুক্মিণীর দাবি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মিথ্যা দাবি করা হয় যে এগুলো একটি সিনেমার শুটিংয়ের দৃশ্য।

    অভিযোগে রুক্মিণী উল্লেখ করেন, এই কনটেন্টগুলো অত্যন্ত মানহানিকর এবং এগুলো তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানসিক সুস্থতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। 

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত তিন অভিযুক্তের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন— বাগলকোট জেলার রবিকুমার (২৪), শিবমোগার বাসিন্দা চন্দ্রকান্ত (৩৩) (যিনি বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে থাকেন) এবং বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা রঞ্জিত (২৫)। পুলিশ তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে, যা এই এআই কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    অভিযুক্তদের পরবর্তীতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই চক্রের পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 

    গত মাসে সামাজিক মাধ্যমে এই ভুয়া ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রুক্মিণী বসন্ত প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করেছিলেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি বিবৃতি শেয়ার করে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে, এই ভিজ্যুয়ালগুলোর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট।

    তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার এবং আমার টিমের নজরে এসেছে যে আমার নামে কিছু এআই-জেনারেটেড ছবি অনলাইনে ছড়ানো হচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই ছবিগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট।’ 

    এই ঘটনাকে তার গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে রুক্মিণী বলেন, যারা এই কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও সাইবার ক্রাইম পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ 

    বর্তমানে রুক্মিণী বসন্তের হাতে বেশ কয়েকটি বড় প্রজেক্ট রয়েছে। তাকে সুপারস্টার যশের বিপরীতে ‘টক্সিক’ এবং জুনিয়র এনটিআর-এর সঙ্গে প্রশান্ত নীল পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাকশন ড্রামা ‘ড্রাগন’-এ দেখা যাবে। এছাড়া ধানুশের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘ডি৫৬’-এও তিনি অভিনয় করছেন বলে জানা গেছে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • গুগল-মেটার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে প্রীতি জিনতা

    জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেনস বা এআইয়ের অপব্যবহার রুখতে এবং ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বজায় রাখতে এবার আইনি পদক্ষেপ নিলেন আইপিএলের দল পাঞ্জাব কিংসের মালিক বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। 

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি, মিম এবং তার নামে ভুয়া ‘এআই চ্যাটবট পার্সোনা’ তৈরি করার অভিযোগে গুগল ও মেটাসহ একাধিক টেক জায়ান্টের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য মুম্বাই হাইকোর্টের সবুজ সংকেত পেলেন অভিনেত্রী।

    হাইকোর্টের বিচারপতি অভয় আহুজা প্রীতি জিনতার করা বিশেষ আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং মামলাটি করার অনুমতি দিয়েছেন। এর ফলে টেক দুনিয়ার শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে প্রীতির আইনি লড়াইয়ের পথ এখন একেবারে পরিষ্কার। 

    এদিকে আদালতে অভিনেত্রীর পক্ষের আইনজীবী রোহন কদম বলেন, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রীতি জিনতার পরিচয় চুরি করা হয়েছে। তাই প্রীতি এ পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন।

    কোনো ব্যক্তির নাম, কণ্ঠস্বর বা অবয়ব তার অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক বা পাবলিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা আইনত অপরাধ উল্লেখ করে প্রীতি জিনতা বলেন, তার অজান্তেই তার ইমেজকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। 

    ১৯৫৭ সালের ভারতীয় কপিরাইট আইনের অধীনে প্রীতির নিজস্ব ডিজিটাল কনটেন্ট এবং তার সুনামের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। টেক প্ল্যাটফর্মগুলোতে এমন কিছু চ্যাটবট তৈরি করা হয়েছে, যা প্রীতি জিনতার নাম ও ব্যক্তিত্ব নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো অপরাধও করা হচ্ছে। এ ছাড়া আপত্তিকর ডিপফেক ভিডিও এবং বিকৃত মিমও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    গুগল, মেটা, এক্স, জিফি, গোড্যাডির মতো যে ডজনখানেক সংস্থার বিরুদ্ধে প্রীতি মামলা করছেন, তাদের অনেকেরই অফিস মুম্বাইয়ের বাইরে বা বিদেশে। কিন্তু প্রীতি জিনতা ভারতীয় নাগরিক, যিনি মূলত মুম্বাইয়ে থাকেন এবং এখানেই কাজ করেন। 

    আইনজীবী আরও বলেন, যদিও অপরাধটি গোটা বিশ্বেই ঘটছে, তবু প্রীতির মানহানি ও সুনামের ক্ষতি মূলত মুম্বাই তথা বোম্বে হাইকোর্টের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।

    শুধু প্রীতি জিনতাই প্রথম নন, বিগত কয়েক বছরে মুম্বাই হাইকোর্ট থেকে ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের সুরক্ষামূলক আইনি স্বস্তি পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান, শত্রুঘ্ন সিনহা, শিল্পা শেঠি, অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি, গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। 

    এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের যুগে সেলিব্রিটিদের ডিজিটাল আইডেন্টিটি সুরক্ষিত রাখতে প্রীতির এ মামলাটি একটি বড় নজির হতে চলেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনয় ও চিত্রনাট্যে এআই নিষিদ্ধ করল অস্কার

    বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘অস্কার’-এর মঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপট রুখে দিতে কঠোর অবস্থান নিল অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। 

    শুক্রবার (১ মে) এক যুগান্তকারী ঘোষণায় অ্যাকাডেমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অস্কারের জন্য যোগ্য হতে হলে অভিনয় ও চিত্রনাট্যের পেছনে অবশ্যই মানুষের সরাসরি সৃজনশীলতা থাকতে হবে।

    মানুষ বনাম মেশিন: কী বলছে নতুন নিয়ম? 

    চলচ্চিত্র শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাকাডেমি তাদের যোগ্যতার শর্তাবলী বা এলিজিবিলিটি রুলসে পরিবর্তন এনেছে। 

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিনয়কে অস্কারের জন্য মনোনীত হতে হলে তা অবশ্যই ‘সরাসরি মানুষের দ্বারা প্রদর্শিত’ হতে হবে। কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনো ডিজিটাল অভিনেতা বা এআই দিয়ে নির্মিত কোনো চরিত্র অভিনয়ের জন্য বিবেচিত হবে না।

    সিনেমার স্ক্রিপ্ট বা চিত্রনাট্য অবশ্যই ‘মানুষের দ্বারা রচিত’ হতে হবে। এআই-এর তৈরি কোনো গল্প বা সংলাপ মৌলিক বা অভিযোজিত চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কারের অযোগ্য বলে গণ্য হবে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    সম্প্রতি সিনেমা জগতে এআই-এর ব্যবহার নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে প্রয়াত হওয়া জনপ্রিয় অভিনেতা ‘ভ্যাল কিলমার’-এর ডিজিটাল সংস্করণকে একটি নতুন সিনেমার প্রধান চরিত্রে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগটি এ বিতর্কে ঘি ঢেলেছে। 

    এছাড়াও গত বছর অভিনেতা ও কমেডিয়ান এলিন ভ্যান ডার ভেলডেন একজন সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ এআই অভিনেতা তৈরি করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। অ্যাকাডেমির এ নতুন নিয়ম মূলত এ ধরনের কৃত্রিম সৃষ্টিকে মানুষের মেধার সমকক্ষ হওয়া থেকে বিরত রাখবে।

    তবে অ্যাকাডেমি ছবি তৈরির অন্যান্য ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বা সম্পাদনার মতো ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হবে না। 

    অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম কোনো সিনেমার মনোনয়নের সম্ভাবনা বাড়াবেও না, আবার কমাবেও না। প্রতিটি শাখা বিচার করবে যে সৃজনশীল কাজের মূলে মানুষ কতটা সক্রিয় ছিল।’

    সতর্কবার্তা ও স্বচ্ছতা 

    অ্যাকাডেমি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, যদি কোনো সিনেমার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে তারা সেই সিনেমার নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং মানুষের অবদানের গভীরতা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় তথ্য তলব করার অধিকার রাখে।

    উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশক থেকে সিজিআই প্রযুক্তির ব্যবহার সিনেমার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও অ্যাকাডেমি মনে করে সিজিআই হলো মানুষের দ্বারা পরিচালিত একটি শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। 

    পক্ষান্তরে, এআই কেবল একটি প্রম্পটের মাধ্যমে মানুষের কাজকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা সৃজনশীলতার মৌলিক সংজ্ঞার পরিপন্থি। 

    সূত্র: বিবিসি 

    বিনোদন ডেস্ক

  • এআইয়ের মাধ্যমে নায়ক মান্নাকে পর্দায় ফেরানোয় আপত্তি পরিবারের

    মৃত্যুর দেড় যুগ পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় মান্নাকে পর্দায় ফেরানো নিয়ে আপত্তি তুলেছে তার পরিবার।

    rnrn

    গত সোমবার মুক্তিপ্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিভিত্তিক সিরিজ ‘ব্ল্যাকস্টোন’–এ খলনায়কের ভূমিকায় মান্নাকে হাজির করেছেন তরুণ নির্মাতা শাহরিয়ার গালিব।

    rnrn

    এ নিয়ে মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না বুধবার এক গণমাধ্যমকে জানান, পরিবারের অনুমতি ছাড়াই মান্নাকে সিরিজে ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষ্যে, ‘মান্নার ইমেজকে বিক্রি করা হয়েছে।’

    rnrn

    নির্মাতা শাহরিয়ার গালিবের দাবি, তিনি অনুমতি নিতে মান্নার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

    rnrn

    মান্নার স্ত্রী বলেন, ‘সিরিজটি বানানোর সময় কিংবা বানানোর পরও যোগাযোগ করা হলে সেটি মানা যেত, সেটা তারা করেনি। ট্রেলার প্রকাশের পর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা কোনো অনুমতি দিইনি।’

    rnrn

    পরিবারের অনুমতি নিয়ে হলিউডের প্রয়াত তারকাদের এআইয়ের মাধ্যমে পর্দায় ফেরানোর নজির রয়েছে। ‘ব্ল্যাকস্টোন’ সিরিজে মান্নাকে ১০ সেকেন্ডের জন্য দেখা গেছে। শাহরিয়ার গালিবের দাবি, কোনো ভিডিওতে ১০ সেকেন্ডের মতো ফুটেজ রাখতে পরিবারের অনুমতি না নিলেও চলে।

    rnrn

    সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। তবে দেশে এখনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আইন হয়নি। মাত্র একটি খসড়া নীতিমালা করেছে সরকার। প্রয়াত তারকাকে কীভাবে ফেরানো যাবে, কতটা ফেরানো যাবে, তা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা নেই। নীতিমালায় এই বিষয়গুলোর সুরাহা থাকা জরুরি বলে মনে করছেন নির্মাতা ও প্রযোজকরা।

    বিনোদন প্রতিবেদন