Tag: ইসরাইল

  • ইসরাইলপন্থি গান প্রকাশ করে তোপের মুখে ব্রিটিশ গায়ক

    বিতর্কিত ইসরাইলপন্থী গান ‘উই উইল ড্যান্স এগেইন’ মুক্তির পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডের বিখ্যাত মিউজিক্যাল ‘জিসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার’-এর প্রযোজনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ গায়ক বয় জর্জ।

    ৬৫ বছর বয়সি এই গায়কের ব্যবস্থাপক পল কেমসলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বয় জর্জ আর লন্ডনের প্যালাডিয়ামে আয়োজিত ‘জিসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার’ নাটকে অভিনয় করছেন না। 

    ১৯৮০-এর দশকে বিখ্যাত পপ ব্যান্ড ‘কালচার ক্লাব’-এর প্রধান গায়ক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান বয় জর্জ (প্রকৃত নাম জর্জ অ্যালোন ওডাউড)।

    সম্প্রতি তিনি ইসরাইল ও গাজা যুদ্ধকে সমর্থন করে একটি গান মুক্তি দেন। গানটির গীতিকবিতায় ছিল ‘তোমরা বল গণহত্যা, আমি বলি যুদ্ধ’ এবং ‘তুমি যখন আক্রান্ত হবে, সেনাবাহিনী তো সেই জন্যই।’ 

    গানটির শিরোনাম ‘উই উইল ড্যান্স এগেইন’ মুলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের একটি সঙ্গীত উৎসবে হামাসের হামলার পর নিহতদের স্মরণে ব্যবহৃত এক সংহতিমূলক বাক্য। বার্তা সংস্থা এএফপির এক হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় ১,২২১ জন নিহত হয়েছিল। 

    অন্যদিকে, জাতিসংঘের কাছে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের টানা হামলায় গাজায় ৭০,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় অন্তত ১,২১৪ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। 

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    গত ৩ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত লন্ডনের এই মিউজিক্যালে কিং হেরোড চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল বয় জর্জের। গানটি নিয়ে বিতর্কের মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, গানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। 

    ইন্সটাগ্রামের ‘থ্রেডস’-এ একটি পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বয় জর্জ লেখেন, ‘একটি গানে ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহারে সমস্যা কোথায়? মানুষ হঠাৎ এই শব্দটি নিয়ে এত অস্বস্তিতে কেন পড়ছে?’ 

    গায়কের ব্যবস্থাপক কেমসলি বলেন, ‘জর্জ কখনোই তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা অবস্থানের জায়গায় দাঁড়াতে ভয় পাননি এবং এই জন্য আমি সবসময় তাকে শ্রদ্ধা করি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নাটকে তার অংশ না নিয়ে সরে দাঁড়ানোই শ্রেয় মনে করেছি, যাতে নাটকের পরিবেশ ক্ষুণ্ন না হয়।’ 

    বিনোদন ডেস্ক

  • গানের মঞ্চে ‘গণহত্যার’ ছায়া, ইউরোভিশনের ‘দ্বিমুখী নীতি’তে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ

    ইউরোভিশন সং কনটেস্ট বা ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তারা সম্পূর্ণ ‘রাজনীতিমুক্ত’। তবে চলতি বছর তাদের এই দাবি খোদ প্রতিযোগিতার মঞ্চেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    শনিবার (১৬ মে) বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ দর্শক চোখ রাখবেন ইউরোভিশনের চূড়ান্ত পর্বে। জমকালো পোশাক, আলোকসজ্জা আর ইউরোপপ গানের এই উৎসবের মূল সুরটাই ছিল কৌতুক আর বিনোদন। আয়োজক সংস্থা ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ) একে সংহতি ও সঙ্গীতের উৎসব বলে দাবি করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইলের অংশগ্রহণ সেই দাবিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

    গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন চলাকালীন দেশটির এই অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে শিল্পী ও সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন চালানোর পর রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করেছিল ইবিইউ। অথচ ইসরাইলের ক্ষেত্রে একই পদক্ষেপ না নেওয়ায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ উঠেছে। 

    সমালোচকদের প্রশ্ন—এমন ভূরাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে এই আয়োজনকে আর কতটা নিরপেক্ষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বলা চলে? 

    ইসরাইলের ‘সফট পাওয়ার’ ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ

    ইউরোভিশন কেবল একটি গানের লড়াই নয়, প্রতি বছর ১৬ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর এক বিশাল ভূরাজনৈতিক মঞ্চ। আর এই ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক প্রভাবকে কাজে লাগাতে মরিয়া ইসরাইল। 

    নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালে সুইডেনের মালমোতে অনুষ্ঠিত আসরে নিজেদের প্রচারণার জন্য ইসরাইল ৮ লাখ ডলার খরচ করেছিল।

    এমনকি ২০২৫ সালের আসরেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত অফিশিয়াল চ্যানেলগুলো থেকে পেইড ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালানো হয়, যেখানে ইউরোপের দর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা ইসরাইলকে সর্বোচ্চ ২০টি করে ভোট দেয়। বিচারকদের কম নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও দর্শকদের বিপুল ভোটে ইসরাইল দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। ফলাফল ঘোষণার পর ভোট কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ উঠলে ইবিইউ মাথাপিছু সর্বোচ্চ ভোটের সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১০-এ নামিয়ে আনে।

    ‘গণহত্যার মঞ্চে গান নয়’

    বার্লিনভিত্তিক সংগীতশিল্পী মলি নিলসন আল জাজিরাকে বলেন, ইসরাইল ভালো করেই জানে এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে কীভাবে ‘কালচারাল হোয়াইটওয়াশিং’ বা সাংস্কৃতিক শুদ্ধিকরণ করা যায়। 

    তিনি ‘নো মিউজিক ফর জেনোসাইড’ (গণহত্যার মঞ্চে গান নয়) শীর্ষক একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করা এক হাজারেরও বেশি শিল্পীর একজন। এই চিঠির মাধ্যমে ইসরাইলকে বাদ না দেওয়া পর্যন্ত ইউরোভিশন বয়কটের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    নিলসনের মতে, শিল্প যদি শুধু বিনোদনই হয়ে ওঠে যেখানে পৃথিবীর নিষ্ঠুর বাস্তবতা নিয়ে কথা বলা যাবে না, তবে এমন শিল্পের কোনো অর্থ নেই। যারা বয়কট করছেন না, তারাও আসলে পরোক্ষভাবে একটি রাজনৈতিক অবস্থান নিচ্ছেন।

    সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর ঐতিহাসিক বয়কট

    ইসরাইলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার পর নেদারল্যান্ডস, স্লোভেনিয়া, স্পেন, আইসল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের মতো দেশের সরকারি বা প্রধান সম্প্রচার মাধ্যমগুলো এবারের প্রতিযোগিতা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

    স্লোভেনিয়ার আরটিভির প্রেসিডেন্ট নাতালিজা গোরাচাক বলেন, এটি আমাদের বছরের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল, কিন্তু স্লোভেনীয় শিল্পী ও জনগণের দাবির মুখে এবং গাজা-লেবাননের মানুষের প্রতি মানবিক সমবেদনা থেকে আমরা এটি বয়কট করেছি। এ ছাড়া ইসরাইলি হামলায় নিহত শত শত সাংবাদিকদের প্রতি সংহতি জানাতে তারা ইউরোভিশনের স্লটে ‘ভয়েস অব প্যালেস্টাইন’ নামের বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ডাচ ব্রডকাস্টার এভরোট্রস ইসরাইলের বিরুদ্ধে গত বছরের প্রতিযোগিতায় ‘প্রমাণিত হস্তক্ষেপ’ এবং গাজা যুদ্ধে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। আয়ারল্যান্ডের আরটিইও গাজার মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ করে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

    আরও পড়ুন
    আরও পড়ুন

    আর্থিক ধাক্কা ও প্রতিবাদের সুর

    এই বয়কটের ফলে বড় আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছে ইবিইউ। শুধু স্পেনই এই প্রতিযোগিতায় ৩ লাখ ইউরোর বেশি ফি দেয়। সব মিলিয়ে বড় ৫টি দেশের প্রত্যাহারে প্রায় ১০ লাখ ইউরোর (১১ লাখ ৬০ হাজার ডলার) তহবিল হারিয়েছে আয়োজক কমিটি। এ ছাড়া বিতর্কের ভয়ে প্রথম সারির অনেক তারকাও এবার অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। যেমন, পর্তুগালের প্রতিনিধি বাছাইয়ের মূল প্রতিযোগিতা থেকে ১৬ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ১৩ জনই নাম প্রত্যাহার করে নেন।

    বর্ণবাদ ও দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ

    রাশিয়াকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করা ইবিইউর যুক্তি হলো—ইসরাইলি ব্রডকাস্টার ‘কান’ সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি স্বাধীন সংস্থা। তবে স্লোভেনিয়ার গোরাচাক এই দাবি নাকচ করে মনে করিয়ে দেন, নেতানিয়াহুর সরকারই আগের সংস্থা বন্ধ করে এটি চালু করেছিল।

    তীব্র বৈষম্যের চিত্র ফুটে ওঠে ফ্ল্যাগ পলিসিতেও। প্রতিযোগিতার ভেন্যুতে ইসরাইলি পতাকা বা রেইনবো পতাকার অনুমতি থাকলেও ফিলিস্তিনি পতাকা বা ফিলিস্তিনপন্থী কোনো প্রতীক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    এডওয়ার্ড সাঈদ ন্যাশনাল কনজারভেটরি অব মিউজিকের কর্মকর্তা এলেনি মুস্তাকলেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে রাষ্ট্রটি লাইভ টিভিতে দুই বছর ধরে গণহত্যা চালাচ্ছে, তাদের প্রতিনিধি মঞ্চে এসে পরিবারের ভালোবাসার গল্প শোনায়, আর ওদিকে গাজায় পুরো পরিবার মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। এই ভণ্ডামি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

    ভিয়েনায় প্রতিবাদের ঝড়

    ইতিমধ্যেই ভিয়েনায় চলমান সেমিফাইনালের মঞ্চে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি প্রতিযোগী নোয়াম বেটান যখন তার গান ‘মিশেল’ শুরু করেন, ঠিক তখনই অডিটোরিয়াম থেকে ‘স্টপ দ্য জেনোসাইড’ এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান লাইভ ব্রডকাস্টে ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত চারজন দর্শককে হল থেকে বের করে দেয়।

    ২০২৪ সালে মালমোতে বা ২০২৫ সালে জুরিখে যে উত্তেজনা ছিল, অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পরিস্থিতি হয়তো ততটা সহিংস নয়। তবে ইউরোভিশন বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম লি অ্যাডামসের মতে, এবারের আসরে দর্শক, শিল্পী ও প্রতিনিধি দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের গভীর ‘অস্বস্তি ও অসন্তোষ’ বিরাজ করছে, যা উৎসবের মূল আনন্দটাকেই পুরোপুরি ম্লান করে দিয়েছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

    বিনোদন ডেস্ক

  • ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ম্যানেজারকে বরখাস্ত করলেন দুয়া লিপা

    গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক হামলায় পরোক্ষ সমর্থনের দায়ে নিজের ম্যানেজারকে বরখাস্ত করেছেন দুয়া লিপা। ব্রিটিশ-আলবেনীয় নাগরিক দুয়া লিপা এ আমলের সবচেয়ে জনপ্রিয় পপ-তারকাদের অন্যতম।

    সোমবার দ্য মেইলের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের গণমাধ্যম আনাদোলু নিউজ ও কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

    সংগীত জগতের বড় অনুষ্ঠান গ্ল্যাস্টনবারি ফেস্টিভাল থেকে ফিলিস্তিনপন্থি আইরিশ ব্যান্ড নিক্যাপ-কে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে লেখা একটি চিঠিতে সই দেন দুয়া লিপার ইহুদি ধর্মাবলম্বী ম্যানেজার ডেভিড লেভি।

    গ্ল্যাস্টনবারি ফেস্টিভালের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ইভিসের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে সই দেন সংগীতাঙ্গনের একাধিক কর্মী। চিঠিতে নিক্যাপকে গান পরিবেশ করতে না দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।

    আনাদোলু জানায়, সবার ওপরেই ছিল লেভির নাম।

    ওই চিঠি জনসম্মুখে প্রকাশ পেলে অনেক শিল্পী ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ওই অনুষ্ঠানে কোনো বাধা ছাড়াই নিক্যাপ গান পরিবেশ করে।

    চিঠিতে সই দিয়েছিলেন দুয়া লিপার এজেন্ট ডেভিড লেভি। তিনি ডব্লিউএমই ট্যালেন্ট এজেন্সির কর্মী।

    ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, দুয়া লিপা মনেপ্রাণে একজন ফিলিস্তিনপন্থি মানুষ। তার ধ্যান-ধারণার সঙ্গে তার ম্যানেজারের দৃষ্টিভঙ্গিতে আকাশ-পাতাল ফারাক। মূলত এ কারণেই চাকরি হারিয়েছেন ডেভিড লেভি।

    সূত্র দ্য মেইলকে আরও বলেন, ‘দুয়া মনে করেন ওই ম্যানেজার গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের ভয়াবহ আচরণকে সমর্থন করেন। যে চিঠিটিতে তিনি সই দিয়েছেন, তা থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।’

    আইরিশ ব্যান্ড নিক্যাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের হামাসকে সমর্থন করে। তবে ব্যান্ডটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    দলের অন্যতম সদস্য মো শারার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের আদালতে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়। এখনো ওই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।

    সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার ফিলিস্তিনের পক্ষে নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন দুয়া। ইসরাইল সমর্থক ম্যানেজারকে বরখাস্ত করা এর সর্বশেষ নজির। 

    যুগান্তর ডেস্ক

  • ইসরাইলি অভিনেত্রী থাকায় সিনেমা নিষিদ্ধ

    ডিজনির নতুন সিনেমা ‘স্নো হোয়াইট’ মুক্তি পেয়েছে গত ২১ মার্চ। তবে লেবাননে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে না। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ইসরাইলি অভিনেত্রী গ্যাল গ্যাদত। লেবাননের প্রভাবশালী সংবাদপত্র আন-নাহার-এর বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিনোদনভিত্তিক গণমাধ্যম ডেডলাইন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ আল-হাজ্জার সরাসরি সিনেমাটি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনে চলমান ইসরাইলি হামলা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সিনেমায় গ্যাল গ্যাদতের উপস্থিতির কারণেই লেবাননের চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিনেমাটি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করে। তবে এটি নতুন কিছু নয়।

    বৈরুতভিত্তিক মিডল ইস্ট ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থা ইতালিয়ান ফিল্মস জানায়, গ্যাল গ্যাদত আগে থেকেই লেবাননের ‘ইসরাইল বয়কট তালিকা’তে অন্তর্ভুক্ত। ফলে তার অভিনীত কোনো চলচ্চিত্রই দেশটিতে মুক্তি পায়নি।

    তবে শুধু গ্যাল গ্যাদতের কারণে নয়, আরও নানা বিতর্ক ঘিরে ছিল এই সিনেমা। গ্রিম ভাইদের রূপকথা ‘স্নো হোয়াইট’-এ বলা ছিল চরিত্রটি হবে ‘বরফের মতো সাদা’। তাই বহু ভক্ত প্রত্যাশা করেছিলেন, পর্দায় সেই বর্ণনার প্রতিফলন থাকবে।

    কিন্তু প্রায় চার বছর আগে যখন ডিজনি ঘোষণা দেয় যে রেচেল জেগলার হবেন নতুন ‘স্নো হোয়াইট’, তখন থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। সিনেমা মুক্তির আগে সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়, যার জেরে ডিজনি বাধ্য হয় ছবির প্রিমিয়ার সীমিত রাখতে।

    প্রসঙ্গত, ১৯০২ সালে ‘স্নো হোয়াইট’ নিয়ে প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এরপর তা এসেছে নির্বাক, সবাক ও অ্যানিমেশন সংস্করণে। আর এবার ডিজনি নতুন করে সেই রূপকথাকে ফিরিয়ে এনেছে বড় পর্দায়।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সংহতি আর শান্তির প্রত্যাশায় ফিলিস্তিনিদের পাশে আছি: শাকিব খান

    গাজার মানুষের জন্য হৃদয় কাঁদছে সারা বিশ্বের মুসলিমসহ সাধারণ মানুষের। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। গাজাবাসীর জন্য সংহতি প্রকাশ করে ডাকা হয়েছে বিশ্বব্যাপী ধর্মঘট। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও রাস্তায় রাস্তায় ফিলিস্তিনের পক্ষে নেমেছেন। তবু থামছে না ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বর্বরতা। 

    মুহুর্মুহু বোমা হামলা চালিয়ে অসংখ্য নিরপরাধ ফিলিস্তিনিকে হত্যাযজ্ঞে নেমেছে ইসরাইলি বাহিনী। রেহাই দিচ্ছে না নারী-শিশু থেকে শুরু করে চিকিৎসক, সাংবাদিক ও উদ্ধার কর্মীদেরও। এরই মধ্যে গত ২০ দিনেই কমপক্ষে ৫০০ শিশু হত্যা করেছে ইসরাইল।

    ইসরাইলি এ তাণ্ডবলীলায় চুপ থাকেননি বিনোদন জগতের তারকারাও। তারাও সামাজিক মাধ্যমে ইসরাইলের এই বর্বরতার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাই তো গাজাবাসীর জন্য সংহতি প্রকাশ করলেন ঢালিউডের কিং শাকিব খান— সংহতি আর শান্তির প্রত্যাশায় ফিলিস্তিনিদের পাশে আছেন তিনি।

     সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে শাকিব খান লিখেছেন— গাজা শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়; এটি যেন আজ নির্যাতিত মানুষের প্রতীক। তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে— সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছু করতে না পারা। তাদের (ফিলিস্তিনি) পাশে আছি— ভালোবাসা, সংহতি আর শান্তির প্রত্যাশায়।

    শাকিব খান ছাড়াও গাজায় বর্বর হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। রোববার বিকালে নিজের ফ্রি প্যালেস্টাইন স্যুটের একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন— আমি যখন এই পোস্ট লিখছি, ততক্ষণে গাজার অস্তিত্ব কী মুছে গেছে? আমরা কি পারলাম না এই শহরটাকে, এই দেশটাকে বাঁচাতে? ফিলিস্তিনের এই ধ্বংসাবশেষের দায় কি আমরা কেউ এড়াতে পারব?

    এদিকে ঢালিউড সিনেমা জগতের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। বিশ্বনেতাদের সমালোচনা করেছেন তিনি। গতকাল রোববার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে অভিনেত্রী লিখেছেন— দক্ষিণ গাজায় ইসরাইলি সেনারা ১৫ জন জরুরি চিকিৎসাকর্মীকে হত্যা করেছে। গাজায় যে নিষ্ঠুর আর হৃদয়হীন গণহত্যা ইসরাইল চালিয়ে আসছে— এটি তারই অংশ। পৃথিবীকে তারা ফিলিস্তিনশূন্য করার নিয়ত নিয়ে নেমেছে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অস্কারজয়ী নির্মাতাকে সামরিক ঘাঁটিতে পাশবিক নির্যাতন ইসরাইলের

    লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে অস্কারের ৯৭তম আসরে ফিলিস্তিনি তথ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর জন্য অস্কার জেতেন নির্মাতা হামদান বল্লাল। হামদান বল্লালসহ আরও তিন নির্মাতা এ অস্কার জেতেন। সেই তথ্যচিত্রে তারা ইসরাইলি দখলদারত্বের মুখে ফিলিস্তিনিদের জীবন সংগ্রামের চিত্র ফ্রেমবন্দি করেন।

    সম্প্রতি ফিলিস্তিনি ‘নো আদার ল্যান্ড’ তথ্যচিত্রে ইসরাইলি দখলদারত্ব তুলে ধরা এ নির্মাতা এবার ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরেন নির্মাতা হামদান বল্লাল। তিনি জানান, ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে অবস্থিত সুসিয়া গ্রামে অভিযান চালায় ইসরাইলি সৈনারা; এ সময় হামদানকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে পশ্চিমতীরের সামরিকঘাঁটিতে ফেলে রাখা হয়, চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন।

    সেই নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরে নির্মাতা বলেন, পুরোটা সময় তার চোখ বাঁধা ছিল। এমনকি বরফের মতো ঠান্ডা হিমঘরে তাকে বন্দি করে রাখা হয়। তার সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। হামদান বলেন, সারারাত ঠান্ডায় কাতরাচ্ছিলাম। সেই ঘরে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ইসরাইলি সেনারা আমার এমন অবস্থা দেখে হাসাহাসি করছিল।

    এদিকে সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিকরা সেই নির্মাতার সঙ্গে আরও দুই ফিলিস্তিনিকে পশ্চিমতীরের ইসরাইলি ঘাঁটি থেকে বের হতে দেখেছেন। এ সময় তাদের মুখে ব্যাপক আঘাতের চিহ্নসহ রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়।

    বিনোদন ডেস্ক