Tag: আরজি করকাণ্ড

  • আরজি করকাণ্ডে সরকারের বিরোধিতা করেছি বলে কাজ পাইনি: শ্রীলেখা

    আরজি করকাণ্ডে সরকারের বিরোধিতা করেছি বলে কাজ না দেওয়ার নির্দেশ এসেছে উপরমহল থেকে অভিযোগ করে আনন্দবাজারের এক সাক্ষাৎকারে জানান টালিউড অভিনেতা শ্রীলেখা মিত্র। তিনি বলেন, আরজি করকাণ্ডে একটু বেশিই জোরালো প্রতিবাদ করেছি। অবশেষে তার ফল পেলাম। দুই-দুটা বিজ্ঞাপনের কাজ হাতছাড়া হয়ে গেল। দুটা কাজ থেকেই ভালো অঙ্কের পারিশ্রমিক পেতাম।  ক্লায়েন্ট যোগাযোগ করেছিলেন এজেন্সির সঙ্গে। এজেন্সির যিনি প্রতিনিধি তিনি আমাকে পছন্দ করেন। চেয়েছিলেন কাজটা আমিই করি। কিন্তু ওর তো কোথাও না কোথাও বাধা রয়েছে। উনি বললেন—দিদি আরজি করকাণ্ডে তোমার বক্তব্য তোমার বিরুদ্ধে গেছে। তুমি সরকারের বিরোধিতা করেছ। তোমাকে দিয়ে কাজ না করানোর নির্দেশ এসেছে। 

    শ্রীলেখা বলেন, ছবি হাতছাড়া হচ্ছে প্রায়শই। রিয়্যালিটি শো থেকে বাদ পড়ছি। বিজ্ঞাপনী ছবির জন্য নির্বাচিত হয়েও শেষে আর কাজ হলো না। অভিযোগের তালিকা অনেক লম্বা। কিছু জানিয়েছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেক কিছুই জানাইনি। জানিয়ে লাভ নেই, তাই জানাইনি। 

    তিনি বলেন, কিন্তু আবারও আমি সরব। আরজি করকাণ্ড নিয়ে অনেকের অনেক বক্তব্য। প্রায় রোজই কেউ কিছু না কিছু বলছেন। আমি একটু বেশিই জোরালো প্রতিবাদ করেছি। অবশেষে তার ফল পেলাম। দু-দুটা বিজ্ঞাপনের কাজ হাতছাড়া হয়ে গেল। 

    তিনি আরও বলেন, আমি আর এ ধরনের ঘটনায় বিচলিত হই না। কোনো কালেই মধু মাখিয়ে কথা বলতে পারি না। বাকিরা যতটা না মনের গভীর থেকে মৃতা চিকিৎসকের জন্য ন্যায়বিচার চেয়েছেন, আমার চাওয়া ছিল আরও গভীর। আমার বক্তব্য ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। বাংলায় এই দুই পদেই মুখ্যমন্ত্রী আসীন। তাহলে কাকে বলব? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই মুখ খুলতে হবে। সেটিই করেছি।

    এ অভিনেত্রী বলেন, ভয় না পাওয়ার আরও একটা কারণ— আমার মাথার ওপরে কোনো দায় নেই। ঋণের বোঝা নেই। প্রচুর চাহিদা নেই। দামি গাড়ি, দামি বাড়ি, দামি পোশাকের বিলাসিতা নেই। ফলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজনও নেই। একইভাবে যতটা সম্ভব সৎ থেকে কাজ করা যায় ততটাই সৎ আমি। 

    তিনি বলেন, একমাত্র দেয়ালে পিঠ ঠেকে না গেলে মিথ্যে কথা বলি না। বললেও এমন মিথ্যে বলি না যা অপরের ক্ষতি করবে। বরাবর নিজের কাজ নিজেই জোগাড় করে এসেছি। কোনো দিন তথাকথিত ‘সুগার ড্যাডি’ নেই। ভালোবাসার মানুষজনেরও বড়ই অভাব। সব মিলিয়ে নিজেই নিজের হর্তা-কর্তা-বিধাতা। ফলে যা-ই ঘটুক ঠিক চালিয়ে নেব।

    শ্রীলেখা বলেন, আজ আমি পরিচালক হলে এমন অভিনেতা বাছাই করতাম, যিনি আক্ষরিক অর্থেই সৎ ব্যক্তি। তা হলেই আমার বিজ্ঞাপন বেশি বিশ্বাসযোগ্য হতো। কারণ জনতা সেই বিশ্বাসযোগ্য মুখ দেখে জিনিস কেনার ভরসা পেত। আমার মতো করে তো সবাই ভাববেন না। অনেকে বলেন— এত বিতর্ক, এত বিরোধিতা যখন, তখন একটু কম কথা বললেই তো হয়। তিনি বলেন, আমি বলেছি— আমি পারব না। এই বয়সে এসে নিজেকে বদলানো সম্ভব নয়। তা ছাড়া মাথা নোয়াতে শিখিনি। তাই আমার মতো করেই চলব। এককালে খুব কম উপার্জন করিনি। সেগুলো উড়িয়ে নষ্ট করিনি। আমার চলে যাবে। বরং এ ধরনের ঘটনা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। বুঝতে পারি— আমিই সঠিক। ঠিক পথে হাঁটছি বলেই আমাকে ঘিরে এত কথা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • ভাইরাল সুদীপ্তার পোস্ট, কী বলেছেন অভিনেত্রী

    আরজি করকাণ্ডে নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনে প্রথম থেকেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও তার দিদি। সম্প্রতি প্রতীকী অনশনেও যোগ দেন তার দিদি বিদপ্তা চক্রবর্তী ও তার স্বামী বিরসা দাশগুপ্ত। আর এসবের মাঝেই এদিন আচমকা সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় অভিনেত্রীর করা দুই বছর পুরোনো একটি পোস্ট এবং তার কমেন্টের একটি স্ক্রিনশট। সেই পোস্টে কী বলেছিলেন অভিনেত্রী।

    এর আগে ২০২২ সালে কালার্স বাংলার একটি কুকারি শো সঞ্চালনা করতেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। সেই শোর প্রথম পর্ব সম্প্রচারিত হওয়ার পর অভিনেত্রী একটি পোস্ট করেন, সেখানেই তাকে কটাক্ষ করে বসেন এক ব্যক্তি। তিনি তার মন্তব্যে লিখেছিলেন— ঠিক কাজই নিয়েছেন। বাড়িওয়ালি সিনেমায় তো রান্নার কাজই করতেন। ওখান থেকেই হাতেখড়ি।

    এর জবাবে সেই সময়ই সুদীপ্তা লিখেছিলেন— একটু ভুল হয়ে গেল যে! বাড়িওয়ালি সিনেমায় রান্নার কাজ করিনি। অভিনয় করেছি একটি চরিত্রে, যে অভিনয়ের জন্য সেই বছরে সারা ভারতবর্ষের সব ছবির অভিনেত্রীদের মধ্যে আমাকে সেরা নির্বাচন করা হয় এবং সেই পুরস্কার হাতে তুলে দেন ভারতবর্ষের তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি। 

    তিনি আরও বলেন, আর আমার অভিনয়ের হাতেখড়ি অনেক আগে। সেই নিয়ে বিস্তারে আর গেলাম না। আর এই শোয়ে আমি রান্না করছি না, শো সঞ্চালনা করছি মাত্র। এবার বলি— রান্না করা অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ, আর ভালো রান্না করা আরও কঠিন। তাই হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে জল বের করে ফেলে এই কঠিন কাজটাকে সামান্য করে দিতে কোনো অশিক্ষিত লোকই পারবে না। আপনিও না। আপনি রান্না করতে পারেন কিনা জানা নেই। তবে লেখা পড়ে মনে হচ্ছে পারেন না। পারলে রান্নাকে সম্মানের চোখে দেখতেন। বাড়িতে যে বা যারা রান্না করে দেন বলে দুমুঠো খেতে পান, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।

    এদিন সুদীপ্তা চক্রবর্তীর এই মন্তব্যের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে যায় আরজি কর আন্দোলনের মাঝে। অভিনেত্রীর সমর্থনে অনেকেই পোস্ট করেন সেই স্ক্রিনশট। বলাই বাহুল্য, তার এভাবে স্পষ্ট কথা স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া, প্রতিবাদী সত্তাকে তার অনুরাগীরা বরাবর শ্রদ্ধা করে এসেছেন। 

    তাই এদিন এক ব্যক্তি এই স্ক্রিনশটগুলো পোস্ট করে লিখেছেন—চড় মারতে সবসময় যে গায়ের জোর লাগে তা নয়, কিছু ক্ষেত্রে চড় মারার জন্য শিক্ষাই যথেষ্ট। আবার অন্য এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন— সবার হাতে স্মার্টফোন আর সস্তার নেট এসে কে কাকে কি বলছে কোনো বোধ নেই৷ নিজেদের আয়নাতেও দেখে না৷ নিজের কি যোগ্যতা, পড়াশোনা, অবদান তার নেই ঠিক৷ শিল্পী দেখলেই তাকে যা ইচ্ছে বলে দিয়ে খুব বড় হনু হয়ে গেলাম আর কি! করুণা হয় এদের দেখে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • কথা রাখলেন সুদীপ্তা

    দেখতে দেখতে দুই মাস হয়ে গেল আরজি করকাণ্ডে নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার। এর মধ্যেই কলকাতাবাসী খানিক উৎসবমুখী। রাস্তায় ঢল নেমেছে মানুষের। উৎসবের মধ্যেই মহাষষ্ঠীতেও ধর্মতলার অনশন মঞ্চে আমরণ অনশনে সাতজন চিকিৎসক। বোধনের দিনে টনক নড়ে রাজ্য সরকারের। আন্দোলনকারী ডাক্তারদের বৈঠকে ডেকে পাঠায় স্বাস্থ্যভবন। 

    এদিকে ত্রিধারা সম্মিলনী পূজামণ্ডপ থেকে আরজি করকাণ্ডের নির্যাতিতার বিচার চেয়ে স্লোগান দেওয়ায় ৯ জনকে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ। তা নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হলো কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারের কাছে। রাজ্যের এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মন ভালো নেই টালিউড অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর। 

    আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ তিনি। শুরুর দিন থেকে পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, জুনিয়র ডাক্তারদের হয়ে সওয়াল করেছেন। কাঞ্চন মল্লিকের কটাক্ষের প্রতিবাদে রাজ্যসরকারের দেওয়া সম্মান ফিরিয়েছেন। এদিন সুদীপ্তা জানালেন, ছোটবেলার থেকে এই প্রথম দুর্গা ষষ্ঠীর দিন নতুন জামা গায়ে ঠেকাননি তিনি। 

    সামাজিকমাধ্যমে পোস্টে সুদীপ্তা লিখেছেন— ‘মা বলেন, পূজার ষষ্ঠীর দিন নতুন জামা পরতেই হয়। ছোটবেলা থেকে এটাই জেনে আর মেনে এসেছি। এই প্রথম দুর্গাপূজা… ষষ্ঠীর দিন নতুন জামা পরলাম না। আমার মতো করে এটাই আমার প্রতিবাদ। কিছু কিনিনিও। ইচ্ছেও করেনি।’ সুদীপ্তার পোস্টে সমর্থন জানিয়ে অনেকে বলেছেন— ‘এই বছর নতুন জামা কিনিওনি, পরিওনি।’ 

     মুখ্যমন্ত্রীর ‘উৎসবে ফিরুন’ মন্তব্য়ের বিরোধিতা করেছিলেন সুদীপ্তা। জানিয়েছিলেন, ‘উৎসবে ফিরছি না’। নিজের কথার দাম রেখেছেন তিনি। দুদিন আগেই পূজার উদ্বোধন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে পরোক্ষে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী। তিনি লিখেছিলেন— ‘ওটা ডাক্তারদের সমস্যা, ডাক্তাররা বুঝে নেবেন। সবাই উৎসবে ফিরুন দয়া করে। উদ্বোধন হয়ে গেছে অনেকগুলো পূজাই। বাকিগুলোতে আর্ট ওয়াক চলছে।’ পূজার উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি আঁকাকে বিঁধেই এই পোস্ট, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারও। 

    আরজি করের জুনিয়রদের পাশে দাঁড়িয়ে সিনিয়রদের ডিউটি থেকে ইস্তফা হোক বা অনশন মঞ্চ থেকে অনশনরত চিকিৎসকদের মর্মস্পর্শী ভিডিও পোস্ট, সুদীপ্তার সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে এখন শুধুই প্রতিবাদ। দুর্গাপূজার উৎসবে যোগ না দিলেও সমাজ শোধনের উৎসবে শামিল হয়েছেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আরজি করকাণ্ডে জুনিয়র ডাক্তারদের আমরণ অনশন, যা বললেন সুদীপ্তা

    আরজি করকাণ্ডে অবশেষে আন্দোলনে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। দেখতে দেখতে দুই মাস হতে চলল আরজি করের নারকীয় ঘটনার। রাজ্য সরকারকে ‘ডেডলাইন’ দিয়ে শুক্রবার কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলেন তারা। তবে সঙ্গে রাখলেন বড় শর্তও। ধর্মতলার মঞ্চ থেকে তারা হুঁশিয়ারি দিলেন— আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি আমাদের দাবিগুলো না মানা হয়, আমরা নিজেদের জীবন বাজি রাখব। এই মঞ্চ থেকে আমরা আমরণ অনশনের দিকে এগোব। তারা ১০টি দফা দাবি রেখেছেন। যাতে সঠিক রোগী পরিষেবা, সিসিটিভি, অভয়ার ন্যায়বিচার, থ্রেট কালচারের মতো সব কিছুই আছে।

    ধর্মতলার মঞ্চ থেকে আমরণ অনশনের হুমকি দিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তাররা, যা শেয়ার করে নিলেন টালিউড অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। ডাক্তারদের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে সুদীপ্তা চক্রবর্তী লিখেছেন— আমরণ অনশন…! হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে এবার। আর ভাবতে পারছি না!! তিনি আরও লিখেছেন— অশেষ দুর্নীতি, মিথ্যাচার, ধাপ্পাবাজি, লোকদেখানো মিটিং আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ফল এবার ভয়ানক হতে চলেছে, বোধহয়।

    এ নিয়ে একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন— আজকের মিটিংয়ে একদম সামনে থেকে বক্তব্যটা শুনলাম। ভাবতে ভীষণ অবাক লাগল। যেই মুহূর্তে এ আমরণ অনশন শব্দটা উচ্চারণ করলেন, এক মুহূর্তের জন্যও গলা কাঁপল না! সত্যি এই মাটি ক্ষুদিরাম- সুভাষ চন্দ্রের মাটি। প্রণাম ও শ্রদ্ধা। আরেকজন লিখেছেন—আমরা উৎসব করি, বরং আর ছেলেমেয়েগুলো না খেয়ে… ছিঃ ছিঃ, কি লজ্জা। উফফফ মা দুর্গা তুমি সহায় হও, সত্যের লড়াই এত কঠিন।

    এদিকে শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত জুনিয়র ডাক্তারদের মিছিল আসার পর ওয়াই চ্যানেলে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা ছিল তাদের। এরপরই ধর্মতলায় পুলিশের সঙ্গে বচসা বাধে জুনিয়র ডাক্তারদের। মেট্রো চ্যানেলের সামনের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে— দাবি ওঠে পুলিশের তরফ থেকে। ওয়াই চ্যানেলে তারা বসার কথা জানালে পুলিশের সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়। 

    এরই মাঝে জুনিয়র ডাক্তারদের আরেকটি দল, যারা ওয়াই চ্যানেলে সাংবাদিক বৈঠকের জন্য কিছু আসবাব নিয়ে আসছিল, তাদের গাড়ি আটকায় পুলিশ। সেখানে কলকাতা মেডিকেল কলেজের এক জুনিয়র ডাক্তারকে লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে জুনিয়র ডাক্তাররা তারপর ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলেই বসে পড়েন। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ধর্মতলা। ডাক্তারদের দাবি— দুজন জুনিয়র ডাক্তারকে একা পেয়ে এই জঘন্য কাজ করল কলকাতা পুলিশ।

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রিয়জন হারানোর কষ্টের কথা জানালেন ঋতাভরি

    আরজি করকাণ্ডে নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যায় বিচারের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন দুনিয়া তথা ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে। সেই মুহূর্তে টালিউড অভিনেত্রী ঋতাভরির জীবনে এক দুঃসংবাদ নেমে আসে। অভিনেত্রীর সঙ্গে বুচকির ৯ বছরের সম্পর্ক। ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে হারাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে চক্রবর্তীর পরিবারে।

    আরজি করকাণ্ডে নারী সুরক্ষা নিয়ে সরব হন অভিনেত্রী ঋতাভরি চক্রবর্তী। সম্প্রতি নবান্নে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে সিনেজগতে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকও করেন তিনি। এ ছাড়া নিজের কাজের ব্যস্ততা রয়েছে তার। এর মাঝেই প্রিয়জন হারানোর কষ্টের কথা জানালেন অভিনেত্রী। 

    ঋতাভরির কাছে এ কষ্ট যেন আপনজন হারানোর মতোই। অভিনেত্রীর সঙ্গে বুচকির ৯ বছরের সম্পর্ক। ২০১৫ সালে তাদের বাড়িতে আসে বুচকি। ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের ছেড়ে চলে যায় সে। মঙ্গলবার সামাজিকমাধ্যমে বুচকির একটি কোলাজ ভিডিও পোস্ট করেছেন ঋতাভরি। সেখানে বুচকি কখনো তার মায়ের সঙ্গে খেলছে, কখনো সে আদর করছে অভিনেত্রীকে। প্রিয় পোষ্যের মৃত্যুতে মন খারাপ তার। 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ঋতাভরি লিখেছেন— কত আনন্দ দিয়েছিস আমাদের সোনা। যেখানেই থাকিস খুব ভালো থাকিস। স্বর্গলোকে আজ আনন্দ। নিশ্চয়ই তোকে পেয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠেছে তারা। আমরা তোকে ভালোবাসি এবং তোর কথা খুবই মনে পড়বে। শান্তিতে ঘুমা বুচকি। 

    অভিনেত্রীর এমন শোকের সময় তাকে সমবেদনা জানিয়েছেন ভক্ত-অনুরাগীরা।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আরজি করকাণ্ড নিয়ে একটি কথাও বলব না: মিঠুনের বউমা

    আরজি করকাণ্ডে নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যায় যেখানে পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন জগত তথা ভারতজুড়ে তোলপাড়, সেখানে বলিউড-টালিউড শক্তিমান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বউমা বলেছেন, আরজি করকাণ্ড নিয়ে তিনি একটি কথাও বলবেন না। কেন এ কথা বললেন অভিনেত্রী মাদলসা?

    টানা চার বছর ধরে হিন্দি মেগা ‘অনুপমা’র ‘কাব্য’ হচ্ছেন মাদলসা। রেটিং চার্টের এক নম্বর ধারাবাহিক থেকে সরে গেলেন তিনি। হিন্দি মেগা ‘অনুপমা’র অন্যতম আকর্ষণ মাদলসা। বাংলা ধারাবাহিক শ্রীময়ীর ‘জুন আন্টি’ই হিন্দিতে ‘কাব্য’। দীর্ঘদিন একটি চরিত্র নিজ অভিনয়গুণে জনপ্রিয় করার পর সেই ধারাবাহিক থেকে হঠাৎ করে বিদায় বলে দিলেন মাদলসা। গত সোমবার সেই মর্মে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও করেছেন এ অভিনেত্রী। তার ঘোষণায় অবাক ছোটপর্দার দর্শকরা। কোন সমস্যায় রেটিং চার্টের এক নম্বর ধারাবাহিক ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন মাদলসা— এমন প্রশ্ন উঠেছে দর্শকদের মনে? 

    আনন্দবাজার অনলাইনে শেয়ার করে অভিনেত্রী মাদলসা বলেছেন, শুরু থেকে ‘কাব্য’ চরিত্রটি ধারাবাহিকের অন্যতম জোরালো স্তম্ভ। জনপ্রিয়তার কারণ। দিন যত এগিয়েছে গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্দায় চরিত্রটির জৌলুস আরও বেড়েছে। আমিও অভিনয় করে আনন্দ পেয়েছি। 

    তিনি বলেন, ইদানীং তার মনে হয়েছে— চরিত্রের সেই জোরালো দিক আর যেন নেই। ‘কাব্য’ তার আকর্ষণ হারিয়েছে, যা অভিনেত্রীকে বিষণ্ন করে তুলেছে। তিনিও অভিনয় করে তৃপ্তি পাচ্ছিলেন না। তাই গত এক মাস ধরে ভাবছিলেন— এবার বোধহয় সরে আসাই মঙ্গল।

    মিঠুন চক্রবর্তীর বৌমা এরপর কথা বলেন ধারাবাহিকের পরিচালক ও প্রযোজকের সঙ্গে। তারাও ওর কথার মর্যাদা দিয়েছেন। এ অভিনেত্রী বলেন, চার বছর একটা চরিত্রকে দিয়ে ফেলা মানে অনেকটা সময় নিজেকে একটা খোলসে আটকে রাখা। এর পরও থেকে গেলে সেটা জোর করে থেকে যাওয়া হতো। ওটা একেবারেই চাই না। 

    চার বছর ধরে একটা চরিত্র বহন করলে তার ছাপ থেকে যায় উল্লেখ করে মাদলসা বলেন, ‘কাব্য’ ছোটপর্দার তথাকথিত নারী চরিত্র নয়। মানসিক দিকে থেকে যথেষ্ট জোরালো ও শক্তিশালী। ফলে এই চরিত্র তাকে কোনো তকমায় বন্দি করবে না। বরং তিনি ‘কাব্য’র বদৌলতে আগামীতে নতুনভাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারবেন।

    মাদলসা বলেন, বাস্তবেও ‘কাব্য’কে নিজের মধ্যে দেখতে পাই। আমিও শক্ত ধাঁচের মেয়ে। যতটা পরিবারকেন্দ্রিক, ততটাই বাইরের দুনিয়ায় সাবলীল। আমাকে চট করে বশে আনা যায় না। মাদলসার এই মানসিকতা হয়তো একুশ শতকের অনেক মেয়েরই বেঁচে থাকার অস্ত্র।

    কলকাতার আরজি করকাণ্ড কিংবা দক্ষিণী বিনোদন দুনিয়ার হেমা কমিটি রিপোর্ট যে বলছে, নারীনিগ্রহ এখনো মেয়েদের প্রধান বাধা— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আরজি করকাণ্ড নিয়ে একটি কথাও বলব না। কারণে-অকারণে বিতর্ক পছন্দ করি না। তা ছাড়া বিষয়টি বিচারাধীন। তিনি বলেন, জন্ম থেকেই নিরাপত্তার কারণে নারীকে প্রত্যেক মুহূর্তে সজাগ থাকতে হয়। তার পরও বলব— নিজেদের অস্তিত্ব যাতে সংকটে না পড়ে, তার জন্য আরও সজাগ থাকতে হবে। আরও বুদ্ধি করে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে চট করে কোনো সমস্যা তাকে কাবু করতে না পারে।

    যুগান্তর ডেস্ক

  • একটি ছোট্ট কাজ অন্যকে অনুপ্রাণিত করতে পারে: রুক্মিণী

    আরজি করকাণ্ডে শহরের পরিস্থিতি অস্থির। লাগাতার নাগরিক প্রতিবাদের পাশাপাশি পুজো বয়কট করার ডাক দিয়েছেন কেউ কেউ। পাশাপাশি টালিউডে যৌন হেনস্তার অভিযোগে তোলপাড়। এর মধ্যেই আসন্ন পুজোয় মুক্তি পাচ্ছে টালিউড অভিনীত রুক্মিণী মৈত্রের ছবি ‘টেক্কা। পুজো নিয়ে কী ভাবছেন এ অভিনেত্রী?

    সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এবং দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চার্স লিমিটেডের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘টেক্কা’। এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন রুক্মিণী মৈত্র। ছবিটি পুজোয় মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্মাতা। আগামী ৮ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে  সিনেমাটি। এতে রুক্মিণী পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। আছেন দীপক অধিকারী দেব, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, অনির্বাণ চক্রবর্তী প্রমুখ।

    সাম্প্রতিক নারীনিগ্রহের ঘটনাগুলো রুক্মিণীর অজানা নয়। নারীসুরক্ষার জন্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বার্তা দিতে চেয়েছেন এ অভিনেত্রী।

    সম্প্রতি বিদেশে ছুটি কাটিয়ে শহরে ফিরেছেন রুক্মিণী মৈত্র। তার পরেই শুরু হয়ে গেছে তার নতুন ছবি ‘টেক্কা’র প্রচার। এ অভিনেত্রী বলেন, এখনো কিছুই ভেবে উঠতে পারিনি। শহরে ফিরেই পরিবারে কিছু সমস্যা হয়। এখন তো ছবির প্রচারে ব্যস্ত হয়ে যাব। আরজি কর আবহে সাধারণ মানুষের একাংশ উৎসবের বিপক্ষে। রুক্মিণীর মতে, কেউ কোনো বিষয়কে সমর্থন করবেন, না কি তার বিরোধিতা করবেন— সেটি ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্ত। অভিনেত্রী বলেন, কেউ চাইলে উৎসবে অংশ না নিতেই পারেন, সেটি তার সিদ্ধান্ত। তার জন্য কেউ তাকে অসম্মান করবে না।

    তিনি বলেন, উৎসব খুবই সীমিতসংখ্যক মানুষের কাছে ‘উৎসব’ হয়ে ওঠে। রুক্মিণী বলেন, সমাজের খুব ছোট্ট একটা অংশ অর্থনৈতিক দিক থেকে সুরক্ষিত। তারা আগামী এক বছর কিছু না করলেও হয়তো কোনো সমস্যা হবে না। 

    কিন্তু অভিনেত্রীর আশঙ্কা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের সেই অংশকে নিয়ে, যারা পুজোর কয়েক দিনের উপার্জনের ওপর নির্ভর করে আগামী কয়েক মাসের পরিকল্পনা করেন। রুক্মিণী বলেন, ‘‘উৎসবে ফিরতে বলছি না। কিন্তু এ মানুষগুলোর দিকে সাহায্যের হাতটা বাড়িয়ে দিই, তা হলে হয়তো মানুষ হিসেবেও আমরা আরও একটা ধাপ এগিয়ে যাব। আরজি করের ঘটনাকে মনে রেখেই রুক্মিণী জানালেন, ভালো-খারাপের মিশেলেই সমাজ। কিন্তু কোনো একটি খারাপ ঘটনাকে ভালো করতে গিয়ে আরও একাধিক খারাপ পদক্ষেপের বিরোধী তিনি।

    টালিউডে একের পর এক নারীনিগ্রহের ঘটনা সম্পর্কে অবগত রুক্মিণী। একদিকে ইন্ডাস্ট্রিতে নারীসুরক্ষা বজায় রাখতে টলিপাড়ার নারী শিল্পীরা সংগঠন তৈরি করেছেন। অন্যদিকে হেমা কমিটির আদলে রাজ্যে একটি কমিশন তৈরির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিনেত্রী ঋতাভরি চক্রবর্তী। রুক্মিণী বলেন, খুবই ভালো উদ্যোগ। সুদীপ্তাদি (অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী) আমাকে সেদিনই বিষয়টি জানিয়েছেন। আর আমার মনে হয়, এ ধরনের সংগঠনে নিরপেক্ষ একটি প্যানেলও থাকা উচিত।

    রুক্মিণী বলেন, অনেক দিন আগেই ইন্ডাস্ট্রিতে নারীসুরক্ষার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। তার আক্ষেপ, যেটি ঘটেছে, সেটি সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক! দুঃখের বিষয়— কিছু একটা ঘটে গেলে তখন আমরা নড়েচড়ে বসি। দেরি হলেও সেটি শুরু হয়েছে দেখে আমি খুব খুশি। এ অভিনেত্রী বলেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নারীসুরক্ষার পক্ষে বার্তা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ঘটনা, কিন্তু আমার এখনো মনে আছে। কোনো একটি প্রতিযোগিতায় আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, নিজের জন্য কী করার ইচ্ছা জানতে চাওয়া হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, আমি নায়িকাসুলভ কোনো উত্তর দেব। আমি বলেছিলাম— আমি নারীসুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে চাই।

    দেবের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রুক্মিণী। শুটিংয়ের সময় নারী শিল্পীদের সুবিধার জন্য তাদের প্রযোজনা সংস্থা যে বাড়তি সুবিধা ফ্লোরে রাখে, সে কথা অনেকেরই জানা। রুক্মিণী বলেন, নারীদের সুরক্ষা বা হাইজিন শুধু নয়, আমরা কোনো প্রজেক্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নারীসুরক্ষার বিষয়টি খেয়াল রাখি। শিল্পীদের সুবিধার্থে তাই প্রযোজনার সঙ্গে নিজেও জড়িয়ে থাকেন রুক্মিণী। তিনি বলেন, পুরুষ ও নারী— প্রত্যেকেই যেন সঠিক সময়ে গাড়ি পান, ভালো খাবার পান— এ রকম কিছু জিনিস ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়। কারণ একজন মানুষকে ভালো এবং সুরক্ষিত পরিবেশ দিলে আমার বিশ্বাস— তিনিও নিজের সেরাটা দিতে পারেন।

    নারীসুরক্ষা বজায় রাখতে অবশ্যই পদক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করেন রুক্মিণী। তবে ‘চ্যাম্প’ ছবির সময় থেকেই যে তিনি নিজের সংস্থার মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টা শুরু করেছেন বলে জানান তিনি। রুক্মিণী বলেন, নিজেদের ঢাক পেটাতে চাই না। কিন্তু আমি একটা ইতিবাচক উদ্যোগ বা একটা ছোট্ট পদক্ষেপ নিলে চারজন সেটা দেখেও আরও ছড়িয়ে দিতে পারে, যা আরও কিছুসংখ্যক মানুষকে হয়তো অনুপ্রাণিত করবে।

    রুক্মিণী নিজেও একাধিক ছবি দেবের সঙ্গে সহপ্রযোজনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রযোজনা সংস্থার তরফে ‘বাঘা যতীন’ ছবির জন্য প্রায় দু’-তিন হাজার অভিনেত্রীর অডিশন নেওয়া হয়। রুক্মিণী বলেন, সংস্থার কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয় যে, কাজের বাইরে কোনো অভিনেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। আর আগামী দিনেও একই নিয়ম জারি থাকবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • মমতার মন্তব্যের সমালোচনায় ঋত্বিক

    টালিউড অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী খুব সক্রিয়ভাবে আরজি করকাণ্ড নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করছেন। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উৎসবে ফেরার নির্দেশ প্রসঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেছেন। একই সঙ্গে জানালেন পুজোয় বাংলা ছবির ব্যবসা কেমন হতে পারে, সে নিয়ে নিজের মতামত।

    টালি টাইমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মমতার উৎসবে ফেরা মন্তব্য নিয়ে ঋত্বিক চক্রবর্তী বলেন, এটা তো দুর্গোৎসব। অসুর বিনাশের পর দুর্গাপূজা হয়। আগে সেটি হোক। বিনাশ হলে তারপর মানুষ নিশ্চয়ই উৎসবে ফিরবে। 

    তিনি বলেন, ‘উৎসবে ফিরে আসার মতো মন মেজাজ নেই। আর এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। কেউ কাউকে ঘাড় ধরে উৎসবে ফেরাতে পারে না। তবে প্রতি বছরই কিন্তু কিছু মানুষের মন পুজোর সময় ভারাক্রান্ত থাকে নানা কারণে, এবারও থাকবে— এটাই।

    পূজায় বাংলা ছবির ব্যবসা প্রসঙ্গে ঋত্বিক বলেন, আমরা যে কাজটা করি সেটা তো বিনোদন জগতের কাজ। এখন মানুষের সামগ্রিকভাবে যদি মুড খারাপ থাকে, মানুষ যদি কোনো কারণে রেগে থাকে বা দুঃখে থাকে, তাহলে সে কতটা বিনোদিত হতে চায় তাহলে সেটা অবশ্যই একটা প্রশ্ন। কিন্তু আমি কাউকে বলতে পারি না বিনোদনে ফিরে এসো। তিনি বলেন, আমরা যে কাজ করি সেটা বিনোদন নয়, সেটা কাজ আর চার-পাঁচটা কাজের মতোই। আমরা যখন কাজ করি আমরা বিনোদিত হই না। কিন্তু আমাদের কাজটা অন্যদের বিনোদন দেয়। কিন্তু সেই কাজ কীভাবে মানুষকে বিনোদন দেবে, সেটা সময় অনুযায়ী বিচার হবে। সবই সময় অনুযায়ী বিচার হয়।

    তিনি বলেন, যখন ছাত্রদের পরীক্ষা চলে, তখন সিনেমা রিলিজ হয় না। ফলে সময় সমাজ কীভাবে চলছে, সেটার ওপর সব নির্ভর করে।

    উল্লেখ্য, রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘সন্তান’ মুক্তি পাচ্ছে পূজায়। সেখানে ঋত্বিক চক্রবর্তীরও আছেন। আরও আছেন মিঠুন চক্রবর্তী।

    বিনোদন ডেস্ক

  • প্রধানমন্ত্রীর কাছে কী দাবি জানালেন শুভশ্রী

    পশ্চিমবঙ্গের আরজি করকাণ্ডের ঘটনায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা করার এ ঘটনার রেশ পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে। একে একে বলিউডের তারকারাও কলকাতার এ ঘটনার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

    rnrn

    মৃতা চিকিৎসকের বিচারের দাবিতে আরও সরব হয়েছেন হৃতিক রোশন, আলিয়া ভাট, কারিনা কাপুর, প্রীতি জিনতা, রিচা চড্ডা ও টুইঙ্কল খান্না, আয়ুষ্মান খুরানা, সামান্থা রুথ প্রভুরা। যদিও বলিউডের তিন খানের তরফে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বলিউডের নতুন প্রজন্মের অভিনেতারা ইতোমধ্যে সরব হয়েছেন। সে তালিকায় রয়েছেন অমিতাভ বচ্চনের নাতনি নব্যা নভেলি নন্দা। পিছিয়ে নেই শাহরুখকন্যা সুহানা খানও।

    rnrn

    আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত চিকিৎসকের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে পথে আছেন টালিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। গত ১৫ আগস্ট থেকে একের পর প্রতিবাদ মিছিল চলছে কলকাতা শহরে। বাড়িতে বসে থাকেননি কলকাতার তারকারাও। সাধারণ মানুষের সঙ্গে পথে নেমেছেন তারাও।

    rnrn

    এভাবেই যেন সবার ভাবনা একাকার হয়ে ক্রমশ বৃহৎ আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসের আজ প্রথম দিন, নাগরিক সমাজের ‘মহামিছিল’। সেখানে হাঁটবেন খ্যাতনামা সব তারকা। সবার একটাই দাবি— ‘বিচার চাই’। বারবার রাষ্ট্রের কাছে জবাব চেয়েছেন সবাই। এবার মোদির কাছে অনুরোধ শুভশ্রীর। তুললেন ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের প্রসঙ্গ।

    rnrn

    তবে এই প্রথম নয়, এর আগে ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-কর্মসূচি প্রসঙ্গ টেনে সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী। কখনো আবার সমাজে মেয়েদের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার বার্তাও দিয়েছেন। দিন কয়েক আগেই শুভশ্রী প্রশ্ন তোলেন— রাতারাতি নোটবন্দি হতে পারে, লকডাউনের ঘোষণা হতে পারে। তা হলে রাতারাতি ধর্ষকের কেন ফাঁসি হতে পারে না? এবার শুভশ্রীর মোদির কাছে অনুরোধ— স্বচ্ছ ভারতের নয়, আমাদের সুরক্ষিত ভারতের প্রয়োজন। যদিও সম্প্রতি এমনই এক পোস্ট সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই পোস্ট শেয়ার করে নিচ্ছেন অনেকেই। ১৪ আগস্ট রাত থেকে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন শুভশ্রী। প্রযোজক-পরিচালক তৃণমূল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে পথেও নেমেছিলেন তিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আরজি করকাণ্ডে মমতাকে যা বললেন হেমা মালিনী

    আরজি করকাণ্ডে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী হেমা মালিনী। পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেছেন, বাংলায় যা হচ্ছে, ভালো হচ্ছে না। বিজেপিকর্মীরাই শুধু প্রতিবাদ করছেন, আপনার মুখে কোনো কথা নেই।

    এ ঘটনায় গণবিক্ষোভের আবহ গোটা বাংলাজুড়ে চলছে। ১৪ আগস্টের পর থেকে প্রতিবাদ মিছিল চলছে দেশজুড়ে। কোনো মিছিলে রাজনৈতিক রঙ লাগছে, আবার কোথাও রয়েছে নাগরিক সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সবার দাবি একটাই— ‘বিচার চাই’।

    গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আরজি করকাণ্ডে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী হেমা মালিনী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘বাংলায় যা হচ্ছে, ভালো হচ্ছে না। বিজেপি কর্মীরাই শুধু প্রতিবাদ করছেন। আপনার কোনো সাড়াশব্দ নেই।

    নারীদের ওপর যে হিংসার ঘটনা ঘটছে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল বলেও মনে হেমা মালিনী। তিনি বলেন, আমি মমতাজিকে অনুরোধ করব, যেটা সঠিক, সেটি করুন। আর দেরি করবেন না। গোটা দেশ অপেক্ষা করছে। দোষীর দ্রুত সাজা হওয়া উচিত।

    এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ শুধু রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সারা দেশজুড়ে চলছে। পিছিয়ে নেই বলিউড তারকারাও— অভিনেত্রী আলিয়া ভাট, কারিনা কাপুর খান, সামান্থা রুখ প্রভুরা সরব হয়েছিলেন ৩১ বছরের এ তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু নিয়ে। কলকাতার এ ঘটনা শুনে অবাক হয়েছেন অভিনেত্রী শাবানা আজমিও। তিনি পুনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে জানান ধর্ষণ থেকে মুক্তির উপায়। অভিনেত্রী বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ভয়ঙ্কর। আমি বিরক্ত এটা দেখে, এখনো এ ঘটনা ঘটে চলেছে সমাজে। ২০১২ সালে নির্ভয়াকাণ্ডের পর জাস্টিস বর্মা কমিটির রায়ের পরও এগুলো ঘটছে ভেবেই বিরক্ত।’ 

    এই অস্থির সময় কীভাবে মুক্তি পাবে ধর্ষণ থেকে, সেই প্রসঙ্গে শাবানা বলেন, ‘প্রথমত নারীদের পণ্য রূপে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। এবং আমাদের মজ্জাগত যে পুরুষতন্ত্র রয়েছে, তাকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে হবে।’

    বিনোদন ডেস্ক