Tag: আমিন খান

  • সিনেমা আমাকে নতুন জন্ম দিয়েছে: আমিন খান

    বিনোদন জগতের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নোংরা পলিটিকসের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা আমিন খান। মনোবল শক্ত ছিল, পরিবার পাশে ছিল; তাই হয়তো আত্মহত্যা করেননি বলে জানান তিনি। আমি আমার মতো করে লড়ে গেছি, সিনেমা জগতে জায়গা করে নিয়েছি বলেও জানান আমিন খান। 

    একসময়ে শুটিংয়ে অ্যাকশন-কাটে যার দিন কেটেছে, এখন তিনি পুরোদস্তুর চাকরিজীবনে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বড় দায়িত্বে আছেন অভিনেতা আমিন খান। মাঝে ২০২৩ সালে নতুন করে আলোচনায় আসেন আরাভ খানকাণ্ডে। পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে সেই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় সোনা ব্যবসায়ী আরাভ খানকে নিয়ে বেশ কিছু খবর। নামের মিল থাকায় অনেকে মনে করছেন, ওই আরাভ খান বাংলাদেশের ঢালিউড নায়ক আমিন খানের ভাই, যা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় খানের পরিবারকে। 

    সেই সময় একটি গণমাধ্যমে আমিন খান বলেছিলেন—দুবাইয়ের আরাভ খান আমার ভাই নন। কী যে এক ঝামেলায় পড়েছি, আরাভ খান নামের আমার কোনো ভাই নেই। যে আরাভ খান মনে করে অনেকেই আমার কাছে জানতে চাচ্ছেন, তিনি কি আমার ভাই, সেই আরাভ খানকে আমি চিনি না। গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারলাম তার কথা। অনেকেই ভুল করে তাকে আমার ভাই মনে করছেন, জানতে চাইছেন—এ ঘটনায় বিব্রত বোধ করছি। আমার ভাইয়ের নাম আশরাফুল ইসলাম। সে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিল। সেখানে তার নাম আরাভ থাকতে পারে। এখান থেকে কেউ কেউ মনে করছেন তিনিই আমার ভাই। এ ঘটনায় সবার ভুলটা ভাঙানো দরকার।

    নব্বই দশকে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আমিন খানে যাত্রা। এই কার্যক্রমে নির্বাচিত হয়েও ফিল্মি পলিটিকসের কারণে দুই বছর কোনো সিনেমার কাজ করতে পারেননি তিনি। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় প্রথম সিনেমা ‘অবুঝ দুটি মন’। মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত এ সিনেমা মুক্তির আগে বাদল খন্দকারের ‘দুনিয়ার বাদশা’ সিনেমায় কাজ করেন তিনি। সিনেমাটি সুপারহিট ব্যবসা করে। এ সিনেমাই তাকে অ্যাকশন ঘরানার আগ্রহী হওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেয়, তার আগে মুখোমুখি হতে হয় অনেক ঘটনার।

    চাচার উৎসাহে ১৯৯০ সালে এফডিসি আয়োজিত নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমে অংশ নেন আমিন খান। সেই সময় ২০ থেকে ২২ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে নিজেকে সেরা হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি। সেই সময়কার কথা মনে করে আমিন খান বলেন, খুলনা থেকে ঢাকায় আসি। গ্রাম থেকে আসা আমি কাউকে চিনি না ও জানি না। একমাত্র অভিভাবক আমার চাচা। তিনিও সিনেমার কেউ নন। ডানে যাব না, বাঁয়ে যাব— কিছুই জানি না। তারপরও অডিশনে টিকে গেলাম। অডিশনের পরই বাংলাদেশের স্বনামধন্য ও প্রভাবশালী একজন পরিচালক আমাকে দিয়ে সিনেমা বানানোর আগ্রহ প্রকাশ করলেন। প্রতিযোগিতা শেষে সিনেমার নামও ঘোষণা করলেন, কিন্তু আমাকে নিলেন না। আমি চুপচাপ রইলাম। সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রেখে চলেছি। তা না হলে হয়তো আত্মহত্যা করতাম। এর মধ্যে সেই সময় সবচেয়ে মেগা হিট তিনটি সিনেমার প্রস্তাবও আমার কাছে আসে। কিন্তু পরিচালককে কথা দেওয়ার কারণে সিনেমাগুলো আমার করা হয়নি। ওই পরিচালকের একজন শিষ্য আমাকে নিয়ে সিনেমা বানাতে চাইলেন, অজ্ঞাত কারণে তা–ও হলো না! 

    ‘অবুঝ দুটি মন’ করার আগে তিনটি সিনেমার সাইনিং মানি নিয়েছিলাম। কোনোটিতে কাজ করা হচ্ছে না। এদিকে আমাকে প্রস্তাব দেওয়া সিনেমাগুলোও মুক্তি পেতে লাগল, মন খারাপ লাগা শুরু হলো। বুঝে গেছি, পলিটিকসে পড়ে গেছি। চাচার সঙ্গে ইস্কাটনে থাকতাম। লজ্জায় বাড়িতেও যেতে পারতাম না। দুই বছরে ঈদেও খুলনায় যেতে পারিনি। 

    তবে এই কষ্টের সময়ে সেই সময়ের সাংবাদিকদের খুব ভালোভাবে পাশে পেয়েছেন আমিন খান। তারা এই আমিন খান নামটিও দেন। সবার কাছে আমিন খান নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম ছিল আমিনুল ইসলাম খান, ডাকনাম আমিন। ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি অনুষ্ঠানে নামটি দেন তারা।

    সেই সময়ের সাংবাদিকরা আমাকে মানসিকভাবে ভীষণ সাপোর্ট করেছেন। ভাই ও বন্ধুর মতো ছিলেন। সাংবাদিক আহমেদ কামরুল মিজান ভাই তো ‘অবুঝ দুটি মন’ সিনেমাতে অভিনয়ের ব্যবস্থা করে দেন। এই পরিচালকের ‘আজকের হাঙ্গামা’ সিনেমাটি তখন সুপারহিট। ওই সিনেমার প্রস্তাবও আমার কাছে এসেছিল। ততদিনে নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রম থেকে নির্বাচিত হওয়ার দুই বছর কেটে গেছে। ভাবলাম— এখন আর বসে থাকার মানে হয় না। তারপর কাজ শুরু করলাম। কার্টেসি হিসেবে সেই প্রভাবশালী পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। জানতে পারি, তিনি দেশের বাইরে। তার ঢাকায় আসার আগে আমার সিনেমার মহরত আর শুটিং শুরু হয়ে যায়। আসার খবর শুনেই তাকে আবার বলতে যাই— তখন যে খারাপ ব্যবহার আমার সঙ্গে করেছিলেন, আশাহত হলাম। চরম বাজে ব্যবহার, যা আজও ভাবলে অবাক হই। 

    এফডিসিতে পা ধরে সালাম করতে চাইলে পা সরিয়ে নেন। তাদের বড় একটা সিন্ডিকেট ছিল। আমার প্রথম সিনেমা রিলিজের পর এই সিন্ডিকেট সক্রিয় হলো। নেতিবাচক প্রচার করতে লাগল। ১০ বছর আমাকে তাদের সিন্ডিকেটের সঙ্গে কাজ করতে দেয়নি।

    আমিন খানের মতে, তার পেছন ফিরে যাওয়ার জায়গাও ছিল না। তাই শতবঞ্চনা সত্ত্বেও মাটি কামডে পড়ে ছিলেন। সমস্যা যেন পিছু ছাড়ে না আমিনের। ‘অবুঝ দুটি মন’ মুক্তির দুই বছর পর কাজ শুরু করেন ‘প্রিয়জন’ সিনেমার। এর মধ্যে আরও কয়েকটি সিনেমাতে অভিনয় করা হয়েছে তার। ত্রিভুজ প্রেমের সেই গল্পের সিনেমার পরিচালক মোহাম্মদ হোসেনই।

     ১৯৯৫ সালে ব্যাংককে ‘প্রিয়জন’ সিনেমার শুটিং করতে গেলাম। আমি ছাড়াও আছেন রিয়াজ ও শিল্পী। ১২ দিনের শুটিংও করলাম। গান, দৃশ্যসহ অনেক কিছুই করা হয়েছে। ঢাকায় ফিরলাম। ঢাকায় আসার পর আমার সঙ্গে সিনেমাসংশ্লিষ্ট কারও যোগাযোগ নেই। এরই মধ্যে সাংবাদিকরা আমাকে জানালেন— সালমান শাহকে নিয়ে ‘প্রিয়জন’ সিনেমার মহরত হবে। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা। কী পরিমাণ হতাশায় পড়ে যাই বলে বোঝাতে পারব না। আমি সিনেমার জন্মদাতা মোহাম্মদ হোসেনের কাছে জানতে চাই— তার সিনেমা থেকে এভাবে বাদ পড়ার অর্থ। তিনি বললেন— আমিন খান তুমি ভালো অভিনেতা না, বাজারে তোমার চাহিদা নেই। তাই তোমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাগে-দুঃখে ও কষ্টে এফডিসিতে যাওয়া বন্ধ করে দিই। এর মধ্যে একদিন আমারই আরেকটি সিনেমার ডাবিং করে বের হয়ে দেখছি, সেই ‘প্রিয়জন’ সিনেমারই শুটিং হচ্ছে ডাবিং থিয়েটারের সামনে। অভিনেতা বলেন, বলতে পারেন— আমার জীবন সিনেমার মতো হয়ে গেল। আবার বড় একটা আঘাত। সৃষ্টিকর্তার কী নির্মম পরিহাস, সালমান শাহ তখন হটকেক। তার আগপর্যন্ত কোনো সিনেমা ফ্লপ নেই তার ডিকশনারিতে। ‘প্রিয়জন’ দিয়েই প্রথম ফ্লপের দেখা পায় সালমান শাহ। ভাগ্য ভালো আমি ছিলাম না, তা না হলে ফ্লপের ভাগিদার আমিই হতাম। আমি তখন সময় কাটাতে চন্দ্রিমা উদ্যানের লেকে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকতাম। তখন কাজের চাপও ছিল না। একটা সময় ওই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠি।

    আমিন খান বলেন, ২০০৮ সালে মান্না ভাই মারা যাওয়ার পর আরেকটি গ্রুপ সক্রিয় হলো। সিন্ডিকেট তৈরি হলো। আমাদের সময়ে যারা প্রোডাকশন বয় কিংবা ক্রেন চালাত, তারা প্রযোজক বনে গেল। তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে অনেক কিছু করা শুরু করল। ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভাবল না। আমার কাছে বিষয়গুলো পছন্দ না হওয়াতে সরে গেলাম। আর নিয়মিত হলাম না।

    দেশের সিনেমায় লম্বা সময় ধরে কাজ করতে গিয়ে একটা উপলব্ধি হয়েছে আমিন খানের। জানালেন সারা পৃথিবীতে সিনেমাতে কাস্টিং ডিরেক্টর থাকেন। গল্পের প্রয়োজনে যাকে কাস্টিং করা দরকার, তিনি তাকে নির্বাচিত করেন। অডিশন নেন। অথচ বাংলাদেশে এই মনোভাব তৈরি হয়নি। নিজের জীবনের একটা অভিজ্ঞতার কথাও বললেন একসময়ের জনপ্রিয় এ নায়ক। একবার প্রযোজক ও পরিচালক আমার কাছে অসাধারণ একটা গল্প নিয়ে হাজির হলেন। সবকিছু শোনার পর তাদের বলেছিলাম— আমাকে নিয়েন না। এ সিনেমাতে রিয়াজকে নিয়েন, ভালো হবে। কারণ আমার রোমান্টিসিজমের প্যাটার্ন আলাদা, অন্য রকম। পরিচালক ও প্রযোজক আমার কথা শুনে থ হয়ে যান।

    বাংলাদেশের সিনেমার কাজে এখনো পেশাদারি মনোভাব গড়ে ওঠেনি বলে জানান আমিন খান। তার মতে, ‘বাংলাদেশে প্রফেশনালিজমের চেয়ে ইমোশনাল ব্যাপারগুলো কাজ করে বেশি। যার সঙ্গে যার খাতির বেশি, আবদারের সম্পর্ক, তাকে দিয়ে কাজ করানো হয় বেশি, যা অনেক বড় একটা অন্তরায়। বলতে পারেন চলচ্চিত্রজগতের পলিটিকস আমার ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমিন খান বললেন, চলচ্চিত্রের জীবনটা খুব মিস করি। ওটাই আমাকে নতুন জন্ম দিয়েছে। নায়ক আমিন খান হয়ে বাঁচতে চাই।

    উল্লেখ্য, ১৯৯৩ থেকে একটানা ২০০২ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন আমিন খান। ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন। স্ত্রী স্নিগ্ধা খান। ২০০২ সালে প্রথম বাবা হন। জন্মের পর নানা জটিলতায় ভোগার পর দুই বছরের মাথায় তার সেই সন্তান মারা যায়। এই দুই বছরে মাত্র তিনটি সিনেমাতে কাজ করেন তিনি। এরপর তাকে আবার কাজে নামতে হয়। টানা ২০১০ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৬৫টির মতো সিনেমাতে কাজ করেন তিনি। এরপর আগ্রহ কমতে থাকে। 

    আমিন খান এখন সে রকমভাবে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে নেই। স্ত্রী স্নিগ্ধা খান ও দুই ছেলে রাইয়ান খান আর মাঈন খানকে নিয়ে বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় থাকেন। দুই ছেলে স্কুলে পড়ে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ছেলেকে নিয়ে সিনেমা করছেন আমিন খান, থাকছে ১০ লাখ টাকার রহস্য

    নব্বইয়ের দশকে ঢালিউড চলচ্চিত্রে পা রাখেন আমিন খান। ‘সুদর্শন অভিনেতা’খ্যাত আমিন খানের অ্যাকশন ও রোমান্টিক হিরো হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। এরপর নায়ক হিসাবে তিনি অভিনয় করেছেন বহু সিনেমায়। ‘হৃদয় আমার’, ‘ফুল নেবো না অশ্রু নেবো’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘বীর সন্তান’, ‘বাংলার কমান্ডো’, ‘হীরা চুনি পান্না’, ‘হৃদয়ের বন্ধন’সহ অনেক সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। এরই মধ্যে নিজের ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে পর্দায় আসছেন অভিনেতা। যেখানে উঠে আসবে বাবা-ছেলের ১০ লাখ টাকা নিয়ে খুনসুটি। যদিও এ রহস্য জানতে থাকতে হবে অপেক্ষায়।

    অনেক দিন ধরেই দেশের জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড মার্সেলের প্রতিনিধিত্ব করছেন অভিনেতা আমিন খান। সম্প্রতি মার্সেলের চলমান ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন ২২-এর ১০ লাখ টাকা অফারের একটি বিজ্ঞাপনে উপস্থিত হন তিনি। সেই কমার্শিয়ালে নিজের ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে স্ক্রিন শেয়ার করবেন অভিনেতা।

    জানা গেছে, বিজ্ঞাপনটি শিগগিরই বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফরমে দেখতে পাবেন আমিনভক্তরা। এ বিষয়ে আমিন খান বলেন, রাজধানী ঢাকার কাছেই শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে একটি রিসোর্টে মনোরম প্রাকৃতিক লোকেশনে বিজ্ঞাপনের চিত্র ধারণ করা হয়েছে। শিগগিরই দেশের প্রায় সব টিভি চ্যানেলে প্রচার শুরু হবে বিজ্ঞাপনচিত্রটির। 

    তিনি বলেন, মার্সেলের চলমান ‘ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন ২২’-এর আওতায় দেশের যে কোনো শোরুম থেকে মার্সেল ব্র্যান্ডের ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন ও সিলিংফ্যান কিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন ক্রেতারা। এ অভিনেতা বলেন, বিজ্ঞাপনটি মূলত নির্মিত হয়েছে ওই ক্যাম্পেইনকে হাইলাইট করেই। আশা করছি আগের মতোই দর্শকরা আমাদের গ্রহণ করবেন।

    এদিকে বাবার পথেই হাঁটছেন কনিষ্ঠ পুত্র ঈশান। এর আগেও মার্সেল এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছিল এই স্টারকিড। ৪০ সেকেন্ড ব্যাপ্তির সেই বিজ্ঞাপনে ঈশানের উপস্থিতি মুগ্ধ করেছে দর্শককে। বিজ্ঞাপনচিত্রটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পরই ভাইরাল হয়েছে এই ক্ষুদে মডেল; প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার।

    উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত জীবনে স্নিগ্ধা খানের সঙ্গে সংসার পেতেছেন আমিন খান। এ দম্পতির দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। বর্তমানে টেলিভিশন নাটক-টেলিফিল্ম ও করপোরেট জগত নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ চিত্রনায়ক।

    বিনোদন ডেস্ক

  • একফ্রেমে দুই খান, কেন?

    অভিনেতা শাকিব খান ও অভিনেতা আমিন খান— বর্তমান সময়ে দুজনে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় তারকা। প্রায় দুই যুগ আগে তাদের একসঙ্গে সিনেমায় পথচলা। তাদের দুর্দান্ত অভিনয়ে একাধিক ব্যবসা সফল সিনেমা পেয়েছে ইন্ডাস্ট্রি। এরপর আস্তে আস্তে দুজন দুদিকে। এখন একসঙ্গে তাদের স্ক্রিনে দেখা যায় না। দর্শকরা চাইলেও তাদের দেখা যায় না।

    অনেক দিন পর আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একই ফ্রেমে দেখা গেল শাকিব খান ও আমিন খানকে। ছবিতে দেখা যায়, দুজনে পরস্পরের কাঁধে কাঁধ রেখে থামস-আপ দেখাচ্ছেন। দুই খানের মুখে যেন হাসিই ফুরাচ্ছে না। তবে কেন তারা একত্র হয়েছেন? আগামীতে নতুন কোনো প্রজেক্টে ‘একসঙ্গে’ দেখা যাবে কিনা, তার সঠিক তথ্য জানা পাওয়া যায়নি।

    এদিকে শুরু থেকে শাকিব বড়পর্দায় নিয়মিত থাকলেও একযুগ ধরে চলচ্চিত্রে অনিয়মিত হয়ে পড়েন আমিন খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাপ্রেমীরা প্রায়ই আমিন খানকে বড়পর্দায় দেখার আগ্রহ জানিয়ে বিভিন্ন মনোভাব প্রকাশ করেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ওয়ালটনের দু’একটি বিজ্ঞাপনে আমিন খানের উপস্থিতি দর্শকদের নজর কাড়ে।

    শাকিব খান ও আমিন খানের একসঙ্গে অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে— হীরা চুনি পান্না, উত্তেজিত, হিম্মত, গরম খবর, সাত খুন মাফ, পিতার আসন, ফুল নেব না অশ্রু নেব ও সমাধি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • নতুন বিজ্ঞাপন নিয়ে ফিরছেন আমিন খান

    ঢাকাই সিনেমার নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক আমিন খান। তাকে স্টাইলিশ নায়কও বলা হয়। ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন এই অভিনেতা। 

    বর্তমানে একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও মাঝে-মধ্যে পর্দায় দেখা যায়। সম্প্রতি এই অভিনেতা নতুন একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন। এ বিজ্ঞাপনটির শুটিং হয়েছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্পটে। বিজ্ঞাপনটির গল্পও লিখেছেন আমিন খান।

    জানা গেছে, অ্যাকশন বিজ্ঞাপনের সঙ্গে তুলে আনা হয়েছে স্থানীয় মনোরম ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য। এ বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে আমিন খান বলেন, দারুণ এক্সাইটমেন্টে ভরপুর কিছু গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে বিজ্ঞাপন কার্যক্রম। আমাদের প্রত্যাশা দর্শকরা বিজ্ঞাপনটির মাধ্যমে বিনোদন পাবেন। তাদের মনের খোরাক জোগাবে ওয়ালটনের এই ক্রিয়েটিভ কার্যক্রম। 

    শিগগিরই বিজ্ঞাপনটি প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হবে।  উল্লেখ্য, আমিন খান ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত।
     

    বিনোদন ডেস্ক

  • ইলিয়াস কাঞ্চন-আমিন খানের নায়িকার ঠাঁই এখন আশ্রয়ণ প্রকল্পে

    একসময়ে বড়পর্দা কাঁপানো চিত্রনায়িকা সাইনা শিকদার বনশ্রী। যার ঠাঁই হয়েছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছোট্ট ঘরে। এটি সিনেমার কোনো গল্প নয়, বরং চরম বাস্তবতা।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকে মমতাজ আলীর পরিচালনায় সোহরাব রুস্তম সিনেমায় ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিষেক ঘটে বনশ্রীর। এর পর একই বছরে ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘মহা ভূমিকম্প’। সুভাষ ঘোষ পরিচালিত এ সিনেমায় দুই নায়ক মান্না ও আমিন খানের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এর পর নেশা ও ভাগ্যের পরিহাসসহ আরও অনেক সিনেমায় একাধিক নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। বিস্ময়কর হলেও এটিই সত্যি— একসময়ের পর্দা কাঁপানো নায়িকা এখন বাস করেন সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে।

    চলচ্চিত্রকার ফারুক ঠাকুরের মাধ্যমে সিনেমার জগতে আসেন বনশ্রী। একটি মামলায় ফারুক ঠাকুর গ্রেফতার হলে এই নায়িকার বিরুদ্ধে কুৎসা রটে। ধীরে ধীরে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন প্রযোজকরা। শুরু হয় অভাব আর কষ্টের সংসার। দারিদ্র্যের কবলে পড়ে বাস করেন রাজধানীর একটি বস্তিতে। কাজবিহীন অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন এ নায়িকা। নিজের পেট চালানোর জন্য রাস্তায় রাস্তায় ফুল আর বই বিক্রি করতেন বনশ্রী। সবশেষ তিনি মাদারীপুরের শিবচরের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় পান।

    এখনো সময় পেলে আশপাশের লোকজনদের নিয়ে করতে চান বিনোদন। ভালো গানও করেন। আনন্দ দেন সবাইকে। বরিশালের ছেলে পারভেজ খানকে বিয়ে করেছিলেন বনশ্রী। ১২ বছর ধরে স্বামী নেন না সংসারের কোনো খবরই। বড় মেয়ে নিখোঁজ কয়েক বছর ধরে। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও উদ্ধার হয়নি বনশ্রীর মেয়েটি। একমাত্র ছেলে মেহেদি হাসানকে সঙ্গে নিয়ে এখন ছোট্ট ঘরে বসবাস এ নায়িকার। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে একজন আদর্শবান চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। এ জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা।

    অবসর সময়ে সরকারি এই ছোট্ট ঘরে বসেই সেলাই মেশিনে করেন দর্জির কাজ। নিজে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি নারীদের জন্য একটি সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্র খোলার স্বপ্ন দেখেন বনশ্রী।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভার গুয়াতলা এলাকায় বাবা মজিবর শিকদার ও মা সবুরজান রিনা বেগমের ঘরে ১৯৭৪ সালের ২৩ আগস্ট জন্ম নেয় এ নায়িকা। বর্তমানে শিবচর উপজেলার মাদবরেরচরের সরকারি আশ্রয়ণকেন্দ্রে থাকেন তিনি। দুস্থ শিল্পী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দেন এককালীন ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। সেখান থেকে মাসে ১৭ হাজার ২৮০ টাকার সুদ পেলেও দ্রব্যমূল্যের বাজারে টিকে থাকা দায়। দুর্দিনে বনশ্রী পাশে পাননি আত্মীয়স্বজনকেও। পর্দা কাঁপানো এ নায়িকার বাসস্থান ছোট্ট ঘরে, বিষয়টিতে হতবাক এলাকাবাসীও। দুর্দিনে পাশে দাঁড়াবে সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি সরকার, এমনটিই চাওয়া সবার।

    স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘বনশ্রীকে ছোট্ট সময়ে সিনেমার পর্দায় দেখতাম। এখন সরাসরি দেখতে পাচ্ছি। তার এই সময়ে সরকার যদি সব ধরনের সহযোগিতা করে, তা হলে তিনি আরও ভালো থাকতে পারবেন।’

    সাইনা শিকদার বনশ্রী বলেন, ‘বয়সের কারণে জৌলুস কিছু কমে গেছে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু অভিনয়ের সম্মানী দিয়ে যাতায়াতের অর্থও হয় না বলে অভিনয় থেকে কিছুটা সরে এসেছি। এখন আশ্রয়ণের ঘরে ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছি। নারীদের জন্য একটি সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্র করার স্বপ্ন আছে। আর ছেলেকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

    মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান জানান, বনশ্রীকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এরই মধ্যে সরকার থেকে এককালীন অনুদান ও থাকার জন্য সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরও পেয়েছেন তিনি। এ নায়িকার সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তোলা হবে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • নায়ক হয়ে বাঁচতে ইচ্ছে করে: আমিন খান

    নব্বই দশকে নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রম দিয়ে রূপালি পর্দায় যাত্রা শুরু আমিন খানের। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম সিনেমা মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত ‘অবুঝ দুটি মন’। 

    rnrn

    কিন্তু এই সিনেমা মুক্তির আগে বাদল খন্দকারের ‘দুনিয়ার বাদশা’ সিনেমাতে কাজ করেন তিনি। এটি সুপারহিট হয়। এরপর ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৬৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ নায়ক। যার অধিকাংশই ছিল ব্যবসাসফল। 

    rnrn

    তবে ২০১০ সালের পর আর সেভাবে পর্দায় দেখা যায়নি আমিন খানকে। বর্তমানে ব্যস্ত চাকরি আর পরিবার নিয়ে। কিন্তু রূপালি পর্দার ছায়া আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। 

    rnrn

    এ প্রসঙ্গে আমির খান বলেন, সিনেমার জীবনটা খুব মিস করি। ওটাই আমাকে নতুন জন্ম দিয়েছে। নায়ক আমিন খান হয়েই বাঁচতে ইচ্ছে করে। 

    rnrn

    কিন্তু এমন কি হয়েছিল যে সিনেমাজগত থেকে একেবারে দূরে চলে গেলেন? জানা গেছে, সিনেমা জগতের নোংরা পলিটিক্সের কারণেই তাকে দূরে সরে যেতে হয়েছে। 

    rnrn

    সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে আমিন খান বলেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আমিও অনেক নোংরা পলিটিক্সের শিকার হয়েছি। মনোবল শক্ত ছিল, পরিবার পাশে ছিল, তাই হয়ত আত্মহত্যা করিনি। আমার মতো করে লড়ে গেছি। নিজের জায়গা করে নিয়েছি।

    বিনোদন প্রতিবেদন

  • আত্মহত্যা না করার কারণ জানালেন আমিন খান 

    ঢাকাই সিনেমার একসময়ের পর্দা কাঁপানো নায়ক আমিন খান। চলচ্চিত্র জগতের নোংরা পলিটিক্সের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন এ অভিনেতা । 

    সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সিনেমা জগতের নোংরা পলিটিক্স তার ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। 

    আরও পড়ুন 

    এ অভিনেতা বলেন, বলিউডে এখন সুশান্ত সিং রাজপুতকে নিয়ে সবাই যেমন হা হুতাশ করছে, আমার জীবনটাও তেমন হতে পারত। চলচ্চিত্র জগতে আমিও অনেক নোংরা পলিটিক্সের শিকার হয়েছি। মনোবল শক্ত ছিল, পরিবার পাশে ছিল, তাই হয়তো আত্মহত্যা করিনি। আমার মতো করে লড়ে গেছি। চলচ্চিত্রে জায়গা করে নিয়েছি।

    একসময় শুটিংয়ে ব্যস্ত নায়ক আমিন খান এখন ব্যস্ত চাকরি জীবনে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বড় দায়িত্বে আছেন তিনি। স্ত্রী স্নিগ্ধা খান, দুই ছেলে রাইয়ান খান আর মাঈন খানকে নিয়ে বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় থাকেন। তাদের ঘিরেই অভিনেতার সব ব্যস্ততা।

    নব্বই দশকে নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রম দিয়ে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু আমিন খানের। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম সিনেমা ‘অবুঝ দুটি মন’। মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত এই সিনেমা মুক্তির আগে বাদল খন্দকারের ‘দুনিয়ার বাদশা’ সিনেমাতে কাজ করেন। সিনেমাটি সুপারহিট হয়। এ সিনেমাই তাকে অ্যাকশন ঘরানার আগ্রহী হওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেয়।

    ২০১০ সালের পর আর সেভাবে পর্দায় দেখা যায়নি আমিন খানকে। তবে ১৯৯৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৬৫টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন এ নায়ক। যার অধিকাংশই ছিল ব্যবসা সফল।

    সিনেমার পাশাপাশি টেলিফিল্ম ও নাটকেও অভিনয় করেছেন আমিন খান। তবে এখন তাকে কালেভদ্রে দেখা যায় পর্দায়।
     

    বিনোদন ডেস্ক

  • কেন ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে, মুখ খুললেন আমিন খান

    চলচ্চিত্র জগতে আমি নোংরা পলিটিক্সের শিকার হয়েছি। মনোবল ছিল, পরিবার পাশে ছিল, তাই হয়তো আত্মহত্যা করিনি, লড়ে গেছি। বলতে পারেন, চলচ্চিত্র জগতের পলিটিক্স আমার ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

    কথাগুলো বাংলাদেশের এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আমিন খানের। আরাভ খান কাণ্ডে কয়েক মাস আগে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। 

    সেই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খানকে নিয়ে বেশ কিছু খবর। নামের মিল থাকায় অনেকে মনে করছেন, ওই আরাভ খান বাংলাদেশের চিত্রনায়ক আমিন খানের ভাই, যা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে আমিন খানের পরিবারকে। 

    আমিন খান বলেন, দুবাইয়ের আরাভ খান আমার ভাই নন। কী যে এক ঝামেলায় পড়েছি। আরাভ খান নামে আমার কোনো ভাই নেই। যে আরাভ খান মনে করে অনেকেই আমার কাছে জানতে চাচ্ছেন তিনি কি আমার ভাই, সেই আরাভ খানকে আমি চিনিও না। 

    গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারলাম তার কথা। অনেকেই ভুল করে তাকে আমার ভাই মনে করছেন, জানতে চান- এ ঘটনায় বিব্রত বোধ করছি। আমার ভাইয়ের নাম আশরাফুল ইসলাম। সে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিল। সেখানে তার নাম আরাভ থাকতে পারে। এখান থেকে কেউ কেউ মনে করছেন তিনিই আমার ভাই। এ ঘটনায় সবার ভুলটা ভাঙানো দরকার।

    এক সময় শুটিংয়ে অ্যাকশন, কাট শুনে অভ্যস্ত চিত্রনায়ক আমিন খান এখন ব্যস্ত চাকরি জীবনে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বড় দায়িত্বে আছেন। এখন চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে নেই তিনি। স্ত্রী স্নিগ্ধা খান, দুই ছেলে রাইয়ান খান আর মাঈন খানকে নিয়ে বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় থাকেন। দুই ছেলে স্কুলে পড়ে। 

    আমিন খান বললেন, চলচ্চিত্রের জীবনটা খুব মিস করি। ওটাই আমাকে নতুন জন্ম দিয়েছে। নায়ক আমিন খান হয়ে বাঁচতে ইচ্ছে করে।

    গত শতকের নব্বই দশকে নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রম দিয়ে চলচ্চিত্রে তার শুরু। এ কার্যক্রমে নির্বাচিত হয়েও ফিল্মি পলিটিকসের কারণে দুই বছর কোনো ছবির কাজ করতে পারেননি। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় প্রথম সিনেমা ‘অবুঝ দুটি মন’। মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত এই ছবি মুক্তির আগে বাদল খন্দকারের ‘দুনিয়ার বাদশা’ ছবিতে কাজ করেন। সিনেমাটি সুপারহিট ব্যবসা করে। 

    চাচার উৎসাহে ১৯৯০ সালে এফডিসি আয়োজিত নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমে অংশ নেন আমিন খান। সেই সময় ২০ থেকে ২২ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে নিজেকে সেরা হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরেন।

    সে সময়কার কথা মনে করে আমিন খান বললেন, খুলনা থেকে ঢাকায় আসি। কাউকে চিনি না, জানি না। একমাত্র অভিভাবক আমার চাচা। তিনিও সিনেমার কেউ নন। অডিশনে টিকে গেলাম। অডিশনের পরই বাংলাদেশের স্বনামধন্য ও প্রভাবশালী একজন পরিচালক আমাকে দিয়ে ছবি বানানোর আগ্রহ প্রকাশ করলেন। প্রতিযোগিতা শেষে ছবির নামও ঘোষণা করলেন, কিন্তু আমাকে নিলেন না। আমি চুপচাপ রইলাম। 

    সে সময় সবচেয়ে মেগা হিট তিনটা ছবির প্রস্তাবও আমার কাছে আসে। ‘অবুঝ দুটি মন’ করার আগে তিনটা ছবির সাইনিং মানি নিয়েছিলাম। কোনোটিতে কাজ করা হয়নি। এদিকে আমাকে প্রস্তাব দেওয়া ছবিগুলোও মুক্তি পেতে লাগল, মন খারাপ লাগা শুরু হলো। বুঝে গেছি, পলিটিক্সে পড়ে গেছি। চাচার সঙ্গে ইস্কাটনে থাকতাম। লজ্জায় বাড়িতেও যেতে পারতাম না। দুই বছরে ঈদেও খুলনায় যেতে পারিনি।

    ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন আমিন খান। ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন। বিয়ের পরের দুই বছরে মাত্র তিনটি ছবিতে কাজ করেন তিনি। এরপর আবার কাজে নামেন। টানা ২০১০ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৬৫টির মতো ছবিতে কাজ করেন। এরপর আগ্রহ কমতে থাকে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • সোনা ব্যবসায়ী আরাভ খানে বিব্রত নায়ক আমিন খান

    দুবাইয়ের সোনা ব্যবসায়ী আরাভ খান কয়েকদিন ধরে মিডিয়ায় আলোচনায়। তার দোকান উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে লাইন ধরেছেন দেশের সেলিব্রেটিরা। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজন তো ওই ধনী ব্যবসায়ীর ডাকে সাড়া দিয়ে স্বশরীরে হাজির হয়েছেন দুবাই। 

    rnrn

    এ ঘটনায় ঢালিউড নায়ক আমিন খানের নামও জড়িয়েছে। নামের শেষে মিল থাকায় অনেকে ধরে নিয়েছেন, ওই আরাভ খান বাংলাদেশের চিত্রনায়ক আমিন খানের ভাই। যা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। 

    rnrn

    একজন অপরাধীর সঙ্গে ভ্রাতৃসম্পর্কের গুঞ্জনে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে আমিন খানের পরিবারকে। 

    rnrn

    এ বিষয়ে আমিন খান বলেন, দুবাইয়ের আরাভ খান আমার ভাই নন। কী যে এক ঝামেলায় পড়েছি! আরাভ খান নামে আমার কোনো ভাই নেই। যে আরাভ খান মনে করে অনেকেই আমার কাছে জানতে চাচ্ছেন তিনি কি আমার ভাই? সেই আরাভ খানকে তো আমি চিনিই না। অনেকেই ভুল করে তাকে আমার ভাই মনে করছেন, জানতে চাইছেন—এই ঘটনায় বিব্রত বোধ করছি। আমার ভাইয়ের নাম আশরাফুল ইসলাম। সে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিল। সেখানে তার নাম আরাভ থাকতে পারে। এখান থেকে কেউ কেউ মনে করছেন দুবাই সোনা ব্যবসায়ী আমার ভাই। আসতে তা নয়। এ ঘটনায় সবার ভুলটা ভাঙানো দরকার।’

    rnrn

    খোঁজ জানা গেছে, আমিন খানেরর ভাই আশরাফুল ইসলাম একজন বিজ্ঞাপন নির্মাতা। সাংস্কৃতিক অঙ্গণে তার বিচরণ রয়েছে। কিছু নাটক ও টেলিছবি বানিয়েছেন। অভিনয়ও করেছেন একটি সিনেমায়। 

    rnrn

    আরাভ খানের ঘটনায় আশরাফুলও বিব্রত। তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানতাম না। গতকাল ভাইয়ার (আমিন খান) কাছ থেকে শুনলাম। কিছু কিছু নিউজে লেখা হয়েছে, সেই আরাভ খান, চিত্রনায়ক আমিন খানের ভাই। এটা সত্য নয়। সেই ব্যক্তি তো এখন দুবাইয়ে আছেন। আমি দেশে বিজ্ঞাপনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। এখনো কাজেই বের হয়েছি।’

    rnrn

    আশরাফুল ইসলাম জানান, তার ডাকনাম আরাভ খান। বন্ধু ও পরিচিত মহলে তিনি আরাভ খান নামেও পরিচিত। তবে খুব কম মানুষই জানেন এই নাম। তিনি ক্যারিয়ারে প্রথম একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সেই সিনেমার নাম ‘ভালোবাসলে দোষ কি তাতে’। সেই সিনেমায় পরিচালকের কথায় আরাভ খান নামটাই ব্যবহার করেন। তার পর থেকে আশরাফুল নামের চেয়ে আরাভ খান নামেই বেশি পরিচিত হয়ে ওঠেন। 

    rnrn

    আমিন খানের ভাই বলেন, ‘বিষয়টা এখন মানসম্মানের হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই দুই আরাভ খানের সঙ্গে আমার ছবিও গুলিয়ে ফেলেছেন। কেউ কেউ মিলও পাচ্ছেন। সবাইকে বলব, বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা সে রকম কোনো পরিবারের মানুষ নই। আমাদের সমাজে একটা সম্মান রয়েছে। যে কেউ চাইলে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
    rn 

    বিনোদন ডেস্ক