Tag: অভিনয়শিল্পী

  • ‘অন্য যারা যখন ক্ষমতায় আসবে তারাও একই কাজ করবে’- মামলা প্রসঙ্গে শিল্পীরা

    অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গন। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এই খাতে মন্দাভাব কাটেনি। নানাভাবে বর্তমান সরকার সংস্কৃতি বা বিনোদন মাধ্যম স্বাভাবিক করার চেষ্টার কথা বললেও সেটাও গতি পায়নি। ঈদ-কেন্দ্রিক সিনেমা মুক্তি, টেলিভিশন নাটকের বাজেট কমে যাওয়া থেকে শুরু করে মঞ্চ নাটকের ওপরেও প্রভাব পড়েছে।

    সবশেষ জুলাই আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে। যদিও ব্যাপক সমালোচনার মুখে একদিন পরে তাকে জামিন দেয়া হয়।

    ওই মামলায় ২৮৩ জন আসামির মধ্যে আরও অনেক শিল্পীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে অনেক শিল্পীও হয়রানি বা হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: সংগৃহীত

    অনেক অনুষ্ঠানে যেতে নারী শিল্পীদের বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

    তবে নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতারের ঘটনার পর থেকেই ভয়ে বা অস্বস্তিতে পড়েছেন দেশের বিনোদন মাধ্যমের অনেক শিল্পী।

    কাদের বিরুদ্ধে মামলা?

    পাঁচই অগাস্টের পর ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে নাটক বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি প্রকাশ্যে শিল্পীকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

    তবে সবশেষ বেশি আলোচনা বা সমালোচনা তৈরি হয়েছে অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার আটকের ঘটনায়।

    হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে যে মামলা করা হয়েছে, ওই মামলায় বর্ণিত ঘটনার সময় বিদেশে অবস্থানরত নুসরাত ফারিয়া ছাড়াও আরও অনেকের নাম রয়েছে।

    এ রকম বেশ কয়েকটি মামলায় আসামি হিসেবে প্রায় ২৭ জন শিল্পীর নাম এসেছে।

    তারা হলেন- নুসরাত ফারিয়া, অপু বিশ্বাস, নিপুন আক্তার, কামরুন নাহার শাহনূর, উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, সোহানা সাবা, তানভীন সুইটি, মেহের আফরোজ শাওন, জাকিয়া মুন, জ্যোতিকা জ্যোতি, সুবর্ণা মুস্তফা, আশনা হাবিব ভাবনা, রোকেয়া প্রাচী, তারিন জাহান, অরুণা বিশ্বাস, শামীমা তুষ্টি, শমী কায়সার, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, জায়েদ খান, সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌস, রিয়াজ, চঞ্চল চৌধুরী, আজিজুল হাকিম, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, ইরেশ জাকের।

    এছাড়া বিএনপির কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সৈয়দ হাসান মাহমুদকে ২০২২ সালের ২৫ জুন হত্যাচেষ্টা ও গুমের অভিযোগে গত বছরের নয়ই অক্টোবর দায়ের করা মামলায় অভিনেত্রী তারানা হালিম, মমতাজ ও শমী কায়সারকে আসামি করা হয়। তবে সেটি জুলাই আন্দোলন কেন্দ্রিক মামলা ছিল না।

    মোশাররফ করিম। ছবি: সংগৃহীত

    ‘এমন ঘটনা দৃষ্টান্ত হয়ে যায়’- মোশাররফ করিম

    এসব মামলা প্রসঙ্গে অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে, মানুষের পক্ষে কথা বলেছে, শিল্পীরা তো স্বাভাবিকভাবে মানুষের পক্ষে কাজ করা মানুষ। শিল্পীদের এভাবে ঢালাওভাবে মামলায় ফেলে, একের পর এক মামলা দিয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তাদের জীবনকে নিরাপত্তাহীনতার চাদরে মুড়ে দেওয়া, এটা অদ্ভুত রকমের সংস্কৃতি।’

    আরও পড়ুন

    বিষয়টি নিয়ে কানাডা থেকে কথা বলেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম।

    বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা শুধু শিল্পীর ক্ষেত্রে না, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অপরাধী হলে মামলা হতে পারে। আটকও হতে পারেন। তবে সেটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে হলে ভালো। তাতে সমাজের সামগ্রিক ডিসিপ্লিন রক্ষা হয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তবে কেউ যদি ইনটেনশনালি কারো ওপর ক্রোধ আছে সেটা জাহির করতে যায় সেটা খারাপ। এটা ঠিক না। কারণ এমন ঘটনা দৃষ্টান্ত হয়ে যায়। আর দৃষ্টান্ত স্থাপন হলে সেই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে চলতে থাকে। অন্য যারা যখন ক্ষমতায় আসে তারাও একই কাজ করবে। এটা কোনো কালের জন্য সুখকর না। তবে ব্যক্তি অপরাধী হলে সেটার জন্য মামলা হতে পারে।’

    শিল্পীদের মামলা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, পুরো বাংলাদেশের মানুষের আন্দোলনের ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু বাস্তব অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি।

    জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের পক্ষে বেশ সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন বাঁধন।

    আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: সংগৃহীত

    বাঁধনের মতে, ‘যে প্রত্যাশা নিয়ে আমরা স্বৈরাচার বিদায় করেছি সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। উপদেষ্টারা সবাই প্রচণ্ড ভালো মানুষ। বেশি ভালো মানুষ হওয়ার কারণে কোনো কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। যেখানে যারা ছিল সেখানেই আছেন। বিশেষ করে আমাদের কাজের যে জায়গা সেখানে আগে একরকম সিন্ডিকেট ছিল। এবার নতুন সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারাই এখন কাজ করছে।’

    শিল্পীদের রাজনীতি করা প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘শিল্পীরা যে কোনো রাজনৈতিক দলকে সাপোর্ট করতে পারেন বা নাও করতে পারেন। কে কার সঙ্গে ছবি তুলবেন বা বাহবা দেবেন সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি তো কোনো ক্রাইম করেননি। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ক্রাইম করবেন না ততক্ষণ আইন তাকে আটকাতে পারবে না।’

    গিয়াসউদ্দিন সেলিম। ছবি: সংগৃহীত

    কমে গেছে কাজ

    গত বছরের পাঁচই অগাস্টে সরকার পতনের পর বিনোদন জগত অনেকটাই স্থবির হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করে। কিন্তু আগের মতো এই শিল্প পুরোপুরি সচল হয়নি। বিশেষ করে চলচ্চিত্র, নাটকের কাজ অনেক কমে গেছে।

    চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এক ধরনের স্থবিরতা এসেছে। তার বড় কারণ বিনিয়োগকারী না থাকা। হঠাৎ করেইে এই মাধ্যমে বিনিয়োগকারী কমে গেছে। এ কারণেই কাজ কমে যায়। আমার ধারণা বিনোদন মাধ্যমের সকল সেক্টরে বিশেষ করে গান, নাটক, সিনেমা সব খানে ৮০ ভাগ কাজ কমে গেছে।’

    তবে কাজ কমে যাওয়া নিয়ে খানিকটা ভিন্ন মত দেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান তারেক আখন্দ।

    তিনি বলেন, ‘নভেম্বর-অক্টোবর অব্দি কাজ কমে গিয়েছিল। এখন কিছুটা বেড়েছে। কাজ তো আসলে নাটক, সিনেমা বা ওটিটি প্লাটফর্মের জন্য হয়। তাই কাজের গতি ওই সময়টা কমে গিয়েছিল।’

    কিন্তু যেসব ইউটিউব চ্যানেল-ভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অনেক বেশি বাজেটে কাজ করতো তারা কাজ কমিয়ে দিয়েছে বলে বলছেন মি. তারেক।

    বিষয়টি নিয়ে একমত পোষণ করেন দেশের ইউটিউব-ভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভির কর্ণধার এবং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ‍্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- এর সাধারণ সম্পাদক এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু।

    বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান তারেক আখন্দ ও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ‍্যাসোসিয়েশন- এর সাধারণ সম্পাদক এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু। ছবি: সংগৃহীত

    তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘গতবছর থেকে এ বছরের তুলনায় যাবো না, তবে গত কয়েকমাসে ১০ থেকে ২০ ভাগ কাজ কমে গেছে। এটার বড় কারণ বাণিজ্যিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। মোট কথা আমাদের ইউটিউব কনটেন্টে বিজ্ঞাপনের পরিমাণ কমে গেছে।’

    এছাড়া ঈদ ছাড়া কোনো সিনেমায় গত কয়েকমাসে ব্যবসা সফল হয়নি। যদিও পাঁচ আগস্টের আগে সিনেমার বাজার ওইরকম ছিল। চলচ্চিত্র শাকিব খানের সিনেমাও ঈদ ছাড়া ব্যবসা সফল হয়নি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    শিল্পীদের অনেকে বলেছেন, বিশেষ করে যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্রসহ যেসব নাটকের কাজ চলছিল, সেগুলো এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

    অভিনয় শিল্পী আজমেরী হক বলেন, ‘আমার ভারতের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় দুটি সিনেমায় অভিনয় করার কথা ছিল। সেই প্রজেক্ট বাতিল হয়ে গেছে। তবে বাকি কাজগুলো হচ্ছে। তবে এখন কাজের সুযোগ অনেক খানিকই কমে গেছে। আশা করছি সেটা দ্রুত পরিবর্তন হবে।’

    বিবিসি

  • নাটকে ব্যস্ত অভিনয়শিল্পীরা

    একটা সময় নাটক দেখা একটা মাত্র মাধ্যম ছিল বিটিভি। এরপর আরও একাধিক বেসরকারি টেলিভিশনও নাটক প্রচার হতে থাকে। তাই বাড়তে থাকে নাটক নির্মাণের সংখ্যা। কিন্তু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব আসার পর এর মাত্রা অনেকগুণ বেড়ে যায়। 

    স্বাধীন এ প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেন নির্মাতারা। কাজের পরিধি বাড়ায় তৈরি হতে থাকে নতুন সব শিল্পী। পেশাদার পুরোনো শিল্পীরাও একটা সময় টিভি নাটক ছেড়ে অনলাইন ভিত্তিক নাটকে মনোযোগ বাড়িয়ে দেন। নাটক তৈরির সংখ্যা বাড়ায় পুরোনোদের পাশাপাশি নতুন শিল্পীদের ব্যস্ততাও বাড়তে থাকে। বর্তমানে নাটক নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এমন তরুণ অভিনয়শিল্পীদের নিয়েই এ প্রতিবেদন।  

    নাটকের এখন সুসময় যাচ্ছে। অধিকাংশ শিল্পী প্রায় পুরো মাস নাটকের কাজে ব্যস্ত থাকেন। পুরোনোদের পাশাপাশি নতুনরাও অভিনয় পেশায় নাম লেখাচ্ছেন। প্রতিদিন নির্মিত হচ্ছে শতাধিকের বেশি নাটক, টেলিফিল্ম ও  অনলাইন কনটেন্ট। টেলিভিশনের পাশাপাশি এসব নাটক প্রচার হচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতেও। 

    দর্শক এখন বেশিরভাগ নাটক স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবেই দেখেন। কোনো ধরনের সেন্সর না থাকাই সহজলভ্য এ মাধ্যমটিকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসাবে ব্যবহার করছেন পরিচালক-প্রযোজকরা। ইউটিউবের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে পেইড ভার্সন ওটিটি। এ মাধ্যমটির কাজের গুনগত মান ভালো হওয়াতে একসময়ের টিভি নাটকের জনপ্রিয় সব শিল্পীরা এখন ওটিটিতে ঝুঁকছেন। 

    বলা যায়, সব মাধ্যমেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিল্পীরা। প্রচারের মাধ্যম বেশি থাকায়, নাটক নির্মাণের সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শিল্পীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। সিনিয়র শিল্পীরা কাজ কমিয়ে দিলেও তরুণ অভিনয়শিল্পীরা কাজ করছেন চুটিয়ে। কারণ, এখন রয়েছে কাজের সুবর্ণ সুযোগ। 

    এছাড়াও কোনো বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করেও নির্মিত হয়ে থাকে শতাধিক নাটক। বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তরুণ শিল্পীদের জনপ্রিয়তা দিনকে দিন বাড়ছে। একসময়ের পুরোনো জনপ্রিয় শিল্পীরা যারা এখনও কাজ করছেন, তাদের চেয়েও বর্তমান দর্শকদের কাছে বেশি সমাদৃত হয়ে থাকেন এ প্রজন্মের শিল্পীরা। এ জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেই তাদের নিয়েই নির্মাণে আগ্রহ দেখান নির্মাতারা। তাই পুরোনোদের পাশাপাশি তরুণ অভিনয়শিল্পীদের ব্যস্ততা একটু বেশি। জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম, জিয়াউল ফারুক অপূর্র্ব’র পাশাপাশি বর্তমানে নাটক নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তাসনিয়া ফারিণ, তানজিন তিশা, নিলয় আলমগীর, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি, সাফা কবির, তানিয়া বৃষ্টি, সামিরা খান মাহি, তৌসিফ মাহবুব, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, ফারহান আহমেদ জোভান, মুশফিক ফারহান, খাইরুল বাশার, ইয়াশ রোহান, কেয়া পায়েল, নাজনীন নাহার নিহা, মালাইকা চৌধুরী সহ অনেকেই।  

    তাসনিয়া ফারিণ ও তানজিন তিশা

    নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। টিভি নাটক, ওটিটি কনটেন্ট ও সিনেমা সব মাধ্যমেই সমানতালে কাজ করছেন। তাই তার ব্যস্ততা একটু বেশিই। গত বছরেই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় তার প্রথম সিনেমা ‘ফাতিমা’। 

    আসন্ন ঈদেও নতুন এক মাসালাদার সিনেমা নিয়ে হাজির হতে চলেছেন তিনি। সঞ্জয় সমাদ্দার পরিচালিত ‘ইনসাফ’ নামের এ সিনেমাটিতে রয়েছেন নাটকের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। এছাড়াও গত ঈদে ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া এ অভিনেত্রীর ‘হাউ সুইট’ নামের ফিল্মটিও বেশ সাড়া ফেলে। যেখানে তিনি জুটি বেঁধেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বের সঙ্গে। এ অভিনেত্রী সিনেমা এবং ওটিটি কনটেন্টের পাশাপাশি নাটকেও সময় দিচ্ছেন। 

    এদিকে তানজিন তিশা এখন খুব বেছে বেছে কাজ করছেন। তাই তার কাজের পরিমান কমেছে। তবে এরইমধ্যে বেশ কিছু ভালো কাজ তিনি উপহার দিয়েছেন। কয়েকমাস আগেই ‘ঘুমপরী’ নামে একটি তিশার একটি ওটিটি কনটেন্ট মুক্তি পেয়েছে। যেখানে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। আসন্ন ঈদেও প্রচারে আসবে তার অভিনীত একাধিক নাটক।  

    নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি

    বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় জুটি বলা হয়ে থাকে নিলম-হিমিকে। এ জুটির ভিউয়ের দৌঁড়েও রয়েছে এগিয়ে। তাই জুটিবদ্ধ হয়ে নিয়মিত কাজ করছেন তারা। বলা যায় পুরো মাস শুটিং নিয়েই ব্যস্ত থাকেন এ দুই শিল্পী। গত ঈদেও তাদের একাধিক নাটক প্রচার হয়েছে। আসন্ন ঈদ নিয়েও তাই নাটকে অভিনয় নিয়েই ব্যস্ততা রয়েছে এ তারকা জুটির। 

    তানিয়া বৃষ্টি

    এসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির। ইউটিউবকেন্দ্রিক নাটকে এ অভিনেত্রীর দর্শকচাহিদা একটু বেশিই। অভিনয় করছেন জনপ্রিয় সব অভিনেতাদের সঙ্গে। বিশেষ করে মোশাররফ করিমের বিপরীতে প্রায় ৫০টির বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। আসন্ন ঈদেও তাকে একাধিক নাটকে দেখা যাবে। এসব নাটকের কাজ নিয়েই এখন তার ব্যস্ততা যাচ্ছে বলেই জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।  

     কুরবানি ঈদে বর্তমান সময়ের অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান অভিনীত ‘উৎসব’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তবে এ অভিনেত্রী নাটক নিয়েই ব্যস্ত। এরইমধ্যে ঈদের একাধিক নাটকের শুটিং করেছেন তিনি। এদিকে অভিনয় জগতে নতুন পা রেখেছেন মেহজাবীন চৌধুরীর ছোট বোন মালাইকা চৌধুরী। 

    কয়েকমাস আগেই প্রচার হয় তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘সন্ধিক্ষণ’। আসন্ন ঈদেও তিনি তার অভিনীত দ্বিতীয় নাটক ‘ক্ষতিপুরণ’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন। এছাড়া জুটি বেঁধে নাটকে নিয়মিত অভিনয় করেন তৌসিফ, জোভান, কেয়া পায়েল, তটিনি, সাদিয়া আয়মান, সামিরা খান মাহি, খাইরুল বাশার, সাফা কবির, ইয়াশ রোহান, জামিল হোসেন, নাজনীন নিহাসহ অনেকেই। এ প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই এসব অভিনয়শিল্পীর ব্যস্ততাও বেশি। এছাড়াও কোনো দিবস বা উৎসবকে সামনে রেখে তাদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়।

    রিয়েল তন্ময়

  • রাজনৈতিক ইস্যুতে বিভক্ত শিল্পীসমাজ

    ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। ১৮ মে থাইল্যান্ড যাবার পথে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। 

    পরবর্তীতে তাকে রাজধানীর ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে ডিবি কার্যালয়ে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পর তোলা হয় আদালতে। আদালত তাকে পাঠিয়ে দেন কারাগারে। এরপর ২০ মে জামিন হয় তার। 

    তাকে গ্রেফতার করার কারণ, তার বিরুদ্ধে গৃহিত মামলা। অভিযোগ, জুলাইবিপ্লবে ছাত্র-জনতা হত্যায় স্বৈরাচার হাসিনা ও তার দোসরদের সঙ্গে নুসরাত ফারিয়াও জড়িত। অবশ্য তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ শেখ হাসিনার শাসনামলে হাসিনা তোষণে ব্যস্ত ছিলেন এ নায়িকা। বলেছেন, ‘প্রত্যেক মেয়ের মধ্যে একজন করে শেখ হাসিনা আছেন’। 

    এদিকে নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেফতারের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিল্পীদের একাংশ। তবে একটি পক্ষ বলছে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে বা অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। শিল্পী হলেই যে আইন তাকে ছাড় দিবে বিষয়টি এমনও নয়। শুধু তাই নয়, ফারিয়ার আগেও রাজনৈতিক মামলা হামলায় পড়েছেন এমন অনেক শিল্পী রয়েছেন। যারা গত ১৬ বছর আওয়ামী সরকারের তোষামোদী করে এসেছেন। 

    জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। তার পলায়নের পর থেকেই আওয়ামী ঘনিষ্ট শিল্পীরা পড়েছেন বিপাকে। অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান, কেউবা পালিয়ে গেছেন বিদেশে। আন্দোলন পরবর্তী অনেকের নামে হয়েছে মামলা। ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালীন শিল্পীদের মধ্যে কেউ কেউ আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে নেমেছিলেন রাজপথে। আজ তারা বাহ্বা পেলেও, বিপাকে পড়েছেন হাসিনার আশ্রয়ে থাকা শিল্পীরা। তাদের নিয়ে যেমন সমালোচনা হচ্ছে, তেমনি আজ তারা বঞ্চিত হচ্ছেন শোবিজ অঙ্গনে কাজ করা থেকেও। শুধু তাই নয়, আন্দোলনের পক্ষের শিল্পীদের অনেকেই সেসব শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। 

    রাজনৈতিক মারপ্যাচে আওয়ামী ঘনিষ্ট শিল্পীরা পড়ছেন জনতার রোষানলে। শিল্পীদের এমন দুর্ভোগে সামাজিক মাধ্যমে শিল্পী সমাজের একাংশ প্রতিবাদ করলেও, কেউ কেউ রয়েছেন মুখে কুলুপ এঁটে। কারণ, রাজনৈতিক সুবিধাভোগী শিল্পীরা আজ তাদের কর্মের ফল ভোগ করছেন বলেই তাদের মন্তব্য। তাদের মতে, যারা আজ রাজনৈতিক মামলা, হামলার শিকার হচ্ছেন তারা শুধু শিল্পী নয়, রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে নির্দিষ্ট একটি দলের কর্মী হয়েই কাজ করেছেন। তাই ক্ষমতার পালাবদলে আজ তাদের সে হিসাব দেয়া লাগবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মতাদর্শের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে কালো তালিকাভুক্ত রাখা হয়েছিল অনেক শিল্পীকে। এটিকেও উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরছেন অনেকে। 

    এদিকে সরকার পতনের পর নতুন করে আলোচনায় আসেন ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ সিনেমায় অভিনয় করা দু’জন শিল্পী। যাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ মুজিবের চরিত্রে অভিনয় করা আরিফিন শুভ ও শেখ হাসিনা চরিত্রের অভিনয় করা নুসরাত ফারিয়া। দু’জনেই তৎকালীন সরকার থেকে এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য বেশ সুযোগ সুবিধাও নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আরিফিন শুভ তো প্লটও উপহার পেয়েছিলেন শেখ হাসিনার কাছ থেকে। আন্দোলন পরবর্তী শুভকে সংরক্ষিত কোটায় বরাদ্ধ দেওয়া রাজউকের সেই প্লট বাতিল করা হয়েছে। 

    এ দুজন ছাড়াও আলোচনায় আসেন এ সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা (শেখ ফজিলাতুন্নেছা), সাবিলা নূর (শেখ রেহানা), চঞ্চল চৌধুরী (শেখ লুতফর রহমান) প্রমুখ। এ সিনেমাসহ আওয়ামী তোষামোদির জন্য এসব শিল্পীদেরও সামাজিক মাধ্যমে পড়তে হয়েছে সমালোচনার মুখে। নমিনেশন চাওয়া এবং এমপি হওয়া নিয়েও বিপাকে অপু বিশ্বাস এবং ফেরদৌস।  

    এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিটিভি পরিদর্শক করা, হোয়াটসঅ্যাপে ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের স্ক্রিনশট ফাঁস হওয়া এবং গণবিক্ষোভকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে ছোটপর্দায় শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘের অবস্থান নেওয়ার কারণে শিল্পীদের একাংশ বৈরি পরিস্থিতির মুখোমুখিও হয়েছেন। ছাত্র-জনতার প্রাণহানির ঘটনায় নিরব থাকায় অনেকেই রোষানলে পড়েছেন, আবার অনেকের বিরুদ্ধেই শাস্তির দাবিও উঠেছে। এমতাবস্তায় দেশের শোবিজ অঙ্গনে এখনও বিরাজ করছে অস্থির অবস্থা। শিল্পীদের এ বিভাজন কাজের পরিবেশ নস্ট করছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    রিয়েল তন্ময়

  • বাংলাদেশি অভিনয়শিল্পীদের ‘ঘাড়ধাক্কা’ দিয়ে বের করতে বললেন ভারতীয় উপস্থাপিকা

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের কিছু গণমাধ্যম বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশকে ঘিরে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়াতে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘রিপাবলিক বাংলা’, যার একাধিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিষয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিতর্কিত বক্তব্য উঠে এসেছে।

    চ্যানেলটির প্রধান উপস্থাপক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সাম্প্রদায়িক উসকানি ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এবার নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন চ্যানেলের আরেক উপস্থাপিকা স্বর্ণালী সরকার।

    ‘সোজাসুজি স্বর্ণালী’ নামের একটি সেগমেন্টে উপস্থাপিকা দাবি করেন, বাংলাদেশের অনেক অভিনয়শিল্পী বর্তমানে ভারতে বসবাস ও কাজ করছেন এবং তার ভাষায়—‘তারা এখানে নাম, যশ আর অর্থ কামিয়ে নিয়ে নিজেদের দেশের প্রতি ন্যূনতম দায়বদ্ধতাও দেখাচ্ছেন না।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে এ শিল্পীরা নীরব কেন?

    কাশ্মীরে হামলার ঘটনা তুলে ধরেন তিনি বলেন, ভারতে এত বড় নারকীয় ঘটনার পরেও কোনো নিন্দা জানাচ্ছেন না ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিনয়শিল্পীরা! তারা শুধুমাত্র নিজেদের লাভ খুঁজছেন। কাজের বেলায় কাজি কাজ ফুরালে পাজি। তারা শুধু নিজেদের কার্য উদ্ধারের করার জন্য বসে আছেন। সেসব অভিনেতা-অভিনেত্রীকে ‘ঘাড়ধাক্কা’ দিয়ে বের করে দেওয়া উচিত।’

    তিনি আরও দাবি করেন, এসব বাংলাদেশি শিল্পীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মেধাবী শিল্পীরা কাজ হারাচ্ছেন। বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদা, দুর্গাপুরের অনেক প্রতিভাবান শিল্পীরা বেকার হয়ে পড়ছেন। তাই পাকিস্তানি শিল্পীদের মতো বাংলাদেশি শিল্পীদেরও বয়কট করার আহ্বান জানান তিনি।

    ভিডিওটিতে সরাসরি বাংলাদেশি অভিয়শিল্পীদের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘জয়া আহসান, মিথিলা, বিদ্যা সিনহা মিম, অপু বিশ্বাস, এমনকি শাকিব খানও ভারতে কাজ করছেন, অথচ তারা ভারতের বিষয়ে কিছু বলেন না।’ একই সঙ্গে ওপার বাংলার শিল্পী স্বস্তিকা মুখার্জি, সোহিনী সরকার ও ইমন চক্রবর্তীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    উপস্থাপিকার মন্তব্যটি ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে এবং দুই বাংলায় শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই একে বিদ্বেষপ্রসূত ও শিল্প সংস্কৃতির পরিসরে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করছেন।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনায় ঝুঁকছেন যেসব তারকা

    অভিনয়শিল্পীরা সর্বগুণে গুণান্বিত। একজন
    প্রকৃত অভিনয়শিল্পীর বিনোদনের সব অঙ্গন সম্পর্কেই সম্যক ধারণা রাখতে হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি
    নাচ, গান, উপস্থাপনার বিষয়েও জ্ঞান রাখাটা বাঞ্ছনীয়। খুব বেশি পারদর্শী হতেই হবে, এমন
    না হলেও, বিষয়গুলোর ওপর ধারণা থাকলে সেটি অভিনয়ে সহযোগিতা করে- এমনটাই বলছেন অভিনয়
    বোদ্ধারা।

    সেজন্যই যুগে যুগে তারকা শিল্পীদের দেখা
    গেছে বিনোদনের সব শাখায় বিচরণ। যা আজও বিদ্যমান। এমনিতে উপস্থাপনায় অভিনয়শিল্পীদের
    পদচারণা নতুন নয়। অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠানে তারকাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া
    হতো মাইক্রোফোন। টিভি আয়োজনেও উপস্থাপনায় থাকতেন সেসব শিল্পী। কারণ, উপস্থাপনা একটি
    শিল্প। এটা যে কাউকে বসিয়ে দিলে কিন্তু বুঝতে বা করতে পারবে না।

    এখানে বাচনভঙ্গি, উচ্চারণ, নির্ধারিত বিষয়টি
    সম্পর্কে জ্ঞান, বাহ্যিক সৌন্দর্যসহ বেশকিছু বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। সে বিবেচনায়
    অভিনয়শিল্পীরা অনেকটা এগিয়ে। তাই চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা, মোশাররফ করিম, জাহিদ হাসান
    থেকে শুরু করে নাটক সিনেমার অনেক তারকাকেই উপস্থাপনায় দেখা গেছে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন
    অনুষ্ঠানে। নিয়মিত না হলেও, প্রয়োজনে মাইক্রোফোন হাতে কথা বলেছেন তারা।

    তবে বর্তমান সময়ে অভিনয়শিল্পীদের অনেকেই
    অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনাকেও পেশা হিসাবেই নিয়েছেন। নিয়মিতই তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে
    দেখা যাচ্ছে। এ তালিকায় পুরোনোদের সঙ্গে নতুন করেও নাম লেখাচ্ছেন অনেকে।

    অভিনেত্রী ও উপস্থাপক মাসুমা রহমান নাবিলা
    অভিনয়ে খুব একটা নিয়মিত নন। বেছে বেছে কাজ করার সুবাদে তার কাজ তুলনামূলক কম। গত বছরের
    কুরবানির ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তুফান’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে চলতি বছরে আবার
    উপস্থাপনায় ফিরেছেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ঈদ অনুষ্ঠান ‘আনন্দমেলা’র উপস্থাপনা
    করেছেন তিনি।

    এর মধ্য দিয়ে সাত বছর পর বিটিভির অনুষ্ঠান
    সঞ্চালনায় দেখা মিলছে এ অভিনেত্রীর। একই অনুষ্ঠানে নাবিলার সঙ্গে উপস্থাপনায় ছিলেন
    আরেক চিত্রনায়ক মামনুন ইমন। এর আগেও তাকে কয়েকটি লাইভ মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। তবে এবার
    টিভি আয়োজনেও সে দায়িত্ব ঘাড়ে নিলেন। বেশ সাবলীল উপস্থাপনা দিয়ে ভালোভাবেই উতরে গেলেন
    তিনিও।

    মডেল ও নৃত্যশিল্পী হলেও অভিনেত্রী হিসাবেই
    অধিক পরিচিত নাদিয়া আহমেদ। তবে ইদানীং তিনিও নাম লিখিয়েছেন উপস্থাপনায়। তার সঞ্চালনায়
    এবার চারটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে রান্নাবিষয়ক একটি অনুষ্ঠান। নাদিয়ার সঙ্গে
    অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন আরেক অভিনেতা এফএস নাঈম। এ ছাড়া এ জুটিকে আরও একাধিক অনুষ্ঠান
    উপস্থাপনায় দেখা গিয়েছে।

    জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান
    খান। অভিনয়ে খুব একটা নিয়মিত নন তিনি, তবে কাজ করছেন গান নিয়ে। নতুন গান প্রকাশের পাশাপাশি
    স্টেজ শোতেও তাকে দেখা যাচ্ছে। এবার তিনি ফিরলেন উপস্থাপনায়। ‘ফ্যামিলি ফিউড’ নামে
    একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন তিনি। এনটিভিতে প্রচার চলতি এ অনুষ্ঠানটি দিয়ে এরই মধ্যে
    তাহসান আলাদা এক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

    অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন শাহরিয়ার
    নাজিম জয়। এরপর নির্মাণে আসেন। কিন্তু বর্তমানে সেসবে নেই ব্যস্ততা। এখন তিনি একজন
    উপস্থাপক হিসাবেই সর্বমহলে পরিচিত। আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনায়ও তিনি এগিয়ে। একাধিক
    অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন তিনি। যার প্রত্যেকটি নিয়েই বিতর্কের মুখে পড়েছেন বারবার।
    আর তাতেই তৃপ্ত হন তিনি।

    অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা আহমেদ গত রোজার মাসে
    প্রতিদিনের আয়োজন ‘ইফতারের রসুইঘর’ নামে একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেছেন। বিটিভিতে
    প্রচারিত এ আয়োজন দিয়ে প্রায় দুই দশক পর বিটিভিতে উপস্থাপনা করেছেন তিনি। এ ছাড়া গাজী
    টেলিভিশনে ‘ঈদের রান্না’ নামে একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায়ও ছিলেন তিনি।

    অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনায় বেশ জনপ্রিয়
    ইমতু রাতিশ। লাইভ অনুষ্ঠান ও টিভি আয়োজনে নিয়মিতই তাকে দেখা যায়। গত ঈদেও একাধিক অনুষ্ঠান
    উপস্থাপনায় ছিলেন তিনি। অভিনয়ের বাইরেও এটিকে পেশা হিসাবে নিয়েই কাজ করছেন তিনি। উপস্থাপনা
    একটা সাবলীল বিষয় বলেই মনে করেন এ অভিনেতা।

    নাটকের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী আব্দুন নূর
    সজল ও সারিকা সাবরিনা। নন্দিত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন নির্মিত ঈদের ‘পাঁচফোড়ন’
    উপস্থাপনায় দেখা গেছে তাদের। এ ছাড়া সারিকা আরও বেশ কয়েকটি টিভি শোয়ের উপস্থাপক হিসাবে
    নিয়মিত কাজ করছেন।

    বছরজুড়ে উপস্থাপনা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন
    উপস্থাপিকা ও অভিনেত্রী নীল হুরেরজাহান। মিষ্টি কথার জাদুতে মাতিয়ে রাখেন দর্শকদের।
    উপস্থাপনার বাইরে মাঝে মাঝেই তাকে অভিনয় করতে দেখা যায়। তবে নিয়মিত নয়।

    উপস্থাপক ও অভিনেত্রী মৌসুমী মৌ। শোবিজ
    অঙ্গনে অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনার কাজও করছেন তিনি। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০টিরও বেশি
    নাটকে কাজ করেছেন এ অভিনেত্রী। পাশাপাশি ওয়েব ফিল্মেও দেখা মিলেছে তার। তবে উপস্থাপনায়
    থিতু হয়েছেন।

    নাচ দিয়ে শোবিজে যাত্রা শুরু হলেও অভিনয়ের
    মাধ্যমেই পরিচিতি পেয়েছেন মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া। কাজ করেছেন অনেক নাটক ও বিজ্ঞাপনে।
    মাঝে বিরতিতে ছিলেন তিনি। দেড় বছর পর সম্প্রতি ক্যামেরার সামনে ফিরলেন উপস্থাপনা দিয়ে।
    সদ্যই শেষ করেছেন খাবারের উপস্থাপনাবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘টেবিলওয়্যারের আর্ট অব প্লেটিং’-এর
    দ্বিতীয় সিজনের শুটিং।

    এ ছাড়া আরও যারা বিভিন্ন সময় ও বর্তমানে
    উপস্থাপনা করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আফসানা মিমি, স্বাগতা, অপু বিশ্বাস, মৌটুসী বিশ্বাস,
    তাসনুভা মোহনা, সামিয়া আফরিনসহ অনেকে।

    বিনোদন ডেস্ক

  • অভিনয়শিল্পী সংঘের অন্তর্বর্তীপ্রধানের সঙ্গী হলেন যারা

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এর পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। সেই থেকে সব জায়গায় শুরু হয়েছে সংস্কার। পুরোনো সব পরিবর্তন করে জায়গাগুলোর নতুন রূপ চান সাধারণ মানুষ। বিনোদন জগতেও এর ব্যতিক্রম নয়। সেই ধারায় টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ’-তেও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।

    এ সংগঠনটির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে সংস্কারের দাবি জানান শিল্পীরা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহাখালীর একটি কনভেনশন হলে জরুরি সভায় ‘অন্তর্বর্তীকালীন সংস্কার কমিটি’ গঠন করা হয়। বরেণ্য অভিনেতা তারিক আনাম খানকে এ কমিটির প্রধান করা হয়। এ অভিনেতাকে প্রধান করা হলেও অন্তর্বর্তী সংস্কার কমিটির অন্য সদস্যদের নাম জানানো হয়নি বিশেষ সাধারণসভায়। পরে এ কমিটি গঠনেও নেতৃত্ব দেন তারিক আনাম খান। 

    এবার সেই কমিটিতে যুক্ত হলেন আরও চার অভিনয়শিল্পী। তারা হলেন— সাহানা রহমান সুমি, একে আজাদ সেতু, জীতু আহসান ও ওয়াহিদা মল্লিক জলি।

    গতকাল বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে কমিটির প্রধান তারিক আনাম খান বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত শিল্পী সংঘের সদস্য ও অন্য শিল্পীদের উপস্থিতিতে বিশেষ সাধারণসভায় যে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সংস্কার কমিটি’ গঠন করা হয়, সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আমার সঙ্গে আরও চারজনকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— সাহানা রহমান সুমি, একে আজাদ সেতু, জীতু আহসান ও ওয়াহিদা মল্লিক জলি।

    তিনি আরও বলেন, আজ পূর্ণ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সংস্কার কমিটি’ ঘোষণা করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই আমাদের কার্যক্রম শুরু করব।

    এর আগে কমিটির দায়িত্ব নিয়ে তারিক আনাম খান বলেছিলেন, ‘সংস্কারের পক্ষেই সবার মত। আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো শিল্পীদের কী কী প্রয়োজন, সেটি খুঁজে বের করা। আমাদের কার্যক্রম সবার জন্য খোলা থাকবে। যে কোনো সদস্য এসে বলতে পারবেন কী সংস্কার প্রয়োজন। সংগঠনের বাইরের কেউ যদি কিছু বলতে চান, তাদের কথাও আমরা শুনব। সবার মতামত নিয়েই সংস্কার প্রস্তাব সাধারণসভায় উপস্থাপন করা হবে।

    এর আগে বিশেষ সাধারণসভার আগে যেসব সংস্কারের কথা বলেছিলেন সংস্কারকামী শিল্পীরা, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— অভিনয়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি এবং অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নতুন করে রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম চালু, তিন ধরনের কোর্সের ভিত্তিতে ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করা, পেশাদার কার্ডের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, রিফরমেশন অ্যাক্ট চালু, অভিনয়শিল্পীদের কাজের সুষ্ঠু, নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিফট সিস্টেম, ওভারটাইম চার্জ, ডেট ক্যানসেলেশন চার্জ চালু, ন্যূনতম পারিশ্রমিক নির্ধারণ ইত্যাদি।

    সেই সময় শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম বলেছিলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই সংগঠন নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিল। অনেকেই শিল্পী সংঘের সংস্কারের কথা বলছিলেন। আমাদের মনে হয়েছিল, সবার সঙ্গে কথা বলা জরুরি। এ কারণেই বিশেষ সাধারণসভার আয়োজন করা। বৃহত্তর একটা অংশ বলেছে— বর্তমান কমিটির পদত্যাগের প্রয়োজন নেই। আবার সংস্কারের কথাও বলেছে তারা। সবার সব কথা শুনে শ্রদ্ধেয় তারিক আনাম খানকে প্রধান করে ‘অন্তর্বর্তী সংস্কার কমিটি’ নামে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও চারজন শিল্পীকে যুক্ত করে আগামী চার মাস সংস্কারের জন্য কাজ করবেন ও নির্বাহী দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্দিষ্ট সময় দেখে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেবেন।’

    অন্যদিকে শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান বলেছিলেন, তারিক আনাম খানের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী কমিটির মেয়াদ হবে চার মাস। এই সময়ের মধ্যে সংগঠনের প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে কাজ করবে তারা। কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা করবে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির। চার মাস পর সাধারণসভায় সংস্কার প্রস্তাব পাস করার পাশাপাশি গঠিত হবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের পর বিজয়ী সদস্যদের কাছে সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন বর্তমান কমিটির সদস্যরা। বর্তমান কমিটি পদত্যাগ না করলেও এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, কেবল দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করবে। 

    বিনোদন ডেস্ক

  • লাকীকে অব্যাহতি দিল অভিনয়শিল্পী সংঘ

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। এ ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় বিনোদন জগতের তারকারা দুই ভাগে বিভক্ত হন। আন্দোলনের শুরুতে পক্ষে থেকে অনেক তারকাকে সরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। সাহস নিয়ে রাজপথে নামেন কেউ কেউ। আবার আরেকটি দল হোয়াটসঅ্যাপে গোপন গ্রুপ খুলে ছাত্রদের দমন করার পরামর্শ দেন।

    হোয়াটসঅ্যাপের বিতর্কিত সেই গ্রুপ ‘আলো আসবেই’র কথোপকথন ফাঁস হলে নেটপাড়ায় সমালোচিত হতে শুরু করেন গ্রুপে থাকা তারকারা। 

    এদিকে ছোটপর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এ সংগঠনটির সভাপতি কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

    লিয়াকত আলী লাকীকে অভিনয়শিল্পী সংঘের উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম। বিষয়টি নিশ্চিত করে অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি নাসিম গণমাধ্যমকে বলেছেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গঠনতন্ত্রের ১৪.১.৪ ধারা মোতাবেক তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে অভিনয়শিল্পী সংঘের নানা কার্যক্রমের সংস্কার দাবি করেছে অভিনয়শিল্পীদের একটি দল। তারা বেশ কয়েকটি সভা-সমাবেশও করেছে। তাদের দাবি প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। পাশাপাশি আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আমরা সাধারণ সভার ডাক দিয়েছি। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

    যুগান্তর প্রতিবেদন

  • ‘প্রেম হচ্ছে বিশাল অনুপ্রেরণা’

    মডেল ও অভিনয়শিল্পী রুকাইয়া জাহান চমক কয়েকমাস আগে হঠাৎ বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনেন। বিয়ের খবর প্রকাশিত হতে না হতে চমক ও তার স্বামী আজমান নাসিরকে নিয়ে চর্চা হতে থাকে। এর মধ্যে কেউ কেউ বলেন, নাসিরের এটি তৃতীয় বিয়ে আর চমকের দ্বিতীয়। 

    rnrn

    বিয়ে প্রসঙ্গে নাসির তার অবস্থান আগে পরিষ্কার করলেও এত দিন কিছুই বলেননি চমক। 

    rnrn

    মঙ্গলবার কথা প্রসঙ্গে চমক বললেন, সবাই এত কিছু লিখছিল, এটা আমার মোটেও পছন্দ হচ্ছিল না।  এটা তো আমার একান্ত ব্যক্তিগত।

    rnrn

    তিন মাস আগেও বিয়ের খবর নিজে থেকে কাউকে জানাতে চাননি চমক। যখন খবরটি ছড়িয়ে পড়ে, তখন স্বামীকে নিয়ে কথা বলেন চমক। 

    rnrn

    তখন তিনি বলেছিলেন, মানুষটার সম্পদ বলতে কিছুই নেই, অতীতও খুব একটা মধুর নয়! কিন্তু রাজার মতো একটা মন আছে, যেখানে সে আমাকে রানির মতো রেখেছে। আমি সুখী। এ মুহূর্তে আমার মতো সুখী কজন আছে জানি না। আবার এই সুখ কত দিন টিকবে তাও জানি না।

    rnrn

    চমক বললেন, আমরা একসঙ্গে আছি। আমার কিন্তু আগে কোনো বিয়ে হয়নি, তারপরও এটা নিয়ে কথা হচ্ছিল শুধু শুধু। এটা ঠিক, আমার একটা সিরিয়াস প্রেম ছিল। এরপর আরও দুই–তিনটা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছি।

    rnrn

    চমকের অভিনয়জীবন চার বছর হতে চলেছে। নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি একটি চলচ্চিত্রও বানিয়েছেন। প্রেমকে কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে মনে করেন চমক। 

    rnrn

    তিনি বললেন, আমরা শিল্পী, জীবনে দুই–তিনটা প্রেম থাকবে না, এটা হতেই পারে না। প্রেম হচ্ছে বিশাল অনুপ্রেরণা। প্রেম থেকে আমরা শিখি, প্রেমে কষ্ট পেলে সেখান থেকেও শিখি, আরও আসে অনুপ্রেরণা। আমার যদি কাউকে ভালো লাগে, তিনি যদি ক্রিমিনালও হন, তার খারাপ দিকটা ঠিক করে প্রেমের সম্পর্কে থাকতে পেরে ভালো লাগে।

    rnrn

    rn 

    বিনোদন ডেস্ক

  • ‘শেম অন ইউ গাইজ’, ফেরদৌস-শমী কায়সারদের উদ্দেশে সাদিয়া আয়মান

    কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দেশের দৃশ্যমাধ্যমের শিল্পীদের মধ্যে বিভক্তি লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মামুনুর রশিদ, মোশাররফ করিমসহ একদল অভিনয়শিল্পী এবং নির্মাতা ফার্মগেটে সমাবেশ করে প্রাণহানির বিচার চেয়েছেন।

    অন্যদিকে একই দিনে সংসদ সদস্য ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেত্রী শমী কায়সারসহ কিছু শিল্পী বিটিভি ভবন পরিদর্শন করেন। আজ ফেরদৌস-শমীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যমুনা টিভির কার্ড শেয়ার করে তরুণ অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান লিখেছেন, ‘শেম অন ইউ গাইজ’।

    বিটিভি ভবন পরিদর্শনে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে অভিনেত্রী শমী কায়সার বলেন, ‘বিটিভি প্রাঙ্গণে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।’ তার এ মন্তব্য নিয়ে বানানো কার্ডটি নিজের প্রোফাইলে শেয়ার দিয়ে ওই মন্তব্য করেন সাদিয়া।

    উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় বিচার দাবি করে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন রাজপথে নেমেছে। তারা মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে সব হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

    বিনোদন ডেস্ক