Tag: অপর্ণা সেন

  • অপর্ণা সেনের সঙ্গে অভিনয় করতে পারার সুযোগ পাওয়াটাও বড় ব্যাপার ছিল: অঞ্জন দত্ত

    এপার-ওপার— দুই বাংলা ছাড়াও সংগীত দুনিয়ায় অনবদ্য খ্যাতি অর্জন করেছেন জনপ্রিয় বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী অঞ্জন দত্ত। তার গান যেন এক হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসার কথা বলে। তিনি গান ছাড়াও অভিনয় জগতেও সুনাম অর্জন করেছেন। তার চোখ ধাঁধানো অভিনয় দর্শকদের হৃদয় কেড়েছে। এ ছাড়া পরিচালকও হিসেবে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার কাজ মন ছুঁয়েছে দর্শকদের। সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এ বরেণ্য গায়ক জীবনে গান, অভিনয় ছাড়াও নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। 

    অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সবসময় যে চরিত্রে অভিনয় করি, সেই চরিত্রটা হয়ে ওঠার চেষ্টা করি অঞ্জন দত্ত থেকে বেরিয়ে এসে। আমি অনেক বেশি ছবি করার সুযোগ পাইনি, কিন্তু মৃণাল সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, গৌতম ঘোষ, অপর্ণা সেন, প্রতীম ডিগুপ্ত বা পরম— এ রকম কিছু পরিচালক আছেন, যারা আমার ওপর ভরসা রেখেছেন।

    অভিনেত্রী অপর্ণা সেনের বিষয়ে অঞ্জন দত্ত বলেন, অপর্ণা সেন বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করতেন। সেই সময়ে নায়িকাদের বেশিরভাগ ছবিতেই দেখা যেত প্যানপ্যান করে কাঁদতে। এটাকে আমি ছোট করছি না। তিনি বলেন, এটাই প্রচলিত ছিল। অথচ তিনি যখন কমেডি করতেন, তার সেই উইটটা চোখে পড়ত। বোঝা যেত তিনি ঠিক ন্যাকা নায়িকা নন। এদিকে অপর্ণা সেনের সঙ্গে অভিনয় করতে পারার সুযোগ পাওয়াটাও বড় ব্যাপার ছিল বলে জানান এ সংগীতশিল্পী।

    এ অভিনেতা বলেন, ভালো অভিনেত্রী বলেই তিনি (অপর্ণা সেন) ভালো পরিচালক। যারা ভালো অভিনেত্রী হন, তারা খারাপ পরিচালনা করতেই পারেন না বলে আমার বিশ্বাস। এটা আমি নিজের ক্ষেত্রেও মনে করি।

    অঞ্জন দত্ত বলেন, যদিও অনেকে বলেন আমি ভালো অভিনেতা। কিন্তু ভালো পরিচালক নই। অথচ আমি প্রচুর নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে সুযোগ দিয়েছি। যারা কোনো দিন অভিনয় করেননি। যেমন সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক— এদের বিষয়টি আলাদা। কিন্তু আমি অন্তত খুব খারাপ অভিনেতা অথচ দারুণ পরিচালক দেখিনি।

    বিনোদন ডেস্ক

  • সত্যজিৎ বলেছিলেন—বেড়ালকে অভিনয় শিখিয়ে ছবি হয় না: অপর্ণা

    গৌতম ঘোষ থেকে অঞ্জন দত্ত— এই তথ্যচিত্রে সবাই দাবি করেছেন, অনেক ‘ভুল’ ছবিতে অপর্ণা সেন কাজ করেছেন। অভিনেত্রী অপর্ণা সেনকে নিয়ে আনন্দবাজার অনলাইনে প্রতিবেদন লিখেছেন সাংবাদিক স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়, যা হুবহু তুলে ধরা হলো।

    ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন’-এর চিত্রনাট্য শোনাতে সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি গিয়েছিলেন টালিউড অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। সে চিত্রনাট্য পড়ে সত্যজিৎ বলেছিলেন—শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে ও রকম চিত্রনাট্য অনেক লেখা যায়। বেড়াল নিয়ে ছবি করা কি চাট্টিখানি কথা! অভিনেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, বেড়ালকে প্রশিক্ষণ?

    অপর্ণা থামেননি। তৈরি হয় ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন’। এ ঘটনার কথা শুনতে শুনতে দর্শকের সামনে ভেসে উঠল ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন’-এর ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় ও দেবশ্রী রায়ের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য। যার উল্টো দিকে কালো হুলো লেজ নাড়ছে।

    দৃশ্য ও কথন বেঁধে দিলেন পরিচালক সুমন ঘোষ তার তথ্যচিত্র ‘পরমা: আ জার্নি উইথ অপর্ণা সেন’-এ। সুমন অপর্ণার ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন’ তথ্যচিত্রের মধ্য দিয়ে তার দেখা অভিনেত্রী পরিচালিকাকে খুঁজতে বেরিয়েছেন। সেখানে উঠে এসেছে অপর্ণার ছবি নির্মাণের নানা মন্তাজ। অন্যদিকে সমসাময়িক অপর্ণা খুঁজে বেড়িয়েছেন ‘রিনা’কে।

    একবার মেয়ে কঙ্কনার অভিনয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, মেয়ে তার চেয়ে ভালো অভিনেত্রী। সত্যিই কি তাই? মেয়ের সামনে প্রশ্ন রেখেছেন পরিচালক সুমন ঘোষ। কঙ্কনা জানিয়েছেন, তার মায়ের সময়ই ছিল আলাদা। ছবি তৈরির পদ্ধতি থেকে চরিত্র নির্মাণ— অপর্ণাকে অনেক ক্ষেত্রেই আপস করতে হয়েছে। কঙ্কনা বলেন, মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’ থেকে ‘গহনার বাক্স’ মা যখনই আমাকে অভিনয় করতে বলেছেন, আমি প্রথমে বলেছি ‘না’। অভিনয়ের সময় মায়ের কাছেই শিখেছি, আমার অংশটি মা অভিনয় করে দেখিয়ে দিতেন। অনুকরণ করতাম না, বুঝে যেতাম মা ঠিক কী চাইছেন। অপর্ণার বড় মেয়ে কমলিনী যেমন অন্য এক অপর্ণাকে এই তথ্যচিত্রের মাধ্যমে সামনে এনেছেন। সংসার চালানোর জন্য মাকে সেই সময় প্রচুর কাজ করতে হতো। আমি দাদু, দিদিমার কাছে বড় হয়েছি। আমি খুবই জ্বালাতন করতাম মাকে। তবু মা অনেকটা সামলেছে।

    প্রথাগত মায়েরা যেমন হন, অপর্ণা সে রাস্তায় হাঁটেননি। তথ্যচিত্রে স্বীকার করে নিলেন নিজেই। তবে সন্তানদের বই পড়া, নিয়মিত সারা বিশ্বের ছবি দেখার প্রতি তিনি বিশেষ নজর দিয়েছিলেন। কমলিনী, কঙ্কনার ওপর নির্দেশ ছিল জনপ্রিয় ছবি না দেখার। মা হিসেবে সফল অপর্ণা মেনে নিয়েছেন বিয়ের জায়গায় তিনি সফল নন। সমাজের বাঁধন ভাঙতে পেরেছেন রিনাদি। তাই ‘পরমা’ নাম দিয়েছিলাম। ওর কাজের জায়গায় গিয়ে মানুষ অপর্ণাকে খোঁজা, বললেন সুমন। ভেসে উঠল ‘জাপানিজ ওয়াইফ’-এর অদেখা দৃশ্য। সংগ্রাহক নীল বি মিত্রের সৌজন্যে।

    গৌতম ঘোষ থেকে অঞ্জন দত্ত— এই তথ্যচিত্রে সবাই দাবি করেছেন, অনেক ‘ভুল’ ছবিতে অপর্ণা কাজ করেছেন। একসময় উৎপল দত্তের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া এই অভিনেত্রী কি পারতেন বেছে কাজ করতে? আবার সেই সময়ের কথা উল্লেখ করেই অপর্ণা বললেন, সেই সময় একজন অভিনেত্রী যদি বাণিজ্যিক না করেন তা হলে তিনি থমকে যাবেন। এটা সম্ভব ছিল না।

    অসম্ভবকে অনেক সময় সম্ভবও করেছেন তিনি। রাজনীতির ময়দানে নির্দিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকারবিরোধী কণ্ঠস্বর বারবার উঠে এসেছে। তা হলে কি অপর্ণা সেন, ঘটনার বাইরে গিয়ে কোনো রাজনীতির কথা বলেন না?— প্রশ্ন রেখেছিলেন সুমন ঘোষ। উত্তরে অপর্ণা বলেন—সভ্যসমাজে যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে, যা গণতন্ত্রবিরোধী, সেখানে কথা বলাই তো আমার কাজ। তাই একসময় দেশের সাম্প্রদায়িক অশান্তি রোধে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে পদক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

    এমন করেই তথ্যচিত্রের নানা চেহারায় ভিন্ন ভিন্ন অপর্ণা। রাজনীতির অপর্ণা, চিদানন্দ দাশগুপ্তের মেয়ে অপর্ণা, কমলিনী-কঙ্কনার মা অপর্ণা ফিরে ফিরে যেন তার অতীত ঘাঁটছেন এই তথ্যচিত্রে। তাকে একান্তে শিল্পী হিসাবে, সঙ্গী হিসাবে দেখেছেন কল্যাণ রায়। বন্ধু হিসেবে পেয়েছেন শাবানা আজমি। আরও অনেক মানুষ… সুমন নিজের মতো করে তাকে দেখেছেন। আর অপর্ণা? তার সৃষ্টির মধ্যেই নিবিড় অস্তিত্ব।

    বিনোদন ডেস্ক

  • আমি তো বছর বছর ছবি বানাই না: অপর্ণা সেন

    আমি নিজে কোনো দিন ছবি প্রযোজনা করিনি বলে ফেডারেশনের দিকটা খতিয়ে দেখার অবকাশও হয়নি। আর আমি তো বছর বছর ছবি বানাই না যে, এসব নিয়ে মাথা ঘামাব। কথাগুলো টালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী অপর্ণা সেনের।

    তিনি বলেন, গত শনিবার প্রকাশ্যে এসেছে ফেডারেশনের কিছু চিঠিপত্র। তার পরেই কিছু প্রশ্ন আমার মনে এসেছিল। সেটি আমি সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করে নিই। তার পর দেখি— পোস্টটি ভাইরাল হয়ে গেছে। 

    এ প্রসঙ্গে আনন্দবাজার অনলাইন জানতে চেয়েছিল— ফেডারেশনের একুশে আইন এবং ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধে অনেকের বহু অভিযোগ। সাম্প্রতিক উদাহরণ, হেয়ার ড্রেসার গিল্ডের সদস্য এক কেশসজ্জা শিল্পীর আত্মহত্যার চেষ্টা।  

    এ প্রসঙ্গে অপর্ণা সেন বলেন, এবার আমার জবাবের পালা। আমার মতে, একদমই তাই। যিনি প্রোডাকশন দেখছেন, ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ সাধারণত তিনিই রাখেন। প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ছবির ক্রিয়েটিভ দিকটাই দেখেছি সব সময়। তিনি বলেন, আমি নিজে কোনো দিন ছবি প্রযোজনা করিনি বলে ফেডারেশনের দিকটা খতিয়ে দেখার অবকাশও হয়নি। মাঝেমাঝে প্রোডাকশন থেকে হয়তো বলা হয়েছে— আরও দুজন সহকারী পরিচালক নিতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রোডাকশন থেকেই তাদের নিয়োগ করা হয়, আমাকে বলাও হয়নি। আমি আমার দু-তিনজন রেগুলার সহকারী পেয়েই নিশ্চিন্তে কাজ করেছি।

    এ অভিনেত্রী বলেন, অনেক বছর হলো, আমার ছবির বাজেটও আমি নিজে করি না। শুধু কত দিনের শুটিং হবে, ক্যামেরাম্যান, এডিটর, শিল্প বা সংগীত নির্দেশক হিসেবে কাকে কাকে লাগবে, কোন চরিত্রে কোন অভিনেতাকে চাই বা বিশেষ কোনো যন্ত্রপাতি কিংবা আলো লাগবে কিনা—এসবই বলে দিয়ে আমি শট ডিভিশন, লোকেশন বাছাই, অভিনেতাদের ওয়ার্কশপ— এসব কাজে মন দিই।  তিনি বলেন,কখনো কিছু বলতে গেলে বরং প্রযোজকের কাছে শুনতে হয়েছে—ওসব আপনাকে ভাবতে হবে না দিদি, আপনি মন দিয়ে ছবিটা বানান তো!

    অভিনেত্রী আরও বলেন, ইদানীং ডিরেক্টর্স গিল্ডের সঙ্গে ফেডারেশনের বিরোধের ব্যাপারে কিছু কথাবার্তা কানে আসছিল— ফেসবুকে দুই-একটা পোস্ট দেখছিলাম। আমাকে কেউ কিছু জানানওনি পরিচালকদের সংগঠন থেকে। হেয়ার ড্রেসারের আত্মহত্যার প্রচেষ্টা ও তার প্রাক্-ইতিহাসের ব্যাপারে খুব সম্প্রতি জেনেছি সুদীপ্তা-বিদীপ্তা-চৈতী-অনন্যা-সাবর্ণী প্রমুখ ডব্লিউএফএসডব্লিউ প্লাসের সদস্যদের থেকে। যে সদ্য গঠিত সংস্থার আমিও একজন সক্রিয় সদস্য। তার পর গতকাল এক পরিচালক আমাকে পরিচালক সংগঠনের একটি ফেসবুক পোস্ট ফরোয়ার্ড করেন, যা পড়ে যুক্তিসঙ্গত প্রশ্নই তুলেছি।

    বিনোদন ডেস্ক