নতুন শুভশ্রী হয়ে উঠলো ব্রেকআপের পর

  ১১, জুন ২০১৭  |    কলকাতা  |    254

শিবপ্রসাদ

পার্সোনাল লাইফ নিয়ে কোনও প্রশ্ন করা যাবে না, শুরুতেই শর্ত দিয়েছিলেন নায়িকা। তাই তাঁর জীবনে এই মুহূর্তে কোন দিকগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো নিয়ে ‘ওবেলা’র সঙ্গে কথা বললেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথাবার্তা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুছনো, অনেক বেশি শান্ত। সিনেমা ছাড়াও জীবনের অন্য দিকগুলো নিয়ে ভাবতে চান শুভশ্রী। এই পরিবর্তন কি সদ্য রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে ব্রেকআপের জন্যেই হল? নায়িকা অবশ্য বললেন, যে সময়ের সঙ্গে এটা ধীরে ধীরে এসেছে। কোনও একটা ঘটনা এর জন্যে দায়ী নয়। কারণ যা-ই হোক, তাঁর অ্যাটিটিউড এবং আত্মবিশ্বাস দেখে স্পষ্ট, শুভশ্রী আপাতত নিজের জীবন নিজের মতো করে কাটাতে চান। অন্য কারও উপর তাঁর হাসি-কান্নার কোনওটাই নির্ভর করে না। তিনিই এখন নিজের ‘বস্‌’।

কাজে মন দিয়েছেন শুভশ্রী। এখন তাঁর পরপর রিলিজ। ‘বস্‌ টু’, ‘দ্যাখ কেমন লাগে’, ‘নবাব’, ‘চালবাজ’— হাতে একগুচ্ছ ছবি। জানালেন, সাধারণত বেশিরভাগ ছবিই না করে দেন। কিন্তু এ বছর এত ভাল ছবির অফার পেয়েছেন, যে সবগুলোতেই রাজি হয়ে গিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে যা-ই হোক, পেশাদারিত্বের ব্যাপারে তিনি পাকা। ফোটোশ্যুটের জন্যে এলেন ঘড়ির কাঁটা ধরে। মেকআপ করতে করতেই শুরু হল আড্ডা। এমনকী, নিজের স্টাইলিংও বললেন, নিজেই করবেন। সামনেই দিদির জন্মদিন। একটি পমেরানিয়ান উপহার দেবেন। তার ছবি দেখাচ্ছিলেন ফোনে। তারপর নিজের পোষ্য চিহুয়াহুয়ার (জিলাটো) ছবিও দেখালেন। বোঝাই যাচ্ছিল, এখন পোষ্যরাই তাঁর জীবনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। বললেন, ‘‘রোজ বাড়ি ফেরার পর ওকে দেখেই মন ভাল হয়ে যায়। বাবা-মা-ও মাঝে মাঝে বাড়ির ফেরার পর অতটা পাত্তা দেয় না! হয়তো টিভি দেখতে ব্যস্ত। কিন্তু ওর এক্সাইটমেন্ট রোজ একই রকম থাকে। আমায় দেখতে পেলেই খুশি। আসলে ওরা ‘সেপারেশন পেন’টা খুব ফিল করে। জিগ্যেস করা গেল, মানুষও যদি এমন হতো! কথাটা শেষ করার আগেই নায়িকা বলে উঠলেন, তাহলে তো জীবনে কত কিছুই শেখা হতো না, তাই না!

হাতে ছবি আছে বটে। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা তো ভাল নয়। ভয় করছে না? ‘‘সব ইন্ডাস্ট্রিরই একেকটা খারাপ সময় আসে। আসলে ট্রেন্ড বদলায়। দর্শকের মানসিকতাও সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। আমার মনে হয়, দর্শক এখন আর সেই একঘেয়ে গল্প পছন্দ করছেন না। গল্প আর গল্প বলার ধরন পাল্টাতে পারলে, আবার হল’এ গিয়ে ছবি দেখবেন সকলে, বললেন ‘বস্‌ টু’এর নায়িকা।

রিমেক পছন্দ করছেন না দর্শক, মেনে নিলেন শুভশ্রীও। তবে এক সময় সেই রিমেক থেকেই অনেক টাকা কামিয়েছে টলিউড। তাঁর নিজের ফিল্মোগ্রাফিতেও এমন বহু ছবি আছে। ‘‘বস্‌’এর গল্পটাও কিন্তু রিমেক স্টোরি। অথচ সে বছর অনেক টাকা কামিয়ে বেশ হইচই ফেলে দিয়েছিল। এবার মনে হল অরিজিনাল গল্প নিয়ে কাজ করা উচিত। কারণ, সফল ছবির সিক্যুয়েল থেকে দর্শকের প্রত্যাশা বেশি থাকে। তাছাড়া আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যতগুলো সিক্যুয়েল হয়েছে, সবই নতুন গল্প নিয়ে। একই গল্পের কন্টিনিউয়েশন কখনও হয়নি। তাই জিৎদা ঠিক করেন, মৌলিক গল্প নিয়েই কাজ হবে,’’ বললেন শুভশ্রী।

নায়িকা উবাচ

• আমি আর এমন কী অ্যাচিভ করেছি! শুধু আঞ্চলিক ছবিতে কাজ করে কী আর করলাম। অ্যাচিভ তো করছে প্রিয়ঙ্কা চোপড়া।
• জীবনের প্রতি আর কাজের প্রতি সৎ থাকলে শহরের সবচেয়ে বড় প্রযোজনা সংস্থাকেও দরকার পড়ে না। ইউ ডোন্ট নিড দেম।
• সিনেমা শুধু আমার পেশা। এটা আমার জীবন নয়।
• যেদিন মনে হবে আর অভিনয় করতে ভাল লাগছে না, সব ছেড়ে চলে যাব। অন্য কিছু করব।

শুধু নাচগান করা বাণিজ্যিক ছবির নায়িকা আর হতে চান না শুভশ্রী। এমন ছবি খুঁজছেন যেখানে অভিনয়ের সুযোগ পাবেন। অবশ্য ‘বাণিজ্যিক’ টার্মটা নিয়ে আপত্তি রয়েছে নায়িকার। ছবি দু’ধরনের। ভাল ছবি আর খারাপ ছবি। এসব বাণিজ্যিক, অন্যধারা কথাগুলো এবার মুছে দেওয়া উচিত। আর মূলধারার বাণিজ্যিক ছবি মানেই হিরো সারাক্ষণ লড়াই করবে কিংবা বিদেশে গিয়ে নাচবে, এই ধারণাটা এবার মুছে ফেলা দরকার। বলিউডে তো এরকম হয় না, মত শুভশ্রীর।

কিন্তু বলিউডে তো এখন বেশ কিছু ছবি নারীকেন্দ্রিক। টলিউড কি সেটা পারবে? উত্তরে জানালেন, এখনই তিনি জোর দিয়ে বলতে পারবেন না, সেটা কবে হবে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ দর্শক অনেক বেশি অর্থডক্স। তবে তিনি আশাবাদী। চেষ্টা করলে বা এমন ছবি ‘পুশ’ করলে, বদলটা নিশ্চয়ই আসবে।
তিনি মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রিতে ছবির ধরন বদলানোর প্রয়াসটা শুরু হয়ে গিয়েছে। সকলেই নিজের মতো চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে দেবের জন্য তিনি সত্যিই খুশি। পরপর ‘ধূমকেতু’, চ্যাম্প’, ককপিট’এর মতো ছবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে। কিন্তু ‘ধূমকেতু’ মুক্তি পাচ্ছে না কেন? তিনিও তো রয়েছেন ছবিতে! উত্তরটা এড়িয়ে গিয়ে বললেন, আই হ্যাভ নো আইডিয়া।

তাঁর ঝুলিতে এতগুলো হিট। এক সময় দেব-শুভশ্রীর জুটি শুনলেই লোকে পাগল হয়ে যেত। মাঝে একটা ‘ডাল পিরিয়ড’ গেলেও ‘খোকা ৪২০’ আর ‘বস্‌’ দিয়ে তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। গত বছরের শেষ থেকে তিনি টানা কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ কেরিয়ারের হাইপয়েন্ট জানতে চাইলে তিনি অমায়িক। এতটাই বদলে গিয়েছেন শুভশ্রী। ‘‘আমার চিন্তাধারা আগের চেয়ে বদলেছে। আর্টিস্ট হিসেবে খিদেটা বেড়েছে। লোকে শুধু জানে, শুভশ্রী ভাল নাচতে পারে। শুভশ্রী খুব হট। কিন্তু এবার অভিনয় নিয়েও কথা বলুক, সেটাই চাই। তাই কেরিয়ারের কোনও হাইপয়েন্ট এখনও আসেনি বলেই আমি মনে করি,’’ খুব সহজভাবে বললেন শুভশ্রী।

সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ-নন্দিতা, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়— সকলের সঙ্গেই তিনি কাজ করতে চান। কিন্তু কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারবেন না। দশ বছর হয়ে গেল। কারও কাছে কাজ না চেয়েই ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়ে দিলাম। এখন আর কেন চাইব? ভাল ছবি করার সুযোগ থাকলে নিশ্চয়ই পাব। কিন্তু কপালে না থাকলে চাইলেও হবে না, সোজাসাপ্টা বললেন শুভশ্রী। ফিল্মোগ্রাফিতে এতগুলো হিট। অথচ শহরের সবচেয়ে বড় প্রযোজনা সংস্থা তাঁকে ব্রাত্য করেছে। সেটা কি ড্রব্যাক নয়? ‘‘আমায় প্ল্যাটফর্ম দিয়েই এই শুভশ্রীকে তৈরি করেছিল তারা। তার জন্যে আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু এই প্রযোজনা সংস্থা থেকে আমার মোটে দু’টো হিট। বাকিগুলো বাইরে থেকে। কাজের প্রতি সৎ থাকলে, কোনও কিছুই ড্রব্যাক নয়, বললেন নায়িকা। কোনও গডফাদার ছাড়াও ইন্ডাস্ট্রিতে এত বছর সেরা নায়িকাদের তালিকায় টিকে গেলেন। গর্ব হয় না? খুব শান্তভাবে শুভশ্রী জানালেন, কোনও কিছুই সে অর্থে ‘অ্যাচিভমেন্ট’ বলে মনে করেন না। যে ক’টা হিট রয়েছে কেরিয়ারে, তার কৃতিত্ব একা নিতে পারেন না তিনি। কারণ পুরোটাই টিম এফর্ট। তাছাড়া অভিনয় তাঁর কাছে শুধুই একটা পেশা। এর বাইরেও অনেক কিছু করতে চান তিনি। স্পিরিচুয়ালি আমি এখন অনেক বেশি ইভলভ্‌ড। কাজের বাইরেও অনেক কিছু করতে চাই। এক সময় কোনও কারণ ছাড়াই ঘোড়সওয়ারি শিখে ফেলেছিলাম। তেমনই অনেক কিছু শিখতে চাই। জীবনের মানেটা এখন আমার কাছে অনেক বড়,স্পষ্ট বলে দিলেন শুভশ্রী।

সংশ্লিষ্ট খবর

সুজিতের রাজকাহীনিতে জয়া আহসান

  ২৩, সেপ্টে ২০১৪  |    753