’মা’- তুমি স্বর্গ

  ৮, মে ২০১৬  |    Slider, বিশেষ প্রতিবেদন  |    2138

মাকে নিয়ে যতোই বলি না কেন কমই হবে। মাকে নিয়ে বলার মতো সাহস করবো না। তাই শুধু একটা কাহিনী বলবো। এক মা ও ছেলের গল্প। জন্ম থেকে বড় হওয়া। এর মাঝের কথা না বাড়িয়ে শুরু করি। ছেলে বড় হয়েছে। এখন বড় অফিসার। বিয়ে করেছে নিজের পছন্দেই। বিয়ের পর নিজের সংসার। যেখানে জায়গা হয় না মা’র। মা’র ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম। মা’র জায়গা না হলেও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের জায়গা হঢ তার সংসারে। সবাইকে নিয়ে ছেলের সংসার। ছেলে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মা’র খবর নেয় না বললেই চলে। মাসে একবার যায় তাও খুব অল্প সময়ের জন্য। এভাবে কেটে যায় বছর। ঈদেও মার কাছে আসে না ছেলে। কাটে আরো একটি বছর। বিয়ের ২ বছর পর ছেলে ট্রেনিং-করতে ৫ বছরের জন্য বিদেশে যাবার সুযোগ পায়। তার পরিবারে সে কি আনন্দ। কিন্তু মা- জানেই না সে খবর। তার পরিবারের কার কি লাগবে এসব তালিকা আসে ছেলের হাতে। বাসায় পার্টি হয়। কিন্তু কোন কিছুই জানে না মা। পড়ে থাকে বৃদ্ধাশ্রমে। দেখতে দেখতে ঘনিয়ে আসে ছেলের বিদেশ যাবার সময়। ছেলে তখন মা’কে জানায় যে, বিদেশ যাচ্ছে। মা ব্রদ্ধাশ্রমে বলে কয়ে, যায় এয়াপোর্টে। বিদায় বেলায় সবাই মনে করিয়ে দেয় তাদের আবদারের কথা। সবশেষে ছেলে আসে মার কাছে। মা তোমার কি লাগবে। মা বলে আমার কিছু লাগবে না। তুই ভালো থাকিস বাবা। এই কথা বলে ছেলের মাথায় হাত বুরিয়ে দেয় মা। মার চোখে তখন অশ্রু। ছেলে বিদেশ যাচ্ছে। সবার মাঝে আনন্দ। আর মার মনে ভাবনা। কিভাবে থাকবে ছেলে- একা বিদেশে। ছেলে বিদেশ পৌছায়। বিদেশ থেকে স্ত্রীর সাথে, শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়দের সাথে কথা হয় প্রতিনিয়ত। কথা হয় না শুধু মায়ের সাথে। সবাই তাদের আবদারের কথা মনে করিয়ে দেয়। যোগাযোগ না থাকলেও মা ঠিকই তার ছেলের জন্য প্রতিদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থণা করে। এভাবেই কেটে যায় ৩টি বছর। হঠাৎ একদিন খবর আসে ছেলে গুরুতর অসুস্থ। ডাক্তার বলে সে আর বাচবে না। তার খুব অল্প সময় হাতে আছে। এ কথা জানার পর ছেলে দেশে ফিরে আসার ব্যবস্থা করে। স্ত্রী বলে বিদেশেই চিকিৎসা করানোর কথা। কিন্তু টাকা বেশী লাগবে। এই ভেবেই সে চলে আসতে চায় দেশে। স্ত্রী তখন আর বাধা দেয় না। তবে মনে করি তাদের পরিবারের সদস্যদের আবদারের কথা। ছেলে দেশে ফিরে আসে। ফেরার দিন সবাই আসে এয়াপেোর্টে ;ছেলেকে রিসিভ করতে। কিন্তু সে তো কারো জন্য কিছুই আনেনি। সবার মন খারাপ হয়ে যায়। কেই ভালো করে কথাও বলে না। ছেলে অসুস্থ; দেশে ফিরে এসেছে সেদিকে কারো নজর নেই। আবদারের জিনিস না আনায় তারা খুব একটা খুশি না। কিছু না পাওয়ায় ছেলেকে একটু অবহেলাই করে সবাই। কেউ ঠিকমতো কথাও বলে না। এভাবে কাটে সপ্তাহখানেক। একদিন বন্ধের দিন ছেলে যায় মার সাথে দেখা করতে। যে মা’র খবর সে রাখেনি গত ৩ বছর। মা কি তাকে বুকে জড়িয়ে নেবে? এমন হাজারো প্রশ্ন ছেলের মনে। ভাবতে ভাবতে ছেলে চলে আসে মা’র সামনে। ৩ বছর পর মার সাথে দেখা হয় সন্তানের। ছেলেকে দেখেই অসুস্থ বৃদ্ধ মা ছুটে আসার চেষ্টা করে। মার বুকের ধন তার সামনে এসেছে এতোদিন পর। যেনো তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতে মায়ের আর তর সইছে না। ছেলে যখন কাছে আসে মা ঠিকই সন্তানকে বুকে টেনে নেয়। জড়িয়ে ধরে কাদতে থাকে। আর ছেলের কাছে একটাই জিজ্ঞাসা খোকা কেমন আছিস। তোর শরীর এতো শুকিয়ে গেছে কেন? তুই কি ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করিস না? ছেলের কাছে মার হাজারো জিজ্ঞাসা। ছেলে নিশ্চুপ। এরপর মা ছেলেকে একটু থামিয়ে জানতে চায় মা তুমি কেমন আছো। মার উত্তর, আমি ভালো আছি রে খোকা। এখন ভালো আছি। কিছু সময় কাটায় মায়ের সাথে। মায়ের খোজ খবর নিতে ছেলে আসে আশ্রমের কর্তৃপক্ষের কাছে। জানতে পারে, গেলো ৩টি বছর ধরে মা ঐ গেটটার দিকে তাকিয়ে থেকেছে। তার ছেলে আসবে বলে। প্রতিরাতে জায়নামাজে বসে সন্তানের জন্য চোখের পানি ফেলতো। সৃষ্টিকর্তার কাছে তার একটাই প্রার্থণা- হে খোদা আমার সন্তানকে সুখে রেখো। ভালো রেখেো। নিরাপদে রেখো। অসুস্থ তারপরও ছেলের জন্মদিনে রোজা রেখেছে, ছেলের যেনো কোনো বিপদ না আসে। এসব কথা শুনে ছেলে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। কেদে ফেলে। এরপর সে যায় মার কাছে। ধীরে ধীরে মার কাছে ক্ষমা চায়। এরপর বলে, তার শারীরিক অসুস্থতার কথা। এ কথা শুনে মা অঝোরে কাদতে থাকে। সে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো আশ্রমের পরিবেশ। ছেলে চলে আসে। মার চোখে ঘুম নেই। ছেলের চিন্তা। যে ছেলে তার খবর নিতো না। যে ছেলে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। সেই ছেলে অসুস্থ- এ কথা শুনার পর মার চোখে নেই ঘুম। সারারাত কাদে। জায়নামাজে বসে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থণা করে। হে খোদা আমার সনের রোগটা আমাকে দিয়ে দাও। তাকে সুস্থ করে দাও। মা’ দোয়া হয়তো সৃষ্টিকর্তা শোনেন। ৩ দিন ছেলেটার মোবাইলে কল আসে। রিসিভ করে সে জানতে পারে তার মা’ মারা গেছে। ছেলে যায় মার কাছে। সেখানে মার আশেপাশের লোকজনের কাছে ছেলে জানতে পারে- ছেলের অসুস্কেথতার কথা শোনার পর মা আর রুম থেকে খুব একটা বের হতেন না। কিছু থেকেন না। শুধু কেদেছেন। আর সৃষ্টিকর্তার কাছে এক একটাই প্রার্থণা করেছেন ছেলে যেনো ভালো থাকে, সুখে থাকে, সুস্থ থাকে। এই হলো মা। এক চিরায়িত সম্পর্ক আর শব্দের নাম। শত অবহেলার পরও সন্তানের বিপদে ঠিকই নিরবে চোখেন পানি ফেলে। সন্তানের জন্য নিজের জীবন দিতেও পরোয়া করে না। মা। মা একটা শব্দ- আত্মার প্রশান্তি। একটা সম্পর্ক জন্ম জন্মান্তরের। স্নেহ, মায়া মমতা মান, অভিমান আর এক সুশতিল আশ্রয় মা। দশ মাস দশ দিন ধরে গর্ভধারণ করে আমাদের পৃথিবীর আলোর মুখ দেখায় মা। সেই ছোট্ট শিশুটির কান্নার ভাষা আর কেউ বোঝে না। মা ঠিকই বোঝে সন্তানের চাহিদা। কান্নার শব্দের সাথে সে যে অদ্ভুত এক যোগাযোগ আর কারো সাথে আছে মা ছাড়া।

সংশ্লিষ্ট খবর

ইউটিউব এর হাতে জিম্মি বাংলাদেশ !

  ১৩, মার্চ ২০১৬  |    1829

থিয়েটার এবং জীবিকা

  ৩০, অক্টো ২০১৫  |    996