স্বাধীণতা মাসেই আঘাত; রক্তাক্ত বাংলা

  ২৯, মার্চ ২০১৬  |    বিশেষ প্রতিবেদন, সম্পাদকীয়  |    1214

মুক্তিযুদ্ধ চারদিকে। সেসময় একগ্রামে পাক হানাদাররা ঢুকে গেছে। এ খবরে, গ্রামের সব মেয়েরা যে যার মতো পালানোর চেষ্টা করছে। নিজের সব হারানোর ভয়ে। তাদের সাথে এক বুড়িমাও পালানোর চেষ্টা করছে। এই দেখে এক তরুনী জিজ্ঞেস করলো বুড়ি মা তুমি পালাচ্ছো কেন? বুড়ি উত্তরে বললো কেন পাকবাহিনীতে যদি কোনো বৃদ্ধ সৈনিক থাকে তবে তো আমার রক্ষা নাই। এই বলে সেও পালারো গ্রাম থেকে।এ গেলো যুদ্ধের সময়কালের কথা। রক্তাত্ব বাংলা।
যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলো। এবার বলি, স্বাধীন দেশে স্বাধীণতার মাসের গল্প। তারিখ ২০ মার্চ। সময় তখন বিকেল সাড়ে ৫ টা কি তার আশপাশ। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সোহাগী ঘর থেকে বের হন। প্রতিদিন বাসায় ফিরলেও সিদিন বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে প্রথমে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। সে চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নানা জায়গায় খোজ খবর নিলেও মেলে না সোহাগীর খোজ। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর আসে ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে পাওয়ার হাউসের পানির ট্যাংক সংলগ্ন স্থানে একটা মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পরিবার নিশ্চিত হয় সেটি সোহাগীর মৃতদেহ। গলাকাটা মৃতদেহ নগ্ন অবস্থায় পড়েছিলো কালভার্টের পাশে ঝোপঝাড়ের ভেতর। নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিলো। মোবাইল ফোনটিও পড়েছিল সোহাগীর নিথর দেহের পাশে।
সোহাগীর ঘটনার স্বাধীণ দেশে। স্বাধীণতার মাসে। যে মাসে পাক সেনারা ঝাপিয়ে পড়েছিলো নিরস্ত্র বাঙ্গালির উপর। হত্যা ধর্ষণে রক্তাত্ব করেছিলো এদেশের মাটিকে। পাকাত্মাদের কালোথাবা আবারো স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর। সোহাগীকে রক্তাত্ব করা হলো!!
যারা এ কাজ করেছে তারা হায়ানাদের প্রেতাত্বা। হানাদারদের ছায়া তবে এখনো আছে আমাদেরই চারপাশে। আগে হায়ানারা ছিলো প্রকাশীত এখন তারা থাকে আমাদের অশপাশেই। আমাদের সাথেই থাকে। সুযোগ বুঝে ঝাপিয়ে পড়ে। খেলে রক্তের হোলি খেলা। ভাবনার বিষয়, আমাদের পাশে থাকা সেই হায়ানের থাবা থেকে আমার মা-বোন কি নিরাপদ?

তারা কেন এসব করছে? উত্তরটা খুব সহজ। দেশের শান্তি বিনষ্ট করা উদ্দেশ্যে। তারা চায় না রাষ্ট্র বা নাগরিক শান্তিতে থাকুক। একটা আতংক ছড়িয়ে দিতেই তারা একের পর এক আঘাত হানছে। প্রথমে জখম, পরে খুন। এবার তারা মেতেছে ধর্ষণের থেলায়। প্রশ্ন জাগে – এসব কি নাশকতার নতুন কৌশল?
সবকিছু গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে হবে। তারা কারা কি তাদের বংশ পরিচয়। তাদের আদি নিবাস কোথায়। তাদের স্বজনরা কে কোথায় থাকে। ঘটনার স্থানে তাদের আসার উদ্দেশ্য। কেন সে এসব কাজ করছে? তদন্ত করে সবকিছুর উত্তরই বের করতে হবে।

আরো কয়েকটা কথা বলার ছিলো।
কিন্তু বলার ভাষা নেই। অনেক প্রশ্ন নেই কোনো উত্তর। বলার আছে অনেক কিছু, কিন্তু কথা নেই। আছে একটাই দাবী। ধর্ষকদের বিচার চাই।

সম্পাদকীয় ২৯/০৩/২০১৬ মা জে

সংশ্লিষ্ট খবর

’মা’- তুমি স্বর্গ

  ৮, মে ২০১৬  |    2138

নগ্নতাই কি তাদের যোগ্যতা..!!!

  ২১, অক্টো ২০১৫  |    1964

একজন মিউজিক দুত হিলার (Healer)

  ১৯, অক্টো ২০১৫  |    1404